Tag: Indian Navy

Indian Navy

  • Indian Navy Rescue Operation: আরব সাগরে জলদস্যুদের কবলে ইরানি জাহাজ, ৪৮ ঘণ্টার দুর্ধর্ষ অভিযানে ২০ নাবিককে উদ্ধার ভারতীয় নৌসেনার

    Indian Navy Rescue Operation: আরব সাগরে জলদস্যুদের কবলে ইরানি জাহাজ, ৪৮ ঘণ্টার দুর্ধর্ষ অভিযানে ২০ নাবিককে উদ্ধার ভারতীয় নৌসেনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরব সাগরে সশস্ত্র জলদস্যুদের কবলে পড়া একটি ইরানি মাছ ধরার জাহাজ থেকে ২০ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করল ভারতীয় নৌসেনা। ২ নভেম্বর, সোমবার, টানা ৪৮ ঘণ্টার এক জটিল অভিযানের পর এই সাফল্য আসে। মুম্বই উপকূল থেকে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে এই অভিযান চালানো হয়। জলদস্যুদের হাতে থাকা জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা থেকে শুরু করে সেটিকে আটকানো এবং সমস্ত নাবিককে নিরাপদে মুক্ত করা—প্রতিটি পর্যায়েই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ভারতীয় নৌসেনা। অভিযানে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) সহযোগিতাও ছিল।

    ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার ২০ নাবিক, সক্রিয় ভূমিকা বায়ুসেনারও

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ভারতীয় নৌসেনার এই সাফল্যের কথা প্রকাশ্যে জানান। একইসঙ্গে অভিযানে যুক্ত নৌসেনার সমস্ত কর্মীকে অভিনন্দন জানান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ রাজনাথ লেখেন, ২ নভেম্বর আরব সাগরে মুম্বই থেকে ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে ছিনতাই হওয়া মাছ ধরার জাহাজ ‘আজ়িনি’ (Azini)-র ২০ জন নাবিককে উদ্ধারে ভারতীয় নৌসেনা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ৪৮ ঘণ্টার অভিযান চালিয়েছে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানটি কয়েকটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথমে জলদস্যুদের দখলে থাকা জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করে ভারতীয় নৌসেনা। এরপর সেটিকে মাঝসমুদ্রে আটকানো হয়। শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র জলদস্যুদের কবল থেকে জাহাজের ২০ জন নাবিককে নিরাপদে মুক্ত করা সম্ভব হয়।

    এই অভিযানে ভারতীয় বায়ুসেনার সময়োপযোগী সহযোগিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাজনাথ সিং জানান, জলদস্যুদের হাতে থাকা জাহাজটির দ্রুত অবস্থান নির্ণয়, সেটিকে আটকানো এবং নাবিক ও জাহাজকে নিরাপদে মুক্ত করার ক্ষেত্রে নৌসেনার দক্ষতার পাশাপাশি বায়ুসেনার সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাঁর মতে, এই অভিযান আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলির সমন্বয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার পরিচয়।

    সোমালিয়ার উপকূলের কাছে ছিনতাই হয়েছিল ‘আজ়িনি’

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, উত্তর-পূর্ব সোমালিয়ার উপকূলবর্তী বান্দর বায়লা (Bandar Bayla) এবং হাফুন (Hafun) শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়ে। পুন্তল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্সের এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা আধিকারিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (AP) এই তথ্য জানিয়েছিলেন।

    সোমালিয়ার উপকূল দীর্ঘদিন ধরেই জলদস্যুদের তৎপরতার কারণে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগের জায়গা। বিশেষত, বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মাছ ধরার ট্রলারগুলিকে লক্ষ্য করে ছিনতাইয়ের ঘটনা আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তার প্রশ্নকে বারবার সামনে এনেছে।

    সেই প্রেক্ষাপটে ‘আজ়িনি’ উদ্ধারের অভিযান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ঘটনাস্থল ভারতের পশ্চিম উপকূল থেকে অনেক দূরে হলেও দ্রুত পদক্ষেপ করে ভারতীয় নৌসেনা ২০ জনের প্রাণ রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের বার্তা

    অভিযানের সাফল্যকে শুধু একটি উদ্ধার অভিযান হিসেবে দেখছে না প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর কৌশলগত অবস্থানও। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এই ভারত মহাসাগর। এই অঞ্চলে জলদস্যুতা, জাহাজ ছিনতাই এবং অন্যান্য সামুদ্রিক নিরাপত্তার হুমকি মোকাবিলা করা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    রাজনাথ সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানবজীবন রক্ষা এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রশ্নে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর কথায়, অবাধ, উন্মুক্ত ও নিরাপদ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিশ্চিত করতে ভারত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ‘সেফ সিজ’ (SAFE SEAS) বা নিরাপদ সমুদ্রের বার্তাও পুনরায় তুলে ধরেছেন তিনি।

    বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, এই অভিযানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত, ভারতের উপকূল থেকে ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অভিযান চালানোর সক্ষমতা। দ্বিতীয়ত, নৌসেনা ও বায়ুসেনার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক জলপথে বিপদে পড়া নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের দ্রুত হস্তক্ষেপ।

    সব মিলিয়ে, ‘আজ়িনি’ উদ্ধারের অভিযান ভারতীয় নৌসেনার দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনা, সামুদ্রিক নজরদারি এবং জলদস্যুতা মোকাবিলার সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপদ জলপথ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভারতের সক্রিয় ভূমিকার বার্তাও পৌঁছে দিল এই অভিযান।

  • 800 Km BrahMos: ৪৫০ থেকে বেড়ে ৮০০ কিমি পাল্লা! আরও বিধ্বংসী হচ্ছে ব্রহ্মস, ২০২৭ সালেই পরীক্ষা?

    800 Km BrahMos: ৪৫০ থেকে বেড়ে ৮০০ কিমি পাল্লা! আরও বিধ্বংসী হচ্ছে ব্রহ্মস, ২০২৭ সালেই পরীক্ষা?

    সুশান্ত দাস

    ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিতে আরও বড়সড় সংযোজন হতে চলেছে ব্রহ্মস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়িয়ে ৪৫০ কিলোমিটার থেকে ৮০০ কিলোমিটার করার লক্ষ্যে দ্রুত কাজ করছে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সমুদ্র ও স্থলপথে শত্রুপক্ষের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আরও অনেক দূর থেকে নিখুঁত আঘাত হানতে পারবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। শুধু পাল্লা বৃদ্ধি নয়, নতুন সংস্করণে র‌্যামজেট ইঞ্জিনের উন্নয়ন এবং একাধিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও আনা হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে শুরু হতে পারে নতুন সংস্করণের ডেভেলপমেন্ট টেস্টিং। ২০২৭ সালের শেষ অথবা ২০২৮ সালের গোড়ায় পরীক্ষার পর্ব সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

    কীভাবে বাড়বে ব্রহ্মসের পাল্লা?

    ব্রহ্মস একটি সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, যা র‌্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালিত হয়। নতুন সংস্করণে ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ৮০০ কিলোমিটারে নিয়ে যেতে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ও জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    র‌্যামজেট ইঞ্জিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এটি বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে জ্বালানি দহনের কাজে ব্যবহার করে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রকে জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর করে তোলা সম্ভব। এই প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্রহ্মসের উড়ানপথ ও পাল্লা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    নতুন সংস্করণে ওজন নিয়ন্ত্রণ, উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং ওয়ারহেডের সক্ষমতা নিয়েও কাজ হতে পারে। এর ফলে দীর্ঘ দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পাশাপাশি নির্ভুলতা ও সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    পুরনো লঞ্চারেই ব্যবহার করা যাবে নতুন ব্রহ্মস!

    এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, পাল্লা বাড়লেও ক্ষেপণাস্ত্রটির লঞ্চার এবং সংশ্লিষ্ট সহায়ক ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না বলে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, ভারতীয় নৌসেনার যে যুদ্ধজাহাজগুলিতে বর্তমানে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন রয়েছে, সেগুলিতে নতুন সংস্করণ যুক্ত করার জন্য বড় ধরনের পরিকাঠামোগত পরিবর্তন করতে হবে না।

    এর ফলে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ক্ষেত্রে সময় ও খরচ, দু’দিক থেকেই সুবিধা পাওয়া যাবে। বিদ্যমান যুদ্ধজাহাজের পরিকাঠামো ব্যবহার করেই উন্নত সংস্করণকে কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নতুন কোনও অস্ত্রব্যবস্থা তৈরি করলেই শুধু হয় না, সেটিকে বিদ্যমান সামরিক পরিকাঠামোর সঙ্গে দ্রুত সংযুক্ত করাও সমান জরুরি। সেই জায়গায় ব্রহ্মসের নতুন সংস্করণ ভারতীয় নৌসেনার জন্য বিশেষ সুবিধা এনে দিতে পারে।

    ২০২৭ সালেই শুরু হতে পারে পরীক্ষামূলক উড়ান

    নতুন ব্রহ্মস তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমে উন্নত র‌্যামজেট ইঞ্জিন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের দেশীয় স্তরে পরীক্ষা চালানো হবে। সেই পরীক্ষায় সাফল্য মিললে পরবর্তী পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রটির ডেভেলপমেন্ট টেস্টিং শুরু হবে।

    প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে এই পরীক্ষা শুরু হতে পারে। ২০২৭ সালের শেষ অথবা ২০২৮ সালের গোড়ার মধ্যে পরীক্ষার পর্ব শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

    পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি, পাল্লা, নেভিগেশন এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতা খতিয়ে দেখা হবে। সমস্ত পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল মিললে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহারের জন্য উৎপাদন শুরু করার উপর জোর দেওয়া হবে। সম্ভাব্য সময়সীমা ২০২৮ সাল।

    রফতানির জন্য ২৯০ কিমি, ভারতের হাতে ৮০০ কিমির সংস্করণ

    ব্রহ্মসের নতুন সংস্করণের কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের বিষয়টিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। রফতানির ক্ষেত্রে ভারত ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মস সংস্করণের উৎপাদন অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে, ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার উন্নত সংস্করণ মূলত ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজন মেটানোর জন্য তৈরি করা হবে।

    এর পিছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (MTCR)-এর বিধিনিষেধ। এই ব্যবস্থার আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম রফতানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে দেশীয় সামরিক প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা—দুই ক্ষেত্রেই আলাদা কৌশল বজায় রাখার সুযোগ পাবে ভারত।

    চিন ও পাকিস্তানের মোকাবিলায় বাড়বে কৌশলগত সুবিধা

    ব্রহ্মসের পাল্লা ৮০০ কিলোমিটারে পৌঁছলে ভারতের সামরিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। সমুদ্রপথে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজকে অনেক বেশি দূর থেকে নিশানা করার সুযোগ তৈরি হবে। একইভাবে স্থলভাগে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামো ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রেও বাড়বে সক্ষমতা।

    বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌসেনার উপস্থিতি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে এই ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি চিন ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির সামরিক সক্ষমতার মোকাবিলায় ভারতের প্রতিরোধমূলক শক্তি (Deterrence Capability) আরও মজবুত হবে।

    স্থল, জল এবং আকাশ—তিন ক্ষেত্রেই ব্রহ্মসের ব্যবহারযোগ্যতা ভারতের সামরিক পরিকল্পনায় বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে নতুন সংস্করণের প্রকৃত কার্যকারিতা নির্ভর করবে পরীক্ষার ফলাফল এবং বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির পর তার বাস্তব প্রয়োগের উপর।

    আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পথে আরও এক ধাপ

    ভারত ও রাশিয়ার যৌথ সহযোগিতায় ব্রহ্মস প্রকল্পের সূচনা হলেও এর উন্নত সংস্করণ তৈরির ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তি ও গবেষণার ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। উন্নত ইঞ্জিন, নেভিগেশন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার পরীক্ষায় সাফল্য এলে ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাও উপকৃত হবে।

    তবে এই প্রকল্পের সামনে প্রযুক্তিগত জটিলতা, দীর্ঘ পাল্লায় নির্ভুলতা বজায় রাখা এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমস্ত পরীক্ষা শেষ করে উৎপাদন শুরু করাও বড় বিষয়।

    সব মিলিয়ে, ৪৫০ কিলোমিটার থেকে ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মস তৈরির উদ্যোগ ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে। পরিকল্পনা সফল হলে ভারতীয় নৌসেনা, স্থলসেনা ও বায়ুসেনার আক্রমণাত্মক সক্ষমতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এই উন্নত সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র।

  • Next Generation Corvettes Deal: বাড়ছে ভারতের নৌসেনার শক্তি, ৫৩,৮৬৬ কোটি টাকায় তৈরি হবে ৮টি যুদ্ধজাহাজ! গার্ডেনরিচ পেল ৫টির বরাত

    Next Generation Corvettes Deal: বাড়ছে ভারতের নৌসেনার শক্তি, ৫৩,৮৬৬ কোটি টাকায় তৈরি হবে ৮টি যুদ্ধজাহাজ! গার্ডেনরিচ পেল ৫টির বরাত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার সামুদ্রিক শক্তি আরও বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শিল্পকে নতুন গতি দিতে গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE) এবং গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেডের (GSL) সঙ্গে মোট ৫৩,৮৬৬.৫০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করল কেন্দ্র। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় নৌসেনার জন্য তৈরি হবে ৮টি নেক্সট জেনারেশন করভেট (Next Generation Corvettes বা NGC)। সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, নয়াদিল্লির কর্তব্য ভবন-২-এ প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    কোন সংস্থা কতগুলি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে?

    চুক্তি অনুযায়ী, কলকাতার রাষ্ট্রায়ত্ত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ সংস্থা জিআরএসই তৈরি করবে ৫টি নেক্সট জেনারেশন করভেট। অন্যদিকে, বাকি ৩টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে গোয়ার জিএসএল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রকল্পে প্রথমবার ভারতীয় নৌসেনার নিজস্ব নকশায় যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিরক্ষা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি (DPSUs) সেগুলি নির্মাণ করবে। ভারতের নিজস্ব যুদ্ধজাহাজের নকশা তৈরি এবং নির্মাণের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কী কী বিশেষ ক্ষমতা থাকবে নেক্সট জেনারেশন করভেটে?

    আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হবে এই ৮টি যুদ্ধজাহাজ। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং আধুনিক সেন্সর স্যুটে সজ্জিত থাকবে নেক্সট জেনারেশন করভেটগুলি। ফলে আকাশপথ, সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং সমুদ্রের গভীরে—তিনটি ক্ষেত্রেই সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা থাকবে এই যুদ্ধজাহাজগুলির।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক নৌযুদ্ধে শুধুমাত্র শক্তিশালী অস্ত্র থাকাই যথেষ্ট নয়। শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করা, দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত সেন্সর ও অস্ত্র ব্যবস্থার সমন্বয় এই করভেটগুলিকে বহুমুখী সামুদ্রিক অভিযানে কার্যকর করে তুলবে।

    ভারতীয় নৌসেনার শক্তি কতটা বাড়বে?

    নতুন করভেটগুলি অন্তর্ভুক্ত হলে ভারতীয় নৌসেনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অভিযান চালানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে—

    • ● সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সুরক্ষা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    • ● অ্যান্টি-সারফেস ওয়ারফেয়ার: শত্রুপক্ষের জলযান ও যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো।

    • ● অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার: শত্রু ডুবোজাহাজ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনে সেগুলির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান।

    • ● উপকূলীয় প্রতিরক্ষা: ভারতের দীর্ঘ উপকূলরেখার নিরাপত্তা আরও মজবুত করা।

    • ● অগভীর জলে যুদ্ধ: উপকূল সংলগ্ন অগভীর জলসীমায় সামরিক অভিযান পরিচালনা।

    • ● সামুদ্রিক নজরদারি: গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখা এবং সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখা।

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান নৌ-তৎপরতা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের কৌশলগত গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে এই যুদ্ধজাহাজগুলি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় জলসীমা থেকে শুরু করে বিস্তৃত সমুদ্রাঞ্চলে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে নতুন সক্ষমতা তৈরি হবে।

    ১০ বছরে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

    এই প্রকল্পের গুরুত্ব শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বেসরকারি শিপইয়ার্ড, শিল্প সহযোগী সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের (MSMEs) জন্যও বড় সুযোগ তৈরি হতে চলেছে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে—

    • ● জাহাজ নির্মাণ সংস্থাগুলিতে প্রায় ৭২ লক্ষ কর্মদিবস কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

    • ● সহযোগী শিল্প এবং এমএসএমই ক্ষেত্রগুলিতে প্রায় ৪৬০ লক্ষ কর্মদিবস কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    অর্থাৎ, প্রত্যক্ষভাবে শিপইয়ার্ডের পাশাপাশি যন্ত্রাংশ উৎপাদন, ইলেকট্রনিক্স, বিশেষায়িত সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সহায়ক শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত হবে বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সংস্থা। ফলে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ

    এই প্রকল্পে দেশীয় উপকরণ, ভারতীয় প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং দক্ষ মানবসম্পদের ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে বিদেশি প্রযুক্তি ও আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের সঙ্গেও এই প্রকল্পের সরাসরি যোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় নৌসেনার নিজস্ব নকশায় যুদ্ধজাহাজ তৈরি এবং দেশীয় শিল্প সংস্থাগুলির মাধ্যমে তার নির্মাণ—প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

    সব মিলিয়ে, ৫৩,৮৬৬.৫০ কোটি টাকার এই চুক্তি শুধুমাত্র ৮টি যুদ্ধজাহাজ কেনার প্রকল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, দেশীয় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা। বিশেষ করে কলকাতার জিআরএসই-র হাতে ৫টি করভেট নির্মাণের দায়িত্ব আসায় বাংলার প্রতিরক্ষা শিল্পের কাছেও এই প্রকল্পের গুরুত্ব যথেষ্ট।

  • Indian Navy: ৪০ হাজার কোটির স্টেলথ করভেট প্রকল্পে সিলমোহর কেন্দ্রের! নৌবাহিনীর জন্য তৈরি হবে ৮টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ

    Indian Navy: ৪০ হাজার কোটির স্টেলথ করভেট প্রকল্পে সিলমোহর কেন্দ্রের! নৌবাহিনীর জন্য তৈরি হবে ৮টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি আরও বাড়াতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS) ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৮টি নেক্সট জেনারেশন করভেট (Next Generation Corvettes) তৈরির প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) এবং গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড (GSL) এই যুদ্ধজাহাজগুলি তৈরি করবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

    এই প্রকল্প শুধু ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নয়, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন, অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (IOR) ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কী বিশেষত্ব এই নেক্সট জেনারেশন করভেটগুলির?

    প্রস্তাবিত আটটি করভেট হবে প্রায় ২,০০০ টন ওজনের উচ্চগতিসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজ। ঘণ্টায় নয়, নৌবাহিনীর প্রচলিত গতির একক নট অনুযায়ী, এগুলির সর্বোচ্চ গতি হতে পারে প্রায় ৩০ নট। ভারতীয় নৌবাহিনীর নিজস্ব নকশায় তৈরি এই যুদ্ধজাহাজগুলিতে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক জাহাজ নির্মাণ প্রযুক্তি এবং স্টেলথ প্রযুক্তি। ফলে শত্রুপক্ষের নজরদারি ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযানে এগুলিকে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

    নকশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল বহুমুখী অভিযানে অংশ নেওয়ার ক্ষমতা। সমুদ্রপৃষ্ঠে শত্রুর যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান, সাবমেরিন শনাক্ত ও মোকাবিলা এবং আকাশপথ থেকে আসা হুমকি প্রতিহত করার মতো কাজে ব্যবহার করা যাবে এই করভেটগুলি। পাশাপাশি নজরদারি, যুদ্ধজাহাজকে এসকর্ট করা, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখার মতো দায়িত্বও পালন করতে পারবে এগুলি।

    উন্নত সেন্সর, অস্ত্রব্যবস্থা, স্টেলথ নকশা এবং উচ্চ চালনক্ষমতার সমন্বয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর অভিযানের পরিধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষত উপকূলবর্তী জলসীমা থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগরের বিস্তৃত এলাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং একাধিক ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে এই যুদ্ধজাহাজগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    ৫টি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে জিআরএসই, বাকি ৩টি জিএসএল

    প্রকল্পটির দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে দুই রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ সংস্থার মধ্যে। বাণিজ্যিক দরপত্র খোলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে জিআরএসই সর্বনিম্ন দরদাতা বা L1 হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতার জিআরএসই তৈরি করবে পাঁচটি করভেট। বাকি তিনটি তৈরি করবে গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড। দুই সংস্থার ক্ষেত্রেই প্রতি যুদ্ধজাহাজের নির্মাণমূল্য একই রাখার কথা।

    কলকাতার জিআরএসই-র জন্য এই প্রকল্প বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বড় অঙ্কের এই বরাত সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি কাজের নিশ্চয়তা বাড়াবে। পাশাপাশি গোয়া শিপইয়ার্ডের উৎপাদন ও নির্মাণ পরিকাঠামোও উপকৃত হবে। যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME), যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার কাছেও নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরির আশা করা হচ্ছে।

    ৭০ শতাংশের বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ও উপকরণ

    প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দেশীয় উপাদানের ব্যবহার। আটটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে ৭০ শতাংশের বেশি দেশীয় সামগ্রী ও প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্প, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    কেন্দ্রের আত্মনির্ভর ভারত (Atmanirbhar Bharat) উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। বিদেশি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় নকশা, উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোই এর অন্যতম লক্ষ্য।

    একই সঙ্গে প্রকল্পটি ভারতের SAGAR—Security and Growth for All in the Region—ভাবনার সঙ্গেও সম্পর্কিত। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ভারতের উপস্থিতি জোরদার করার ক্ষেত্রে আধুনিক যুদ্ধজাহাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

    ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথম যুদ্ধজাহাজ হাতে পাওয়ার লক্ষ্য

    প্রকল্পের অনুমোদন মিললেও এবার মূল নজর নির্মাণের সময়সীমার দিকে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রথম করভেটের নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথম যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্মাণের সময় আরও কমিয়ে আনা যায় কি না, তা নিয়েও দুই শিপইয়ার্ডের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    পরবর্তী যুদ্ধজাহাজগুলির সরবরাহ ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কত দ্রুত এগোয়, তার উপর নির্ভর করবে নৌবাহিনী কত তাড়াতাড়ি নতুন করভেটগুলিকে সক্রিয় পরিষেবায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

    ২০২২ সালে শুরু, এবার চূড়ান্ত অনুমোদন

    নেক্সট জেনারেশন করভেট তৈরির পরিকল্পনা বেশ কয়েক বছর ধরেই বিবেচনাধীন ছিল। ২০২২ সালের জুন মাসে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (Defence Acquisition Council) আটটি করভেট নির্মাণের জন্য Acceptance of Necessity বা প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তার অনুমোদন দেয়। সেই সময় প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ছিল প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা।

    এরপর দরপত্র প্রক্রিয়া, ২০২৫ সালের মে মাসে জিআরএসই-র সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং ২০২৬ সালে মূল্য নিয়ে আলোচনা-সহ একাধিক ধাপ অতিক্রম করে প্রকল্পটি। এদিকে নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরোর সহযোগিতায় নেভাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল ল্যাবরেটরি (NSTL) সফলভাবে হাইড্রোডাইনামিক মডেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছে। এবার CCS-এর অনুমোদনের ফলে চুক্তি স্বাক্ষর এবং নির্মাণকাজ শুরুর পথ আরও প্রশস্ত হল।

    চিনের উপস্থিতির মধ্যে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু বড় যুদ্ধজাহাজ নয়, দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযানে সক্ষম করভেটও নৌবাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রস্তাবিত করভেটগুলি ভারতীয় নৌবাহিনীর পুরনো খুখরি-শ্রেণি ও কোরা-শ্রেণির করভেটগুলির জায়গা নিতে পারে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন যুদ্ধজাহাজগুলির কার্যকরী সক্ষমতা শুধু পুরনো জাহাজের বিকল্প হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নজরদারি, এসকর্ট, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা এবং সমুদ্রপথে দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও এগুলি নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

    বর্তমানে নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে নীলগিরি-শ্রেণির ফ্রিগেট, পরবর্তী প্রজন্মের ডেস্ট্রয়ার এবং ফ্লিট সাপোর্ট শিপের মতো বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে আটটি নেক্সট জেনারেশন করভেট যুক্ত হলে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে আরও আধুনিক ও বহুমুখী যুদ্ধজাহাজের সমন্বয় তৈরি হবে।

    সব মিলিয়ে, ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের এই প্রকল্প প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় পদক্ষেপ। এখন চুক্তি স্বাক্ষর, নির্মাণের অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ—এই তিনটি বিষয়ই প্রকল্পের সাফল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • Rajnath Singh: প্রতিরক্ষা খাতে ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার অনুমোদন কেন্দ্রের! ৮২% কেনাকাটা দেশীয় সংস্থার কাছ থেকে

    Rajnath Singh: প্রতিরক্ষা খাতে ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার অনুমোদন কেন্দ্রের! ৮২% কেনাকাটা দেশীয় সংস্থার কাছ থেকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও এক বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রায় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার মূলধনী সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে প্রাথমিক অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বিপুল অঙ্কের কেনাকাটার প্রায় ৮২ শতাংশই করা হবে ভারতীয় শিল্পসংস্থাগুলির কাছ থেকে। এর ফলে একদিকে যেমন ভারতীয় সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার সামরিক সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও বড়সড় উৎসাহ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে বসে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি-র (DAC) বৈঠক। সেখানেই তিন বাহিনীর একাধিক সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি কেনার প্রস্তাবে Acceptance of Necessity (AoN) বা প্রয়োজনীয়তার প্রাথমিক প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলির আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় ২,১২,০০০ কোটি টাকা।

    স্থলসেনার জন্য আধুনিক কামান, হেলিকপ্টার ও আত্মঘাতী ড্রোন

    স্থলসীমান্তে অভিযান, দুর্গম এলাকায় সেনা চলাচল, নজরদারি এবং শত্রুপক্ষের আকাশপথে হামলা মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াতে ভারতীয় সেনার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    অনুমোদিত সরঞ্জামগুলির মধ্যে রয়েছে হাই মোবিলিটি ভেহিকল (HMV), স্বচালিত ট্র্যাকড গান সিস্টেম, গান শট রেসপন্স সিস্টেম (GSRS), লাইট মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার (LMRH), ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (VSHORADS), প্ল্যাটফর্ম-ভিত্তিক কাউন্টার-আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (C-UAS), দূরপাল্লার আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম, নজরদারি ড্রোন, সমন্বিত নজরদারি ও আঘাত হানার ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, উচ্চ গতিশীলতাসম্পন্ন যানগুলি দুর্গম ভূখণ্ডে সেনার চলাচল, রসদ সরবরাহ এবং অভিযানের সক্ষমতা বাড়াবে। অন্যদিকে, স্বচালিত ট্র্যাকড গান সিস্টেম যান্ত্রিক বাহিনীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কামানের গতিশীলতা ও গোলাবর্ষণের ক্ষমতা বাড়াবে। গান শট রেসপন্স সিস্টেমের মাধ্যমে সেনা আরও দ্রুত পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাবে। যুদ্ধক্ষেত্রে কোথা থেকে গুলি চালানো হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য শনাক্ত করতে ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বুঝতে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    ড্রোন হামলা মোকাবিলা ও নজরদারিতে বাড়তি জোর

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট ড্রোন, মনুষ্যবিহীন আকাশযান এবং নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সেনার জন্য একাধিক ড্রোন ও ড্রোন-বিরোধী ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (VSHORADS) নতুন প্রজন্মের ছোট আকারের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সাহায্য করবে। অন্যদিকে, কাউন্টার-আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (C-UAS) আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাঙ্কের সুরক্ষা ও টিকে থাকার ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

    এছাড়া নজরদারি ইউএভি, সমন্বিত নজরদারি ও আঘাত হানার ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন সেনার শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করা, লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াবে।

    বিশেষত, দূরপাল্লার ড্রোন ও সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থার সংযোজনের ফলে দূরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কার্যকর হতে পারে।

    সেনা ও বায়ুসেনার জন্য একসঙ্গে হেলিকপ্টার

    লাইট মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার (LMRH) কেনার প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করবে ভারতীয় সেনা এবং ভারতীয় বায়ুসেনা—দুই বাহিনীই।

    পুনরীক্ষণ ও নজরদারি, যুদ্ধকালীন অভিযান, বিপদে পড়া সেনাকর্মীদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং মানবিক সহায়তা ও বিপর্যয় মোকাবিলার মতো একাধিক কাজে এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।

    দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল কিংবা যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত এমন এলাকায় সেনার কাছে দ্রুত পৌঁছনো, আহতদের উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের হেলিকপ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    নৌসেনার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য অ্যাক্টিভ অফবোর্ড ডিকয় সিস্টেম (AODS) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সামরিক প্ল্যাটফর্ম কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    AODS-এর প্রধান উদ্দেশ্য হল শত্রুপক্ষের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে নৌসেনার প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানো। এই ধরনের ডিকয় সিস্টেম শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রকে আসল জাহাজ থেকে সরিয়ে অন্যদিকে আকৃষ্ট করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলে জাহাজের উপর সরাসরি আঘাতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এই প্রযুক্তি।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য, দেশীয় প্রযুক্তিতে নকশা ও নির্মাণ করা গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সামরিক প্ল্যাটফর্মগুলি আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে এবং ভারতীয় নৌসেনার সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা বাড়াবে।

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের সুরক্ষা এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

    বায়ুসেনার জন্য হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স ও আবহাওয়া রেডার

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য হেলিকপ্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অস্ত্রশস্ত্র এবং মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার আবহাওয়া রেডার সিস্টেম কেনার প্রস্তাবেও প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষ উপযোগিতার হেলিকপ্টারগুলি বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিবহণের চাহিদা পূরণে সাহায্য করবে। সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ, দুর্গম এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিভিন্ন অভিযানে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের হেলিকপ্টার কার্যকর হতে পারে।

    অন্যদিকে, মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার আবহাওয়া রেডার সামনের সারির সামরিক এলাকাগুলিতে স্থানীয় আবহাওয়ার উচ্চ রেজোলিউশনের তথ্য সরবরাহ করবে। এর সাহায্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

    সামরিক অভিযানে দৃশ্যমানতা, বৃষ্টিপাত, ঝড় এবং অন্যান্য আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই রেডার ব্যবস্থা বিমান অভিযান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে।

    দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় সুযোগ

    এই অনুমোদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হল, মোট প্রস্তাবিত কেনাকাটার প্রায় ৮২ শতাংশ ভারতীয় শিল্পসংস্থাগুলির কাছ থেকে করা হবে। অর্থাৎ, প্রায় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার মোট প্রস্তাবিত ব্যয়ের বড় অংশ দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

    এর সম্ভাব্য প্রভাব একাধিক ক্ষেত্রে পড়তে পারে। প্রথমত, দেশীয় সংস্থাগুলির জন্য সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি উৎপাদনের বাজার সম্প্রসারিত হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গবেষণা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং উৎপাদন পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে। তৃতীয়ত, দেশীয় সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    তবে মনে রাখতে হবে, AoN বা Acceptance of Necessity চূড়ান্ত বরাত কিংবা সরঞ্জাম সরবরাহের সমান নয়। এটি কেনাকাটার প্রয়োজনীয়তার প্রাথমিক অনুমোদন। এর পরে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী দরপত্র, চুক্তি, উৎপাদন এবং সরবরাহের মতো একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

    সব মিলিয়ে, তিন বাহিনীর জন্য এই বিপুল অঙ্কের প্রস্তাবিত সামরিক কেনাকাটা ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়ার ফলে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যও আরও গতি পেতে পারে। তবে বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলি কত দ্রুত চুক্তি, উৎপাদন ও কার্যকর সামরিক ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছয়, তার উপর।

  • Pakistan Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ পড়ে পাকিস্তানে তথ্য পাচারের অভিযোগ! অসম পুলিশের হাতে ধৃত দু’জন, কোয়েম্বাটোরে গ্রেফতার নৌসেনা কর্মী

    Pakistan Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ পড়ে পাকিস্তানে তথ্য পাচারের অভিযোগ! অসম পুলিশের হাতে ধৃত দু’জন, কোয়েম্বাটোরে গ্রেফতার নৌসেনা কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে সক্রিয় হানি-ট্র্যাপ। সীমান্তের ওপার থেকে এই চক্র কাজ চালায়। দেশের নিরাপত্তায় প্রশ্ন তৈরির চেষ্টা করে। পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিহারের দুই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনাকর্মী। অবসরের পরও তিনি চুক্তিভিত্তিকভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক মহিলা অপারেটিভের কাছে ভারতীয় নৌবাহিনীর গোপন প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য পাচারের অভিযোগে এক কর্মরত নৌসেনা সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ। শনিবার কোয়েম্বাটোরের রেড ফিল্ডস এলাকায় অবস্থিত উচ্চ-নিরাপত্তার আইএনএস অগ্রণী ক্যাম্পাসে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (CI) সেলের একটি বিশেষ দল।

    এনআইএ-এর ইনপুটের ভিত্তিতে তদন্ত

    পুলিশ সূত্রে খবর, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অসম পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে ৩১ বছর বয়সি অভিষেক কুমার সিং-এর বাড়ি বিহারের মোতিহারিতে। অভিযোগ, তিনি গুয়াহাটিতে বসবাস করে ভারতীয় সেনাবাহিনী সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানে থাকা তাঁর হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠাচ্ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু সন্দেহজনক নথি ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্ত ৩৯ বছর বয়সি রীতেশ কুমার সিং। তিনি বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা। গুয়াহাটির সাতগাঁও এলাকায় একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক অপারেটিভের নির্দেশে রীতেশ কাজ করছিলেন এবং অভিষেককেও বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছিলেন।

    অভিষেকের সূত্র ধরেই জালে রীতেশ

    প্রথমে অভিষেকের গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি অসমে বসে ভারতীয় সেনাবাহিনী সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের কাছে পাঠাচ্ছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর গজরাজ কোর এবং অসম পুলিশ যৌথভাবে রীতেশের কথিত কার্যকলাপ নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছিল। এরই মধ্যে শনিবার ও রবিবারের মধ্যবর্তী রাতে অভিষেককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, পাকিস্তান-সম্পর্কিত কিছু নথি এবং অন্যান্য সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তদন্তভার আরও এগিয়ে নিয়ে যায় অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তের সূত্র ধরে রীতেশের সন্ধান পাওয়া যায় এবং তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। অভিষেকের মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কতদিন ধরে তিনি এই ধরনের কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন এবং পাকিস্তানে থাকা ঠিক কার কার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ

    অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, এনআইএ-এর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অসম পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পরবর্তী তদন্তের জন্য তাঁদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে দু’জনকেই কথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে নিশানা করা হয়েছিল। সেই পদ্ধতিতে তাঁদের কাছ থেকে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। অভিষেকের গ্রেফতারের খবর সামনে আসতেই বিহারের মোতিহারি পুলিশও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। মোতিহারির পুলিশ সুপার স্বর্ণ প্রভাত জানিয়েছেন, অভিষেক সম্পর্কে পুলিশের কাছে তথ্য এসেছে। জেলার ঠিক কোন থানা এলাকায় তাঁর বাড়ি, তা যাচাই করা হচ্ছে। অসম পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মোতিহারি পুলিশও তথ্য সংগ্রহ করছে। তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় পরিচয় সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় নিশ্চিতভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন মোতিহারি পুলিশ সুপার।

    হানিট্র্যাপে পশ্চিমবঙ্গ-যোগ

    অন্যদিকে, অন্ধ্র পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত নৌসেনা সদস্যের নাম প্রদীপ মুখার্জি (৩১)। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন ন্যাভাল কমান্ডের অধীনে নাবিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সূত্রের খবর, গত এক সপ্তাহ ধরে কোয়েম্বাটোরের আইএনএস অগ্রণী (INS Agrani)-তে একটি ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্সে অংশ নিতে গিয়েছিলেন প্রদীপ। এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম।

    ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা তথ্য পাচার

    তদন্তকারীদের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক মহিলার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপের। ওই মহিলা নিজেকে সাধারণ পরিচিত হিসেবে পরিচয় দিলেও পরে তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক অপারেটিভ বলে সন্দেহ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই মহিলা ধীরে ধীরে প্রদীপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে এবং পরবর্তীতে তাঁকে ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা তথ্য দিতে প্ররোচিত করেন। অভিযোগ, প্রদীপ বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটি-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওই মহিলার কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপ নজরে আসার পর কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পর নৌবাহিনীর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কোয়েম্বাটোরের আইএনএস অগ্রণী (INS Agrani) ক্যাম্পাসে অভিযান চালানো হয় এবং সেখান থেকেই প্রদীপকে গ্রেফতার করা হয়। কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল মূলত সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক এবং সীমান্তপারের গুপ্তচরবৃত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তদন্ত করে থাকে। ধৃত নৌসেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ঠিক কী কী তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Project 75I: ভারতের সঙ্গে সাবমেরিন চুক্তি সই করতে প্রস্তুত, বড় দাবি জার্মানির, ৮০ হাজার কোটি টাকার অঙ্কই নেপথ্য কারণ!

    Project 75I: ভারতের সঙ্গে সাবমেরিন চুক্তি সই করতে প্রস্তুত, বড় দাবি জার্মানির, ৮০ হাজার কোটি টাকার অঙ্কই নেপথ্য কারণ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-জার্মানি প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বড়সড় অগ্রগতির ইঙ্গিত। প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮০ হাজার কোটি) মূল্যের ছয়টি অত্যাধুনিক প্রচলিত শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির চুক্তিতে সই করতে প্রস্তুত বার্লিন। জার্মান রাষ্ট্রদূত জ্যাসপার ভিক জানিয়েছেন, চুক্তির নথিপত্র জার্মানির তরফে চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। এখন ভারতের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষা।

    প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি ভারতের প্রজেক্ট-৭৫(আই)-এর আওতায়। জার্মানির থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (TKMS) এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL) যৌথভাবে ভারতে ছয়টি সাবমেরিন তৈরি করবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি শুধু বিদেশ থেকে তৈরি সাবমেরিন কেনার চুক্তি নয়। ভারতে উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরই এই অংশীদারিত্বের অন্যতম মূল লক্ষ্য।

    সইয়ের জন্য প্রস্তুত জার্মানি, অপেক্ষা ভারতের অনুমোদনের

    ২৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জার্মান রাষ্ট্রদূত জ্যাসপার ভিক জানান, জার্মানির দিক থেকে চুক্তির নথি চূড়ান্ত। ভারতের তরফে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব। তিনি জানান, জার্মানি “যে কোনও মুহূর্তে” চুক্তিতে সই করতে প্রস্তুত।

    অর্থাৎ, এই মুহূর্তে মূল বিষয় চুক্তির জার্মান অংশের প্রস্তুতি নয়, বরং ভারতের প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পূর্ণ করা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকল্পটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার, যদিও চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য ভারতের অনুমোদন ও চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরই নিশ্চিত হবে।

    ছয় সাবমেরিন তৈরি হবে ভারতেই

    প্রজেক্ট-৭৫(আই)-এর আওতায় ছয়টি পরবর্তী প্রজন্মের প্রচলিত সাবমেরিন তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলিতে থাকবে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির সাহায্যে প্রচলিত ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনের তুলনায় দীর্ঘ সময় জলের নীচে অবস্থান করা সম্ভব হয়, কারণ বারবার বায়ুমণ্ডলীয় অক্সিজেনের জন্য ভেসে ওঠার প্রয়োজন কমে যায়।

    প্রকল্পটির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সাবমেরিনগুলির নির্মাণ ভারতে করার পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের নিজস্ব সাবমেরিন উৎপাদন পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা। ২০২৫ সালেই থাইসেনক্রুপ এবং মাঝগাঁও এই প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি আলোচনায় প্রবেশ করেছিল।

    শুধু সাবমেরিন নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তরই বড় বিষয়

    জার্মান রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ‘রিয়েল পার্টনারশিপ’ বা প্রকৃত অংশীদারিত্বের কথা। অর্থাৎ, থাইসেনক্রুপ শুধু তৈরি সাবমেরিন ভারতে সরবরাহ করবে না; ভারতীয় শিল্প সংস্থার সঙ্গে মিলে দেশেই উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

    এর প্রভাব একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। সাবমেরিন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ারিং, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, সেন্সর, যুদ্ধব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সাপ্লাই চেনের একাধিক ভারতীয় সংস্থা এই সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। থাইসেনক্রুপও জানিয়েছে, মাঝগাঁও-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব ভারতের দেশীয় সাবমেরিন নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত।

    জার্মানির প্রতিরক্ষা রফতানি নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    এই সাবমেরিন চুক্তির তাৎপর্য শুধু ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জার্মানির ভারতের প্রতি প্রতিরক্ষা রফতানি নীতির পরিবর্তনও।

    জ্যাসপার ভিক জানিয়েছেন, ভারতকে ঘিরে জার্মানির প্রতিরক্ষা রফতানি নীতিতে কার্যত “১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন” এসেছে। ভারতের জন্য লাইসেন্স দেওয়া এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বার্লিন এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রস্তুত বলে তিনি জানিয়েছেন। জার্মানির দৃষ্টিতে ভারত একটি বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

    ইউক্রেন যুদ্ধ, দ্রুত বদলে যাওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুদ্ধে ড্রোন ও অন্যান্য মনুষ্যবিহীন ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব—এই পরিবর্তনের পটভূমিতে রয়েছে বলে জার্মান পক্ষের বক্তব্য।

    কেন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

    ভারতের জন্য এই প্রকল্পের গুরুত্ব কয়েকটি স্তরে দেখা যায়।

    • প্রথমত, সাবমেরিন বহর আধুনিকীকরণ। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য প্রচলিত সাবমেরিনের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানো দীর্ঘদিনের প্রয়োজন। প্রজেক্ট-৭৫(আই) সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
    • দ্বিতীয়ত, দেশে সাবমেরিন তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধি। বিদেশি প্রযুক্তি ও ভারতীয় উৎপাদন পরিকাঠামোর সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় শিল্পের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
    • তৃতীয়ত, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বৈচিত্র্য। রাশিয়া ভারতের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নয়াদিল্লি একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে। জার্মানির সঙ্গে গভীরতর অংশীদারিত্ব সেই বৈচিত্র্যকেই আরও বিস্তৃত করবে।
    • চতুর্থত, ইউরোপীয় প্রযুক্তির সঙ্গে বৃহত্তর সংযোগ। জার্মানির সঙ্গে সাবমেরিন প্রকল্প সফলভাবে এগোলে ভবিষ্যতে নৌবাহিনীর বাইরেও অন্যান্য উচ্চপ্রযুক্তির প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

    সাবমেরিনের বাইরে ড্রোন, সাইবার, ক্ষেপণাস্ত্রেও সহযোগিতা?

    জার্মান রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ ভারত-জার্মানি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র শুধু সাবমেরিনে সীমাবদ্ধ নয়। মনুষ্যবিহীন ব্যবস্থা, সাইবার সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এবং সেন্সর—এই ক্ষেত্রগুলিতেও দুই দেশ সহযোগিতা বাড়াতে পারে।

    এর ফলে সাবমেরিন চুক্তিকে একটি পৃথক প্রতিরক্ষা ক্রয়চুক্তি হিসেবে না দেখে ভারত-জার্মানি প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা যায়। ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে জার্মান সংস্থাগুলির যৌথ কাজ বাড়লে ভবিষ্যতে সহ-উৎপাদন ও প্রযুক্তি সহযোগিতার আরও ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

    ইন্দো-প্যাসিফিকেও বাড়ছে ভারত-জার্মানি যোগাযোগ

    সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত ও জার্মানির যোগাযোগ বাড়ছে। দুই দেশের বাহিনী বিভিন্ন আকাশ ও সামুদ্রিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি জার্মানি নয়াদিল্লির ইন্দো-প্যাসিফিক ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টারে একজন লিয়াজোঁ অফিসার মোতায়েন করেছে। এর লক্ষ্য ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য আদানপ্রদান ও মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস বাড়ানো।

    এছাড়া চলতি বছর দুই দেশ প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে একটি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোডম্যাপের মাধ্যমে সহযোগিতার কাঠামো এগিয়ে নিয়েছে। ফলে প্রজেক্ট-৭৫(আই)-কে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বৃহত্তর শিল্পভিত্তিক পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    অতীতেও জার্মান প্রযুক্তির সাবমেরিন ভারতে এসেছে

    ভারত-জার্মানি সাবমেরিন সহযোগিতা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ভারতের মাজাগন ডক ১৯৮০-র দশকে জার্মান ডিজাইনের টাইপ-২০৯ শ্রেণির সাবমেরিন নির্মাণ করেছিল। সেই অভিজ্ঞতা ভারতের সাবমেরিন নির্মাণ পরিকাঠামোর ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

    তবে প্রজেক্ট-৭৫(আই)-এর পরিসর অনেক বড়। এবার লক্ষ্য শুধু সাবমেরিন তৈরি নয়, উন্নত প্রযুক্তি, দেশীয় উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্প সক্ষমতাকে একই কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা।

    বদলাচ্ছে ভারত-জার্মানি প্রতিরক্ষা সমীকরণ

    সব মিলিয়ে, প্রজেক্ট-৭৫(আই) ভারতের জন্য ছয়টি নতুন সাবমেরিন পাওয়ার প্রকল্পের চেয়েও বেশি কিছু। একদিকে এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রচলিত সাবমেরিন সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনে উন্নত প্রযুক্তি আনার সুযোগ তৈরি করছে।

    জার্মানির দিক থেকেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে দেখার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। আর ভারতের জন্য জার্মানি হয়ে উঠছে উন্নত ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

    তবে এখনই চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে বলা যাচ্ছে না। জার্মানি সইয়ের জন্য প্রস্তুত হলেও ভারতের প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ অনুমোদন এখনও বাকি। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রজেক্ট-৭৫(আই) আনুষ্ঠানিক চুক্তির পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

  • India Pakistan Navy Ship Collision: আরব সাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে ধাক্কা পাকিস্তানের নৌযানের! পাক কূটনীতিককে ডেকে কড়া প্রতিবাদ দিল্লির

    India Pakistan Navy Ship Collision: আরব সাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে ধাক্কা পাকিস্তানের নৌযানের! পাক কূটনীতিককে ডেকে কড়া প্রতিবাদ দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর দুই জাহাজের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ফের কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হল। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটনাটি ঘটে। বুধবার নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।

    ভারতীয় সরকারি সূত্রের দাবি, ওই সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ নিয়মিত নজরদারি মিশনে ছিল। সেই সময় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ দ্রুত গতিতে ভারতীয় জাহাজটির কাছে চলে আসে এবং ‘অপেশাদার ও অনিরাপদ’ পদ্ধতিতে গতিপথ পরিবর্তন করে। এর জেরেই দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে ভারতীয় সূত্রের দাবি। তবে ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।

    পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব

    ঘটনার পর বুধবার পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্যা’ফেয়ার্সকে বিদেশ মন্ত্রকে তলব করে ভারত। পাকিস্তানি নৌ-ইউনিটের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ বলে উল্লেখ করে শক্ত প্রতিবাদ জানানো হয়। একইসঙ্গে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকেও পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে একই বিষয় উত্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ১৯৯১ সালের চুক্তির প্রসঙ্গ কেন?

    ঘটনাটিকে শুধু নৌ-দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছে না নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি নৌ-জাহাজের আচরণ ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান ‘অ্যাডভান্স নোটিশ অন মিলিটারি এক্সারসাইজেস, ম্যানুভার্স অ্যান্ড ট্রুপস মুভমেন্টস’ চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়ানো এবং আস্থা তৈরির ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই ওই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে ২০১১ সালেও পাকিস্তানি নৌজাহাজের ঝুঁকিপূর্ণ গতিবিধি নিয়ে ভারত একই ১৯৯১ সালের চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

    আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘর্ষ, তদন্তের অপেক্ষা

    এবারের ঘটনাটি কোনও দেশের territorial waters-এ নয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত দুই নৌযানের নাম বা সংঘর্ষের ঠিক আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও বুধবার পর্যন্ত ঘটনার কোনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং দুই পক্ষের গতিবিধি নিয়ে আরও তথ্য ও তদন্তের অপেক্ষা রয়েছে।

    প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ভারত-পাকিস্তানের মতো সংবেদনশীল সামরিক সম্পর্কে আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের এমন সংঘর্ষকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্রে সামরিক ইউনিটগুলির নিরাপদ দূরত্ব, যোগাযোগ এবং নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে চলার বিষয়টি ফের সামনে এসেছে।

  • Defence Acquisition Council: শত্রুর ড্রোন ঠেকাতে ‘আকাশ তরঙ্গ’, ট্যাঙ্ক রক্ষায় এপিএস! ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা অনুমোদন কেন্দ্রের

    Defence Acquisition Council: শত্রুর ড্রোন ঠেকাতে ‘আকাশ তরঙ্গ’, ট্যাঙ্ক রক্ষায় এপিএস! ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা অনুমোদন কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে শুক্রবার বসা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি (AoN) বা প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে।

    সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক দেশীয় ও পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই অনুমোদনের তালিকায়। এই সিদ্ধান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ড্রোন-বিরোধী যুদ্ধ, আকাশ প্রতিরক্ষা, ট্যাঙ্ক সুরক্ষা, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক সক্ষমতা এবং দীর্ঘক্ষণ নজরদারি চালানোর প্রযুক্তি-তে জোর দেওয়া। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে যে ধরনের প্রযুক্তি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেই ক্ষেত্রগুলিতেই একসঙ্গে সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে ভারত।

    সেনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্র

    ভারতীয় সেনার জন্য আকাশ তরঙ্গ (Akash Tarang) অ্যান্টি-ইউএভি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW Suite) ব্যবস্থা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত করা এবং তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি, হামলা এবং লক্ষ্য চিহ্নিতকরণে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে সেনা গঠনের নিরাপত্তায় অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    এছাড়াও সেনার জন্য ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM) কেনার অনুমোদন মিলেছে। হালকা ও বহনযোগ্য এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পদাতিক বাহিনীর হাতে শত্রুর সাঁজোয়া যান ও ট্যাঙ্ক মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াবে। একইসঙ্গে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM) ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবেও। বিভিন্ন ধরনের দূরপাল্লার আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় মাঝারি পাল্লার এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেনার সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

    স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা থেকে ট্যাঙ্কের সুরক্ষা

    সেনার জন্য ভেরি শর্ট রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (V-SHORADS)-এরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাল্টি-স্পেকট্রাল সেন্সিং প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ এই ব্যবস্থা শত্রুর পাল্টা ব্যবস্থা মোকাবিলা করে আকাশ প্রতিরক্ষার কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি রয়েছে অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেম (APS)। ট্যাঙ্কের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক অস্ত্রের আঘাত প্রতিহত করে ট্যাঙ্ক ও তার ভিতরে থাকা সেনাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ানোই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।

    ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল জেট-চালিত কামিকাজে ড্রোন ব্যবস্থা কেনারও অনুমোদন দিয়েছে। এই ধরনের ড্রোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একইসঙ্গে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ক্ষমতা, বেশি ধ্বংসক্ষমতা, টিকে থাকার সক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম খরচ—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নৌসেনার জন্য সমুদ্রের নিচে নতুন সক্ষমতা

    ভারতীয় নৌসেনার ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাল্টি ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (MIGM)। সমুদ্রে শত্রুর গতিবিধি ও চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করার ক্ষেত্রে এই মাইন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    এছাড়াও নৌসেনার জন্য নেভাল শিপবোর্ন আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (NSUAS) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অত্যাধুনিক সেন্সর-সমৃদ্ধ এই মানবহীন আকাশযানগুলি যুদ্ধজাহাজ থেকে পরিচালিত হয়ে সমুদ্র এলাকায় নজরদারি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করবে। ফলে নৌসেনার সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বা সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা আরও শক্তিশালী হবে।

    ভবিষ্যতের নৌযানের বৈদ্যুতিক প্রপালশন ব্যবস্থার পরীক্ষা ও মূল্যায়নের জন্য ল্যান্ড বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি (LBTF) তৈরিরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই পরিকাঠামোয় বৈদ্যুতিক মোটর এবং সংশ্লিষ্ট প্রপালশন ব্যবস্থার পরীক্ষা করা যাবে। ভবিষ্যতের আরও উন্নত ও বিদ্যুৎচালিত নৌ প্ল্যাটফর্ম তৈরির ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    বায়ুসেনায় হাপস্ প্রযুক্তির প্রবেশ

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্যও বড় পদক্ষেপ করেছে প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদ। ফিক্সড-উইং হাই অল্টিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট (FW-HAPS) এবং অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নামেই স্যাটেলাইটের সঙ্গে মিল থাকলেও হাপস্ আসলে উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করতে সক্ষম বিশেষ ধরনের প্ল্যাটফর্ম। এগুলির মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ ধরে ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রিকোনেসঁস (ISR) বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, যোগাযোগ এবং রিমোট সেন্সিংয়ের কাজ করা সম্ভব। ফলে বায়ুসেনার দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি ও অপারেশনাল পরিসর বাড়ানোর ক্ষেত্রে এফডব্লিউ-হাপস্ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় নজরদারি চালানোর প্রয়োজন হলে এই প্রযুক্তি প্রচলিত প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।

    ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি

    ৫২ হাজার কোটি টাকার এই অনুমোদনের দিকে সামগ্রিকভাবে তাকালে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণে শুধু প্রচলিত অস্ত্র কেনার বদলে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ড্রোন হামলা প্রতিহত করার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কামিকাজে ড্রোন, মাঝারি ও স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা, ট্যাঙ্কের সুরক্ষা, সমুদ্রের নিচে মাইন যুদ্ধ, জাহাজভিত্তিক মানবহীন আকাশযান এবং উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি—প্রস্তাবগুলির পরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অনুমোদনগুলির মূল লক্ষ্য হল উন্নত দেশীয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের যুদ্ধপ্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নজরদারি, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং বাহিনীর টিকে থাকার ক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে ভারত।

  • INS Nipun: সাবমেরিন বিপদে পড়লে এবার দ্রুত উদ্ধার! ভারতীয় নৌসেনার হাতে এল দেশীয় শক্তির ‘আইএনএস নিপুণ’

    INS Nipun: সাবমেরিন বিপদে পড়লে এবার দ্রুত উদ্ধার! ভারতীয় নৌসেনার হাতে এল দেশীয় শক্তির ‘আইএনএস নিপুণ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং গভীর সমুদ্রে সাবমেরিন উদ্ধার অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করল ভারতীয় নৌবাহিনী। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল (ডিএসভি) আইএনএস নিপুণ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশনড হয়েছে। মুম্বইয়ের নেভাল ডকইয়ার্ডে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে জাহাজটিকে নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডুবুরি অভিযানেই নয়, গভীর সমুদ্রে বিপদে পড়া সাবমেরিনের দ্রুত উদ্ধার, জটিল আন্ডারওয়াটার অপারেশন এবং দুর্যোগ মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে আইএনএস নিপুণ। দেশের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতারও বড় উদাহরণ এই যুদ্ধজাহাজ।

    কী এই আইএনএস নিপুণ?

    আইএনএস নিপুণ হল ভারতীয় নৌবাহিনীর নিস্তার শ্রেণির ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ড লিমিটেড (এইচএসএল), বিশাখাপত্তনমে জাহাজটি নির্মাণ করেছে। ‘নিপুণ’ একটি সংস্কৃত শব্দ। যার অর্থ হল কোনও কঠিন কাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সক্ষম। জাহাজটির অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অভিযানের ক্ষমতার সঙ্গে নামটিরও রয়েছে যথেষ্ট সামঞ্জস্য। জাহাজটি ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশনড হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা এবং নৌবাহিনীতে পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

    ৩০০ মিটার গভীরেও চলবে ডাইভিং অপারেশন

    আইএনএস নিপুণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে এর গভীর সমুদ্রে ডাইভিং এবং আন্ডারওয়াটার ইন্টারভেনশন ক্ষমতা। জাহাজটি সমুদ্রের প্রায় ৩০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত ডাইভিং অপারেশনকে সহায়তা করতে পারে। অর্থাৎ, সাধারণ উদ্ধারকারী জাহাজের তুলনায় অনেক বেশি গভীরতায় গিয়ে জটিল ডুবুরি অভিযান পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দীর্ঘ সময় ধরে সহায়তা করার ক্ষমতা রয়েছে নিপুণের। জাহাজে রয়েছে আধুনিক ডাইভিং সিস্টেম, পানির তলায় হস্তক্ষেপ বা মেরামতির জন্য বিশেষ সরঞ্জাম এবং ডুবুরিদের চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা। ফলে সমুদ্রের তলায় কোনও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটির পরিদর্শন বা প্রয়োজনীয় কাজেও জাহাজটি ব্যবহার করা যাবে।

    সাবমেরিন বিপর্যয়ে ‘নিপুণ’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের কাছে সাবমেরিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। কিন্তু গভীর সমুদ্রে কোনও সাবমেরিন দুর্ঘটনার মুখে পড়লে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো অত্যন্ত কঠিন। এই জায়গাতেই আইএনএস নিপুণের গুরুত্ব অনেক বেশি। জাহাজটি সাবমেরিন রেসকিউ অপারেশনে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার জন্য তৈরি। প্রয়োজন অনুযায়ী গভীর সমুদ্রে গিয়ে উদ্ধারকারী দল, ডুবুরি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামকে অপারেশন এলাকায় নিয়ে যেতে পারবে এটি। একই সঙ্গে জাহাজটির উন্নত স্টেশন কিপিং ক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ সমুদ্রের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নির্দিষ্ট জায়গায় নিজের অবস্থান ধরে রেখে আন্ডারওয়াটার অপারেশনে সহায়তা করতে পারবে। এর ফলে কোনও সাবমেরিন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে উদ্ধারকারী দলের কাজ আরও দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

    শুধু সামরিক অভিযান নয়, দুর্যোগেও কাজে আসবে

    আইএনএস নিপুণের ব্যবহার কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সমুদ্র দুর্ঘটনা কিংবা মানবিক বিপর্যয়ের সময়ও জাহাজটিকে কাজে লাগানো যাবে। প্রয়োজনে এটি ডিজাস্টার রিলিফ এবং হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড ডিজাস্টার রিলিফ (এইচএডিআর) অভিযানে অংশ নিতে পারবে।

    অত্যাধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে জাহাজকে ধরে রাখার প্রযুক্তি থাকায় প্রতিকূল সমুদ্র পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন ধরনের জটিল উদ্ধার অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, ডাইভিং, আন্ডারওয়াটার ইন্টারভেনশন এবং মেডিক্যাল সাপোর্ট—এই সমস্ত ক্ষমতা একত্রিত করে আইএনএস নিপুণকে একটি ইন্টিগ্রেটেড আন্ডারওয়াটার অপারেশন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

    ৭৫ শতাংশ দেশীয় প্রযুক্তি

    আইএনএস নিপুণের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর দেশীয় নির্মাণ। জাহাজটির প্রায় ৭৫ শতাংশ উপাদান সম্পূর্ণ দেশীয়। ভারতীয় শিল্প সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলির (এমএসএমই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এর নির্মাণে। এর ফলে গভীর সমুদ্রের গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধার এবং আন্ডারওয়াটার মিশনের ক্ষেত্রে বিদেশি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমানোর পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য পূরণে এই ধরনের দেশীয়ভাবে নির্মিত প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতি বা আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও বাধা তৈরি হলেও দেশীয়ভাবে তৈরি জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়।

    পূর্ব ও পশ্চিম—দুই উপকূলেই বাড়ল উদ্ধার ক্ষমতা

    আইএনএস নিপুণকে বোঝার ক্ষেত্রে ভারতের প্রায় ৭,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শ্রেণির প্রথম জাহাজ আইএনএস নিস্তার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশনড হয়। সেটি ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনমে মোতায়েন রয়েছে। এবার পশ্চিম উপকূলে মুম্বইয়ে আইএনএস নিপুণের মোতায়েনের ফলে ভারতের দুই প্রান্তেই ডাইভিং সাপোর্ট এবং সাবমেরিন উদ্ধার সক্ষমতা তৈরি হল। এর কৌশলগত গুরুত্ব যথেষ্ট। পূর্ব উপকূলের পাশাপাশি আরব সাগর ও পশ্চিম উপকূলেও দ্রুত কোনও গভীর সমুদ্র উদ্ধার অভিযানে সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে ভারতের বিস্তীর্ণ সামুদ্রিক এলাকায় দুই দিক থেকে দ্রুত রেসপন্স দেওয়ার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হল।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ আইএনএস নিপুণ?

    আইএনএস নিপুণকে শুধু আর একটি নৌবাহিনীর জাহাজ হিসেবে দেখলে এর কৌশলগত গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এর মাধ্যমে ভারত একই সঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা বাড়াল—গভীর সমুদ্রে ডাইভিং, সাবমেরিন উদ্ধার এবং আন্ডারওয়াটার ইন্টারভেনশন। বিশেষ করে মুম্বইয়ে মোতায়েনের ফলে পশ্চিম উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ও আরব সাগর এলাকায় এই সক্ষমতা আরও সহজলভ্য হবে। পূর্বে আইএনএস নিস্তার এবং পশ্চিমে আইএনএস নিপুণ—দুই জাহাজকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনী সাবমেরিন উদ্ধার ও গভীর সমুদ্র অভিযানে একটি বিস্তৃত সাপোর্ট নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারবে। সব মিলিয়ে, আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন, গভীর সমুদ্র অভিযান এবং সাবমেরিন নিরাপত্তা—এই তিন ক্ষেত্রেই আইএনএস নিপুণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

LinkedIn
Share