Tag: India US Relations

  • S Jaishankar: “পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আমেরিকার যথেষ্ট বোঝাপড়া নেই, এরই প্রভাব পড়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে”, বললেন জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: “পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আমেরিকার যথেষ্ট বোঝাপড়া নেই, এরই প্রভাব পড়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে”, বললেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আমেরিকা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে না বুঝলে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়তে পারে। নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। তিনি এও বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ক্রমশ আরও বহুমেরুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, পরস্পরনির্ভরতার কৌশলগত ব্যবহার, দুর্বল সরবরাহ-শৃঙ্খল এবং শক্তির পরিবর্তিত ভারসাম্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে (Indias Terrorism) আরও জটিল করে তুলেছে।

    ভারত-মার্কিন সম্পর্কের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি বাণিজ্যিক জটিলতার কথাও উল্লেখ করেন। পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে যে ধরনের সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি ভারত হয়েছে, তা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান উদ্বেগ।

    জয়শঙ্করের কথায়, “সম্ভবত খুব কম দেশই আছে, যারা বহু দশক ধরে কোনও প্রতিবেশী দেশের সুপরিকল্পিত ও সচেতন নীতির অংশ হিসেবে আমাদের মতো সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, ভারতের কাছে যে বিষয়টি মৌলিক গুরুত্ব বহন করে, কোনও অংশীদার দেশ যদি সেটি যথেষ্ট পরিমাণে না বোঝে বা গুরুত্ব না দেয়, তাহলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়বেই। তাঁর কথায়, “আমার অন্যতম প্রধান উদ্বেগ যদি আমার অংশীদার সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি না করেন, তাহলে তার প্রভাব সম্পর্কের উপর পড়বে।”

    এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার প্রশাসনের সময়ে আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবর্তন পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে (S Jaishankar)।

    সীমান্তে স্বাভাবিক পরিস্থিতিই ভারত-চিন সম্পর্কের পূর্বশর্ত (S Jaishankar)

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, আগের কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও উন্নতি দেখা যাচ্ছে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় আজ সম্পর্ক কি ভালো? আমি বলব, হ্যাঁ। ২০২৪ সালের তুলনায় বললে, আরও বেশি।”

    তবে এই উন্নতিকে দুই দেশের সম্পর্কের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর মতে, ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থার কারণে ভারত ও চিনের মধ্যে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছিল। সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ, ভিসা প্রদান এবং সরাসরি বিমান পরিষেবাতেও তার প্রভাব পড়েছিল।

    সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বৃহত্তর কূটনৈতিক যোগাযোগও ধীরে ধীরে ফিরেছে বলে জানান তিনি। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই বেজিংকে জানিয়ে এসেছে যে সীমান্তে উত্তেজনা দুই দেশের কারও স্বার্থে নয় (S Jaishankar)।

    জয়শঙ্কর বলেন, “যে সমস্যা অন্যদের সুবিধা দেয়, সেই সমস্যার মধ্যে নিজেদের আটকে রাখা উচিত নয়।”

    ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যের মূল নীতি হল, “সীমান্তের পরিস্থিতিই সম্পর্কের পরিস্থিতি নির্ধারণ করে।” তাঁর কথায়, “সীমান্তে উত্তেজনা থাকবে, আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকবে—এটা হতে পারে না।” সীমান্তে স্বাভাবিক পরিস্থিতি যত এগোবে, ততই বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নতির পরিবেশ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

    বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের দিকে এগোচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরে বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়েও বক্তব্য রাখেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, বিশ্ব ক্রমশ আরও বহুমেরুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে।

    একসময় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্থিতিশীল শক্তি এবং ব্যবস্থার রূপ নির্ধারণকারী দেশ হিসেবে আমেরিকার যে ভূমিকা ছিল, তাতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিভিন্ন জোটের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের পাশাপাশি আমেরিকা এখন আরও বেশি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    আমেরিকা ও চিনের সম্পর্কের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, দুই দেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে পারলেও সামগ্রিক সম্পর্ক এখনও প্রতিযোগিতামূলক। তাঁর কথায়, “বিশ্বের বাকি দেশগুলির বিষয়ে তারা দু’জনে কতটা একমত হতে পারে, তারও সীমা রয়েছে।”

    এই পরিস্থিতিতে ভারত-সহ অন্যান্য দেশের সামনে অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনা এবং কোনও একটি দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

    জয়শঙ্করের কথায়, “আমরা কীভাবে ঝুঁকি কমাব? কীভাবে অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনব? নতুন অংশীদার কারা হতে পারে? ইতিমধ্যে থাকা কোনও অংশীদারিত্ব থেকে কীভাবে আরও বেশি মূল্য পাওয়া যেতে (Indias Terrorism) পারে?”

    “পরস্পরনির্ভরতা বাস্তবতা, প্রতিযোগিতা মানসিকতা”

    বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জয়শঙ্কর যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ, দুর্বল সরবরাহ-শৃঙ্খল এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন।

    তিনি পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর তৈরি হওয়া চাপের কথা উল্লেখ করেন। খাদ্য, জ্বালানি, সার ও অর্থব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দেশের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি (S Jaishankar)।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের সময়ের পরস্পরবিরোধী বাস্তবতা হল, দেশগুলি গভীরভাবে পরস্পরনির্ভরশীল হয়েও একই সময়ে সেই পরস্পরনির্ভরতাকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। পরস্পরনির্ভরতা বাস্তবতা, প্রতিযোগিতা হল মানসিকতা।”

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ, নিষেধাজ্ঞা, ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়গুলিকেও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার উপর যেসব দেশের প্রভাব রয়েছে, তারা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের বিরুদ্ধে সেই প্রভাব ব্যবহার করার সুযোগ পায়।

    জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আন্তর্জাতিক কৌশলগত হিসাবকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেও মন্তব্য করেন বিদেশমন্ত্রী। নতুন সামরিক সক্ষমতা দেশগুলিকে আরও বেশি ঝুঁকি নেওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও (Indias Terrorism) সতর্ক করেন তিনি।

    এই পরিস্থিতিতে কূটনীতিকে তিনি চরম কঠিন এক খেলা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, সরকারগুলিকে একদিকে তাৎক্ষণিক সংকট সামলাতে হয়, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বিরোধ মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় ধৈর্যও (S Jaishankar) ধরে রাখতে হয়।

     

  • FCRA Bill: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের সমালোচনা, কড়া জবাব ভারতের

    FCRA Bill: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের সমালোচনা, কড়া জবাব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত সংশোধনী আইন (FCRA Bill) নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাইলি মুরের সমালোচনা (US) খারিজ করে দিল ভারত। ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, আইন প্রণয়ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। একই সঙ্গে মন্ত্রকের বক্তব্য, বিদেশি অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের একাধিক দেশের নিজস্ব আইন রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আমেরিকাও। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতে আইন প্রণয়নের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই দেশের অভ্যন্তরীণ আইনকে তার যথাযথ সাংবিধানিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে বিচার করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন সংগঠনের কাছে বিদেশি অনুদানের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। আমেরিকায়ও বিদেশি অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজস্ব আইন রয়েছে।”

    গির্জার নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে যেতে পারে, দাবি মুরের (FCRA Bill)

    গত ৪ অগস্ট এক বিবৃতিতে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য রাইলি মুর দাবি করেছিলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হলে ভারতের সরকার গির্জা এবং ধর্মীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে কোনও প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেলে অথবা তার পুনর্নবীকরণ না হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মুরের অভিযোগ, এই ধরনের বিধান খ্রিস্টান সংগঠনগুলির ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভারত সরকারকে প্রস্তাবিত আইনটি পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানান তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, এই সংশোধনী ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    কী রয়েছে প্রস্তাবিত সংশোধনীতে?

    প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে ২০১০ সালের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনে পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। ভারতে ব্যক্তি, সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির বিদেশি অনুদান গ্রহণ ও ব্যবহারের বিষয়টি এই আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রিত হয়। বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, জনস্বার্থ বা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান যাতে কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করাই এই আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদান গ্রহণের নিবন্ধন বাতিল হলে, প্রতিষ্ঠানটি স্বেচ্ছায় তা সমর্পণ করলে অথবা নিবন্ধনের মেয়াদ পুনর্নবীকরণ না হলে, সরকার মনোনীত কোনও কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদান এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদ পরিচালনা করতে পারবে (FCRA Bill)। তবে উপাসনাস্থল বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওই সম্পদ পরিচালনার সময় তাদের ধর্মীয় চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে।

    সম্পদ সুরক্ষাই উদ্দেশ্য, দাবি কেন্দ্রের

    কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, প্রস্তাবিত সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হল বিদেশি অনুদানের মাধ্যমে তৈরি জনসম্পদ সুরক্ষিত রাখা এবং বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের চলমান দাতব্য কার্যক্রম যাতে আইন মেনে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করা (FCRA Bill)। সরকারের মতে, কোনও প্রতিষ্ঠান বিদেশি অনুদান গ্রহণের যোগ্যতা হারালে তার সম্পদ ও কার্যক্রম যাতে অনিয়মের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্যই এই পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুষ্ঠু প্রশাসন নিশ্চিত করাও সংশোধনীর অন্যতম লক্ষ্য (US)। তবে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহল এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এর ফলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর সরকারের নজরদারির পরিধি আরও বাড়বে। রাইলি মুরের মন্তব্যের পর বিদেশমন্ত্রকের এই বক্তব্যই বিষয়টি নিয়ে ভারতের প্রথম সরকারি প্রতিক্রিয়া। মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আইন প্রণয়ন ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতিগত বিষয় (US) এবং প্রস্তাবিত সংশোধনীকে দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনি কাঠামোর পরিপ্রেক্ষিতেই বিচার করা উচিত (FCRA Bill)।

     

  • India-US Relations: ভারতের সঙ্গে ফের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায় ইচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসন! আগ্রহ এআই, প্রতিরক্ষা নিয়েও, কারণ কী?

    India-US Relations: ভারতের সঙ্গে ফের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায় ইচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসন! আগ্রহ এআই, প্রতিরক্ষা নিয়েও, কারণ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে অসামরিক পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে বলে জানালেন মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবেই দেখছে। এই মন্তব্য করেছেন মার্কিন বিদেশ দফতরের সহকারী সচিব এস পল কাপুর। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুভার ইনস্টিটিউশনে ভারতকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মার্কিন বিদেশ সচিব কন্ডোলিজা রাইস এবং ভারতে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড সি মালফোর্ড।

    ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক

    সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এস পল কাপুর বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই। এই সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) শক্তিশালী করছে, যা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রতিরক্ষা এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করছি। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী বিশ্বস্ত AI (Trusted AI) এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির গ্রহণ ও উন্নয়নেও একসঙ্গে কাজ করছি।’’

    কেন গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা?

    ভারতের বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মার্কিন সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অসামরিক পারমাণবিক শক্তি খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় আগ্রহী। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন পারমাণবিক শিল্পের শীর্ষ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধিদল ভারতে এসে বেসরকারি শিল্পের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করে। এই আগ্রহ আরও বেড়েছে, কারণ ভারত সম্প্রতি ‘শান্তি’ (SHANTI) আইন প্রণয়ন করে পারমাণবিক প্রকল্পে দায়বদ্ধতা (Liability) সংক্রান্ত বিধিতে পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে বিদেশি সংস্থাগুলির জন্য ভারতীয় বাজারে কাজ করার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে আরও অনুকূল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সম্পর্ক ইতিমধ্যেই শক্ত ভিতের উপর

    ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব কাঠামোতে স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য স্থল, নৌ, বায়ু, মহাকাশ এবং সাইবার—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা (Interoperability) বৃদ্ধি করা। ২০০২ সালের পর থেকে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একাধিক অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    • ● অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার
    • ● চিনুক হেভি-লিফট হেলিকপ্টার
    • ● সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহণ বিমান
    • ● সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস
    • ● পি-৮আই সামুদ্রিক নজরদারি বিমান
    • ● এম-৭৭৭ আল্ট্রা-লাইট হাউইৎজার

    এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।

    এআই ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে নতুন সমীকরণ

    বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি আগামী দিনের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তারা ভারতের সঙ্গে বিশ্বস্ত এআই-এর মতো ক্ষেত্রেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়। এর লক্ষ্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরিবেশ তৈরি করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর ক্ষেত্রে ভারতীয় সফটওয়্যার দক্ষতা এবং মার্কিন প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব একত্রিত হলে বিশ্ববাজারে দুই দেশই বড় সুবিধা পেতে পারে।

    ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়ছে

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা কেবল অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে ওয়াশিংটন। প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি, এআই এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন, উন্নত প্রযুক্তি ভাগাভাগি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং এআই-ভিত্তিক উদ্ভাবনে ভারত-মার্কিন সহযোগিতা আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

  • Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত যদি কখনও হামলার শিকার হয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়াবে”, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই আশ্বাস দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে করেন যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানেই ভারতের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের এহেন বার্তা থেকেই স্পষ্ট, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বরফ ফের গলছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে নতুন করে মজবুত করারই ইঙ্গিত।

    ভারতের পাশে থাকার বার্তা (Donald Trump)

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, ভারত ও আমেরিকা এই দুই দেশের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। তা সত্ত্বেও ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। কিন্তু ভারত আক্রান্ত হলে আমরা অবশ্যই সাহায্য করতে এগিয়ে আসব।” তাঁর এই মন্তব্যকে ভারতের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম শক্তিশালী প্রকাশ্য নিরাপত্তা আশ্বাস হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, মোদি বিশ্বের অন্যতম কঠিনতম নেতা এবং সবসময় ভারতের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেন।

    ‘উনি দেবদূতের মতো’

    ট্রাম্পের (Donald Trump) কথায়, “উনি খুবই ভদ্র মানুষ। কিন্তু অত্যন্ত কঠোর এক নেতা, যিনি সব সময় নিজের দেশের মানুষের জন্য লড়াই করেন।” তিনি বলেন, “মোদি যেমন ধীরস্থির, শান্ত এবং একই সঙ্গে কঠোর…আমি কিন্তু ওরকম নই!” ‘দেখতে দেবদূতের মতো’ এই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্পের গলায় বারবার শোনা গিয়েছে মোদি-প্রশস্তি। কথা প্রসঙ্গে এক সময় রসিকতার সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, মোদির শান্ত ও নম্র চেহারার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অত্যন্ত দৃঢ় এক নেতৃত্বের গুণ।তিনি বলেন, “উনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) দেখতে খুবই ভালো। দেখতে দারুণ লাগে, যেন সাক্ষাৎ দেবদূত। তবে, প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ করতে পিছপা হন না। কিন্তু এত সুন্দর দেখতে যে সবাই চমকে যান। এমন মানুষ খুব কমই দেখা যায়। উনি ভারতীয়দের যেমন ভালবাসেন, আমেরিকাকেও ভালবাসেন। হিউস্টনে ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান হয়েছিল। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়াম। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ফের ভারত সফরে যাব কখনও”।

    স্মৃতির সুখসাগরে ডুব ট্রাম্পের

    এর পরেই স্মৃতির সুখসাগরে ডুব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর (Donald Trump) ভারত সফরের কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জানান, সেই সফরে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে দিয়েছিল দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা (PM Modi)। আবারও একবার মোদির প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “উনি বেশ কঠোর।…তবে, একবার মানুষটির দিকে তাকান। অত্যন্ত সুন্দর দেখতে।” ট্রাম্পের (Donald Trump) এই মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও হাসির রোল পড়ে যায়।

    উষ্ণ বার্তা

    সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত এবং আমেরিকা দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ভারত সরকার ওই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অসামরিক নৌযান ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। এই ঘটনার পর ভারতকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করার চেষ্টা বলেই মত বিশ্লেষকদের।

    সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

    দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সরবরাহ শৃঙ্খল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলেই খবর। এছাড়াও, ভারত-আমেরিকার মধ্যে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প (PM Modi)।

    হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী সবসময় নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা জরুরি।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের সামুদ্রিক খাতে কর্মরত নাবিকদের প্রায় ১০ শতাংশই (Donald Trump) ভারতীয় এবং তাঁদের নিরাপত্তা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    আমেরিকায় ভারতের লগ্নিরও প্রশংসা

    ট্রাম্প ভারতের অর্থনৈতিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে, যা দুই দেশেরই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘদিনের বন্ধু। তাঁর সঙ্গে আবার দেখা হওয়া খুবই আনন্দের।”

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে দুই নেতার মধ্যে শেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (PM Modi) হয়েছিল। পরবর্তীকালে শুল্কনীতি ও ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে কিছু মতপার্থক্য তৈরি হলেও, সাম্প্রতিক এই বৈঠক দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে (Donald Trump) আরও এগিয়ে নেওয়ারই বার্তা দিয়েছে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের।

     

  • Modi At G7: জি৭-এর মঞ্চে ট্রাম্প-মাক্রঁর সঙ্গে প্রথম সারিতে মোদি, বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের উত্থানের স্পষ্ট বার্তা

    Modi At G7: জি৭-এর মঞ্চে ট্রাম্প-মাক্রঁর সঙ্গে প্রথম সারিতে মোদি, বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের উত্থানের স্পষ্ট বার্তা

    সুশান্ত দাস 

    ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-ব্যাঁ (সংক্ষেপে এভিয়ঁ) শহরে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক ‘লিডার্স ফটোগ্রাফ’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর পাশে প্রথম সারিতে মোদির উপস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অবস্থান শুধু প্রোটোকলের বিষয় নয়, বরং বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতীক।

    সদস্য নয়, তাও ভারতকে আমন্ত্রণ

    বিশ্বের সাতটি প্রধান শিল্পোন্নত অর্থনীতির এই ফোরামে ভারত সদস্য না হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির গুরুত্ব ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূ-রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান এখন বৈশ্বিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সেই বাস্তবতাই যেন প্রতিফলিত হয়েছে জি৭ নেতাদের এই ঐতিহাসিক ছবিতে।

    মাক্রঁর বিশেষ অভ্যর্থনা, ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের নতুন বার্তা

    সম্মেলনের শুরুতেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান। তিনি সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমেও শেয়ার করেন। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের গুরুত্বকেই তুলে ধরে। প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা, পারমাণবিক শক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি ও প্যারিসের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ হিসেবে ফ্রান্স বর্তমানে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।

    ১৬ মাস পর মুখোমুখি মোদি ও ট্রাম্প

    জি৭ সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক। প্রায় ১৬ মাস পর দুই নেতা সরাসরি মুখোমুখি হলেন। শুধু তাই নয়, সম্মেলনের মূল অধিবেশনেও তাঁদের পাশাপাশি বসতে দেখা যায়। এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার প্রশাসনের অধীনে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। চিনকে কেন্দ্র করে পরিবর্তিত বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আগামী দিনে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অক্ষ হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    কেন বারবার জি৭-এ আমন্ত্রিত হচ্ছেন মোদি?

    এবারের সম্মেলন ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদির সপ্তম ধারাবাহিক জি৭ অংশগ্রহণ। জি৭-এর সদস্য না হয়েও এতবার আমন্ত্রিত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ—

    • ● বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর অন্যতম ভারত।
    • ● বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের ভূমিকা দ্রুত বাড়ছে।
    • ● প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সবুজ শক্তি ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছে।
    • ● উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোর সমাধানে ভারতের অংশগ্রহণ এখন প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ফলে জি৭-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ভারতের উপস্থিতি ক্রমশ স্থায়ী চরিত্র ধারণ করছে।

    ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর মুখপাত্র হিসেবে ভারতের অবস্থান

    গত কয়েক বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। জলবায়ু অর্থায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি সংকট, ডিজিটাল বৈষম্য এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে ভারতের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব পেয়েছে। জি২০-র সভাপতিত্বের সময়ও ভারত ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর উদ্বেগ ও প্রত্যাশাকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল। জি৭ সম্মেলনেও সেই অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন মোদি।

    একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি

    সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেরও কর্মসূচি রয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত সহযোগিতা এসব বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের অনুমান।

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের উত্থানের প্রতীকী বার্তা

    এভিয়ানের জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মাক্রঁর পাশে প্রথম সারিতে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি নিছক একটি আনুষ্ঠানিক ছবি নয়। এটি এমন এক ভারতের প্রতিচ্ছবি, যা আজ বিশ্বের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তিগুলোর সঙ্গে সমান গুরুত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ, বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে ভারত যে আরও একধাপ এগিয়ে গেল, জি৭ সম্মেলনের এই দৃশ্য যেন সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল।

  • Trump: জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, মুখোমুখি বৈঠক হওয়ার কথা ট্রাম্পের সঙ্গেও

    Trump: জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, মুখোমুখি বৈঠক হওয়ার কথা ট্রাম্পের সঙ্গেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সম্মেলনের ফাঁকে আগামী ১৭ জুন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। হোয়াইট হাউসের এক প্রবীণ কর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জি-৭ নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত অংশীদার দেশ এবং প্রযুক্তি সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে যৌথ মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেওয়ার আগে বৈঠকে (PM Modi) বসবেন মোদি-ট্রাম্প।

    মোদি-ট্রাম্প বৈঠক (Trump)

    এই বৈঠকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব, এআই (AI) এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্ক, জ্বালানি সহযোগিতা, এইচ-ওয়ান বি (H-1B) ভিসা নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর এই প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে চলেছে মোদি-ট্রাম্পের মধ্যে। তাই সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।

    জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন

    সোমবার ওয়াশিংটন থেকে রওনা হয়ে ফ্রান্সে যাবেন ট্রাম্প (Trump)। জি-৭ সম্মেলনের পাশাপাশি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ-সহ বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এদিকে, ইতিমধ্যেই স্লোভাকিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে ফের ১৬ জুন ফ্রান্সে পৌঁছনোর কথা তাঁর। ১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়াঁ-লে-ব্যাঁ শহরে অনুষ্ঠিত হবে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে এই সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এটি হবে জি-৭ সম্মেলনে তাঁর টানা সপ্তমবার অংশগ্রহণ, যেখানে ভারত ‘গ্লোবাল সাউথে’র অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    আন্তর্জাতিক মহলের নজর

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এবারের জি-৭ সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হবে (PM Modi)। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, সাপ্লাই চেন নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা এবং এআইয়ের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা হবে। যদিও ট্রাম্প-মোদি বৈঠকের বিস্তারিত কর্মসূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল (Trump)।

     

  • QUAD 2026: চিনকে টক্কর দিতে হাত মেলালো ভারত-আমেরিকা! গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন দু’দেশের

    QUAD 2026: চিনকে টক্কর দিতে হাত মেলালো ভারত-আমেরিকা! গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন দু’দেশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে যখন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) ও রেয়ার আর্থ উপাদান (Rare Earth Materials) ঘিরে কৌশলগত প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত ও আমেরিকা। মঙ্গলবার কোয়াড (Quad) বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) ও রেয়ার আর্থ (Rare Earth) সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বৈদ্যুতিক যান (EV), সেমিকন্ডাক্টর এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি শিল্পের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমঝোতা শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে অন্যতম হল চিনের উপর নির্ভরতা কমানো।

    কী বললেন এস জয়শঙ্কর?

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) জানান, ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং রেয়ার আর্থের খনন ও প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত করার জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক কাঠামো (Framework Agreement) তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং রেয়ার আর্থের খনন ও প্রক্রিয়াকরণের সরবরাহ সুরক্ষিত করার জন্য ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক কাঠামো স্বাক্ষর করছি। কোয়াড বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিকভাবে হোক বা কোয়াডের মাধ্যমে—সমমনা দেশগুলির জন্য এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

    বর্তমানে বিশ্বে রেয়ার আর্থ প্রসেসিং ও বহু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহে সবচেয়ে বড় আধিপত্য রয়েছে চিনের। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, মিসাইল, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, মোবাইল ফোন, সোলার প্যানেল ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত বহু উপাদানের জন্য বিভিন্ন দেশ এখনও চিনের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও আমেরিকার নতুন অংশীদারিত্বকে “সাপ্লাই চেইন সিকিউরিটি” নিশ্চিত করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার কারণে বহু দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে।

    কোন কোন খনিজের উপর জোর?

    এই চুক্তির আওতায় ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে অনুসন্ধান (Exploration), খনন (Mining), প্রক্রিয়াকরণ (Processing), পরিশোধন (Refining) এবং সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়নে কাজ করবে। বিশেষভাবে যে খনিজগুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেগুলি হল—

    • ● লিথিয়াম (Lithium)
    • ● কোবাল্ট (Cobalt)
    • ● নিকেল (Nickel)
    • ● গ্রাফাইট (Graphite)
    • ● রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (Rare Earth Elements)

    এই খনিজগুলি বৈদ্যুতিক যানের ব্যাটারি, নবীকরণযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের জন্য কী লাভ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে ভারতের সামনে একাধিক সুবিধার দরজা খুলে যেতে পারে।

    ● ১. বৈদ্যুতিক যান ও ব্যাটারি শিল্পে গতি

    ভারতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজার দ্রুত বাড়ছে। বৈদ্যুতিক যানের ব্যাটারি তৈরির জন্য লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বহুগুণ বাড়বে। এই চুক্তি ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

    ● ২. প্রতিরক্ষা ও সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে শক্তি বৃদ্ধি

    রেয়ার আর্থ উপাদান আধুনিক মিসাইল সিস্টেম, রাডার, যুদ্ধবিমান ও উন্নত ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরিতে অপরিহার্য। ফলে প্রতিরক্ষা উৎপাদনেও ভারতের স্বনির্ভরতা বাড়তে পারে।

    ● ৩. প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ

    চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সংস্থাগুলি উন্নত প্রসেসিং প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। এর ফলে দেশে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়বে।

    আমেরিকার লক্ষ্য কী?

    আমেরিকাও দীর্ঘদিন ধরে চিনের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ রেয়ার আর্থ প্রসেসিং ক্ষমতা চিনের হাতে থাকায় আমেরিকা বিকল্প অংশীদার খুঁজছে। ভারতের সঙ্গে এই চুক্তিকে তাই “বিশ্বস্ত সরবরাহ শৃঙ্খল অংশীদারিত্ব” হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোয়াডভুক্ত দেশগুলির মধ্যেও এই ইস্যু এখন কৌশলগত অগ্রাধিকারের তালিকায় উঠে এসেছে।

    ভারতের আগাম প্রস্তুতি

    ভারত সরকার ইতিমধ্যেই কয়েকটি খনিজকে “গুরুত্বপূর্ণ খনিজ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভবিষ্যতের শিল্প ও জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদেশে খনিজ সম্পদ অধিগ্রহণের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক গতিশীলতার দিকে বিশ্ব যত এগোবে, ততই এই খনিজগুলির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়বে।

    রেয়ার আর্থ কেন এত মূল্যবান?

    রেয়ার আর্থ উপাদান ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি শিল্প কার্যত অচল। এগুলি ব্যবহার করা হয়—

    • ● বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি
    • ● উইন্ড টারবাইন
    • ● মোবাইল ফোন
    • ● সেমিকন্ডাক্টর
    • ● সোলার প্রযুক্তি
    • ● মিসাইল ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
    • ● উন্নত ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরিতে

    ফলে ভারত-আমেরিকার এই নতুন অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক শক্তির লড়াইয়ে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

  • PM Modi: আগামী মাসেই ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প! কী নিয়ে হতে পারে আলোচনা?

    PM Modi: আগামী মাসেই ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প! কী নিয়ে হতে পারে আলোচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তারপর থেকে আর বড় কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (G7 Summit) মুখোমুখি হওয়া হয়নি দুই রাষ্ট্রনেতার। এবার হবে। জুন মাসে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানেই ফের মুখোমুখি হতে পারেন এই দুই ‘মহান বন্ধু’। ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক স্টাইলের কারণে একটি ছোট্ট দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন হল, এতে কি আর ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমবে? উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে জুন পর্যন্ত।

    জি৭ শীর্ষ সম্মেলন (PM Modi)

    ভারত জি৭-এর স্থায়ী সদস্য নয়। তবে বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে নিয়মিত যোগ দেয় এই সম্মেলনে। এ বছর ওই সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ স্বয়ং আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-ব্যাঁ (Evian-les-Bains) ১৫-১৭ জুন হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে মুখোমুখি হয়েছিলেন মোদি ও ট্রাম্প। শুল্ক উত্তেজনার পটভূমিতে অনুষ্ঠিত সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প মোদিকে ‘মহান বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছনোর অঙ্গীকারও করেছিলেন এই দুই রাষ্ট্রনেতা।

    নোবেল পুরস্কার প্রত্যাশী ট্রাম্পের দাবি

    যদিও গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাশী ট্রাম্প হঠাৎই দাবি করতে থাকেন, ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি হয়েছে তাঁরই মধ্যস্থতায়। এর পর থেকে ট্রাম্প যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই বলে বেড়িয়েছেন, তাঁরই বাণিজ্যিক চাপের কারণে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পুরোপুরি যুদ্ধে জড়ায়নি। ট্রাম্পের এহেন ঘোষণায় খুব খুশি হয়েছিল শাহবাজ শরিফের দেশ। তবে পাকিস্তান ট্রাম্পের প্রশংসা করলেও, ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দেন, যুদ্ধবিরতি হয়েছে সরাসরি ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা করেই, কারও মধ্যস্থতায় নয়। বস্তুত, এর পর থেকেই তলানিতে ঠেকে দুই ‘হুজুরে’র সম্পর্ক (G7 Summit)।

    ওয়াশিংটনে থামার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান

    গত বছর জুনে কানাডায় হয়েছিল জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে পার্শ্ব বৈঠকে ফের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ছিল এই দুই নেতার। যদিও ট্রাম্প হঠাৎ করেই সম্মেলন ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাতিল হয়ে যায় প্রস্তাবিত বৈঠক। পরে অবশ্য ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীকে কানাডা থেকে ফেরার পথে ওয়াশিংটনে থামার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু মোদির পূর্বনির্ধারিত ক্রোয়েশিয়া সফর থাকায়, সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে ভারত। তবে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে সরকারি কর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ভারতের আশঙ্কা ছিল যে ট্রাম্প হয়ত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে মোদিকে নিয়ে একটি ছবি তোলার জন্য চাপ দিতে পারেন। সেই সময় একইসঙ্গে (PM Modi) হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মুনিরকেও।

    ভারতকে শায়েস্তা করার চেষ্টা

    তার পর থেকে সময় যত গড়িয়েছে, ততই অবনতি হয়েছে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের। ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করায় ভারতকে শায়েস্তা করতে চেষ্টার কম কসুর করেননি ট্রাম্প। তাঁর সরকার প্রথমে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। রাশিয়ার তেল কেনায় বসানো হয় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও। ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) এবং পিটার নাভারো (Peter Navarro) বারবার অভিযোগ করেন, রাশিয়ার তেল কিনে ঘুরপথে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সাহায্য করছে ভারত। এই শুল্ক-চাপ মূলত ভারতকে আমেরিকার দিকে ঝুঁকে থাকা একটি বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি করানোর মরিয়া চেষ্টা ছিল বলেই খবর (G7 Summit)।

    সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত

    এই পুরো পর্বটায় কার্যত মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মাথা নত করেননি ট্রাম্পের চাপের কাছে। শুধু তা-ই নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী শার্ম এল-শেখ এবং কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান (ASEAN) সম্মেলনের মতো বৈশ্বিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে যান। কারণ সেখানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারত ট্রাম্পের। গত সেপ্টেম্বরে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মেলে। ট্রাম্প জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ফের গতি পায় বাণিজ্য আলোচনা। এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। ভারতের ওপর চাপানো শুল্ক কমিয়ে করা হয় ১৮ শতাংশ। বিভিন্ন সময় ট্রাম্পের করা মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আবারও শোনা কিংবা দেখা যায় পরিচিত বাক্য — “ইন্ডিয়া থেকে আমার বন্ধু” (PM Modi)।

    ট্রাম্পের মুখে মোদি-স্তুতি

    তবে ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিলের রায়ের কারণে আটকে যায় আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি সই। ১৭ এপ্রিল টানা ৪০ মিনিট ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। চলতি বছরে এটি ছিল তাঁদের তৃতীয় ফোনালাপ। যদিও সেই কথোপকথনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে শোনা যায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন মোদি-ট্রাম্প। ফোনালাপের পর (G7 Summit) সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “ওঁর (মোদির) সঙ্গে আমার খুব ভালো কথা হয়েছে। উনি ভারত থেকে আমার বন্ধু। উনি দারুণ কাজ করছেন।” এই প্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে ফের মুখোমুখি হতে পারেন মোদি ও ট্রাম্প। দুই রাষ্ট্র প্রধানের এই সাক্ষাৎই কেড়ে নিতে পারে তামাম দুনিয়ার নজর (PM Modi)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হাসি, করমর্দন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের বাইরেও হবে আসল পরীক্ষা — দুই দেশ সাম্প্রতিক বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত উত্তেজনা কাটিয়ে উঠতে পারে কি না। খুব সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত আলাপও দিকনির্দেশ করে দিতে পারে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়ের।

     

  • India US Talks: ফোনে কথা মোদি-ট্রাম্পের, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা

    India US Talks: ফোনে কথা মোদি-ট্রাম্পের, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৪ এপ্রিল ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই কথোপকথনে, উভয় রাষ্ট্রনেতাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন। সমগ্র গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের অধীনে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে দু’তরফে। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে, প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে একটি ফোন পেয়েছি। আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করেছি। আমরা আমাদের সমগ্র গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপকে সব ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছি এবং হরমুজ প্রণালী খোলা ও নিরাপদ রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছি।”

    গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা (India US Talks)

    প্রসঙ্গত, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ফের হওয়ার কথা এ মাসে। গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ব্যবসায়িক উন্নয়নের অংশ হিসেবেই এই আলোচনা হবে। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA)-র জন্য আলোচনা ফের শুরু হবে। একটি ভারতীয় প্রতিনিধিদল ২০ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করবে। সেই সময়ই হওয়ার কথা আলোচনা।এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষের দিকে। তাঁর দাবি, ইরানি বন্দরগুলির অবরোধ এখন সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়েছে এবং তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে তেহরান খুব কঠিন আঘাত পেয়েছে।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    হোয়াইট হাউসে একটি সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকার প্রতিক্রিয়া শক্তিশালী। প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। আসলে এটা বেশ অবিশ্বাস্য হয়েছে… আমরা তাদের পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছি, ফল নির্ভর করবে পরিস্থিতির ওপর। শেষ ফলটাই গুরুত্বপূর্ণ… এবং হয়তো সেটা খুব শীঘ্রই ঘটবে।” ট্রাম্প ফের বলেন, “ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাই মূল লক্ষ্য। তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। আর যদি তাদের নতুন পারমাণবিক অস্ত্র থাকে, তাহলে আমাদের কিছু সময় তাদের সঙ্গে থাকতে হবে। কিন্তু আমি জানি না তারা আর কতদিন টিকে থাকতে পারবে।”

     

  • All Party Meet: ‘পাকিস্তানের মতো দালাল দেশ নয় ভারত’, সর্বদলীয় বৈঠকে সাফ জানাল কেন্দ্র

    All Party Meet: ‘পাকিস্তানের মতো দালাল দেশ নয় ভারত’, সর্বদলীয় বৈঠকে সাফ জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভারত কোনওভাবেই পাকিস্তানের মতো দালাল দেশ নয়।’ বুধবার সর্বদলীয় বৈঠকে (All Party Meet) সাফ জানিয়ে দিল কেন্দ্র। পশ্চিম এশিয়ায় যে সংঘাত চলছে, সেখানে পাকিস্তানের কথিত মধ্যস্থতার (Pakistan) প্রসঙ্গে একথা জানিয়ে দেওয়া হয় কেন্দ্রের তরফে। সংসদ ভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আটজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিরোধী দলের একাধিক সদস্য। বৈঠক বয়কট করে তৃণমূল।

    বিরোধীদের প্রশ্ন, জয়শঙ্করের উত্তর (All Party Meet)

    বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে আর ভারত নীরব দর্শক হয়ে রয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, “১৯৮১ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে ব্যবহার করে আসছে। তাই এই ধরনের মধ্যস্থতা নতুন কিছু নয়।” এর পরেই তিনি বলেন, “আমরা কোনও দালাল রাষ্ট্র নই।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে আলাপচারিতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর জানান, প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। কারণ এই সংঘাত সবার পক্ষেই ক্ষতিকর। সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাসের প্রশ্ন ছিল, “সরকার কি এই সংঘাতে নীরবতাকেই কূটনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে?” জয়শঙ্কর বলেন, “নয়াদিল্লি নীরব নয়, বরং আমরা মন্তব্য করছি এবং প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি।” সূত্রের খবর, ব্রিটাস উল্লেখ করেন যে কাতার, যেখান থেকে ভারত প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তারাও স্বীকার করেছে উৎপাদন স্থিতিশীল করতে তাদের বহু বছর লাগবে (All Party Meet)।

    এনসিপি (এসপি) সাংসদের প্রশ্ন

    এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের প্রশ্ন ছিল, “ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সম্পর্কের বিশেষ সুবিধা কী?” উত্তরে জয়শঙ্কর বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা অংশীদার। ইরানও আমাদের আচরণে সন্তুষ্ট।” বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, ভারত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত শোক প্রকাশ করেনি। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, ইরানি দূতাবাস খোলার পরপরই বিদেশসচিব সেখানে গিয়ে শোকপুস্তকে স্বাক্ষর করেছিলেন (Pakistan)। সরকার এও জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করাই প্রধান লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে সরকার এখন পর্যন্ত সফলই হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে (All Party Meet)।

    সংসদে আলোচনার দাবি

    বিরোধীরা অবশ্য সরকারের দেওয়া উত্তরকে “অসন্তোষজনক” বলে অভিহিত করেন। তাঁরা লোকসভা ও রাজ্যসভা—সংসদের উভয় কক্ষেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি জানান। সরকারকে নিশানা করে কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার বলেন, “লোকসভা ও রাজ্যসভায় এই বিষয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। বিরোধী দলগুলি সরকারের জবাবে সন্তুষ্ট নয়।” ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির অন্তর্ভুক্ত সকল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এদিনের বৈঠকে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও উপস্থিত ছিলেন। বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি বৈঠকে একটি প্রেজেন্টেশন দেন (All Party Meet)। বৈঠকে উপস্থিত বিরোধী নেতাদের মধ্যে ছিলেন কংগ্রেসের তারিক আনোয়ার ও মুকুল ওয়াসনিক, সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব এবং বিজু জনতা দলের সাস্মিত পাত্র প্রমুখ (Pakistan)। তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধি সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দেননি।

     

LinkedIn
Share