Tag: India vs Pakistan

India vs Pakistan

  • Asian Games 2026: হকিতে প্রথম বার জোড়া সোনা! হরমনপ্রীতের গোল খেতাব ধরে রাখল ভারত, সোনা জিতে নজির আমনের

    Asian Games 2026: হকিতে প্রথম বার জোড়া সোনা! হরমনপ্রীতের গোল খেতাব ধরে রাখল ভারত, সোনা জিতে নজির আমনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালয়েশিয়াকে হারিয়ে ছেলেদের হকিতেও সোনা জিতল ভারত। শনিবার ফাইনালে মালয়েশিয়াকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে খেতাব ধরে রাখল ভারত। প্রথম বার এশিয়ান গেমসে হকির দুই বিভাগেই সোনা জিতল ভারত। সোনা জিতলেন কুস্তিগির আমন সেহরাওয়াত। সব মিলিয়ে নাগোয়া গেমসে ভারত ২১টি সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৭টি ব্রোঞ্জ পদক পেল। মোট ৮৫টি পদক নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত। প্রথম তিনটি স্থানে রয়েছে যথাক্রমে চিন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া।

    হকিতে অলিম্পিক্সে জায়গা পাকা

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ভারত। ১১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত ড্র্যাগ-ফ্লিকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। যদিও তিন মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে সমতা ফেরায় মালয়েশিয়া। ১৪ মিনিটে শেলো সিলভেরিয়াসের গোলে প্রথম কোয়ার্টার শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ফের এগিয়ে যায় ভারত। আট মিনিটের মাথায় পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন জুগরাজ সিং। ফলে প্রথমার্ধের শেষে ভারত এগিয়ে ছিল ২-১ গোলে। তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারতের দাপট আরও বাড়ে। ১২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন হার্দিক সিং। এরপর শেষ কোয়ার্টারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ভারত। ম্যাচ শেষ হতে ছ’ মিনিট বাকি থাকতে শিলানন্দ লাকরার গোলে ভারত ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টায় মালয়েশিয়া আক্রমণে খেলোয়াড় বাড়িয়ে দেয়। সেই সুযোগেই ফের পেনাল্টি কর্নার আদায় করে ভারত এবং সেখান থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন হরমনপ্রীত। শেষ পর্যন্ত ৫-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারত। এই জয়ের সুবাদে লস অ্যাঞ্জেলেস ২০২৮ অলিম্পিক্সের জন্য সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করল তারা।

    কুস্তিতে কেরামতি ভারতীয়দের

    ছেলেদের ফ্রিস্টাইল কুস্তির ৫৭ কেজি বিভাগে সোনা জিতলেন আমন। এই প্রথম ভারত এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্টে সোনা জিতল। ফাইনালে উত্তর কোরিয়ার হান চং সংকে ১১-৭ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেন আমন। একটা সময় ৬-২ ব্যবধানে এগিয়ে যান আমন। ডান পায়ের হাঁটুতে চোট পান সং। তা-ও দুর্দান্ত ভাবে লড়াইয়ে ফেরেন তিনি। আমনের রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যান ৭-৬ ব্যবধানে। হাল ছাড়েননি ভারতীয় কুস্তিগিরও। শেষ মিনিটে সংকে বাগে পেয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১১-৭ ব্যবধানে জিতে যান আমন। মেয়েদের ফ্রিস্টাইল কুস্তির ৫৩ কেজি বিভাগের ফাইনালে হেরে গেলেন অন্তিম পাঙ্ঘাল। জাপানের মো কিয়োকার কাছে ৯-১ ব্যবধানে হারায় রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থকতে হল তাঁকে। ছেলেদের ৯৭ কেজি ফ্রিস্টাইল কুস্তিতে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন দীপক পুনিয়া। ৬০ বছর পর এশিয়াডের এই ইভেন্টে পদক পেল ভারত। ১৯৬৬ সালে রুপো পেয়েছিলেন বিশ্বনাথ সিং এবং ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন ভীম সিং।

     

  • Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসেও ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট উত্তাপ! অভিষেক-তিলকের ব্যাটে পাক-বধ করে সোনা ভারতের

    Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসেও ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট উত্তাপ! অভিষেক-তিলকের ব্যাটে পাক-বধ করে সোনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) ২২ গজে ভারত-পাকিস্তান দূরত্ব মিটল না। বদলাল না বড় আসরে ফলাফলও। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি পাকিস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতল ভারত (India vs Pakistan)। ফাইনালে ১৯ রানে জয় পেয়েছে ভারত। বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, এশিয়া কাপ কিংবা এশিয়ান গেমস। যেখানেই দেখা হোক, ফলাফল একটাই। পাকিস্তানকে হেলায় হারানো অভ্যাসে পরিণত করেছে ভারত। এবার জাপানে এশিয়ান গেমসেও একই ফল। ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতল শ্রেয়স আইয়ারের ভারত। অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মার ব্যাটিং বিক্রমের সামনে পাত্তাই পেল না সাহিবজাদা ফারহানার দল।

    করমর্দন নয় দুই দলের ক্রিকেটারদের

    ভলিবল, স্কোয়াশ, হকির মতো খেলাগুলিতে দু’দেশের খেলোয়াড়দের হাসিমুখে জড়িয়ে ধরতে, করমর্দন করতে বা একসঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে আলাদা ছবি। শনিবার টসের পর শ্রেয়স আয়ার হাত মেলালেন না পাকিস্তানের অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ থেকেই ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানর ক্রিকেটারদের সবরকম ভাবে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন সূর্যকুমার যাদবেরা। সেই ধারা বজায় রইল নাগোয়া গেমসেও। টসের পর ফারহানের সঙ্গে হাত মেলালেন না শ্রেয়স। শুধু ছেলেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নয়, এই দূরত্ব তৈরি হয়েছে মেয়েদের ক্রিকেট-সহ বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেও।

    পাক স্পিনারের বিদ্রুপ

    ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্কের উত্তাপের আঁচ পাওয়া গেল ম্যাচের মধ্যেও। বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করার পর তাকে বিদ্রুপ করলেন পাক স্পিনার সাইম আয়ুব। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। প্রথম ওভারে মাত্র ৪ রান দেন সাইম আয়ুব। তারপরের ওভারে তাণ্ডব শুরু হয় বৈভব সূর্যবংশীর। শান মাসুদের পরপর দু’বলে ছক্কা হাঁকায়। ছক্কার খেলায় মাতেন ভারতের আরেক ওপেনার অভিষেক শর্মাও। কিন্তু তার পরের ওভারেই অঘটন। সাইমের বল অযথা রিভার্স সুইপ করতে যায় বৈভব। বল ব্যাটের কোণায় লেগে সোজা উইকেটকিপারের হাতে জমা পড়ে। মাত্র ১৫ রানে আউট হয় বৈভব। আর সে যখন ফিরে যাচ্ছে, তখন হাত দিয়ে কোলে বাচ্চা দোলানোর ইঙ্গিত করেন পাক অলরাউন্ডার। ভারতের ১৫ বছরের ব্যাটারকে সাইম বিদ্রুপ করলেও পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটারেরা সংযত ছিলেন। বৈভবও কোনও প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। শান্ত ছিলেন ভারতের অন্য ওপেনার অভিষেক শর্মাও।

    ব্যাটেই বদলা ভারতের

    তবে এই ঘটনার বদলা কথায় নয় ব্যাটেই নিয়েছেন অভিষেক শর্মারা। অভিষেক ২৮ বলে ৬১ রান করেন। চার-ছক্কায় পাক বোলারদের রীতিমতো চাপে ফেলে দেন অভিষেক। তাঁর ব্যাট থেকে আসে তিনটে চার ও ৭টা ছক্কা। কিন্তু রান পাননি সঞ্জু স্যামসন। অন্যদিকে অধিনায়ক শ্রেয়স ২১ রান করতে নিয়ে নেন ২৪ বল। ওই সময় ভারতের রানের গতি কিছুটা কমে যায়। ঈশান কিষান (২০) এই ম্যাচে বড় রান পাননি। তবে শেষবেলায় ঝড় তোলেন তিলক বর্মা ও শিবম দুবে। তিলক ২২ বলে ৫১ ও শিবম ১৫ বলে ২৭ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান তোলে ভারত। জবাবে পাকিস্তানের শুরুটা খারাপ হয়নি। তবে অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দররা আঁটসাঁট বোলিং করে রানের ধারা আটকে দেন। ৬ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের দৌড় থেমে যায় ১৯২ রানে। ভারত ১৯ রানে ম্যাচ জিতে ক্রিকেটে সোনা পকেটে ভরে নেয়। যা এশিয়ান গেমসে ভারতের ১৯তম সোনা।

  • ICC World Cup 2027 Schedule: ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারতের অভিযান শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, ১০ অক্টোবর পাকিস্তানের মুখোমুখি

    ICC World Cup 2027 Schedule: ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারতের অভিযান শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, ১০ অক্টোবর পাকিস্তানের মুখোমুখি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশিত হল ২০২৭ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের সূচি (ICC World Cup 2027 Schedule)। আগামী ২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে ক্রিকেটের মহাযজ্ঞ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়া যৌথভাবে আয়োজন করবে ১৪ দলের এই বিশ্বকাপ। ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। ফাইনালের জন্য ২২ নভেম্বর রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে। এবারের বিশ্বকাপে থাকছে নতুন ফরম্যাট। প্রথমে উইন্ডহোকে হবে তিন দলের সুপার সিরিজ। এরপর ১২ দলকে নিয়ে হবে গ্রুপ পর্ব। গ্রুপ পর্বের পর শুরু হবে ‘সুপার ৭’ পর্ব। সেখান থেকে সেরা চার দল জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে।

    অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শুরু ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান

    ভারত রয়েছে গ্রুপ এ-তে। এই গ্রুপে ভারতের সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবোয়ে এবং কোয়ালিফায়ার এ। ৭ অক্টোবর কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ভারত (India Australia Pakistan)। ফলে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি আবারও ফিরে আসবে। ২০২৩ সালে আহমেদাবাদের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। ভারতের দ্বিতীয় ম্যাচই রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই। ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে মুখোমুখি হবে দুই প্রতিবেশী দেশ। বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে এই লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

    কোন গ্রুপে কারা?

    গ্রুপ এ: ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবোয়ে ও কোয়ালিফায়ার এ।

    গ্রুপ বি: নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও কোয়ালিফায়ার বি।

    গ্রুপ পর্ব চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। দুই গ্রুপের প্রথম তিনটি করে দল এবং চতুর্থ স্থানে থাকা দুই দলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকা দল—মোট সাতটি দল—সুপার ৭ পর্বে জায়গা করে নেবে।

    নভেম্বরেই সেমিফাইনাল ও ফাইনাল

    সুপার ৭ পর্বের শেষে সেরা চার দল সেমিফাইনালে উঠবে। প্রথম সেমিফাইনাল ১৭ নভেম্বর কেপটাউনে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ১৮ নভেম্বর তাসওয়ানে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। ফাইনালের রিজার্ভ ডে হিসেবে রাখা হয়েছে ২২ নভেম্বর। এবারের বিশ্বকাপে মোট ৫৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ার মোট ১২টি ভেন্যুতে হবে ম্যাচগুলি। এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে প্রথমবার সিনিয়র পুরুষদের বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করবে নামিবিয়া।

  • India Vs Pakistan: লাস্ট মিনিট থ্রিলারে এশিয়াড হকিতে পাক বধ! এশিয়ান গেমস ফাইনালে ২২ গজে ভারত-পাকিস্তান ‘মহারণ’

    India Vs Pakistan: লাস্ট মিনিট থ্রিলারে এশিয়াড হকিতে পাক বধ! এশিয়ান গেমস ফাইনালে ২২ গজে ভারত-পাকিস্তান ‘মহারণ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে পুরুষদের হকি সেমি ফাইনালে পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করল ভারত, সঙ্গে পদকও নিশ্চিত করল। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে শেষ মিনিট পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। এই ম্যাচেও তার অন্যথা ছিল না। বৃহস্পতিবার জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে দেখা গেল সেই ছবি। ভারত একটা সময়ে ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে পরে ৩-৩ সমতায় আটকে যায়। আর সেখান থেকে অন্তিম মিনিটে রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নেয়। নাটকীয়তায় মোড়া এই সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করল ভারত। অন্যদিকে , ক্রিকেটে সোনার পদকের জন্য মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান (India vs Pakistan)। ৩ অক্টোবর হবে বহু প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল। এশিয়ার দুই ক্রিকেট শক্তির লড়াই এবার এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নতুন মাত্রা পেতে চলেছে।

    শুরু থেকে ভারতের আক্রমণ

    এদিন হকির ময়দানে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল টিম ইন্ডিয়া। পঞ্চম মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের ট্রেডমার্ক ড্র্যাগ-ফ্লিকে বল জালে জড়িয়ে ভারতকে ১-০ এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। অষ্টম মিনিটে দিলপ্রীতের একটি গোল ব্যাক-স্টিকের কারণে ভিডিয়ো রিভিউতে বাতিল হলেও ভারতীয় আক্রমণ থামেনি। ১৩ মিনিটে রিভার্স হিটে পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নিখুঁত ফিনিশে ব্যবধান ২-০ করেন সেই হরমনপ্রীতই। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ২৩ মিনিটে মনপ্রীত ও শীলানন্দের দুর্দান্ত সমন্বয়ে পাকিস্তানের ডি-বক্সে বল পান সুখজিত সিং, যিনি আলতো টোকায় স্কোরলাইন ৩-০ করে দেন। কিন্তু এরপরেই ম্যাচে শুরু হয় পাকিস্তানের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। ৩০তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলরক্ষক মোহিতকে পরাস্ত করে পাকিস্তানের আবু মাহমুদ ব্যবধান ৩-১ করেন। বিরতির পর তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারত অনেকটাই স্লো হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে ৪৫ মিনিটে ভারতীয় ডিফেন্সের ব্যর্থতার ফায়দা তুলে হান্নান শাহিদ ৩-২ করেন। চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতে অর্থাৎ ৪৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা পাসে রানা ওয়াহিদ স্টিক ছুঁইয়ে ৩-৩ সমতা ফেরান। টানা তিনটে গোল খেয়ে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যায় ভারতীয় শিবির।

    টানা ২১টা ম্যাচে অপরাজিত ভারত

    ম্যাচের শেষ দশ মিনিট ছিল চরম উত্তেজনায় ভরা। খেলার ঘড়িতে যখন ঠিক ৬০ মিনিট, সার্কেলের ডান প্রান্তে সামান্য ফাঁকা জায়গা পেয়ে বিদ্যুৎগতিতে ঢুকে পড়েন অভিষেক। দুরূহ কোণ থেকে তাঁর নেওয়া জোরালো শট গোলরক্ষক রাজার পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। আর এর পরেই ম্যাচ শেষের হুটার বাজে। শেষ মুহূর্তের এই গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা ভারতীয় দল। এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা ২১টা ম্যাচে অপরাজিত রইল ভারত। পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার এশিয়াডের ইতিহাসে পুরুষ ও মহিলা উভয় দলকেই ফাইনালে তুলে এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করল ভারত।

    ক্রিকেটে ফাইনালে ভারত-পাক মহারণ

    এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ক্রিকেটে সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারত। ব্যাট হাতে প্রথমে ২০ ওভারে ১৬৯ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া। ঈশান কিষানের অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংস ভারতের বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। বৈভব সূর্যবংশীর ৩৮ রানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। জবাবে মাত্র ৪৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ভারতের হয়ে জসপ্রীত বুমরাহ, অভিষেক শর্মা ও অক্ষর প্যাটেল দুটি করে উইকেট নেন। শ্রীলঙ্কার তিন ব্যাটার রান-আউট হন। এবার ৩ অক্টোবর মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। অর্থাৎ এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ক্রিকেটে সোনার পদক নির্ধারণ হবে দুই প্রতিবেশী দেশের লড়াইয়ে। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে দুই দলের লড়াই বরাবরই আলাদা গুরুত্ব পায়। এবার সেই দ্বৈরথই দেখা যাবে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মঞ্চে।

    ইতিহাস নীতেশ কুমারের

    এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ১২তম দিনটি ভারতের জন্য ছিল সাফল্যে ভরা। ক্রিকেট-হকির সঙ্গেই গ্রিকো-রোমান কুস্তিতে ইতিহাস গড়েছেন নীতেশ কুমার। পাশাপাশি তিরন্দাজি, নৌক্রীড়া, স্কোয়াশ ও সেপাক তাকরায়ও পদক ও সাফল্য এসেছে ভারতের ঝুলিতে। পুরুষদের ৯৭ কেজি গ্রিকো-রোমান বিভাগে মঙ্গোলিয়ার গাঙ্কহুয়াগ গানবাতারকে ৯-০ ব্যবধানে টেকনিক্যাল সুপিরিয়রিটিতে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন নীতেশ কুমার। এর ফলে ১৯৬২ সালের পর প্রথম ভারতীয় গ্রিকো-রোমান কুস্তিগির হিসেবে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে পৌঁছলেন তিনি। এবার সোনার পদকের জন্য লড়বেন নীতেশ। গ্রিকো-রোমান কুস্তিতে এশিয়ান গেমসে ভারতের শেষ সোনা এসেছিল ১৯৬২ সালে। এদিকে মহিলাদের ৬২ কেজি বিভাগে মানসি আহলাওয়াত সেমিফাইনালে উঠলেও জাপানের নোনোকা ওজাকির কাছে ৬-০ ব্যবধানে হেরে যান। এবার ব্রোঞ্জের জন্য লড়বেন তিনি।

    স্কোয়াশে ভারতের ব্রোঞ্জ

    মহিলাদের দলগত স্কোয়াশে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছে ভারত। সেমিফাইনালে হংকং চায়নার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় ভারতীয় দল। প্রথম ম্যাচে আনাহত সিং চ্যান সিন ইউকের কাছে পরাজিত হন। এরপর তানভি খান্না ৩-১ ব্যবধানে লি কা ই-কে হারিয়ে ভারতকে সমতায় ফেরান। তবে নির্ণায়ক ম্যাচে জোশনা চিনাপ্পা হো তসে লোকের কাছে হেরে যান। ফলে ফাইনালে পৌঁছে যায় হংকং চায়না এবং ভারত পায় ব্রোঞ্জ। পুরুষদের কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছেন গণেশ মণি রত্নম থিরুমুরু। ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে ভিয়েতনামের দাং কং ডাককে ১৪৯-১৪৪ ব্যবধানে হারান তিনি। সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার কিম জংহোর কাছে হেরে গেলেও ব্রোঞ্জের ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান গণেশ। কম্পাউন্ড তিরন্দাজিতে ভারতীয় দলগত ইভেন্ট থেকে তিনটি সোনা এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টে একটি ব্রোঞ্জ জিতেছে।

    নৌক্রীড়ায় রুপো ভারতের

    পুরুষদের স্কিফ ইভেন্টে রুপোর পদক জিতেছেন ভারতের মানু ফ্রান্সিস ও প্রিন্স কুরিসিঙ্কাল নোবেল। ভারতীয় জুটি মোট ২৩ নেট পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে। ফাইনাল রেসের আগে চতুর্থ স্থানে থাকা ভারতীয় জুটি শেষ দৌড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। পুরুষদের কোয়াড্রান্ট বিভাগে সেমিফাইনালে পৌঁছে পদক নিশ্চিত করেছে ভারত। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকেই শেষ চারে জায়গা করে নেয় ভারতীয় দল। এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ১২তম দিন শেষে মোট ৬৩টি পদক নিয়ে পদক তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছে ভারত। সোনা ১০টি, রুপো ২২টি ও ৩১টি ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে ভারতের ঝুলিতে।

     

     

     

     

  • Hockey World Cup: পাকিস্তানকে হারিয়ে হকি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত, শাহী অভিনন্দন হরমনপ্রীতদের

    Hockey World Cup: পাকিস্তানকে হারিয়ে হকি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত, শাহী অভিনন্দন হরমনপ্রীতদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রুপের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ হকির (Hockey World Cup 2026) কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত (Indian Hockey Team)। ভারতের এই জয়ের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) ভারতীয় দলকে অভিনন্দন জানান। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য টিম ইন্ডিয়াকে অভিনন্দন। দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের মাধ্যমে ভারতীয় দল দেশের দীর্ঘদিনের আধিপত্য বজায় রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই নিয়ে পাকিস্তানকে ৭০ বার হারাল ভারত। বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে গেল পাকিস্তান।

    হকির টার্ফে ভারতীয়দের দাপট

    ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শেষ বার পাকিস্তানের (India vs Pakistan) কাছে হেরেছিল ভারতীয় হকি দল। তার পর থেকে হকির টার্ফে ভারতীয়দের দাপট। বিশ্বকাপেও অব্যাহত রইল হরমনপ্রীত সিংদের দাপট। ইংল্যান্ডের কাছে ওয়েলস আগেই হেরে যাওয়ায় ভারতীয় দলের জন্য ড্রই যথেষ্ট ছিল। ভারতীয় দল অবশ্য জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নেমেছিল। কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলাদা উত্তেজনা। ভারতীয় শিবিরও হালকা ভাবে নেয়নি এই ম্যাচ। শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে পাকিস্তানের রক্ষণকে ব্যস্ত করে রাখে ক্রেগ ফুলটনের দল। ফলও পায় দ্রুত। ৫ মিনিটেই পেনাল্টি কর্ণার থেকে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত। পিছিয়ে পড়ার পর পাকিস্তান পাল্টা আক্রমণে ভারতের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করে। গোটা দুয়েক ভাল আক্রমণও করে। কিন্তু লাভ হয়নি। ১১ মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। অভিষেকের ক্রশ মনদীপ সিং-এর স্টিকে দিক বদলে গোলে চলে যায়।

    কোন গ্রুপে খেলবে ভারত?

    বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, প্রথম পর্ব থেকে মোট আটটি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে। সেই আট দলকে চারটি করে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। এরপর প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। পুল-ডি-তে দ্বিতীয় হয়ে শেষ করা ভারত দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে পুল-ই-তে। এই গ্রুপে ভারতের সঙ্গে থাকবে পুল-এ-র শীর্ষ দুই দল। অর্থাৎ, ভারতের পরবর্তী ম্যাচগুলিতে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলগুলির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় পেলেও ভারতের সামনে পরীক্ষা আরও কঠিন হতে চলেছে।

    ভারতের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস

    পুল-এ-তে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, আর্জেন্টিনা, নিউজিল্যান্ড এবং জাপান। এই গ্রুপ থেকে ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। ফলে ভারতীয় দল যে দ্বিতীয় রাউন্ডে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডাচদের মুখোমুখি হবে, তা নিশ্চিত। টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ভারতকে এবার নিজেদের সেরা হকি খেলতে হবে। ভারতের দ্বিতীয় রাউন্ডের একটি প্রতিপক্ষ নিশ্চিত—নেদারল্যান্ডস। অন্য দলটি হবে আর্জেন্টিনা অথবা নিউজিল্যান্ড। এরপর পুল-ই-তে ভারতকে শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে শেষ করতে হবে সেমিফাইনালে ওঠার জন্য।

  • India vs Pakistan: কোন মন্ত্রে পাকবধ? জানালেন হরমন-দীপ্তি, টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারাল ভারত

    India vs Pakistan: কোন মন্ত্রে পাকবধ? জানালেন হরমন-দীপ্তি, টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের বাইশ গজে দাপট ভারতের। পুরুষ হোক বা মহিলা, একই ছবি দেখা যাচ্ছে গত কয়েক বছরে। বিশ্বক্রিকেটে ভারতের সামনে খেলতে নামলেই এক অজানা আতঙ্ক গ্রাস করে পাকিস্তানকে (India vs Pakistan)। শুরুটা ভাল করলেও যত ম্যাচ গড়ায় তত পিছিয়ে পড়ে তারা। মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও (ICC Women T20I World Cup 2026) সেই ছবি দেখা গেল। ভারতের সামনে দাঁড়াতে পারল না পাকিস্তান। বার্মিংহ্যামে দাপট দেখালেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হল তাঁদের। ব্যাট হাতে নায়ক স্মৃতি মন্ধানা ও রিচা ঘোষ। বল হাতে ৫ উইকেট নিয়ে দাপট দেখালেন দীপ্তি শর্মা।

    দুরন্ত বাংলার রিচা

    এই জয়ের রহস্য ফাঁস করেছেন ভারতের অধিনায়ক হরমনপ্রীত ও ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় দীপ্তি। হরমনপ্রীত দুই ক্রিকেটারকে জয়ের প্রধান কৃতিত্ব দিয়েছেন। তাঁরা হলেন স্মৃতি মন্ধানা ও দীপ্তি শর্মা। অধিনায়ক বলেন, “যখনই দরকার পড়ে, ওরা এগিয়ে আসে। দলকে জেতায়। ওদের নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই। ওদের খেলায় আমি খুব খুশি। আশা করছি, আগামী দিনেও ওরা এ ভাবে খেলবে।” ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। দেখে মনে হচ্ছিল, এই পিচে ব্যাট করা কঠিন। পিচ ততটাও কঠিন ছিল না বলে জানিয়েছেন হরমনপ্রীত। তিনি বলেন, “পিচ ঠিকই ছিল। আমার মনে হয়, শুরুতে অকারণে বেশি চাপ নিয়ে ফেলেছিলাম। পরে আমি ও স্মৃতি জুটি বাঁধলাম। সেখান থেকে খেলায় ফিরলাম।” ভারতের রান ১৭০ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব রিচা ঘোষের। ১৭ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেন বাংলার রিচা। হরমন চান, রিচা শুরু থেকে খেলুন। কিন্তু তা সম্ভব নয়। হরমনপ্রীত বলেন, “আমি চাই রিচা প্রথম বল থেকে ব্যাট করুক। আমার হাতে ক্ষমতা থাকলে ওকে শুরুতে নামাতাম। কিন্তু এই দলে ওর নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। সেটাই ও খুব ভাল ভাবে পালন করছে।”

    দীপ্তির আভায় উজ্জ্বল ভারত

    ভারতের জয়ের নেপথ্যে একটা বড় ভূমিকা রয়েছে টিম ইন্ডিয়ার অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মার (Deepti Sharma)। এই ম্য়াচে তিনি ক্রিকেট ইতিহাসে এক নয়া অধ্যায় যোগ করেছেন। রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীপ্তি ৫ উইকেট শিকার করেন। ভারতীয় টি-২০ ক্রিকেট ইতিহাসে এটাই সর্বকালের সেরা পরিসংখ্যান। কোন মন্ত্রে এই সাফল্য! ম্য়াচ শেষ হতেই ফাঁস করলেন সিক্রেট। টিম ইন্ডিয়ার ম্য়াজিশিয়ান বললেন, একটি ছোট্ট পরিবর্তন করেই সফল হয়েছেন তিনি। দীপ্তি বলেন, “আমি এই ধরনের পিচে বল করতে ভালবাসি। বলের গতি কিছুটা কম রাখছিলাম। উইকেট লক্ষ্য করে বল করছিলাম। বাকিটা পিচ করে দিয়েছে।” যে ভাবে সমর্থকেরা তাঁদের উৎসাহ দিয়েছেন সে কথাও জানিয়েছেন হনুমানজির ভক্ত দীপ্তি। পাশাপাশি স্মৃতি ও হরমনপ্রীতের ব্যাটিংয়ের প্রশংসাও করেছেন তিনি।

  • Rajnath Singh: মধ্যপ্রাচ্য থেকে নজর ঘোরাতে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলে কড়া পদক্ষেপ, হুঁশিয়ারি রাজনাথের

    Rajnath Singh: মধ্যপ্রাচ্য থেকে নজর ঘোরাতে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলে কড়া পদক্ষেপ, হুঁশিয়ারি রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত চলছে। ফলে সতর্ক এশিয়া মহাদেশের দেশগুলো। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যদি ভারতের বিরুদ্ধে কূটকৌশল অবলম্বন করে পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না ভারত। প্রতিবেশী দেশকে স্পষ্ট বার্তা কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। বৃহস্পতিবার কেরলের সৈনিক সম্মান সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির ফায়দা তুলে পাকিস্তান যদি ভারতের সীমান্তে কোনও অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে, তবে ভারতের জবাব হবে অভাবনীয় এবং চূড়ান্ত। কেরলে জওয়ানদের সম্মেলনে রাজনাথ (Rajnath Singh) বলেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের প্রতিবেশী কোনও ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করতে পারে। যদি তা হয়, তাহলে ভারতের প্রতিক্রিয়া হবে দৃঢ়, নজিরবিহীন।’’

    কেন এই আগাম হুঁশিয়ারি

    পাকিস্তান কোনও ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করছে কি না সেই বিষয়ে ইঙ্গিত দেননি রাজনাথ। তবে তিনি এই মন্তব্য করলেন এমন সময় যখন, পাকিস্তানের মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ভারত নাকি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন পরিকল্পনা করছে। তবে, এই বিষয়ে কোনও প্রমাণ নেই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই বার্তার নেপথ্যে রয়েছে আরও একটি করাণ। গত বছরের এক রক্তাক্ত স্মৃতি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ২০২৫ সালের সেই ভয়াবহ পহেলগাঁও হামলার এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে লস্কর জঙ্গিদের গুলিতে ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর ভারত যে প্রত্যাঘাত করেছিল, ইতিহাসে তা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত।

    ভারতের প্রত্যাঘাত মনে রাখা উচিত

    রাজনাথ সিং এদিন অপারেশন সিঁদুর অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে মনে করিয়ে দেন যে, মাত্র ২২ মিনিটের ঝোড়ো আক্রমণে ভারতের বীর সেনারা পাকিস্তানকে হাঁটু গেঁড়ে বসতে বাধ্য করেছিল। তিন দিনব্যাপী সেই অভিযানে পাকিস্তানের ভেতরে থাকা নয়টি জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের সেনারা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল, যা এখনও মেরামত করে উঠতে পারেনি ইসলামাবাদ। এরপর পাকিস্তন ১০ মে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়। রাজনাথের কথায়, ‘‘উরি আক্রমণের পর সার্জিক্যাল হামলা থেকে অপারেশন সিঁদুর, আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বারবার প্রত্যাঘাত করেছি। সেই কথা প্রতিবেশী দেশের মনে রাখা উচিত।’’ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এদিন সাফ বলেন, ভারত এখন আর শুধু আত্মরক্ষায় বিশ্বাসী নয়, প্রয়োজনে ঘরের ভেতরে ঢুকে আঘাত করতেও জানে।

    মুখ পুড়েছে পাকিস্তানের

    যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে পাকিস্তান নিজেদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করেছে। কিন্তু ইরান এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। এতে মুখ পুড়েছে ইসলামাবাদের। ধারণা করা হচ্ছে, এর থেকে নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান কোনও ধরনের প্রক্সি যুদ্ধ বা সীমান্তে প্ররোচনামূলক কাজ করতে পারে—এই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই রাজনাথ সিং আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও শেষ হয়ে যায়নি, অর্থাৎ ভারত সবসময় সতর্ক এবং প্রয়োজনে ফের একইরকম কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছুপা হবে না।

     

     

     

     

  • India vs Pakistan: ছন্নছাড়া পাক ক্রিকেট! রাগের চোটে টিভি ভাঙলেন সমর্থকরা, দোষারোপের পালা শুরু প্রতিবেশী দেশে

    India vs Pakistan: ছন্নছাড়া পাক ক্রিকেট! রাগের চোটে টিভি ভাঙলেন সমর্থকরা, দোষারোপের পালা শুরু প্রতিবেশী দেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) ভারতের কাছে ৬১ রানে হারের পর পাকিস্তানে আবেগের বিস্ফোরণ। ভাঙল একের পর এক টিভি। ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতের দাপট ছিল। পাকিস্তানের খেলা দেখে কোনও সময়েই মনে হয়নি তারা এই ম্যাচে জয় পেতে পারে। ভারতীয় দল নিরঙ্কুশ দাপট দেখিয়ে জয় পেল। ভারতের এই জয়ের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানে টেলিভিশন সেট ভাঙা হয়েছে। পাকিস্তানে এই দৃশ্য নতুন কিছু নয়। বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারলেই টিভি ভাঙা হয়। এবারও ঠিক সেটাই হল। আসলে পুরোটাই হতাশার ফল। ম্যাচের আগে বয়কট বিতর্ক, উত্তেজনা—সব মিলিয়ে আবহ ছিল তপ্ত। কিন্তু মাঠে পার্থক্য স্পষ্ট। ভারত ছিল পরিকল্পিত, নিয়ন্ত্রিত, আত্মবিশ্বাসী। পাকিস্তান ছিল ছন্নছাড়া।

    পুরনো রীতি ফিরে এল!

    কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে (R Premadasa Stadium) একতরফা ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল এক ভিডিও—ক্ষুব্ধ এক পাক সমর্থক নিজের টিভি সেট ভেঙে ফেলছেন! গ্রুপ এ-র ম্যাচে ভারত ৭ উইকেটে ১৭৫ রান তুলেছিল। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ১১৪ রানে। ফল—৬১ রানের ধাক্কা। টি-২০ আন্তর্জাতিক (T20I) ইতিহাসে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার। ম্যাচের কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সমর্থকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি লিখেছেন, ‘‘ভারত আবার হারাল পাকিস্তানকে। রাগে টিভি ভেঙে ফেললাম।’’ আরেক পোস্টে যোগ করেন, ‘‘সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি, লজ্জিত, হতবাক—কিছু বলার নেই।’’ আত্মবিদ্রূপ মেশানো হতাশা যেন গোটা দেশের আবেগের প্রতিফলন। তেমনই একটি পোস্টে বিদ্রুপের সুরে লেখা হয়েছে — ‘ভারতের কাছে ম্যাচ হারার পর মধ্যরাত পর্যন্ত পাকিস্তানিরা সারা দেশে ৫৫০০টিরও বেশি টিভি ভেঙে ফেলেছে। এরই মধ্যে, পাকিস্তানি টিভি সেট নির্মাতারা তাদের শিল্পকে বাঁচানোর জন্য ভারতকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

    ভারতের কাছে হার নিত্য ঘটনা!

    মাঠে হতাশা, গ্যালারিতেও দীর্ঘশ্বাস পাক সমর্থকদের। কলম্বোর (Colombo) আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে (R Premadasa Stadium) যে পাকিস্তানিরা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন, তাঁরাও ফের ভারতের কাছে হারে হতাশ। এক পাকিস্তানি বলেছেন, ‘‘ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার এখন নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার একটু আশা ছিল যে আমরা ম্যাচ জিতব এবং অন্তত একটু লড়াই করব। কিন্তু এখন ভারতের জয় রুটিন হয়ে গিয়েছে। আমাদের কাছে বুমরার জবাব নেই। আমরা হার্দিকের মোকাবিলা করতে পারি না। এখন এই অবস্থা হয়ে গিয়েছে। ভারতীয় দল ভালো খেলেছে।’’

    দোষারোপের পালা পাকিস্তান

    ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার মেনে নিতে পারছেন না শাহিদ আফ্রিদি। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দু’ওভার বল করে ৩১ রান দিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি। ঘটনাচক্রে শাহিন ও শাহিদের সম্পর্ক জামাই-শ্বশুরের। সেই জামাইকেই এ বার দল থেকে বাদ দেওয়ার কথা বললেন শ্বশুর। জানিয়ে দিলেন, তাঁর হাতে ক্ষমতা থাকলে শাহিনকে ছাঁটাই করতেন তিনি। আফ্রিদির মতে, দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের হারের দায় নিতে হবে। বার বার একই ক্রিকেটারদের উপর ভরসা দেখানোর মানে নেই। সেটা নির্বাচকদের বুঝতে হবে। আফ্রিদি বলেন, “যদি আমার হাতে ক্ষমতা থাকত তা হলে শাহিন, বাবর ও শাদাবকে বাদ দিয়ে দিতাম। ওদের বদলে নতুনদের সুযোগ দিতাম। এরা তো বছরের পর বছর খেলছে। এখনও ভারতকে হারাতে পারল না। তা হলে কেন ওদেরই খেলিয়ে যাব। আমার মনে হয়, নামিবিয়া ম্যাচেই এই তিন জনকে বসিয়ে দেওয়া উচিত।”

    সিনিয়রদের সমালোচনা

    ভারতের বিরুদ্ধে ৬১ রানে হেরেছে পাকিস্তান। কলোম্বোয় ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- সব দিকেই ফেল করেছে সলমান আলি আঘা ব্রিগেড। এমন লজ্জাজনক হারের পরই রেগে গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ফাস্টবোলার শোয়েব আখতারও। তিনি শুধু পাকিস্তান দল নিয়ে নয়, এর পাশাপাশি ক্রিকেট বোর্ডের কাজকর্ম নিয়েও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের সিনিয়র প্লেয়ারদের নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন শোয়েব। তিনি বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো সিনিয়র প্লেয়ারকে আক্রমণ করেন।। তিনি মনে করেন, এই সব স্টারেরা কোনও বড় ম্যাচে পারফর্ম করেন না। এমনকী স্টার কালচার নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এই কারণেই পাকিস্তান ক্রিকেট দল হারছে বলে মনে করছেন তিনি।

    অযোগ্য ব্যক্তি চেয়ারে আখতারের টার্গেট নকভি

    আখতার অভিযোগ করেন, কোনও অযোগ্য মানুষকে যদি দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে শুধু টিমের নয়, গোটা দলের ক্ষতি হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে প্লেয়ারদের যোগ্যতা দেখে নয়, অন্য অনেক বিষয় দেখে নির্বাচন করা হয়। আর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সোজাসুজি মহসিন নকভির দিকেই ইঙ্গিত করলেন। মাথায় রাখতে হবে নকভি হলেন সেই ব্যক্তি, যাঁর কথায় এবারের বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে চায়নি ভারত। আখতার বলেন, ‘‘গত ১৫-২০ বছরে কোনও বিনিয়োগই হয়নি। এক সময় মাঠে আমরা ভারতের সঙ্গে লড়াই করতাম, আর আজ তাদের হারানোর স্বপ্নও দেখতে পারি না।’’ শোয়েব আখতারের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটে বর্তমান শোচনীয় অবস্থা কয়েক বছর ধরে চলা খারাপ নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক ভুল সিদ্ধান্তের ফল। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘একজন মানুষ যিনি কিছুই জানেন না, তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়ে গিয়েছেন। দল কী ভাবে চলবে?’’ শোয়েব আরও বলেন, ‘‘পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় সমস্যা হলো বোর্ডের দায়িত্ব অযোগ্য মানুষের হাতে থাকা।’’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো অযোগ্য মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া। এর ফলে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো দল ও প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’’

  • India Vs Pakistan: ‘‘জায়গা তারিখ বদলায়, ফল একই থেকে যায়’’, ভারতের জয়ে পোস্ট অমিত শাহের

    India Vs Pakistan: ‘‘জায়গা তারিখ বদলায়, ফল একই থেকে যায়’’, ভারতের জয়ে পোস্ট অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এটাই যেন ট্যাডিশন হয়ে গিয়েছে। বাইশ গজ হোক বা যুদ্ধক্ষেত্র, সব জায়গাতেই ফলাফল এক। রবিবার কলম্বোয় ভারতের দাপুটে জয়ের পরই সমাজ মাধ্যমে পাকিস্তানকে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে লিখলেন, ‘‘খেলার ফর্ম্যাট, জায়গা বা তারিখ বদলায়, কিন্তু ভারত বনাম পাকিস্তানের ফলাফল সবসময় একই থেকে যায়। পুরো দলকে অভিনন্দন।’’

    শাহী কটাক্ষ

    ইতিহাস নিজেই নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়—ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষে প্রত্যেকবারই বলতে হয় এই ক্লিশে কথা। মাঠে গড়ানোর আগেই ম্যাচের যা ফল অনুমান করা হয়, দিন শেষে সেটাই দেখা যায়। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেন তা-ই বোঝাতে চাইলেন। গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ শেষে প্রতিবেশীদের খোঁচা দিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতকে সবশেষ পাকিস্তান হারিয়েছে দুবাইয়ে ২০২২ এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে। গত সাড়ে তিন বছরে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১০ বার। যার মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে ভারত। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে এক ম্যাচ। কলম্বোর প্রেমাদাসায় গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ৬১ রানে জয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্ট পাকিস্তানকে কটাক্ষ অমিত শাহের। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘ভারত দারুণ খেলেছে। সংস্করণ, ভেন্যু, তারিখ বদলাতে পারে। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফল একই।’’ আসলে শাহ যে সবদিক থেকেই পাকিস্তানকে খোঁচা দিলেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    মাঠ ছাড়লেন নকভি

    রবিবার খেলা শুরুর আগে দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। দিয়েছিলেন উৎসাহ। কিন্তু মাঠে সে সব বোঝা গেল না। ভারতের কাছে ৬১ রানে হারল পাকিস্তান। দলের লজ্জার হার মাঠে বসে দেখতে পারেননি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। খেলা শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। পাকিস্তানের ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেই স্টেডিয়ামের ভিতর নকভিকে দেখা যায়নি। কিছু ক্ষণ পরে দেখা যায়, স্টেডিয়াম থেকে তাঁর গাড়ি বেরিয়ে যাচ্ছে। সেখানে নকভির ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। এই দৃশ্য থেকে পরিষ্কার, নকভি খেলা শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির কর্তারা গিয়েছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মিঠুন মিনহাস, সচিব দেবজিৎ শইকীয়া যেমন ছিলেন, তেমনই আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহও উপস্থিত ছিলেন। এ দিন জয়ের সঙ্গে নকভির একটি বৈঠক হওয়ারও কথা ছিল। বাকি সকল কর্তা খেলার শেষ পর্যন্ত থাকলেও নকভি আগেই বেরিয়ে যান।

    গুগল ইন্ডিয়ার ‘গুগলি’

    বাংলাদেশকে সমর্থন করে প্রথমে ম্যাচ বয়কটের হুঁশিয়ারি। এর পর মাঠে নামার আগে তর্জন-গর্জন। কিছুই বাকি রাখেনি পাকিস্তান (Pakistan)। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার কলম্বোতে ভারতীয় (India) ব্রিগেডের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছেন সলমন আলি আঘা’রা। ম্যাচ হারার পরেই পাকিস্তান দলকে নিয়ে ট্রোল শুরু হয় সমাজমাধ্যমে। সেই তালিকায় নাম লেখাল গুগল (Google)-ও। ছয় শব্দের পোস্টে পাকিস্তানকে কটাক্ষ করল গুগল ইন্ডিয়া (Google India)। রবিবার, ঈশান কিষাণের ৭৭ রানের উপর ভর করে স্কোর বোর্ডে ১৭৫ রান তুলেছিল ভারত। জবাবে মাত্র ১১৪ রানে অল আউট হয়ে যায় পাকিস্তান। ৬১ রানে বড় জয় পায় টিম ইন্ডিয়া। তার পরেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয় গুগল ইন্ডিয়ার তরফে। লেখা হয়, “এই ম্যাচটি আসলে একটি ইমেল হতে পারত।” রবিবার সূর্যকুমারদের কাছে যেভাবে আত্মসমর্পন করেছেন শাহিন আফ্রিদিরা, সেই কথাই তুলে ধরল গুগল (Google)। অর্থাৎ গুগল ইন্ডিয়া একপ্রকার বোঝাতে চেয়েছে, ম্যাচের ফলাফল যেখানে অনুমেয় ছিল, সেখানে একটা ইমেল করে দিলেই হতো, এত সময় ধরে ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল না। আর এ নিয়ে জোর চর্চা চলছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।

  • India Vs Pakistan: “হর হর মহাদেব”, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা জয় দেশবাসীকে উৎসর্গ সূর্যকুমারের

    India Vs Pakistan: “হর হর মহাদেব”, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা জয় দেশবাসীকে উৎসর্গ সূর্যকুমারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ফের একবার প্রমাণ করল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে এখন আর লড়াই হয় না। ম্যাচ হয় এক তরফাই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে ম্যাচটা নিয়ে সবচেয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ম্যাচে একেবারে এক তরফা খেলে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল ভারত। কলম্বোর ম্যাচে ৬১ রানে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে সুপার এইটে উঠে গেল মেন ই ব্লু। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে সব ম্যাচেই জয় পেল ভারত। এই জয়কে দেশবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করলেন ভারত অধিনায়ক। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর সূর্য স্মরণ করলেন মহাদেবকে।

    ‘হর হর মহাদেব’ পোস্ট

    কলম্বোতে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ৬১ রানের বিশাল জয়ের পর, ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তার নিজস্ব ভঙ্গিতে জয় উদযাপন করেছেন। ম্যাচ জয়ের পর এক্স (পূর্বে টুইটার) -এ গিয়ে, অধিনায়ক ম্যাচের কিছু ছবি শেয়ার করেছেন এবং তিন শব্দের সংক্ষিপ্ত ক্যাপশন দিয়েছেন, “হর হর মহাদেব।” পোস্টটির সময় বিশেষভাবে অনুরণিত হয়েছে, কারণ এটি হিন্দু উৎসব মহা শিবরাত্রির সঙ্গে মিলে যায়, যা তাৎক্ষণিকভাবে ভক্তদের মধ্যে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এই জয়ের মাধ্যমে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে অধিনায়ক হিসেবে টানা চতুর্থ টি-টোয়েন্টি জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন সূর্য। দলের বাকি সদস্যদের মধ্যেও এই উদযাপন ছড়িয়ে পড়ে, তারকা স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ইনস্টাগ্রামে নিজের শ্রদ্ধাঞ্জলি শেয়ার করেন। বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী চক্রবর্তী মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে ঐতিহাসিক জয়টি ভারতের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। তার পোস্টটি অধিনায়কের অনুভূতির প্রতিধ্বনি।

    এই জয় ভারতের জন্য

    ম্যাচ বয়কট নিয়ে আইসিসি-র সঙ্গে লম্বা টানাপোড়েনের পর ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান। আশা করা হয়েছিল, বাইশ গজে ভারতকে অন্তত খানকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে পাক দল। কিন্তু বাস্তবে হল তার উল্টো। উসমানের স্পিন হোক বা শাহিনের পেস- ভারতীয় ব্যাটারদের আঘাতে সবই ভোঁতা হল শেষমেশ। আর ম্যাচ (India Vs Pakistan) কীভাবে জিততে হয়, তা বুমরা, হার্দিক, বরুণদের থেকে ভালো আর কেই বা জানে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিসংখ্যান ৭-১ থেকে ৮-১ করে অধিনায়ক সূর্যকুমার (Suryakumar Yadav) বললেন, “এই জয় ভারতের জন্য।” পাকিস্তানকে আরও একবার হারিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, সেভাবেই খেলেছি। এই পিচে প্রথমে ব্যাটিং করাই সুবিধার ছিল। ক্রিজে দাঁড়িয়ে ঈশান যেভাবে স্কোরবোর্ডের দায়িত্ব নিয়েছে, সেটা অসাধারণ। ঈশান ব্যতিক্রমী ইনিংস খেলে গেল। ওর মাথায় হয়তো অন্য কোনও ভাবনা ছিল।” তবে শুধু ব্যাটার নয়, বোলারদের দলগত পারফরম্যান্সেও খুশি সূর্য। এদিকে পাকবধের এই সন্ধ্যার ‘নায়ক’ যে ঈশান কিষান (Ishan Kishan), তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তাঁর ৪০ বলে ঝোড়ো ৭৭ রানের ইনিংস থেকেই ভারতীয় দলের জয়ের ভিত তৈরি হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই হেইভোল্টেজ এই ম্যাচে মেগা-পারফরম্যান্স করে আরও আত্মবিশ্বাস বাড়বে ভারতীয় দলের এই বাঁ হাতি ওপেনারের। ম্যাচ শেষে একথা তিনি নিজেও জানিয়েছেন। ঈশান বলেন, “ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই বিশেষ। এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”

    করমর্দন হল না

    কলম্বোয় করমর্দন করলেন না ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আঘা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও পাক অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলালেন না সূর্য। রবিবার টসের সময় বিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে গেলেন তিনি। গত বছর এশিয়া কাপের তিনটি ম্যাচে যে জিনিস দেখা গিয়েছিল, সেটাই দেখা গেল বিশ্বকাপের ম্যাচেও। গত বছর পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড এবং অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষিতে এশিয়া কাপে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং পাকিস্তান। তিন বারের সাক্ষাতে এক বারও দুই অধিনায়ক হাত মেলাননি। একই জিনিস দেখা গেল বিশ্বকাপের ম্যাচেও। বোঝাই গিয়েছে, ভারতের অবস্থানে কোনও বদল হয়নি।

    পাকিস্তান দাঁড়াতেই পারেনি

    ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে সুনীল গাওস্কর পরিষ্কার বলে দেন, ‘‘এই ম্যাচে পাকিস্তান দাঁড়াতেই পারেনি। প্রথম ওভারে অভিষেক শর্মার উইকেট পাওয়া ছাড়া আর কখনওই ওরা ম্যাচে ছিল না।’’ যোগ করেন, ‘‘পরের দিকে একটা-দু’টো বল ওরা ভাল করেছিল, উইকেট পেয়েছিল। কিন্তু কখনও ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিতে পারেনি।’’ টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। ভারত ২০ ওভারে তোলে ১৭৫-৭। অভিষেক শর্মা খাতা খোলার আগে ফিরলেও অন‌্য ওপেনার ঈশান কিষান দশটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায‌্যে করেন ৪০ বলে ৭৭ রান। শেষ দিকে সূর্যকুমার যাদব (৩২) ও শিবম দুবে (২৭) ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। জবাবে প্রথম থেকেই নিয়মিত ব‌্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ৭৮-৬ স্কোর হয়ে যাওয়ার পরে ম‌্যাচের ভাগ‌্য কার্যত নির্ধারণ হয়ে যায়। দু’টি করে উইকেট পান হার্দিক, বুমরা, অক্ষর ও বরুণ।

    জয়ের রেকর্ড ভারতের

    রবিবার কলম্বোতে টি২০ বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্স করে দুরন্ত জয়ে পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় ম্যাচ জিতল ভারত। এই জয়ে ভারত গ্রুপ থেকে প্রথম দল হিসেবে সুপার এইটে যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের মোট জয় দাঁড়াল আটটি, যা এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সর্বাধিক জয়ের বিশ্বরেকর্ড। আগে কোনও দলই এই প্রতিযোগিতায় একটি নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে ছয়টির বেশি ম্যাচ জিততে পারেনি। সামগ্রিক টি২০ আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে ভারত ১৭ ম্যাচের মধ্যে ১৪টিতে জিতেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।

LinkedIn
Share