Tag: Indian Air Force

Indian Air Force

  • Pakistan: মেরামতির চেষ্টা ব্যর্থ, গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্র ভাঙল পাকিস্তান

    Pakistan: মেরামতির চেষ্টা ব্যর্থ, গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্র ভাঙল পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ একটি কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্র মেরামত ও পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছিল পাক বিমানবাহিনী (PAF)। তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তাই কেন্দ্রটি (Pakistan) ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে উপগ্রহ চিত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। এই কেন্দ্রটি পাকিস্তানের প্রধান মুরিদ বিমানঘাঁটি, যা চকওয়াল এলাকার কাছে অবস্থিত (Operation Sindoor)।

    মুরিদ এয়ার বেসে মেরামত (Pakistan)

    সংবাদ মাধ্যমের কাছে থাকা ভ্যান্টরের ২৮ ফেব্রুয়ারির একটি স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, মুরিদ এয়ার বেসে মেরামতের কাজ সফল হয়নি। ভবনের মাঝের অংশটি আগে বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পরে ত্রিপল দিয়ে সেটি ঢেকে রাখা হয়েছিল। এখন সেখানে অনিয়মিত গোলাপি-লাল ধ্বংসাবশেষ এবং মাটি দেখা যাচ্ছে, যা সফলভাবে পুনর্নির্মাণের বদলে ভবন ভেঙে ফেলা বা ধসে পড়ার ইঙ্গিত বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। ২০২৫ সালের মে মাসের হামলার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব প্রায় দশ মাস পরেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষক ডেমিয়েন সাইমন বলেন, “সাম্প্রতিক ছবিতে এখন নিশ্চিত হয়েছে যে ভবনটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে।” তিনি বলেন, “এটি ইঙ্গিত করে যে হামলার প্রভাব শুধু ছাদেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ভবনের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর গভীর অংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। প্রায় ৩৫×৩০ মিটার আকারের এই কাঠামোটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত থেকেই বোঝা যায় যে বিমান হামলার ফলে ভবনের ভেতরে গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল, যার ফলে এটি মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়ে, নিরাপদও নয়।”

    পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে হামলা

    ২০২৫ সালের ১০ মে ভোর ২টা থেকে ৫টার মধ্যে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের দশটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় (অপারেশন সিঁদুর), যার মধ্যে মুরিদও ছিল। কয়েক ঘণ্টা পরেই পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়ে সংঘাত বন্ধে আলোচনা শুরু করে (Operation Sindoor)। এই প্রতিবেদনে যে কাঠামোটির কথা বলা হয়েছে, সেটি এই ঘাঁটির ভেতরে থাকা একটি কমপ্লেক্স থেকে পরিচালিত মানববিহীন আকাশযানের (UAV) জন্য একটি কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত বলেই অনুমান। একই ঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনী একটি ভূগর্ভস্থ কাঠামোয়ও হামলা চালিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে (Pakistan)।

    গোলাবারুদের আঘাতে তৈরি গর্ত

    এর আগে সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই ভূগর্ভস্থ কাঠামোর দুটি প্রবেশপথের একটির মাত্র ৩০ মিটার দূরে প্রায় ৩ মিটার প্রশস্ত গোলাবারুদের আঘাতে তৈরি একটি গর্ত রয়েছে। সাইমন বলেন, “ভারতের মে ২০২৫-এর বিমান হামলার পর সংগৃহীত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে ভবনের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন চলাকালীন সেটি ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ডিসেম্বর ২০২৫-এর পরে তোলা ছবিতে দেখা যায় পুরো কাঠামোটি ত্রিপল ও রিপেয়ারিং নেট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, যা মেরামতের কাজ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দেয় (Operation Sindoor)।”

    ক্ষয়ক্ষতির ছবি স্পষ্ট

    ১০ মে ২০২৫-এর স্যাটেলাইট ছবিতে হামলার কিছুক্ষণ পরেই কেন্দ্রীয় ভবনগুলিতে স্পষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ছবি দেখা যায়। ক্ষতির ধরন, ছাদে নির্দিষ্ট জায়গায় প্রবেশ করে ভেতরে ধস নামা, ইঙ্গিত দেয় যে এটি শুধু সাধারণ বিস্ফোরণের ফল নয়। বরং এটি এমন পেনিট্রেটর ওয়ারহেড ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখায় যা শক্ত কংক্রিট ভেদ করে ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য তৈরি। সামরিক কমান্ড সেন্টারের মতো শক্তভাবে সুরক্ষিত টার্গেটে সাধারণত এই ধরনের অস্ত্রই ব্যবহৃত হয় (Pakistan)।

    স্ক্যাল্প মিসাইল

    ভারতীয় বিমানবাহিনী কখনও প্রকাশ্যে বলেনি কোন টার্গেটে তারা কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে ক্ষতির ধরন এবং নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে দূরত্ব বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে যে ভারতীয় আকাশসীমা থেকেই রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা স্ক্যাল্প (SCALP) এয়ার-টু-সারফেস প্রিসিশন মিসাইল ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে (Operation Sindoor)। স্ক্যাল্প মিসাইল প্রায় ৪৫০ কেজি ওজনের বহু-ধাপবিশিষ্ট পেনিট্রেটর ব্যবস্থায় সজ্জিত হতে পারে। প্রথম ধাপটি একটি প্রাথমিক শেপড চার্জ, যা শক্ত কংক্রিটের মতো বাহ্যিক স্তর ভেঙে একটি প্রবেশপথ তৈরি করে। এরপর প্রধান বিস্ফোরক বহনকারী দ্বিতীয় ধাপটি কাঠামোর গভীরে ঢুকে বিস্ফোরিত হয়, ফলে ভেতরে শার্পনেল ও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে ব্যাপক ক্ষতি করে (Pakistan)।

    মেরামতের চেষ্টাও ব্যর্থ

    ২০২৫ সালের ২ জুন, অর্থাৎ হামলার প্রায় তিন সপ্তাহ পরের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রীয় ভবনের একটি অংশ সবুজ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, যা প্রাথমিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়। তখনও বড় ধরনের পুনর্নির্মাণ শুরু হয়নি। ডিসেম্বরের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি বড় লাল ত্রিপল দিয়ে পুরোপুরি ঢেকে রেখে মেরামতের চেষ্টা চলছিল। তবে কোনও নতুন স্থায়ী ছাদ বা কাঠামোগত মেরামতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়নি, যা ধীরগতির বা জটিল পুনর্নির্মাণের ইঙ্গিত দেয় (Operation Sindoor)। এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত নতুন স্যাটেলাইট ছবিটি দেখাচ্ছে যে শেষ পর্যন্ত সেই মেরামতের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে (Pakistan)।

     

  • Su-30 MKI Crashed: অসমে ভেঙে পড়ল ভারতীয় বায়ুসেনার সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান, শহিদ দুই পাইলট

    Su-30 MKI Crashed: অসমে ভেঙে পড়ল ভারতীয় বায়ুসেনার সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান, শহিদ দুই পাইলট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমে ভেঙে পড়া ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই এসইউ-৩০ এমকেআই (Su-30 MKI Crashed) যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটই মৃত। শুক্রবার সকালে তাঁদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে। ওই দুই পাইলটের নাম স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুরাগকর। অসমের কার্বি আংলং জেলায় ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানটি প্রশিক্ষণ চলাকালীন ভেঙে পড়ে। শুক্রবার ওই দুই পাইলটের পরিচয় প্রকাশ করে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে ভারতীয় বায়ুসেনা। মৃতদের শোকাহত পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে তারা। এই অবস্থায় তাদের পাশে থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে। তাঁদের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

    অসমের কার্বি আংলং জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সু-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় দুই পাইলটের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় জোরহাট বিমানঘাঁটি থেকে উড়ানের কিছুক্ষণ পরই বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসের রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সরকারি সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪২ মিনিট নাগাদ যুদ্ধবিমানটির সঙ্গে শেষবারের মতো যোগাযোগ হয়। এরপরই কার্বি আংলংয়ের আকাশসীমায় উড়তে থাকা অবস্থায় বিমানটি রাডার থেকে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বায়ুসেনা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান (এসএআর) শুরু করা হয়। পরবর্তীতে কার্বি আংলং জেলার চোকিহুলা গ্রামের কাছাকাছি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত প্রায় ৮টার দিকে পাহাড়ি এলাকায় একটি প্রবল বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায় এবং পরে পাহাড়ের দিক থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

    দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত

    ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ গুরুতরভাবে আহত হয়ে প্রাণ হারান। এক বিবৃতিতে বায়ুসেনা জানায়, “সু-৩০ দুর্ঘটনায় স্কোয়াড্রন লিডার অনুজ এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশের মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। এই কঠিন সময়ে তাঁদের পরিবারের পাশে পুরো বায়ুসেনা রয়েছে।” উল্লেখ্য, সু-৩০ এমকেআই ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, যা বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় ব্যাপকভাবে মোতায়েন করা হয়। ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ২৬০টিরও বেশি সুখোই রয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে অসমের তেজপুর বিমানঘাঁটি থেকে উড়ানের পরে অরুণাচলের পশ্চিম কামেং জেলার জঙ্গলে ভেঙে পড়েছিল একটি সুখোই এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান। বিমানে ছিলেন এক জন স্কোয়াড্রন লিডার এবং এক জন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। তাঁরা দু’জনেই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। আবার একই ঘটনা ঘটল। ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছে, শহিদ দুই পাইলটের শেষকৃত্য পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্তও শুরু করা হয়েছে।

  • India’s NOTAM: ভীত পাকিস্তান! দক্ষিণ সীমান্তে বিমানবাহিনীর মহড়া, নোটাম জারি করল ভারত

    India’s NOTAM: ভীত পাকিস্তান! দক্ষিণ সীমান্তে বিমানবাহিনীর মহড়া, নোটাম জারি করল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আঞ্চলিক উত্তেজনার আবহে পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ সেক্টরে বিমানবাহিনীর মহড়ার জন্য নোটাম (Notice to Airmen) জারি করেছে ভারত। আজ ৫ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত নির্দিষ্ট আকাশসীমা সংরক্ষিত থাকবে বলে সরকারি বিমান চলাচল সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, এটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর নির্ধারিত মহড়ার অংশ এবং অসামরিক বিমান চলাচলকে নিরাপদ রাখতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই নোটাম (India’s NOTAM) জারি করা হয়েছে। সামরিক মহড়ার আগে নির্দিষ্ট আকাশসীমা সংরক্ষণের এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত রীতি।

    অতিরিক্ত নজরদারি

    নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতের এই পদক্ষেপকে ঘিরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ সীমান্ত, অর্থাৎ রাজস্থান–সিন্ধ সংলগ্ন অঞ্চলে মহড়া ঘিরে ইসলামাবাদ অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করেছে বলে খবর। পাকিস্তান বর্তমানে আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্তে বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার জেরে আরব সাগরেও নৌ-সতর্কতা বজায় রাখতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের নতুন নোটাম জারির পর পাকিস্তান অতিরিক্ত বিমান ও স্থলসেনা মোতায়েন করেছে বলে নিরাপত্তা মহলের দাবি। এক শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকের কথায়, একাধিক ফ্রন্টে চাপ সামলাতে গিয়ে পাকিস্তানের সামরিক ক্ষমতা “চাপের মুখে” রয়েছে। এই আবহে ভারতীয় বায়ুসেনার মহড়া পাকিস্তানকে চাপে ফেলেছে। তবে এটি, নিয়মিত অনুশীলনের অঙ্গ বলে জানিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা।

    ভারতের ভয়ে কাঁপছে পাকিস্তান

    উল্লেখ্য, ভারত–পাকিস্তান সীমান্তের দক্ষিণ অংশ অতীতে বহুবার সামরিক মহড়া করেছে, বিশেষত উত্তেজনার সময়। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত বার্তা দেওয়ার অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিয়মিত নোটাম জারির প্রবণতা বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। ‘অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক দিক থেকে পাকিস্তান এখন অনেকটা ব্যাকফুটে। এটাই পাকিস্তানে হামলা চালানোর আদর্শ সময়। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের দক্ষিণে ভারত নোটাম জারি করেছে মানে প্রস্তুতি নিচ্ছে’। এই ভয়ে আকাশসীমা বন্ধ করেছে পাকিস্তান। করাচি-লাহোর রুটে নোটাম জারি করেছে ইসলামাবাদ।

  • S-400 Sudarshan: “শত্রু নজরের বাইরে হতে পারে, কিন্তু নাগালের বাইরে নয়”, বায়ুসেনার ভিডিওতে পাকিস্তানকে বার্তা?

    S-400 Sudarshan: “শত্রু নজরের বাইরে হতে পারে, কিন্তু নাগালের বাইরে নয়”, বায়ুসেনার ভিডিওতে পাকিস্তানকে বার্তা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force) সম্প্রতি দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা (Air Defence) ব্যবস্থার এস-৪০০ সুদর্শন (S-400 Sudarshan) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি লক্ষ্যবস্তুকে অত্যন্ত দীর্ঘ দূরত্বে ধ্বংস করতে দেখা গিয়েছে। বায়ুসেনা এই ইন্টারসেপ্টকে “সামরিক ইতিহাসে সর্বাধিক দূরত্বের সফল ইন্টারসেপ্ট” হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে রাজস্থানের পোখরানে অনুষ্ঠিত হতে চলা বায়ুশক্তি-২০২৬ (Vayu Shakti-2026) মহড়ার ঠিক আগে, যা এর কৌশলগত তাৎপর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

    কৌশলগত বার্তা ও সময় নির্বাচন

    বিশ্লেষকদের মতে, মহড়ার আগে এই ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে ভারত তার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা দিতে চেয়েছে। ভিডিওতে ব্যবহৃত বাক্য—“Enemy may be out of sight but never out of reach”, যার অর্থ— “শত্রু নজরের বাইরে হতে পারে, কিন্তু নাগালের বাইরে নয়”— শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের উদ্দেশে একটি মনস্তাত্ত্বিক সতর্কবার্তাও।

    অপারেশন সিঁদুর–এর প্রসঙ্গ

    ভিডিওতে ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত অপারেশন সিঁদুর–এর (Operation Sindoor) উল্লেখ রয়েছে। আইএএফ সূত্র জানিয়েছে, ওই অভিযানে এস-৪০০ ব্যবস্থা (S-400) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে, পাকিস্তানের ভূখণ্ডের ভেতরে একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। এই দাবি ভারতের স্ট্যান্ড-অফ স্ট্রাইক সক্ষমতার একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রযুক্তিগত সক্ষমতা

    এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ (S-400 Triumf) ব্যবস্থা তৈরি করেছে রাশিয়ার আলমাজ-আন্তেই। ভারতীয় পরিষেবায় এটি “সুদর্শন চক্র” (Sudarshan Chakra) নামে পরিচিত এবং পরিচালনা করে ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force)। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এস-৪০০ (S-400) এই ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হল—

    • ● ৪০এন৬ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
    • ● নজরদারি রেডার অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরত্বে লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে।
    • ● একযোগে একাধিক লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক ও আঘাত হানার ক্ষমতা রয়েছে।
    • ● এতে যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং নির্দিষ্ট ব্যালিস্টিক মিসাইল মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
    • ● স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো

    ভূরাজনৈতিক প্রভাব

    এখন ভারতের স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (Layered Air Defence) কেন্দ্রীয় স্তম্ভ। আকাশ (Akash) ও মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে এটি একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা গ্রিড তৈরি করেছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আকাশসীমার নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালে প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে পাঁচটি এস-৪০০ (S-400 Sudarshan) রেজিমেন্ট কেনার সিদ্ধান্ত ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে নতুন মাত্রা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ঝুঁকি সত্ত্বেও এই চুক্তি কার্যকর করা হয়, যা ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।

    ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

    এস-৪০০–এর (S-400 Sudarshan) দূরপাল্লার ইন্টারসেপ্ট ভিডিও শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্যের দলিল নয়, বরং ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা নীতির দৃঢ়তার প্রতীক। ‘বায়ুশক্তি-২০২৬’ (Vayu Shakti-2026) মহড়ার প্রাক্কালে এই ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট করেছে যে, তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন বহুস্তরীয়, আধুনিক এবং দূরপাল্লার হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ভারসাম্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

  • Operation Sindoor: অপারেশন সিঁদুরে আকাশের দখল নেয় ভারত! যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান, বলছে সুইস রিপোর্ট

    Operation Sindoor: অপারেশন সিঁদুরে আকাশের দখল নেয় ভারত! যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান, বলছে সুইস রিপোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ঘাবড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। ইসলামাবাদই সিজফায়ার বা যুদ্ধবিরতির আর্তি জানায়। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ আকাশসীমায় কার্যত পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং গভীর অভ্যন্তরে নিখুঁত হামলা চালিয়ে ইসলামাবাদকে মাত্র চার দিনের মধ্যেই যুদ্ধবিরতির পথে যেতে বাধ্য করে—এমনই দাবি করেছে সুইৎজারল্যান্ডভিত্তিক একটি সামরিক গবেষণা সংস্থার রিপোর্ট। সুইস থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর মিলিটারি হিস্ট্রি অ্যান্ড পার্সপেক্টিভ স্টাডিজ (CHPM) প্রকাশিত ৪৭ পাতার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমান অভিযানের মোকাবিলা করার ক্ষমতা হারানোর পর পাকিস্তান কার্যত “চাপের মুখে” যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এই রিপোর্টটি তৈরি করেছেন সামরিক ইতিহাসবিদ অ্যাড্রিয়েন ফন্টানেলাজ।

    দিশেহারা হয়ে পড়ে পাক বিমানবাহিনী

    চার দিনেই কুপোকাত পাকিস্তান। সুইস সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২৫-এর ৭ মে থেকে ১০ মে-র মাঝে অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) পাকিস্তানকে ভালো মতোই কাবু করে ফেলেছিল। নাজেহাল হয়ে ব্যাপক ঘাবড়ে যায় ইসলামাবাদ। এর পরেই ১০ মে সিজফায়ার চায় তারা। রিপোর্টের টাইটেলে লেখা, ‘Operation Sindoor: The India-Pakistan Air War (7–10 May 2025)’। বিদেশে তৈরি এই রিপোর্টে বহু বিষয় বিস্তারিত আকারে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘর্ষের শেষ পর্যায়ে ভারতীয় বায়ুসেনা দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে আঘাত হানার স্বাধীনতা পায়, অন্যদিকে পাকিস্তান বিমানবাহিনী (PAF) কার্যকর পাল্টা আক্রমণ চালাতে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়ে।

    ‘পপ-আপ অ্যাটাক’

    ১০ মে সকালের মধ্যেই ব্রহ্মোস ও স্ক্যাল্প-ইজি (SCALP-EG) ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে গভীর হামলা চালানো সম্ভব হয় বলে জানানো হয়েছে। তাতেই হাত-পা কাঁপতে শুরু করে ইসলামাবাদের। কারণ, ততক্ষণে পাকিস্তানের সার্ভেইল্যান্স রেডার মুখ থুবড়ে পড়েছে। ভারতের এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধরাশায়ী করে পাক বায়ুসেনার অ্যাওয়াক্স সিস্টেমকে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৭ মে রাতে ভারতীয় বায়ুসেনা দু’টি স্ট্রাইক করে। রাফাল ও মিরাজ-২০০০ ফাইটার জেটের লক্ষ্য ছিল বাহওয়ালপুরে জৈশ-ই-মহম্মদের ডেরা ও মুরিদকের লস্কর-ই-তৈবার ঘাঁটি। একটি স্ট্রাইক পাকিস্তানি এয়ারস্পেসে মাটির অনেক কাছাকাছি থেকে চালানো হয়েছিল। সুইৎজারল্যান্ডের রিপোর্ট যাকে বলছে, ‘পপ-আপ অ্যাটাক’। যার লক্ষ্য ছিল, পাকিস্তানকে জালে ফাঁসানো। রিপোর্ট অনুযায়ী, এর জবাবে পাকিস্তান ৩০টির বেশি লড়াকু বিমান পাঠায়, পি-এল ১৫ মিসাইল দাগে। তাদের টার্গেট ছিল রাফাল।

    পাকিস্তানের ড্রোন ও মিসাইল হামলা ব্যর্থ

    পাকিস্তান দাবি করেছিল, তারা ৬টি ভারতীয় এয়ারক্রাফ্ট শট ডাউন করে। কিন্তু সুইস রিপোর্ট বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সামনে রেখে বলছে, ভারতের একটি মাত্র রাফাল, একটি মাত্র মিরাজ-২০০০ ও একটি অন্য ফাইটার জেটের ক্ষতি হয়। রিপোর্ট বলছে, ৭ মে থেকে পাকিস্তান ভারতের উপরে ড্রোন হামলা শুরু করে। প্রথমে ৩০০-র বেশি ড্রোন পাঠানো হয়। দ্বিতীয় ভাগে পাঠায় আরও ৬০০। একই সঙ্গে রকেট, ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ে। ভারতীয় সেনার ঘাঁটি, এয়ারবেস, লজিস্টিক্স হাব ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ছিল তাদের টার্গেট। কিন্তু কিছুই করতে পারেনি। রিপোর্টেই দাবি করা হয়েছে, বেশির ভাগই রুখে দেয় ভারতীয় বায়ুসেনা। জ্যামিং, স্পুফিং ও সেন্সর ফিউশন— এই তিন হাতিয়ারেই বেশির ভাগকে ঘায়েল করা হয়।

    ভারতীয় বায়ুসেনার দাপট

    রিপোর্টে ভারতীয় বায়ুসেনার ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম ও ভারতীয় সেনার আকাশতীর নেটওয়ার্কের প্রশংসা করা হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের ফলে রেডারকে শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতিতেই সক্রিয় করা হয়েছে। তাই পাকিস্তান শত চেষ্টা করেও ভারতের ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থাকে ধরতেই পারেনি। ৯ মে থেকে ১০ মে রাতের মধ্যে পাকিস্তান ফের হামলার চেষ্টা করে। টার্গেট ছিল এস-৪০০ সিস্টেম, এয়ারবেস আদমপুর, শ্রীনগর, কচ্ছ। তবে ভারতীয় সেনার ইলেক্ট্রনিক জ্যামিং ও লড়াকু বিমানের সাহায্যে সেই চেষ্টা ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়।

    ভারতের জোরালো প্রত্যাঘাত

    এর পরেই ভারত জোরালো প্রত্যাঘাতে জবাব দেয়। ১০ মে রাত ২টো থেকে ভোর ৫টার মধ্যে বায়ুসেনা জোরদার মিসাইল ছোড়ে। টার্গেট ছিল, পাকিস্তানি এয়ারবেস, রেডার ইনস্টলেশন ও সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সাইট। এর পরে সকাল ১০টায় দাঁড়িয়ে থাকা বিমানগুলিকে টার্গেট করে। একাধিক পাকিস্তানি এয়ারবেস নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। ধ্বংস হয় রানওয়ে ও হ্যাঙ্গার। ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের ৪-৫টি লড়াকু বিমান নামায়। একটি এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং এয়ারক্রাফ্ট, একটি ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট, একাধিক ড্রোন, একাধিক রেডার, কমান্ড সেন্টার ও সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যাটারি ছিল। পাকিস্তান তাদের একটি এয়ারবেসে ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকারও করেছিল। পাক মুলুকের একাধিক শহরে তছনছ হয়েছিল তাদের সামরিক পরিকাঠামো। তার পরেই তারা সংঘর্ষ বিরোধী চুক্তি করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান।

    পাকিস্তানের অনুরোধে যুদ্ধের সমাপ্তি

    অপারেশন সিঁদুরের সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো মূলত যুদ্ধের প্রথম রাতে ভারতের অন্তত একটি রাফাল যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার খবর বড় করে দেখিয়েছিল। তবে, সুইৎজারল্যান্ডের এই থিঙ্ক ট্যাঙ্কের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই একটি ঘটনা যুদ্ধের প্রকৃত অবস্থাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। আসলে ভারত সুপরিকল্পিতভাবে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছিল। শেষপর্যন্ত নিজেদের শর্ত মেনেই এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়েছিল। উল্লেখ্য, পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্য়ু হয় ২৮ জনের। তার পরেই অপারেশন সিঁদুর শুরু করা হয়। ভারতের দাবি ছিল, এই হামলার সঙ্গে পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো জড়িত।

  • 114 Rafale Jets: ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার রাফাল চুক্তিতে সম্মতি প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ডের, আগামী মাসে মাক্রঁর ভারত সফরে সই?

    114 Rafale Jets: ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার রাফাল চুক্তিতে সম্মতি প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ডের, আগামী মাসে মাক্রঁর ভারত সফরে সই?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রকল্প বাস্তবায়ন করার বিষয়ে একধাপ এগলো ভারত। শুক্রবার এই প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ড (ডিফেন্স প্রোকিউরমেন্ট বোর্ড বা ডিপিবি)। এখন প্রস্তাবটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে থাকা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের (ডিএসি) সামনে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। এরপর খরচ সংক্রান্ত দরকষাকষি সম্পন্ন করা হবে এবং শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির (সিসিএস) চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া হবে। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এটি হবে ভারতের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে রাফাল যুদ্ধবিমানের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৭৫। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে ৩৫টি রাফাল রয়েছে এবং নৌবাহিনী ইতিমধ্যেই ২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার অর্ডার দিয়েছে।

    ফেব্রুয়ারিতে মাক্রঁর সফরে চুক্তি স্বাক্ষর?

    প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ভারত সফরের সময় ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে রাফাল চুক্তিতে সই হতে পারে। ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নেবেন মাক্রঁ। একইসঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। এই সময়কালেই দুই দেশের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তিটি যদি ২০২৭ সালের শুরুতে স্বাক্ষরিত হয়, তবে ২০৩০ সাল থেকে প্রথম ১৮টি রাফাল যুদ্ধবিমান ‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায় ভারতকে সরবরাহ করবে ফ্রান্স। প্রস্তাবে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১২ থেকে ১৮টি প্রস্তুত রাফাল সরাসরি কেনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বাকি বিমানগুলি ভারতে নির্মাণ করা হবে, যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ দেশীয় উপাদান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

    ‘নন-নেগোশিয়েবল ক্লজ’ ভারতের

    ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় চুক্তির কথ মাথায় রেখে ভারত ফরাসি বিমান নির্মাতা সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের জন্য বেশ কয়েকটি ‘নন-নেগোশিয়েবল ক্লজ’ বা আপসহীন শর্ত নির্ধারণ করেছে। শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে—১১৪টি যুদ্ধবিমানের প্রতিটিতে ভারতীয় অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের সংযোজন; পাশাপাশি বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থাকে এমন সুরক্ষিত ডেটা লিঙ্ক সরবরাহ করতে হবে, যার মাধ্যমে ভারতীয় রেডার ও সেন্সরের সঙ্গে ডিজিটালভাবে যুদ্ধবিমানগুলিকে সংযুক্ত করা যাবে এবং সেই তথ্য ও ছবি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সেন্টারগুলিতে পাঠানো সম্ভব হবে। এর ফলে, রাফাল যুদ্ধবিমানের এভিওনিক্স ও রেডার এবং উইপন সিস্টেমে একাধিক বদল করতে হবে বিমান নির্মাণকারী ফরাসি সংস্থাকে। তবে বিমানের সোর্স কোড ফরাসি পক্ষের কাছেই থাকবে বলে সূত্রের দাবি। এছাড়াও দাসো এভিয়েশন এয়ারফ্রেম নির্মাণের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর করবে। এই প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার জন্য ইঞ্জিন নির্মাতা সাফরান এবং অ্যাভিওনিক্স সরবরাহকারী থ্যালেসের মতো সংস্থাগুলিও রাফাল-চুক্তিতে অংশ নেবে।

    ৯০টি রাফাল এফ-৪, ২৪টি এফ-৫ সংস্করণ!

    জানা যাচ্ছে, চুক্তির প্রথম পর্যায়ে ভারত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে ৯০টি নতুন রাফালের আপগ্রেডেড এফ-৪ সংস্করণ যুদ্ধবিমান পাবে। একইসঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে থাকা এফ-৩আর সংস্করণের ৩৫টি রাফালকে এফ-৪ সংস্করণের মানে উন্নীত করবে ফ্রান্স। এই আপগ্রেডের মধ্যে রয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রেডার, যা আরও দীর্ঘ দূরত্বে লক্ষ্য শনাক্ত করতে সক্ষম এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে বেশি প্রতিরোধশক্তি দেবে। এতে নতুন বিপদ শনাক্ত ও প্রতিহত করার জন্য উন্নত আত্মসুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। এই আপগ্রেড ফরাসি বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর রাফাল বিমানের আপগ্রেডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এই সক্ষমতার আওতায় থাকবে আরও উন্নত দীর্ঘ-পাল্লার সনাক্তকরণ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে অনেক দূর থেকেই শত্রুকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং তাকে ধ্বংস করতে অধিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি এই যুদ্ধবিমানে উন্নত স্যাটেলাইট লিঙ্ক যুক্ত করা হবে এবং পাইলটের সামনে আরও ভালোভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অ্যালগরিদমও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ২৪টি রাফাল (সর্বাধুনিক) এফ-৫ সংস্করণ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে দাসো অ্যাভিয়েশন তৈরি করবে ফ্রান্সেই।

    রাফাল ও সু-৫৭ ভিন্ন প্রকল্পের আওতায়!

    প্রতিবেদন বলছে, সাধারণত ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে এই হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হয়ে থাকে। কিন্তু, এই চুক্তিতে দেশীয় উপাদানের পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ভারতকে যথাক্রমে তাদের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ এবং সু-৫৭ যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রস্তাব করলেও ভারত রাফাল চুক্তির দিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সু-৫৭ প্রস্তাবের সঙ্গে এই রাফাল চুক্তি গুলিয়ে ফেললে চলবে না। কারণ, দুটি ভিন্ন।একটি অন্যটির বিকল্প নয়।
    তাঁদের মতে, মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কর্মসূচির অধীনে ভারতীয় বায়ুসেনা চতুর্থ প্রজন্মের অতিরিক্ত রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA)-এর অন্তত একটি স্কোয়াড্রন অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকরী ঘাটতি পূরণে সরকারকে দুই থেকে তিনটি স্কোয়াড্রন পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রস্তাবও দিয়েছে বায়ুসেনা। সেখানে বিবেচনার মধ্যে রয়েছে রুশ সু-৫৭।

    সিসিএস-এর ছাড়পত্র মিললেই সবুজ সঙ্কেত

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, “ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার স্টেটমেন্ট অফ কেস (SoC) কয়েক মাস আগেই মন্ত্রকের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি (CCS)-এর কাছে পাঠানো হবে।” রাফালের সাম্প্রতিক কার্যকারিতা এই প্রস্তাবকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযানে রাফাল যুদ্ধবিমান স্পেকট্রা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুটের মাধ্যমে চিনা পিএল-১৫ আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।

    এদিকে, ফরাসি পক্ষ হায়দরাবাদে রাফাল বিমানে ব্যবহৃত এম-৮৮ ইঞ্জিনের জন্য একটি মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার ও ওভারহল (MRO) কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। দাসো অ্যাভিয়েশন ইতিমধ্যেই যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি সংস্থা গঠন করেছে। টাটা-সহ একাধিক ভারতীয় এয়ারোস্পেস সংস্থাও এই প্রকল্পে যুক্ত হতে পারে। ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় বায়ুসেনা দ্রুত নতুন যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন অনুভব করছে। ভবিষ্যতে বায়ুসেনার ফাইটার ফোর্স স্ট্রাকচার মূলত সুখোই-৩০এমকেআই, রাফাল এবং দেশীয় যুদ্ধবিমান প্রকল্পের উপর নির্ভর করবে। ভারত ইতিমধ্যেই ১৮০টি এলসিএ তেজস মার্ক ১এ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে এবং ২০৩৫ সালের পর বড় সংখ্যায় দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অ্যামকাও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

  • India Defence Modernization 2026: ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ— নজরে এই ১০ বড় প্রকল্প

    India Defence Modernization 2026: ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ— নজরে এই ১০ বড় প্রকল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় প্রতিরক্ষার জন্য যুগান্তকারী হতে চলেছে ২০২৬ সাল। এ বছর, দেশের সামরিক ক্ষেত্রে একাধিক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ও উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা দেশের প্রতিরক্ষাকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। ২০২৬ সালকে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে বর্ণনা করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক বড় সামরিক ক্রয় ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প এই বছর সরকারি অনুমোদন অথবা চুক্তি স্বাক্ষরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। যা আগামী কয়েক দশকে ভারতীয় স্থলসেনা, বায়ুসেনা, নৌবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকরী সক্ষমতা নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি, এগুলি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ও বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ রূপরেখাও গড়ে দেবে। এমনই ১০টি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, যা নিয়ে চলতি বছর বড় সিদ্ধান্ত হতে চলেছে বলে আশাপ্রকাশ করা হচ্ছে।

    ১. মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) প্রকল্পে ১১৪টি যুদ্ধবিমান

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কেনার বিষয়টি ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও একাধিক প্রশাসনিক স্থগিতাবস্থার পর, এই প্রকল্প এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বিক্রেতা নির্বাচন ও বাণিজ্যিক দরকষাকষি চূড়ান্ত হতে পারে। ভারতীয় বায়ুসেনার ক্রমহ্রাসমান স্কোয়াড্রন সংখ্যা মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সংখ্যাগত ও গুণগত ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

    ২. বায়ুসেনার মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট (MTA) প্রকল্পে গতি

    মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট (MTA) প্রকল্পটি ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিক গতি পেতে পারে। সামরিক পণ্যবাহী বিমানের সংখ্যা ও কার্যকরী ভূমিকা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় পুরনো অ্যান্টোনভ এএন-৩২ এবং ইলিউশিন আইএল-৭৬ বিমানের বিকল্প হিসেবে নতুন সামরিক পরিবহণ বিমান পেতে চাইছে বায়ুসেনা। এ বছর এক্ষেত্রে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP) জারি হওয়া এবং বিক্রেতা সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে লকহিড মার্টিন সি-১৩০জে, এমব্রায়ার সি-৩৯০ ও এয়ারবাস এ৪০০এম প্রতিযোগিতায় থাকতে পারে। সামরিক এয়ারলিফ্ট সক্ষমতায় এই চুক্তি ভারতকে কৌশলগত বড় সুবিধা দেবে।

    ৩. প্রজেক্ট ৭৫আই (P-75I) সাবমেরিন প্রকল্প কেন্দ্রের অনুমোদনের পথে

    দীর্ঘ বিলম্বের পর প্রজেক্ট ৭৫আই অবশেষে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর অনুমোদনের দিকে এগোচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তিসম্পন্ন ছয়টি আধুনিক প্রচলিত সাবমেরিনের জন্য চুক্তি করা হবে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের বাড়তে থাকা নৌ-উপস্থিতির মোকাবিলা এবং পুরনো সাবমেরিন অবসর নেওয়ার ফলে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণে এই প্রকল্পকে ভারতীয় নৌবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। তবে, এক্ষেত্রে ফ্রান্স নির্মিত স্করপিন-সিরিজ নয়, বরং জার্মানি ও স্পেনের সংস্থার নকশা নিয়ে আলোচনাই মূল ফোকাসে রয়েছে।

    ৪. রণতরীতে দেশীয় যুদ্ধবিমান (TEDBF) প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য দেশীয় টুইন ইঞ্জিন ডেক বেসড ফাইটার (TEDBF) প্রকল্পটি ২০২৬ সালে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির অনুমোদন পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা এই যুদ্ধবিমান ভবিষ্যতে মিগ-২৯কে বহরের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং নৌবাহিনীর কেরিয়ার এয়ার উইংয়ের মূল স্তম্ভে পরিণত হবে। এই অনুমোদন পূর্ণমাত্রার উন্নয়ন তহবিল ছাড় করবে এবং দেশীয় নৌবিমান নির্মাণে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সুদৃঢ় করবে।

    ৫. অ্যামকা (AMCA) জেট ইঞ্জিন উন্নয়নে বিদেশি অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত

    ২০২৬ সালের অন্যতম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA)-এর ইঞ্জিন উন্নয়ন সংক্রান্ত অনুমোদন। যৌথ-উদ্যোগে ১১০–১৩০ কিলোনিউটন থ্রাস্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইঞ্জিন উন্নয়নের জন্য ভারত সম্ভবত বিদেশি অংশীদারিত্বের কাঠামো চূড়ান্ত করবে। ফ্রান্সের সাফরান (Safran) প্রধান অংশীদার হিসেবে উঠে আসতে পারে। এই সিদ্ধান্ত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ৬. অতিরিক্ত এস-৪০০ (S-400) ডেলিভারি ও অর্ডার বাড়ানোর সম্ভাবনা

    ২০২৬ সাল জুড়ে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রেজিমেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।চূড়ান্ত ইউনিটগুলি পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় সম্পূর্ণ করবে বলে আশা। একইসঙ্গে, মূল চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত এস-৪০০ ইউনিট কেনা নিয়েও আলোচনা চলছে, যা ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিঁদুর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হুমকি ও ঝুঁকির মূল্যায়ন ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

    ৭. মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডুরেন্স ড্রোন (MALE Drone) প্রকল্প চুক্তির পর্যায়ে

    ভারতের দীর্ঘদিন ধরে চলা মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডুরেন্স (MALE) ড্রোন প্রকল্পটি ২০২৬ সালে বাস্তব অগ্রগতি দেখতে পারে। মার্কিন এমকিউ-৯বি রিপার (MQ-9B Reaper) ড্রোন সংগ্রহ এগোলেও, এখন মূল জোর দেওয়া হচ্ছে দেশীয় তাপাস (TAPAS) বা আর্চার-এনজি (Archer-NG) প্ল্যাটফর্মের উপর, যা স্থল ও সমুদ্র উভয় ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করবে। এই দেশীয় ড্রোনগুলির চুক্তি চূড়ান্ত হলে শত্রু অঞ্চলে গোয়েন্দা, নজরদারি ও রেকি— সংক্ষেপে আইএসআর (ISR) থেকে শুরু করে আঘাত হানার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

    ৮. প্রজেক্ট-৭৭ (P-77) পারমাণবিক শক্তিচালিত অ্যাটাক সাবমেরিন (SSN)

    ২০২৬ সালে অতিরিক্ত রাজনৈতিক ও আর্থিক অনুমোদন পেতে পারে ভারতের দেশীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ঘাতক সাবমেরিন (SSN) নির্মাণ প্রকল্প— প্রজেক্ট-৭৭। এই সাবমেরিনগুলি বিমানবাহী রণতরীর নিরাপত্তা, শত্রু সাবমেরিন ট্র্যাকিং এবং গভীর সমুদ্রে আধিপত্য বজায় রাখতে অপরিহার্য। এই অনুমোদন ভারতের শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ গঠনের সংকল্পকে জোরালোভাবে তুলে ধরবে।

    ৯. কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) চুক্তি

    দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) প্রকল্পের চুক্তি ২০২৬ সালে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ব্যবস্থা স্থলসেনার সাঁজোয়া বাহিনীকে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিচু দিয়ে উড়ে আসা বিমানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে। ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এই সিস্টেমের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্ডারের আশা করছে।

    ১০. আকাশ-এনজি (Akash-NG) চুক্তিতে পরবর্তী প্রজন্মের আকাশ প্রতিরক্ষা

    দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বশেষ সংস্করণ আকাশ-এনজি (নিউ জেনারেশন) প্রকল্পও ২০২৬ সালে বড় উৎপাদন চুক্তি পেতে পারে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সফল পরীক্ষার পর উন্নত রেঞ্জ, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই ব্যবস্থা বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা স্তরকে আরও শক্তিশালী করবে।

    সব মিলিয়ে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সামনে থাকা এই সিদ্ধান্তগুলি ২০২৬ সালকে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক বছর করে তুলতে চলেছে। এই সময়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলি শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ভারতের সামরিক কাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতাকে নতুন দিশা দেবে।

  • Indian Air Force: বায়ুসেনার আধুনিকীকরণে সবুজ সংকেত কেন্দ্রের, আসছে রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স

    Indian Air Force: বায়ুসেনার আধুনিকীকরণে সবুজ সংকেত কেন্দ্রের, আসছে রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৬ সালের মধ্যেই বায়ুসেনা আরও শক্তিশালী ও আধুনিক বাহিনীতে রূপান্তরিত হবে বলে মনে করছে মন্ত্রক ও প্রতিরক্ষা মহল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য-আকাশে জ্বালানি ভরার বিমান, আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর পাশাপাশি, “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগের আওতায় ফ্রান্স থেকে ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কেনার প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

    ছয়টি বোয়িং ৭৬৭ মিড-এয়ার রিফুয়েলার

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) বা প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদের নেওয়া প্রধান সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে ইজরায়েল থেকে ছয়টি বোয়িং ৭৬৭-ভিত্তিক মিড-এয়ার রিফুয়েলার কেনার পরিকল্পনা। ইজরায়েল থেকে ছয়টি রিফুয়েলার কেনার জন্য মূল্য চূড়ান্ত করতে একটি কমিটি গঠন করছে মন্ত্রক। এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা। একমাত্র দরদাতা হিসেবে ইজরায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ-এর (IAI) সঙ্গে আলোচনা চলছে। দাম নির্ধারণ শেষ হলে প্রস্তাবটি ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর কাছে পাঠানো হবে। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে ২০০৩ সালে অন্তর্ভুক্ত ছয়টি রাশিয়ান আইএল-৭৬এম রিফুয়েলার রয়েছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত প্রস্তুতির সমস্যায় এই বহর কার্যকারিতা হারাচ্ছে বলে জানিয়েছে বায়ুসেনা।

    ১২টি এমব্রেয়ারে বসবে এইডব্লু অ্যান্ড সি

    একই সঙ্গে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ১২টি এইডব্লু অ্যান্ড সি (AEW&C) সিস্টেম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই ব্রাজিল থেকে ছয়টি এমব্রেয়ার বিমান কেনার জন্য রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP) জারি করতে চলেছে। এই বিমানগুলিতে বসানো হবে ডিআরডিও-উন্নত নেত্রা মার্ক-২ এইএসএ রেডার, যা ২৭০ ডিগ্রি নজরদারি এবং উন্নত ইলেকট্রনিক ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধে সক্ষমতা বাড়াবে।

    ৬টি এয়ারবাস হয়ে উঠবে অ্যাওয়াক্স

    একইসঙ্গে, ফ্রান্স থেকে কেনা ছয়টি এয়ারবাস এ৩১৯ বিমানে ৩৬০ ডিগ্রি রোটোডোম রেডার বসিয়ে সেগুলিকে পূর্ণাঙ্গ অ্যাওয়াক্স (AWACS) প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করছে মন্ত্রক। মিড-এয়ার রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স-এর ঘাটতির বিষয়টি অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন স্পষ্টভাবে সামনে আসে, যখন পাকিস্তানের তুলনায় এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা হয় বায়ুসেনার। পাশাপাশি,  ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য ৩৬টি অতিরিক্ত মিটিওর এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অনুমোদন দিয়েছে। কয়েকদিন আগেই, রুশ নির্মিত এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ২৮০টি দীর্ঘ ও স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ছাড়পত্র দিয়েছিল ডিএসি।

    নজরে ১১৪টি এমআরএফএ

    এছাড়া ১১৪টি এমআরএফএ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। দেশীয় উপাদানের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে সরকার। ভারতে রাফাল বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের (MRO) পরিকাঠামো আগে থেকেই থাকায়, নতুন কোনও যুদ্ধবিমান ধারা চালুর বদলে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন আধিকারিকরা। সবশেষে, আকাশপথে বিভিন্ন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ভারত ও রাশিয়া গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট পথে আরও পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা এবং প্যান্টসির মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

  • Cyclone Ditwah: ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান সহ ৬ দেশের নাগরিকদের উদ্ধার ভারতীয় বায়ুসেনার

    Cyclone Ditwah: ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান সহ ৬ দেশের নাগরিকদের উদ্ধার ভারতীয় বায়ুসেনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনা ভূমিধস-আক্রান্ত কটমালে বড় ধরনের উদ্ধার ও সরিয়ে আনার অভিযান পরিচালনা করেছে। রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এলাকাটি এখনও পুরোপুরি অবরুদ্ধ। দিনভর আইএএফ-এর হেলিকপ্টারগুলি মোট ৪৫ জন আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ৬ জন গুরুতর আহত। ছিল ৪ টি শিশুও। সকলকেই নিরাপদে কলম্বোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন ভারতীয় নাগরিক, বিভিন্ন দেশের বহু বিদেশি নাগরিক এবং শ্রীলঙ্কার বাসিন্দারাও ছিলেন। উদ্ধার হওয়া বিদেশিদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি নাগরিকও ছিলেন।

    উদ্ধার-কাজে সক্রিয় ভারতীয় বায়ুসেনা

    স্থলভাগে ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে, আইএএফ ৫৭ জন শ্রীলঙ্কান সেনাকর্মীকে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দিয়েছে, যাতে উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। আইএএফ ভীষ্ম ক্যাপসুল ও মেডিক্যাল টিমও মোতায়েন করেছে। রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত ৪০০-র বেশি ভারতীয় নাগরিককে বিমানযোগে ভারতে ফিরিয়ে এনেছে। সাইক্লোন দিটওয়া শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন জেলায় প্রবল বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস নামিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। রাস্তা ভেঙে পড়া এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকায় আটকে থাকা মানুষের জন্য জীবনরক্ষায় ভূমিকা নেয় ভারতীয় বায়ুসেনার এমআই-১৭ ভি৫ হেলিকপ্টার।

    ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’

    ঘূর্ণিঝড় দিটওয়ার তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত সে দেশে ৩৩৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিখোঁজ অন্তত ৪০০ জন। প্রতিবেশী এই দেশে আটকে পড়েছেন বেশ কিছু ভারতীয়ও। বিমানে করে তাঁদের ফেরানোর চেষ্টা চলছে। শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত সে দেশে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে। এই দুর্দিনে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। উদ্ধারকাজে নেমেছে ভারতের বায়ুসেনা। ইতিমধ্যে আকাশপথে কলম্বোয় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে অন্তত ২১ টন ত্রাণসামগ্রী। আইএনএস বিক্রান্তে করে পাঠানো হয়েছে চেতক হেলিকপ্টার। বিশাখাপত্তনম থেকে ত্রাণ নিয়ে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা হয়ে গিয়েছে আইএনএস সুকন্যাও। এই গোটা উদ্ধার অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’। সে দেশে আটকে পড়া ভারতীয়দেরও বিমানে করে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

    উদ্ধার অভিযান, বাঁচানো হল পাক নাগরিককেও

    কঠিন আবহাওয়া ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বায়ুসেনা বিভিন্ন দেশের নাগরিককে উদ্ধার করে। এদের মধ্যে ছিলেন— জার্মানির ২, দক্ষিণ আফ্রিকার ৪, স্লোভেনিয়ার ২, যুক্তরাজ্যের ২, ভারতের ১২, শ্রীলঙ্কার ৫ জন নাগরিক। এছাড়া তিনজন গুরুতর আহত শ্রীলঙ্কান নাগরিককে দ্রুত কলম্বোতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানের সময় এক গরুড় কমান্ডোকে হেলিকপ্টার থেকে উইঞ্চের সাহায্যে বিপদসংকুল এলাকায় নামানো হয়। তাঁর নেতৃত্বে আটকে পড়া দলকে পাহাড়ি পথে নিয়ে যাওয়া হয় কটমালের একটি ছোট হেলিপ্যাডে, যেখান থেকে ২৪ জন যাত্রীকে প্রবল বাতাস ও কম দৃশ্যমানতার মাঝেও কলম্বোতে নিয়ে যায় আইএএফ হেলিকপ্টার। দ্বিতীয় দফা উদ্ধার অভিযানে ইরানের ৫, অস্ট্রেলিয়ার ১, পাকিস্তানের ১, বাংলাদেশের ৩, শ্রীলঙ্কার ৮ জন ছিলেন। অভিযানটি পরিচালিত হয় শ্রীলঙ্কার ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেন্টার এবং সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে। এর আগে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর পাঁচটি দল, মোট ৪০ জন সৈন্যকে এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে করে দিয়াথালাওয়া সেনানিবাস থেকে কটমালা অঞ্চলে পাঠানো হয় উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তা করার জন্য।

  • Tejas Fighter Jet Crashes: মার্কিন ইঞ্জিনের ত্রুটির জন্যই কি দুর্ঘটনার কবলে তেজস না অন্য কারণ? ঠিক কী ঘটেছিল?

    Tejas Fighter Jet Crashes: মার্কিন ইঞ্জিনের ত্রুটির জন্যই কি দুর্ঘটনার কবলে তেজস না অন্য কারণ? ঠিক কী ঘটেছিল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইঞ্জিনের ত্রুটির জন্যই দুবাইয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল তেজস (Tejas Fighter Jet Crashes), এমনই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে, বায়ুসেনার তরফে এ নিয়ে এখনও কোনও সরকারি ভাবে বিবৃতি দেওয়া হয়নি। দুবাইয়ে এয়ার শো চলাকালীন শুক্রবার ভেঙে পড়েছে ভারতের তৈরি যুদ্ধবিমান তেজস। মৃত্যু হয়েছে পাইলট উইং কমান্ডার নমনশ স্যায়ালের। ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হলেও তেজসের ইঞ্জিন এসেছে আমেরিকার সংস্থা জেনারেল ইলেকট্রিক থেকে। মনে করা হচ্ছে, শেষ মুহূর্তে তেজসের ইঞ্জিনটিতে কোনও কারণে আগুন ধরে গিয়েছিল। পাইলট তাই আর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

    শুক্রবার দুবাইয়ের স্থানীয় সময় দুপুর ২টো ৮ মিনিটে তেজস (Tejas Fighter Jet Crashes) ভেঙে পড়ার পর বায়ুসেনা বিবৃতি জারি করে পাইলটের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, আকাশে উড়তে উড়তে আচমকা নীচে নামতে শুরু করছে ভারতীয় যুদ্ধবিমান। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সজোরে আছড়ে পড়ছে মাটিতে এবং তাতে আগুন জ্বলে উঠছে। পুরু কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল দুবাইয়ের ওই এলাকার আকাশ। আগুনে বিস্ফোরণও চোখে পড়েছে বহু দূর থেকে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ ভিডিয়ো দেখে জানিয়েছেন, শূন্যে তেজস নিয়ে একটি বিশেষ কৌশল দেখানোর পরিকল্পনা ছিল পাইলটের। যা ‘ব্যারেল রোল’ নামে পরিচিত। এই কৌশলে জেট এক বার উল্টে গিয়ে আবার সোজা হয় এবং গোলাকার কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। যুদ্ধবিমানের পক্ষে এটি খুব একটা কঠিন কৌশল নয়, মত বিশেষজ্ঞদের। তবে এতে পাইলটকে সামান্য সময়ের জন্য বিমানের মধ্যে উল্টে থাকতে হয়। অর্থাৎ, তাঁর মাথা নীচে এবং পা উপরে চলে যায়। এই সময়েই তেজসে গোলমাল হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।

    তেজস নিয়ে ভুয়ো খবর

    সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তেজস (Tejas Fighter Jet Crashes) একটি লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্‌ট। এর ব্যর্থতার হার অত্যন্ত কম। ২৪ বছরের ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র দু’বার তেজস ভেঙে পড়ল। প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার এক দিন আগেই তেজস নিয়ে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো কিছু খবরকে ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিয়েছিল ভারত সরকার। সমাজমাধ্যমে রটে গিয়েছিল, দুবাইয়ের এয়ার শো-তে ভারত থেকে যে তেজস এমকে১ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে, তার জ্বালানি লিক করছে। বক্তব্যের সপক্ষে কিছু ছবি এবং ভিডিয়োও ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল, তেজস থেকে তরল পদার্থ গড়িয়ে পড়ছে। পিআইবি-র তরফে জানানো হয়, এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো। ভিডিয়োতে যে তরল দেখা গিয়েছে, তা আদৌ তেল নয়। জল। ইচ্ছাকৃত ভাবেই ওই জল ছাড়া হচ্ছিল। এটি নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া।

    পিছনে কোনও অন্য কারণ

    শুক্রবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ার আগেই তেজস (Tejas Fighter Jet Crashes) নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানোয় সন্দেহ দানা বেঁধেছে। এর পিছনে কোনও চক্রান্ত কাজ করছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিন দুবাইয়ে বিশেষ কৌশল উপস্থাপনের জন্য তেজস যুদ্ধবিমানটিকে প্রথমে বেশ খানিকটা উপরে তুলেছিলেন পাইলট। তার পর উল্টেও যান। উল্টে যাওয়ার পরেই বিমানটি নীচের দিকে নামতে শুরু করে। আর সোজা হয়ে উপরে উঠতে পারেনি। ওই সময় পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারান। মনে করা হচ্ছে, মাটির সঙ্গে বিমানের দূরত্ব অনেকটা কমে এসেছিল। তাই কৌশলটি সম্পূর্ণ করা যায়নি।

LinkedIn
Share