Tag: India Kuwait Defence Ties

  • India Kuwait Pact: ভারত-কুয়েতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর, পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তির একদিন পরই টেক্কা দিল্লির

    India Kuwait Pact: ভারত-কুয়েতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর, পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তির একদিন পরই টেক্কা দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরেই ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করল কুয়েত। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হল ভারত-কুয়েতের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটি (JDC)-র বৈঠক। বৈঠকে দুই দেশ সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, সামরিক চিকিৎসা, স্টাফ পর্যায়ের আলোচনা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং গবেষণা ও উন্নয়ন—একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এই বৈঠকটি ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-কুয়েত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সমঝোতাপত্র (MoU) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুয়েত সফরের সময় ওই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

    প্রথমবার বৈঠকে যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটি

    শুক্রবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্রথম JDC বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের যুগ্মসচিব অমিতাভ প্রসাদ। কুয়েতের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রায়েদ আলসাকরান। ভারতীয় প্রতিনিধি দলে সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার আধিকারিকদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদন দফতর, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO), সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা পরিষেবা এবং বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার জন্য এই কমিটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

    প্রশিক্ষণ থেকে প্রতিরক্ষা গবেষণা—একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা

    বৈঠকে সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ সামরিক মহড়া, সামরিক চিকিৎসা, স্টাফ পর্যায়ের আলোচনা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্প ও গবেষণা ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন এবং রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারত বর্তমানে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কুয়েতের প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লির ডিপিএসইউ ভবন-ও পরিদর্শন করে। সেখানে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। কুয়েতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও একটি শিল্পক্ষেত্রভিত্তিক বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়।

    ভারত-কুয়েত চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব

    ভারত-কুয়েত জেডিসি বৈঠকের ঠিক একদিন আগে কুয়েত ও পাকিস্তান প্রোটোকল এগ্রিমেন্ট ২০২৬ স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতার কাঠামো আরও বিস্তৃত হয়েছে। পাকিস্তান-কুয়েত চুক্তিতে সামরিক প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক সম্মত অন্যান্য প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতার কথা রয়েছে। তবে ভারত-কুয়েতের সাম্প্রতিক বৈঠককে সরাসরি পাকিস্তান-কুয়েত চুক্তির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছে না সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ ভারত ও কুয়েতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি রয়েছে এবং ২০২৪ সালেই দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সময়ের দিক থেকে পরপর এই দুই চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা সমীকরণের প্রেক্ষাপটে ভারত-কুয়েত বৈঠককে অবশ্যই বাড়তি কৌশলগত গুরুত্ব দিচ্ছে।

    ১৯৬২ থেকে সম্পর্ক, ২০২৪-এ ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’

    ভারত ও কুয়েতের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা ১৯৬২ সালে। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং জনসংযোগের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদির কুয়েত সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এ উন্নীত করা হয়। প্রতিরক্ষার পাশাপাশি জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক সহযোগিতাও এই অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কুয়েতে বসবাসকারী বিপুল ভারতীয় সম্প্রদায়ও দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একইসঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে কুয়েতের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা নয়াদিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    উপসাগরে ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে আরও এক ধাপ

    জেডিসি গঠনের ফলে ভারত ও কুয়েতের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নিয়মিত আলোচনার একটি স্থায়ী মঞ্চ তৈরি হল। এর মাধ্যমে শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ বা মহড়াই নয়, দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক পরিচিতিও আরও বাড়তে পারে। সামরিক চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথভাবে সেরা পদ্ধতিগুলি গ্রহণেরও সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প ও গবেষণাকে আলোচনার আওতায় আনার ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহ্যগত সামরিক বিনিময়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    প্রতিরক্ষা শিল্পেও কুয়েতকে পাশে চাইছে ভারত

    ভারত বর্তমানে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির কাছে নিজেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সম্ভাব্য সরবরাহকারী হিসেবে তুলে ধরছে। JDC বৈঠকে প্রতিরক্ষা উৎপাদন দফতর এবং ডিআরডিও-র প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সেই বৃহত্তর কৌশলেরই ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির প্রয়োজন অনুযায়ী সরঞ্জাম, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা প্রকল্প চূড়ান্ত হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনা এবং কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনের উপর।

    উপসাগরীয় নিরাপত্তায় ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি

    সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান এবং কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সহযোগিতা বাড়ছে। কুয়েতের জন্য একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখা নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে ভারতের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে গভীরতর প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তার বৃহত্তর কৌশলগত উপস্থিতি শক্তিশালী করে। কারণ এই অঞ্চল ভারতের জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক রুট এবং বিপুল প্রবাসী ভারতীয় জনগোষ্ঠীর দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভারত-কুয়েতের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠককে নিছক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত বদলে যাওয়া নিরাপত্তা সমীকরণের মধ্যেই দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এল এই জেডিসি।

LinkedIn
Share