Tag: india germany defence deal

india germany defence deal

  • Project 75I: ভারতের সঙ্গে সাবমেরিন চুক্তি সই করতে প্রস্তুত, বড় দাবি জার্মানির, ৮০ হাজার কোটি টাকার অঙ্কই নেপথ্য কারণ!

    Project 75I: ভারতের সঙ্গে সাবমেরিন চুক্তি সই করতে প্রস্তুত, বড় দাবি জার্মানির, ৮০ হাজার কোটি টাকার অঙ্কই নেপথ্য কারণ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-জার্মানি প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বড়সড় অগ্রগতির ইঙ্গিত। প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮০ হাজার কোটি) মূল্যের ছয়টি অত্যাধুনিক প্রচলিত শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির চুক্তিতে সই করতে প্রস্তুত বার্লিন। জার্মান রাষ্ট্রদূত জ্যাসপার ভিক জানিয়েছেন, চুক্তির নথিপত্র জার্মানির তরফে চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। এখন ভারতের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষা।

    প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি ভারতের প্রজেক্ট-৭৫(আই)-এর আওতায়। জার্মানির থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (TKMS) এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL) যৌথভাবে ভারতে ছয়টি সাবমেরিন তৈরি করবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি শুধু বিদেশ থেকে তৈরি সাবমেরিন কেনার চুক্তি নয়। ভারতে উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরই এই অংশীদারিত্বের অন্যতম মূল লক্ষ্য।

    সইয়ের জন্য প্রস্তুত জার্মানি, অপেক্ষা ভারতের অনুমোদনের

    ২৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জার্মান রাষ্ট্রদূত জ্যাসপার ভিক জানান, জার্মানির দিক থেকে চুক্তির নথি চূড়ান্ত। ভারতের তরফে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব। তিনি জানান, জার্মানি “যে কোনও মুহূর্তে” চুক্তিতে সই করতে প্রস্তুত।

    অর্থাৎ, এই মুহূর্তে মূল বিষয় চুক্তির জার্মান অংশের প্রস্তুতি নয়, বরং ভারতের প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পূর্ণ করা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকল্পটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার, যদিও চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য ভারতের অনুমোদন ও চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরই নিশ্চিত হবে।

    ছয় সাবমেরিন তৈরি হবে ভারতেই

    প্রজেক্ট-৭৫(আই)-এর আওতায় ছয়টি পরবর্তী প্রজন্মের প্রচলিত সাবমেরিন তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলিতে থাকবে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির সাহায্যে প্রচলিত ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনের তুলনায় দীর্ঘ সময় জলের নীচে অবস্থান করা সম্ভব হয়, কারণ বারবার বায়ুমণ্ডলীয় অক্সিজেনের জন্য ভেসে ওঠার প্রয়োজন কমে যায়।

    প্রকল্পটির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সাবমেরিনগুলির নির্মাণ ভারতে করার পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের নিজস্ব সাবমেরিন উৎপাদন পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা। ২০২৫ সালেই থাইসেনক্রুপ এবং মাঝগাঁও এই প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি আলোচনায় প্রবেশ করেছিল।

    শুধু সাবমেরিন নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তরই বড় বিষয়

    জার্মান রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ‘রিয়েল পার্টনারশিপ’ বা প্রকৃত অংশীদারিত্বের কথা। অর্থাৎ, থাইসেনক্রুপ শুধু তৈরি সাবমেরিন ভারতে সরবরাহ করবে না; ভারতীয় শিল্প সংস্থার সঙ্গে মিলে দেশেই উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

    এর প্রভাব একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। সাবমেরিন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ারিং, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, সেন্সর, যুদ্ধব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সাপ্লাই চেনের একাধিক ভারতীয় সংস্থা এই সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। থাইসেনক্রুপও জানিয়েছে, মাঝগাঁও-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব ভারতের দেশীয় সাবমেরিন নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত।

    জার্মানির প্রতিরক্ষা রফতানি নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    এই সাবমেরিন চুক্তির তাৎপর্য শুধু ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জার্মানির ভারতের প্রতি প্রতিরক্ষা রফতানি নীতির পরিবর্তনও।

    জ্যাসপার ভিক জানিয়েছেন, ভারতকে ঘিরে জার্মানির প্রতিরক্ষা রফতানি নীতিতে কার্যত “১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন” এসেছে। ভারতের জন্য লাইসেন্স দেওয়া এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বার্লিন এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রস্তুত বলে তিনি জানিয়েছেন। জার্মানির দৃষ্টিতে ভারত একটি বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

    ইউক্রেন যুদ্ধ, দ্রুত বদলে যাওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুদ্ধে ড্রোন ও অন্যান্য মনুষ্যবিহীন ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব—এই পরিবর্তনের পটভূমিতে রয়েছে বলে জার্মান পক্ষের বক্তব্য।

    কেন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

    ভারতের জন্য এই প্রকল্পের গুরুত্ব কয়েকটি স্তরে দেখা যায়।

    • প্রথমত, সাবমেরিন বহর আধুনিকীকরণ। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য প্রচলিত সাবমেরিনের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানো দীর্ঘদিনের প্রয়োজন। প্রজেক্ট-৭৫(আই) সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
    • দ্বিতীয়ত, দেশে সাবমেরিন তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধি। বিদেশি প্রযুক্তি ও ভারতীয় উৎপাদন পরিকাঠামোর সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় শিল্পের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
    • তৃতীয়ত, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বৈচিত্র্য। রাশিয়া ভারতের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নয়াদিল্লি একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে। জার্মানির সঙ্গে গভীরতর অংশীদারিত্ব সেই বৈচিত্র্যকেই আরও বিস্তৃত করবে।
    • চতুর্থত, ইউরোপীয় প্রযুক্তির সঙ্গে বৃহত্তর সংযোগ। জার্মানির সঙ্গে সাবমেরিন প্রকল্প সফলভাবে এগোলে ভবিষ্যতে নৌবাহিনীর বাইরেও অন্যান্য উচ্চপ্রযুক্তির প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

    সাবমেরিনের বাইরে ড্রোন, সাইবার, ক্ষেপণাস্ত্রেও সহযোগিতা?

    জার্মান রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ ভারত-জার্মানি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র শুধু সাবমেরিনে সীমাবদ্ধ নয়। মনুষ্যবিহীন ব্যবস্থা, সাইবার সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এবং সেন্সর—এই ক্ষেত্রগুলিতেও দুই দেশ সহযোগিতা বাড়াতে পারে।

    এর ফলে সাবমেরিন চুক্তিকে একটি পৃথক প্রতিরক্ষা ক্রয়চুক্তি হিসেবে না দেখে ভারত-জার্মানি প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা যায়। ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে জার্মান সংস্থাগুলির যৌথ কাজ বাড়লে ভবিষ্যতে সহ-উৎপাদন ও প্রযুক্তি সহযোগিতার আরও ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

    ইন্দো-প্যাসিফিকেও বাড়ছে ভারত-জার্মানি যোগাযোগ

    সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত ও জার্মানির যোগাযোগ বাড়ছে। দুই দেশের বাহিনী বিভিন্ন আকাশ ও সামুদ্রিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি জার্মানি নয়াদিল্লির ইন্দো-প্যাসিফিক ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টারে একজন লিয়াজোঁ অফিসার মোতায়েন করেছে। এর লক্ষ্য ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য আদানপ্রদান ও মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস বাড়ানো।

    এছাড়া চলতি বছর দুই দেশ প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে একটি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোডম্যাপের মাধ্যমে সহযোগিতার কাঠামো এগিয়ে নিয়েছে। ফলে প্রজেক্ট-৭৫(আই)-কে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বৃহত্তর শিল্পভিত্তিক পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    অতীতেও জার্মান প্রযুক্তির সাবমেরিন ভারতে এসেছে

    ভারত-জার্মানি সাবমেরিন সহযোগিতা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ভারতের মাজাগন ডক ১৯৮০-র দশকে জার্মান ডিজাইনের টাইপ-২০৯ শ্রেণির সাবমেরিন নির্মাণ করেছিল। সেই অভিজ্ঞতা ভারতের সাবমেরিন নির্মাণ পরিকাঠামোর ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

    তবে প্রজেক্ট-৭৫(আই)-এর পরিসর অনেক বড়। এবার লক্ষ্য শুধু সাবমেরিন তৈরি নয়, উন্নত প্রযুক্তি, দেশীয় উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্প সক্ষমতাকে একই কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা।

    বদলাচ্ছে ভারত-জার্মানি প্রতিরক্ষা সমীকরণ

    সব মিলিয়ে, প্রজেক্ট-৭৫(আই) ভারতের জন্য ছয়টি নতুন সাবমেরিন পাওয়ার প্রকল্পের চেয়েও বেশি কিছু। একদিকে এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রচলিত সাবমেরিন সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনে উন্নত প্রযুক্তি আনার সুযোগ তৈরি করছে।

    জার্মানির দিক থেকেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে দেখার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। আর ভারতের জন্য জার্মানি হয়ে উঠছে উন্নত ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

    তবে এখনই চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে বলা যাচ্ছে না। জার্মানি সইয়ের জন্য প্রস্তুত হলেও ভারতের প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ অনুমোদন এখনও বাকি। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রজেক্ট-৭৫(আই) আনুষ্ঠানিক চুক্তির পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

  • Rajnath Singh: ‘ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদন করুন’, জার্মানিতে আহ্বান রাজনাথের

    Rajnath Singh: ‘ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদন করুন’, জার্মানিতে আহ্বান রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জার্মানি সফরে গিয়ে বৃহস্পতিবার জার্মান শিল্পপতিদের ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের আহ্বান জানালেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে নির্ভরযোগ্যতা ও অভিন্ন স্বার্থভিত্তিক অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’ জার্মানির মিউনিখ শহরে আয়োজিত ডিফেন্স ইনভেস্টর সামিটে ভারত ও জার্মানির প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে সিং বলেন, ‘‘বর্তমান বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যাঘাত এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তর—এই সবই গভীরতর সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।’’

    দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভারত

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘‘বিশ্বজুড়ে দেশ ও শিল্প সংস্থাগুলি এখন নির্ভরশীলতা পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার খুঁজছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত একটি দ্রুত বর্ধনশীল বাজার, দক্ষ ও তরুণ কর্মশক্তি এবং ক্রমবিকাশমান শিল্প পরিকাঠামো প্রদান করছে। তিনি বলেন, “ভারত কোনও স্বল্পমেয়াদি সুযোগ নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা।”

    উন্নত প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সুযোগ

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় ভারতীয় সংস্থাগুলি জার্মান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উন্নত রেডার ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর এবং সাবমেরিন প্রযুক্তিতে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি। দেশের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার।’’

    আত্মনির্ভরতা, তবে সহযোগিতার মাধ্যমেই

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার প্রসঙ্গে রাজনাথ স্পষ্ট করেন, এই নীতি কোনওভাবেই অন্তর্মুখী নয়। বরং এটি বিশ্বস্ত অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ‘‘ভারত এখন শুধু প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্রেতা নয়, বরং ডিজাইন ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে অংশীদার হয়ে উঠছে। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি জাতীয় নিরাপত্তা যেমন জোরদার করবে, তেমনই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভারতের অবস্থান মজবুত করবে।’’

    জার্মানির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর

    সফরকালে সিং কিয়েলে অবস্থিত একটি সাবমেরিন নির্মাণ কারখানা পরিদর্শন করেন, যা ভারত-জার্মানি সামুদ্রিক সহযোগিতার গুরুত্বকে তুলে ধরে। এর আগে তিনি বার্লিনে জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সেখানে প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা রোডম্যাপ এবং রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হয়।

    ৯০ দিনের মধ্যে ৮০০ কোটি ডলারের সাবমেরিন চুক্তি

    জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিস্টোরিয়াস জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যেই ভারত ও জার্মানির মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বৃহৎ সাবমেরিন চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। এই প্রকল্পে ভারতে ছয়টি সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জার্মান সংস্থা থিসেনক্রাপ মেরিন সিস্টেমস (Thyssenkrupp Marine Systems) এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত মাঝগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (Mazagon Dock Shipbuilders Limited) যৌথভাবে এই সাবমেরিন নির্মাণে অংশ নেবে। পিস্টোরিয়াস জানান, আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

LinkedIn
Share