Tag: india Hypersonic Weapon

  • LR-AShM: হাইপারসনিক যুদ্ধের জন্য তৈরি! প্রজাতন্ত্র দিবসে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রকাশ্যে এনে এই বার্তাই দিল ভারত

    LR-AShM: হাইপারসনিক যুদ্ধের জন্য তৈরি! প্রজাতন্ত্র দিবসে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রকাশ্যে এনে এই বার্তাই দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে (Republic Day Parade 2026) প্রথম বারের মতো প্রকাশ্যে প্রদর্শিত হল ভারতের প্রথম লং-রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ মিসাইল (LR-AShM)। একটি মোবাইল লঞ্চারে মোতায়েন করা এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হয়। একটি ৬x৬ ট্রাকের ওপর নির্মিত ওই মোবাইল লঞ্চারকে কার্তব্য পথ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

    প্রজাতন্ত্র দিবসের শো-স্টপার…

    প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে শো-স্টপার বা অন্যতম আকর্ষণ ছিল এই দূরপাল্লার হাইপারসনিক জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। কারণ, এই প্রথম সরকারি স্তরে এই ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতিকে স্বীকৃতি দেওয়া হল। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO)। এটি একটি দূরপাল্লার হাইপারসনিক গ্লাইড অস্ত্র, যা মূলত সমুদ্রভিত্তিক আঘাত হানার (maritime strike) জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রথমবার এই কর্মসূচির সরকারি স্তরে স্বীকৃতি মিলল। এতদিন প্রকল্পটি অনেকটাই গোপনীয়তার মধ্যে রাখা হয়েছিল। ভারতের হাইপারসনিক অস্ত্র (LR-AShM) কর্মসূচিতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করেছে এই ক্ষেপণাস্ত্র।

    পাল্লা প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার

    প্রতিরক্ষা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থা সমুদ্রের গভীরে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও নৌসম্পদে আঘাত হানতে সক্ষম, যা বিতর্কিত সামুদ্রিক অঞ্চলে শত্রু নৌবহরের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে। ফলে, এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রসীমা নিয়ন্ত্রণ (sea-denial) সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে। বর্তমান সংস্করণের পাল্লা প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে উন্নত সংস্করণে এই পাল্লা আরও বাড়ানো হতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্র হাইপারসনিক গতিতে, অর্থাৎ ম্যাক ৫-এর (শব্দের গতির ৫ গুণ) বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম। ফলে শত্রুপক্ষের নৌবাহিনীর প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

    ‘বুস্ট-গ্লাইড’ প্রযুক্তি

    প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র (LR-AShM) একটি দুই ধাপের সলিড প্রপালশন রকেট মোটর ব্যবস্থায় চালিত। প্রথম ধাপ ক্ষেপণাস্ত্রটিকে দ্রুত হাইপারসনিক গতিতে পৌঁছে দেয় এবং মাঝপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয় ধাপ সক্রিয় হয়ে গতিবেগ বজায় রাখে ও আরও বাড়ায়। দ্বিতীয় ধাপের জ্বালানি শেষ হওয়ার পর ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি আনপাওয়ার্ড গ্লাইড পর্যায়ে প্রবেশ করে। এই পর্যায়ে এটি জটিল বায়ুমণ্ডলীয় কৌশল প্রদর্শন করতে করতে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যায়। প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এই গ্লাইড যানটি উড়ানের মাঝপথে দিক পরিবর্তন করতে পারে, যার ফলে একে প্রতিহত করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে ওঠে। এই গ্লাইড পর্যায়ই ক্ষেপণাস্ত্রটির অনিশ্চিত গতিপথ নিশ্চিত করে এবং শত্রু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আটকানোর সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি বিভিন্ন ধরনের অপারেশনাল পরিস্থিতিতে কাজ করার মতো করে পরিকল্পিত হয়েছে। এটি স্থির ও চলমান—উভয় ধরনের লক্ষ্যবস্তুকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। কুচকাওয়াজে (Republic Day Parade 2026) যে লঞ্চারটি প্রদর্শিত হয়, তা ছিল সড়কপথে চলাচলযোগ্য ক্যানিস্টারযুক্ত ব্যবস্থা। এতে বোঝা যাচ্ছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র মূলত উপকূল বা স্থল থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। তবে, রণতরী থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য সংস্করণও তৈরি করা হচ্ছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রের (LR-AShM) অন্তর্ভুক্তি ভারতের সামুদ্রিক যুদ্ধক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতের নৌযুদ্ধের ক্ষেত্রে দেশকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও শক্ত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করবে।

    প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় হাইপারসনিক অস্ত্র ব্যবস্থা

    লং-রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ মিসাইল (LR-AShM)-এর বিশেষত্ব শুধু এর গতিতে নয়, বরং এতে ব্যবহৃত দেশীয় প্রযুক্তিতেও। ক্ষেপণাস্ত্রটির অ্যাভিওনিক্স ও উন্নত সেন্সর প্যাকেজ সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। ফলে এটি বিশ্বের প্রথম দিকের এমন হাইপারসনিক গ্লাইড অস্ত্রগুলোর অন্যতম, যেখানে ন্যাভিগেশন, গাইডেন্স ও টার্মিনাল নির্ভুলতার জন্য পুরোপুরি দেশীয় প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কোয়াজি-ব্যালিস্টিক পথে উড়ে হাইপারসনিক গতিতে চলাচল করে। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ম্যাক ১০ গতিবেগ অর্জন করতে পারে এবং ধারাবাহিক বায়ুমণ্ডলীয় ‘স্কিপ’ বা লাফের মাধ্যমে গড়ে ম্যাক ৫ গতিতে অগ্রসর হয়। এই বিশেষ ফ্লাইট প্রোফাইলের ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটি একই সঙ্গে উচ্চ গতি, অসাধারণ কৌশলগত চলাচল ক্ষমতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে পারে, যার ফলে প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ক্ষেপণাস্ত্রকে রোখা অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।

    নজর এড়িয়ে আঘাত হানার ক্ষমতা

    দূরপাল্লার হাইপারসনিক জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র (LR-AShM)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর দীর্ঘ সময় ধরে রেডারের নজর এড়িয়ে চলার ক্ষমতা। কম উচ্চতায় হাইপারসনিক গতিতে উড়ে যাওয়ায় এটি শত্রুপক্ষের স্থলভিত্তিক ও জাহাজভিত্তিক রেডার ব্যবস্থার চোখে ধরা পড়ে মূলত শেষ ধাপে। দেশীয়ভাবে তৈরি উন্নত সেন্সর ব্যবস্থার সাহায্যে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রান্তিক পর্যায়ে চলমান লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে। এই সক্ষমতা দ্রুত পরিবর্তনশীল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এর বিধ্বংসী ক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। উচ্চ গতি, নিম্ন উচ্চতায় উড়ান এবং চরম কৌশলগত গতিবিধির সমন্বয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে একটি অত্যন্ত মজবুত ও কার্যকর অস্ত্রব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যা ঘন প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম।

    এলিট ক্লাবে ভারত…

    এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চিনের মতো হাইপারসনিক অ্যান্টি-শিপ অস্ত্র (LR-AShM) সক্ষমতাসম্পন্ন দেশের তালিকায় ভারতের নাম যুক্ত হল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে, বিশেষ করে ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌ-প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকায় এই অস্ত্রের প্রকাশ্য প্রদর্শন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে সরকার এখনও এই ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকরী মোতায়েনের সময়সূচি বা নির্দিষ্ট ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

LinkedIn
Share