Tag: India-Italy Relation

  • PM Modi Gifts Melody: ‘মেলোডি খাও, খুদ জান যাও’ এবার বিশ্বমঞ্চে! মোদির উপহারে ভাইরাল টফি ব্র্যান্ড, কী বললেন ভারতীয় সংস্থার কর্তা?

    PM Modi Gifts Melody: ‘মেলোডি খাও, খুদ জান যাও’ এবার বিশ্বমঞ্চে! মোদির উপহারে ভাইরাল টফি ব্র্যান্ড, কী বললেন ভারতীয় সংস্থার কর্তা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ‘মেলোডি’ টফি উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই দেয়া নেয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তৈরি হয়েছে এক মিষ্টি মুহূর্ত। আর সেই ঘটনাতেই কার্যত আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভারতের জনপ্রিয় টফি ব্র্যান্ড ‘মেলোডি’। ‘মোদি’ ও ‘মেলোনি’-র নাম মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বহুল ব্যবহৃত ‘মেলোডি’ ডাকনামের সঙ্গেই যেন বাস্তবের এই উপহারকে জুড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই অপ্রত্যাশিত প্রচারে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত পার্লে প্রোডাক্টস। সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট ময়াঙ্ক শাহ জানিয়েছেন, এই উপহার দেওয়ার বিষয়ে তাদের আগে কোনও ধারণাই ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ অবাক, তবে ভীষণভাবে আনন্দিত। আমাদের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতেই হবে, কারণ তিনি এই ব্র্যান্ডকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন।”

    ‘মেলোডি’-র চাহিদা বেড়েছে

    ঘটনার পর থেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও কুইক কমার্স অ্যাপে ‘মেলোডি’-র চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও জানিয়েছেন শাহ। তাঁর কথায়, “সকাল থেকেই বিপুল ট্র্যাকশন দেখা যাচ্ছে। আগামী দিনে এই বৃদ্ধির গতি আরও বাড়বে বলেই আমরা আশা করছি।” পার্লের দাবি, ‘মেলোডি’ ইতিমধ্যেই ভারতের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া টফি ব্র্যান্ড। আন্তর্জাতিক স্তরে এই প্রচারের ফলে শুধু ভারত নয়, বিদেশের বাজারেও বিক্রি বাড়বে বলে আশাবাদী সংস্থা। বর্তমানে বিশ্বের ২০০-রও বেশি দেশে রফতানি করা হয় ‘মেলোডি’। ময়াঙ্ক শাহ জানান, এই মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে বিদেশের বাজারে আরও বড় আকারে প্রবেশের পরিকল্পনাও করা হতে পারে। এমনকি বিভিন্ন দেশে স্থানীয় উৎপাদন শুরু করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    পার্লের জন্য বিশ্বজোড়া প্রচার

    চাহিদা বাড়লেও আপাতত দাম বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন পার্লে কর্তা। তাঁর কথায়, “দাম বাড়ানোর কথা ভাবছি না। তবে চাহিদা যে হু হু করে বাড়ছে, তা ইতিমধ্যেই বোঝা যাচ্ছে।” পণ্যের স্বাদ বা পরিচয়ে বড় কোনও বদলের ইঙ্গিতও দেয়নি সংস্থা। শাহ বলেন, “মেলোডি মানেই চকলেটি স্বাদ। এটা একটি ক্লাসিক ব্র্যান্ড, আমরা সেটাকেই বজায় রাখতে চাই।” সঙ্গে হাসতে হাসতেই তিনি স্মরণ করিয়ে দেন জনপ্রিয় ট্যাগলাইন— “মেলোডি খাও, খুদ জান যাও।” স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন মায়াঙ্ক। জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে পার্লে প্রোডাক্টসের আইপিও আনার কোনও পরিকল্পনা নেই। একটি সাধারণ টফি যে আন্তর্জাতিক কূটনীতির আলোচনায় জায়গা করে নিতে পারে, তা হয়তো ভাবেনি কেউই। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ‘মিষ্টি কূটনীতি’ এখন পার্লের জন্য এনে দিয়েছে বিশ্বজোড়া প্রচারের নতুন সুযোগ।

  • India Italy Relation: ‘মেলোডি’-র হাত ধরে ভারত-ইটালির কূটনীতিতে নয়া মোড়! কী হল মোদি-মেলোনি বৈঠকে?

    India Italy Relation: ‘মেলোডি’-র হাত ধরে ভারত-ইটালির কূটনীতিতে নয়া মোড়! কী হল মোদি-মেলোনি বৈঠকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কূটনীতিতে চকোলেটের মতো মিষ্টি-মধুর সম্পর্ক তৈরি হল ভারত-ইটালির (India Italy Relation)। ‘মেলোডি’ শুধু দুই ব্যক্তির বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়নেই থেমে থাকল না। বুধবার ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে পাশে (Modi-Meloni Meet) নিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে’ পরিণত করার ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানিয়ে দিলেন বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবে দুই দেশ। মোদি-মোলোনির বন্ধুত্বের ছাপ পড়ল দুই দেশের সম্পর্কেও। যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর কথা জানিয়ে জর্জিয়া বলেন, ‘বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ইউরো। ২০২৯ সালের মধ্যে সেটিকে আমরা ২২ বিলিয়ন ইউরোতে নিয়ে যেতে চাই।’

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিশাল সুযোগ

    ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। আর সেটাকেই কাজে লাগাতে চান ‘মেলোডি’। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সময়ে ইটালির সমর্থনের জন্য মেলোনিকে ধন্যবাদ জানান মোদি। সোজাসুজি বলে দেন, ‘দুই দেশের ব্যবসায়ীরা যাতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পান, তার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’ ২০২৩ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৪০০ কোটি ইউরো। ২০২৯ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০০০ কোটি ইউরোতে (সাড়ে ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি) পৌঁছোনোর যৌথ লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে ভারতে ৮০০-র বেশি ইটালির সংস্থা কাজ করছে।

    ইন্ডিয়া-ইটালি ইনোভেশন সেন্টার

    প্রযুক্তির উপরে সবচেয়ে বেশি জোর দেন মোদি। তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও অসামরিক পারমাণবিক শক্তির মতো ক্ষেত্রে ভারত-ইতালির কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।’ দুই দেশের স্টার্টআপ, গবেষণা কেন্দ্র ও শিল্পক্ষেত্রকে যুক্ত করতে একটি ‘ইন্ডিয়া-ইটালি ইনোভেশন সেন্টার’ গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। প্রতিরক্ষা এবং ক্লিন এনার্জি খাতেও একসঙ্গে কাজ হবে বলে ঘোষণা করেছেন মোদি। প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং জ্বালানি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক নিবিড় করার কথা জানানো হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।

    লজিস্টিকস এবং ব্লু ইকোনমি

    ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-সহ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে সঙ্কটের প্রসঙ্গও এসেছে যৌথ বিবৃতিতে। বৈঠকের পরে মোদি বলেন, “প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন আমাদের অংশীদারির চালিকাশক্তি। এআই, কোয়ান্টাম, মহাকাশ এবং অসামরিক পারমাণু শক্তির মতো অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।” জাহাজ চলাচল, বন্দর আধুনিকীকরণ, লজিস্টিকস এবং ব্লু ইকোনমি আগামী দিনে নয়াদিল্লি-রোম সম্পর্কের অন্যতম ভরকেন্দ্র হবে বলেও জানান মোদি। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা— ‘‘হেলিকপ্টার, নৌ-প্ল্যাটফর্ম-সহ সমুদ্র-যুদ্ধের উপযোগী অস্ত্র এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা—সংক্রান্ত অংশীদারিত্ব বাড়ানো হবে।’’

    প্রেসিডেন্ট মাত্তারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির

    ২০ মে রোমের কুইরিনালে প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট মাত্তারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বৈঠকে দুই নেতা ভারত-ইটালি সম্পর্কের দ্রুত অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় উদীয়মান প্রযুক্তি ও এআই। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার উপর জোর দেন দুই নেতা। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের সংঘাত পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়। আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্রপথে স্বাধীন চলাচল এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তাঁরা।

    ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর

    দুই প্রধানমন্ত্রী ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (আইএমইসি)-এ সহযোগিতার কথাও ঘোষণা করেছেন। মেলোনি জানিয়েছেন, বিশেষত ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও দক্ষ কর্মীদের যাতায়াত বাড়াতে এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নে ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গাজায় যাওয়া জাহাজ আটক করা নিয়ে ইজরায়েলের সমালোচনা করেন মেলোনি।

    ভারত-ইটালি নিয়মিত আলোচনা

    মোদি-মেলোনি বৈঠকে স্থির হয়, দুই দেশ প্রতি বছর শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক করবে এবং নিয়মিত মন্ত্রীস্তর ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাবে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও একমত হয়েছে দুই দেশ। সন্ত্রাসে অর্থ জোগান বন্ধে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুজরাটের লোথালে ন্যাশনাল মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা এবং ভারতীয় নার্স নিয়োগ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারত ও ইতালি ২০২৭ সালকে সংস্কৃতি এবং পর্যটনের বছর “Year of Culture and Tourism” হিসেবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    একে অপরের পরিপূরক

    যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ইটালির ডিজাইন ও জিনিস তৈরির দক্ষতা এবং ভারতের উদ্ভাবনী চিন্তা একে অপরের পরিপূরক। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এই দিনটিকে “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করে জানান, ভারত-ইতালি সম্পর্ক এখন এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। কূটনৈতিক বৈঠকের বাইরেও নজর কাড়ে মোদি-মেলোনি দুই নেতার ব্যক্তিগত মুহূর্ত। কূটনীতির টেবিলে চুক্তির কালি শুকোতে সময় লাগে। তবে ‘মেলোডি’র মিষ্টি স্বাদ বুঝিয়ে দিয়েছে— ভারত ও ইটালির সম্পর্ক এখন শুধু কাগজে-কলমে নয়, তাতে অন্য রসায়নও দানা বাঁধছে।

     

     

     

  • Modi-Meloni Meet: রোমে ‘মেলোডি’ সন্ধ্যা! কলোসিয়ামে সেলফি, গাড়িতে সফর, নৈশভোজে মোদি-মেলোনির ছবি ভাইরাল

    Modi-Meloni Meet: রোমে ‘মেলোডি’ সন্ধ্যা! কলোসিয়ামে সেলফি, গাড়িতে সফর, নৈশভোজে মোদি-মেলোনির ছবি ভাইরাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রোমে পা দিতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) স্বাগত জানালেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (Giorgia Meloni)। সমাজমাধ্যমে লিখলেন, ‘রোমে স্বাগত বন্ধু’। মঙ্গলবার রোমে পৌঁছেই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে নৈশভোজ, গাড়িতে সফর এবং ঐতিহাসিক কলোসিয়ামে সেলফিতে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বুধবারের আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগেই দুই নেতার এই অনানুষ্ঠানিক মুহূর্তগুলি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    চার দেশে সফর শেষে ইটালিতে মোদি

    পাঁচ দেশীয় সফরে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। চার দেশে সফর শেষে ইটালিতে এসে পৌঁছেছেন তিনি। ইটালিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী। দু’দেশই যৌথ কৌশলগত পরিকল্পনা করেছে। ২০২৫-’২৯ এই সময়কালকে ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে যৌথ নিবন্ধও লিখেছেন মোদি ও মেলোনি। ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে মোদির কেমিস্ট্রি বেশ জনপ্রিয়। মোদির সঙ্গে মেলোনির এটি সপ্তম সাক্ষাৎ। আর সেই সাক্ষাতের একের পর এক ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এদিন নীল কুর্তা পাজামা ও বন্ধগলা কোটে অন্যরকম লুকে ধরা দেন নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে, কালার কনট্রাস্টে বেবি পিঙ্ক টপ ও সাদা ট্রাইজার পরেছিলেন জর্জিয়া মেলোনি। এর আগেও মোদি-মেলোনির একাধিক সেলফি চর্চার বিষয়বস্তু হয়েছিল।

    মোদি-মেলোনি একই ফ্রেমে

    জর্জিয়া মেলোনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি সেলফি তুলে পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টেই মোদিকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন মেলোনি। যা লক্ষ লক্ষ লাইক ও শেয়ার হয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদিও রোম সফরের একাধিক ছবি পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, মেলোনির সঙ্গে গাড়িতে সফর করছেন তিনি, পাশাপাশি নৈশভোজ ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনাতেও অংশ নেন দুই নেতা। মোদি লেখেন, “রোমে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে নৈশভোজ ও ঐতিহাসিক কলোসিয়াম পরিদর্শনের সুযোগ হল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বুধবারের বৈঠকে ভারত-ইতালি বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।” রোমের রাতের আলোয় আলোকিত কলোসিয়ামের সামনে মোদি-মেলোনির ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় লক্ষাধিক মানুষ সেই ছবি দেখেছেন ও শেয়ার করেছেন। নেটিজেনদের মধ্যে বহুদিন ধরেই জনপ্রিয় “মেলোডি” শব্দবন্ধ— যা ‘মেলোনি’ ও ‘মোদি’-র নাম মিলিয়ে তৈরি। জর্জিয়া মেলোনি নিজেই এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন। “মেলোডি”-র উষ্ণ রসায়ন ফের নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

    দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক

    গত কয়েক বছরে দুই দেশ বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক করিডরের বিষয়টিও মোদি মেলোনির মধ্যে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল। এই করিডোর ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপকে সংযুক্তকারী একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও সংযোগ প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী রোমে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দফতরেও যাবেন। সেখানে তিনি খাদ্য সুরক্ষা, কৃষি সংস্কার এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করবেন। ২০২৪ সালের জুনে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর এটাই মোদির ইটালিতে প্রথম সফর। রোমে অবতরণ করার পর পরই এক্স পোস্টে মোদি লেখেন, ‘এই সফরের মূল লক্ষ্য হবে ভারত-ইটালি সহযোগিতা কী ভাবে বৃদ্ধি করা যায়। বিশেষ করে ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের উপর আলোকপাত করা হবে।’

    আমেরিকার উপর ভারতের নির্ভরতা কমানোই লক্ষ্য

    পাঁচ দিনের বিদেশ সফরে গিয়েছেন মোদি। নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাশাহি ঘুরে শেষ পর্যায়ে এখন রোমে রয়েছেন তিনি। ইটালি থেকেই ভারতে ফিরবেন মোদি। তাঁর এই রোম সফর দু’দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে মত কূটনৈতিক মহলের। ইটালির এক প্রশাসনিক কর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দু’দেশই নিজেদের মধ্যে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নতি করতে চাইবে। চলতি বছরের শুরুতেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এক বাণিজ্যচুক্তি করেছে ভারত। এই চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, আমেরিকার উপর ভারতের নির্ভরতা কমানো। সেই চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটাই ছিল মোদির প্রথম ইউরোপ সফর।

    মোদি-মেলোনি কী কী নিয়ে আলোচনা

    বুধবার ভিলা ডোরিয়া পামফিলিতে ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ওই বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনেতা দু’দেশের অংশীদারি জোরদার করার জন্য একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে পারেন। শুধু তা-ই নয়, দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। ২০২৩ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১,৪০০ কোটি ইউরো। ২০২৯ সালে এই বাণিজ্যের পরিমাণ দু’হাজার কোটিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। শুধু দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নয়, তার পরে মোদি ও মেলোনি দু’দেশের শিল্পপতিদের সঙ্গে দেখা করবেন। সূত্রের খবর, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার বিষেয়ে আলোচনা হতে পারে। আবার একাংশের মতে, সামুদ্রিক পরিবহণ, কৃষি, উচ্চশিক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, আর্থিক অপরাধ দমনের মতো বিষয়গুলি নিয়ে কোনও চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। এ ছাডা়ও, পশ্চিম এশিয়া, ইউক্রেন এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা-সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে মোদি-মেলোনির মধ্যে। মেলোনি ছাড়াও ইটালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লার (Sergio Mattarella) সঙ্গে একটি বৈঠক করার কথা মোদির। রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দফতর পরিদর্শন করার কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

LinkedIn
Share