Tag: India France defence cooperation

  • Hammer Missile: অপারেশন সিঁদুরে যার বাড়ি খেয়েছিল পাক জঙ্গি ঘাঁটিগুলি, সেই ‘হাতুড়ি’ এবার তৈরি হবে ভারতেই!

    Hammer Missile: অপারেশন সিঁদুরে যার বাড়ি খেয়েছিল পাক জঙ্গি ঘাঁটিগুলি, সেই ‘হাতুড়ি’ এবার তৈরি হবে ভারতেই!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ভারত সফরে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্র মিলিয়ে ২১টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। তার মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত একাধিক চুক্তি হয়েছে। ভারতে এইচ১২৫ হেলিকপ্টার তৈরির জন্য এয়ারবাস ও টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন কারখানার সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মাক্রঁ। এর পাশাপাশি, ফরাসি প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্যেই দুই দেশের সংস্থার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে ভারতেই ‘হ্যামার’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার পথও প্রশস্ত করা হল। চলতি সপ্তাহে বেঙ্গালুরুতে রাজনাথ সিং ও ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভোত্রাঁর উপস্থিতিতে এই মউ স্বাক্ষরিত হয়। বেশ কিছুদিন ধরেই, ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে কথা হচ্ছে। সম্প্রতি, এই মর্মে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফেও। সূত্রের খবর, এর মধ্যে অধিকাংশ যুদ্ধবিমান তৈরি হওয়ার কথা ভারতেই। তার আগে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের চুক্তি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ, রাফাল যুদ্ধবিমানেই এই ক্ষেপণাস্ত্র মূলত ব্যবহৃত হবে। এর আগে, এই যুদ্ধবিমানে ব্যবহারের জন্য বজড পরিমাণে স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল ও মিটিয়র এয়ার-টু-এয়ার বিভিআর মিসাইল কেনার জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আর এবার, রাফালের জন্য ‘হাতুড়ি’ ক্ষেপণাস্ত্রও ভারতে তৈরি করার চুক্তি হয়ে গেল।

    ৫০-৫০ অংশীদারিত্ব চুক্তি বেল-সাফরাঁর

    জানা গিয়েছে, ভারতে হ্যামার প্রিসিশন-গাইডেড মিউনিশন স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) গঠনে সম্মত হয়েছে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এবং ফ্রান্সের সাফরাঁ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর নেতৃত্বে হওয়া আলোচনার পর এই অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত হয়। এর লক্ষ্য ভারতের ঘরোয়া প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা এবং উন্নত অস্ত্রশস্ত্র আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর দেশের উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করা। এই যৌথ উদ্যোগে উভয় সংস্থার সমান অংশীদারিত্ব থাকবে। এটি উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি হস্তান্তর (technology transfer) সহজ করবে এবং প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যৌথ উদ্যোগটির প্রাথমিক অনুমোদিত শেয়ার মূলধন হবে ১ লক্ষ টাকা, যেখানে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের ১,০০০টি ইকুইটি শেয়ার থাকবে। ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী এই মূলধন ১০ কোটি টাকা বা তার বেশি পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। শেয়ারহোল্ডিং সমানভাবে বিভক্ত থাকবে, অর্থাৎ বেল এবং সাফরাঁ— উভয়েরই ৫০ শতাংশ করে অংশীদারিত্ব থাকবে।

    জঙ্গি ঘাটিগুলিতে হাতুড়ির আঘাত

    ‘হ্যামার’ কোনও একক ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং একটি মডুলার কিট, যা সাধারণ আনগাইডেড বোমাকে অত্যাধুনিক প্রিসিশন-গাইডেড অস্ত্রে রূপান্তর করে। এতে থাকে একটি নোজ-মাউন্টেড গাইডেন্স ইউনিট, যা নেভিগেশন ও টার্গেটিংয়ের কাজ করে, এবং একটি টেল-মাউন্টেড রেঞ্জ এক্সটেনশন কিট, যেখানে সলিড-ফুয়েল রকেট বুস্টার ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য উইংলেট সংযুক্ত থাকে। ২০১১ সালে এর নামকরণ করা হয় হ্যমার। শব্দটি একটি অ্যাক্রোনিম, যার পূর্ণ অর্থ— ‘হাইলি এজাইল মডুলার মিউনিশন এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ’। হ্যামার নামটি এসেছে “হাতুড়ির আঘাতে কোনও পৃষ্ঠ চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া”-এই ধারণা থেকে, যা লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার ক্ষমতার প্রতীক। একে মাঝারি-পাল্লার আকাশ-থেকে-ভূমি অস্ত্র হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। একে প্রায়ই “গ্লাইড বোমা” বলা হয়, কারণ এটি সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং ২৫০ কেজি, ৫০০ কেজি ও ১,০০০ কেজি ওজনের স্ট্যান্ডার্ড বোমার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।

    কোন কোন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হবে ভারতে?

    চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে দুটি আধুনিক ভ্যারিয়েন্ট তৈরি করা হবে—

    • হ্যামার ২৫০ এক্সএলআর (HAMMER 250 XLR) – ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি স্ট্যান্ড-অফ রেঞ্জ
    • হ্যামার ১০০০ এক্সএলআর (HAMMER 1000 XLR) – প্রায় ১৫০ কিলোমিটার রেঞ্জ

    এগুলি অত্যাধুনিক, সব ধরনের আবহাওয়ায় ব্যবহারের উপযোগী প্রিসিশন মিসাইল, যা যুদ্ধবিমান থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে নিক্ষেপ করা যায়।

    বছরে ১০০০ ইউনিট উৎপাদনের লক্ষ্য

    প্রস্তাবিত যৌথ উদ্যোগের (JV) অধীনে প্রাথমিক উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১০০০ ইউনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ কেবল অ্যাসেম্বলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এতে প্রযুক্তি হস্তান্তর (ToT) এবং দেশীয় দক্ষতা ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    রাফালের জন্য বড় শক্তি

    এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পার্বত্য অঞ্চলে এবং ভারীভাবে সুরক্ষিত বাঙ্কারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত অস্ত্র। বিশ্ব ইতিমধ্যেই হ্যামার সিস্টেমের কার্যকারিতা দেখেছে। সূত্রের খবর, অপারেশন সিদুঁর-এর সময় ভারতের যুদ্ধবিমানগুলো হ্যামার এবং স্ক্যাল্প মিসাইল ব্যবহার করে শত্রু ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালায়। এই অভিযানে ভারতের বায়ুসেনা নয়টি স্থানে মোট ২১টি সন্ত্রাসী শিবিরে আঘাত হানে। এই অভিযানে ব্যবহৃত নির্ভুল অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল রাফাল যুদ্ধবিমানে সংযুক্ত হ্যমার সিস্টেম। ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তারা জানান, অস্ত্রটির স্বয়ংক্রিয় গাইডেন্স ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রতিরোধ ক্ষমতা একে শক্তপোক্ত লক্ষ্যবস্তু—বিশেষ করে পাকিস্তানে অবস্থিত জৈশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসী পরিকাঠামো ধ্বংসের জন্য অত্যন্ত উপযোগী করে তুলেছে। একটি রাফাল একসঙ্গে ৬টি ২৫০ কেজির হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। ফলে, হ্যামার দিয়ে একসঙ্গে ৬টি পৃথক লক্ষ্যবস্তুতে একসঙ্গে আঘাত হানতে সক্ষম রাফাল।

    কৌশলগত গুরুত্ব

    এই মিসাইল উৎপাদনের কৌশলগত গুরুত্ব হল, এটি ভারতের “আত্মনির্ভর ভারত” প্রতিরক্ষা অভিযানে বড় শক্তি জোগাবে। একই সঙ্গে ভারতের মতো বড় প্রতিরক্ষা বাজারে ফ্রান্সের উপস্থিতি আরও মজবুত হবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচিত হবে। ভারতে হ্যামার এক্সএলআর উৎপাদনকে দুই দেশের গভীরতর কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি বড় প্রমাণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য সরবরাহের গতি বাড়বে, আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।

  • Airbus H125 Helicopter: এভারেস্টে উড়তে সক্ষম হেলিকপ্টার তৈরি হবে ভারতেই! ‘এয়ারবাস এইচ১২৫’ কতটা কার্যকর? কী এর বৈশিষ্ট্য?

    Airbus H125 Helicopter: এভারেস্টে উড়তে সক্ষম হেলিকপ্টার তৈরি হবে ভারতেই! ‘এয়ারবাস এইচ১২৫’ কতটা কার্যকর? কী এর বৈশিষ্ট্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ফ্রান্স যৌথভাবে বিশ্বের প্রথম এমন হেলিকপ্টার তৈরি করবে, যা মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হবে। মঙ্গলবার ‘বন্ধু’ ইমানুয়েল মাক্রঁকে পাশে নিয়ে এই কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই উদ্যোগকে তিনি ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ কর্নাটকের কোলার জেলার ভেমাগালে ‘এয়ারবাস এইচ১২৫’ হেলিকপ্টারের অ্যাসেম্বলি লাইনের উদ্বোধন করেন। মোদি ও মাক্রঁ মুম্বই থেকে ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরুতে সেই সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ভারতে এই হেলিকপ্টার অ্যাসেম্বলি শুরুর মাধ্যমে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি হল। আমরা গর্বিত যে ভারত ও ফ্রান্স এমন একটি হেলিকপ্টার তৈরি করবে, যা মাউন্ট এভারেস্ট পর্যন্ত উড়তে পারবে। এটি বিশ্বজুড়েও রফতানি করা হবে। অর্থাৎ, ভারত–ফ্রান্স অংশীদারিত্বের কোনও সীমা নেই—এটি গভীর সমুদ্র থেকে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।”

    তৈরি হবে সামরিক সংস্করণও

    সূত্রের খবর, ভারতে তৈরি প্রথম এয়ারবাস এইচ১২৫ হেলিকপ্টার সরবরাহ করা হবে ২০২৭ সালের শুরুতে। অসামরিক সংস্করণের পাশাপাশি ভেমাগালের কারখানায় এই হেলিকপ্টারের সামরিক সংস্করণও উৎপাদিত হবে, যার নাম হবে ‘এইচ১২৫এম’ (এম ফর মিলিটারি)। এই উৎপাদন কেন্দ্রটি ইউরোপীয় বিমান নির্মাণ সংস্থা এয়ারবাসের সহযোগিতায় টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (TASL) নির্মাণ করেছে। এই প্রথমবার কোনও বেসরকারি ভারতীয় সংস্থা দেশের মাটিতে সম্পূর্ণভাবে হেলিকপ্টার সংযোজন ও পরীক্ষার কাজ করবে।

    এয়ারবাস এইচ১২৫ হেলিকপ্টার কী?

    • ● এয়ারবাসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এইচ১২৫ বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত সিঙ্গল-ইঞ্জিন হেলিকপ্টার।
    • ● এয়ারবাস এইচ১২৫ একমাত্র হেলিকপ্টার, যা ইতিহাসে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় অবতরণ করেছে। এর ফলে এটি বিদ্যমান লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টারগুলির তুলনায় অনেক বেশি উচ্চতায় কার্যক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
    • ● ভারতীয় সেনাবাহিনী যেসব অত্যন্ত-উচ্চ ও উচ্চ-তাপমাত্রার অঞ্চলে কাজ করে, সেখানে এই ক্ষমতা একটি বড় কৌশলগত সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।
    • ● এয়ারবাস এইচ১২৫ প্রথম উড়ান দেয় ১৯৭৪ সালে এবং ১৯৭৫ সালে পরিষেবায় যোগ দেয় একটি বহুমুখী লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার হিসেবে। এর সামরিক সংস্করণ এয়ারবাস এইচ১২৫এম চালু হয় ১৯৯০ সালে, যা সশস্ত্র নজরদারি, হালকা আক্রমণ ও পাইলট প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
    • ● বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৫টিরও বেশি দেশের ৪৪টি সশস্ত্র বাহিনীর কাছে এয়ারবাস এইচ১২৫ ও এয়ারবাস এইচ১২৫এম-এর ৪০০টির বেশি সামরিক সংস্করণ পরিষেবায় রয়েছে। প্রধান ব্যবহারকারী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, ব্রাজিল (বায়ুসেনা ও নৌসেনা), মেক্সিকো, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও তাইল্যান্ড।

    এয়ারবাস এইচ১২৫-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য

    • ● রোটরের ব্যাস: ১০.৬৯ মিটার (৩৫.০৭ ফুট)
    • ● মোট দৈর্ঘ্য: ১২.৯৪ মিটার (৪২.৪৫ ফুট)
    • ● কেবিনের আয়তন: ৩ ঘনমিটার (পাইলট বাদে)

    ওজন ও বহনক্ষমতা:

    • ● সর্বাধিক টেক-অফ ওজন:
    • ● ডুয়াল হাইড্রোলিক্স সহ ২,৩৭০ কেজি
    • ● বাহ্যিক লোড বহনের ক্ষেত্রে ২,৮০০ কেজি
    • ● কার্যকর লোড ক্ষমতা: ১,০৭৫ কেজি

    প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য:

    • ● হেলিওনিক্স (Helionix) অ্যাভিওনিক্স সিস্টেম
    • ● ৪-অক্ষের (Axis) অটোপাইলট
    • ● সিন্থেটিক ভিশন সিস্টেম
    • ● ট্র্যাফিক অ্যাভয়ডেন্স ফাংশন
    • ● ডুয়াল হাইড্রোলিক্স ও ক্র্যাশওয়ার্দি ডিজাইন (নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য)

    এই হেলিকপ্টারে একজন পাইলটসহ সর্বোচ্চ ছয়জন যাত্রী বসতে পারেন। এটি এমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিস (EMS) স্ট্রেচার বহন করতে পারে এবং বাহ্যিক স্লিং লোড হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। স্লিং লোড বহনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১,৪০০ কেজি।

    ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কীভাবে শক্তি বাড়াবে

    • ● এইচ১২৫এম মূলত অধিক-উচ্চতার অঞ্চলে বহুমুখী সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য উন্নত করা হয়েছে। এয়াবাসের মতে, এই হেলিকপ্টার কম শব্দ ও কম হিট সিগনেচার নির্গমন করে। ফলে ট্যাকটিক্যাল নজরদারি ও গোয়েন্দা অভিযানে এটি বিশেষভাবে কার্যকর।
    • ● যে সব অঞ্চলে ভৌগোলিক অবস্থান ও উচ্চতা বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এইচ১২৫এম-এর কর্মক্ষমতা এবং দেশীয় উৎপাদন মিলিয়ে এটি ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
    • ● এই হেলিকপ্টার জাতি গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, বিশেষ করে বেসামরিক ও আধা-সরকারি পরিষেবাগুলিকে শক্তিশালী করতে।
    • ● এটি জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হবে। কেন্দ্রের উড়ান (UDAN) প্রকল্পের আওতায় এই হেলিকপ্টার প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় শেষ মাইল সংযোগ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, ফলে পর্যটন বৃদ্ধি পাবে এবং যাত্রী পরিবহণ সহজ হবে।
    • ● স্থানীয়ভাবে এইচ১২৫এম উৎপাদন ভারতের সামরিক ক্ষমতাকে অধিক-উচ্চতা, সন্ত্রাসদমন এবং প্রশিক্ষণমূলক অভিযানে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।
  • SCALP-Meteor Missile: লাগবে নয়া রাফালে, সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার স্ক্যাল্প-মিটিয়র ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পথে ভারত

    SCALP-Meteor Missile: লাগবে নয়া রাফালে, সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার স্ক্যাল্প-মিটিয়র ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পথে ভারত

    সুশান্ত দাস

    গুলি ছাড়া যেমন বন্দুক মূল্যহীন, ঠিক তেমনই ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়া যুদ্ধবিমানেরও কোনও মূল্য নেই। বৃহস্পতিবারই ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) জন্য ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার অনুমোদন দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। তবে, স্রেফ যুদ্ধবিমান কিনলেই তো হবে না, তার অস্ত্রও পেতে হবে। যে কারণে, রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমানে ব্যবহার করার জন্য বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রের বিপুল বরাতও দেওয়ার তোড়জোড় করছে মোদি সরকার। আর এই তালিকায় রয়েছে একজোড়া ভয়ঙ্কর ও পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র— স্ক্যাল্প (SCALP) বা স্টর্ম শ্যাডো (Storm Shadow) এবং মিটিয়র (Meteor)। বরাতের মূল্য প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। বলাবাহুল্য, এই দুই ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করে ফ্রান্স— যে দেশ থেকে আসছে রাফাল জেট।

    ৩০ কোটি ইউরোর চুক্তি

    কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, এই মর্মে ভারত ও ফ্রান্স একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে। প্রায় ৩০ কোটি ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা) মূল্যের এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় বায়ুসেনা বিপুল সংখ্যক স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল কিনতে চলেছে। এই স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের ভিতরে জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, ফ্রান্স থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    স্ক্যাল্প মিসাইল কী ও কেন তা গুরুত্বপূর্ণ?

    স্ক্যাল্প (SCALP)-এর পূর্ণরূপ <Système de Croisière Autonome à Longue Portée>। ফরাসি এই শব্দগুচ্ছের অর্থ হল— দূরপাল্লার স্বায়ত্তশাসিত ক্রুজ সিস্টেম। আন্তর্জাতিকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ‘স্টর্ম শ্যাডো’ নামেও পরিচিত। ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা এমবিডিএ নির্মিত যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই ক্রুজ মিসাইল মূলত বাঙ্কার, কমান্ড সেন্টার, বিমানঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর মতো উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য তৈরি। এই মিসাইল অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড়ে ভূখণ্ড অনুসরণ করে এগোতে পারে, ফলে শত্রুপক্ষের রেডার এড়ানো সম্ভব হয়। এর গাইডেন্স সিস্টেমে রয়েছে জিপিএস, ইনার্শিয়াল ন্যাভিগেশন, টেরেন ম্যাপিং এবং ইনফ্রারেড সিকার। এর পাল্লা ২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি, ফলে যুদ্ধবিমান নিরাপদ দূরত্ব থেকেই আঘাত হানতে পারে।

    অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহার

    গত বছরের অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমান থেকে ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের সঙ্গে স্ক্যাল্প মিসাইল ব্যবহার করে পাকিস্তানের মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুর জেলায় জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়। আধিকারিকদের মতে, লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়। ৬–৭ মে রাতের অভিযানের পর ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (PAF) একাধিক ঘাঁটিতে ক্রুজ মিসাইল হামলা চালায়। এই অভিযানে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করা হয় এবং সেখানে থাকা যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমানের মতো একাধিক উচ্চ-মূল্যের সম্পদ ধ্বংস করা হয়। স্ক্যাল্প মিসাইল রাফাল যুদ্ধবিমানের অস্ত্রভাণ্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতেও ব্যবহৃত হবে।

    মিটিয়র মিসাইল কী ও কেন তা গুরুত্বপূর্ণ?

    স্ক্যাল্প-এর পাশাপাশি, ভারতীয় বায়ুসেনা রাফাল যুদ্ধবিমানের যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়াতে বিপুল সংখ্যক মিটিয়র (Meteor) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল কেনার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। সূত্রের খবর, এর জন্য প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার চুক্তি হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল হল মিটিয়র। এটি একটি আধুনিক প্রজন্মের বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ (BVR) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল। এটি আকাশযুদ্ধে শত্রু বিমানের বিরুদ্ধে অনেক দূর থেকে অত্যন্ত নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। মিটিয়র মিসাইলের কার্যকর পাল্লা প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি। এর উন্নত গাইডেন্স সিস্টেমে রয়েছে ইনার্শিয়াল ন্যাভিগেশন, ডেটালিঙ্ক আপডেট এবং শেষ ধাপে অ্যাকটিভ রাডার সিকার, যার ফলে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও লক্ষ্যবস্তু নির্ভুলভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়। এই মিসাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর র‌্যামজেট প্রোপালশন সিস্টেম। সাধারণ মিসাইল যেখানে শেষ পর্যায়ে গতি ও শক্তি হারায়, সেখানে মিটিয়র পুরো উড়ানজুড়েই উচ্চগতি বজায় রাখতে পারে। ফলে দ্রুতগামী ও কৌশলী শত্রু বিমান, ড্রোন কিংবা ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এই মিসাইলগুলো ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য কেনা ২৬টি রাফাল-মেরিন Rafale-M) যুদ্ধবিমানের সঙ্গেও যুক্ত করা হবে, যেগুলি আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা।

    ভারতের ভবিষ্যৎ বায়ুশক্তির কেন্দ্রে রাফাল

    প্রস্তাবিত স্ক্যাল্প ও মিটিয়র মিসাইল কেনা ভারতের বিমান শক্তিকে রাফালকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শীঘ্রই ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা বিষয়ক মস্ত্রিসভার কমিটিতে। এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে আগামী এক দশকের মধ্যে ভারতের রাফাল বহর প্রায় ১৭৫-এ পৌঁছাতে পারে, যা শত্রুদেশের গভীর আঘাত হানার ক্ষমতা ও প্রতিরোধ শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। ভারত ও ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ক্রমশ গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে, যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত কর্মক্ষমতার ভিত্তিতেই এই স্ক্যাল্প ও মিটিয়র মিসাইল চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

LinkedIn
Share