Tag: Indian Navy

Indian Navy

  • India Pakistan Navy Ship Collision: আরব সাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে ধাক্কা পাকিস্তানের নৌযানের! পাক কূটনীতিককে ডেকে কড়া প্রতিবাদ দিল্লির

    India Pakistan Navy Ship Collision: আরব সাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে ধাক্কা পাকিস্তানের নৌযানের! পাক কূটনীতিককে ডেকে কড়া প্রতিবাদ দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর দুই জাহাজের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ফের কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হল। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটনাটি ঘটে। বুধবার নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।

    ভারতীয় সরকারি সূত্রের দাবি, ওই সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ নিয়মিত নজরদারি মিশনে ছিল। সেই সময় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ দ্রুত গতিতে ভারতীয় জাহাজটির কাছে চলে আসে এবং ‘অপেশাদার ও অনিরাপদ’ পদ্ধতিতে গতিপথ পরিবর্তন করে। এর জেরেই দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে ভারতীয় সূত্রের দাবি। তবে ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।

    পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব

    ঘটনার পর বুধবার পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্যা’ফেয়ার্সকে বিদেশ মন্ত্রকে তলব করে ভারত। পাকিস্তানি নৌ-ইউনিটের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ বলে উল্লেখ করে শক্ত প্রতিবাদ জানানো হয়। একইসঙ্গে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকেও পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে একই বিষয় উত্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ১৯৯১ সালের চুক্তির প্রসঙ্গ কেন?

    ঘটনাটিকে শুধু নৌ-দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছে না নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি নৌ-জাহাজের আচরণ ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান ‘অ্যাডভান্স নোটিশ অন মিলিটারি এক্সারসাইজেস, ম্যানুভার্স অ্যান্ড ট্রুপস মুভমেন্টস’ চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়ানো এবং আস্থা তৈরির ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই ওই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে ২০১১ সালেও পাকিস্তানি নৌজাহাজের ঝুঁকিপূর্ণ গতিবিধি নিয়ে ভারত একই ১৯৯১ সালের চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

    আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘর্ষ, তদন্তের অপেক্ষা

    এবারের ঘটনাটি কোনও দেশের territorial waters-এ নয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত দুই নৌযানের নাম বা সংঘর্ষের ঠিক আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও বুধবার পর্যন্ত ঘটনার কোনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং দুই পক্ষের গতিবিধি নিয়ে আরও তথ্য ও তদন্তের অপেক্ষা রয়েছে।

    প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ভারত-পাকিস্তানের মতো সংবেদনশীল সামরিক সম্পর্কে আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের এমন সংঘর্ষকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্রে সামরিক ইউনিটগুলির নিরাপদ দূরত্ব, যোগাযোগ এবং নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে চলার বিষয়টি ফের সামনে এসেছে।

  • Defence Acquisition Council: শত্রুর ড্রোন ঠেকাতে ‘আকাশ তরঙ্গ’, ট্যাঙ্ক রক্ষায় এপিএস! ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা অনুমোদন কেন্দ্রের

    Defence Acquisition Council: শত্রুর ড্রোন ঠেকাতে ‘আকাশ তরঙ্গ’, ট্যাঙ্ক রক্ষায় এপিএস! ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা অনুমোদন কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে শুক্রবার বসা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি (AoN) বা প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে।

    সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক দেশীয় ও পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই অনুমোদনের তালিকায়। এই সিদ্ধান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ড্রোন-বিরোধী যুদ্ধ, আকাশ প্রতিরক্ষা, ট্যাঙ্ক সুরক্ষা, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক সক্ষমতা এবং দীর্ঘক্ষণ নজরদারি চালানোর প্রযুক্তি-তে জোর দেওয়া। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে যে ধরনের প্রযুক্তি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেই ক্ষেত্রগুলিতেই একসঙ্গে সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে ভারত।

    সেনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্র

    ভারতীয় সেনার জন্য আকাশ তরঙ্গ (Akash Tarang) অ্যান্টি-ইউএভি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW Suite) ব্যবস্থা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত করা এবং তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি, হামলা এবং লক্ষ্য চিহ্নিতকরণে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে সেনা গঠনের নিরাপত্তায় অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    এছাড়াও সেনার জন্য ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM) কেনার অনুমোদন মিলেছে। হালকা ও বহনযোগ্য এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পদাতিক বাহিনীর হাতে শত্রুর সাঁজোয়া যান ও ট্যাঙ্ক মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াবে। একইসঙ্গে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM) ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবেও। বিভিন্ন ধরনের দূরপাল্লার আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় মাঝারি পাল্লার এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেনার সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

    স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা থেকে ট্যাঙ্কের সুরক্ষা

    সেনার জন্য ভেরি শর্ট রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (V-SHORADS)-এরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাল্টি-স্পেকট্রাল সেন্সিং প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ এই ব্যবস্থা শত্রুর পাল্টা ব্যবস্থা মোকাবিলা করে আকাশ প্রতিরক্ষার কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি রয়েছে অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেম (APS)। ট্যাঙ্কের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক অস্ত্রের আঘাত প্রতিহত করে ট্যাঙ্ক ও তার ভিতরে থাকা সেনাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ানোই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।

    ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল জেট-চালিত কামিকাজে ড্রোন ব্যবস্থা কেনারও অনুমোদন দিয়েছে। এই ধরনের ড্রোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একইসঙ্গে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ক্ষমতা, বেশি ধ্বংসক্ষমতা, টিকে থাকার সক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম খরচ—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নৌসেনার জন্য সমুদ্রের নিচে নতুন সক্ষমতা

    ভারতীয় নৌসেনার ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাল্টি ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (MIGM)। সমুদ্রে শত্রুর গতিবিধি ও চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করার ক্ষেত্রে এই মাইন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    এছাড়াও নৌসেনার জন্য নেভাল শিপবোর্ন আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (NSUAS) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অত্যাধুনিক সেন্সর-সমৃদ্ধ এই মানবহীন আকাশযানগুলি যুদ্ধজাহাজ থেকে পরিচালিত হয়ে সমুদ্র এলাকায় নজরদারি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করবে। ফলে নৌসেনার সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বা সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা আরও শক্তিশালী হবে।

    ভবিষ্যতের নৌযানের বৈদ্যুতিক প্রপালশন ব্যবস্থার পরীক্ষা ও মূল্যায়নের জন্য ল্যান্ড বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি (LBTF) তৈরিরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই পরিকাঠামোয় বৈদ্যুতিক মোটর এবং সংশ্লিষ্ট প্রপালশন ব্যবস্থার পরীক্ষা করা যাবে। ভবিষ্যতের আরও উন্নত ও বিদ্যুৎচালিত নৌ প্ল্যাটফর্ম তৈরির ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    বায়ুসেনায় হাপস্ প্রযুক্তির প্রবেশ

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্যও বড় পদক্ষেপ করেছে প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদ। ফিক্সড-উইং হাই অল্টিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট (FW-HAPS) এবং অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নামেই স্যাটেলাইটের সঙ্গে মিল থাকলেও হাপস্ আসলে উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করতে সক্ষম বিশেষ ধরনের প্ল্যাটফর্ম। এগুলির মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ ধরে ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রিকোনেসঁস (ISR) বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, যোগাযোগ এবং রিমোট সেন্সিংয়ের কাজ করা সম্ভব। ফলে বায়ুসেনার দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি ও অপারেশনাল পরিসর বাড়ানোর ক্ষেত্রে এফডব্লিউ-হাপস্ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় নজরদারি চালানোর প্রয়োজন হলে এই প্রযুক্তি প্রচলিত প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।

    ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি

    ৫২ হাজার কোটি টাকার এই অনুমোদনের দিকে সামগ্রিকভাবে তাকালে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণে শুধু প্রচলিত অস্ত্র কেনার বদলে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ড্রোন হামলা প্রতিহত করার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কামিকাজে ড্রোন, মাঝারি ও স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা, ট্যাঙ্কের সুরক্ষা, সমুদ্রের নিচে মাইন যুদ্ধ, জাহাজভিত্তিক মানবহীন আকাশযান এবং উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি—প্রস্তাবগুলির পরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অনুমোদনগুলির মূল লক্ষ্য হল উন্নত দেশীয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের যুদ্ধপ্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নজরদারি, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং বাহিনীর টিকে থাকার ক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে ভারত।

  • INS Nipun: সাবমেরিন বিপদে পড়লে এবার দ্রুত উদ্ধার! ভারতীয় নৌসেনার হাতে এল দেশীয় শক্তির ‘আইএনএস নিপুণ’

    INS Nipun: সাবমেরিন বিপদে পড়লে এবার দ্রুত উদ্ধার! ভারতীয় নৌসেনার হাতে এল দেশীয় শক্তির ‘আইএনএস নিপুণ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং গভীর সমুদ্রে সাবমেরিন উদ্ধার অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করল ভারতীয় নৌবাহিনী। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল (ডিএসভি) আইএনএস নিপুণ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশনড হয়েছে। মুম্বইয়ের নেভাল ডকইয়ার্ডে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে জাহাজটিকে নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডুবুরি অভিযানেই নয়, গভীর সমুদ্রে বিপদে পড়া সাবমেরিনের দ্রুত উদ্ধার, জটিল আন্ডারওয়াটার অপারেশন এবং দুর্যোগ মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে আইএনএস নিপুণ। দেশের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতারও বড় উদাহরণ এই যুদ্ধজাহাজ।

    কী এই আইএনএস নিপুণ?

    আইএনএস নিপুণ হল ভারতীয় নৌবাহিনীর নিস্তার শ্রেণির ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ড লিমিটেড (এইচএসএল), বিশাখাপত্তনমে জাহাজটি নির্মাণ করেছে। ‘নিপুণ’ একটি সংস্কৃত শব্দ। যার অর্থ হল কোনও কঠিন কাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সক্ষম। জাহাজটির অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অভিযানের ক্ষমতার সঙ্গে নামটিরও রয়েছে যথেষ্ট সামঞ্জস্য। জাহাজটি ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশনড হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা এবং নৌবাহিনীতে পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

    ৩০০ মিটার গভীরেও চলবে ডাইভিং অপারেশন

    আইএনএস নিপুণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে এর গভীর সমুদ্রে ডাইভিং এবং আন্ডারওয়াটার ইন্টারভেনশন ক্ষমতা। জাহাজটি সমুদ্রের প্রায় ৩০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত ডাইভিং অপারেশনকে সহায়তা করতে পারে। অর্থাৎ, সাধারণ উদ্ধারকারী জাহাজের তুলনায় অনেক বেশি গভীরতায় গিয়ে জটিল ডুবুরি অভিযান পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দীর্ঘ সময় ধরে সহায়তা করার ক্ষমতা রয়েছে নিপুণের। জাহাজে রয়েছে আধুনিক ডাইভিং সিস্টেম, পানির তলায় হস্তক্ষেপ বা মেরামতির জন্য বিশেষ সরঞ্জাম এবং ডুবুরিদের চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা। ফলে সমুদ্রের তলায় কোনও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটির পরিদর্শন বা প্রয়োজনীয় কাজেও জাহাজটি ব্যবহার করা যাবে।

    সাবমেরিন বিপর্যয়ে ‘নিপুণ’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের কাছে সাবমেরিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। কিন্তু গভীর সমুদ্রে কোনও সাবমেরিন দুর্ঘটনার মুখে পড়লে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো অত্যন্ত কঠিন। এই জায়গাতেই আইএনএস নিপুণের গুরুত্ব অনেক বেশি। জাহাজটি সাবমেরিন রেসকিউ অপারেশনে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার জন্য তৈরি। প্রয়োজন অনুযায়ী গভীর সমুদ্রে গিয়ে উদ্ধারকারী দল, ডুবুরি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামকে অপারেশন এলাকায় নিয়ে যেতে পারবে এটি। একই সঙ্গে জাহাজটির উন্নত স্টেশন কিপিং ক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ সমুদ্রের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নির্দিষ্ট জায়গায় নিজের অবস্থান ধরে রেখে আন্ডারওয়াটার অপারেশনে সহায়তা করতে পারবে। এর ফলে কোনও সাবমেরিন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে উদ্ধারকারী দলের কাজ আরও দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

    শুধু সামরিক অভিযান নয়, দুর্যোগেও কাজে আসবে

    আইএনএস নিপুণের ব্যবহার কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সমুদ্র দুর্ঘটনা কিংবা মানবিক বিপর্যয়ের সময়ও জাহাজটিকে কাজে লাগানো যাবে। প্রয়োজনে এটি ডিজাস্টার রিলিফ এবং হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড ডিজাস্টার রিলিফ (এইচএডিআর) অভিযানে অংশ নিতে পারবে।

    অত্যাধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে জাহাজকে ধরে রাখার প্রযুক্তি থাকায় প্রতিকূল সমুদ্র পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন ধরনের জটিল উদ্ধার অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, ডাইভিং, আন্ডারওয়াটার ইন্টারভেনশন এবং মেডিক্যাল সাপোর্ট—এই সমস্ত ক্ষমতা একত্রিত করে আইএনএস নিপুণকে একটি ইন্টিগ্রেটেড আন্ডারওয়াটার অপারেশন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

    ৭৫ শতাংশ দেশীয় প্রযুক্তি

    আইএনএস নিপুণের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর দেশীয় নির্মাণ। জাহাজটির প্রায় ৭৫ শতাংশ উপাদান সম্পূর্ণ দেশীয়। ভারতীয় শিল্প সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলির (এমএসএমই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এর নির্মাণে। এর ফলে গভীর সমুদ্রের গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধার এবং আন্ডারওয়াটার মিশনের ক্ষেত্রে বিদেশি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমানোর পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য পূরণে এই ধরনের দেশীয়ভাবে নির্মিত প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতি বা আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও বাধা তৈরি হলেও দেশীয়ভাবে তৈরি জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়।

    পূর্ব ও পশ্চিম—দুই উপকূলেই বাড়ল উদ্ধার ক্ষমতা

    আইএনএস নিপুণকে বোঝার ক্ষেত্রে ভারতের প্রায় ৭,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শ্রেণির প্রথম জাহাজ আইএনএস নিস্তার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশনড হয়। সেটি ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনমে মোতায়েন রয়েছে। এবার পশ্চিম উপকূলে মুম্বইয়ে আইএনএস নিপুণের মোতায়েনের ফলে ভারতের দুই প্রান্তেই ডাইভিং সাপোর্ট এবং সাবমেরিন উদ্ধার সক্ষমতা তৈরি হল। এর কৌশলগত গুরুত্ব যথেষ্ট। পূর্ব উপকূলের পাশাপাশি আরব সাগর ও পশ্চিম উপকূলেও দ্রুত কোনও গভীর সমুদ্র উদ্ধার অভিযানে সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে ভারতের বিস্তীর্ণ সামুদ্রিক এলাকায় দুই দিক থেকে দ্রুত রেসপন্স দেওয়ার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হল।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ আইএনএস নিপুণ?

    আইএনএস নিপুণকে শুধু আর একটি নৌবাহিনীর জাহাজ হিসেবে দেখলে এর কৌশলগত গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এর মাধ্যমে ভারত একই সঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা বাড়াল—গভীর সমুদ্রে ডাইভিং, সাবমেরিন উদ্ধার এবং আন্ডারওয়াটার ইন্টারভেনশন। বিশেষ করে মুম্বইয়ে মোতায়েনের ফলে পশ্চিম উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ও আরব সাগর এলাকায় এই সক্ষমতা আরও সহজলভ্য হবে। পূর্বে আইএনএস নিস্তার এবং পশ্চিমে আইএনএস নিপুণ—দুই জাহাজকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনী সাবমেরিন উদ্ধার ও গভীর সমুদ্র অভিযানে একটি বিস্তৃত সাপোর্ট নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারবে। সব মিলিয়ে, আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন, গভীর সমুদ্র অভিযান এবং সাবমেরিন নিরাপত্তা—এই তিন ক্ষেত্রেই আইএনএস নিপুণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

  • Cargo Ship Sinks: ওড়িশা উপকূলে ডুবল পানামার পণ্যবাহী জাহাজ, নিখোঁজ ২২

    Cargo Ship Sinks: ওড়িশা উপকূলে ডুবল পানামার পণ্যবাহী জাহাজ, নিখোঁজ ২২

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশা (Odisha) উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেল সিঙ্গাপুরগামী পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ (Cargo Ship Sinks) ‘এমভি ওশান উইনার’। জাহাজটিতে মোট ২৪ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, নিখোঁজ ২২ জন। তাঁদের সন্ধানে চলছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ও নৌসেনার তল্লাশি অভিযান। জানা গিয়েছে, শুক্রবার ওড়িশা উপকূল থেকে লৌহ আকরিক বোঝাই করে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল জাহাজটি। শনিবার আচমকাই জাহাজটির সঙ্গে স্থলভাগের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জানা যায়, পারাদ্বীপ উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে বঙ্গোপসাগরে জাহাজটি ডুবে গিয়েছে।

    নিখোঁজ বহু নাবিক (Cargo Ship Sinks)

    জাহাজে থাকা ২৪ জন নাবিকের মধ্যে ২০ জন চিনা নাগরিক। এ ছাড়া ছিলেন বাংলাদেশের এক জন এবং মায়ানমারের তিন জন। দুর্ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধারে দ্রুত তৎপর হয় ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং নৌসেনা। সূত্রের খবর, শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট নাগাদ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর উদ্ধারকারী দল খবর পায় যে, ওড়িশা থেকে সিঙ্গাপুরগামী একটি জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। নির্দিষ্ট এলাকায় তখন একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিল। সেটিকে ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।রাত ৮টা নাগাদ একটি লাইফবোট থেকে দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও মেলেনি। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের পরিচয়ও এখনও প্রকাশ করা হয়নি (Cargo Ship Sinks)।

    নাবিকদের সন্ধানে তল্লাশি

    এর পর নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে এলাকায় তিনটি উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠানো হয়। পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ‘বিজিত’ নামে একটি জাহাজ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। এ ছাড়া ‘বরদ’ এবং ‘আনমোল’ নামে আরও দু’টি জাহাজও পাঠায় ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। রাতভর তল্লাশি চালানো হলেও, বাকি নাবিকদের সন্ধান মেলেনি। কী কারণে জাহাজটি ডুবে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার সময় বঙ্গোপসাগরের ওই এলাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি কেমন ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জাহাজটি কীভাবে বিপদে পড়ল এবং ডুবে যাওয়ার আগে (Odisha) কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে (Cargo Ship Sinks)।

     

  • Indian Navy Rescue: কেরলে ১২ চিনা নাবিককে উদ্ধার, ‘‘কখনও ভুলব না’’, ভারতীয় সেনাকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ চিনের

    Indian Navy Rescue: কেরলে ১২ চিনা নাবিককে উদ্ধার, ‘‘কখনও ভুলব না’’, ভারতীয় সেনাকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ চিনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করলেন ভারতে নিযুক্ত চিনের (China) নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে রিয়ার অ্যাডমিরাল ইউ জিয়ান (Rear Admiral You Jian)। গত বছর কেরল উপকূলে আগুনে বিধ্বস্ত একটি কার্গো জাহাজ থেকে ১২ জন চিনা নাবিককে উদ্ধারের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ, পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।’’

    ‘‘ভারত-চিন সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি’’

    নয়াদিল্লিতে ২১ জুলাই পিপলস্ লিবারেশন আর্মির (PLA) প্রতিষ্ঠার ৯৯তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইউ জিয়ান বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় ভারত-চিন সম্পর্ক আবারও উন্নয়ন ও ইতিবাচক অগ্রগতির পথে ফিরেছে। তিনি বলেন, ‘‘চিন ও ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ। বর্তমানে দুই দেশই উন্নয়ন ও পুনর্জাগরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আবার সঠিক পথে ফিরেছে।’’

    ‘‘সেই সহযোগিতা কখনও ভুলব না’’

    ইউ জিয়ান বিশেষভাবে ২০২৫ সালের জুন মাসে কেরল উপকূলে ঘটে যাওয়া একটি উদ্ধার অভিযানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘গত জুনে কেরল উপকূলে আগুন ও বিস্ফোরণের কবলে পড়া একটি কার্গো জাহাজ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী ১২ জন চিনা নাবিককে উদ্ধার করেছিল। আমরা সেই সহযোগিতা কখনও ভুলব না।’’

    জ্বলন্ত জাহাজ থেকে চিনা নাবিকদের উদ্ধার ভারত

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৯ জুন সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেনার জাহাজ এমভি ওয়ান হাই ৫০৩ (MV Wan Hai 503) কেরলের আজহিক্কালের (Azhikkal) উপকূল থেকে প্রায় ৪৪ নটিক্যাল মাইল দূরে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে। কলম্বো থেকে নাভা শেভার উদ্দেশে যাত্রারত জাহাজটিতে মোট ২২ জন নাবিক ছিলেন। বিপদের মুখে ১৮ জন নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও চারজন নিখোঁজ হন। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন চিনা নাগরিক। সে সময় চিনা দূতাবাস ভারতীয় নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর দ্রুত ও পেশাদার উদ্ধার অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করেছিল। পরে ভারতীয় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বায়ুসেনা যৌথভাবে অগ্নিনির্বাপণ ও জাহাজটিকে নিরাপদে সরানোর অভিযানও চালায়।

    রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের প্রসঙ্গ

    ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর যৌথ অবদানের প্রসঙ্গ তুলে ইউ জিয়ান বলেন, রাষ্ট্রসংঘের (UN) শান্তিরক্ষা অভিযানে দুই দেশের সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং বহু আত্মত্যাগও করেছে। তার কথায়, ‘‘ভারত ও চিনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ সেই পার্থক্যের তুলনায় অনেক বেশি।’’

    সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার বার্তা

    ভারতের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পক্ষেও সওয়াল করেন চিনের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চাই।’’

    লাদাখ অচলাবস্থার পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা

    ২০২০ সালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর পূর্ব লাদাখে সামরিক সংঘাত এবং গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা এবং চারজন চিনা সেনার মৃত্যু হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে ডেপসাং ও ডেমচক এলাকায় টহল সংক্রান্ত সমঝোতায় পৌঁছায় দুই দেশ। এর ফলে সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ কিছুটা প্রশস্ত হয়। পরবর্তীতে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হয়। পরে ২০২৫ সালে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে তিয়ানজিনেও দুই নেতার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় দেশ একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে দেখার উপর জোর দেয়।

    সীমান্ত সংলাপ ও প্রতিরক্ষা বৈঠক অব্যাহত

    সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুনের মধ্যে এসসিও বৈঠকের ফাঁকে আলোচনা হয়। এছাড়া সীমান্ত বিষয়ক ওয়ার্কিং মেকানিজমের ৩৫তম বৈঠক বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠকেও দুই দেশ সম্পর্কের ‘‘ধীরে ধীরে স্বাভাবিকীকরণ’’ নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে। তবে ইউ জিয়ানের বক্তব্যে ভারত-চিন যৌথ সামরিক মহড়া পুনরায় শুরু করা বা নতুন কোনও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ব্যবস্থার ঘোষণা করা হয়নি।

  • India Indonesia Relationship: চিনের ‘মুক্তোর মালা’ কৌশলের পাল্টা জবাব? ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর ঘিরে ভারতের নতুন কৌশল, বাড়ছে দিল্লির সামুদ্রিক শক্তি

    India Indonesia Relationship: চিনের ‘মুক্তোর মালা’ কৌশলের পাল্টা জবাব? ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর ঘিরে ভারতের নতুন কৌশল, বাড়ছে দিল্লির সামুদ্রিক শক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত মহাসাগরকে ঘিরে গত কয়েক দশক ধরে ক্রমশ বেড়েছে চিন এবং ভারতের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা। একদিকে চিন বিভিন্ন দেশে বন্দর নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছে, অন্যদিকে ভারতও ধাপে ধাপে নিজের সামুদ্রিক অবস্থান শক্তিশালী করার পথে এগিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দরকে ঘিরে ভারত- ইন্দোনেশিয়া সহযোগিতা (India Indonesia Relationship) নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।

    সাবাং বন্দর (Sabang Port)

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাবাং বন্দর (Sabang Port) শুধু একটি বন্দর নয়, বরং ভারত মহাসাগর ও পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও এটি ভারতের কোনও সামরিক ঘাঁটি নয়, তবুও এর ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কী এই ‘মুক্তোর মালা’ কৌশল?

    আন্তর্জাতিক কৌশলগত মহলে ‘মুক্তোর মালা’ নামে পরিচিত একটি ধারণা রয়েছে। এই ধারণা অনুযায়ী, চিন ভারত মহাসাগর অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে বন্দর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তুলে একটি বিস্তৃত সামুদ্রিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। পাকিস্তানের গওয়াদর বন্দর, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর, মিয়ানমারের কিয়াউকফিউ, আফ্রিকার জিবুতিতে নৌ-সুবিধা, সব মিলিয়ে চিন তার উপস্থিতি ক্রমশ বাড়িয়েছে। বেইজিংয়ের দাবি, এগুলি মূলত বাণিজ্যিক প্রকল্প। তবে বহু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করেন, এই পরিকাঠামো ভবিষ্যতে কৌশলগত সুবিধাও দিতে পারে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ সাবাং বন্দর?

    সাবাং বন্দর (Sabang Port) ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের ওয়েহ দ্বীপে অবস্থিত। এর সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হল, এটি মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখের খুব কাছাকাছি। মালাক্কা প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ। পশ্চিম এশিয়া থেকে পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের সঙ্গে এশিয়ার বাণিজ্যের বড় অংশ এই পথ দিয়েই হয়। প্রতিদিন অসংখ্য পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করে। এই কারণেই সাবাং বন্দরের অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    ভারত-ইন্দোনেশিয়া সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইন্দোনেশিয়া সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে সাবাং বন্দর (Sabang Port) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়। এরপর থেকে সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। এই সহযোগিতার আওতায় বন্দর উন্নয়ন, জাহাজের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা এবং সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহযোগিতা ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ককে (India Indonesia Relationship) নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    ভারতের কী লাভ?

    সাবাং বন্দরের (Sabang Port) অবস্থান ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের তুলনামূলক কাছাকাছি। ফলে এই অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত সমন্বয় আরও শক্তিশালী হতে পারে। ভারতীয় জাহাজ প্রয়োজনে সেখানে পরিষেবা পেতে পারে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার অভিযান এবং সমুদ্রপথে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগরে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে এমন সহযোগিতা ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করে।

    ভারতের অবস্থান

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত শুধু স্থল সীমান্ত নয়, সমুদ্র নিরাপত্তার উপরও বিশেষ জোর দিয়েছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পরিকাঠামো উন্নয়ন, নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, একাধিক দেশের সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়া এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সহযোগিতা, সব মিলিয়ে ভারত ধাপে ধাপে নিজের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। জাপান, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামুদ্রিক সহযোগিতাও আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে।

    চিনের সরাসরি জবাব?

    এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, সাবাং বন্দরকে (Sabang Port) ঘিরে ভারত-ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তবে অন্য বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, সাবাং কোনও ভারতীয় সামরিক ঘাঁটি নয় এবং এর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ ইন্দোনেশিয়ার হাতেই।

    কেন বাড়ছে ভারতের গুরুত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এখন এমন একটি কৌশল অনুসরণ করছে, যেখানে প্রতিবেশী ও অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে সমুদ্র নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। সাবাং বন্দর সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই একটি অংশ। ভারত মহাসাগরে নিরাপদ বাণিজ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়েও ভারত সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে এই অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।

    পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক

    সাবাং বন্দরকে ঘিরে ভারত-ইন্দোনেশিয়ার (India Indonesia Relationship) সহযোগিতা শুধু একটি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কেরও প্রতীক। এটি ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে এটিকে চিনের বিরুদ্ধে সরাসরি পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং ভারতের বৃহত্তর সামুদ্রিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখাই তথ্যভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন।

  • Submarine Hunter INS Malvan: ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন স্টেলথ ‘সাবমেরিন হান্টার’, কতটা ভয়ঙ্কর আইএনএস মালভান?

    Submarine Hunter INS Malvan: ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিল নতুন স্টেলথ ‘সাবমেরিন হান্টার’, কতটা ভয়ঙ্কর আইএনএস মালভান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার শক্তি আরও এক ধাপ বাড়িয়ে বুধবার (২২ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীতে কমিশন বা অন্তর্ভুক্ত হল ‘আইএনএস মালভান’ (INS Malvan)। এটি মাহে-ক্লাসের (Mahe-class) অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওাটার ক্র্যাফট (ASW-SWC) সিরিজের দ্বিতীয় স্টেলথ যুদ্ধজাহাজ। শত্রুপক্ষের সাবমেরিন খুঁজে বের করে ধ্বংস করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজে রয়েছে ৮০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম, যা আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং-এর উপস্থিতিতে জাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম নৌ-কমান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাত্সায়নও।

    কেন বিশেষ আইএনএস মালভান?

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, ‘সাবমেরিন হান্টার’ আইএনএস মালভান আকারে ছোট হলেও যুদ্ধক্ষমতায় অত্যন্ত শক্তিশালী। উপকূলীয় ও অগভীর জলসীমায় দ্রুত অভিযান চালানো, শত্রুর সাবমেরিন শনাক্ত করা এবং দীর্ঘ সময় নজরদারি চালানোর জন্যই এটি বিশেষভাবে তৈরি। মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, জাহাজটি ‘‘ক্ষিপ্র, নিখুঁত এবং দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের উপযোগী’’, যা অগভীর জলসীমায় ভারতের আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    শত্রুর সাবমেরিনের জন্য কেন ভয়ঙ্কর?

    আইএনএস মালভান-এর প্রধান কাজ অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার (ASW)। উপকূলীয় অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা শত্রুর সাবমেরিন শনাক্ত করে দ্রুত আক্রমণ চালানোর জন্য এতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সর বসানো হয়েছে।

    জাহাজের প্রধান অস্ত্রসম্ভার—

    • ● আরবিইউ-৬০০০ (RBU-6000) অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার
    • ● দুই পাশে ৩২৪ মিমি ট্রিপল লাইটওয়েট টর্পিডো টিউব
    • ● অ্যান্টি-সাবমেরিন মাইন বসানোর ব্যবস্থা
    • ● টর্পিডো ডিকয় লঞ্চারসহ ইন্টিগ্রেটেড অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার ডিফেন্স স্যুট
    • ● ৩০ মিমি নৌ-কামান
    • ● দুটি ১২.৭ মিমি স্ট্যাবিলাইজড রিমোট-কন্ট্রোলড গান

    এছাড়াও জাহাজটি লো-ইন্টেনসিটি মেরিটাইম অপারেশনস্ বা সংক্ষেপে লিমো (LIMO) এবং মাইন ওয়ারফেয়ার-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অভিযানে অংশ নিতে সক্ষম।

    উপকূলীয় যুদ্ধে বিশেষভাবে কার্যকর

    বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলের অগভীর জলসীমায় শত্রুপক্ষের সাবমেরিন সহজে লুকিয়ে থাকতে পারে। সেই ধরনের লিটোরাল (Littoral) বা অগভীর অঞ্চলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে ছোট, দ্রুতগামী এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজন হয়। আইএনএস মালভান ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই তৈরি।

    আইএনএস মালভান-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য

    মাহে-ক্লাস যুদ্ধজাহাজে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি স্টেলথ ডিজাইনও ব্যবহার করা হয়েছে।

    প্রধান বৈশিষ্ট্য—

    • ● দৈর্ঘ্য: প্রায় ৭৮–৮০ মিটার
    • ● ওজন (ডিসপ্লেসমেন্ট): প্রায় ৯০০–১,১০০ টন
    • ● সর্বোচ্চ গতি: ২৫ নট
    • ● অপারেশনাল রেঞ্জ: ১,৮০০ নটিক্যাল মাইল (১৪ নট গতিতে)
    • ● সমুদ্রে টানা থাকার ক্ষমতা: ১৪ দিন
    • ● ইঞ্জিন: তিনটি ৬ মেগাওয়াট মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন
    • ● প্রোপালশন: ওয়াটার জেট/পাম্প-জেট প্রোপালশন, যা ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রয়োগগুলির একটি

    জাহাজটিতে স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে এর রেডার, শব্দ এবং ইনফ্রারেড সিগনেচার অনেক কম থাকে। ফলে শত্রুর পক্ষে এটি শনাক্ত করা কঠিন।

    দেশীয় প্রযুক্তির বড় সাফল্য

    আইএনএস মালভানে ৮০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। জাহাজটির নির্মাণ প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL), মহীন্দ্রা ডিফেন্স সিস্টেমস এবং লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-সহ একাধিক ভারতীয় সংস্থা। কোচিন শিপইয়ার্ডে নির্মিত মাহে-ক্লাসের মোট আটটি যুদ্ধজাহাজ ধাপে ধাপে অগাস্ট ২০২৫ থেকে জুন ২০২৮-এর মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    নামের পিছনে রয়েছে ঐতিহাসিক তাৎপর্য

    ‘মালভান’ নামটি নেওয়া হয়েছে মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক উপকূলীয় শহর মালভান থেকে, যার সঙ্গে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের সমুদ্র প্রতিরক্ষার ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি, ২০০৩ সাল পর্যন্ত নৌবাহিনীতে কর্মরত পুরনো আইএনএস মালভান-এর ঐতিহ্যও এই নতুন যুদ্ধজাহাজ বহন করবে। কমিশনিংয়ের আগে ভারতীয় নৌবাহিনী সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জাহাজটির ক্রেস্টও প্রকাশ করেছে। সেখানে শিবাজির বিখ্যাত ‘বাঘ নখ’ (Bagh Nakha)-কে সাহস, ক্ষিপ্রতা এবং দুর্ধর্ষ মনোভাবের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ক্রেস্টে রয়েছে ‘Silent Claws’ মন্ত্র, আর নৌবাহিনীর বার্তা— ‘Silent. Swift. Lethal.’ ভারতীয় নৌবাহিনীর নতুন এই ‘সাবমেরিন হান্টার’ শুধু একটি যুদ্ধজাহাজ নয়, বরং দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, স্টেলথ সক্ষমতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ভারতের ক্রমবর্ধমান আত্মনির্ভরতারও শক্তিশালী প্রতীক।

  • UNICORN Mast: স্টেলথ প্রযুক্তিতে বড় লাফ ভারতের! জাপানের ইউনিকর্ন পাবে দেশের নৌসেনা, কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

    UNICORN Mast: স্টেলথ প্রযুক্তিতে বড় লাফ ভারতের! জাপানের ইউনিকর্ন পাবে দেশের নৌসেনা, কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের কৌশলগত সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগোল। দুই দেশ প্রথমবারের মতো যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (Defence Equipment) উন্নয়ন ও উৎপাদনের জন্য একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় প্রথম প্রকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ইউনিকর্ন শিপবোর্ন কমিউনিকেশনস্ মাস্ট (UNICORN Shipborne Communications Mast)-র যৌথ উন্নয়ন ও লাইসেন্সভিত্তিক উৎপাদন। জাপানের এনইসি কর্পোরেশনের (NEC Corporation) তৈরি এই অত্যাধুনিক সমন্বিত মাস্ট (মাস্তুল) ভবিষ্যতে ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজে ব্যবহার করা হবে। ভারতে এই ব্যবস্থা উৎপাদনের দায়িত্ব পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL), যারা জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে এটি তৈরি করবে।

    কী এই ভারত-জাপান চুক্তি?

    নতুন চুক্তি অনুযায়ী, জাপান অত্যাধুনিক নকশা, মূল প্রকৌশল প্রযুক্তি এবং সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত তথ্য সরবরাহ করবে। অন্যদিকে, ভারত স্থানীয়ভাবে সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, উৎপাদন এবং নির্মাণের দায়িত্ব নেবে। এই প্রকল্পটি কেন্দ্রের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে উচ্চ প্রযুক্তির স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের তড়িৎ-চৌম্বকীয় দক্ষতা (Electromagnetic ) বাড়াবে এবং রেডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা (Low Radar Cross Section) কমাবে। ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর স্টেলথ ক্ষমতা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

    কীভাবে ব্যবহার করবে ভারত?

    যদিও ইউনিকর্ন ব্যবস্থা মূলত জাপানের এনইসি কর্পোরেশন তৈরি করেছে, ভারতীয় নৌবাহিনী এতে নিজেদের সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন অ্যান্টেনা সংযুক্ত করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ভারতীয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজে বর্তমানে ব্যবহৃত প্রচলিত কমিউনিকেশন ও সেন্সর মাস্টের পরিবর্তে এই নতুন সমন্বিত মাস্তুল বসানো হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রযুক্তি পাওয়ার বিষয়ে ভারতের আগ্রহ বহুদিনের। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ভারত ও জাপান ইউনিকর্ন মাল্টিফাংশনাল মাস্ট রফতানির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির ধারাবাহিকতাতেই এবার যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের পথ খুলে গেল।

    কী এই ইউনিকর্ন মাল্টিফাংশনাল মাস্ট?

    ইউনিকর্ন, যার আরেক নাম নোরা-৫০ (NORA-50), যৌথভাবে তৈরি করেছে এনইসি কর্পোরেশন, সাম্পা কোগিও কেকে এবং ইয়োকোহামা রাবার কোম্পানি। এটি মূলত জাপানের মোগামি শ্রেণির ফ্রিগেটের (Mogami-class Frigate) জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটি একটি ইন্টিগ্রেটেড মাস্ট সিস্টেম (Integrated Mast System), যেখানে যোগাযোগ, নজরদারি (Surveillance) এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের (Electronic Warfare) একাধিক অ্যান্টেনাকে একটি কাঠামোর মধ্যে একত্রিত করা হয়েছে। ফলে যুদ্ধজাহাজের উপরের অংশে আলাদা আলাদা অ্যান্টেনার সংখ্যা অনেক কমে যায়, যা জাহাজের স্টেলথ বৈশিষ্ট্য বাড়ানোর পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণও সহজ করে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

    ভারত-জাপানের এই প্রথম প্রতিরক্ষা সহ-উন্নয়ন প্রকল্পকে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে—

    • ● ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আরও আধুনিক ও স্টেলথ সক্ষম হবে।
    • ● ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র আওতায় অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দেশীয় উৎপাদন বাড়বে।
    • ● ভারত-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে।
    • ● ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।

    ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে এই চুক্তি আগামী কয়েক বছরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

  • Defence Acquisition Council: স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার জন্য মেগা ঘোষণা কেন্দ্রের, ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সবুজ সংকেত

    Defence Acquisition Council: স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার জন্য মেগা ঘোষণা কেন্দ্রের, ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সবুজ সংকেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা সংক্ষেপে ডিএসি (DAC) প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকার অত্যাধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার একাধিক প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদনের আওতায় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তিন বাহু— স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনার জন্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি, কামিকাজে ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি প্ল্যাটফর্ম এবং নৌ-যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির একাধিক প্রকল্প রয়েছে। ডিএসি-র অনুমোদন মূলত ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রথম প্রশাসনিক ধাপ। এরপর ধাপে ধাপে টেন্ডার ও চুক্তি সম্পন্ন হবে।

    সেনাবাহিনীর জন্য অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামিকাজে ড্রোন

    ভারতীয় সেনার জন্য অনুমোদিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● ‘আকাশ তরঙ্গ’ (Akash Tarang) অ্যান্টি-UAV ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম
    • ● ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM)
    • ● মিডিয়াম-রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM)
    • ● ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (V-SHORADS)
    • ● ট্যাঙ্কের জন্য অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম
    • ● জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন

    স্থলসেনার শক্তিবৃদ্ধিতে ‘আকাশ তরঙ্গ’

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, ‘আকাশ তরঙ্গ’ শত্রুপক্ষের ড্রোন ও অন্যান্য মানববিহীন আকাশযান মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা নেবে। সাম্প্রতিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকায় এই প্রযুক্তির গুরুত্বও বহুগুণ বেড়েছে। অন্যদিকে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ম্যান-পোর্টেবল এটিজিএম’ শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতীয় পদাতিক বাহিনীর আক্রমণক্ষমতা বাড়াবে। ‘এমআরস্যাম’ ভারতের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দূরপাল্লার আকাশ হামলা বা স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে।

    ‘ভি-শোরাডস্’-এর প্রয়োজনীয়তা

    এছাড়া ‘ভি-শোরাডস্’-এ মাল্টি-স্পেকট্রাল সেন্সিং প্রযুক্তি থাকায় এটি শত্রুর ইলেকট্রনিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারবে। ট্যাঙ্কের জন্য অনুমোদিত অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম শত্রুর অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য আক্রমণকারী অস্ত্রকে লক্ষ্যভেদ করার আগেই শনাক্ত করে ধ্বংস করার সক্ষমতা দেবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে রয়েছে জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন, যা নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একই সঙ্গে উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ক্ষমতা, বেশি টিকে থাকার সক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম খরচে আক্রমণ পরিচালনার সুবিধাও মিলবে।

    নৌবাহিনীর নজরদারি ও মাইন ওয়ারফেয়ার আরও শক্তিশালী

    • ● ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ডিএসি অনুমোদন দিয়েছে—
    • ● মাল্টি-ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (MIGM)
    • ● নেভাল শিপবোর্ন আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (NSUAS)
    • ● ইলেকট্রিক প্রোপালশন প্রযুক্তির জন্য ল্যান্ড-বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি (LBTF)

    সামুদ্রিক নজরদারি বৃদ্ধি

    এমআইজিএম ব্যবস্থার মাধ্যমে কৌশলগত সমুদ্র অঞ্চলে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজের চলাচল ও মোতায়েন সীমিত করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, অত্যাধুনিক সেন্সরযুক্ত ‘নেভাল ইউএএস’ নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নজরদারি ও মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস আরও বাড়াবে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে রিয়েল-টাইম নজরদারি সহজ হবে। নতুন ল্যান্ড-বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক প্রপালশন প্রযুক্তি পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে সহায়ক হবে।

    বায়ুসেনার জন্য উচ্চ-উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ নজরদারি প্ল্যাটফর্ম

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য অনুমোদিত হয়েছে ‘ফিক্সড-উইং হাই অল্টিটিউড পসুডো স্যাটেলাইট’ (FW-HAPS)। এই প্ল্যাটফর্ম দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত উচ্চতায় অবস্থান করে ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেল্যান্স এবং রিকনাইস্যান্স (ISR) পরিচালনা করতে সক্ষম। পাশাপাশি টেলিকমিউনিকেশন ও রিমোট সেন্সিংয়ের কাজেও এটি ব্যবহার করা যাবে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

    আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যেই জোর আধুনিকীকরণে

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দ্রুত বদলে যাওয়া যুদ্ধ প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক করে তোলাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির আওতায় দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া এবং বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর দিকেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। ডিএসি-র নীতিগত অনুমোদনের পর এবার এই সমস্ত প্রকল্প ক্রয় প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যাবে। প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।

  • UNICORN Stealth Naval Mast: রেডারে সহজে ধরা পড়বে না যুদ্ধজাহাজ, ভারত-জাপানের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘ইউনিকর্ন’! কী এটা?

    UNICORN Stealth Naval Mast: রেডারে সহজে ধরা পড়বে না যুদ্ধজাহাজ, ভারত-জাপানের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘ইউনিকর্ন’! কী এটা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে একটি অত্যাধুনিক নৌ-প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরির প্রকল্পে হাত মিলিয়েছে দুই দেশ। এই প্রকল্পের নাম ইউনিফায়েড কমপ্লেক্স রেডিও অ্যান্টেনা, সংক্ষেপে ‘ইউনিকর্ন’ (UNICORN)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ভারত-জাপান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতার ‘‘নতুন অধ্যায়’’ বলে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজকে আরও স্টেলথ বা রেডারে কম দৃশ্যমান করে তুলবে, ফলে শত্রুপক্ষের পক্ষে জাহাজ শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করা অনেক বেশি কঠিন হবে।

    কী এই ইউনিকর্ন (UNICORN) প্রযুক্তি?

    বর্তমানের অধিকাংশ যুদ্ধজাহাজে রেডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেভিগেশন ও অন্যান্য সেন্সরের জন্য ডেকের উপরে অসংখ্য অ্যান্টেনা বসানো থাকে। এই অ্যান্টেনাগুলিই রেডারে যুদ্ধজাহাজকে সহজে শনাক্ত করার অন্যতম কারণ। ইউনিকর্ন প্রযুক্তিতে সেই একাধিক অ্যান্টেনাকে একটি সমন্বিত রেডোম (Radome)-এর ভিতরে রাখা হয়। ফলে জাহাজের রেডার ক্রস সেকশন (RCS) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সহজ কথায়, যুদ্ধজাহাজের ‘রেডার সিগনেচার’ অনেকটাই কমে যাওয়ায় শত্রুপক্ষের রেডারে সেটি ধরা পড়া কঠিন হয়ে ওঠে। এটি শুধু স্টেলথ ক্ষমতাই বাড়ায় না, একই সঙ্গে বিভিন্ন যোগাযোগ ও সেন্সর ব্যবস্থার মধ্যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক হস্তক্ষেপও কমায়।

    ইউনিকর্ন মাস্টে কী কী থাকবে?

    ইউনিকর্ন সিস্টেমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিকে একটি কমপ্যাক্ট মাস্টের মধ্যে একত্রিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● লিঙ্ক-১৬ ডেটা লিঙ্ক: নিরাপদ ও রিয়েল-টাইম তথ্য আদানপ্রদানের ব্যবস্থা।
    • ● ট্যাকান (ট্যাকটিক্যাল এয়ার নেভিগেশন): জাহাজভিত্তিক হেলিকপ্টারের নেভিগেশন ও অবতরণে সহায়তা করে।
    • ● আইএফএফ (আইডেন্টিফিকেশন ফ্রেন্ড অর ফো): বন্ধু ও শত্রুপক্ষের বিমান বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত করার ব্যবস্থা।
    • ● ইলেকট্রনিক সাপোর্ট মেজার্স (ইএসএম): শত্রুপক্ষের রেডার ও যোগাযোগ সংকেত শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণের প্রযুক্তি।
    • ● ইউএইচএফ/ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা: স্বল্প দূরত্বে ভয়েস ও ডেটা যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।
    • ● অফশোর ওয়্যারলেস রাউটার: বাইস্ট্যাটিক ও মাল্টিস্ট্যাটিক সোনার অভিযানের সময় তথ্য আদানপ্রদানে সহায়তা করে।

    ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিকর্ন প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল স্টেলথ সক্ষমতা বৃদ্ধি। বর্তমানে সমুদ্রপথে নজরদারি ও যুদ্ধজাহাজ শনাক্তকরণে রেডার প্রযুক্তির উপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করা হয়। যুদ্ধজাহাজের রেডার সিগনেচার কমিয়ে আনলে প্রতিপক্ষের পক্ষে জাহাজের অবস্থান নির্ণয়, শ্রেণিবিন্যাস এবং লক্ষ্যবস্তু করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়। জাপানের মোগামি-শ্রেণির স্টেলথ ফ্রিগেট ইতিমধ্যেই এই ইউনিকর্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, এই প্রযুক্তির ফলে ওই শ্রেণির যুদ্ধজাহাজের রেডার প্রতিফলন প্রচলিত যুদ্ধজাহাজের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

    ভারত-জাপানের যৌথ উৎপাদন

    এখানে বলে দেওয়া প্রয়োজন, বেশ কিছুদিন আগেই মোগামি শ্রেণি জাহাজে ব্যবহৃত নকশা ও প্রযুক্তি ভারতকে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল জাপান। এবার সেই নিয়ে দুদেশের চুক্তি হল। এই প্রকল্পে উন্নত প্রযুক্তিগত নকশা ও ডিজাইন দেবে জাপান, আর ভারতে উৎপাদন ও সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকবে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এই অত্যাধুনিক স্টেলথ মাস্ট ভারতেই যৌথভাবে তৈরি করা হবে। এর ফলে শুধু প্রযুক্তি স্থানান্তরই নয়, ভবিষ্যতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ইউনিকর্ন প্রযুক্তি মূলত জাপানের এনইসি কর্পোরেশন, সাম্পা কোগিও কেকে এবং দ্য ইয়োকোহামা রাবার কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে তৈরি করেছে।

    আগে থেকেই শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি

    এই প্রকল্পের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০২২ সালের ‘ভারত-জাপান ২+২’ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে টোকিওতে দুই দেশের মধ্যে একটি মেমোরান্ডাম অফ ইমপ্লিমেন্টেশন (MoI) সই হয়। সেই চুক্তির ফলেই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের ঘোষণা করা হল।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি?

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘‘প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানের প্রথম যৌথ কো-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প হিসেবে নৌবাহিনীর রেডিও অ্যান্টেনা ‘ইউনিকর্ন’-এর চুক্তি হয়েছে। এই প্রকল্প আমাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথভাবে এমন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করব, যা আঞ্চলিক শান্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।’’

    ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিকর্ন প্রকল্প শুধু একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নিরাপদ প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে ভারতীয় নৌবাহিনীর ভবিষ্যতের যুদ্ধজাহাজ আরও কম দৃশ্যমান, বেশি নিরাপদ এবং প্রযুক্তিগতভাবে আরও আধুনিক হয়ে উঠবে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

LinkedIn
Share