Tag: India

India

  • Filmmakers: ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ নিয়ে বিতর্ক, কী বলল ভারত?

    Filmmakers: ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ নিয়ে বিতর্ক, কী বলল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনা সংবাদমাধ্যমের তরফে সালমান খান অভিনীত (Filmmakers) চলচ্চিত্র ব্যাটল অব গালওয়ান’কে (Galwan Film) “তথ্য বিকৃতি”র অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার পরেই ভারত সাফ জানিয়ে দিল, দেশে শিল্পীসত্তার স্বাধীনতা রয়েছে এবং সেই স্বাধীনতা প্রয়োগ করেই চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ছবি বানানোর অধিকার আছে। উল্লেখ্য, ছবিটির পটভূমি ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় প্রথমে বোলা সংসা নেল সংঘর্ষ। সেই ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৬ বিহার রেজিমেন্টের জওয়ানদের সঙ্গে চিনা সেনার ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। ছবিটি সাংবাদিক শিব অরুর ও রাহুল সিংহের লেখা ‘ইন্ডিয়াজ মোস্ট ফিয়ারলেস ৩’  বইয়ের একটি গল্প অবলম্বনে নির্মিত।

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন দেশ (Filmmakers)

    এই ছবিতে সালমান খান অভিনয় করেছেন কর্নেল বিক্কুমল্লা সন্তোষ বাবুর ভূমিকায়। তিনি ছিলেন ১৬ বিহার রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার। গালওয়ান সংঘর্ষে অনুপ্রবেশকারী পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহিদ হন। ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে, ওই নৃশংস সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২০ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, চিন প্রথমে কোনও প্রাণহানির কথা অস্বীকার করলেও, পরে দাবি করে যে, তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন – যা প্রকৃত সংখ্যাকে গুরুতরভাবে খাটো করে দেখানোর অভিযোগ রয়েছে (Filmmakers)। ভারত একটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন দেশ এবং সেই স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে (Galwan Film) শিল্পীসত্তার প্রকাশ। ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাঁদের শিল্পীসত্তার স্বাধীনতা অনুযায়ী ছবি নির্মাণে সম্পূর্ণ স্বাধীন – এমনটাই জানিয়েছে একটি সূত্র।

    শিল্পীসত্তার স্বাধীনতা

    ওই সূত্র জানিয়েছে, “ভারত এমন একটি দেশ যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে এবং সিনেমার মাধ্যমে প্রকাশ সেই স্বাধীনতারই অঙ্গ। ভারতীয় নির্মাতারা এই শিল্পীসত্তার স্বাধীনতার ভিত্তিতেই চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারেন।” সূত্রটি আরও জানিয়েছে, “এই নির্দিষ্ট ছবিটি নিয়ে কারও যদি কোনও আপত্তি বা প্রশ্ন থাকে, তবে তাঁরা ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। এই ছবির সঙ্গে সরকারের কোনও ভূমিকা নেই (Filmmakers)।” এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনার পর ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। লাদাখের লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC) বরাবর গালওয়ান উপত্যকার কাছে সেনা মোতায়েন করে ভারতীয় সেনাবাহিনী (Galwan Film)। পাশাপাশি সম্ভাব্য চিনা আগ্রাসন ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও সমীক্ষামূলক কার্যকলাপও জোরদার করা হয়।

    গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন

    চিনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২০ সালের জুন মাসে গালওয়ান সংঘর্ষের যে চিত্র চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে, তা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “বলিউডের ছবিগুলি মূলত বিনোদননির্ভর এবং আবেগপ্রবণ উপস্থাপনা করে। কিন্তু কোনও মাত্রার সিনেম্যাটিক অতিরঞ্জন ইতিহাসকে বদলাতে পারে না, কিংবা চিনের সার্বভৌম ভূখণ্ড রক্ষায় পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-এর দৃঢ় সংকল্পকে টলাতে পারে না।”তবে গ্লোবাল টাইমসের ওই প্রতিবেদনে ভুলভাবে দাবি করা হয়েছে যে গালওয়ান উপত্যকা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের চিনা অংশে অবস্থিত (Galwan Film)। পাশাপাশি, ২০২০ সালের জুনের সংঘর্ষের জন্য ভারতের ওপর দায় চাপিয়ে বলা হয়েছে যে ভারতীয় সেনারাই এলএসি অতিক্রম করে সংঘর্ষে উসকানি দেয়—যা ভারত বারবার অস্বীকার করে এসেছে (Filmmakers)।

  • Saudi Aramco: দক্ষিণ ভারতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তুতি সৌদি আরামকোর

    Saudi Aramco: দক্ষিণ ভারতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তুতি সৌদি আরামকোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ভারতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তুতি সৌদি আরামকোর। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা সৌদি আরামকো (Saudi Aramco) দক্ষিণ ভারতে একটি বড় বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারতের বাজারে (BPCL) দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নিতে চলেছে সংস্থাটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিপণন সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL)-এর একটি নতুন রিফাইনারি প্রকল্পে ২০ শতাংশ অংশীদারি কিনতে চলেছে সৌদি আরামকো। এই বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও, অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং একাধিক ব্যাঙ্কের একটি কনসোর্টিয়ামও এই প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    বিপিসিএল (Saudi Aramco)

    বিপিসিএল অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর জেলার রামায়্যাপত্তনম বন্দরের কাছে একটি বৃহৎ রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স গড়ে তুলছে। এই প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ ধরা হয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা, যদিও মোট নির্মাণ ব্যয় ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে অনুমান। যদিও সৌদি আরামকো বা বিপিসিএল – কেউই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, তবে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই প্রায় ৬,০০০ একর জমি প্রকল্পটির জন্য হস্তান্তর করেছে (BPCL)।

    জ্বালানির চাহিদা পূরণ

    এই রিফাইনারি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল ভারতের ক্রমবর্ধমান দেশীয় জ্বালানির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি করা। প্রস্তাবিত এই রিফাইনারিটির বার্ষিক (Saudi Aramco) প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা হবে ৯ থেকে ১২ মিলিয়ন টন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অয়েল ইন্ডিয়া এই প্রকল্পে ১০ শতাংশ অংশীদারি রাখবে, আর ব্যাঙ্কগুলির সম্মিলিত অংশীদারি হতে পারে ৪ থেকে ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, বিপিসিএল কৌশলগত ও আর্থিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মোট ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করছে বলে সূত্রের খবর।

    সৌদি আরামকো

    জানা গিয়েছে, সৌদি আরামকো গুজরাটে অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন (ONGC)-এর উদ্যোগে গড়ে উঠতে চলা একটি নতুন রিফাইনারি প্রকল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। এই উদ্যোগটি ভারতে সৌদি আরামকোর দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত বিনিয়োগ পরিকল্পনারই একটি অংশ (BPCL)। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা সৌদি আরামকো ঘোষণা করেছিল, তারা ধাপে ধাপে ভারতে সর্বোচ্চ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার  বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এই নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল (Saudi Aramco)।

    জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করা

    প্রসঙ্গত, গত বছরের এপ্রিল মাসে সৌদি আরব সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছিলেন। বহু দশক ধরে সৌদি আরামকো ভারতের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। সংস্থাটির অত্যাধুনিক পরিশোধন প্রযুক্তি ভারতের অংশীদারদের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত সুবিধা এনে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (BPCL)।

    অন্যদিকে, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) বর্তমানে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল বিপণন সংস্থা। গত অর্থবর্ষের হিসেব অনুযায়ী সংস্থাটির দখলে রয়েছে ২৭.৪৪ শতাংশ বাজার। চলতি অর্থবর্ষের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হওয়া দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে বিপিসিএল ৬,৪৪৩ কোটি টাকা মুনাফা লুটেছে। সংস্থাটি কেরলের কোচি, মহারাষ্ট্রের মুম্বই এবং মধ্যপ্রদেশের বিনা – এই তিনটি বড় পরিশোধনাগার পরিচালনা করে (Saudi Aramco)।

  • Amit Shah: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি”, প্রত্যয়ী শাহ

    Amit Shah: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি”, প্রত্যয়ী শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি।” মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথাগুলি বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনদিনের সফরে সোমবার রাতেই কলকাতায় (TMC) এসেছেন তিনি। বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচন। তার আগে এ রাজ্যে দলের সাংগঠনিক হালহকিকত বুঝতে বঙ্গ সফরে এসেছেন তিনি। এই সফরে মঙ্গলবার বাংলায় যে এবার বিজেপি আসছে, তা জানিয়ে দিলেন শাহ। তাঁর গলায় ঝরে পড়ল প্রত্যয়।

    জমি দিচ্ছে না রাজ্য (Amit Shah)

    কেন্দ্রীয় সরকার কী কী উন্নয়ন করেছে, এদিন তারও ফিরিস্তি দেন শাহ। তবে তার সবগুলিরই যে রাজ্যের তৃণমূল সরকার বিরোধিতা করেছে, তাও জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে রাজ্য সরকার জমি দিচ্ছে না বলেও অনুযোগ করেন শাহ। তাঁর মতে, সেই কারণেই শেষ করা যাচ্ছে না সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ। তাই বেনো জলের মতো এ রাজ্যে ঢুকে পড়ছে অনুপ্রবেশকারীরা। পুলিশ-প্রশাসন দেখেও নিশ্চুপ। আর বিএসএফ কী করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তিনি বলেন, “অসম এবং ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেও, এ রাজ্যে কেন হচ্ছে না? আসলে বাংলার জনবিন্যাসে বদল আনতেই সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য রাজ্যের তরফে জমি দেওয়া হচ্ছে না।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলার সীমান্ত দিয়ে যে অনুপ্রবেশ হচ্ছে, তা শুধু বাংলার বিষয় নয়। এটি পুরো দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন। এমন (Amit Shah) মজবুত সরকার এখানে আনুন, যারা এখানে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে।”

    তোলাবাজির প্রসঙ্গ

    তিনি বলেন, “আগে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা হত এই বাংলা থেকেই। আজ তোলাবাজির কারণে এ রাজ্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন শিল্পপতিরা (TMC)।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কামানোর অধিকার এখানে রয়েছে একমাত্র ভাইপোর। আর কারও অধিকার নেই। শিল্প ক্ষেত্রে বাংলা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তা আপনার আমলে হয়েছে। বামেরা অর্ধেক শেষ করে গিয়েছিল। আপনি পুরোটা শেষ করে দিয়েছেন।” তিনি বলেন, “আজ মমতার নেতৃত্বে পুরো বাংলার বিকাশ থমকে গিয়েছে। মোদির সব যোজনা পুরো দেশে গরিবের উন্নয়ন করছে, এখানে সিন্ডিকেট চলছে। ১৪ বছর ধরে ভয় ও দুর্নীতি বাংলার পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপি সরকারের সঙ্কল্প, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ এর পর যখন বিজেপির সরকার হবে, তখন বাংলার সংস্কৃতি ফেরানোর চেষ্টা করব (Amit Shah)।” তিনি বলেন, “দেশের যেখানে যেখানে এনডিএ, বিজেপির সরকার রয়েছে, সেখানে গরিবদের উন্নয়নকে প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানেও দেব। বন্ধ করব অনুপ্রবেশ। শুধু তাই নয়, অনুপ্রবেশকারীদের ধরে একে একে দেশ থেকে বের করে দেবে বিজেপি (TMC)।”

    কংগ্রেস বিগ জিরো

    বিজেপির সেকেন্ড ইন কমান্ড শাহ বলেন, “ছাব্বিশের বাংলায় বিজেপিরই সরকার হবে। এর মজবুত আধার বিজেপির কাছে রয়েছে। ২০১৪ সালে ১৭ শতাংশ ভোট ও মাত্র ২টি আসন পেয়েছিলাম। পাঁচ বছর পরে আমরাই ৭৭টি আসনে জিতেছি। আর কংগ্রেস বিগ জিরো হয়েছে। বামফ্রন্টও একটাও আসন পায়নি। এ রাজ্যে আমরা প্রধান বিরোধী দল হয়েছি, শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা (Amit Shah)। ২০২৪ সালে ১২টি আসন পেয়েছি। আর ছাব্বিশে প্রচণ্ড বহুমতের সঙ্গে বিজেপির সরকার হবে। ২৪ সালে টানা তৃতীয়বারের জন্য মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার এবং দিল্লিতে বিজেপির সরকার হয়েছে। ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশেও বিজেপি বা এনডিএর সরকার হয়েছে। আমার বিশ্বাস, ছাব্বিশের ভোটেও বাংলায় বিজেপির সরকার হবে।”

    মতুয়াদেরও আশ্বাস

    মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে পাশে নিয়েই শাহ বলেন, “মতুয়াদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। যাঁরা শরণার্থী হয়ে বাংলায় এসেছেন, তাঁদের ক্ষতি কেউ করতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পারবেন না (TMC)। তাঁদের সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।” শাহ বলেন, “ছাব্বিশ সালের ভোট হবে মূলত অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ভোট।” দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তৃণমূলের একাধিক নেতা ও মন্ত্রীর বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। আপনারা বলছেন বাংলায় দুর্নীতি নেই? নিয়োগ দুর্নীতি থেকে পুরসভা পর্যন্ত সর্বত্রই কেলেঙ্কারির ছায়া।”

    মন্দির-মসজিদ রাজনীতি

    মন্দির-মসজিদ রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, “বাংলায় মন্দির-মসজিদের রাজনীতি করছে কে? তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া এক বিধায়ক এবং তৃণমূল নিজে (Amit Shah)।” তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় এটা যে করা ঠিক হয়নি, বাংলার মানুষকে তা বুঝতে হবে।মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও রাজ্য সরকারকে তোপ দাগেন শাহ। আরজি কর, দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনের ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার বাংলার মানুষকে (TMC) সুশাসন দিতে ব্যর্থ (Amit Shah)।”

  • Santhali Language: ঝাড়খণ্ডে অলচিকি লিপির শতবর্ষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    Santhali Language: ঝাড়খণ্ডে অলচিকি লিপির শতবর্ষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) জামশেদপুরে অনুষ্ঠিত হল ২২তম পারসি মহা সম্মেলনের সমাপ্তি অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে পালিত হল সাঁওতালি ভাষার (Santhali Language) ‘অলচিকি’ লিপির শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ভাষণ দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মাতৃভাষার গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, অন্যান্য ভাষা শেখা অবশ্যই প্রয়োজনীয়। তবে নিজের মাতৃভাষা শেখা এবং তা চর্চা করা প্রত্যেক মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    মাতৃভাষার গুরুত্ব (Santhali Language)

    রাষ্ট্রপতি সাঁওতালি ভাষায় বক্তব্য রাখেন। বলেন, “সব ভাষা শেখায় কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু কখনওই নিজের মাতৃভাষাকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। নিজের মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় সব সময় মাতৃভাষায়ই কথা বলার চেষ্টা করা উচিত।” রাষ্ট্রপতি সাঁওতালি ভাষার অলচিকি লিপির স্রষ্টা পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সাঁওতালিদের নিজস্ব ভাষা থাকা সত্ত্বেও ১৯২৫ সালের আগে উপযুক্ত লিপির অভাবে বিভিন্ন লিপি ব্যবহার করতে হত। এর ফলে অলচিকি ব্যতীত অন্য লিপিতে বহু সাঁওতালি শব্দের সঠিক উচ্চারণ করা সম্ভব হত না। তিনি বলেন, অলচিকি লিপি শুধু একটি লিখন পদ্ধতি নয়, এটি সাঁওতালি সমাজের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। এই লিপির শতবর্ষ উদযাপন সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণে এক গুরুত্বপূর্ণ (Santhali Language)  মাইলফলক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আদিবাসী সমাজের জাগরণ

    রাষ্ট্রপতি বলেন, অলচিকি লিপি চালু হওয়ার পর থেকে এটি সাঁওতালি জনগোষ্ঠীর পরিচয়ের এক শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে এই লিপির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Jharkhand)। তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি অলচিকি লিপিতে লেখা সাঁওতালি ভাষায় ভারতের সংবিধান প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে সাঁওতালি ভাষাভাষী মানুষরা এবার তাঁদের মাতৃভাষায় ভারতের সংবিধান পড়তে ও বুঝতে পারবেন, যা গণতান্ত্রিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়ক (Santhali Language) হবে। আদিবাসী সমাজের জাগরণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই সম্প্রদায়গুলিকে সচেতন করার ক্ষেত্রে লেখক ও সাহিত্যিকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি লেখকদের তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে আদিবাসী সমাজকে জাগ্রত করার আহ্বানও জানান (Jharkhand)।

    আদিবাসী সমাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ

    রাষ্ট্রপতি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষভাবে সংবেদনশীল আদিবাসী গোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য ২৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই অর্থ আদিবাসী সমাজের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই আশা তাঁর (Santhali Language)। পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের জন্য আদিবাসী সমাজের প্রশংসায়ও পঞ্চমুখ রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে ঠিকই, তবে সেই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার এবং মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু ১৯২৫ সালে শুরু করা ঐতিহাসিক অল চিকি আন্দোলনের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করা হয় (Santhali Language)। দিনের পরবর্তী পর্বে রাষ্ট্রপতি জামশেদপুরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ১৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।

    প্রসঙ্গত, বর্তমানে তিন দিনের ঝাড়খণ্ড সফরে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি। রবিবার তিনি পৌঁছন ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে। সফরের শেষ দিন (Jharkhand), আজ মঙ্গলবারে গুমলায় আন্তঃরাজ্য জনসাংস্কৃতিক সমাগম সমারোহ–কার্তিক যাত্রা অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার কথা (Santhali Language) রয়েছে তাঁর।

  • Rajasthan: ভারতেই মিলল লিথিয়ামের বৃহত্তম ভাণ্ডারের খোঁজ, পরিমাণ কত জানেন?

    Rajasthan: ভারতেই মিলল লিথিয়ামের বৃহত্তম ভাণ্ডারের খোঁজ, পরিমাণ কত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের খনিজ মানচিত্রে যুক্ত হল এক ঐতিহাসিক মাইল ফলক। রাজস্থানের (Rajasthan) নাগৌর জেলার দেগানা অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ লিথিয়ামের (Lithium) সন্ধান মিলেছে। এই আবিষ্কার ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের। কারণ, এর ফলে লিথিয়ামের জন্য চিনের ওপর ভারতের দীর্ঘদিনের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।লিথিয়াম ভাণ্ডারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় খনিমন্ত্রক। ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে খনিজ উত্তোলনের জন্য নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের অনুমান, এটি হতে পারে ভারতে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় লিথিয়াম ভাণ্ডার।

    কত লিথিয়াম মিলেছে দেগানায়?

    ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা (GSI)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেগানা অঞ্চলে আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ টন লিথিয়াম মজুত রয়েছে। এই ভাণ্ডার ভারতের মোট লিথিয়াম চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হতে পারে বলে অনুমান। বর্তমানে ৭০–৮০ শতাংশ লিথিয়াম আমদানির জন্য চিনের ওপর নির্ভর করতে হয় ভারতকে। দেগানার এই ভাণ্ডার যদি বাণিজ্যিকভাবে সফলভাবে উন্নয়ন করা যায়, তাহলে তা ভারতের খনিজ ও শক্তি নিরাপত্তায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ লিথিয়াম?

    লিথিয়াম আধুনিক প্রযুক্তির একটি অপরিহার্য কাঁচামাল। বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাটারি উৎপাদন, শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-সহ বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে এই খনিজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন শক্তি রূপান্তরের ক্ষেত্রে লিথিয়ামকে ‘স্ট্র্যাটেজিক মিনারেল’ হিসেবেই ধরা হয় (Rajasthan)। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, ডেগানা অঞ্চলে প্রায় ২৬,০০০ মিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ড্রিলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এই সমীক্ষা শুধু লিথিয়ামেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে টাংস্টেন, বিসমাথ, টিন এবং কোবাল্টের মতো অন্যান্য মূল্যবান খনিজের উপস্থিতিও পরীক্ষা করা হয়েছে। এর ফলে রাজস্থানের সামগ্রিক খনিজ সম্ভাবনা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার ভারতের খনিজ নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাটারি শিল্প এবং ভবিষ্যৎ শক্তি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে (Lithium)। রাজস্থানের ডেগানা অঞ্চলের রেভান্ত পাহাড়ে খনিজ অনুসন্ধানের ইতিহাস নতুন নয়। ব্রিটিশ রাজত্বে ১৯১৪ সালে এখানে প্রথম টাংস্টেনের সন্ধান মিলেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এই টাংস্টেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর কাজে (Rajasthan) ব্যবহৃত হয়। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে এলাকাটিতে খনন কার্য চললেও এক পর্যায়ে এসে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে লিথিয়ামের সম্ভাব্য সন্ধান আবারও ডেগানাকে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ডেগানা শুধু রাজস্থানের জন্য নয়, বরং ভারতের ক্রমবর্ধমান খনিজ কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়ামের মজুত পাওয়া গেলে এটি রাজ্যের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

    দেশের একাধিক রাজ্যেও লিথিয়ামের ভাণ্ডার

    রাজস্থান ছাড়াও দেশের একাধিক রাজ্যে লিথিয়ামের ভাণ্ডার চিহ্নিত হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলার সালাল-হামানা এলাকায় প্রায় ৫.৯ মিলিয়ন টন লিথিয়াম মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যা এখনও পর্যন্ত ভারতের সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য ভাণ্ডার হিসেবে বিবেচিত হয়।ছত্তিশগড়ের কোরবা জেলায় ইতিমধ্যেই দেশের প্রথম লিথিয়াম ব্লকের নিলাম সম্পন্ন হয়েছে এবং শীঘ্রই সেখানে খনন কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্নাটকের মান্ড্যা জেলায় তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও প্রায় ১৪,১০০ টন লিথিয়ামের ভাণ্ডার চিহ্নিত হয়েছে (Rajasthan)।বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ (Lithium) এবং গুজরাটেও লিথিয়ামের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে, যদিও এসব রাজ্যে এখনও বাণিজ্যিকভাবে খনন কার্য শুরু হয়নি।

    লিথিয়ামের অভ্যন্তরীণ চাহিদা

    ভারতে বৈদ্যুতিক যান বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় লিথিয়ামের অভ্যন্তরীণ চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। ব্যাটারি উৎপাদনে লিথিয়াম একটি অপরিহার্য কাঁচামাল হওয়ায় ভবিষ্যতের জ্বালানি কৌশলে এই খনিজের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে (Rajasthan)। ডেগানায় লিথিয়াম খনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজস্থানের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই প্রকল্প দেশের আমদানি নির্ভরতা কমাতে, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং বৈশ্বিক লিথিয়াম বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে (Lithium)। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন শুরু হলে ডেগানার এই প্রকল্প শুধু একটি রাজ্যের নয়, বরং গোটা দেশের খনিজ ও জ্বালানি নীতিতে এক রূপান্তরকারী অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে (Rajasthan)।

  • AI Models: “ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে”, বললেন আদানি

    AI Models: “ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে”, বললেন আদানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই (AI) সক্ষমতা গড়ে (AI Models) তোলার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তিনি বলেন, “বিদেশি প্রযুক্তির ওপর লাগামছাড়া নির্ভরতা দেশের জন্য গুরুতর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।” তিনি এও (India) জানান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নির্ধারক শক্তি হিসেবে এআই ইতিমধ্যেই আবির্ভূত হয়েছে।

    কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি (AI Models)

    পুণে জেলার বারামতিতে বিদ্যা প্রতিষ্ঠানে শরদচন্দ্র পাওয়ার সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স উদ্বোধনের পর ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে গৌতম আদানি বলেন, “সার্বভৌমত্ব ছাড়া উন্নয়ন নির্ভরতা সৃষ্টি করে। আর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অগ্রগতি ঝুঁকি ডেকে আনে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি হলেও, ১৪০ কোটির জনসংখ্যার একটি দেশ তার কর্মসংস্থান, তথ্য, সংস্কৃতি ও সমষ্টিগত বুদ্ধিমত্তাকে বিদেশি অ্যালগরিদম ও বিদেশি ব্যালান্স শিটের হাতে তুলে দিতে পারে না।”

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত গবেষণা

    আদানি গ্রুপের অর্থায়নে গড়ে ওঠা এই এআই কেন্দ্রটি পাওয়ার পরিবারের পরিচালনাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের অধীনে স্থাপিত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এবং এনসিপি-এসসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার উপস্থিত ছিলেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত গবেষণা, টেকনোলজি ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা আরও গভীর করতে আদানি গ্রুপ বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর করেছে। ভাষণের শুরুতে প্রযুক্তির ইতিহাসজুড়ে তার রূপান্তরকারী চরিত্রের কথা তুলে ধরে আদানি বলেন, “গতকালের বীজ যেখানে মাটিতে বপন করা হয়েছিল, আগামী দিনের বীজ সেখানে অ্যালগরিদমে বপন করা হবে।” তিনি জানান, মানব অগ্রগতি কখনও সরলরৈখিক ছিল না, বরং প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দ্বারা চালিত শক্তিশালী লাফের মাধ্যমেই তা এগিয়েছে।

    অগ্রগতি সরলরেখায় এগোয় না

    আদানি (India) বলেন, “মানব অগ্রগতি সরলরেখায় এগোয় না। তা এগোয় বড় বড় লাফে। প্রতিটি লাফই এমন এক প্রযুক্তিগত বিপ্লবের ফল, যা প্রথমে সমাজকে অস্থির করে তোলে এবং তারপর অনেক বেশি সক্ষমতার এক উচ্চতর স্তরে সমাজকে পুনর্গঠন করে।” তিনি বাষ্পশক্তি ও যান্ত্রিকীকরণ থেকে বিদ্যুতায়ন, ডিজিটাল কম্পিউটিং এবং বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত এই যাত্রাপথের কথা তুলে ধরেন (AI Models)। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সংজ্ঞায়ক শক্তি হিসেবে এআইয়ের উল্লেখ করে আদানি স্বীকার করেছেন, বড় ধরনের প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ জড়িয়ে থাকে।

    দুটি বিপরীত শক্তি কাজ করে

    তিনি বলেন, “ইতিহাস আমাদের শেখায় যে এ ধরনের প্রতিটি রূপান্তরের সঙ্গে দুটি বিপরীত শক্তি কাজ করে—একদিকে অসাধারণ সুযোগ, অন্যদিকে গভীর উদ্বেগ। কর্মচ্যুত হওয়ার ভয়, অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার আশঙ্কা, এবং এমন সব ব্যবস্থার হাতে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার ভয়, যেগুলোকে আমরা এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি।” তিনি (India) বলেন, “এই ভয়গুলো দুর্বলতার লক্ষণ নয়। এগুলো গভীরভাবে মানবিক। এই উদ্বেগগুলোর দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করা জরুরি।” ঐতিহাসিক তথ্যের উল্লেখ করে আদানি যুক্তি দেন, প্রযুক্তি ধারাবাহিকভাবে কর্মসংস্থান ধ্বংস না করে বরং তা বিস্তৃত করেছে (AI Models)।
    তিনি বলেন, “প্রযুক্তি কাজ ধ্বংস করে না। প্রথমে এটি ভূমিকা ও কাজের ধরনে বিঘ্ন ঘটায়, তারপর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে।”

    তৃতীয় শিল্পবিপ্লব

    নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি বৈশ্বিক উদাহরণ তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, প্রথম শিল্পবিপ্লব ব্রিটেনে কর্মসংস্থান পাঁচ গুণেরও বেশি বাড়িয়েছিল, আর দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব গণউৎপাদন ও একটি নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্ম দিয়েছিল। আদানি বলেন, “তৃতীয় শিল্পবিপ্লব- ডিজিটাল বিপ্লব – কাজ বিলুপ্ত করেনি। বরং এটি উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করেছে এবং সফটওয়্যার, পরিষেবা, প্ল্যাটফর্ম ও উদ্যোক্তাদের জন্ম দিয়েছে, যা আজ বিশ্বজুড়ে কয়েক শত মিলিয়ন মানুষকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে (India)।” ভারতের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মোবাইল বিপ্লব তৃণমূল স্তরে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক শক্তির সঞ্চার করেছে। আদানি বলেন, “ভারতের নিজস্ব অভিজ্ঞতাই এর স্পষ্ট প্রমাণ। মোবাইল বিপ্লব – যা নিয়ে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, চাকরি ধ্বংস করেনি। বরং বিপুল পরিসরে কর্মসংস্থান বহুগুণ বাড়িয়েছে। স্মার্টফোন ও স্বল্পমূল্যের ডেটা যখন সাধারণ ভারতীয়দের হাতে পৌঁছায়, তখন তৃণমূল স্তরে বিপুল অর্থনৈতিক শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে (AI Models)।”

    ডিজিটাল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ

    তিনি তথ্য তুলে ধরে জানান, ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতে ২৩ কোটিরও বেশি অ-কৃষি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যার বড় অংশই ডিজিটাল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের পর তৈরি হয়েছে। এই সুযোগগুলো কেবল নীতি বা পুঁজি থেকে আসেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “এই সম্ভাবনাগুলি তখনই বাস্তব হয়েছে, যখন সক্ষমতা সাধারণ নাগরিকের হাতে পৌঁছেছে।” তিনি বলেন, “সেই কারণেই আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, এআই এখন পরবর্তী এবং আরও অনেক বেশি শক্তিশালী এক লাফের প্রতিনিধিত্ব করবে। মোবাইল যদি ভারতকে অধিকতর প্রবেশাধিকার দিয়ে থাকে, তবে এআই ভারতকে দেবে আরও বৃহত্তর সক্ষমতা (India)।” এআই-সক্ষম ভবিষ্যতের একটি চিত্র তুলে ধরে আদানি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিটি খাতে সক্ষমতা, সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং উৎপাদনশীলতাকে গভীরভাবে সংযুক্ত করবে। তিনি বলেন, “কল্পনা করুন, আগামী এক দশকে যখন ১৪০ কোটি ভারতীয় তাঁদের হাতের তালুতেই এআই-চালিত বুদ্ধিমত্তা বহন করতে শুরু করবেন, তখন অগ্রগতি আর সরলরৈখিক থাকবে না। তা বহুগুণে বাড়বে, দ্রুততর হবে এবং বিস্ফোরণের মতো প্রসারিত হবে।”

    তাৎক্ষণিক ঝুঁকি

    তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে এআই দৈনন্দিন জীবনকে রূপান্তরিত করতে পারে,ফসলের সর্বোত্তম উৎপাদন ও তাৎক্ষণিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য কৃষকদের এআই ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন, পাশাপাশি টিয়ার-থ্রি শহরের গৃহিণীরা কীভাবে বৈশ্বিক মাইক্রোব্র্যান্ড গড়ে তুলতে পারেন, তার উদাহরণও দেন। আদানি সতর্ক করে বলেন, এআই একটি দুই ধারবিশিষ্ট ছুরিও বটে (AI Models)। এই প্রেক্ষাপটে আদানি বলেন, ভারতকে এআইকে একটি কৌশলগত জাতীয় সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, যা ভারতেই নির্মিত হবে, ভারতেই শাসিত হবে এবং ভারতের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে (India)।” তিনি বলেন, “শরদচন্দ্র পাওয়ার সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন এআই এমন এক সময়ে আত্মপ্রকাশ করছে, যা জাতীয় গুরুত্বের দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—যখন ভারত বৈশ্বিক এআই বিপ্লবের অগ্রভাগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এআই-এর ভবিষ্যৎ এমন কিছু নয় যা আপনাআপনি ভারতে এসে পৌঁছাবে। এটি এমন এক ভবিষ্যৎ, যা আমাদের দেশকেই গড়ে তুলতে হবে।”

    এছাড়াও আদানি এআই পরিকাঠামোয় আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন—যার মধ্যে রয়েছে ডেটা সেন্টার ও গ্রিন এনার্জি। তিনি এগুলিকে বুদ্ধিমত্তার কারখানা হিসেবে বর্ণনা করেন, যা সার্বভৌমত্ব, উৎপাদনশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য (AI Models)।

  • Cash Transfers: মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ, বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হচ্ছে ভারত

    Cash Transfers: মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ, বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হচ্ছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দু’দশক আগে মহিলাদের জন্য সরাসরি নগদ অর্থ হস্তান্তরকে (Cash Transfers) একটি পরীক্ষামূলক নীতি হিসেবে দেখা হত। একে অনেক সময় আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বা রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানী উদ্যোগ বলে খারিজ করা হয়েছিল। কিন্তু আজ এই ব্যবস্থা ভারতের কল্যাণমূলক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কয়েকটি রাজ্যে সীমিত পরিসরে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগই এখন পরিণত হয়েছে তামাম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে (Bharat)।

    ভারতের মোট ব্যয় (Cash Transfers)

    ২০০৫ সালে এই ধরনের নগদ হস্তান্তরে ভারতের মোট ব্যয় ছিল আনুমানিক ১,৩০০ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে এসে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৪৬ লক্ষ কোটি টাকায়। রাজ্যস্তরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ১৫টি রাজ্যের ১৩ কোটিরও বেশি নারী সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া আর্থিক সাহায্য পাচ্ছেন। এই দ্রুত বিস্তারই প্রমাণ করে, কীভাবে সরাসরি নগদ হস্তান্তর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি নতুন ধারণা থেকে স্বাভাবিক নীতিতে পরিণত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে এই পরিবর্তন বিশেষভাবে দ্রুত হয়েছে। ২০২০ সালে নারীদের জন্য বৃহৎ পরিসরের নগদ হস্তান্তর প্রকল্প ছিল মাত্র একটি রাজ্যে। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫। এই প্রবৃদ্ধি রাজ্যগুলির কল্যাণ ভাবনায় এক গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। খণ্ডিত ভর্তুকির ব্যবস্থা থেকে সরে এসে সরাসরি আয় সহায়তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতা এখন স্পষ্ট। এই প্রকল্পগুলির মূল নীতিটি সহজ হলেও অত্যন্ত শক্তিশালী। অর্থ সরাসরি একজন নারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। তাই তিনি নিজেই ঠিক করতে পারেন কীভাবে সেই অর্থ সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যবহার করবেন। তবে এর ফল শুধু পারিবারিক ভোগব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব বিস্তৃত অনেক দূর পর্যন্ত।

    পণ্যভিত্তিক ভর্তুকি

    সম্পদ, কর্মসংস্থানের অবস্থা বা পণ্যভিত্তিক ভর্তুকির সঙ্গে যুক্ত প্রচলিত কল্যাণমূলক কর্মসূচির তুলনায় সরাসরি নগদ হস্তান্তর পদ্ধতি বেশি পূর্বানুমানযোগ্য ও স্বচ্ছ। সুবিধাভোগীদের কাছে এর অর্থ হল আয়ের সাহায্য পাওয়ার নিশ্চয়তা। সরকারের ক্ষেত্রে এটি পরিমাপযোগ্য ফল ও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে, পাশাপাশি অর্থের অপচয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমায়। নির্বাচনী হিসাব-নিকাশের বাইরে গিয়েও প্রমাণ বলছে, এই প্রকল্পগুলি বাস্তব ও তাৎপর্যপূর্ণ সামাজিক ফল দিচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে করা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত নগদ হস্তান্তর পারিবারিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ায়, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করে এবং গৃহস্থালির সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করে। বহু ক্ষেত্রে নারীরা জানিয়েছেন, সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ ব্যবস্থাপনায় তাঁদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে (Cash Transfers)।

    গড় মাসিক মাথাপিছু ব্যয়

    যে অর্থনীতিতে নিম্ন আয়ের পরিবারের গড় মাসিক মাথাপিছু ব্যয় ৪,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকার মধ্যে, সেখানে প্রতি মাসে ১,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পারিবারিক সম্পদের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এটি কোনও প্রতীকী সহায়তা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এই অর্থ মাসিক বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নগদ সহায়তা দানের মূল ধারণা এক হলেও, রাজ্যগুলি তাদের জনসংখ্যাগত বাস্তবতা ও আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রকল্পগুলির নকশা নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে। তেলঙ্গনার মহালক্ষ্মী প্রকল্পে যোগ্য নারীদের প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা দেওয়া হয়, যার জন্য বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯,২০০ কোটি টাকা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লাডকি বহিন যোজনায় মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়, যার ফলে রাজ্যের বার্ষিক খরচ প্রায় ৩৬,০০০ কোটি টাকা (Bharat)।

    গৃহলক্ষ্মী যোজনা

    কর্নাটকের গৃহলক্ষ্মী যোজনা পরিবারপ্রধান নারীদের প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা দেয়, যার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০,৬০৮ কোটি টাকা। পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প, যা ২০২১ সালে চালু হয়, মাসে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা দেয়। এটি পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ নারী-কেন্দ্রিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের লাডলি বেহনা যোজনা, বৃহৎ পরিসরে শুরু হওয়া প্রাথমিক উদ্যোগগুলির একটি। এখানে মাসে ১,২৫০ টাকা দেওয়া হয়। এটি পরবর্তীকালে চালু হওয়া একাধিক প্রকল্পের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করেছে (Cash Transfers)।

    বার্ষিক এককালীন অর্থ

    বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ কিছু রাজ্য মাসিক অর্থ দেওয়ার বদলে বার্ষিক এককালীন অর্থ মঞ্জুর করার পথ বেছে নিয়েছে। অন্য রাজ্যগুলি গৃহস্থালির ব্যয়চক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত মাসিক সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেয়। যোগ্যতার মানদণ্ডও রাজ্যভেদে ভিন্ন। কোথাও শুধুমাত্র বিবাহিত নারীরা অন্তর্ভুক্ত, আবার কোথাও বিধবা, অবিবাহিত নারী বা পরিবারপ্রধান নারীরাও এই প্রকল্পের আওতায় পড়েন। এই ভিন্নতা সত্ত্বেও, সব প্রকল্পের মূল লক্ষ্য একটাই, নারীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা।

    নগদ অর্থ হস্তান্তর কর্মসূচি

    নারীদের জন্য নগদ অর্থ হস্তান্তর কর্মসূচির আর্থিক প্রভাব নিঃসন্দেহে ব্যাপক। একাধিক রাজ্যে এই প্রকল্পগুলির ব্যয় এখন মোট রাজ্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় দুই থেকে তিন শতাংশের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছে। মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্নাটকে নারীকেন্দ্রিক নগদ হস্তান্তর খাতে ব্যয় সামগ্রিক কল্যাণ বাজেটের (Bharat) একটি প্রধান অংশ দখল করে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক ঐতিহ্যবাহী কল্যাণমূলক কর্মসূচির সম্মিলিত বরাদ্দকেও ছাপিয়ে গিয়েছে (Cash Transfers)। জাতীয় স্তরে, ২০২৩–২৪ অর্থবর্ষে এই নগদ হস্তান্তর ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GDP) প্রায় ০.২ শতাংশের সমান ছিল। ২০২০–২১ সালে যেখানে এই হার ছিল মাত্র ০.০৪ শতাংশ, সেখান থেকে এই দ্রুত বৃদ্ধি নীতিটির দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের প্রতিফলন।

    ব্যয়ের পরিমাণ

    অনেকের মতে, ব্যয়ের পরিমাণ বড় হলেও তা অযথা বা অপচয়মূলক ভোগে পরিণত হয় না। বরং এই নগদ হস্তান্তরগুলি আয়ের একটি স্থিতিশীল সহায়ক হিসেবে কাজ করে, যা পরিবারগুলিকে মূল্যবৃদ্ধি, মৌসুমি আয়ের ওঠানামা এবং আকস্মিক খরচ সামাল দিতে সাহায্য করে। রাজ্যস্তরের বিভিন্ন সমীক্ষায় একটি বিষয় ধারাবাহিকভাবে উঠে এসেছে, নারীরা এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করেন। সন্দেহপ্রবণ ধারণার বিপরীতে, এই অর্থ খুব কম ক্ষেত্রেই বিলাসী বা অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় হয়। বরং এটি পারিবারিক বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেকই খাদ্য খাতে ব্যয় হয়, আর কর্নাটকে এই হার বেড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশে পৌঁছায়। ব্যয়ের অন্যান্য প্রধান ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ, বিদ্যুৎ ও জল বিল পরিশোধ, এবং অনানুষ্ঠানিক ঋণ শোধ।

    মাসিক নগদ হস্তান্তর

    গ্রামীণ এলাকায় মাসিক নগদ হস্তান্তর প্রায়ই মাথাপিছু ব্যয়ের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের সমান হয়। এর ফলে এটি অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাফার হিসেবে কাজ করে—বিশেষত কৃষি বা অনানুষ্ঠানিক শ্রমের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলির জন্য। অনেক নারীর কাছে এই অর্থের পরিমাণের মতোই এর নিয়মিত ও পূর্বানুমেয় প্রাপ্তি সমান গুরুত্বপূর্ণ (Cash Transfers)। অর্থনৈতিক সূচকের সীমা অতিক্রম করে সরাসরি নগদ হস্তান্তর কর্মসূচিগুলি এখন পরিবারভিত্তিক সামাজিক সম্পর্কের ভেতরে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। নারীদের কেবল গৌণ সুবিধাভোগী হিসেবে না দেখে সরাসরি প্রাপক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা লিঙ্গভিত্তিক ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে (Bharat)। উপভোক্তা নারীরা জানাচ্ছেন, সংসারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তাঁদের মতামতের গুরুত্ব বেড়েছে—নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা থেকে শুরু করে সন্তানের শিক্ষা সংক্রান্ত ব্যয় নির্ধারণ পর্যন্ত। নিজের নামে নিয়মিত আয়ের একটি উৎস থাকার মানসিক প্রভাব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষ করে গ্রামীণ ও আধা-শহুরে অঞ্চলে, যেখানে এতদিন নারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা সীমিত ছিল।

    কল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন

    এই পরিবর্তনের প্রতিফলন রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন, জবাবদিহি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে নারীরা ক্রমশ আরও সোচ্চার হচ্ছেন। এর ফলস্বরূপ, নারী-কেন্দ্রিক নগদ হস্তান্তর কর্মসূচিগুলি একটি স্বতন্ত্র ও প্রভাবশালী ভোটব্যাঙ্কের উত্থানে সহায়তা করছে, যা রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী কৌশলকে নতুন করে রূপ দিচ্ছে। তবে বিরোধীরা এই প্রকল্পগুলিকে ঘিরে বাড়তি আর্থিক চাপ এবং বিকল্প খাতে ব্যয়ের সুযোগ হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বাজেট সংক্রান্ত আপস বাস্তব হলেও বহু নীতিবিশেষজ্ঞের মতে, সরাসরি নগদ হস্তান্তরকে স্বল্পমেয়াদি অনুদান হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। উন্নত পুষ্টি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা, স্বাস্থ্যসেবায় অধিকতর প্রবেশাধিকার এবং গভীরতর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মতো সুফলগুলি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামো ও প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তর (ডিবিটি) ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই কর্মসূচিগুলি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও শাসনব্যবস্থাকেও আরও মজবুত করছে (Cash Transfers)।

    ভারত যখন কল্যাণমূলক পরিষেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক চালিয়ে যাচ্ছে, তখন নারীদের লক্ষ্য করে চালু করা এই নগদ হস্তান্তর প্রকল্পগুলি তাদের সরলতা, দক্ষতা ও মর্যাদাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। রাজনৈতিকভাবে সতর্ক এক পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে যার সূচনা হয়েছিল, তা আজ ধারাবাহিক (Bharat) ব্যাঙ্ক হস্তান্তরের মাধ্যমে ভারতের কল্যাণ রাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।

  • New Airlines: ছাড়পত্র পেল আরও ৩ নয়া উড়ান সংস্থা, গতি বাড়ছে ভারতের!

    New Airlines: ছাড়পত্র পেল আরও ৩ নয়া উড়ান সংস্থা, গতি বাড়ছে ভারতের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহণ বাজারে নতুন করে প্রতিযোগিতা বাড়তে চলেছে। কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের কাছ (India Clears) থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি)  পেয়েছে দুটি নয়া বিমান সংস্থা। একটি হল আল হিন্দ এয়ার (Al Hind Air) এবং অন্যটি ফ্লাইএক্সপ্রেস (FlyExpress)। উত্তরপ্রদেশভিত্তিক আরও একটি সংস্থা শঙ্খ এয়ার (Shankh Air), যার কাছে ইতিমধ্যেই এনওসি রয়েছে (New Airlines), তারা ২০২৬ সালে বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে বর্তমানে হাতে গোণা কয়েকটি বড় সংস্থার দখলে থাকা এই খাতে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে।

    অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণ (New Airlines)

    এই অনুমোদনগুলি এমন একটা সময়ে এল, যখন সরকার বিশ্বের দ্রুততম হারে বেড়ে ওঠা অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণ বাজারগুলির একটিতে অংশগ্রহণের পরিধি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে মাত্র ন’টি নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থা সক্রিয় রয়েছে। গত অক্টোবর মাসে আঞ্চলিক বিমান সংস্থা ফ্লাই বিগ (Fly Big) নির্ধারিত উড়ান স্থগিত করার পর সেই সংখ্যা আরও কমে যায়। আল হিন্দ এয়ারের উদ্যোক্তা কেরলভিত্তিক আলহিন্দ গ্রুপ, আর ফ্লাইএক্সপ্রেস যুক্ত হচ্ছে এমন একাধিক সম্ভাব্য নতুন সংস্থার তালিকায়, যারা এমন একটি বাজারে প্রবেশ করতে চাইছে যেখানে পরিসর (স্কেল) ও ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ এখনও মূলত কয়েকটি সংস্থার হাতেই কেন্দ্রীভূত। ইতিমধ্যেই ছাড়পত্র পাওয়া শঙ্খ এয়ার আগামী বছর থেকেই বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করতে পারে বলে অনুমান।

    দ্বৈত আধিপত্য

    এই শিল্পখাতে কার্যত দ্বৈত আধিপত্য গড়ে ওঠা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় নয়া সংস্থার প্রবেশের দাবি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ, যার মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসও অন্তর্ভুক্ত, এক সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবাজারের ৯০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে। শুধু ইন্ডিগোই দখল করে রেখেছে ৬৫ শতাংশেরও বেশি বাজার। এই উদ্বেগগুলি চলতি মাসের শুরুতেই আরও তীব্র হয়ে ওঠে, যখন ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সে বড় ধরনের অপারেশনাল বিপর্যয় দেখা দেয়। এর প্রভাব গোটা নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত সম্প্রসারিত বাজারে একটিমাত্র এয়ারলাইনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার ঝুঁকি প্রকাশ্যে চলে আসে (New Airlines)।

    মন্ত্রীর বক্তব্য

    সিভিল অ্যাভিয়েশন মন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডু একটি পোস্টে অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে মন্ত্রক শঙ্খ এয়ার, আল হিন্দ এয়ার এবং ফ্লাইএক্সপ্রেসের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। উল্লেখ্য যে, যদিও শঙ্খ এয়ার ইতিমধ্যেই তাদের ছাড়পত্র পেয়েছে, অন্য দুটি ক্যারিয়ার এই সপ্তাহে তাদের এনওসি পেয়েছে। তিনি জানান, ভারতীয় বিমান চলাচল যে গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা বিবেচনা করে আরও বিমান সংস্থাকে উৎসাহিত করা আমাদের একটি ধারাবাহিক নীতি। তিনি ইউডিএএনের মতো সরকারি প্রকল্পের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যার লক্ষ্য আঞ্চলিক যোগাযোগ আরও উন্নত করা এবং একই সঙ্গে ছোট ক্যারিয়ারগুলিকে পা রাখতে সাহায্য করা। ইউডিএএন প্রকল্পের আওতায় স্টার এয়ার, ইন্ডিয়া ওয়ান এয়ার ও ফ্লাই৯১-এর মতো সংস্থাগুলি কম পরিষেবাপ্রাপ্ত রুটে তাদের পরিষেবা সম্প্রসারিত করেছে। এর মাধ্যমে ছোট শহরগুলিকে জাতীয় বিমান পরিবহণ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মন্ত্রী বলেন, এই খাতে আরও বৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা এখনও রয়ে গিয়েছে (India Clears)।

    সর্বশেষ তথ্য

    ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের নির্ধারিত এয়ারলাইন্সগুলির মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যালায়েন্স এয়ার, আকাসা এয়ার, স্পাইসজেট, স্টার এয়ার, ফ্লাই৯১ এবং ইন্ডিয়া ওয়ান এয়ার (New Airlines)। তবে নতুন এয়ারলাইন্সের আগমন অতীতের ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটেও ঘটছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জেট এয়ারওয়েজ ও গো ফার্স্টের মতো সংস্থাগুলি ঋণের চাপ ও পরিচালনাগত সমস্যায় জর্জরিত হয়ে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, যা এই খাতের অস্থিরতা স্পষ্টভাবে তফশিলিভুক্ত ক্যারিয়ারগুলির মধ্যে বর্তমানে ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যালায়েন্স এয়ার, আকাসা এয়ার, স্পাইসজেট, স্টার এয়ার, ফ্লাই৯১ এবং ইন্ডিয়াওয়ান এয়ার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    অতীতের ব্যর্থতার পটভূমিতেও (India Clears) নতুন বিমান সংস্থাগুলির আগমন ঘটে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, জেট এয়ারওয়েজ এবং গো ফার্স্টের মতো ক্যারিয়ারগুলি ঋণ এবং পরিচালনগত চ্যালেঞ্জের কারণে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, যা এই খাতের অস্থিরতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে (New Airlines)।

  • Indian Economy: বিশ্ব মন্দার মধ্যেও ভারতের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকবে, দাবি কেয়ারএজ রিপোর্টে

    Indian Economy: বিশ্ব মন্দার মধ্যেও ভারতের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকবে, দাবি কেয়ারএজ রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বাড়লেও আগামী অর্থবছরগুলোতে ভারতের অর্থনৈতিক (Indian Economy) প্রবৃদ্ধি বড় অর্থনীতিগুলির তুলনায় ভালো থাকবে বলে জানিয়েছে কেয়ারএজ (CareEdge)। বুধবার প্রকাশিত সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, অর্থবর্ষ ২০২৬ ও ২০২৭-এ ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৭.৫ শতাংশ ও ৭ শতাংশে স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রবৃদ্ধির পিছনে চাহিদা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিই প্রধান চালিকা শক্তি বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বব্যাপী যেখানে আগামী পাঁচ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩.১ শতাংশে নামতে পারে, সেখানে ভারতের এই পারফরম্যান্স স্পষ্টভাবেই ব্যতিক্রমী।

    কেন্দ্রের নীতির ফলেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে জোরালো অগ্রগতির ফলে চলতি অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হয়েছে। উন্নত চাহিদা পরিস্থিতি ও জিএসটি হ্রাসও এতে সহায়ক হয়েছে। ভারত সরকারের নানা জনকল্যাণমূলক নীতি দেশের অভ্যন্তরে অর্থনীতিকে (Indian Economy) শক্তিশালী করেছে বলে মত নানা মহলে। কেয়ারএজ (CareEdge) রিপোর্টে বলা হয়েছে, মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধির পক্ষে একাধিক অনুকূল বিষয় কাজ করছে—ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা, নিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি, তুলনামূলকভাবে কম সুদের হার এবং গৃহস্থালির উপর করের চাপ কমা। এই কারণগুলো বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে এবং ২০২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ভোগ ও বিনিয়োগের গতি বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

    বিশ্ববাজারে মন্দা, দেশের অভ্যন্তরে স্থিতি

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিক গড়ের নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। চিনের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় প্রায় তিন শতাংশ কম প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে কেয়ারএজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্পষ্টভাবেই ভারতের অনুকূলে রয়েছে। ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) ভিত্তিক মুদ্রাস্ফীতি ২০২৬ অর্থবর্ষে গড়ে ২.১ শতাংশে থাকতে পারে, যার প্রধান কারণ খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে দামের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ। তবে ২০২৬ সালে নিম্ন ভিত্তি থাকার ফলে পরের বছর মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা বেড়ে গড়ে প্রায় ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মধ্যমেয়াদি লক্ষ্যের কাছাকাছি। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, যেসব বৈশ্বিক কারণ এতদিন মুদ্রাস্ফীতি দমনে সহায়ক ছিল, সেগুলি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। পণ্যের দাম স্থিতিশীল হতে পারে এবং রুপির মৌলিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবমূল্যায়নের ফলে আমদানিজনিত মুদ্রাস্ফীতির চাপ ফের বাড়তে পারে। তবে ভালো বর্ষা, নিয়ন্ত্রিত পণ্যমূল্য ও জিএসটি সংস্কার মুদ্রাস্ফীতির পক্ষে ইতিবাচক দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    আরবিআইয়ের সামনে চ্যালেঞ্জ

    ২০২৫ সালের শেষে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI) ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক সুদ কমানোর চক্র শেষ করেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নীতিগত রেপো রেট মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৬.৫ শতাংশ থেকে ৫.২৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা প্রবৃদ্ধিমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছেন, জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ৮.২ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি এবং অক্টোবর মাসে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার মাত্র ০.২৫ শতাংশে নেমে আসার প্রেক্ষিতে। আগামী বছরে আরবিআইয়ের সামনে চ্যালেঞ্জ হবে—মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রাখা। রিপোর্ট অনুযায়ী, আর একটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমানোর সুযোগ থাকলেও বড়সড় শিথিলতার পথে হাঁটার সম্ভাবনা কম। সীমিত হারে সুদ কমিয়ে তারপর বিরতি নেওয়াই সম্ভাব্য কৌশল, যাতে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    ডলার-রুপির তুলনা

    এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডলারের বিপরীতে রুপির উপর চাপ বেড়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ প্রবাহ দুর্বল থাকা এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বিলম্বিত হওয়া নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব এর কারণ। এর জেরে আরবিআই বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ কিছুটা কমিয়ে রুপিকে ধীরে ধীরে মৌলিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে দিচ্ছে, যদিও অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাতে প্রয়োজনে হস্তক্ষেপের বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে। বাস্তব কার্যকর বিনিময় হার (REER) অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষে রুপি প্রায় ৩ শতাংশ অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। ফলে হঠাৎ বড় ধরনের পতনের ঝুঁকি সীমিত বলে মনে করছে কেয়ারএজ। যুক্তরাষ্ট্রে সুদ কমার সম্ভাবনা, দুর্বল ডলার ও নিয়ন্ত্রিত চলতি হিসাব ঘাটতি রুপির উপর চাপ কমাতে পারে। পাশাপাশি, ব্লুমবার্গ গ্লোবাল অ্যাগ্রিগেট সূচকে ভারতের অন্তর্ভুক্তির ফলে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি লাভ হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৭ অর্থবর্ষে ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৮৯–৯০ টাকার মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

  • Hindu Minorities: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, কড়া প্রতিক্রিয়া আমেরিকা- রাশিয়া-কানাডার

    Hindu Minorities: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, কড়া প্রতিক্রিয়া আমেরিকা- রাশিয়া-কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের (Hindu Minorities) ওপর নৃশংস অপরাধের ঘটনা। বর্তমানে পদ্মাপারের এই দেশের রাশ অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহম্মদ ইউনূস (Bangladesh)। তাঁর জমানায় এই জাতীয় ঘটনা কার্যত নির্বিঘ্নে চলতে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে অমানবিক কার্যকলাপের অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউনূস প্রশাসন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আইনপ্রণেতারা নিরপরাধ এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনির ঘটনার কড়া নিন্দে করেছেন। ঢাকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস ইউনূস সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান থেকে অঞ্চলটি বিচ্ছিন্ন করে ‘বাংলাদেশ’ নামের নতুন রাষ্ট্র গঠনের জন্য ভারত ও রাশিয়া যে ত্যাগ স্বীকার করেছিল, তা ভোলার নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই কঠোর স্মরণবার্তাগুলি বাংলাদেশের পক্ষে এক সতর্কবার্তাস্বরূপ। দেশটি বর্তমানে রাজনৈতিক হিংসা, গণপিটুনি, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও হত্যাকাণ্ড এবং উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত নানা চরমপন্থী নৃশংসতায় ক্রমাগত ডুবে যাচ্ছে।

    মার্কিন সাংসদের তোপ (Hindu Minorities)

    হিংসার এই ধারা ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা জেনিফার রাজকুমার। নিউইয়র্ক স্টেটের প্রতিনিধি ও নাগরিক অধিকার আইনজীবী জেনিফার বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দেশটিতে ঘটে চলা এক ভয়াবহ লাগাতার হিংসার ইঙ্গিত দেয়।” বিশ্ববাসীর কাছে তাঁর আহ্বান, মানবাধিকার, সংখ্যালঘুদের ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। জেনিফার বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দু (Hindu Minorities) সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটে চলা হিংসার ঘটনায় আমি গভীরভাবে বিচলিত। সাম্প্রতিক সময়ে এর ভয়াবহ উদাহরণ হল বাংলাদেশি হিন্দু দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা। একটি জনতা তাঁকে মারধর করে, আগুনে পুড়িয়ে দেয় এবং তাঁর দেহ একটি হাইওয়েতে ফেলে রেখে গেল!” তিনি বলেন, “এই ঘটনা বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন (Bangladesh) ও লক্ষ্যভিত্তিক হিংসার এক উদ্বেগজনক ধারার অংশ। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের ওপর ২ হাজার ৪৪২টি হিংসা ঘটনা ঘটেছে এবং ১৫০টিরও বেশি মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে।” জেনিফার বলেন, “বিশ্বের উচিত বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। বাংলাদেশের হিন্দুদের যে ভয়, যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা আমাদেরও ভাগ করে নিতে হবে।”

    কানাডার নিশানায় বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর লাগাতার নৃশসংতার সমালোচনা করেছেন কানাডার কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ শুভ মজুমদারও। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে চালানো ‘পগরোম’ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।” বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে হিন্দুদের  (Hindu Minorities) বিরুদ্ধে সংঘটিত সব লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও জঘন্য অপরাধের জন্য জবাবদিহিও দাবি করেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে শুভ লেখেন, “এমন সময়ে আমাদের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-সহ সব সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে পগরোম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানাতে হবে এবং ইউনূস সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি বলেন, “মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার পক্ষে আমাদের নিরলসভাবে কথা বলতেই হবে। এতে চরমপন্থাকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের নামে যারা যুক্তি দেখায়, বাস্তবতা তুলে ধরতে ব্যর্থ গণমাধ্যমের কিছু অংশ এবং হিংসা ও ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে না পেরে সমতুল্যতার মোহে আচ্ছন্ন রাষ্ট্রসংঘ যতই অস্বস্তিতে পড়ুক না কেন, তা আমাদের করতেই হবে।”

    বাংলাদেশে শেকড় গেড়েছে ধর্মীয় চরমপন্থা

    এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে (Bangladesh) যে ধর্মীয় চরমপন্থা শেকড় গেড়েছে, তাকেই কটাক্ষ করেন বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের অগাস্টে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকে বাংলাদেশে হাজার হাজার হিংসার ঘটনা ঘটেছে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।” কানাডার সাংসদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার যখন একদিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনার নিন্দা করছে এবং গ্রেফতারির কথা ঘোষণা করছে, তখনও নিপীড়নের এই ধারাবাহিকতা থামেনি। স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে উগ্রপন্থী শক্তিগুলি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।” সংখ্যালঘুদের ওপর অপরাধ বন্ধে এবং তাঁদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কড়া সমালোচনাও(Hindu Minorities) করেন তিনি।

    সরব কানাডার আরও এক সাংসদও

    কানাডার আর এক সাংসদ মেলিসা ল্যান্টসম্যানও বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দুরা ক্রমবর্ধমান হিংসার শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গণহামলা, যৌন নির্যাতন, মন্দির ধ্বংস এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি।” তিনি জানান, ২০২৪ সালেই বাংলাদেশে হিন্দুদের লক্ষ্য করে ২০০০-এরও বেশি সহিংস ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। মেলিসা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “সময় থাকতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।”

    রুশ হাই কমিশনের কড়া বার্তা

    বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত রুশ হাই কমিশনও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের হাত থেকে বাংলাদেশের মুক্তিতে ভারতের ভূমিকা ও গুরুত্বের কথা বাংলাদেশকে কড়া ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন বলেন, “১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে ভারত ও রাশিয়ার ত্যাগের ফলেই বাংলাদেশের(Bangladesh) জন্ম হয়েছে। তাই ঢাকা যেন দেরি না করে নয়াদিল্লির সঙ্গে উত্তেজনা কমায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারত ও রাশিয়ার ভূমিকার কথা কখনও ভুলে না যায় (Hindu Minorities)।”

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে বাংলাদেশকে সতর্কবার্তা পাঠানোর মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে যেমন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছে, তেমনি অন্যদিকে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে যে নিত্য হিংসার ঘটনা ঘটছে, তার যে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে রুশ রাষ্ট্রদূত আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশে জড়িয়ে পড়া উত্তেজনা দ্রুত কমানোর আহ্বান জানান। রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, “১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারত, বাংলাদেশ(Bangladesh) ও রাশিয়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল। সাম্প্রতিক উত্তেজনা যত দ্রুত সম্ভব কমাতে হবে। কারণ তা ভারত বা বাংলাদেশ, কোনও দেশেরই স্বার্থে নয় (Hindu Minorities)।”

LinkedIn
Share