Tag: India lodged strong protest against US

  • India’s Protest: ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর নয়া নাটক! মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে সরব ভারত, পিঠ বাঁচাতে পাল্টা দাবি ট্রাম্পের

    India’s Protest: ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর নয়া নাটক! মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে সরব ভারত, পিঠ বাঁচাতে পাল্টা দাবি ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনে ওমান উপসাগর এলাকায় ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার— এমটি মার্টিভেক্স (MT Marivex), এমটি সেটেবলো (MT Settebello) এবং এমটি জলভীর (MT Jalveer)— হামলার মুখে পড়ে। এর মধ্যে এমটি সেটেবলো-তে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত সরকার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই দু’বার মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করেছে। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের উপর এই ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।

    ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

    গত চার-পাঁচ দিনে ওমান উপকূলের কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। মার্কিন বাহিনীর এই ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত। মার্কিন হানার তীব্র নিন্দা করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার এই ঘটনা নিয়ে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি হামলার তীব্র নিন্দাও করেছেন জয়শঙ্কর। গত বুধবার নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিককে তলবও করা হয়। কিন্তু তার পরেও বৃহস্পতিবার আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ১২ জুন এক্স (সাবেক টুইটার)-এ জানান, তিনি মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন। জয়শঙ্কর লেখেন, “ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু নিয়ে ভারতের তীব্র আপত্তির কথা আমি পুনরায় জানিয়েছি। বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রাণঘাতী পদক্ষেপ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা দাবি

    ভারতের কড়া অবস্থানের পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান নাকি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলির উপর একাধিক ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছিল। মার্কিন বাহিনী সেই সমস্ত ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে। সেন্টকম (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ইরান একাধিক একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছিল। মার্কিন বাহিনী সবকটি ড্রোন ধ্বংস করেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।” এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেন, ইরানের লক্ষ্য ছিল ‘ভারতীয় জাহাজ’। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলি ভারতের মালিকানাধীন ছিল না। এমটি জলভীর (MT Jalveer) ছিল গিনি-বিসাউ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার এবং এমটি মার্টিভেক্স (MT Marivex) ও এমটি সেটেবলো (MT Settebello) ছিল পালাউ-নিবন্ধিত জাহাজ। যদিও ওই জাহাজগুলির ক্রুদের মধ্যে বহু ভারতীয় নাবিক ছিলেন।

    ট্রাম্পের পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

    আরব দুনিয়ায় উত্তেজনার আবহে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালী ছেড়ে বেরিয়ে আসা ভারতীয় জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে মানববিহীন উড়ন্ত যানের মাধ্যমে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল ইরান। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, আগের রাতে ভারতীয় জাহাজগুলির বিরুদ্ধে যে হামলার চেষ্টা হয়েছিল, তা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শুধু জাহাজে হামলার অভিযোগই নয়, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও কড়া ভাষায় সরব হয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যে খসড়া সমঝোতার কথা ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, তার সঙ্গে প্রকৃত আলোচনার কোনও মিল নেই। ইরানের বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে সদিচ্ছার ভিত্তিতে আলোচনা করা অত্যন্ত কঠিন।

    ট্রাম্পের দাবি খারিজ করল ইরান

    তবে, মার্কিন দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ভারতে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট এক বিবৃতিতে বলেছে, “হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে— মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গত এক সপ্তাহে তিনটি জাহাজে হামলা ও তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।” ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তেহরান আরও দাবি করেছে, ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনার দায় এড়াতেই নতুন এই অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।

    উত্তপ্ত হরমুজ ও ওমান উপসাগর

    বর্তমানে হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগর ঘিরে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে সামরিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ভারত শুরু থেকেই সংঘাতের বদলে শান্তি ও সংলাপের পক্ষে সওয়াল করে আসছে। এদিকে ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক চাপও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন ও নৌ-নিরাপত্তার প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি এবং ইরানের পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে সত্যতা নিয়ে এখনও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতময় পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

     

     

     

     

LinkedIn
Share