Tag: India US Relations

  • India US Relations: ভারতের বন্ধুত্ব অপরিহার্য, আগামী বছর আসতে পারেন ট্রাম্প! দাবি নয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

    India US Relations: ভারতের বন্ধুত্ব অপরিহার্য, আগামী বছর আসতে পারেন ট্রাম্প! দাবি নয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ভারত-আমেরিকা (India US Relations) মৈত্রীর বার্তা। সাম্প্রতিক সময়ে শুল্ক বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে টানাপড়েন বেড়েছে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে। ভারতের উদ্দেশে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আবহে নতুন বার্তা নিয়ে এলেন ভারতে নবনিযুক্ত মার্কিন দূত সার্জিও গোর (Sergio Gor)। দায়িত্ব নিয়েই তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, “ভারতের থেকে কোনও পার্টনারই (সঙ্গী-রাষ্ট্র) বেশি অপরিহার্য নয়।” পাশাপাশি তিনি জানান, আগামী বছরই ভারত সফরে আসতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    ভারত আমেরিকার কাছে অপরিহার্য

    দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসে বক্তব্য রাখার সময় গোরের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের (India US Relations) চেয়ে অপরিহার্য আর কোনও দেশ নেই। গোর বলেন, “আমেরিকার দূত হিসেবে এখানে আসাটা দারুণ ব্যাপার। আমি এই অসাধারণ দেশে গভীর শ্রদ্ধা এবং একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এসেছি : আমাদের দুই দেশের মধ্যে পার্টনারশিপকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়া। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম গণতন্ত্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের মধ্যে সংযোগস্থাপন…আমার সঙ্গে শেষ নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর শেষ ভারত সফর এবং ভারতের মহান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেছিলেন। আমি আশা করি, শীঘ্রই প্রেসিডেন্ট আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসবেন, আশা করি পরের বছর বা বছর দু’য়েকের মধ্যে…প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভোর ২টোর সময় ফোন করার একটা অভ্যাস আছে এবং নয়াদিল্লির সঙ্গে সময়ের পার্থক্যে, এটা খুব ভাল বিষয় হয়ে উঠতে পারে।”

    মোদি-ট্রাম্প ভালো বন্ধু

    ভারতে (India US Relations) দায়িত্ব নিয়েই ট্রাম্প-মোদির ভাল বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন মার্কিন দূত। সার্জিও গোর জোর দিয়ে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্ব খুব ভালো। বাস্তব এবং প্রকৃত বন্ধুরা তাঁদের মতপার্থক্য সমাধান করতে পারে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, “প্রকৃত বন্ধুদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা সবসময় তাঁদের মতপার্থক্য সমাধান করে নেয়।” তিনি উল্লেখ করেন যে, নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের সম্পর্কের জন্য বাণিজ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, উভয় দেশ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, জ্বালানি, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য-সহ অন্যান্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে চলেছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কথায়, “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সারা বিশ্ব ঘুরেছি এবং আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে-প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব বাস্তব, এতে কোনও খাদ নেই।” গোর আরও ঘোষণা করেন যে, ভারত ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোটের সদস্য হবে। তিনি বলেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে আগামী মাসে এই দেশগুলোর জোটে ভারতকে পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।”

    ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোট কী?

    একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং উদ্ভাবন-চালিত সিলিকন সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি কৌশলগত উদ্যোগ। গত ডিসেম্বরেই ‘প্যাক্স সিলিকা’ তৈরির কথা জানিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে মূলত সিলিকন উপত্যকার সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধশালী, নিরাপদ এবং উদ্ভাবনী শক্তিসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে থাকবে বিরল খনিজ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ এবং কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) পরিকাঠামো। সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীতে থাকছে জাপান, রিপাবলিক অফ কোরিয়া (দক্ষিণ কোরিয়া), সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন, ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং অস্ট্রেলিয়া। এছাড়াও রিপাবলিক অফ চায়না বা তাইওয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ এবং কানাডাকে নিয়ে ‘প্যাক্স সিলিকা’ গঠন করতে চলেছে আমেরিকা।

    পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক ফোনালাপ

    মোদি এবং ট্রাম্পের বন্ধুত্বের(India US Relations) কথা বহুল চর্চিত। কখনও মোদির আমেরিকা সফর, আবার কখনও ট্রাম্পের এ দেশে আসা— এ সবই নতুন বার্তা বহন করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে বলে দাবি। নেপথ্যে বণিজ্যচুক্তি জট এবং ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক চাপানো! দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে যে সুসম্পর্ক বজায় ছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে। এর জন্য ট্রাম্পের ‘নীতি’কে দায়ী করেছে বিশ্ব। দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের আবহে বাণিজ্য (trade) নিয়ে ফের সক্রিয় আলোচনায় বসতে চলেছে ভারত ও আমেরিকা (India–U.S.)। আগামিকাল, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি এই বিষয়ে পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক ফোনালাপ হবে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (Sergio Gor)। সোমবার নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণের দিনই এই সুসংবাদের কথা জানান তিনি।

    বাণিজ্য-চুক্তি নিয়ে আলোচনা

    গোরের মন্তব্যে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে ভারতীয় শেয়ার বাজার। সোমবার দুপুরে বেঞ্চমার্ক সূচক নিফটি ৫০ (Nifty 50) প্রায় ২২০ পয়েন্ট ঘুরে দাঁড়িয়ে ০.১৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে লেনদেন করে। নিফটি ছিল প্রায় ২৫,৭৫০-এর কাছাকাছি, আর সেনসেক্স (Sensex) ওঠে প্রায় ২০০ পয়েন্ট। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও (Piyush Goyal) আলাদা মন্তব্যে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি। সার্জিও গোর বলেন, আমেরিকা ও ভারত কেবল অভিন্ন স্বার্থে আবদ্ধ নয়, এই সম্পর্ক সর্বোচ্চ স্তরে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত। গোরের দাবি, বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করা সহজ কাজ নয়। তবু ওয়াশিংটন সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। ভারত সফর প্রসঙ্গে গোর জানান, তাঁর দায়িত্বই হল ভারত–আমেরিকা (India US Relations) অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

  • India-US Relations: মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অসত্য! ‘ফোনে কথাই হয়নি’ ট্রাম্প-মোদির, জানাল ভারত

    India-US Relations: মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অসত্য! ‘ফোনে কথাই হয়নি’ ট্রাম্প-মোদির, জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনও কথাই হয়নি ভারতের (India-US Relations) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। বৃহস্পতিবার তা স্পষ্ট করে দিল নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করার বিষয়ে বুধবার তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির (Donald Trump-Narendra Modi) কথা হয়েছে। তবে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্পের সেই দাবি খারিজ করে দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে নাম না করে মিথ্যাচার বলে অভিহিত করল ভারত। উল্লেখ্য, ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতির সময়েও কৃতিত্ব দাবি করে ‘মিথ্যাচার’ করেছিলেন ট্রাম্প। এবার রুশ তেল কেনা নিয়েও তাঁর একই আচরণ।

    বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি

    বাণিজ্যশুল্ক নিয়ে আলাপ-আলোচনার মধ্যেই বড় দাবি করেছেন ট্রাম্প (Trump-Modi Meeting)। তাঁর দাবি, ফোনে ভারতের (India-US Relations) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁর। বুধবার হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, রাশিয়া থেকে আর তেল কিনবে না ভারত। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাকি এই আশ্বাস দিয়েছেন। ট্রাম্পের সেই দাবি এবার উড়িয়ে দিল বিদেশমন্ত্রক। বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়,অতি সম্প্রতি দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে ফোনে কথাই হয়নি। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমেরিকা জ্বালানি নিয়ে যে মন্তব্য করেছে, আমরা ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়েছি, যা তুলে ধরা যেতে পারে। আর ফোনে হোক বা সামনাসামনি আলোচনা, গতকাল কোনওটাই হয়নি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্টের মধ্যে কোনও আলোচনা হয়নি।”

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের অদ্ভুত দাবি

    রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই টানাপোড়েন চলছে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার দরুণ ভারতের উপর দুই দফায় ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। সেই নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার মধ্যেই বুধবার বড় দাবি করেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ও ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অসাধারণ মানুষ বলে অ্যাখ্য়া দেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে মোদী যে প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন, সে কথাও উল্লেখ করেন। এরপরই ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ হবে বলে তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন মোদি। ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, “আজই আমাকে আশ্বস্ত করেছেন উনি (মোদি) যে, আর রাশিয়ার থেকে তেল কিনবেন না ওঁরা। এটা ব্রেকিং স্টোরি। তবে সঙ্গে সঙ্গে তো হয় না। এটা একটা প্রক্রিয়া। তবে শীঘ্রই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আমরা শুধু চাই প্রেসিডেন্ট পুতিন এসব বন্ধ করুন।” ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করলেই যুদ্ধ থামানোর কাজ সহজ হবে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। যুদ্ধ শেষ হলে ভারত আবারও রাশিয়ার কাছে ফিরে যেতে পারে বলেও দাবি করেন।

    ট্রাম্পের দাবি খারিজ করে ভারত

    ট্রাম্পের এই দাবি গোড়াতেই খারিজ করে দেয় ভারত (India-US Relations) । বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, “ভারত তেল ও গ্যাস আমদানিকারী গুরুত্বপূর্ণ দেশ। জ্বালানি ক্ষেত্রে যে ওঠাপড়া দেখা যায়, তার মধ্যে ভারতীয় গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের আমদানি নীতিও এর উপর নির্ভরশীল। জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা ও ডোগান অব্যাহত রাখাই লক্ষ্য় থেকেছে বরাবর।” তবে ৯ অক্টোবর দু’দেশের রাষ্ট্রনেতার মধ্যে ফোনে কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন রণধীর। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, গত ৯ অক্টোবরের ফোনালাপের সময়ে গাজা শান্তিচুক্তির সাফল্যের জন্য ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন মোদি। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা কী অবস্থায় রয়েছে, তা-ও পর্যালোচনা করেন তাঁরা। উভয়েই এ বিষয়ে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়ে সম্মত হন।

    ভারতীয় গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষাই লক্ষ্য

    ভারতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “ভারত এবং আমেরিকা, স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্তগ্রহণের অধিকার আছে দুই দেশেরই। আমরা তাতে হস্তক্ষেপ করি না। আমাদের তেল আমদানি করে ভারতের অর্থনীতির লাভ হয়েছে, ভারতীয় নাগরিকরা উপকৃত হয়েছেন। আমেরিকা এবং ভারতের যেমন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক (India-US Relations) রয়েছে, রাশিয়া এবং ভারতের মধ্যেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে।” সোভিয়েত আমল থেকেই মস্কোর সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক যথেষ্ট মজবুত। ঠান্ডা যুদ্ধের আমলেও দ্বিমেরুকৃত বিশ্বে বহু ঘটনায় ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে তারা। সোভিয়েত ইউনিয়ান ভেঙে যাওয়ার পরেও, এমনকি পুতিনের আমলেও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অটুটই থেকেছে। তেল আমদানি নিয়ে মার্কিন চাপের মুখে এর আগে ভারত বহু বার জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেবে তারা। তবে একই সঙ্গে সাউথ ব্লক জানিয়েছে, ভারত তেল কেনার বাজারকে আরও বিস্তৃত এবং‌ বৈচিত্রময় করতে চায়। এই সূত্রেই ভারত জানিয়েছে, জ্বালানি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করতে আমেরিকার সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে।

  • PM Modi in UNGA: ‘শুল্কযুদ্ধ’র আবহেই সেপ্টেম্বরে মার্কিন সফরে প্রধানমন্ত্রী! রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য করতে পারেন মোদি

    PM Modi in UNGA: ‘শুল্কযুদ্ধ’র আবহেই সেপ্টেম্বরে মার্কিন সফরে প্রধানমন্ত্রী! রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য করতে পারেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-মার্কিন শুল্ক দ্বন্দ্বের (India-US Relations) আবহেই আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in UNGA)। সেপ্টেম্বর মাসে আমেরিকা যাচ্ছেন তিনি। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার অধিবেশনে বক্তা হিসেবে নাম রয়েছে তাঁর। এই বৈঠকে থাকবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রক এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি।

    মার্কিন সফরে যাবেন মোদি!

    সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে নিউ ইয়র্কে রয়েছে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সেই বৈঠকেই যোগ দিতেই আমেরিকায় যাওয়ার কথা মোদির। তবে এ ব্যাপারে ভারত সরকারের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি। প্রসঙ্গত, সেপ্টেম্বরে মোদির মার্কিন সফর নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই নানা মহলে আলোচনা চলছিল। এমনকি, গত গত ১১ অগাস্ট রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা হয় মোদির। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর যে কথা হয়েছে সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন জেলেনস্কি। সূত্রের খবর, রাষ্ট্রসংঘের বৈঠকের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে দুই রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে আলাদা করে দেখা করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    ট্রাম্পকে কি এড়াবেন মোদি?

    প্রধানমন্ত্রী মোদি আমেরিকায় (India-US Relations) গেলে তাঁর সঙ্গে কথা হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। মোদি এবং ট্রাম্প সেখানে মুখোমুখি বসলে, গত সাত মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার বৈঠকে বসবেন তাঁরা। এর আগে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তাঁরা। জি৭ বৈঠকে যোগ দিতে মোদি যখন কানাডায়, সেই সময়ই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সময় আমেরিকায় ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, যাঁকে হোয়াইট হাউসে আপ্যায়ন করেন ট্রাম্প। সেই কারণেই সেবার ট্রাম্পের সঙ্গে মোদি দেখা করেননি বলে জানা যায়।

    আপস করবে না ভারত

    দ্বিতীয় বার আমেরিকার মসনদে ফেরার পর থেকেই শুল্ক নিয়ে কড়া মনোভাব দেখাচ্ছেন ট্রাম্প। ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক বার ক্ষোভ উগরে দিতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতকে প্রকাশ্য়ে ভর্ৎসনা করেন তিনি। আর তার পরই দু’দফায় ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেন তিনি। এরপরই মোদি ও ট্রাম্পের ব্যাক্তিগত সম্পর্কেও ছেদ পড়ে। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, দেশের স্বার্থে ব্যক্তিগত ভাবে মাশুল দিতেও প্রস্তুত তিনি। তাই মুখোমুখি সাক্ষাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকে।

    কবে ভাষণ দিতে পারেন মোদি

    উল্লেখ্য, ইউএনজিএ-র (United Nations General Assembly) ৮০তম অধিবেশন শুরু হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। উচ্চপর্যায়ের সাধারণ আলোচনা চলবে ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রথম বক্তা থাকবে ব্রাজিল, এরপর আমেরিকা। ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। বক্তাদের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, ভারতের ‘সরকারের প্রধান’ (Head of Government) ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। একইদিনে ইজরায়েল, চিন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের ‘সরকারের প্রধান’রাও সাধারণ আলোচনা অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। তবে এখনও স্পষ্ট নয়, নরেন্দ্র মোদি এই সভায় যোগ দিতে যাচ্ছেন কি না।

    ভারত নিজের জায়গায় স্পষ্ট, মিলবে কি রফাসূত্র?

    এ বছরের অধিবেশন শুরু হচ্ছে ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ এবং ইউক্রেন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, দ্বিতীয় মেয়াদের ছয় মাসে তিনি একাধিক যুদ্ধ মিটিয়ে দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, ইজরায়েল-ইরান, রুয়ান্ডা-কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, মিশর-ইথিওপিয়া এবং সার্বিয়া-কসোভোর মধ্যে শান্তিচুক্তি। এছাড়াও, মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানোর কৃতিত্বও বারবার নিজের বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও ট্রাম্পের সেই দাবিও অস্বীকার করছে ভারত। দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন মধ্যে মোদি যদি আমেরিকায় যান এবং ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত অনেকের। ওই বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসতে পারে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, শুল্ক, বাণিজ্যচুক্তির প্রসঙ্গ। মিলতে পারে কোনও এক রফাসূত্রও! শুধু তা-ই নয়, ১৫ অগাস্ট (শুক্রবার) আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকও নজরে রয়েছে ভারতের।

LinkedIn
Share