Tag: India

India

  • Mossad: বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতীয় অর্থনীতি ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন রাহুল গান্ধী? দাবি মোসাদের

    Mossad: বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতীয় অর্থনীতি ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন রাহুল গান্ধী? দাবি মোসাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদির জমানায় হাল ফিরেছে ভারতের অর্থনীতির। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকায় ভারতের স্থান এখন পাঁচ নম্বরে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) কীভাবে ভারতীয় অর্থনীতি ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন, তা ফাঁস করেছে ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ (Mossad)। এই মোসাদ রাহুল এবং কংগ্রেসের ওভারসিজ নেতা স্যাম পিত্রোদার ওপর গোপনে নজরদারি অভিযান চালায় বলে অভিযোগ। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে এই অভিযান শুরু হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় বিরোধী দলীয় নেতাদের বিতর্কিত আমেরিকান শর্ট-সেলার সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে বের করা।

    স্পুটনিকের খবর (Mossad)

    রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা স্পুটনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কর্পোরেট জালিয়াতির অভিযোগ এনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই মোসাদ এই বিষয়ে জড়িয়ে পড়ে। এই প্রতিবেদনের প্রভাবে আদানি গ্রুপের বাজার মূল্য প্রায় ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে যায়। বড়সড় ধস নামে ভারতের শেয়ার বাজারে।

    হাইফা বন্দরের শেয়ার

    ওই সময় আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন (এপিএসইজেড) ইজরায়েলের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাইফা বন্দরের অধিকাংশ শেয়ার কেনার জন্য ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি চূড়ান্ত করেছিল। ১৮ মাসের প্রতিযোগিতামূলক দরাদরির পর সম্পন্ন হয় চুক্তি। এই চুক্তিকে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (আইএমইইসি) প্রকল্পের মূল স্তম্ভ হিসেবে দেখা হচ্ছিল (Rahul Gandhi)।

    নেতানিয়াহুর প্রশ্ন

    হাইফা বন্দর অধিগ্রহণের সভায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানিকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “হিন্ডেনবার্গের এই প্রতিবেদনটি আপনার ব্যবসার জন্য একটি বড় হুমকি, তাই না?” আদানি সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে উত্তর দিয়েছিলেন, “একেবারেই না। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা (Mossad)।”
    তবে নেতানিয়াহুকে অপ্রতিভ দেখাচ্ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেছিলেন, “আপনি যদি কোনও হুমকি না-ও দেখেন, আমাদের সতর্ক থাকতেই হবে। এটি আপনাকে দুর্বল করলে শুধু এই বন্দর চুক্তিই নয়, ভারতের সঙ্গে যে সম্পর্ক আমরা গড়ে তুলেছি, তা নষ্ট হতে পারে।” হিন্ডেনবার্গের অভিযোগগুলিকে ইজরায়েলের স্বার্থের বিরুদ্ধে পরোক্ষ আক্রমণ বলে উল্লেখ করে নেতানিয়াহু আদানিকে আশ্বস্ত করেন, “ইজরায়েল তার বন্ধুদের রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এটি খতিয়ে দেখব।” এর পরেই আদানির অজান্তেই নেতানিয়াহু মোসাদকে সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেন।

    অপারেশন জেপেলিন

    স্পুটনিকের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে চালু হয় অপারেশন জেপেলিন। এটি একটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহমূলক উদ্যোগ, যা হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট ও তার পরবর্তী প্রভাব পরিকল্পনা বা সমর্থনকারী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ট্র্যাক করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। মোসাদের দুটি এলিট ইউনিট – টজমেট এবং কেশেত তৎপরতা শুরু করে। তাদের মিশন ছিল প্রতিবেদনের উৎস ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা, যাকে কেবল একটি কর্পোরেট আক্রমণ নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারত-ইসরায়েলি জোটের (Rahul Gandhi) বিরুদ্ধে ভূ-অর্থনৈতিক আক্রমণ হিসাবে বিবেচনা করা হয় (Mossad)।

    মোসাদের দাবি

    হিন্ডেনবার্গের প্রতিষ্ঠাতা নাথান অ্যান্ডারসন ও তাঁর নিউ ইয়র্ক-ভিত্তিক অফিসকে নজরদারির আওতায় আনা হয়। মোসাদের দাবি, এই ষড়যন্ত্রে অ্যাক্টিভিস্ট ল’ইয়ার, সিমপ্যাথেটিক মিডিয়া আউটলেট, হেজ ফান্ড এবং হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক নেতারা জড়িত রয়েছেন। তাদের আরও দাবি, এই ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন, ডিপ স্টেট এবং জর্জ সরোসের সঙ্গে যুক্ত।মোসাদের তদন্তের অভিমুখ শীঘ্রই ঘুরে যায় ভারতের বিশিষ্ট বিরোধী নেতাদের দিকে, যার মধ্যে রয়েছেন রাহুল গান্ধী ও স্যাম পিত্রোদা। স্পুটনিকের দাবি, পিত্রোদার আমেরিকা-ভিত্তিক বাড়ির সার্ভার থেকে পাওয়া এনক্রিপ্টেড তথ্য থেকে গোপন যোগাযোগ ও ব্যাকচ্যানেল আলোচনার প্রমাণ মিলেছে, যা তাঁদের হিন্ডেনবার্গ ও এর গ্লোবাল সমর্থকদের সঙ্গে যুক্ত করছে।

    ‘বিটার ডাইনাস্ট’

    এই দাবি অনুযায়ী, মোসাদের অভ্যন্তরীণ নথিতে যাকে ‘বিটার ডাইনাস্ট’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই রাহুল গান্ধী আদানি গোষ্ঠী ও মোদি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে হিন্ডেনবার্গের নেটওয়ার্কের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় সাধন করছিলেন। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মে মাসে রাহুল ক্যালিফোর্নিয়ার প্যালো অল্টোয় ছিলেন, যেখানে তিনি হিন্ডেনবার্গ অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেন। অন্যদিকে, ব্লিৎসের তদন্ত রিপোর্ট বলছে, নিউ ইয়র্কে নাথান অ্যান্ডারসনের সঙ্গে রাহুলের গোপন বৈঠকও হয়েছে (Mossad)।

    যদিও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস হিন্ডেনবার্গ, সোরোস বা কোনও বিদেশি হস্তক্ষেপ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। তাদের সাফ কথা, এই অভিযোগগুলি হিন্ডেনবার্গ প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু থেকে মনোযোগ সরাতে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নিজের দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা যতই মহৎ হোক না কেন, কখনওই ন্যায্য হতে পারে না। মোসাদের ‘অপারেশন জেপেলিনে’ প্রকাশিত তথ্য যদি সত্যি হয়, তাহলে রাহুল গান্ধীর বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ – যার মধ্যে রয়েছেন ডিপ স্টেটের (Rahul Gandhi) এজেন্টরা, জর্জ সরোস এবং অন্যান্য ভারত-বিরোধী নেটওয়ার্ক –রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে (Mossad)।

  • Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা আরব মুলুকের, কে কী বলল?

    Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা আরব মুলুকের, কে কী বলল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর জঙ্গি হামলার (Pahalgam Terror Attack) তীব্র নিন্দা করেছে আরব বিশ্বের (Arab World) বিভিন্ন দেশ। মঙ্গলবারই দু’দিনের সৌদি আরব সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেদিনই দুপুরে পহেলগাঁওয়ে বেছে বেছে হিন্দু পর্যটকদের গুলি করে হত্যা করা হয়। জঙ্গি হামলায় এক নেপালি-সহ মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

    কুয়েতের প্রতিক্রিয়া (Pahalgam Terror Attack)

    কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সাবাহ খালেদ আল হামাদ আল সাবাহ পহেলগাঁওয়ে মর্মান্তিক প্রাণহানির জন্য বুধবারই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন আহতদের। সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রকও এই হামলার নিন্দা করে জারি করেছে বিবৃতি। তাতে বলা হয়েছে, “সব ধরনের হিংসা, চরমপন্থা এবং অসামরিক নাগরিকদের টার্গেটে পরিণত করার ক্ষেত্রে সৌদি আরব তার দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করে।” বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, “ভুক্তভোগীদের পরিবার ও ভারত প্রজাতন্ত্রের সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করা হচ্ছে।”

    সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া

    প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের সময় দুই দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “উভয় পক্ষ ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহলেগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, যেখানে নিরীহ অসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটেছে।” বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যে কোনও কারণেই হোক না কেন, কোনও জঙ্গি কর্মকাণ্ডের কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে পারে না। উভয় পক্ষই সন্ত্রাসবাদকে কোনও নির্দিষ্ট জাতি, ধর্ম বা সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার যে কোনও প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে সন্ত্রাসবাদ এবং সকল ধরণের সহিংস চরমপন্থা মানবতার জন্য সবচেয়ে গুরুতর হুমকির মধ্যে রয়েছে (Pahalgam Terror Attack)।”

    জঙ্গি হামলার কড়া নিন্দা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার লক্ষ্যে সকল ধরণের হিংসা ও সন্ত্রাসবাদকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাখ্যান করছে (Arab World)।” সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ভারত সরকার ও জনগণের পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে (Pahalgam Terror Attack)।

  • Indus Waters Treaty: সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করল ভারত, থমকে যাবে পাক জনজীবন? জানুন বিস্তারিত

    Indus Waters Treaty: সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করল ভারত, থমকে যাবে পাক জনজীবন? জানুন বিস্তারিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবারই জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন ২৭ জন ভারতীয়। লস্কর-ই-তৈবার শাখা, রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) এই হামলা চালায়। এর ঠিক একদিন পরেই বুধবার মোদি সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে কয়েক দশকের পুরনো সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। মোদি সরকারের এমন সিদ্ধান্তে সিন্ধু নদী সমেত তার শাখানদীগুলি – ঝিলাম, চেনাব, রবি, বিপাশা এবং শতদ্রুর জল পাকিস্তানে আর যাবে না। সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতের পরে বেশ বিপাকে পড়তে চলেছে পাকিস্তান। এমনটাই মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। চুক্তি স্থগিতের বিরাট প্রভাব পড়তে চলেছে কয়েক কোটি পাক নাগরিকের ওপর। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা দরকার, ২০১৯ সালে পুলওয়ামায় হামলার পরে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেছিলেন ‘‘রক্ত এবং জল একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না।’’ তবে সেসময় ভারত জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

    চুক্তি স্বাক্ষর হয় ১৯৬০ সালে (Indus Waters Treaty)

    ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের (Pakistan) মধ্যে সিন্ধু জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই দুই দেশ ছাড়াও অতিরিক্ত স্বাক্ষরকারী ছিল বিশ্বব্যাঙ্ক। এই চুক্তিতে সিন্ধু এবং এর উপনদীগুলির জল দুই দেশের মধ্যে ন্যায্যভাবে ভাগ করার কথা বলা হয়েছিল। চুক্তির অধীনে, পূর্বাঞ্চলীয় ৩ নদী – বিপাশা, রবি এবং শতদ্রুর জল ভারতকে এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় ৩ নদী – চেনাব, সিন্ধু এবং ঝিলামের জল পাকিস্তানকে বরাদ্দ করা হয়েছিল (Indus Waters Treaty)। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে একে অপরের নদী ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। যেমন ছোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু, জলসেচ ইত্যাদি কাজে।

    কে কীভাবে জলের ভাগ পাবে

    এই চুক্তি অনুযায়ী (Indus Waters Treaty) পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি নদী – বিপাশা, রবি এবং শতদ্রু নদীর জলের ওপর নিয়ন্ত্রণ পায় ভারত। এই নদীগুলি ভারতেই অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই নদীগুলির গড় বার্ষিক প্রবাহ ৪১ বিলিয়ন (৪ হাজার ১০০ কোটি) ঘনমিটার। অন্যদিকে, তিনটি পশ্চিমাঞ্চলীয় নদী সিন্ধু, চেনাব এবং ঝিলাম – নদীর জলের ওপর নিয়ন্ত্রণ পায় পাকিস্তান। এই নদীগুলির গড় বার্ষিক প্রবাহ ৯৯ বিলিয়ন (৯ হাজার ৯০০ কোটি) ঘনমিটার।  ভারতে অবস্থিত সিন্ধু নদীর মোট জলের প্রায় ৩০ শতাংশ পায় ভারত। অন্যদিকে বাকি ৭০ শতাংশ পায় পাকিস্তান।

    সিন্ধু জল চুক্তির (Indus Waters Treaty) প্রস্তাবনায় কী বলা হয়েছে

    সিন্ধু জল চুক্তির প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে সদিচ্ছা, বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার মনোভাবের কথা। সিন্ধু নদীর জল থেকে দুই দেশই যাতে উপকৃত হয় এবং সুবিধা পায়, সেকথাই বলা হয় প্রস্তাবনায়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু নদী ব্যবস্থায় ভারতীয় অংশে অবস্থিত যে কোনও বাঁধ, ব্যারেজ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদিতে পাকিস্তান হামলা চালালে তা চুক্তি লঙ্ঘন বলে মনে করা হবে। এর ফলে বাতিল করা হতে পারে সিন্ধু জল চুক্তি।

    ভারত-পাকিস্তানের বাঁধ বিরোধ

    এই চুক্তি মূলত জল বণ্টনের ওপর তৈরি হলেও জম্মু ও কাশ্মীরে অবস্থিত কিষাণগঙ্গা এবং রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প (Indus Waters Treaty) নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ রয়েছে। প্রসঙ্গত, কাশ্মীরের ঝিলাম নদীর একটি উপনদী হল কিষাণগঙ্গা। এই কিষাণগঙ্গা নদীর এক পাড়ে বান্দিপোরা জেলায় কিষাণগঙ্গা প্রকল্পটি ২০১৮ সালে উদ্বোধন করা হয়েছিল। অন্যদিকে, কিশতোওয়ার জেলার চেনাব নদীর উপর অবস্থিত রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ চলছে। পাকিস্তানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নির্মিত এই দুই ভারতীয় বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাক সরকারের দাবি, এর ফলে তাদের সেচযোগ্য জল সরবরাহকারী নদীগুলির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক মঞ্চের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ ভারতকে কিষাণগঙ্গা বাঁধ নির্মাণের অনুমতি দেয়। খারিজ করে পাকিস্তানের দাবি। চলতি বছরে, নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালত ভারত সরকারের অবস্থানকেই সমর্থন করেছে। আদালতে রায় হল, বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সিন্ধু জল চুক্তি তৈরি হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে ভারতের সিদ্ধান্ত সঠিক। কাশ্মীরে কিষাণগঙ্গা এবং রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আবেদনের ভিত্তিতেই এই রায় দেওয়া হয়।

    কেন ভয় পায় পাকিস্তান?

    এক্ষেত্রে উল্লেখ করা দরকার, সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) কোনওভাবেই দুই দেশের নিরাপত্তার দিকে কোনওভাবেই যুক্ত নয়। পাকিস্তানের বরাবরেরই আশঙ্কা যে সিন্ধুর উপনদীগুলির প্রবাহের একেবারে নিচের অংশে তাদের অবস্থান। তাই ভারত যে কোনও সময় তাদের দেশে বন্যা বা খরার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। আর যদি যুদ্ধ লাগে তাহলে তো এটা হতেই পারে। এমন আশঙ্কা পাকিস্তানের প্রথম থেকেই। অর্থাৎ ১৯৪৮ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেই ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ বাঁধে। এই যুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল সিন্ধু নদীর জল ব্যবস্থার উপর কার অধিকার থাকবে। তবে পরবর্তীকালে ১৯৬০ সালে সিন্ধু জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই সিন্ধু জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরে অন্তত জল ব্যবস্থার অধিকার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কখনও যুদ্ধ বাঁধেনি। এ নিয়ে বেশিরভাগই তাদের যে বিরোধ সামনে এসেছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একটা সময় ছিল যখন সিন্ধু জল চুক্তিকে একসময় বিশ্বের সবচেয়ে সফল জল বন্টন চুক্তি হিসেবে মনে করা হত। কিন্তু বর্তমানে বারবার সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় এবং প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে সেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করতে বাধ্য হল মোদি সরকার।

    পাকিস্তানের জিডিপির ২৫ শতাংশ নির্ভর করে এই সিন্ধুর জলের উপরেই

    সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত হয়ে যাওয়ার ফলে চরম দুর্দিনে পড়তে চলেছে পাকিস্তান। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সেদেশের ৮০ শতাংশ কৃষিজমিতে জল সরবরাহ হয় এই চুক্তির মাধ্যমেই। এমনিতেই আর্থিক সংকটে ভুগছে পাকিস্তান। তারপরে এমন চুক্তি স্থগিত করার অর্থ হল মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। জানা যাচ্ছে, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় জলের ৯০ শতাংশেরও বেশি আসে সিন্ধু নদী থেকে। এর পাশাপাশি করাচি, মুলতান, লাহোরের মতো বড় শহরগুলিতেও সিন্ধু নদীর জলই ব্যবহৃত হয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পাকিস্তানের তারবেলা এবং মাংলার জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চলে সিন্ধুর জল থেকেই। গম, চাল, আখ, তুলো চাষ এবং পাকিস্তানের জিডিপির ২৫ শতাংশ নির্ভর করে এই সিন্ধুর জলের উপরেই, এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই এই চুক্তি মোতাবেক জল না পেলে পাকিস্তানের কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জনজীবন-সবই থমকে যাবে বলে আশঙ্কা পাক নাগরিকদের। এমনিতেই পাকিস্তানে প্রবল জল সংকট চলছে, তাই সিন্ধু নদীর জল না পেলে কার্যত শুকিয়ে যাবে দেশের বিরাট অংশ।

  • PM Modi: ভুল মানচিত্র দেখাচ্ছে, চিনা অ্যাপ সরানোর নির্দেশ গুগলকে

    PM Modi: ভুল মানচিত্র দেখাচ্ছে, চিনা অ্যাপ সরানোর নির্দেশ গুগলকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের (PM Modi) ভুল মানচিত্র দেখাচ্ছে গুগল। তাই ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক ও ভারতের সমীক্ষা দফতর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলকে তাদের প্লে স্টোর থেকে চিনা চ্যাট অ্যাপ ‘অ্যাবলো’ সরায়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতের যুক্তি, অ্যাপটিতে ভারতের আঞ্চলিক সীমানা সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি (Chinese App)।

    সরকারি নোটিশ (PM Modi)

    সরকারি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, চিন-ভিত্তিক এই ভিডিও চ্যাট প্ল্যাটফর্ম, যার গুগল প্লে-তে ১০ হাজারেরও বেশি ডাউনলোড রয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে এবং মানচিত্র থেকে লাক্ষাদ্বীপ দ্বীপপুঞ্জকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়েছে। এই নির্দেশনায় ফৌজদারি আইন (সংশোধন) আইন, ১৯৯০-এরও উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই ধরনের ভুল উপস্থাপনাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করে। এই অপরাধে দোষীদের সর্বোচ্চ ছ’মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে।

    ‘অ্যাবলো’ অ্যাপ

    নোটিশে বলা হয়েছে, “এটি স্পষ্ট যে গুগল প্লে স্টোরে উপলব্ধ ‘অ্যাবলো’ অ্যাপটির মানচিত্রে ভারতের বাহ্যিক সীমানা ভুলভাবে দেখানো হয়েছে, যা ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।” ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক গুগলকে পাঠানো নোটিশে তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ধারা ৭৯(৩)(খ) উল্লেখ করেছে, যা প্ল্যাটফর্মগুলিকে ভারতীয় আইন লঙ্ঘনকারী কন্টেন্ট অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে বা অ্যাক্সেস নিষ্ক্রিয় করতে বাধ্য করে (PM Modi)। ওই নোটিশে বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভুল মানচিত্র প্রদর্শনের বিষয়টি সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে এক বৈঠকে উঠে এসেছে। মন্ত্রক সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে ওই অ্যাপের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।

    তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক সুপ্রিম কোর্টের ২০১৫ সালের শ্রেয়া সিংহাল বনাম ভারত ইউনিয়ন রায়েরও উল্লেখ করেছে, যা সরকারের বৈধ আদেশ মানতে প্ল্যাটফর্মগুলিকে বাধ্য করে। গুগল এই নির্দেশ মেনে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কারণ অ্যাপটির গুগল প্লে স্টোর ল্যান্ডিং পেজে এখন লেখা দেখা যাচ্ছে (Chinese App), “আমরা দুঃখিত, এই সার্ভারে অনুরোধ করা ইউআরএল খুঁজে পাওয়া যায়নি”। অ্যাপটি এখন ভারতীয় ইউজারদের জন্য অ্যাপল অ্যাপ স্টোরেও অনুপলব্ধ (PM Modi)।

  • Alphabet: ভিয়েতনাম থেকে ভারতে পিক্সেল উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে অ্যালফাবেট!

    Alphabet: ভিয়েতনাম থেকে ভারতে পিক্সেল উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে অ্যালফাবেট!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট (Alphabet) তাদের পিক্সেল (Pixel Production) স্মার্টফোন উৎপাদনের একটি বড় অংশ ভিয়েতনাম থেকে ভারতে সরিয়ে নিয়ে আসছে। এজন্য তারা চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডিক্সন টেকনোলজিস ও ফক্সকনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বলেও খবর। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই পদক্ষেপটি অ্যালফাবেটের সরবরাহ শৃঙ্খল ডাইভার্সিফাই করার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ঝুঁকি কমানোর বৃহত্তর কৌশলেরও অংশ। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি পিক্সেল স্মার্টফোনের বর্তমান প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র ভিয়েতনাম থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর ৪৬ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাব করেছে। ভারতের ক্ষেত্রে এই হার মাত্রই ২৬ শতাংশ। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নতুন শুল্ক হার ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন, তবে বেসলাইন ১০ শতাংশ শুল্ক এখনও কার্যকর রয়েছে।

    পিক্সেল স্মার্টফোন (Alphabet)

    বর্তমানে ভারতে তৈরি পিক্সেল স্মার্টফোনগুলি মূলত দেশীয় বাজারের জন্য তৈরি, যেখানে আমদানি শুল্ক ১৬.৫ শতাংশ। ডিভাইসগুলি নয়ডার ডিক্সন এবং তামিলনাড়ুর ফক্সকন দ্বারা একত্রিত করা হয়। এখানে ডিক্সন নতুন মডেল তৈরি করে এবং ফক্সকন পুরানো মডেলগুলি তৈরি করে (Pixel Production)। ভারতে তৈরি পিক্সেলের প্রায় ৭০ শতাংশই ডিক্সনে তৈরি হয়। ফক্সকনই প্রথম ২০২৩ সালের অগাস্টে এখানে উৎপাদন শুরু করে। তাইওয়ানের কম্পাল ইলেকট্রনিক্সের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ডিসেম্বরে ডিক্সন এই প্রচেষ্টায় যোগ দেন (Alphabet)।

    ভারতে স্থানান্তরের পরিকল্পনা

    সূত্রের খবর, অ্যালফাবেট প্রাথমিকভাবে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পিক্সেল উৎপাদন ধীরে ধীরে ভারতে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সম্ভাব্য মার্কিন-ভিয়েতনাম শুল্ক ব্যবস্থার কারণে কোম্পানিটি তার কৌশল দ্রুত বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হয়েছে। সংস্থাটি এখন ভারত থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং অন্যান্য দেশেও সম্ভাব্য চালান অনুসন্ধান করছে।

    এই অগ্রগতি নয়াদিল্লির বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও কাজ করছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমান ১৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা (Pixel Production)।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্ট্যাটকাউন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গুগলের পিক্সেল স্মার্টফোনের বাজার শেয়ার সাম্প্রতিক লঞ্চের পর প্রায় ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ভারতে প্রিমিয়াম মূল্য নীতির কারণে এই ব্র্যান্ডটি এখনও একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ। যদিও অফলাইন রিটেল চ্যানেলে প্রবেশের পর থেকে কিছুটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে (Alphabet)।

  • JD Vance: ‘‘ভারত-মার্কিন বাণিজ্যের শর্ত চূড়ান্ত’’, মোদির সঙ্গে বৈঠকের পরদিন জানালেন ভান্স

    JD Vance: ‘‘ভারত-মার্কিন বাণিজ্যের শর্ত চূড়ান্ত’’, মোদির সঙ্গে বৈঠকের পরদিন জানালেন ভান্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের ঠিক পরদিন, আজ মঙ্গলবার আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স (JD Vance) জানালেন, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে শর্তাবলী চূড়ান্ত হয়েছে। প্রসঙ্গত ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির মধ্যে মার্কিন (USA) উপরাষ্ট্রপতির এমন মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    কী বললেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট (JD Vance) বলেন, ‘‘আমাদের দেশ সর্বদা সেভাবেই বাণিজ্য বন্ধু বানাতে চায় যারা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আমাদের সঙ্গে কাজ করবে। আমরা সবসময় নিজেদের জাতীয় স্বার্থকেই সামনে রাখি। আমরা চাই বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে একটি শক্তপোক্ত সম্পর্ক। যে দেশগুলি তাদের শ্রমিকদের সম্মান করে এবং নিজেদের রফতানি বাড়ানোর জন্য শ্রমিকদের মজুরি কেটে নেয় না বরং তাঁদের শ্রমের মূল্যকে সম্মান করে।’’ মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘‘আমরা এমন দেশকেই নিজেদের বাণিজ্য বন্ধু হিসেবে চাই, যারা আমেরিকার সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা সেই সমস্ত দেশকেই নিজেদের বাণিজ্য বন্ধু হিসেবে চাই, যারা উন্মুক্ত, স্থিতিশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ একটি বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্যোগী হবে।’’ মার্কিন উপরাষ্ট্রপতির মতে, ‘‘আমেরিকার সঙ্গে ভারতের অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতেই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।’’

    সোমবারই তিনদিনের ভারত সফরে এসেছেন ভান্স

    প্রসঙ্গত, সোমবারই তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স (JD Vance)। সোমবার সকালে দিল্লির পালাম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে তাঁর বিশেষ বিমান। ভান্সের সঙ্গে সফরে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী, ভারতীয় বংশোদ্ভূত উষা ভান্স এবং তিন শিশুসন্তান— ইওয়ান, বিবেক ও মিরাবেল। ভান্সের তিন সন্তানই ভারতীয় পোশাক পরে এদেশে আসে। প্রসঙ্গত, আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথমবার ভারতে এলেন মার্কিন (USA) উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভান্স। দিল্লির পালাম বিমানঘাঁটিতে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় রেল এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বিমানঘাঁটিতে ভান্সকে (JD Vance) ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়া হয়।

  • India BrahMos Missile: ব্রহ্মোসের গর্জনে কাঁপবে চিন! ফিলিপিন্সের পর ভিয়েতনামের সঙ্গে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির পথে ভারত

    India BrahMos Missile: ব্রহ্মোসের গর্জনে কাঁপবে চিন! ফিলিপিন্সের পর ভিয়েতনামের সঙ্গে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির পথে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দাপট দেখাচ্ছে ভারত। আমেরিকা-রাশিয়ার মতো এবার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানির খেলায় ময়দানে নেমে পড়েছে ভারতও। ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র (India BrahMos Missile) রফতানিতে ভারতের পরবর্তী গন্তব্য হতে চলেছে ভিয়েতনাম। ভারত ও ভিয়েতনামের মধ্যে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, এই চুক্তি কয়েক মাসের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে। ফিলিপিন্সের মতোই ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের উপকূলীয় ব্যাটারি সিস্টেম ভারত থেকে সংগ্রহ করতে চায় ভিয়েতনাম।

    চিনকে টক্কর দিতেই ব্রহ্মস

    ব্রহ্মোসের (India BrahMos Missile) ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষমতা ভিয়েতনামকে দক্ষিণ চিন সাগরে তার সামুদ্রিক সীমানা সুরক্ষিত করতে সহায়তা করবে। এতে করে চিনা যুদ্ধজাহাজের হুমকির মোকাবিলায় ভিয়েতনাম আরও প্রস্তুত থাকবে, বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের। যদি ভারত-ভিয়েতনাম ব্রহ্মস চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে ফিলিপিন্সের পর ভিয়েতনাম হবে দ্বিতীয় দেশ, যারা তাদের নৌবাহিনীতে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করবে। প্রসঙ্গত, ভারত ২০২২ সালে ফিলিপিন্সের সঙ্গে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি ব্রহ্মোস চুক্তি করেছিল, যা ছিল এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম আন্তর্জাতিক বিক্রি। ভিয়েতনামের এই সম্ভাব্য চুক্তি ইঙ্গিত দেয় যে, চিনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধে জড়িত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ব্রহ্মোসের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ব্রহ্মোস নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াই নয়, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশও ব্রহ্মোস সংগ্রহে আগ্রহ দেখিয়েছে।

    ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব কী?

    ব্রহ্মোস (India BrahMos Missile) ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২৯০ কিলোমিটার এবং এটি শব্দের গতির চেয়ে আড়াই গুণ বেশি গতিতে উড়তে পারে। এটি বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে একটি। এটি যৌথভাবে রাশিয়ার ডিআরডিও এবং এনপিওএম দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি, ভারতীয় বিমান বাহিনী সুখোই বিমান থেকে ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মোস সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিনটি শাখাই ব্রহ্মোস ব্যবহার করে। ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র তার গতি ও নির্ভুল আক্রমণের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত। ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ভারতীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। পদাতিক সেনা তো বটেই, বায়ুসেনা এবং নৌবাহিনীও এই ক্ষেপণাস্ত্রে ভরসা রেখে আসছে।

    আরও উন্নত ব্রহ্মোস

    ২০১৬ সালে ভারত মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম (MTCR)-এর সদস্য হওয়ার পর, ব্রহ্মোসের পাল্লা ৩০০ কিমির বেশি বাড়ানোর পথ খুলে যায়। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, ৩০০ কিমির বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে প্রথমে ভারত ও রাশিয়ার যৌথভাবে তৈরি ব্রহ্মোসের পাল্লা সীমিত ছিল ২৯০ কিমি পর্যন্ত। বর্তমানে ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৪০০ থেকে ৬০০ কিমি পর্যন্ত বাড়ানোর কাজ করছে। সম্প্রতি ভারতীয় বায়ুসেনা একটি সু-৩০ যুদ্ধবিমান থেকে ৪০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোসের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।

    প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানিতে এগোচ্ছে ভারত

    মেক-ইন-ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় বেড়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, ‘চলতি বছরে ১.৬০ লক্ষ কোটি টাকা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করা হবে। আমাদের লক্ষ্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত ৩ লক্ষ কোটি টাকা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করবে ভারত।’ একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের। যা চলতি বছরে এসে ঠেকেছে ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকায়। প্রসঙ্গত, ফিলিপিন্সকে ব্রহ্মোস পাঠিয়েই ক্ষান্ত হয়নি ভারত। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামের সঙ্গে ব্রহ্মোস-চুক্তি সাক্ষর করতে চলেছে নয়াদিল্লি।

    চিন্তায় চিন

    ব্রহ্মোসের (India BrahMos Missile) প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক চাহিদা বৃদ্ধিতে চিন্তিত চিন। বিশেষ করে দক্ষিণ চিন সাগরের ওপর তার দাবিকে ঘিরে ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে চিনের সম্পর্ক উত্তপ্ত। এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য ব্রহ্মোস এক প্রতিরক্ষা কৌশলের মূল হাতিয়ার হয়ে উঠছে। দক্ষিণ চিন সাগরে আধিপত্য থাকবে কার, এই নিয়ে উত্তর-পূর্ব দেশগুলির মধ্যে বিরোধ নতুন নয়। চিনের ‘দাদাগিরি’ আটকাতে প্রায়ই ফিলিপিন্স, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া লড়াই করে। দক্ষিণ চিন সাগরে একাধিপত্য বিস্তার করতে সব সময়ই আগ্রাসী ভূমিকা নেয় বেজিং। এই সাগরে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ তারা। ফিলিপিন্স-সহ অন্য দেশগুলিও যে পিছু হটতে নারাজ তা বার বার বুঝিয়ে দিয়েছে। তাই এই সব দেশগুলির সঙ্গে সংঘাত লেগেই রয়েছে চিনের। সেই সংঘাতেই এবার জড়িয়ে পড়ল ভারতও। এ দেশে তৈরি দূরপাল্লার ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই ফিলিপিন্সে পৌঁছেছে। এবার পালা ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ার।

     

     

     

  • India Bangladesh Relation: ভারত বিরোধিতাই কাল হল বাংলাদেশের! ঘোর বিপাকে ইউনূস সরকার

    India Bangladesh Relation: ভারত বিরোধিতাই কাল হল বাংলাদেশের! ঘোর বিপাকে ইউনূস সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত বিরোধিতাই কাল হয়েছে বাংলাদেশের (India Bangladesh Relation)! যতই দিন যাচ্ছে ততই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা ভালোই বুঝতে পারছেন ভারত-বিরোধী মনোভাব পোষণ করায় কী খেসারতটাই না দিতে হচ্ছে! বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ডই হল রেডিমেড পোশাক শিল্প। এটিই একমাত্র শিল্প যা দেশের মোট রফতানির প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং (India) মোট জিডিপির ১৩ শতাংশ অবদান রাখে। প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ এই পোশাক শিল্পে কাজ করেন। এঁদের সিংহভাগই নারী।

    করোনা পর্যায়ে বাংলাদেশকে সাহায্য ভারতের (India Bangladesh Relation)

    করোনা অতিমারির সময় যখন সারা বিশ্বে মাস্ক, মেডিক্যাল টেক্সটাইল, গ্লাভস এবং হাসপাতালের পোশাকের ব্যাপক চাহিদা ছিল, তখন বাংলাদেশের কাছে বিক্রির জন্য পণ্য মজুত থাকলেও, বিশ্ববাজারে সরবরাহের উপায় ছিল না। ভারতেরও বিশ্বব্যাপী পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কোনও উপায় ছিল না। তা সত্ত্বেও পড়শি দেশকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল ভারত। সেই সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের সরবরাহ শৃঙ্খলা সংশোধনের জন্য নয়াদিল্লির কাছে সাহায্য চেয়েছিল। এরপর ভারত বাংলাদেশকে সাহায্যের পাশাপাশি তার জন্য নিজেদের সরবরাহ শৃঙ্খলার দরজাও খুলে দেয়। ভারত বাংলাদেশকে নিজ বন্দর ও বিমানবন্দরের মাধ্যমে ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধা দেয়, অতিমারির বাজারে যা বাংলাদেশকে বিশেষ মাইলেজ দেয়।

    পণ্য সরবরাহের পর্যাপ্ত ক্ষমতা নেই

    বাংলাদেশের বন্দর ও বিমানবন্দরগুলির বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহের পর্যাপ্ত ক্ষমতা নেই। তাছাড়া, বাংলাদেশ যদি নিজেদের বিমানবন্দর ও বন্দর থেকে পণ্য বিক্রি করে, তাহলে এর খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। উল্টোদিকে, কলকাতা থেকে পণ্য পাঠানোর খরচ পড়ে কিলোগ্রাম প্রতি মাত্র ২ থেকে ২.৫ মার্কিন ডলার। কিন্তু সরাসরি বাংলাদেশ থেকে একই পণ্য পাঠালে কিলোগ্রাম প্রতি ৫ থেকে ৬ মার্কিন ডলার খরচ হয়। তাই ভারত (India) যখন বাংলাদেশকে ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধা দিয়েছিল, তা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে গেম-চেঞ্জার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। সেই সময় ভারত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নামমাত্র ফি নিয়েছিল (India Bangladesh Relation)।

    ভারতের মাটি ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি

    বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ভারতের মাটি ব্যবহার করে তাঁদের পণ্য বিক্রি করতেন। ভারতীয় রুটে পণ্য ভারতের বন্দর ও বিমানবন্দরে আনা হত, তারপর সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে পাঠানো হত। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ট্রাকযোগে পেট্রাপোল-বেনাপোলের মতো ভারতের স্থল বন্দরে পণ্য আনতেন। পরে সেগুলি কলকাতা, হলদিয়া, নহবা শেভার মতো বড় বড় বন্দর বা দিল্লি ও কলকাতার বিমানবন্দরে পাঠানো হতো। সেখান থেকে সমুদ্রপথে বা আকাশপথে বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ করা হত। অর্থাৎ, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা যদি নিজ দেশ থেকে কোনও পণ্য ইউরোপের দেশে পাঠাতেন, তাহলে ভারতের মাধ্যমে পাঠানোর তুলনায় খরচ তিন গুণ বেড়ে যেত।

    ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধা বাতিল

    ভারত বাংলাদেশকে প্রদত্ত ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধা বাতিলের কারণ হিসেবে নিজেদের বন্দর ও বিমানবন্দরে বাড়তে থাকা জটিলতার উল্লেখ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা একে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত অকারণে এমন ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধা বন্ধ করেনি। এর আগে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে স্থলবন্দরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল এবং ভারত থেকে সুতা (India) আমদানিকে টার্গেট করেছিল। বাংলাদেশের এহেন আচরণ ভারত পছন্দ করেনি। তাছাড়া, মহম্মদ ইউনূস যখন বেইজিংয়ে ভারতের ‘চিকেন নেক’কে টার্গেট করার চেষ্টা করেছিলেন, বস্তুত তখনই ভারতের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। ভারতের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ টানা প্রয়োজন হয়ে পড়ে এবং তারা সেটিই করেছে। তবে ভারত ইউনূসকে তাঁর ভুল সংশোধনের শেষ একটি সুযোগ দিয়েছিল। ব্যাংককে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ইউনূসের বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করেছিল। কিন্তু তার পরেও যখন ইউনূস নিজেকে সংশোধন করেননি, তখনই ভারত বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধা বাতিল করে দেয় (India Bangladesh Relation)।

    ১৭০টি কারখানা বন্ধ

    শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের বেক্সিমকো শিল্প পার্কে ইতিমধ্যেই ১৭০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র এই একটি শিল্পাঞ্চলেই চাকরি খুইয়েছেন ৪০ হাজার মানুষ। এখন বাংলাদেশকে তার পণ্য প্রথমে শ্রীলঙ্কা, মলদ্বীপ বা পাকিস্তানে পাঠিয়ে তারপর রফতানি করতে হবে। এটি ব্যয়বহুল হবে। যার ফলে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কমে যাবে বিক্রি (India)। বাংলাদেশ ভারতীয় স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধ করেছে। ইউনূস প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের রফতানিকারীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে অনেক কম দামে সুতা কিনতেন। বাংলাদেশের সুতা আমদানিতে ভারতের ওপর নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি ছিল। এই সুতা আমদানির ৯৫ শতাংশই আসে ভারত থেকে। কিন্তু এখন তাকে অন্যান্য দেশ থেকে কিনতে হবে। যার জন্য গুণতে হবে চড়া দর (India Bangladesh Relation)।

    ইউনূস শুনতে পাচ্ছেন?

  • PM Modi: দু’দিনের সফরে সৌদি আরবে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি! কী কী বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা?

    PM Modi: দু’দিনের সফরে সৌদি আরবে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি! কী কী বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের সফরে সৌদি আরবে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সৌদির প্রধানমন্ত্রী তথা সে দেশের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সলমনের আমন্ত্রণে আগামী ২২-২৩ এপ্রিল সেখানে যাচ্ছেন তিনি। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই নিয়ে তৃতীয় বার সৌদিতে যাচ্ছেন মোদি। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হবে।

    দুই দেশের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক

    বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, সৌদির যুবরাজ তথা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দু’দিনের সফরে সে দেশে যাচ্ছেন মোদি (PM Modi)। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন সৌদির যুবরাজ। ওই সময়েই ভারত এবং সৌদি আরবের কৌশলগত অংশীদারি পরিষদ (স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ কাউন্সিল)-এর প্রথম বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকের প্রায় দেড় বছর পরে প্রধানমন্ত্রী মোদির সৌদিযাত্রা এই সফরের গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করেছে। রতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছেন, “সৌদি আরব ভারতের এক কৌশলগত অংশীদারিত্ব। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।”

    কী কী বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা

    সৌদি আরবের ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি, ইজরায়েল-হামাস সংঘাত এবং ইউক্রেন যুদ্ধ-সহ একাধিক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে মতবিনিময় করবেন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে চলেছে সবুজ হাইড্রোজেন (Green Hydrogen) খাতে। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, “জ্বালানি সহযোগিতায় কৌশলগত মাত্রা যোগ করার চেষ্টা করা হবে।” সৌদি যুবরাজের ভারত সফরের সময় ঘোষিত ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স অন ইনভেস্টমেন্ট (HLTFI) গঠন করা হয়েছে, যার প্রথম বৈঠক হয়েছে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে। আলোচনায় থাকবে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (IMEEC)-এর ভবিষ্যত পরিকল্পনাও। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সামরিক মহড়া এবং উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও রূপরেখা তৈরি হতে পারে। প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ প্রকল্প, অস্ত্র ক্রয়ের সুযোগ এবং প্রশিক্ষণসহ আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

  • Demographic Shift: নিজভূমেই পরবাসী অস্ট্রিয়াবাসী! কমছে খ্রিস্টান, বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা, বিপন্ন আদি-বাসিন্দারা

    Demographic Shift: নিজভূমেই পরবাসী অস্ট্রিয়াবাসী! কমছে খ্রিস্টান, বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা, বিপন্ন আদি-বাসিন্দারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপের দেশ ভিয়েনায় দ্রুত বদলে যাচ্ছে জনবিন্যাস (Demographic Shift)। সাম্প্রতিক এক সরকারি সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, সে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে (Vienna School) এখন খ্রিস্টানদের চেয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। শহরের স্কুল কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এই সব স্কুলের ৪১.২ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম সম্প্রদায়ের, অন্যদিকে সব খ্রিস্টান সম্প্রদায় মিলে রয়েছে মাত্র ৩৪.৫ শতাংশ।

    সংগৃহীত তথ্য (Demographic Shift) 

    ভিয়েনার শিক্ষা বিষয়ক সিটি কাউন্সিলর বেটিনা এমারলিংয়ের (নিওস) অফিস এই তথ্য সংগ্রহ করেছে। এতে সব ধরণের স্কুলের প্রায় ১,১২,৬০০ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলগুলিতে জার্মান ভাষা ক্রমশ দ্বিতীয় ভাষায় পরিণত হচ্ছে, যা শিক্ষাদানকে কঠিন করে তুলেছে। অস্ট্রিয়ান প্যারেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ইভেলিন কোমেটারের মতে, শিক্ষার্থীদের বোঝানোর জন্য শিক্ষকদের প্রতিটি বাক্য ১০ থেকে ১২ বার বলতে হচ্ছে। এতে ক্লাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। শহরের স্কুলগুলো থেকে জাতিগত অস্ট্রিয়ান পরিবারগুলি পালাতে শুরু করেছে বলেও জানা গিয়েছে।

    ফ্রিডম পার্টির বক্তব্য

    অস্ট্রিয়ার ডানপন্থী ফ্রিডম পার্টি এই পরিস্থিতিকে অভিবাসন নয়, স্থানচ্যুতি বলে অভিহিত করেছে। দলের তরফে হানেস অ্যামেসবাউয়ার বলেন, “অস্ট্রিয়ানরা শীঘ্রই নিজ দেশেই বিদেশিতে পরিণত হবে।” সরকার সহনশীলতা, বৈচিত্র্য ও সামাজিক সংহতি বাড়াতে গণতন্ত্রে বসবাস নামে একটি নতুন বিষয় চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, সমন্বয়ের সমস্যা এর চেয়ে ঢের বেশি গভীর। ভিয়েনার জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন (Demographic Shift) কোনও আকস্মিক বা এক রাতের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়। বছরের পর বছর ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ—বিশেষত জার্মানি, সুইডেন ও অস্ট্রিয়া—এক ধরনের “খোলা দরজার অভিবাসন নীতি” অনুসরণ করেছে। সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান ও সোমালিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত ইসলামি দেশগুলি থেকে আগত সকলকে তারা স্বাগত জানিয়েছে। তবে স্থানীয় সমাজে সম্পূর্ণ ভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমির এই গোষ্ঠীগুলিকে কীভাবে একীভূত করা যায়, তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী কোনও পরিকল্পনাই তারা করেনি (Vienna School)।

    বিষময় ফল

    প্রাথমিকভাবে, বহুসংস্কৃতিবাদ ও মানবিক উদ্বেগের নামে এই অভিবাসন নীতিগুলি প্রচার করা হয়েছিল। তবে এগুলির ফল হয়েছে মারাত্মক। বিচ্ছিন্ন মহল্লা, শ্রেণিকক্ষে ভাষাগত সঙ্কট, অপরাধ বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে দেশটিতে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশগুলির বিভিন্ন অংশে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ইহুদি ও প্রকাশ্যে সমকামিতায় জড়িতদের মতো কিছু ব্যক্তিকে ইসলামি সম্প্রদায়-অধ্যুষিত তথাকথিত “নো-গো জোন” এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। ইসলামি দেশগুলি থেকে যে কেউ ও সবাইকে প্রবেশাধিকার দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলি। বাম-উদারপন্থীরা এই উদ্বেগগুলিকে ভীতি ছড়ানো হিসাবে খারিজ করে দিয়েছিল। তবে এখন মূলধারার তথ্য – শ্রেণিকক্ষের ধর্মীয় অনুপাত, অপরাধের পরিসংখ্যান থেকে গণবিরোধিতা পর্যন্ত সবেতেই এই উদ্বেগ প্রতিফলিত হচ্ছে। সাধারণ জনতা, বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সকলের কাছ থেকেই অভিবাসন নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে। এমনকি মধ্য-পন্থী দলগুলিও স্বীকার করেছে যে নিরঙ্কুশ অভিবাসনের মডেল ইউরোপীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সংহতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে (Demographic Shift)।

    সীমান্ত নীতি কঠোর করার কথা বিবেচনা

    জানা গিয়েছে, জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অভিবাসন ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে সম্প্রতি সীমান্ত নীতি কঠোর করার কথা বিবেচনা করেছে। ডেনমার্কে, ঐতিহ্যগতভাবে মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছে। যার ফলে ইসলামি দেশগুলি থেকে আসা অভিবাসীদের ঠাঁই মিলছে না (Vienna School)। প্রসঙ্গত, গত বছরই সেপ্টেম্বর মাসে ‘দ্য গার্ডিয়ান’ জানিয়েছিল যে সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ডের মতো ইউরোপীয় দেশগুলি কঠোর অভিবাসন নীতি আনার অঙ্গীকার করেছে। উল্লেখ যে, এগুলিকে “অতি ডানপন্থীদের চাপের ফল” হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলির অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, ২০২৫ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের বার্ষিক সংখ্যা ৩১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, ফ্রন্টেক্স কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের হার ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল—যা ২০১৬ সালের পর সর্বোচ্চ। ওই বছর ৩৮০,০০০ জন অনিয়মিতভাবে ইইউতে প্রবেশ করে। তবে ২০২৪ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে এই সংখ্যাটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল (Demographic Shift)।

    ইসলামি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন

    ইউরোপ বর্তমানে যা ইসলামি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলে বর্ণনা করা যায়, তার তীব্র মোকাবিলা করছে। এদিকে, ভারত দীর্ঘকাল ধরে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রভাব সহ্য করে আসছে। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে ট্র্যাজিক উদাহরণ হল কাশ্মীর, যেখানে ১৯৯০-এর দশকে লক্ষাধিক কাশ্মীরি হিন্দুকে টার্গেট করে জাতিগত নির্মূল অভিযান চালানো হয়েছিল। ইসলামিস্ট  চরমপন্থীদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে তাঁরা নিজেদের জমি-জিরেত ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। বস্তুত, নিজের দেশেই তাঁরা পরিণত হয়েছিলেন শরণার্থীতে (Vienna School)।

    উদ্বেগজনক প্রবণতা ভারতেও

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত-নেপাল সীমান্তেও একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। ২০১১ সাল থেকে কিছু জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা জাতীয় গড় ১৪ শতাংশের তুলনায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্তসংলগ্ন অনেক গ্রামে সম্পূর্ণ জনসংখ্যাগত উলটপালটের খবর পাওয়া গিয়েছে, যা অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্তপার চরমপন্থা রোধে বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধির দাবি জোরালো করছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের শহরগুলিতে দেখা গিয়েছে, যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে, সেখানে হিন্দুদের টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। “এই বাড়িটি বিক্রয়ের জন্য” লেখা সাইনবোর্ডযুক্ত বাড়িগুলি প্রায়ই সেই সব অঞ্চলে দেখা যায়, যেখানে স্থানীয় ইসলামিস্ট গুন্ডাদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন হিন্দুরা (Demographic Shift)।

    উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদ

    সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে সম্প্রতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা। ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পর বিভিন্ন জায়গায় হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, মুসলিম জনতা প্রথমে হিন্দুদের বাড়িগুলিতে কালি দিয়ে চিহ্নিত করেছিল। পরে বোমাবর্ষণ, ভাঙচুর চালায়। লুটপাট করে, করে অগ্নিসংযোগও। দুই হিন্দু প্রতিমা শিল্পী, যাঁরা সম্পর্কে বাবা ও ছেলে ছিলেন, তাঁদের ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ (Vienna School)। প্রাণভয়ে রাতের অন্ধকারে নদী পেরিয়ে বহু হিন্দু পরিবার আশ্রয় নিয়েছে মালদায়। নিদারুণ অত্যাচারের আতঙ্কে বহু হিন্দু পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গিয়েছে, যা ২০২১-এর নির্বাচন-উত্তর বাংলার হিংসার সময়কার ভয়াবহ স্মৃতি উসকে দেয় (Demographic Shift)।

    বিপদ সঙ্কেত!

    বিভিন্ন হিন্দু নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব কিছু অঞ্চলে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তবে, ধর্মনিরপেক্ষ মহল এই উদ্বেগগুলিকে “প্রান্তিক আতঙ্ক” বলে খাটো করে দেখাচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা সর্বত্রই এক— মুর্শিদাবাদের একজন হিন্দু শিক্ষক, দিল্লিতে দশক ধরে শরণার্থী হিসেবে বসবাসকারী (Vienna School) কাশ্মীরি পণ্ডিত, বা ভিয়েনার একজন অস্ট্রিয়ান অভিভাবক—সবক্ষেত্রেই পরিণতি ও বেদনা অভিন্ন (Demographic Shift)।

LinkedIn
Share