Tag: India

India

  • India Afghanistan: ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে মউ স্বাক্ষর ভারত-আফগানিস্তানের, চিন্তার ভাঁজ পাকিস্তানের কপালে

    India Afghanistan: ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে মউ স্বাক্ষর ভারত-আফগানিস্তানের, চিন্তার ভাঁজ পাকিস্তানের কপালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও কাছাকাছি চলে এল ভারত-আফগানিস্তান (India Afghanistan)। স্বাভাবিকভাবেই চিন্তার ভাঁজ পাকিস্তানের কপালে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে উন্নত ও সুদৃঢ় করতে ভারত এবং আফগানিস্তান ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে একটি মউ (Pharma MoU) স্বাক্ষর করেছে। এর মূল্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই মউ নয়াদিল্লি ও কাবুলের কৌশলগত, বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার এক নতুন যুগের সূচনা করবে। ভারতের এবং আফগানিস্তানের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্ততকারী সংস্থাগুলি দুবাইয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে। আফগানিস্তানের রোফি’স ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ অব কোম্পানিজ এবং ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান জাইডাস লাইফ সায়েন্সেস দুবাইয়ে আফগান কনস্যুলেটে এই মউ স্বাক্ষর করতে রাজি হয়। পরে সই হয় মউ।

    স্বাক্ষরিত মউ (India Afghanistan)

    দুই দেশের এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নয়া অধ্যায়ের সূচনা করে, যেখানে ভারত আফগানিস্তানকে যথাযথ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাহায্য করবে। নয়াদিল্লির জন্য এই চুক্তি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও ওষুধ শিল্পে তার শক্ত অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করে। কারণ পরিমাণের দিক থেকে ভারতীয় ওষুধ শিল্প বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম। প্রসঙ্গত, ভারত ও আফগানিস্তানের বাণিজ্য দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, বিশেষত তালিবান সরকারের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আলহাজ নূরউদ্দিন আজিজির সম্প্রতি ভারত সফর করার পর থেকে। এই দ্বিপাক্ষিক সফরের উদ্দেশ্যই ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন। এই মউয়ের প্রাথমিক শর্ত অনুযায়ী, ভারত প্রথমে কাবুলে ওষুধ রফতানি করবে এবং কয়েক বছর পর কোম্পানিটি আফগানিস্তানে নিজস্ব প্রতিনিধি অফিস স্থাপন করবে এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু করবে। এটি আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নতি ও ব্যবসায়িক পরিবেশে বড় ধরনের গতি আনবে (Pharma MoU)। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছেন যে, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষম করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে (India Afghanistan)।

    আফগানিস্থানের প্রশংসা

    আফগানিস্তান সরকার এই চুক্তিকে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি রূপান্তরমূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করেছে। এই চুক্তি কাবুলে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চমানের ওষুধের ধারাবাহিক এবং সময় মতো সরবরাহ নিশ্চিত করবে। দীর্ঘমেয়াদে এই মউ গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে এবং দেশীয় ওষুধ সরবরাহ শৃঙ্খলকে সক্ষম করে তুলবে। ব্যবসায়ী ও স্বাস্থ্যপেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই চুক্তিকে দূরদর্শী তো বটেই, উপকারী বলেও স্বাগত জানিয়েছেন। ভারতের ওষুধ শিল্প বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। উৎপাদনের পরিমাণের দিক থেকে এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম। বিশ্বের মোট টিকার ৫০ শতাংশই ভারত সরবরাহ করে। শুধু তাই নয়, জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনেও দেশটির নামডাক রয়েছে। ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প ২০৩০ সালের মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার মূল্যে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে (Pharma MoU)। সাশ্রয়ী মূল্য প্রক্রিয়ার কারণে ভারতীয় ওষুধ এখন বিশ্বজুড়ে সহজলভ্য হয়েছে। ভারত ২০০-এরও বেশি দেশে ওষুধ এবং অন্যান্য ফার্মা পণ্য রফতানি করে। এর মূল্য ২৭.৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ক্ষেত্রে তামাম বিশ্বে ভারতের স্থান ১২ নম্বরে (India Afghanistan)।

    শাহবাজ শরিফের দেশের কপালে চিন্তার ভাঁজ

    ভারত ও আফগানিস্তানের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আবারও দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের স্বার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঘাত হেনেছে। একদিকে, সীমান্ত সংঘর্ষ ও বোমা হামলা বৃদ্ধি এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘনের কারণে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দিন দিন তলানিতে ঠেকছে। অন্যদিকে, ভূ-রাজনৈতিক প্রয়োজন মেটাতে আফগানিস্তান-ভারত সম্পর্ক বিকশিত হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের শিরঃপীড়ার কারণ। ফার্মাসিউটিক্যাল খাত সম্পর্কিত সাম্প্রতিক স্বাক্ষরিত মউ পাকিস্তানের পক্ষে একটি বড়সড় ধাক্কা।  কারণ নয়াদিল্লির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় কাবুল তার কোম্পানিগুলিকে পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে (Pharma MoU) এবং পাকিস্তানি সরবরাহকারীদের সঙ্গে ওষুধ ব্যবসা বাতিল করতে বলেছে। তালিবানও ফার্মা কোম্পানিগুলিকে তিন মাসের মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করার আলটিমেটাম দিয়েছে। এটিও ইসলামাবাদের পক্ষে একটি বড় ধাক্কা বই কি (India Afghanistan)!

  • India on Sheikh Hasina: “আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে”, হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে প্রথমবার প্রতিক্রিয়া ভারতের

    India on Sheikh Hasina: “আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে”, হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে প্রথমবার প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (India on Sheikh Hasina) নিয়ে বাংলাদেশের করা অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বুধবার বিদেশ-মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যার মধ্যে রয়েছে শান্তি,গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তি। বুধবার ভারত নিশ্চিত করেছে, যে ঢাকা থেকে পাঠানো শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তারা পেয়েছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আবেদন জানিয়ে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে কূটনৈতিক বার্তা পাঠায় ভারতকে। সেই বার্তার পর এই প্রথম সরকারি ভাবে প্রতিক্রিয়া দিল নয়াদিল্লি।

    হাসিনাকে ফেরত চেয়ে চিঠি

    ফাঁসির সাজা ঘোষণার পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (India on Sheikh Hasina) বাংলাদেশে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছিল সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক। সংশ্লিষ্ট চিঠিতে লেখা হয়েছিল, ভারতীয় হাইকমিশনার যেন দিল্লির বিদেশমন্ত্রকে চিঠিটি যথাসম্ভব পৌঁছে দেন। রবিবার সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর এবার এই নিয়ে প্রথম মুখ খুলল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, “হ্যাঁ আমাদের কাছে একটি অনুরোধ এসেছে। আর এই অনুরোধটি বিচারবিভাগীয় এবং আভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুরোটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও অর্থাৎ ২০২৪-এর ডিসেম্বরে বাংলাদেশ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে বার্তা দিয়েছিল। সে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরপরই ভারতে কূটনৈতিক বার্তা দেয় পড়শি বাংলাদেশ।

    হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড!

    সম্প্রতি, শেখ হাসিনা (India on Sheikh Hasina) ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশকর্তা আসাদুজ্জামান খানকে ফাঁসির সাজা শোনানো হয়। অন্য়দিকে পুলিশকর্তা রাজসাক্ষী হওয়ায় তাঁকে ৫ বছরের কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে বাংলাদেশের ট্রাইবুনাল। তবে, হাসিনা ও আসাদ্দুজামান বর্তমানে বাংলাদেশে নেই। হাসিনা রয়েছেন ভারতে। সেই কারণে হাসিনার জন্য চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। বস্তুত, ঢাকায় গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। দেশ ছেড়ে ভারতে এসে আশ্রয় নেন সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তারপর থেকে এখানেই রয়েছেন তিনি। ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনাকে গত সপ্তাহে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। অভিযোগ—গত বছর ছাত্র আন্দোলনের সময় তাঁর সরকারের কঠোর দমনপীড়ন “মানবতাবিরোধী অপরাধ”-এর পর্যায়ে পড়ে।

    চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার ভারতের

    জয়সওয়াল আরও বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভারত গঠনমূলকভাবে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।” বাংলাদেশের তরফে দাবি করা হয়েছে, আগের অনুরোধে ভারত “কোনও জবাব দেয়নি”, তবে বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়ে শেখ হাসিনার (India on Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষিত হওয়ায় পরিস্থিতি “ভিন্ন”, এবং এবার নয়াদিল্লির কাছ থেকে উত্তর প্রত্যাশিত। গত সপ্তাহে বিচারিক ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকারকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠায়। নয়াদিল্লি সেই বার্তার প্রাপ্তিস্বীকার করলেও তার ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা প্রকাশ করেনি।

  • Mumbai: ২৬/১১ হামলার ১৭ বছর পূর্ণ, সেদিন মুম্বইয়ে ঠিক কী ঘটেছিল? ফিরে দেখা

    Mumbai: ২৬/১১ হামলার ১৭ বছর পূর্ণ, সেদিন মুম্বইয়ে ঠিক কী ঘটেছিল? ফিরে দেখা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৭ বছর পূর্ণ হল পাক-মদতপুষ্ট লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-এর জঙ্গিদের দ্বারা ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বইয়ে (Mumbai) তাণ্ডব চালানোর। এই ঘটনা ঘটেছিল ২৬ নভেম্বর, ২০০৮ সালে। ঘটনাটি ২৬/১১ নামে পরিচিত। ওই জঙ্গি হামলায় ১০ জন জঙ্গির (Terror Attacks) একটি দল সারা দেশ এবং বিশ্বে তীব্র ধাক্কা দিয়েছিল। জঙ্গিরা ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে সমুদ্রপথে মুম্বই শহরে ঢুকেছিল। চার দিনের মধ্যে তারা শহরের ব্যস্ততম এলাকায় ১৬৬ জনকে হত্যা করেছিল, জখম করেছিল ৩০০ জনকে।

    হামলার টার্গেটস্থল (Mumbai)

    হামলার টার্গেটস্থলগুলি খুব সুচিন্তিতভাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যাতে সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি করা যায়। এর মধ্যে ছিল,  তাজ ও ওবেরয় হোটেল, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, নরিম্যান হাউজে অবস্থিত ইহুদি কেন্দ্র, কামা হাসপাতাল, মেট্রো সিনেমা এবং লিওপোল্ড ক্যাফে।  কারণ এই জায়গাগুলোয় বিদেশিরা এবং মুম্বইয়ের কর্মজীবী মানুষের প্রচুর জনসমাগম হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার রেখে যাওয়া ক্ষত আজও সেই সব মানুষকে তাড়া করে ফিরছে, যাঁরা সেই ভয়াবহ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। লিওপোল্ড ক্যাফে এবং নরিম্যান হাউজের গুলির দাগ, শহিদ সহকারী উপ-পরিদর্শক তুকারাম ওম্বলের স্মৃতির মূর্তি, যিনি একমাত্র জীবিত ধরা পড়া পাক জঙ্গি মহম্মদ আজমল আমির কাসভকে ধরতে গিয়ে প্রাণ বলি দিয়েছিলেন। দক্ষিণ মুম্বইয়ের এই রাস্তাগুলি আজও সেই নৃশংস জঙ্গি হামলার স্মৃতি জাগিয়ে রেখেছে (Terror Attacks)।

    লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি নিহত

    ন’জন লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি নিহত হয়েছিল, গ্রেফতার করা হয়েছিল কাসভকে। ২০১০ সালের মে মাসে কাসভকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দু’বছর পরে পুনের একটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা যুক্ত কারাগারে ফাঁসি দেওয়া (Mumbai) হয় কাসভকে। ২৬/১১ হামলা বিশেষ করে এই বছরের ১০ নভেম্বর দিল্লি বিস্ফোরণের পরিপ্রেক্ষিতে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়ে শেখা শিক্ষার একটি স্মারক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, এনএসজি মুম্বই আজ, বুধবার গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ায় ‘নেভারএভার’ থিমে একটি স্মরণসভা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজন করবে, ২৬/১১ হামলার শহিদ, জীবিত এবং সকল ভুক্তভোগীদের শ্রদ্ধা জানাতে। এই অনুষ্ঠানটি আমাদের সম্মিলিত সংকল্পকে পুনর্ব্যক্ত করে যে এমন কোনও ঘটনা আর কখনও ঘটতে দেওয়া যাবে না।

    বিশেষ স্মারক অঞ্চল

    জানা গিয়েছে, একটি বিশেষ স্মারক অঞ্চল তৈরি করা হবে যেখানে বীরদের এবং সকল শহিদদের ছবি ও নাম প্রদর্শিত হবে, ফুলেল শ্রদ্ধা এবং মোমবাতি জ্বালিয়ে সম্মান জানানো হবে এবং ‘লিভিং মেমরিয়াল’ নামে একটি নতুন ধারণা উপস্থাপন করা হবে, যা শ্রদ্ধা নিবেদনের মোমবাতির মোম দিয়ে তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়াও, মুম্বইয়ের ১১টি কলেজ এবং ২৬টি স্কুলে ‘নেভারএভার’ থিমের আওতায় শিক্ষার্থীদের শপথ গ্রহণ করানো হবে, যা শান্তি, সতর্কতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি তরুণ প্রজন্মের অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করবে (Mumbai)।

    গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া

    এদিন রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া সাজানো হবে তিরঙ্গা রঙের আলোয়। সেখানেও আলোকিত (Terror Attacks) হয়ে থাকবে ‘নেভারএভার’ শব্দটি। এদিকে, এনআইএ (NIA) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কাছে ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূল ষড়যন্ত্রী তাহাউর রানা-সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে নতুন করে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। সূত্রের খবর, এটি করা হয়েছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি (MLAT) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অক্টোবর মাসে। রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের পর তার জিজ্ঞাসাবাদের কয়েক মাস পর এই অতিরিক্ত প্রশ্নগুলি তোলা হয়েছে, যা ২০০৮ সালের মুম্বই জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র তদন্তে আরও অগ্রগতি আনতে সাহায্য করতে পারে।

    জঙ্গিদের নিকেশ অভিযান

    সেদিন জঙ্গিদের নিকেশ করতে ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চালানো হয়েছিল অপারেশন (Mumbai)। অপারেশনে যোগ দিয়েছিল এনএসজি কমান্ডো, মেরিন কমান্ডো এবং পুলিশ। সেই দৃশ্যের লাইভ টেলিকাস্ট দেখেছিল তামাম বিশ্ব। বুধবার মুম্বই হামলার ১৭ বছর পূর্তিতে ট্যুইট করেছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “২৬/১১-এর ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় শহিদ সকল সাহসী সেনা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। দেশ তাঁদের সাহস এবং ত্যাগের কথা কোনও দিনও ভুলবে না।” এত বছর পেরিয়ে গেলেও (Terror Attacks) আজও অধরা মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ডরা। একইভাবে আজও খোলা হাওয়ায় ছড়িয়ে রয়েছে সন্ত্রাসবাদের সেই আতঙ্ক। প্রতিটি ২৬/১১ যেন সেই আতঙ্ককে আরও একবার মনে করিয়ে দিয়ে যায় (Mumbai)।

  • India vs South Africa: রোহিত-কোহলি-অশ্বিনের অভাব বুঝছেন গম্ভীর! দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪০৮ রানে হার ভারতের

    India vs South Africa: রোহিত-কোহলি-অশ্বিনের অভাব বুঝছেন গম্ভীর! দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪০৮ রানে হার ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রোহিত, কোহলি এবং অশ্বিন দীর্ঘ দিন ভারতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। দেশের মাটিতে একের পর এক সাফল্য দিয়েছেন দলকে। এই তিন জনের অভাব যে পূরণ করা যায়নি তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার (India vs South Africa) কাছে হারের পর। এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে গম্ভীর বলেন, “এই হারের দায় সকলের। তবে শুরুটা আমাকে দিয়েই হবে। আসলে এটাই হল রূপান্তরের (ট্রানজিশন) শুরু। আপনাকে সময় দিতেই হবে।” উদাহরণ হিসাবে গম্ভীর তুলে ধরেছেন ওয়াশিংটন সুন্দরের কথা। তিনি বলেছেন, “আমরা ওয়াশিংটনকে যতটা বেশি সম্ভব সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি। আপনি যদি ভাবেন ১০০-র বেশি টেস্ট খেলা অশ্বিনের মতো খেলে দেবে ওয়াশিংটন, তা হলে তরুণ ছেলেটার উপরে অবিচার করা হবে। এটা নিয়ে আপনাদেরও ভাবা উচিত। সবে ১০-১২-১৫টা টেস্ট খেলেছে ওরা। এখনও শেখার অনেক জায়গা রয়েছে। বিভিন্ন পরিস্থিতি, বিভিন্ন পরিবেশে বল করা শিখছে।”

    ক্রিকেটারদের সময় দেওয়া দরকার

    এর পরেই গম্ভীর বলেছেন, “এত বেশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে একসঙ্গে হারালে সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। এই জন্যই এটাকে রূপান্তর বলছি। এই ক্রিকেটারদের সময় দেওয়া দরকার। আমার মনে হয় না আগে কখনও একই সঙ্গে ব্যাটিং এবং বোলিং দুই বিভাগেই রূপান্তর হয়েছে বলে। আগে ব্যাটিং বিভাগ ভালো থাকত। বোলিং বিভাগে রূপান্তর হত। অথবা উল্টোটা। এই দলে পুরোটাই নতুন করে তৈরি হচ্ছে। সকলের এটা বোঝা উচিত, এই দলে যারা বসে আছে তাদের সেই যোগ্যতা এবং দক্ষতা রয়েছে। আমরা সকলেই টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা দেখতে চাই। সেটার জন্য অভিজ্ঞতা দরকার। এর পর যখন ওরা কঠিন পরিবেশে গিয়ে খেলবে, ঠিক কাজের কাজ করে দেবে।”

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকা

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকাতেও লজ্জার মুখে পড়ল ভারত। পাঁচ নম্বরে নেমে গেল ভারত। ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করে দক্ষিণ আফ্রিকা দুই নম্বরে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল। তারা চারটি টেস্ট খেলে তিনটিতেই জিতেছে। একটিতে হেরেছে। তাদের শতকরা পয়েন্ট এখন ৭৫.০০। শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। তারা চারটি টেস্ট খেলে চারটিতেই জিতেছে। তাদের শতকরা পয়েন্ট ১০০। বুধবার গুয়াহাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে দ্বিতীয় টেস্টে ৪০৮ রানে হেরে গেল ভারত। গুয়াহাটি টেস্টে ভারতের সামনে লক্ষ্য ছিল ৫৪৯ রানের। ভারত হেরেছে ৪০৮ রানে। টেস্ট ক্রিকেটে রানের নিরিখে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ ব্যবধানে হার। আগের রেকর্ডটি ছিল ২০০৪ সালের। সে বার নাগপুরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩৪২ রানে হেরেছিল তারা। জেসন গিলেসপি এবং গ্লেন ম্যাকগ্রার বোলিংয়ের সামনে দুই ইনিংসেই গুটিয়ে গিয়েছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে সাড়ে ৩ দিনেই শেষ গম্ভীরের ভারত। ৪০৮ রানে গুয়াহাটি টেস্টে হারতে হল ভারতকে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪০ রানে গুটিয়ে গেল ভারত।

  • Randhir Jaiswal: “অরুণাচল প্রদেশ সব সময়ই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ”, চিনা দাবি উড়িয়ে ফের জানিয়ে দিল ভারত

    Randhir Jaiswal: “অরুণাচল প্রদেশ সব সময়ই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ”, চিনা দাবি উড়িয়ে ফের জানিয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশ সব সময়ই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং চিন একে বারবার অস্বীকার করলেও কখনও এই সত্য বদলাতে পারবে না। মঙ্গলবার চিনের সাংহাই বিমানবন্দরে হয়রানি করা হয় এক ভারতীয় মহিলাকে। তিনি আদতে অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা হলেও, কর্মসূত্রে থাকেন ব্রিটেনে। সেখান (Randhir Jaiswal) থেকে জাপানে যাওয়ার পথে সাংহাই বিমানবন্দরে (Shanghai Airport) তাঁকে প্রায় ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে বেজিং। যদিও ফের একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে তাদের অবস্থান। জানিয়ে দিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের দ্বারা বেআইনিভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজ্য।

    রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য (Randhir Jaiswal)

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের দেওয়া বিবৃতি দেখেছি, যা একজন ভারতীয় নাগরিককে অযৌক্তিকভাবে আটক করার বিষয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই মহিলা অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা। তাঁর বৈধ পাসপোর্ট ছিল এবং তিনি জাপানে যাওয়ার পথে সাংহাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ট্রানজিট করছিলেন।” তিনি বলেন, “অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য এবং অখণ্ড অংশ – এটি একটি স্বয়ংস্পষ্ট সত্য। চিনের পক্ষ থেকে যতই অস্বীকার করা হোক না কেন, এই অখণ্ড বাস্তবতা পরিবর্তিত হবে না।”

    ভিসা-মুক্ত ট্রানজিটের অনুমতি

    তিনি জানান,  ভারত ওই মহিলাকে আটক করার বিষয়ে চিনের কাছে (Randhir Jaiswal) জোরালোভাবে বিষয়টি উত্থাপন করেছে। জয়সওয়ালের মতে, চিন এখনও পর্যন্ত তাদের এই পদক্ষেপের কোনও কারণ জানায়নি। এটি আন্তর্জাতিক বিমান যাত্রা সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়মের বিরোধী। তিনি মনে করিয়ে দেন, চিনের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী সব দেশের যাত্রীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিসা-মুক্ত ট্রানজিটের অনুমতি দেওয়া হয়, এবং এ ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম মানা হয়নি।

    প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সাংহাই বিমান বন্দরে ট্রানজিট করার সময় পেমা ওয়াংজম থংডক নামের অরুণাচল প্রদেশের এক মহিলাকে আটকে দেওয়া হয়। তাঁর কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও (Randhir Jaiswal), আটকানো হয় তাঁকে। বিমানবন্দরে যেসব চিনা আধিকারিক ছিলেন, তাঁরা পেমাকে বলেছিলেন, তাঁর কাছে রয়েছে ভারতের পাসপোর্ট, চিনের নয়। কারণ অরুণাচল প্রদেশ চিনের অংশ। এর (Shanghai Airport) পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া দেয় ভারত। সাফ জানিয়ে দেয় নয়াদিল্লির অবস্থান।

  • Arunachal Pradesh: অরুণাচল প্রদেশ চিনের অংশ! ভারতীয় মহিলাকে হেনস্থা, কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    Arunachal Pradesh: অরুণাচল প্রদেশ চিনের অংশ! ভারতীয় মহিলাকে হেনস্থা, কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh) চিনের অংশ। এই দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে ড্রাগনের দেশ। তবে শি জিনপিংয়ের দেশের সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে অরুণাচল প্রদেশ ভারতেরই ছিল, আছে এবং থাকবেও (Shanghai Airport)। তবে ভারত এবং চিনের এই দোটানার মধ্যে পড়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হল অরুণাচল প্রদেশের এই মহিলাকে।

    ১৮ ঘণ্টা আটকে, কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (Arunachal Pradesh)

    আদতে অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা ওই মহিলা বর্তমানে থাকেন ব্রিটেনে। ২১ নভেম্বর সাংহাই পুডং বিমানবন্দরে তাঁকে প্রায় ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। ওই মহিলার নাম প্রেমা ওয়াংজম থংডক। বিমানবন্দরে থাকা কয়েকজন চিনা আধিকারিক দাবি করেন, তাঁর পাসপোর্টটি ভারতীয়। জন্মস্থান হিসেবে উল্লেখ রয়েছে অরুণাচল প্রদেশের। ওই আধিকারিকরা জানান, এটি অবৈধ। কারণ ওই প্রদেশ চিনের অংশ। খবরটি দ্রুত পৌঁছে যায় ভারতীয় কর্তাদের কানে। সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তাঁরা। তীব্র প্রতিবাদ জানান চিনা কর্তৃপক্ষের কাছে। সাংহাইয়ে অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেটও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি উত্থাপন করে এবং প্রেমাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য দেয়।

    অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা

    প্রেমা অরুণাচল প্রদেশের পশ্চিম কামেং জেলার রূপা এলাকার বাসিন্দা। গত ১৪ বছর ধরে কর্মসূত্রে ব্রিটেনে বসবাস করছেন তিনি। ঘটনার দিন লন্ডন থেকে জাপানে যাচ্ছিলেন তিনি (Arunachal Pradesh)। এর মধ্যে সাংহাই পুডং বিমানবন্দরে তিন ঘণ্টার ট্রানজিট ছিল। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই মহিলা জানান, নিরাপত্তা তল্লাশির সময় চিনা ইমিগ্রেশনের এক আধিকারিক তাঁকে (Shanghai Airport) আলাদা করে ডেকে নেন। তিনি যখন তাঁকে আটকে রাখার কারণ জানতে চান, তখন ওই আধিকারিক জানান যে তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট ‘অবৈধ’। কারণ অরুণাচল প্রদেশ চিনের অংশ। প্রেমা বলেন, “আমি যখন তাঁদের প্রশ্ন করতে চেষ্টা করলাম এবং জানতে চাইলাম সমস্যাটা কী, তাঁরা বললেন, ‘অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অংশ নয়’। তাঁরা আমায় উপহাস করতে শুরু করল। তাঁরা বলতে লাগল, ‘তোমার চিনা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা উচিত। তুমি চিনা, ভারতীয় নও’”। তিনি বলেন, “এর আগে আমি কোনও সমস্যা ছাড়াই সাংহাই হয়ে ট্রানজিট করেছি। আমি অনেকক্ষণ আমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, পারিনি।” ভারতীয় ওই মহিলা বলেন, “লন্ডন থেকে ১২ ঘণ্টা ভ্রমণ করার পর আমায় ১৮ ঘণ্টা বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয় (Arunachal Pradesh)। তারা আমার পাসপোর্ট নিয়ে নেয় এবং আমায় বের হতে দেয়নি। আমি খাবারও পাইনি। চিনে গুগল নেই, তাই কোনও তথ্যও পেতে পারছিলাম না। তারা আমায় জাপানে যেতে দিতে অস্বীকার করেছিল। যদিও আমার বৈধ জাপানি ভিসা ছিল। তারা জোর করে বলে যে আমায় হয় ব্রিটেনে ফিরে যেতে হবে, নয়তো ভারতে যেতে হবে।”

    ওঁদের আচরণ অত্যন্ত অপমানজনক

    প্রেমা বলেন, “ওঁদের আচরণ ছিল অত্যন্ত অপমানজনক এবং সন্দেহজনক, ইমিগ্রেশন স্টাফদের যেমন, তেমনই আচরণ করেছেন এয়ারলাইন স্টাফরাও। আমি সাংহাই এবং বেজিংয়ের ভারতীয় দূতাবাসে ফোন করি। এক ঘণ্টার মধ্যেই (Shanghai Airport) ভারতীয় কর্তারা বিমানবন্দরে এসে আমায় কিছু খাবার দেন। তাঁদের সঙ্গে সমস্যাগুলি নিয়ে কথা বলেন এবং আমায় দেশ থেকে বের হতে সাহায্য করেন। এটি ছিল দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার একটা লড়াই। কিন্তু আমি এখন খুশি যে এখন আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি (Arunachal Pradesh)।”

    ত্রাতার ভূমিকায় ভারতীয় কর্তারা

    জানা গিয়েছে, বিমানবন্দরে বেশ কয়েক ঘণ্টা আটকে থাকার পর প্রেমা একটি ফোন এবং তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের দাবি জানান। শেষ পর্যন্ত তিনি ব্রিটেনে থাকা তাঁর বন্ধুদের ফোন করেন। তাঁরা তাঁকে সাংহাইয়ের ভারতীয় কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করাতে সাহায্য করেন। ভারতীয় কনস্যুলেটের কর্তারা এক ঘণ্টার মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছন এবং তাঁকে সেই পরিস্থিতি থেকে বের হতে সাহায্য করেন। অরুণাচল প্রদেশের ওই মহিলা বলেন, “আমি কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরে, সেখান থেকে ছ’জন কর্তা এক ঘণ্টার মধ্যেই বিমানবন্দরে এসে আমায় খাবার দেন। তাঁরা চেষ্টা করেছিলেন যেন আমায় জাপানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু চিনা আধিকারিকরা তা কোনওভাবেই মানেনি। তাঁরা জোর করেছিলেন যে আমি যেন শুধু চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের মাধ্যমেই দেশ ছাড়ার টিকিট বুক করি। শেষ পর্যন্ত আমি তাইল্যান্ডে ট্রানজিট-সহ ভারতের ফ্লাইট বুক করি, এবং এখন তাইল্যান্ডেই থেকে কাজ করছি।” প্রেমা বলেন, “অনেক বছর ব্রিটেনে থাকার পরেও আমি আমার ভারতীয় পাসপোর্ট (Shanghai Airport) ছাড়িনি। কারণ আমি আমার দেশকে ভালোবাসি এবং নিজের দেশেই বিদেশি হতে চাই না (Arunachal Pradesh)।”

  • Rajnath Singh: “সিন্ধু অঞ্চল একদিন ফের ভারতের ঘরে ফিরে আসতে পারে”, বললেন রাজনাথ

    Rajnath Singh: “সিন্ধু অঞ্চল একদিন ফের ভারতের ঘরে ফিরে আসতে পারে”, বললেন রাজনাথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সিন্ধু (Sindh) অঞ্চল আজ ভারতের সঙ্গে নেই, কিন্তু সীমান্ত বদলাতে পারে এবং একদিন এই অঞ্চল ফের ভারতের ঘরে ফিরে আসতে পারে।” রবিবার নয়াদিল্লতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অন্তত এমনই বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সিন্ধুপ্রদেশ (Rajnath Singh) অর্থাৎ সিন্ধু নদের আশপাশের অঞ্চল ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তানের অংশ হয়ে যায়। ওই অঞ্চলে বসবাসকারী সিন্ধি জনগণের একটা বড় অংশই ভারতে চলে আসেন। একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “সিন্ধি হিন্দুরা, বিশেষ করে এলকে আডবাণীর মতো নেতাদের প্রজন্মের মানুষ, সিন্ধু অঞ্চলের ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াটা কখনওই মেনে নেননি।”

    কী বললেন রাজনাথ (Rajnath Singh)

    তিনি বলেন, “লালকৃষ্ণ আডবাণী তাঁর বইগুলির একটিতে লিখেছিলেন, সিন্ধি হিন্দুরা, বিশেষত তাঁর প্রজন্মের মানুষ, এখনও পর্যন্ত সিন্ধুর ভারত থেকে আলাদা হয়ে যাওয়াটা মেনে নিতে পারেননি।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “শুধু সিন্ধুতেই নয়, সমগ্র ভারতে হিন্দুরা সিন্ধু নদকে পবিত্র বলে মনে করেন। সিন্ধুর অনেক মুসলমানও বিশ্বাস করেন যে সিন্ধ নদের জল মক্কার জমজম জলের মতোই পবিত্র। এটি আডবাণীজির উদ্ধৃতি।” রাজনাথ বলেন, “আজ সিন্ধুর ভূমি ভারতের অংশ না হলেও, সভ্যতার দৃষ্টিতে সিন্ধু চিরকালই ভারতের অংশ থাকবে। আর ভূমির ব্যাপারে বলতে গেলে, সীমান্ত বদলাতে পারে। কে জানে, আগামী দিনে সিন্ধু আবার ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে কি না। আমাদের সিন্ধুর মানুষ, যাঁরা সিন্ধু নদকে পবিত্র মনে করেন, তাঁরা সর্বদাই আমাদের আপনজন। তাঁরা যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁরা আমাদেরই থাকবেন।”

    প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে আলাপচারিতা

    প্রসঙ্গত, ২২ সেপ্টেম্বর মরোক্কোয় প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় রাজনাথ বলেন, “আমি আশাবাদী যে ভারতের কোনও আগ্রাসী পদক্ষেপ না নিয়ে পিওকে ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে। কারণ সেখানকার বাসিন্দারা দখলদারদের হাত থেকে মুক্তি দাবি করছেন।” তিনি বলেন, “পিওকে নিজেই আমাদের হবে। পিওকে দাবির সূচনা শুরু হয়ে গেছে, নিশ্চয়ই স্লোগান দিতেও শুনেছেন (Sindh)।” প্রসঙ্গত, বহুবার পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতে ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নানা সময় একই দাবি জানিয়েছেন, অমিত শাহ, রাজনাথ সিংয়ের মতো বিজেপির শীর্ষ নেতারা। এবার এবার পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ ভারতে ফেরানোর দাবি জানালেন রাজনাথ। এদিন সিন্ধি সম্প্রদায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “২০১৭ সালে তৎকালীন দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন লালকৃষ্ণ আডবাণী। সেই সময় দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি বিশ্বাস করি যে, সিন্ধু ছাড়া ভারত অসম্পূর্ণ (Rajnath Singh)।”

    “আমার জন্মস্থান আর ভারতের অংশ নয়”

    উল্লেখ্য, ১৯২৭ সারের ৮ নভেম্বর সিন্ধুপ্রদেশের (বর্তমানে পাকিস্তানে) রাজধানী করাচিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আডবাণী। পরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “আমার জন্মস্থান আর ভারতের অংশ নয়।” এদিন সেই প্রসঙ্গের অবতারণা করে রাজনাথ বলেন, “দেশভাগের পর সিন্ধু নদের একটি বড় অংশ পাকিস্তানে চলে যায় (Sindh)। সমগ্র সিন্ধুপ্রদেশ পাকিস্তানের অংশ হয়ে যায়।” এর পরেই তিনি বলেন, “কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, আমাদের কাছে সিন্ধু নদ, সিন্ধু অঞ্চল এবং সিন্ধিদের গুরুত্ব কমে গিয়েছে। এটি এখনও হাজার হাজার বছর আগের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “সিন্ধু শব্দটি ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সিন্ধি সম্প্রদায়ের সঙ্গে জড়িত।” জাতীয় সঙ্গীতের কথা উল্লেখ করে রাজনাথ বলেন, “আজও মানুষ গর্বের সঙ্গে পঞ্জাব, গুজরাট, মারাঠা গান গায়। তারা এই গান গাইতে থাকবে এবং চিরকাল গাইবে। যতক্ষণ আমরা বেঁচে আছি, ততক্ষণ গাইব (Rajnath Singh)।”

    পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া

    এদিকে, পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, ‘এই ধরনের মন্তব্য হিন্দুত্ববাদী মানসিকতার প্রকাশ এবং তা প্রতিষ্ঠিত বাস্তবকে চ্যালেঞ্জ করে। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরোধী।’ এই ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে ভারতকে অনুরোধ করেছে পাকিস্তান (Sindh)। রাজনাথের এহেন মন্তব্য ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। বলেছে, যে সিন্ধু ১৯৪৭ সাল থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অবিচ্ছেদ্য প্রদেশ। এটি পাকিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম প্রদেশ এবং এর রাজধানী করাচি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। পাকিস্তানের মতে, সিন্ধুর ভারতে যোগদানের কথা বলা কেবল এই অঞ্চলে উত্তেজনা উসকে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা এবং যে কোনও মূল্যে এটি এড়ানো উচিত (Rajnath Singh)।

  • INDI Block: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরতেই অশান্তি শুরু ‘ইন্ডি’ জোটের অন্দরে

    INDI Block: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরতেই অশান্তি শুরু ‘ইন্ডি’ জোটের অন্দরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল (Bihar Assembly Polls Result) বেরনোর পর অশান্তি শুরু হয়েছিল ‘ইন্ডি’ জোটের (INDI Alliance) অন্দরে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই চওড়া হচ্ছে জোটের ফাটল। বিহারে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে বিজেপি বিরোধী ২৬টি রাজনৈতিক দলের জোট ‘ইন্ডি’র। তারপরেই প্রকাশ্যে চলে এসেছে দলীয় কোন্দল। ‘ইন্ডি’র একাধিক শরিক দল এবং আঞ্চলিক সহযোগীরা প্রকাশ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বের কৌশল, নেতৃত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। যার জেরে অচিরেই এই জোট ছেড়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দল বেরিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

     ‘ইন্ডি’ জোটে ফাটল (INDI Alliance)

    ২৪৩টি আসন বিশিষ্ট বিহার বিধানসভায় বিজেপি একাই ১০১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছে ৮৯টি আসন। এনডিএর আর এক শরিক জেডি(ইউ)-ও ১০১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছে ৮৫টি আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে মাত্র ৩৫টি কেন্দ্রের রাশ। তার পরে পরেই কংগ্রেসকে তুলোধনা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল। ‘ইন্ডি’ জোটে ফাটল দেখা গিয়েছিল ভোটের আগেই। বিহারে আসন বিলি নিয়ে জোট থেকে সরে এসেছিল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। তাদের অভিযোগ, আলোচনায় তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে এবং আগের বৈঠকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলিও মানা হয়নি। জেএমএম নেতাদের মতে, বিহারের ঘটনা একটি বড় সমস্যার প্রতিফলন, আঞ্চলিক মিত্রদের ছোট অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে, সমান অংশীদার হিসেবে নয়। এখন দলটি ভবিষ্যতে যৌথ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করছে। কারণ এর মধ্যে ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিও অন্তর্ভুক্ত (Bihar Assembly Polls Result)।

    ‘ইন্ডি’ জোট পরাস্ত

    বিহারে ‘ইন্ডি’ জোট পরাস্ত হওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে শিবসেনার উদ্ধব গোষ্ঠীও। তারা একে বিরোধী শিবিরের জন্য একটি সতর্কবার্তা বলে উল্লেখ করেছে। দলের শীর্ষ নেতারা শুধু নির্বাচনী কৌশল নয়, ‘ইন্ডি’ জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন (INDI Alliance)।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যস্তরের কংগ্রেস ইউনিটগুলির একতরফা সিদ্ধান্ত,  যার মধ্যে বেশ কিছু আসনে একা লড়াই করা, যৌথ কৌশলকে দুর্বল করেছে। ইউবিটি নেতৃত্বের মতে, বড় দলগুলি যদি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা না করে, তাহলে ‘ইন্ডি’ জোট মসৃণভাবে চলতে পারবে না।

    সমাজবাদী পার্টির সাফ কথা

    এদিকে, সমাজবাদী পার্টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, জোটের জন্য এখনই বড় ধরনের সংশোধন জরুরি। এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব বিহারে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের কথা তুলে ধরে জোটকে এই মর্মে সতর্ক করেছেন যে, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও ভবিষ্যতের লড়াইকে ব্যাহত করতে দেওয়া যাবে না। ‘ইন্ডি’ জোটের অনেক শরিকই এখন বিকেন্দ্রীকৃত নেতৃত্ব মডেলের সপক্ষে কথা বলতে শুরু করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, যেখানে আঞ্চলিক দলগুলি, বিশেষ করে যাদের রাজ্যে শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে, তারা জাতীয় কৌশলে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে। এই আলোচনায় এসপি একটি প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে (INDI Alliance)।

    আপ-থিওরি

    এরই পাশাপাশি আম আদমি পার্টির একক লড়াইয়ের সিদ্ধান্তকেও সমর্থন করছেন অনেকে। আম আদমি পার্টি ‘ইন্ডি’ জোটেই ছিল। তবে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে আলাদাভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে জোটের কাঠামোগত দুর্বলতা বলেই ধরে নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আপ নেতাদের মতে, রাজ্যস্তরের বিস্তার কোনওভাবেই একটি ঢিলেঢালা জাতীয় প্ল্যাটফর্মের স্বার্থে বিসর্জন দেওয়া যায় না। দলের স্বশাসনের ওপর জোর এখন এমন একটি রূপরেখা হয়ে উঠছে, যা ‘ইন্ডি’ জোট যদি সমন্বয় ও আসন-সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলির সমাধান না করে, তবে অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্ররাও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারে (Bihar Assembly Polls Result)।

    কংগ্রেসের লড়াই

    বস্তুত, বিহারে কংগ্রেসের লড়াই ছিল ভাবমূর্তির। তাই ওই নির্বাচনে কংগ্রেস গোহারা হারতেই অস্বস্তিকর প্রশ্ন উঠেছে জোটের ভেতরেই। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করছেন যে একটি বড় হিন্দিভাষী রাজ্যে দুর্বল পারফরম্যান্স আসন-বিন্যাস নিয়ে আগাম সমঝোতায় তাদের দরকষাকষির শক্তি কমিয়ে দিচ্ছে। অনেক শরিক দল আবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জোট টিকিয়ে রাখতে হলে কংগ্রেসকে সংগঠনিক পদ্ধতি, নির্বাচন পরিচালনা ও প্রার্থী নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যদের মতে, স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ছাড়া জাতীয় জোট কোনওভাবেই সফল হতে পারে না (INDI Alliance)।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘ইন্ডি’ জোট এখন একটি বড় সমস্যার মুখোমুখি। এই পরিস্থিতি সামলাতে দ্রুত যোগাযোগ, আস্থাবর্ধক উদ্যোগ এবং আসন-বিলি নিয়ে সুস্পষ্ট একটা নীতির ভীষণ প্রয়োজন। দীর্ঘ মেয়াদে জোটকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আঞ্চলিক দলগুলির শক্তিকে প্রতিফলিত করে নিজেদের কাঠামো পুনর্গঠন করতে তারা প্রস্তুত কি না (Bihar Assembly Polls Result)।

  • RSS: “আরএসএসের মতো সংগঠন আর দ্বিতীয়টি নেই”, মণিপুরে দাঁড়িয়ে বললেন ভাগবত

    RSS: “আরএসএসের মতো সংগঠন আর দ্বিতীয়টি নেই”, মণিপুরে দাঁড়িয়ে বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আরএসএসের (RSS) মতো সংগঠন আর দ্বিতীয়টি নেই। যেমন সমুদ্র, আকাশ, মহাসাগরের তুলনা নেই, তেমনি সংঘেরও নেই।” মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে দাঁড়িয়ে কথাগুলি বললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। মণিপুর সফরের প্রথম দিনে ইম্ফলে বিশিষ্টজনেদের এক সমাবেশে ভাষণ দেন তিনি। নিজের বক্তব্যে ভাগবত সংঘের সভ্যতাগত ভূমিকা, জাতীয় দায়িত্ব এবং শান্তিপূর্ণ ও দৃঢ় মণিপুর গঠনের জন্য যেসব চেষ্টা চলছে, সে কথাও তুলে ধরেন। ভাগবত বলেন, “সংঘ প্রতিদিনই দেশব্যাপী আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এর অনেকটাই ধারণা ও প্রচারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।”

    আরএসএস (RSS)

    এর পরেই সরসংঘচালক বলেন, “আরএসএসের মতো সংগঠন আর নেই। যেমন সমুদ্র, আকাশ, মহাসাগরের তুলনা নেই, তেমনি সংঘেরও নেই। সংঘ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠেছে এবং প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পরে এর কর্মপদ্ধতি দৃঢ়ভাবে স্থির করা হয়। সংঘকে বোঝার জন্য শাখায় যেতে হয়। সংঘের লক্ষ্য সমাজে কোনও ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরি করা নয়, বরং বিরোধীদেরও অন্তর্ভুক্ত করে সমগ্র হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করা।” তিনি জানান, ১৯৩২–৩৩ সাল থেকেই আরএসএসকে (RSS) নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য প্রচার করা শুরু হয়, বিশেষত ভারতের বাইরে থেকে, যেখানে ভারতের সভ্যতাগত চরিত্র সম্পর্কে কোনও ধারণা ছিল না। তিনি সত্যের ভিত্তিতে সংঘকে বোঝার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “হেডগেওয়ার ছিলেন একজন মেধাবী ছাত্র, জন্মগত দেশপ্রেমিক এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের সকল ধারায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।”

    সংঘ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা

    তিনি বলেন, “সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও গুণগতভাবে উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই হেডগেওয়ার সংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সংঘ মানুষ গড়ার একটি পদ্ধতি।” মানুষকে শাখা ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘকে বোঝার আহ্বান জানান তিনি। ভাবগত বলেন, “হিন্দু শব্দটি কোনও ধর্মীয় পরিচয় নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত (RSS) শব্দ। হিন্দু একটি বিশেষণ, বিশেষ্য নয়।” তিনি বলেন, “একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের জন্য গুণমান ও ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রের উন্নতি কেবল নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য দরকার শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ একটা সমাজের (Mohan Bhagwat)।” হিন্দু ভাবনার অন্তর্ভুক্তির উদাহরণ হিসেবে ভাগবত শাস্ত্রের একটি বচন উদ্ধৃত করে বলেন, “একং সদ্‌ বিপ্রাঃ বহুধা বদন্তি। সত্য, করুণা, পবিত্রতা ও তপস্যাই ধর্মের সারসত্তা।” তিনি বলেন, “বৈচিত্র্য কোনও মিথ নয়। বৈচিত্র্য সমাজের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের প্রকাশ (RSS)।”

    ভারতের প্রাচীন রাষ্ট্রভাবনা

    ভারতের প্রাচীন রাষ্ট্রভাবনা সম্পর্কে সরসংঘচালক বলেন, “ভারত পশ্চিমী রাষ্ট্রব্যবস্থার অনুসরণে গঠিত হয়নি। এটি আবির্ভূত হয়েছে মানবকল্যাণের জন্য প্রাচীন ঋষিদের তপস্যার ফল হিসেবে। বসুধৈব কুটুম্বকম প্রাচীন হিন্দু দর্শনের বিশ্বজনীন মানবিকতার প্রতিফলন (Mohan Bhagwat)।” এদিনের সভায় সরসংঘচালক একজোট হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজ যত শক্তিশালী হবে, বিশ্ব আমাদের কথা তত শুনবে। দুর্বলদের কথা কেউ শোনে না। সংঘের লক্ষ্য হল শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল হিন্দু সমাজ গঠনের জন্য সক্ষম ব্যক্তিদের প্রস্তুত করা (RSS)।” ভাগবত বলেন, “আরএসএস নিজের মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য কাজ করে না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তেরা বৈভব অমর রহে মা, হম দিন চার রহে না রহে। একথা আমাদের গুরুরাই বলেছেন।”

    পঞ্চ পরিবর্তন

    আরএসএসের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে যে পঞ্চ পরিবর্তন চলছে, এদিন সেই উদ্যোগগুলির কথাও উল্লেখ করেন ভাগবত। তিনি বলেন, “এই পঞ্চ পরিবর্তন (Mohan Bhagwat) হল, সামাজিক সমরসতা (সামাজিক ঐক্য), কুটুম্ব প্রবর্তন (পারিবারিক জাগরণ), প্রয়াভরণ সংরক্ষণ (পরিবেশ রক্ষা), স্ববোধ (স্বদেশি ভাবনা ও আত্মপরিচয় শক্তিশালী করা) এবং নাগরিক কর্তব্য। আরএসএস প্রধান মণিপুরের শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন, বিশেষত উৎসব-অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা ও মাতৃভাষা ব্যবহারের। এগুলিকে আরও সুদৃঢ় করার পরামর্শও দেন তিনি (RSS)।

    ভাগবতের বক্তব্য

    মণিপুরের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, “সমাজ ও সম্প্রদায়স্তরে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ধ্বংস কয়েক মিনিটে হয়, কিন্তু নির্মাণে লাগে বহু বছর, বিশেষত সেটি যদি আবার সকলকে সঙ্গে নিয়ে এবং কাউকে আঘাত না দিয়ে করতে হয়। শান্তি স্থাপনে ধৈর্য, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রয়োজন।” তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব কিছু সরকারের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না, সমাজের দায়িত্বও বিশাল। স্বনির্ভর সমাজ গড়তে হবে, তবেই স্বনির্ভর ভারত সম্ভব। সংঘ সবসময় শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তির ওপর জোর দেয়।” দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন ভাগবত। তিনি বলেন, “একটি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী সমাজ গঠনের জন্য দক্ষতা (Mohan Bhagwat) উন্নয়ন ভীষণ প্রয়োজন। ভাবগত বলেন, “সজ্জন শক্তির দ্বারা সম্পূর্ণ সমাজ গঠন করাও প্রয়োজন (RSS)।”

LinkedIn
Share