Tag: India

India

  • India vs Brazil: ভারত-ব্রাজিল মহারণে মাঠে মুখ্যমন্ত্রী! তিন স্তরের তল্লাশি, ৩০০-র বেশি সিসিটিভি-তে নজরদারি

    India vs Brazil: ভারত-ব্রাজিল মহারণে মাঠে মুখ্যমন্ত্রী! তিন স্তরের তল্লাশি, ৩০০-র বেশি সিসিটিভি-তে নজরদারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল (India vs Brazil) ফুটবল দলের মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উত্তেজনায় ফুটছেন ফুটবলপ্রেমীরা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারত-ব্রাজিল আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ দেখতে যাবেন। শুক্রবার আলিপুরদুয়ারে বন দফতরের একটি অনুষ্ঠানে তিনি নিজেই এ কথা জানান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এই ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা। এই ম্যাচকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ম্যাচ দেখতে বিপুল দর্শক সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় প্রায় ২ হাজার পুলিশকর্মী এবং ৪০০-র বেশি সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে বিধাননগর পুলিশ।

    স্টেডিয়ামে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    ভারতীয় মাটিতে দুই দেশের সিনিয়র পুরুষ দলের এটাই প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ হওয়ায় ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমি বাঙালিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল বর্তমানে পঞ্চম স্থানে রয়েছে, অন্যদিকে ভারত রয়েছে ১৩৮ নম্বরে। ম্যাচকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সল্টলেক স্টেডিয়াম এবং কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের জায়গাগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দর্শকদের বিপুল ভিড়ের কথা মাথায় রেখে যান চলাচল ও প্রবেশপথ নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আগে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজনের জন্য সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে রাজ্য সরকারের তরফে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার নিজেই স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে ঐতিহাসিক এই ম্যাচ দেখার কথা জানালেন তিনি।

    জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    শনিবার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ব্রাজিল ও ভারতের ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ম্যাচ দেখতে বিপুল দর্শক সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় প্রায় ২ হাজার পুলিশকর্মী এবং ৪০০-র বেশি সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে বিধাননগর পুলিশ। শহরে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ফুটবল ম্যাচ হিসেবে এই ম্যাচকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দর্শকদের ভিড় এড়াতে বিকেল ৫টার মধ্যে স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। দর্শকদের প্রবেশের জন্য আলাদা আলাদা গেট ও চ্যানেল নির্দিষ্ট করা হয়েছে। লাইনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবেশ ও বেরনোর পথ আলাদা রাখতে গার্ডরেল ও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। স্টেডিয়ামে প্রবেশের আগে দর্শকদের তিন স্তরের তল্লাশি করা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল টিকিট যাচাইয়ের পরই দর্শকদের ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। গোটা এলাকায় নজরদারির জন্য ৩০০-র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।

    মেসি সফরের কথা মাথায় রেখে নিষেধাজ্ঞা

    নিরাপত্তার কারণে স্টেডিয়ামের ভিতরে বাইরে থেকে খাবার বা জলের বোতল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। আতশবাজি, স্মোক ক্যান্ডেল, লাইটার, সিগারেট-সহ সমস্ত ধরনের দাহ্য সামগ্রী নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও লেজার লাইট, ব্যানার, পোস্টার, ধারালো বস্তু, অস্ত্র, মদ ও মাদকদ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। ব্যানার ও ঢাক-ঢোলও নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে। মাঠে ছুড়ে দেওয়া যেতে পারে এমন কোনও বস্তু যাতে দর্শকরা সঙ্গে না আনেন, সে বিষয়েও নজর রাখবেন নিরাপত্তাকর্মীরা। গত ডিসেম্বরে লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের সময় স্টেডিয়ামে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এবার প্রবেশপথ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে এবং পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে দর্শকদের অনুরোধ করা হয়েছে। মোবাইল ফোনও পর্যাপ্ত চার্জ দিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

    গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামেও ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা

    সল্টলেক স্টেডিয়ামের পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে শনিবার কসবার অ্যাক্রোপলিস মলের পিছনে গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিনে ব্রাজিল-ভারত ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, সেখানে প্রায় ৩ হাজার দর্শকের বসার ব্যবস্থা থাকবে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হবে ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার। অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ভিড় সামলানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    কোথায় দেখা যাবে ম্যাচ?

    ব্রাজিল ম্যাচের টিকিট না পেলেও সমস্যা নেই। অনায়াসে টিভিতেই দেখতে পারেন ম্যাচটি। সেক্ষেত্রে সোনি স্পোর্টসের চ্যানেলগুলিতে এই খেলা দেখা যাবে। ফুটবলের আবেগে যে কোনও জাতিকে টেক্কা দিতে পারে বাংলা। তাই ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের ম্যাচ হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। আর এই খেলাটি বাংলা কমেন্ট্রিতেও দেখতে পারেন। টিভিতে সোনি আট চ্যানেলে বাংলায় এই খেলাটি দেখতে পারেন। তাই যাঁরা বাংলায় ব্রাজিল ম্যাচটি দেখতে চাইছেন, তাঁরা সোনি ৮ চ্যানেলে টিউন করুন। এখন অনেকেই আর টিভির দিকে চোখ রাখেন না। তাঁদের কাছে মোবাইলটাই জগৎ। সেখানেই খেলা থেকে ফিল্ম, ওয়েব সিরিজ দেখেন তাঁরা। আর এই দলের মানুষকে নিরাশ হতে হবে না। কারণ, মোবাইল ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও দেখা যাবে খেলাটি। এক্ষেত্রে সোনি লিভ অ্যাপে খেলাটি দেখতে পারেন। যাঁদের এই অ্যাপের সাবস্ক্রিপশন আসে, তাঁরা দেখতে পাবেন। এই অ্যাপে এইচডি কোয়ালিটিতে ম্যাচ দেখা যাবে। সেই সঙ্গে ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা সহ বেশ কিছু ভারতীয় ভাষায় শোনা যাবে কমেন্ট্রি। তাই যাঁর মোবাইলে খেলাটি দেখতে চাইছেন, তাঁরা অবশ্যই এই অ্যাপটি ইনস্টল করে নিন। তাহলেই টেনশন ফ্রি।

     

     

     

  • Asian Games 2026: হকি থেকে কুস্তি—এশিয়ান গেমসে ১৩তম দিনে ভারতের ঝুলিতে ৬ সোনা-সহ ১০ পদক

    Asian Games 2026: হকি থেকে কুস্তি—এশিয়ান গেমসে ১৩তম দিনে ভারতের ঝুলিতে ৬ সোনা-সহ ১০ পদক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসের ১৩তম দিনটি ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে স্মরণীয় হয়ে থাকল। একদিনেই ৬টি সোনা, ২টি রুপো এবং ২টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ১০টি পদক জিতে নিল ভারত। তিরন্দাজি, বক্সিং, কুস্তি এবং হকিতে একের পর এক সাফল্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠল ভারতের পদক তালিকা। দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য এল ভারতীয় মহিলা হকি দলের হাত ধরে—৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) সোনা জিতে তারা সরাসরি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে জায়গা নিশ্চিত করল। শেষে মহিলা হকি দলের ১-০ ব্যবধানে চিনকে হারানো সেই দিনকে আরও স্মরণীয় করে তুলল। চলতি এশিয়ান গেমসে ১৬টি সোনা হল ভারতের।

    ৪৪ বছর পর মহিলা হকিতে এশিয়ান গেমস সোনা

    দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ভারতীয় মহিলা হকি দলের হাত ধরে। গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে ফাইনালে চিনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে মহিলা হকির সোনা জেতে ভারত। ফাইনালের একমাত্র গোলটি করেন লালরেমসিয়ামি। তাঁর গোলই শেষ পর্যন্ত ভারতের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে। এই সোনার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় অলিম্পিক্সের টিকিট নিশ্চিত হওয়ায়। এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ভারত সরাসরি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ১৯৮২ সালে প্রথম এশিয়ান গেমসে মহিলা হকিতে সোনা জিতেছিল ভারত। তার পর এ বারই সোনা জিতল তারা। ম্যাচের আগে সম্মান জানানো হয় লালরেমসিয়ামিকে। তিনি ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। সেই ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন গোল করে। তাঁর একমাত্র গোলেই ভারত এশিয়াডে সোনা জিতল দীর্ঘ দিন পর। গত অলিম্পিক্সে রুপো পেয়েছিল চিন। মহিলাদের হকিতে তারা যথেষ্ট শক্তিশালী দল। এ দিন শুরু থেকেই আক্রমণ করতে থাকে তারা। বার বার ঢুকে পড়তে থাকে ভারতের ডি বক্সে। তবে খেলার বিপরীতে গিয়ে প্রথম কোয়ার্টারেই এগিয়ে যায় ভারত। চিনের ডি বক্সে বল পেয়েছিল ভারত। বৃত্তের মধ্যে থেকে লালরেমসিয়ামির শট গোলে ঢুকে যায়। লেখা হয়ে যায় ইতিহাস।

    জন্মদিনে সোনার মুকুট লাভলিনার

    নিজের জন্মদিনেই সোনা জিতে নিলেন ভারতীয় বক্সার লাভলিনা বরগোহাঁই। মহিলা ৭৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনের বাও জিই-কে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি। এই সাফল্যের ফলে এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা বক্সার হলেন লাভলিনা। এর আগে ২০১৪ সালে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন এমসি মেরি কম। আগের এশিয়ান গেমসে রুপো জিতেছিলেন লাভলিনা। এবার সেই রুপোকে সোনায় বদলে দিলেন তিনি। জয়ী হওয়ার পর লাভলিনা বলেন, “আমি খুব ভালো অনুভব করছি। ভেবেছিলাম জন্মদিনে নিজেকেই সোনার পদক উপহার দিতে হবে। এক মুহূর্তের জন্যও হারার কথা মাথায় আসেনি। লড়াইটা কঠিন ছিল, কিন্তু আমি সব সময় ভেবেছি যে আমাকে জিততেই হবে।”

    প্রত্যাবর্তনের পর পারভিন হুডার সোনা

    বক্সিংয়ে ভারতের দ্বিতীয় সোনা আসে পারভিন হুডার হাত ধরে। মহিলা ৬৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনা তাইপেইয়ের চেন নিয়েন-চিনকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন পারভিন। চেন নিয়েন-চিন প্যারিস অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী। তাঁর বিরুদ্ধে এই জয় তাই পারভীনের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই সাফল্যের সঙ্গে ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের ইতিহাসেও নাম লেখালেন পারভীন। এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা ভারতীয় মহিলা বক্সারদের তালিকায় তিনি তৃতীয়। এর আগে ২০১৪ সালে মেরি কম এবং এদিনই লভলিনা এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

    মহিলা রিকার্ভ দলগত তিরন্দাজিতে ঐতিহাসিক সোনা

    দিনের শুরুতেই ইতিহাস গড়ে ভারত। মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতে অঙ্কিতা ভকত, কীর্তি শর্মা এবং ১৭ বছরের কুমকুম মহোদের দল। কঠিন আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের মধ্যেও ভারতীয় তিরন্দাজরা অসাধারণ সংযম দেখান। সেমিফাইনালে চিনকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ভারত। এরপর কুমকুম মহোদ ধীরজ বোম্মাদেভারার সঙ্গে মিশ্র রিকার্ভ দলগত ইভেন্টেও ফাইনালে পৌঁছন। এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্টে প্রথমবার ফাইনালে ওঠে ভারত। তবে ফাইনালে চিনের কাছে ৩-৫ ব্যবধানে হেরে রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।

    সুজিতের অবিশ্বাস্য কামব্যাক

    কুস্তির ম্যাটেও দেখা গেল নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। পুরুষদের ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগের ফাইনালে তাজিকিস্তানের আবদুলমজিদ কুদিয়েভের বিরুদ্ধে একসময় ২-৯ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন সুজিত কালকাল। ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে দুর্দান্ত আক্রমণে ফিরে আসেন ভারতীয় কুস্তিগির। শেষদিকে একের পর এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০-৯ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি। সেমিফাইনালেও বড় চমক দিয়েছিলেন সুজিত। জাপানের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোটারো কিয়োকাওয়াকে ৩-৩ ব্যবধানে আটকে দিয়ে ক্রাইটেরিয়ায় ফাইনালে ওঠেন তিনি।

    ২০১৮-এর পর পুরুষ বক্সিংয়ে আবার সোনা

    ভারতের তৃতীয় বক্সিং সোনা আসে পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে। আনকুশ পাংহাল জিতে নেন এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব। এই সাফল্যের মাধ্যমে ২০১৮ সালের পর প্রথমবার কোনও ভারতীয় পুরুষ বক্সার এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলেন। ফলে একই দিনে লাভলিনা, পারভিন এবং আনকুশ—তিন ভারতীয় বক্সারের হাত ধরে তিনটি সোনা আসে।

     

     

     

     

  • UNGA: রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য এরদোয়ানের, ‘কোনও বাইরের পক্ষের অধিকার নেই’, সাফ জানাল ভারত

    UNGA: রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য এরদোয়ানের, ‘কোনও বাইরের পক্ষের অধিকার নেই’, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে জম্মু ও কাশ্মীর (Kashmir Remark) প্রসঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করল (UNGA) ভারত। নয়াদিল্লি এই মন্তব্যকে অনভিপ্রেত বলে অভিহিত করে জানিয়েছে, ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত এই বিষয়ে কোনও বাইরের পক্ষের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই।

    মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ভারতের এবং ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়ে যে অনভিপ্রেত উল্লেখ করেছেন, ভারত তা প্রত্যাখ্যান করছে।”

    রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য (UNGA)

    তিনি আরও বলেন, “আপনারা বুঝতেই পারছেন, এটি ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই বিষয়ে কোনও বাইরের পক্ষের কোনও অধিকার বা হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।”

    এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় এরদোয়ান দক্ষিণ এশিয়ার সমস্ত বিরোধের, জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়টি-সহ, রাষ্ট্রসংঘের সনদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের কাঠামোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রসংঘের নথিতেও এরদোয়ানের ২০২৬ সালের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান

    কাশ্মীর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে এরদোয়ানের মন্তব্য অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত সাংবিধানিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের পর তিনি বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। সেই সময়ও নয়াদিল্লি তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। ২০২১ সালেও রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে এরদোয়ান কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তবে ২০২৪ সালে তাঁর ভাষণে জম্মু ও কাশ্মীরের কোনও উল্লেখ ছিল (UNGA) না।

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। নয়াদিল্লি অঞ্চলটিকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করে আসছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধানের পক্ষে (Kashmir Remark) অবস্থান নিয়েছে। ভারত ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তির কথাও উল্লেখ করে থাকে। ওই চুক্তিতে ভারত ও পাকিস্তান শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর বিষয়ে সম্মত (UNGA) হয়েছিল।

     

  • Modi’s Canada Visit: ১০ বছর পর কানাডা সফরে মোদি? ডিসেম্বরেই কি চূড়ান্ত হতে পারে ভারত-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি?

    Modi’s Canada Visit: ১০ বছর পর কানাডা সফরে মোদি? ডিসেম্বরেই কি চূড়ান্ত হতে পারে ভারত-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ এক দশক পর ফের কানাডা সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Modi’s Canada Visit)। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ তাঁর কানাডা সফরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ভারত ও কানাডার (India Canada Relation) মধ্যে প্রস্তাবিত কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (CEPA)-এর আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। দুই দেশের লক্ষ্য, এই বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়া। মোদি-র সম্ভাব্য কানাডা সফর এবং আগামী ৫ অক্টোবর পরবর্তী দফার বাণিজ্য আলোচনা—দুই দেশই কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ২০২৩ সালে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর ভারত-কানাডা সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    রাষ্ট্রপুঞ্জে জয়শঙ্কর-আনন্দ বৈঠক

    শনিবার নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৈঠকের পর জয়শঙ্কর সমাজমাধ্যমে জানান, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি লেখেন, কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সঙ্গে দেখা করা সবসময়ই আনন্দের। দুই দেশের সম্পর্ককে “আরও উচ্চতায়” নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই তাঁদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে কানাডার বিদেশমন্ত্রীও ভারতের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কানাডা বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বৈচিত্র্যময় করার দিকে নজর দিচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যও রয়েছে কানাডার। এই লক্ষ্যে ইন্দো-প্যাসিফিক, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলির সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে অটোয়া। সেই তালিকায় ভারত ও চিনের মতো বড় অর্থনীতির দেশও রয়েছে বলে জানান আনন্দ।

    ডিসেম্বরেই কানাডা যেতে পারেন মোদি

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এর আগে জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বর নাগাদ প্রধানমন্ত্রী মোদির কানাডা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কার্নি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা “ভাল গতিতে” এগোচ্ছে। কার্নির কথায়, ভারত-কানাডা সম্পর্ক মানুষে-মানুষে যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ও অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর জি-২০-তে ভারত ও কানাডা চলতি বছর জি২০ সম্মেলনের মধ্যে সেপা-র আলোচনা শেষ করার দিকে এগোনোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন কার্নি। মোদি ডিসেম্বর মাসে কানাডা গেলে, সেটি হবে ২০১৫ সালের পর তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক কানাডা সফর।

    ৫ অক্টোবর থেকে ফের বাণিজ্য আলোচনা

    সেপা নিয়ে ভারত ও কানাডার মধ্যে আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং কানাডার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী মনিন্দর সিধু একাধিক বৈঠক করেছেন। আগামী ৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। দুই দেশের লক্ষ্য, সেপা (CEPA)-র মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। তবে এখনও চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো, পরিষেবা, বিনিয়োগ কিংবা নিয়ন্ত্রক সহযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতাতেও জোর

    বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগও ভারত-কানাডা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কানাডার পেনশন ফান্ডগুলি ইতিমধ্যেই ভারতের পরিকাঠামো, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক আবাসন ক্ষেত্রে বড় আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে। সেপা চূড়ান্ত হলে এই বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ-শৃঙ্খলের উপর নির্ভরতা কমানো এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই দেশ একটি নতুন দ্বিপাক্ষিক কৌশলও গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র।

    ২০২৩-এর কূটনৈতিক সংঘাতের পর ফের সম্পর্ক স্বাভাবিকের পথে

    ২০২৩ সালে ভারত-কানাডা সম্পর্কের বড় অবনতি হয়। তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কানাডায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতীয় সরকারি এজেন্টদের সম্ভাব্য যোগসূত্রের অভিযোগের তদন্তের কথা বলেছিলেন। ভারত সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে এবং একে অপরের কূটনীতিকদের বহিষ্কার ও কূটনৈতিক উপস্থিতি কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের মার্চে মার্ক কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। জুন ২০২৫-এ কার্নি ও মোদি দুই দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ফেরাতে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। এরপর দুই দেশের হাইকমিশনাররা ফের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়।

    নজর ৫ অক্টোবরের বৈঠকে

    ভারত-কানাডা সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন বড় পরীক্ষা ৫ অক্টোবরের সেপা আলোচনা। বাণিজ্য চুক্তির বাকি মতপার্থক্যগুলি কতটা দ্রুত মেটানো যায়, তার উপরই নির্ভর করবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ। ডিসেম্বরে মোদির সম্ভাব্য কানাডা সফর সেই আলোচনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা দিতে পারে। তবে সফরের আগে সেপা-র বাকি বিষয়গুলিতে ঐকমত্য তৈরি হবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

  • Russia: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি সমর্থন রাশিয়ার, পশ্চিমি দেশগুলির অন্তর্ভুক্তিতে আপত্তি মস্কোর

    Russia: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি সমর্থন রাশিয়ার, পশ্চিমি দেশগুলির অন্তর্ভুক্তিতে আপত্তি মস্কোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের  নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে ফের সমর্থন করল রাশিয়া (Russia)। রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার হলে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। ভারত ও ব্রাজিলকে স্থায়ী সদস্য করার পক্ষে সওয়াল করলেও জার্মানি ও জাপানের মতো দেশগুলিকে স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন (UNSC) তিনি।

    শনিবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লাভরভ বলেন, “আমরা এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারত ও ব্রাজিলের দাবিকে আমরা সমর্থন করি।”

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে আফ্রিকার স্বার্থকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রুশ বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলির ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো প্রয়োজন।

    বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল (Russia)

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চ থেকে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেন লাভরভ। তাঁর দাবি, বিশ্বের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের দেশগুলি ক্রমশ স্বাধীন উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই দেশগুলির গুরুত্ব বাড়ছে।

    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে লাভরভ বলেন, “একক আধিপত্যবাদী শক্তির একনায়কতন্ত্র বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।” তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় কোনও একটি শক্তির একচ্ছত্র আধিপত্যের পরিবর্তে একাধিক শক্তিকেন্দ্রের উপস্থিতি প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটেই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলির বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকে যুক্ত করেছে রাশিয়া।

    ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমি দেশগুলিকে নিশানা

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তৃতার সময় ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও পশ্চিমি দেশগুলির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন লাভরভ। তাঁর দাবি, পশ্চিমি দেশগুলি এখনও ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে কিয়েভকে সাহায্য করছে।

    ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা বাধাগ্রস্ত করার জন্য ইউরোপীয় সরকারগুলিকেও দায়ী করেন তিনি। লাভরভ বলেন, “রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখার অবাস্তব লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে পশ্চিমি দেশগুলি ইউরোপের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে এবং কিয়েভে রাশিয়াবিদ্বেষী শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।”

    ইউক্রেনকে রাশিয়ার সাধারণ নাগরিক এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা চালাতে ইউরোপীয় সরকারগুলি সাহায্য করছে বলেও অভিযোগ করেন রুশ বিদেশমন্ত্রী (Russia)।

    নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ ভারতের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য দেশ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী এবং বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য। পাঁচ স্থায়ী সদস্য হল আমেরিকা, চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও ব্রিটেন। এই পাঁচ দেশের প্রত্যেকেরই ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটে নির্বাচিত অস্থায়ী সদস্যরা দু’বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করে। তাদের ভেটো প্রয়োগের অধিকার নেই।

    নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব প্রতি মাসে পর্যায়ক্রমে সদস্যদেশগুলির মধ্যে পরিবর্তিত হয়। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন সংঘাত ও সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই পরিষদ। সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় (UNSC)।

    নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হল ভেটো। কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যে কোনও একটি দেশ ভেটো প্রয়োগ করলে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয় না। তবে কোনও প্রস্তাবে সরাসরি বাধা না দিয়ে ভোটদান থেকে বিরত থাকার সুযোগও রয়েছে স্থায়ী সদস্যদের (Russia)।

    ১৯৪৫ সালে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাধিকবার এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে স্থায়ী সদস্যদেশগুলি। ২০২৬ সালের অগাস্ট পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়কাল-সহ রাশিয়া মোট ১৬২ বার ভেটো প্রয়োগ করেছে। আমেরিকা এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে ৯৫ বার। তুলনামূলকভাবে চিনের ভেটো প্রয়োগের সংখ্যা কম হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তা বেড়েছে। অন্যদিকে, ১৯৮৯ সালের পর থেকে ফ্রান্স ও ব্রিটেন ভেটো প্রয়োগ করেনি।

    দীর্ঘমেয়াদি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ

    ভারত স্থায়ী সদস্যপদ পেলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে। তবে নতুন স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা দেওয়া হবে কি না, তা এখনও আলোচনাসাপেক্ষ। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যসংখ্যা বাড়াতে রাষ্ট্রসংঘের সনদ সংশোধনও প্রয়োজন। এর জন্য সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনের পাশাপাশি বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্য-সহ দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যদেশের অনুমোদন প্রয়োজন।

    রাশিয়ার সাম্প্রতিক সমর্থন (UNSC) ভারতের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি মস্কোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করল। তবে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সদস্যদেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলাই এখন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয় (Russia)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, মন্দিরের জমি দখল, ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, মন্দিরের জমি দখল, ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তরণের অভিযোগ, মন্দিরের সম্পত্তি দখল এবং ধর্মীয় উৎসব ঘিরে উত্তেজনার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার বিবরণে কর্নাটক, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও তামিলনাড়ুর পাশাপাশি বাংলাদেশের সিলেট ও গোপালগঞ্জের ঘটনাও উঠে এসেছে (Hindus Under Attack)। তবে এসব ঘটনার মধ্যে বেশ কয়েকটি এখনও অভিযোগ এবং তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।

    ভারতে গণেশ প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা ঘিরে উত্তেজনা, মহিলাদের ধর্মান্তরণের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ এবং মন্দিরের জমি জাল নথির মাধ্যমে দখলের অভিযোগ সামনে এসেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর এবং একটি হিন্দু পরিবারের কারখানা দখলের অভিযোগ উঠেছে (Roundup week)।

    গণেশ বিসর্জনের শোভাযাত্রার পথ নিয়ে অশান্তি (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকের বিজয়নগর জেলার হুভিনাহাদাগালির ইসলাম পেঠ এলাকায় গণেশ প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। কোরাভারা ওনি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত গণেশ প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় শোভাযাত্রার পথ নিয়ে স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের একাংশ আপত্তি জানান।

    বিক্ষোভকারীরা আগের বছরের নির্ধারিত পথ অনুসরণের দাবি জানান। এদিকে, শোভাযাত্রার আয়োজকেরা দীর্ঘদিনের প্রচলিত পথ ব্যবহারের দাবিতে অনড় থাকেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় বিধায়কের হস্তক্ষেপে বিকল্প পথ নিয়ে সমঝোতা হয়, এগোয় শোভাযাত্রা।

    উমর খালিদকে জাতীয়তাবাদী বলায় রাজনৈতিক বিতর্ক

    বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটিতে উমর খালিদকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের বিরোধিতা করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। এই বিরোধিতার সমালোচনা করে কর্নাটকের কংগ্রেস নেতা বিকে হরিপ্রসাদ উমর খালিদকে জাতীয়তাবাদী বলে অভিহিত করেন।

    হরিপ্রসাদ অভিযোগ করেন, নাথুরাম গডসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সংগঠনের উমর খালিদের সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার নেই। এদিকে, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের বিরোধিতা করে। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

    শ্রীরঙ্গম মন্দিরের  জমি দখলের অভিযোগ

    তামিলনাড়ুতে শ্রীরঙ্গম মন্দিরের জমি জাল নথি ব্যবহার করে দখলের অভিযোগে ডিএমকের পদাধিকারী রামকুমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

    অভিযোগ, ১৯৩০ সালে জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে জমিটি শ্রীরঙ্গম মন্দিরকে দান করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই জমির আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা। অভিযোগ, রামকুমার ২০২২ সালে জাল নথির মাধ্যমে সম্পত্তিটি অবৈধভাবে নিজের নামে নথিভুক্ত করেন এবং পরে জমিটি দখল করেন।

    তরুণীর ধর্মান্তরণ ঘিরে বিতর্ক

    উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগর জেলার এক তরুণীকে ঘিরে ধর্মান্তরণের অভিযোগ সামনে এসেছে। আজমগড় থেকে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি দৃশ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়।

    ভাইরাল হাওয়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, এক তরুণীকে বিভ্রান্ত অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে এবং নমাজ পড়ার জায়গা খুঁজতে।

    ঘটনাটি ঘিরে ধর্মান্তরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলেও, তরুণীর ধর্মান্তরণ হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি (Hindus Under Attack)।

    ধর্মান্তরণের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ

    মধ্যপ্রদেশের রেওয়ায় বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত ছয় মহিলা সইফ পাঠান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন বলে খবর।

    অভিযোগ, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অভিযুক্ত তাঁদের অনুসরণ করতেন, হেনস্তা করতেন এবং ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করতেন। পাশাপাশি তাঁদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন ওই মহিলারা।

    বিষয়টি নিয়ে আমাহিয়া থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।

    বন্দে মাতরম বাজানো বন্ধের নির্দেশ ঘিরে উত্তেজনা

    কর্নাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার উপ্পিনাঙ্গাডিতে গণেশ বিসর্জনের শোভাযাত্রা চলাকালীন বন্দে মাতরম বাজানো নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয় (Roundup week)।

    সার্বজনিক শ্রী গণেশোৎসব সমিতি সেবা ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত বিসর্জনের সময় এক পুলিশ কর্তা বন্দে মাতরম বাজানোয় হস্তক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ। তিনি গানটি প্রথম দুই স্তবকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন। ঘটনায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

    নাবালিকাকে অশ্লীল দৃশ্য দেখানোর অভিযোগে গ্রেফতার

    কর্নাটকের পুরনো হুবলিতে এক নাবালিকাকে মোবাইলে অশ্লীল দৃশ্য দেখানো এবং তার সঙ্গে অনুপযুক্ত আচরণের চেষ্টার অভিযোগে বছর আটত্রিশের মাজিদ নাদাফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    জানা গিয়েছে, শিশুটি বাড়িতে ফিরে অভিভাবকদের পুরো ঘটনাটি জানায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা পুরনো হুবলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় (Hindus Under Attack)।

    উত্তরাখণ্ডে ধর্মান্তরণ ও বিয়ের অভিযোগে যুবক আটক

    উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের লাকসার এলাকায় ছত্তিশগড়ের এক হিন্দু মহিলাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার অভিযোগে আশিফ নামে এক মুসলিম যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

    অভিযোগ, ওই যুবক মহিলাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে প্ররোচিত করেন এবং পরে তাঁকে বিয়ে করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে ধর্মান্তরণ ও বিয়ের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার

    কর্নাটকের চিক্কাবল্লাপুরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের পরিকল্পনার অভিযোগে সাব্বির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত বাপুজিনগরের বাসিন্দা।

    অভিযোগ অনুযায়ী, দেশে বড় ধরনের হিংসাত্মক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন অভিযুক্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিশানা করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে

    (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশের ছবি

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির অধিকার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সিলেটে দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর এবং গোপালগঞ্জে একটি হিন্দু পরিবারের কারখানা দখলের অভিযোগ সামনে এসেছে।

    দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর

    সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পশ্চিম বাজার নবীনগর সর্বজনীন পূজামণ্ডপে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, সাইদুজ্জামান শিমুল নামে বছর ঊনত্রিশের এক যুবক বঁটি নিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করেন এবং প্রতিমার বিভিন্ন অংশে আঘাত করে।

    পূজা কমিটির সদস্যরা পুলিশে খবর দিলে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি বঁটি উদ্ধার করা হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্তকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত (Hindus Under Attack)।

    হিন্দু পরিবারের কারখানা দখলের অভিযোগ

    বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বড় ভাটরা গ্রামে একটি হিন্দু পরিবারের কারখানা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযোগকারী নীলকণ্ঠ মণ্ডলের দাবি, ২০০৩ সালে তাঁর পরিবার এস শেখের কাছ থেকে সাড়ে ৩৪ শতাংশ জমি কিনেছিল। প্রথমে জমিটি তাঁর মায়ের নামে নথিভুক্ত করা হয়। মায়ের মৃত্যুর পর সম্পত্তির মালিকানা তাঁর তিন ছেলের কাছে যায়।

    নীলকণ্ঠের দাবি, জমি তাঁদের নামেই করা হয়েছিল। নিয়মিত ট্যাক্সও দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও হাসিনা বেগম নামে এক মহিলা সশস্ত্র লোকজন নিয়ে কারখানা দখল করেন বলে অভিযোগ।

    পরিবারের দাবি, নিরাপত্তার আশঙ্কায় তাঁরা এখন নিজেদের কারখানাতেও যেতে পারছেন না। তবে জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    ভারত ও বাংলাদেশের এসব ঘটনা ঘিরে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সম্পত্তির অধিকার এবং ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের বিষয়গুলি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা হ্রাস এবং সংখ্যালঘুদের জমি দখলের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকত। তাঁর গবেষণায় বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এটি একটি গবেষণাভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নয়।

    এদিকে (Hindus Under Attack), ভারতে ধর্মীয় উৎসবের উপর বিধিনিষেধ, ধর্মান্তরণসংক্রান্ত অভিযোগ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রশ্নও উঠে এসেছে (Roundup week)।

     

  • Turkey Buys Diesel From India: পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের নজর ভারতের ডিজেলে, কেন বদলাচ্ছে জ্বালানি সরবরাহের সমীকরণ?

    Turkey Buys Diesel From India: পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের নজর ভারতের ডিজেলে, কেন বদলাচ্ছে জ্বালানি সরবরাহের সমীকরণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র তুরস্ক এবার রেকর্ড পরিমাণ ডিজেল (Turkey Buys Diesel From India) আমদানি করল ভারত থেকে। ২০২৬ সালের আগস্টে ভারত থেকে তুরস্কের ডিজেল আমদানি ১ লক্ষ ২০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিনেরও বেশি হয়েছে বলে পণ্যবাজার সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার জানিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এটিই তুরস্কে ভারতীয় ডিজেল রফতানির সর্বোচ্চ মাসিক স্তর। তুরস্কের জ্বালানি বাজারে এই পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এতদিন রাশিয়াই ছিল দেশটির ডিজেলের প্রধান সরবরাহকারী। কিন্তু রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমে যাওয়া, মধ্যপ্রাচ্যের শোধনাগারগুলিতে যুদ্ধজনিত বিঘ্ন এবং হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে সমস্যার কারণে তুরস্ককে বিকল্প উৎসের দিকে তাকাতে হচ্ছে। সেই জায়গাতেই ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ভারত।

    রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহে বড় ধাক্কা

    তুরস্কের ডিজেল আমদানিতে দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার আধিপত্য ছিল। ২০২৫ সালে তুরস্কের মোট ডিজেল আমদানির প্রায় ৮৫ শতাংশই এসেছিল রাশিয়া থেকে। তুরস্কের এনার্জি মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি (EMRA)-র তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে রাশিয়া থেকে তুরস্কে প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ ৮১ হাজার ব্যারেল ডিজেল সরবরাহ হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে পরিস্থিতি দ্রুত বদলেছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একাধিক শোধনাগারে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পর মস্কো ডিজেল রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে তুরস্কে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ জুলাইয়ে কমে প্রায় ১ লক্ষ ব্যারেল এবং আগস্টে প্রায় ৮০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন হয়েছে। আগস্টে তুরস্কের ডিজেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশও নেমে এসেছে প্রায় ২০ শতাংশে।

    ভারতের ডিজেল রফতানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

    এই ঘাটতি পূরণে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ভারত থেকে তুরস্কে প্রতিদিন ১ লক্ষ ২০ হাজার ব্যারেলের বেশি ডিজেল গিয়েছে। অন্য একটি সংস্থা এনার্জি অ্যাসপেক্টস অবশ্য এই পরিমাণ প্রায় ৭৪ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন বলে অনুমান করেছে। তবে দুই ক্ষেত্রেই ভারতের সরবরাহ বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট। ডালাসের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ আনাস আলহাজ্জি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, আগস্টে তুরস্কে ভারতের পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বছরে প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। তাঁর মতে, এই সরবরাহের বড় অংশ এসেছে রিলায়েন্সের কাছ থেকে। ২০২৫ সালে ভারত তুরস্কে মোট ৫ লক্ষ ৬২ হাজার ৪২১ টন ডিজেল রফতানি করেছিল। রাশিয়া ও মিশরের পর ভারত ছিল তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম ডিজেল সরবরাহকারী।

    শুধু ভারত নয়, আমেরিকাও বাড়িয়েছে সরবরাহ

    তুরস্কের বিকল্প জ্বালানি উৎসের তালিকায় শুধু ভারতই নেই। আগস্টে আমেরিকা থেকেও তুরস্কে ডিজেল সরবরাহ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা থেকে তুরস্কে প্রতিদিন প্রায় ৯০ হাজার ব্যারেল ডিজেল এসেছে। এনার্জি অ্যাসপেক্টসের হিসাব কিছুটা কম—প্রায় ৭০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন। তবুও ২০১৯ সালের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ মাসিক সরবরাহ। অর্থাৎ রাশিয়ার সরবরাহ কমতেই তুরস্ক একাধিক বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল সংগ্রহ শুরু করেছে।

    ভারত কীভাবে এত ডিজেল রফতানি করছে?

    ভারত নিজে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। কিন্তু দেশের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধন ক্ষমতা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে তা শোধন করে ডিজেল, পেট্রল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যে রূপান্তর করে ভারতীয় সংস্থাগুলি বিদেশে রফতানি করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পরিকাঠামো ভারতের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছে। রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ভারতীয় শোধনাগারগুলির উৎপাদিত ডিজেলের জন্য নতুন বাজার তৈরি হয়েছে। ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে ভারতের পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ভারতের সামগ্রিক পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৮.৮ শতাংশ এবং অ-তেল পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৪.৪ শতাংশ। টানা তিন বছর পতনের পর ভারতের পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিতে এই বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য।

    রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের যোগসূত্রও

    ভারতের বাড়তে থাকা ডিজেল রফতানির সঙ্গে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র রয়েছে। ২০২২ সালের পর থেকে ভারতীয় শোধনাগারগুলি রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনেছে। সেই অপরিশোধিত তেল ভারতে শোধন করে ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যে রূপান্তর করা হচ্ছে। এরপর সেই পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জুনে ভারত রাশিয়া থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৭.৩ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। জুলাইয়ে এই পরিমাণ ছিল আনুমানিক ২৫.৭ লক্ষ ব্যারেল প্রতিদিন। অর্থাৎ ভারত একই সময়ে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা এবং পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ রফতানিকারক। তবে অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত ডিজেলকে একই পণ্য হিসেবে দেখা যায় না। ভারতে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা অপরিশোধিত তেল শোধনের পর উৎপাদিত ডিজেল একটি পৃথক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পণ্য। কোন দেশে সেটি বিক্রি হবে, তা নির্ধারিত হয় চাহিদা, দাম, পরিবহণ খরচ এবং সরবরাহের পরিস্থিতির উপর।

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবও কি রয়েছে?

    তুরস্কের সরবরাহ ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনের পিছনে ভূ-রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে। রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন চাপ বাড়ছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ স্বাক্ষরিত Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026-এ রুশ অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা কিছু দেশের পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার অন্যতম বড় অপরিশোধিত তেল ক্রেতা ভারত। নতুন মার্কিন আইনের সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানিয়েছেন, দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর এর প্রভাব ভারত পর্যালোচনা করবে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্কের পক্ষেও সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কেন ভারতের দিকে তাকাচ্ছে তুরস্ক?

    সমীকরণটি আপাতদৃষ্টিতে সরল। তুরস্কের ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহও বিভিন্ন কারণে বাধাগ্রস্ত। অন্যদিকে ভারত ও আমেরিকার কাছে অতিরিক্ত পরিশোধিত জ্বালানি রয়েছে। ভারতের বিশাল শোধন ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে তা ডিজেলে রূপান্তরের সক্ষমতা দেশটিকে এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারীতে পরিণত করেছে। ফলে আগস্টে তুরস্কে ভারতীয় ডিজেলের রেকর্ড রফতানি মূলত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরবরাহের পরিবর্তিত সমীকরণেরই প্রতিফলন। রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় তুরস্ক নতুন উৎস খুঁজছে, আর সেই সুযোগে ভারতীয় শোধনাগারগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে। পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের ভারত থেকে রেকর্ড ডিজেল কেনার ঘটনাটি তাই শুধু একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়; রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে বদলে যাওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

  • India Reply to Pak PM: “ধ্বংস হওয়া রানওয়েকে যদি জয় বলা হয়…” রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধনা ভারতের

    India Reply to Pak PM: “ধ্বংস হওয়া রানওয়েকে যদি জয় বলা হয়…” রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মে মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখের সংঘাতকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘জয়’ হিসেবে তুলে ধরলেও রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে (UNGA) সেই দাবিকে তীব্র কটাক্ষ করল ভারত। ভারতের বক্তব্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি ও সামরিক পরিকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতির ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তা পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবির সঙ্গে একেবারেই মেলে না। ৮০তম রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ‘রাইট অব রিপ্লাই’-এর মাধ্যমে ভারতের বক্তব্য তুলে ধরেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট। তিনি বলেন, “ধ্বংস হওয়া রানওয়ে এবং পুড়ে যাওয়া হ্যাঙ্গার যদি জয় বলে মনে হয়, তা হলে পাকিস্তান সেই জয় উপভোগ করতেই পারে।”

    পাকিস্তানের ‘জয়ের’ দাবি নিয়ে ভারতের পাল্টা বক্তব্য

    রাষ্ট্রসংঘে নিজের ভাষণে শাহবাজ শরিফ মে মাসের সামরিক সংঘাতে পাকিস্তান জয়ী হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান যুদ্ধ জিতেছে এবং এখন তারা শান্তি জিততে চায়। ভারতের সঙ্গে সমস্ত অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনার কথাও বলেন তিনি। এর জবাবে গেহলট বলেন, সংঘাতের ঘটনাপ্রবাহ পাকিস্তানের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁর বক্তব্য, ৯ মে পর্যন্ত পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুমকি দিচ্ছিল। কিন্তু ১০ মে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সরাসরি ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংঘর্ষ বন্ধের আবেদন জানায়। ভারতের প্রতিনিধি আরও অভিযোগ করেন, অতীতের মতোই ভারতীয় সাধারণ নাগরিকদের উপর একটি সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ ছিল। ভারত তার নাগরিকদের সুরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে।

    ‘সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে হামলার ছবি তার প্রমাণ’

    অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় ভারতীয় হামলার প্রসঙ্গও রাষ্ট্রসংঘে তুলে ধরেন গেহলট। তাঁর দাবি, বাহাওয়ালপুর ও মুরিদকে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে ভারতীয় হামলার পর নিহত জঙ্গিদের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি বলেন, “একটি ছবি হাজার কথার সমান।” তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের সামরিক ও অসামরিক আধিকারিকরা যেসব সন্ত্রাসবাদীকে প্রকাশ্যে সম্মান জানিয়ে থাকেন, তা পাকিস্তানের নীতির চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ভারতের বক্তব্যে পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের দীর্ঘদিন অবস্থানের প্রসঙ্গও উঠে আসে। পাশাপাশি পাকিস্তানের কয়েকজন মন্ত্রীর সন্ত্রাসবাদী শিবির নিয়ে করা মন্তব্যের উল্লেখ করে গেহলট ইসলামাবাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভারতের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের মদতদাতাদের আলাদা করে দেখা হবে না। একইসঙ্গে পারমাণবিক হুমকির আড়ালে সন্ত্রাসবাদ চালানোর কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

    শাহবাজের বক্তব্য ‘নাটক’

    কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে আক্রমণ করার পর রাষ্ট্রসংঘে তারও জবাব দেয় নয়াদিল্লি। গেহলট বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল “অযৌক্তিক নাটক”। তাঁর দাবি, কোনও ধরনের রাজনৈতিক নাটক বা মিথ্যা তথ্য বাস্তব ঘটনাকে আড়াল করতে পারে না। ভারতের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর পর পাকিস্তান ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের আড়াল করেছিল। ভারতীয় পক্ষ ওই সংগঠনকে পাকিস্তান-সমর্থিত বলে দাবি করেছে।

    শান্তি চাইলে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো বন্ধ করতে হবে

    শাহবাজ শরিফ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শান্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও ভারত জানিয়ে দিয়েছে, শান্তির পথ নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। গেহলট বলেন, পাকিস্তান যদি সত্যিই ভারতের সঙ্গে শান্তি চায়, তা হলে অবিলম্বে সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ শিবির বন্ধ করতে হবে। দিল্লির নিশানায় থাকা সন্ত্রাসবাদীদের ভারতের হাতে তুলে দিতে হবে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও জনপরিসরের বক্তব্য নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “ঘৃণা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতায় ডুবে থাকা একটি দেশ” রাষ্ট্রসংঘে ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে অন্য দেশকে উপদেশ দিচ্ছে—বিষয়টি “অত্যন্ত পরিহাসের”।

    তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা নয়, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনও দেশের মধ্যস্থতার সম্ভাবনাও ফের খারিজ করেছে নয়াদিল্লি। গেহলট বলেন, ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই একমত যে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলি দ্বিপাক্ষিকভাবেই সমাধান করা হবে। তাই এ ক্ষেত্রে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার জায়গা নেই—এটাই ভারতের দীর্ঘদিনের জাতীয় অবস্থান। অন্যদিকে শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, পাকিস্তান শক্তিশালী অবস্থান থেকেই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব”-এর প্রশংসা করেন। তবে ভারত বরাবরই বলে এসেছে, সংঘর্ষ বন্ধের বিষয়ে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনসের (DGMO) মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই সমঝোতা হয়েছিল।

    অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপট

    ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পরবর্তীতে পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে। ভারতের দাবি অনুযায়ী, মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ছাড়াও পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি, রাডার, গোলাবারুদ ভাণ্ডার এবং কমান্ড ও কন্ট্রোল কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। মে মাসে এক সাংবাদিক বৈঠকে এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী পাকিস্তানের নূর খান বিমানঘাঁটির বিস্ফোরণের ছবি এবং রহিম ইয়ার খান বিমানঘাঁটির ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ের দৃশ্য প্রকাশ করেছিলেন। ভারতীয় পক্ষের দাবি, করাচির মালির ক্যান্টনমেন্টের কাছাকাছি এলাকাতেও সামরিক স্থাপনায় নির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছিল।

    পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবি খারিজ

    ভারতের দাবি, অপারেশন সিঁদুরে লস্কর-ই-তইবা (LeT), জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং হিজবুল মুজাহিদিনের একাধিক সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ধ্বংস করা হয় এবং ১০০-রও বেশি জঙ্গি নিহত হয়। পাকিস্তান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও ভারত সেগুলির অনেকগুলি প্রতিহত করে এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় বলে নয়াদিল্লির দাবি। চার দিনের এই সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটে ১০ মে। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরই সংঘর্ষ বন্ধ হয়। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্যে মূলত সেই ঘটনাপ্রবাহই তুলে ধরে পাকিস্তানের ‘জয়’-এর দাবি খারিজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, প্রকাশ্যে আসা সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও অন্যান্য তথ্য পাকিস্তানের বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

     

     

     

     

  • OIC: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্য, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার নেই’, কড়া জবাব ভারতের

    OIC: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্য, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার নেই’, কড়া জবাব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসি (অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন) গোষ্ঠীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ নিয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার ওআইসির (OIC) নেই। একই সঙ্গে পাকিস্তানকে ভারতবিরোধী প্রচারের মঞ্চ (Kashmir References) করে না দেওয়ার জন্যও ওআইসিকে পরামর্শ দিয়েছে ভারত।

    বুধবার এক বিবৃতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ওআইসির জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত মন্তব্যকে অপ্রয়োজনীয় এবং তথ্যগত ভাবে ভুল বলে অভিহিত করেছে। মন্ত্রকের বক্তব্য, “ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনও এখতিয়ারই নেই ওআইসির।”

    ভারত আরও একবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দু’টি দেশের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। আন্তর্জাতিক কোনও মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীরের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা তা পরিবর্তনের চেষ্টা ভারত মেনে নেবে না বলেও নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি।

    নিউ ইয়র্কে ওআইসির বৈঠক (OIC)

    মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির যোগাযোগ গোষ্ঠীর বৈঠক হয়। বৈঠকের পর ওআইসি জানায়, জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বলে তারা যে বিষয়টিকে উল্লেখ করেছে, তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে যোগাযোগ গোষ্ঠী। এর পরেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ওই মন্তব্যের বিরোধিতা করে বিবৃতি দেয়।

    ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ভারতের

    জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে বারবার মন্তব্য করার কারণে ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, “এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যকে বারবার সমর্থন করা ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।”

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপনের বিরোধিতা করে আসছে। নয়াদিল্লির অবস্থান হল, বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তা নিয়ে হস্তক্ষেপের কোনও প্রয়োজন নেই।

    পাকিস্তানকে ‘পরামর্শ’ দেওয়ার কথা ওআইসিকে

    ওআইসির বৈঠকে পাকিস্তানের ভূমিকারও সমালোচনা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, ভারত যে বিষয়গুলিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে, পাকিস্তান সেগুলিকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার জন্য ওআইসিকে ব্যবহার করছে (OIC)।

    বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “পাকিস্তানকে তার মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানোর জন্য মঞ্চ দেওয়ার পরিবর্তে, ওআইসির উচিত পাকিস্তানকে পরামর্শ দেওয়া।”

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও মদত দেওয়ার সুপ্রতিষ্ঠিত ও নথিবদ্ধ রেকর্ড রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে সন্ত্রাসবাদের যে হুমকি তৈরি হচ্ছে, ইসলামাবাদের উচিত প্রথমে সেই সমস্যার মোকাবিলা করা।

    ওআইসি বৈঠকে কী বললেন ইশাক দার?

    নিউ ইয়র্কে ওআইসির যোগাযোগ গোষ্ঠীর বৈঠকে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির সদস্য দেশগুলিকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    ২০১৯ সালের ৫ অগাস্টের পর ভারত যে পদক্ষেপগুলি নিয়েছে, সেগুলি প্রত্যাহারের দাবিও জানান দার। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার দাবিও তোলেন (Kashmir References) তিনি।

    পাকিস্তান জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়মিত আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরে আসছে। আর, ভারত বরাবরই এই ধরনের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর (OIC) দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এই বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

     

  • Donald Trump: ইরানের বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহে জোর, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডরকে সমর্থন ট্রাম্পের

    Donald Trump: ইরানের বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহে জোর, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডরকে সমর্থন ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিকাঠামোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন পথ থেকে সরিয়ে বিকল্প রুট গড়ে তোলার পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এ ক্ষেত্রে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বহুপাক্ষিক বৈঠকে মঙ্গলবার এ কথা (IMEC) বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    ট্রাম্প বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের জঙ্গি হামলা দেখিয়ে দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিকাঠামোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন পথ থেকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।”

    তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই আমার প্রশাসন ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর এবং তেল বাইরে নিয়ে যাওয়ার অন্যান্য পথ—তা পাইপলাইন হোক বা অন্য কোনও ব্যবস্থা—দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। একসঙ্গে আমরা এমন সব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার দ্বারপ্রান্তে রয়েছি, যেগুলি এক দশক ধরে এই অঞ্চলকে সমস্যায় রেখেছে।”

    ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (Donald Trump)

    ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর একটি বহুদেশীয় পরিবহণ, জ্বালানি ও যোগাযোগ পরিকাঠামো প্রকল্প। ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারত, আমেরিকা, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রকল্প নিয়ে সমঝোতাপত্রে সই করে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই করিডরের একটি পূর্বাঞ্চলীয় পথ ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে এবং একটি উত্তরাঞ্চলীয় পথ উপসাগরীয় অঞ্চলকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর মধ্যে রেলপথ, বন্দর-সংযোগ এবং সমুদ্র ও স্থলপথের যৌথ পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রকল্পের আওতায় জ্বালানি ও ডিজিটাল যোগাযোগের জন্য তার এবং পরিষ্কার হাইড্রোজেন পরিবহণের জন্য পাইপলাইন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এর লক্ষ্য ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সংযোগ আরও বাড়ানো।

    চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের বিকল্প হিসেবেও এই করিডরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ইরান-নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহণের সময় কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

    বাড়ছে বিকল্প জ্বালানি পথের গুরুত্ব

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহণপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অস্থিরতার কারণে বিকল্প জ্বালানি করিডরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যেও এই প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয়েছে।

    তবে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডর এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে রেলপথ, বন্দর ও মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সামগ্রিক সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয় (Donald Trump)।

    ইরানকে ফের কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    এদিকে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে ইরানকে ফের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমেরিকা ইরানকে আর্থিকভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে। তেহরান দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলেও আশা করছেন তিনি।

    ট্রাম্প বলেন, “একটা সময় আসবে যখন অনেক দেরি হয়ে যাবে এবং একটি দেশ হিসেবে তাদের টিকে থাকার সুযোগ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আমাদের হাতে আর থাকবে না। আমি সেটা দেখতে চাই না। তবে এই টেবিলে বসে থাকা মানুষগুলির অনেকেই সেটাই দেখতে চান।”

    ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প গত বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান ‘মিডনাইট হ্যামারে’র কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ওই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট পরমাণু স্থাপনাগুলি ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায় (IMEC)।

    তবে ২০২৫ সালের ওই হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবির বাইরে বিভিন্ন মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার নথি অনুযায়ী, ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পরমাণু স্থাপনাগুলিতে হামলা চালানো হয়েছিল। পরে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন নিয়ে ট্রাম্পের “সম্পূর্ণ ধ্বংস” দাবির মাত্রা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয় (Donald Trump)।

     

LinkedIn
Share