Tag: india Russia oil trade

  • Russia Oil Sanctions: রুশ তেল নিয়ে ট্রাম্পের নয়া চাল, শুল্কে ছাড়ের মাঝেই নজর ভারতের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে

    Russia Oil Sanctions: রুশ তেল নিয়ে ট্রাম্পের নয়া চাল, শুল্কে ছাড়ের মাঝেই নজর ভারতের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সন্ধ্যায় জারি করা এক নির্বাহী নির্দেশে ২০২৬ সালের ‘Sanctioning Russia and Iran Act’-এর আওতায় প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক প্রয়োগে ছাড় ঘোষণা করেছেন তিনি। এর ফলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা নিয়ে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর নতুন করে মার্কিন বাণিজ্যিক চাপ তৈরির আশঙ্কা আপাতত কমল।

    ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই ছাড় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে তিনি কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার উপর থেকে সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বলে দেখার সুযোগ নেই। নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, রাশিয়া সংক্রান্ত আগের নির্বাহী নির্দেশগুলির আওতায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলি বহাল থাকবে।

    কী ছিল গ্রাহাম আইনের প্রস্তাবিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা?

    গত ১৮ সেপ্টেম্বর ‘Lindsey O. Graham Act’ নামে পরিচিত আইনটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মস্কোর উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে রাশিয়ার জ্বালানি ক্ষেত্রকে নিশানা করার পাশাপাশি রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধেও কড়া শুল্ক আরোপের সংস্থান রাখা হয়েছিল।

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় রাশিয়া থেকে আসা পণ্যের উপর শুল্ক ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা ছিল। পাশাপাশি, ১৮ অক্টোবর বা তার পরে জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাসের নতুন সরবরাহ কিনলে রুশ জ্বালানির পাঁচ বৃহত্তম আমদানিকারক দেশের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। রাশিয়ার তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা পাঁচ বৃহত্তম দেশের পণ্যের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্কের সংস্থান ছিল।

    ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্দেশে এই প্রস্তাবিত শুল্ক ও বিধিনিষেধ প্রয়োগে আপাতত ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত ও চিনের মতো বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলির উপর সম্ভাব্য অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চাপের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত?

    রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল ক্রেতা ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, দেশের জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সরবরাহের নিরাপত্তা, প্রাপ্যতা ও সাশ্রয়ী দামের কথা মাথায় রেখে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা করলে তার প্রভাব ভারতের আমদানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহণ খরচের উপরেও পড়তে পারে।

    রুশ তেল কেনার কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে নয়াদিল্লি আগে থেকেই ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছিল। ভারতের বক্তব্য, জ্বালানি আমদানিকে শুধু ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্নটি উপেক্ষিত হতে পারে। চিনও প্রস্তাবিত ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছিল।

    ট্রাম্পের এই ছাড়ের ফলে ভারতের উপর তাৎক্ষণিকভাবে নতুন শুল্কের চাপ তৈরির আশঙ্কা কমেছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক মতপার্থক্যের স্থায়ী সমাধান বলা যাবে না। কারণ, নির্বাহী নির্দেশে রুশ জ্বালানি কেনাকাটা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে পরবর্তী পদক্ষেপের পথ খোলা রাখা হয়েছে।

    আমেরিকায় জ্বালানির দাম, মধ্যবর্তী নির্বাচনও কি বড় কারণ?

    ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পিছনে মার্কিন অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে চলমান মার্কিন-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আমেরিকায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রুশ তেল ও গ্যাসের ক্রেতা দেশগুলির উপর নতুন করে শুল্ক চাপালে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের উপর প্রভাব পড়তে পারে। তার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কাও ছিল।

    নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ছে। জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা তাই ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

    সম্প্রতি রুশ ডিজেল রফতানি ফের চালু করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর যুক্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সমালোচকদের অভিযোগ, এর ফলে রাশিয়ার রাজস্ব বাড়বে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ক্ষেত্রে মস্কো সুবিধা পেতে পারে।

    মার্কিন প্রতিনিধি ডন বেয়ারও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের অবস্থানকে দুর্বল করছে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টাকে খর্ব করছে।

    রুবিওর ভারত সফরে রিলায়্যান্সের শোধনাগার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর আসন্ন মুম্বই ও জামনগর সফর বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছেন, রুবিওর সফরে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    মুম্বইয়ে একাধিক বৈঠকের পর রুবিও জামনগরে যাবেন। সেখানে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। জামনগরেই রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম তেল পরিশোধন কমপ্লেক্সগুলির মধ্যে অন্যতম, যা রিলায়্যান্স পরিচালনা করে।

    গোর আরও জানিয়েছেন, আমেরিকায় গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম নতুন তেল শোধনাগার খোলার পরিকল্পনা রয়েছে রিলায়্যান্সের। ফলে এই সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্ব পেতে পারে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং রুশ জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে রুবিওর সফরকে তাই শুধুমাত্র কূটনৈতিক সৌজন্য সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জ্বালানির জোগান, দাম নিয়ন্ত্রণ এবং ভারত-মার্কিন ব্যবসায়িক সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।

    নজরদারি চলবে, ভবিষ্যতে ফের কড়া পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    ট্রাম্পের নির্বাহী নির্দেশ অনুযায়ী, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন দেশের রুশ তেল ও গ্যাস কেনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। একই সঙ্গে রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার কোনও প্রচেষ্টা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন বা নতুন কোনও পদক্ষেপের প্রয়োজন দেখা দিলে প্রেসিডেন্টকে তা জানাতে হবে।

    এই ছাড় কত দিন বহাল থাকবে, তারও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ট্রাম্প বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকরা যখন মনে করবেন যে আরও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তখন এই অবস্থানের পরিবর্তন হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, রাশিয়ার জ্বালানি কেনাকে কেন্দ্র করে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর সম্ভাব্য মার্কিন শুল্কের চাপ আপাতত কমল। তবে ওয়াশিংটনের নীতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা, রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা স্পষ্ট। ভারতের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক স্বস্তি এলেও ভবিষ্যতে রুশ তেল আমদানি নিয়ে মার্কিন অবস্থান কোন দিকে যায়, তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে।

  • India-Russia Oil Trade: ‘ভারত যেখান থেকে খুশি তেল কিনতে পারে’, ট্রাম্প-মোদির চুক্তি নিয়ে কী বার্তা রাশিয়ার?

    India-Russia Oil Trade: ‘ভারত যেখান থেকে খুশি তেল কিনতে পারে’, ট্রাম্প-মোদির চুক্তি নিয়ে কী বার্তা রাশিয়ার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যে কোনও দেশের কাছ থেকে তেল কিনতে পারে ভারত। সেটা দিল্লির ইচ্ছে। ভারত কখনওই একমাত্র রাশিয়া থেকে তেল কিনত এমন নয়। ভারত বিভিন্ন জায়গা থেকে নিজেদের প্রয়োজন মতো অপরিশোধিত তেল নেবে এতে নতুনত্ব কিছু নেই। এমনই মত রাশিয়ার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির পর বিশ্ব রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হলেও, ভারতের তেল আমদানি নীতি নিয়ে কার্যত ‘নির্ভয়’ বার্তা দিল রাশিয়া (India-Russia Oil Trade)। বুধবার ক্রেমলিন (Kremlin) স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত কোন দেশ থেকে তেল কিনবে সেটা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। নয়াদিল্লির এই তেল আমদানির বৈচিত্র্যকরণের প্রচেষ্টাকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছে মস্কো।

    কী বলল রাশিয়া

    ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন বলছে, শুধুমাত্র মস্কোই নয়াদিল্লিকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে না। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “আমরা, অন্যান্য সকল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতোই খুব ভালো করে জানি যে রাশিয়া ভারতে তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের একমাত্র সরবরাহকারী নয়। ভারত সর্বদা অন্যান্য দেশ থেকে এই পণ্যগুলি কিনেছে। অতএব, আমরা এখানে নতুন কিছু দেখতে পাচ্ছি না।” একদিন আগেই আবশ্য পেসকভ বলেছিলেন যে, রাশিয়ার তেল ক্রয় বন্ধ করার বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে রাশিয়া কোনও বিবৃতি পায়নি। তিনি বলেন, ‘‘রাশিয়া বরাবরই ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্ককে মূল্যবান বলে মনে করে এবং দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারি এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।’’

    ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য লাভজনক

    রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রক জোর দিয়ে বলেছে যে, হাইড্রোকার্বন বাণিজ্য নয়াদিল্লি এবং মস্কো উভয়ের জন্যই লাভজনক। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক প্রেস বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা এখনও নিশ্চিত যে ভারতের রাশিয়ান হাইড্রোকার্বন ক্রয় উভয় দেশের জন্যই লাভজনক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবদান রাখবে। আমরা ভারতে আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে এই ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।” প্রসঙ্গত, ২০২১ সাল পর্যন্ত ভারত যত অপরিশোধিত তেল আমদানি করত, তার মধ্যে রাশিয়ার তেল ছিল মাত্র ০.২ শতাংশ। তবে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর, যখন পশ্চিমের দেশগুলি মস্কোকে এড়িয়ে চলতে শুরু করল, তখন নয়াদিল্লি – বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক – রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল ছাড়ের বৃহত্তম ক্রেতা হয়ে ওঠে। তবে, রিয়েল-টাইম অ্যানালিটিক্স সংস্থা কপলারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম তিন সপ্তাহে ভারতের রুশ তেল আমদানি নেমে এসেছে দৈনিক প্রায় ১১ লক্ষ ব্যারেলে। আগের মাসে যা ছিল গড়ে ১২.১ লক্ষ ব্যারেল এবং ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তা ২০ লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি ছিল।

    বিশ্ব বাজারে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়

    রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিতে সম্মত হয়েছে ভারত। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে তা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, ভারত সরকার এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। সম্প্রতি ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল উল্লেখ করেছিলেন, বিশ্ব বাজারে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়। তবে পেসকভ স্পষ্ট করে বলেন, ‘রাশিয়া এখনও পর্যন্ত ভারতের কাছ থেকে রুশ তেল কেনা বন্ধ করার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি। নয়াদিল্লির থেকে এমন কোনও ইঙ্গিত আসেনি।’ রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পক্ষেই সওয়াল করেন রুশ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও সাফ জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

    রাশিয়া থেকে  তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন

    ভারতীয় পণ্যের ওপর আমেরিকার অতিরিক্তি ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে প্রতিদিন ১৫ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমিদানি করে গেছে। নয়াদিল্লি রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্রেতা, যা ভারতের মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া থেকে কেনা তেল পুরোপুরি বন্ধ করা ভারতের পক্ষে কঠিন। ন্যাশনাল এনার্জি সিকিউরিটি ফান্ডের এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, রাশিয়ার ‘উরাল’ (পর্বতমালার) তেল ভারতের শোধনাগারগুলির জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যা মার্কিন তেলের থেকে আলাদা। তাছাড়া রাশিয়া দৈনিক প্রায় ১৫-২০ লক্ষ ব্যারেল তেল দেয়, যা আমেরিকার পক্ষে জোগান দেওয়া সহজ নয়। ন্যাশনাল এনার্জি সিকিউরিটি ফান্ডের বিশ্লেষক ইগর ইউশকভ বলেন, ‘মার্কিন শেল তেল মূলত হালকা গ্রেডের, আর রাশিয়া ভারতকে যে ইউরাল ক্রুড সরবরাহ করে তা ভারী ও সালফারসমৃদ্ধ। যা ভারতীয় রিফাইনারিগুলোতে ব্যবহৃত হয়। ভারতকে মার্কিন তেল অন্য গ্রেডের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে, এতে খরচ বেড়ে যাবে। সরাসরি বদলি সম্ভব নয়।’

    ভারতের ওপর চাপ কেন

    ট্রাম্প সরকারের অভিযোগ, ভারতের তেল কেনার জন্যই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থ পাচ্ছে রাশিয়া। যদিও বিভিন্ন পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের সমালোচনাকারী দেশগুলি নিজেরাই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছে! পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, শুধু ২০২৪ সালেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাশিয়ার মধ্যে ৬৭৫০০ কোটি ইউরোর (প্রায় ১৮ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা) দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়েছে। সেই হিসাবে দেখতে গেলে ভারত-রাশিয়ার মোট বাণিজ্যের চেয়ে অনেক বেশি। শুধু তা-ই নয়, ২০২৪ সালে ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির পরিমাণও ১৬৫ লক্ষ টনে গিয়ে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।

LinkedIn
Share