Tag: Indian Navy

Indian Navy

  • Indian Navy Modernisation: প্রতি ৪০ দিনে নতুন যুদ্ধজাহাজ কমিশন বাহিনীতে! নজিরবিহীন গতিতে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা

    Indian Navy Modernisation: প্রতি ৪০ দিনে নতুন যুদ্ধজাহাজ কমিশন বাহিনীতে! নজিরবিহীন গতিতে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ কর্মসূচির ঘোষণা করলেন ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎস্যায়ন (Sanjay Vatsayan)। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ৪৫টি নতুন যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। পাশাপাশি আগামীদিনে আরও ১৯৫টি অতিরিক্ত জাহাজ নির্মাণ ও অধিগ্রহণের অনুমোদনও মিলেছে। এর মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ১৭৫ থেকে ২০০-তে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি, কলকাতায় গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (Garden Reach Shipbuilders & Engineers)-এর কারখানায় ভারতের প্রথম নেক্সট জেনারেশন অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল (NGOPV) ‘সঙ্ঘমিত্রা’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চিফ অফ নেভাল স্টাফ বা নৌসেনা উপপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় ভাটসায়ন। সেখানেই তিনি নৌবাহিনীর এই বৃহৎ আধুনিকীকরণ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন।

    চলতি বছর ১৯টি নতুন জাহাজ কমিশন

    বর্তমানে দেশের ছয়টি জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য মোট ৫৪টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কাজ চলছে। শুধু চলতি বছরেই ১৯টি নতুন জাহাজ কমিশন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যা ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসে এক বছরে সর্বাধিক সংযোজন। ২০২৭ সালেও আরও ১৩টি জাহাজ সরবরাহ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল ইতিমধ্যেই প্রায় ২.৩৫ লক্ষ কোটি টাকার ৭৪টি অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৫টি সারফেস শিপ এবং ৯টি সাবমেরিন। ভারতের এই সমগ্র নৌ-আধুনিকীকরণ কর্মসূচি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ৯৯,৫০০ কোটি টাকার চুক্তির মাধ্যমে দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ভবিষ্যতের সমস্ত যুদ্ধজাহাজ দেশেই তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে। রাশিয়া থেকে নির্মিত শেষ বিদেশি যুদ্ধজাহাজ আইএনএস তমাল (INS Tamal) ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কমিশন হওয়ার পর বিদেশ নির্ভরতা পুরোপুরি বন্ধ হবে।

    প্রতি ৪০ দিনে একটি নতুন জাহাজ কমিশন

    নতুন প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে নীলগিরি শ্রেণির স্টেলথ ফ্রিগেট, ১১ হাজার টন ওজনের নেক্সট জেনারেশন ডেস্ট্রয়ার, অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার ভেসেল এবং আধুনিক প্যাট্রোল জাহাজ। বর্তমানে গড়ে প্রতি ৪০ দিনে একটি করে নতুন জাহাজ কমিশন করছে ভারতীয় নৌবাহিনী, যা দেশের সামরিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎস্যায়ন বলেন, ভারতীয় নৌবাহিনী এখন শুধু যুদ্ধ প্রস্তুত বাহিনী নয়, বরং সমুদ্র নিরাপত্তা, কৌশলগত উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁর কথায়, “এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে নেক্সট জেনারেশন অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল প্রকল্প অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।”

    কোথায় উপযোগী এনজিওপিভি?

    জিআরএসই-র উদ্বোধন করা ‘সঙ্ঘমিত্রা’ হল ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য নির্মীয়মাণ চারটি এনজিওপিভি-র মধ্যে প্রথম জাহাজ। নৌবাহিনীর দাবি, এই এনজিওপিভিগুলি প্রচলিত অফশোর প্যাট্রোল ভেসেলের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক। প্রায় ১১৩ মিটার দীর্ঘ এবং ১৪.৬ মিটার প্রশস্ত এই জাহাজের ডিসপ্লেসমেন্ট প্রায় ৩,০০০ টন। ১৪ নট গতিতে চললে এর অপারেশনাল রেঞ্জ ৮,৫০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৩ নট। মাত্র চার মিটার ড্রাফটের (জলের নিচে থাকা অংশ) কারণে উপকূলীয় অগভীর জলেও এই জাহাজ সহজে মোতায়েন করা যাবে।

    কেন কার্যকরী হবে এনজিওপিভি?

    অফশোর সম্পদের সুরক্ষা, সামুদ্রিক নজরদারি, মাইন ওয়ারফেয়ার, ভিজিট-বোর্ড-সার্চ-সিজার (VBSS) অপারেশন এবং বিশেষ সামরিক অভিযানে এই জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে ভাইস চিফ গার্ডেনরিচের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, গত আর্থিক বছরে সংস্থাটি ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে মোট আটটি জাহাজ তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক শক্তিকে মোকাবিলা করতেই ভারত এই বৃহৎ নৌ সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ৪৩৫-এ পৌঁছে যাবে।

  • India’s Next CDS: দেশের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক হচ্ছেন এনএস রাজা সুব্রমণি, পরবর্তী নৌসেনা প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন

    India’s Next CDS: দেশের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক হচ্ছেন এনএস রাজা সুব্রমণি, পরবর্তী নৌসেনা প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক বা চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি। শনিবার সকালে ওই পদে তাঁকে নিয়োগ করার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেনা সর্বাধিনায়ক (India’s Next CDS) হওয়ার পর স্থলসেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনা— তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে কাজ করবেন সুব্রমণি। দেশের নতুন নৌসেনা প্রধানকেও নিয়োগ করেছে কেন্দ্র। নৌসেনার ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার অফিসার কৃষ্ণ স্বামীনাথন চলতি মাসের শেষে নৌসেনা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

    কবে থেকে দায়িত্ব গ্রহণ

    বর্তমানে দেশের সেনা সর্বাধিনায়ক (India’s Next CDS) পদে আছেন জেনারেল অনিল চৌহান। আগামী ৩০ মে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার পরেই সিডিএস পদে দায়িত্ব নেবেন সুব্রমণি। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুব্রমণি সিডিএস-এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের সামরিক বিষয়ক দফতরের সচিব হিসেবেও কাজ করবেন। বর্তমানে নৌসেনার মাথায় আছেন অ্যাডমিরাল দীনেশকুমার ত্রিপাঠী। আগামী ৩১ মে তাঁর কার্যকালের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। তারপরই দায়িত্ব নেবেন নৌসেনা প্রধান। পরবর্তী নৌসেনা প্রধান স্বামীনাথন বর্তমানে মুম্বইয়ে পশ্চিম নেভাল কমান্ডের মাথায় রয়েছেন। এর আগে নৌসেনার উপপ্রধানের দায়িত্বও সামলেছেন। ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরী আইএনএস বিদ্যুৎ, আইএনএস বিনাশ, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী করভেট আইএনএস কুলিশ, ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী আইএনএস মহীশূর এবং বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্যের কমান্ডার ছিলেন তিনি।

    জাতীয় ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে সেনা সর্বাধিনায়ক

    জাতীয় ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে ছিলেন সুব্রমণি (Lt Gen NS Raja Subramani)। সেখান থেকে ১৯৮৫ সালে যান গারওয়াল রাইফেল্‌স-এ। ব্রিটেনে জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড স্টাফ কলেজে কয়েক বছরের জন্য যোগ দিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর তাঁকে পর্বত ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এর পর ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজেও ছিলেন সুব্রমণি। ৩৫ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একাধিক সংঘাতপ্রবণ এলাকায় সংবেদনশীল পদের দায়িত্ব সামলেছেন। কাজাখাস্তানের ভারতীয় দূতাবাসেও ছিলেন একসময়। সেনাবাহিনীতে নজরকাড়া কাজের জন্য একাধিক সম্মান লাভ করেছেন তিনি। ২০২৩ সালে সুব্রমণি সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ জেনারেল অফিসার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তার পরের বছরেই দেশের ৪৭তম ভাইস সিডিএস হিসেবে দায়িত্ব নেন। সক্রিয় সামরিক চাকরি থেকে অবসরের পর সুব্রমণি আপাতত জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছিলেন। এ বার তাঁকে তিন বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হল।

  • Hypersonic Glide Missile Test: হাইপারসনিক যুগে ভারতের বড় লাফ! নতুন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

    Hypersonic Glide Missile Test: হাইপারসনিক যুগে ভারতের বড় লাফ! নতুন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তিতে বড়সড় সাফল্য পেল ভারত। শুক্রবার ওড়িশা উপকূলের কাছে দীর্ঘ-পাল্লার অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের (Long-Range Anti-Ship Missile বা LR-AShM) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ১,৫০০ কিলোমিটার দূরে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে, যা দেশের সমুদ্র প্রতিরক্ষার পরিসর আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক।

    গতি ঘণ্টায় ৬১০০ কিমি…

    প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ম্যাক ৫ (শব্দের পাঁচগুণ বা আনুমানিক ঘণ্টায় ৬১০০ কিমি)-এর বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম। ফলে আধুনিক যুদ্ধজাহাজে থাকা ইন্টারসেপশন সিস্টেম বা প্রতিরোধী প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা এই ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে। পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্নত টার্মিনাল গাইডেন্স সিস্টেমের নির্ভুলতাও যাচাই করা হয়েছে। উৎক্ষেপণ থেকে চূড়ান্ত আঘাত পর্যন্ত সব মিশন উদ্দেশ্য সফলভাবে পূরণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল মিড-কোর্স ম্যানুভার এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চগতির ফ্লাইট।

    বিরাট সাফল্য ভারতের…

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য তৈরি অ্যান্টি-শিপ মিসাইল (LR-AShM) হল একটি হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র, যা স্থির ও চলমান—দুই ধরনের লক্ষ্যবস্তুকেই নিশানা করতে পারে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাভিওনিক্স এবং উচ্চ-নির্ভুলতার সেন্সর। ক্ষেপণাস্ত্রটি আধা-ক্ষেপণাস্ত্র গতিপথ (quasi-ballistic trajectory) অনুসরণ করে এবং সর্বোচ্চ ম্যাক ১০ (শব্দের দশ গুণ) পর্যন্ত গতি অর্জন করতে পারে, যদিও গড় গতি থাকে প্রায় ম্যাক ৫। একাধিক ‘স্কিপ’ কৌশল, কম উচ্চতায় উড়ান এবং দ্রুত গতির কারণে শত্রুপক্ষের রাডারে এটি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

    হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র..

    দুই-ধাপের সলিড রকেট মোটরের সাহায্যে চালিত এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমে বুস্টারের মাধ্যমে গতি অর্জন করে। এরপর প্রাথমিক ধাপ শেষে এটি পৃথক হয়ে যায় এবং দ্বিতীয় ধাপে এটি ইঞ্জিনবিহীন গ্লাইড পর্যায়ে (unpowered glide phase) প্রবেশ করে, তারপর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই সফল পরীক্ষা ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে আরও একবার সামনে আনল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে দূরপাল্লায় শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সম্পদ ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে গেল।

    দুটি পৃথক হাইপারসনিক প্রকল্প….

    চলতি সপ্তাহের গোড়ায় জাতীয় নিরাপত্তা সম্মেলনে (National Security Summit) বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডিআরডিও-র (DRDO) প্রধান ড. সমীর ভি কামাত জানিয়েছিলেন, ভারত বর্তমানে দুটি পৃথক হাইপারসনিক প্রকল্পে কাজ করছে— একটি হল হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল (Hypersonic Glide Missile) এবং দ্বিতীয়টি হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল (Hypersonic Cruise Missile)। তিনি বলেন, “হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে এয়ার ব্রদিং স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন (air-breathing scramjet engine) থাকে এবং পুরো উড়ানের সময় সেটি চালু থাকে। অন্যদিকে হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র বুস্টারের মাধ্যমে প্রাথমিক গতি পেয়ে পরে কোনও প্রোপালসান (ইঞ্জিন) ছাড়াই গ্লাইড করে বা বাতাসে ভেসে যায়।” কামাত আরও জানান, গ্লাইড মিসাইল প্রকল্পটি তুলনামূলকভাবে বেশি উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর কথায়, “গ্লাইড মিসাইলই আগে আসবে।”

    কনভেনশনাল মিসাইল ফোর্স গঠনের ভাবনা

    একই সঙ্গে তিনি একটি সম্ভাব্য কনভেনশনাল মিসাইল ফোর্স (conventional missile force) গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, স্বল্প, মধ্যম এবং প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলের (ballistic missile) পাশাপাশি ক্রুজ মিসাইল (cruise missile) এবং হাইপারসনিক মিসাইল (hypersonic missile) সহ বহুমুখী অস্ত্রভান্ডার দরকার, যাতে বিভিন্ন কৌশলগত ব্যবহারের (tactical application) প্রয়োজন অনুযায়ী জন্য আলাদা আলাদা আঘাত হানার ক্ষমতা (strike capability) তৈরি হয়।

    “ঐতিহাসিক অর্জন” বলেছেন রাজনাথ

    উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে হাইপারসনিক প্রযুক্তিতে ভারত ধারাবাহিক অগ্রগতি করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ড. এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে দীর্ঘ-পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায় ডিআরডিও। এর আগে ২০২০ সালে হাইপারসনিক টেকনোলজি ডেমোন্সট্রেটর ভেহিক্যল (Hypersonic Technology Demonstration Vehicle বা HSTDV)-এর সফল পরীক্ষা এবং পরবর্তী স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিনের পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সাফল্য এনে দেয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এর আগেই এই ধরনের সাফল্যকে “ঐতিহাসিক অর্জন” বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর কথায়, এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই নির্বাচিত কয়েকটি দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে, যাদের হাতে উন্নত হাইপারসনিক প্রযুক্তি রয়েছে।

  • Strait of Hormuz: মাইন আতঙ্ক, গুলির হামলা! হরমুজে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে নতুন নিয়ম

    Strait of Hormuz: মাইন আতঙ্ক, গুলির হামলা! হরমুজে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে নতুন নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীর কাছে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে, পারস্য উপসাগরে থাকা ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলির জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জাহাজগুলিকে লারক দ্বীপ থেকে দূরে থাকতে এবং শুধুমাত্র নৌবাহিনীর অনুমতি পেলে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)অতিক্রম করতে বলা হয়েছে, যাতে ঝুঁকি কমানো যায়। গত ১৮ এপ্রিল ইরানি গার্ডরা দুটি ভারতীয় জাহাজে গুলি চালায়। এর পর ভারতীয় সেনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করেছে। সূত্রের খবর, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা সমস্ত ভারতীয় জাহাজের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ভারতীয় সেনা।

    নৌবাহিনীর নির্দেশ পেলে তবে যাত্রা

    ইরান ও আমেরিাকর মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইতিমধ্যেই ১১টি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী পেরিয়েছে। শেষ ট্যাঙ্কার ‘দেশ গরিমা’ ১৮ এপ্রিল পার হয়। একই দিনে ‘জগ অর্ণব’ ও ‘সানমার হেরাল্ড’ নামের দুটি জাহাজ ইরানি গার্ডদের গুলির মুখে পড়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। হরমুজ পার হওয়ার পর ‘দেশ গরিমা’ এখন আরব সাগর-এ ভারতীয় নৌবাহিনীর সুরক্ষায় রয়েছে এবং ২২ এপ্রিল মুম্বই পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই মুহূর্তে পারস্য উপসাগরে ১৪টি ভারতীয় জাহাজ প্রণালী পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। ভারতীয় সেনা তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এগোতে বারণ করেছে। পাশাপাশি, পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি এলাকায় ভারতীয় নৌবাহিনীর ৭টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে, যারা হরমুজ পার হওয়ার পর ভারতীয় জাহাজগুলিকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    লারক দ্বীপ-এর গুরুত্ব

    লারক দ্বীপ প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে অবস্থিত এবং এটি ইরানের তেল পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে এই অঞ্চলে কড়া নজরদারি চালানো হয়—রাডার ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হয়। লারক দ্বীপ হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে অবস্থিত এবং প্রণালীর প্রায় ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত অংশ জুড়ে বিস্তৃত। ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার আগে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহণ এই পথ দিয়েই হতো। এলাকায় একাধিক ইরানি ঘাঁটি রয়েছে, যেখান থেকে দ্রুতগতির ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলা চালানো সম্ভব। বর্তমানে তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে হরমুজ ও লারক দ্বীপের মাঝের রুট ব্যবহার করা হলেও, ওমান উপকূলের কাছাকাছি দক্ষিণ দিকের পুরনো পথটি মাইন থাকার আশঙ্কায় এড়িয়ে চলা হচ্ছে। ভারতীয় জাহাজগুলিকে লারক দ্বীপের কাছাকাছি যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ফলে নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজের হরমুজ প্রণালী পার হওয়া এখন অনিশ্চিত।

  • US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের (US Iran War) সাময়িক বিরতি। খুলছে হরমুজ প্রণালী। আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি আমেরিকা! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বুধবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ট্রুথ স্যোশালের পোস্টে যুদ্ধবিরতির কথা জানান। তাঁর কথায়, ‘‘ইরানে এখনই সেনা পাঠাচ্ছি না। বোমা ফেলব না।’’ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে তেহরানও। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘‘ইরানের উপর যদি হামলা বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান বন্ধ করে দেবে।’’ দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ইরানকে ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়ে সোমবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আজ রাতের মধ্যেই গোটা সভ্যতা শেষ হবে।’’ মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতি

    মধ্যপ্রাচ্যে টানা প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের মাঝে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) জানান, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও অবিলম্বে খুলে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য বোমা হামলা স্থগিত রাখবে। তেহরানও শর্তসাপেক্ষে এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে এবং সীমিতভাবে প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, যদি তাদের ওপর হামলা বন্ধ হয়, তবে তারাও সামরিক প্রতিরোধ থামাবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পাশাপাশি নিজেদের ১০ ও ১৫ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক চাপের ফলেই ইরান এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইরান এটিকে নিজেদের কূটনৈতিক জয় বলে দাবি করেছে।

    ইরানের হাত ট্রিগারেই

    দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি মানেই যুদ্ধে ইতি নয়! আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে এমনই বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই। তবে এ-ও জানিয়েছেন, তিনি তাঁর সমস্ত সেনাবাহিনীকে আপাতত গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের এক সরকারি বিবৃতিতে মোজতবার বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘‘এই যুদ্ধবিরতির অর্থ যুদ্ধের শেষ নয়। আমেরিকা বা ইজরায়েল— শত্রুপক্ষ যদি কোনও রকম পদক্ষেপ করে, তবে আমাদের হাত ট্রিগারেই থাকবে।’’ বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল যদি কোনও রকম ‘ভুল’ করে, তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে তার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানও।

    ইরানের ‘ঐতিহাসিক জয়’!

    ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপদ পরিষদ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এক দীর্ঘ বিবৃতি জারি করে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যুদ্ধের প্রায় সকল উদ্দেশ্যই অর্জিত। শত্রুপক্ষ এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুনয়-বিনয় করছে।’’ তেহরান এই পরিস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখছে। তারা বুঝিয়েছে, আমেরিকার সামনে কখনওই মাথা নত করেনি ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা বার বার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলেছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই সব বিষয়কে পাত্তা দিতে রাজি ছিল না। আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত বিষয়গুলি চূড়ান্ত হলে তবেই ইরান যুদ্ধের অবসান মেনে নেবে।’’ তারা জোর দিয়েছে, আলোচনায় তাদের ১০ দফা পরিকল্পনার কথা কঠোর ভাবে উপস্থাপিত করা হবে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা আছে।

    ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ দফা প্রস্তাব হল হরমুজ প্রণালিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্র শক্তির নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ও আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি বড় বিষয়—হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার (Highly Enriched Uranium Stockpile) বন্ধ করা। সূত্র বলছে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমার মধ্যে ইরান কিছু সীমিত পদক্ষেপ করতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই দুটো ইস্যুই তেহরানের সবচেয়ে বড় দরকষাকষির হাতিয়ার, তাই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছাড়া পুরোপুরি ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

    মার্কিন বাহিনীর জয়!

    ইরানের দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের থেকে একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছেন, যা একটি অত্যন্ত কার্যকর সূচনা। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদী, ‘‘ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি।’’ আসন্ন দু’সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা সম্ভব। ইরানের মতো আমেরিকাও ‘জয়’ দেখছে। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, এটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন বাহিনীর জয়।

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব, বাজারে প্রভাব

    হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এই পথ খুলে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১৩% কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে নেমেছে, এবং মার্কিন ক্রুডও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এশিয়ার শেয়ারবাজার ও মার্কিন ফিউচার মার্কেটে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    এখনও অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য!

    কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পরিকাঠামোতে হামলা হলে তার পাল্টা জবাব থাকবেই। আর তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে। এতে বড় আঞ্চলিক সংকট (Regional Crisis) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আর ইতিমধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (Esmaeil Baghaei) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানে হামলা হলে সমান জবাব (Retaliation) দেওয়া হবে। বলেন, ‘প্রয়োজনে আমেরিকা-সংযুক্ত লক্ষ্যবস্তুকেও (US-linked Targets) নিশানা করা হতে পারে।’ ইরান জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত সংঘাত চলবে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই সৌদি আরব, বাহারাইন এবং কুয়েতে শোনা গিয়েছে মিসাইল অ্যালার্ট অ্যালার্ম। সতর্ক রয়েছে ইজরায়েলও। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি শান্ত হলেও ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে উপসাগরীয় এলাকায়।

  • LPG: ৪৬,০০০ টন এলপিজি নিয়ে হরমুজ পেরলো আরও একটি ট্যাঙ্কার, আসছে ভারতে

    LPG: ৪৬,০০০ টন এলপিজি নিয়ে হরমুজ পেরলো আরও একটি ট্যাঙ্কার, আসছে ভারতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৪৬,০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি এলপিজি (LPG) বহনকারী একটি ট্যাঙ্কার শনিবার সকালে পার হল হরমুজ প্রণালী। ৬ এপ্রিলের মধ্যে মুম্বই বন্দরে পৌঁছবে বলেই আশা। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিংয়ের তরফে (Hormuz Strait) জানানো হয়েছে, এলপিজি বহনকারী জাহাজ গ্রিন সানভি বর্তমানে প্রণালী পার হয়ে গিয়েছে। জাহাজ মন্ত্রকের কর্তারা জানান, জাহাজটি ৪৬,৬৫৫ মেট্রিক টন এলপিজি বহন করছে।

    ভারতীয় বন্দরে দুই জাহাজ (LPG)

    দিন কয়েক আগেই হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতীয় বন্দরে পৌঁছেছে দুটি এলপিজি ভর্তি ট্যাঙ্কার। এর মধ্যে জাগ বসন্ত (Jag Vasant) কাণ্ডলায় পৌঁছেছে ৪৭,৬১২ মেট্রিক টন এলপিজি, আর পাইন গ্যাস (Pine Gas) নিউ মাঙ্গালোর বন্দরে ৪৫,০০০ মেট্রিক টন এলপিজি পৌঁছে দিয়েছে। আরও দুটি এলপিজি জাহাজ গ্রিন আশা (Green Asha)  এবং জাগ বিক্রম (Jag Vikram) বর্তমানে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। পদস্থ এক নৌ-আধিকারিক জানান, ওই অঞ্চলে আটকে থাকা সব জাহাজের চলাচল নিশ্চিত করতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

    শিপিং কর্তার বক্তব্য

    এদিকে, বিডাব্লু টিওয়াইআর নামের এলপিজি ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যেই মুম্বই পৌঁছে গিয়েছে। মুম্বই আউটার পোর্ট লিমিটসে জাহাজ-থেকে-জাহাজ পদ্ধতিতে পণ্য খালাস করা হয়েছে। আর একটি জাহাজ বিডাব্লু ইএলএমকে এন্নোর বন্দরের দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৪ এপ্রিল ভারতে পৌঁছানোর কথা এই জাহাজটির (Hormuz Strait)। শিপিং-কর্তা জানান, বর্তমানে ১৭টি ভারতীয় জাহাজ পারস্য উপসাগরে, ২টি ওমান উপসাগরে, ২টি এডেন উপসাগরে এবং ১টি লোহিত সাগরে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৫টি জাহাজ শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন।

    ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই লক্ষ্য!

    পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ২০,৫০০ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। এদের মধ্যে ৫০৪ জন ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে কর্মরত, এবং ৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি ১,১৩০ জন নাবিককে সরিয়ে নিয়েছে (LPG)। ভারতীয় নৌবাহিনী এবং শিপিং কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান সমন্বয় এই অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ ও সময় মতো চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই করা হচ্ছে। আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারতীয় বন্দরে এলপিজির সরবরাহ অব্যাহত রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Hormuz Strait)। এই ঘটনাপ্রবাহ উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক পরিবহণ ব্যবস্থাপনা এবং নাবিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে, যাতে নির্বিঘ্নে ভারতে পৌঁছতে পারে জ্বালানি ভর্তি ট্যাঙ্কার (LPG)।

     

  • Operation Sindoor: ‘আর মাত্র কয়েক মিনিটের দূরে…’! অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানকে আক্রমণ নিয়ে‌ কী বললেন নৌসেনা প্রধান?

    Operation Sindoor: ‘আর মাত্র কয়েক মিনিটের দূরে…’! অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানকে আক্রমণ নিয়ে‌ কী বললেন নৌসেনা প্রধান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) চলাকালীন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল ভারতীয় নৌসেনা। কিন্তু পাকিস্তানের অনুরোধে অভিযান থেকে বিরত ছিল তারা। বুধবার এমনই দাবি করলেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী। মুম্বইয়ে নৌসেনার সংবর্ধনা কর্মসূচিতে বুধবার অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi) সিঁদুর অভিযানের সময় অসাধারণ অবদানের জন্য দুই অফিসারকে সেবা পদক প্রদান করেন। সেখানেই তিনি বলেন, ‘‘আমরা আঘাত হানায় আর মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিলাম।’’

    পাকিস্তানের অনুরোধে আক্রমণ থেকে বিরত

    নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী বলেন, ২০২৫ সালের ৭-১০ মে সিঁদুর (Operation Sindoor) অভিযান চলাকালীন ভারতীয় নৌসেনা আগাগোড়া আগ্রাসী অবস্থান বজায় রেখেছিল। তিনি বলেন, ‘‘অপারেশন সিঁদূরের সময় ভারতীয় নৌবাহিনী সমুদ্র থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আঘাত হানার মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিল। ইসলামাবাদ আক্রমণাত্মক কার্যক্রম বন্ধ করার অনুরোধ করেছিল।’’ তাই কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আক্রমণ থেকে বিরত থাকা হয়।

    ভারতীয় নৌসেনা জাতির আস্থা

    অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারতীয় নৌসেনা জাতির আস্থা এবং তাদের ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাসকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলেও দাবি করেন অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi)। পহেলগাঁওতে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হানার পর পাল্টা পাকিস্তানের বুকে পর পর জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। সেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ কার্যত কুপোকাত হয়েছিল পাকিস্তান। অভিযানের সময় মে মাসের সেই রাতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান যখন একের পর এক পাকিস্তানি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছিল, তখন ভারতীয় নৌসেনার আগ্রাসী অবস্থানে কার্যত নিজেদের উপকূল প্রান্ত বাঁচাতে মরিয়া ছিল পাকিস্তান।

    ভয় পেয়েছিল পাকিস্তান

    অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী বলেন,‘‘অপারেশন সিঁদুরের সময় ক্যারিয়ার ব্যাটেল গ্রুপের মোতায়েনের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ পাকিস্তান নৌবাহিনীকে তাদের বন্দরের কাছাকাছি বা মাকরান উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বাধ্য করেছিল।’’ একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’, এখনও শেষ হয়নি। তিনি সাফ বলেন, এই অপারেশন এখনও চলছে। ভারতের নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠীর কথায়, অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে কারণ যুদ্ধের পর বহু বাণিজ্যিক জাহাজ পাকিস্তানে ভ্রমণ এড়িয়ে গিয়েছে। পাকিস্তানগামী জাহাজের বীমা খরচও বেড়ে গিয়েছিল।

    পশ্চিম উপকূলে ভারতীয় নৌসেনার অপ্রতিরোধ্য উপস্থিতি

    শুধু অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) প্রসঙ্গেই নয়, অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী বলেন, ‘‘অপারেশন সিঁদুরের পাশাপাশি, বছরভর পশ্চিম উপকূলে ভারতীয় নৌসেনার অপ্রতিরোধ্য উপস্থিতি বজায় রয়েছে।’’ ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হানাদারি, পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে বলেও জানান তিনি। চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সমুদ্র এখন আর গৌণ নয়, বরং প্রধান কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে—এমনটাই জানান ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান। তিনি বলেন, ভারতীয় নৌসেনার অপারেশনাল দক্ষতা গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অভিযানে প্রতিফলিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ১৭ ঘণ্টার ঐতিহাসিক সমুদ্রযাত্রা

    অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi) আরও জানান, পশ্চিম উপকূলে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ১৭ ঘণ্টার ঐতিহাসিক সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে নৌবাহিনী তাদের প্রস্তুতি ও শক্তি প্রদর্শন করেছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ভাঙন ও উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে, এবং এই পরিস্থিতিতে সমুদ্র এখন প্রথম সারির সংঘর্ষক্ষেত্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তিনি জানান, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২৩টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে, প্রায় ১,৯০০টি জাহাজ আটকে রয়েছে এবং প্রতিদিনের জাহাজ চলাচল ১৩০ থেকে কমে মাত্র ৬–৭টিতে নেমে এসেছে।

    হরমুজ পাহারায় নৌসেনা

    অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠী (Admiral Dinesh K Tripathi) জানান, হরমুজ সংলগ্ন অঞ্চলে ভারতীয় নৌসেনা সক্রিয় রয়েছে। তারা জাহাজ পাহারা দিচ্ছে। ভারত সরকারের একাধিক উদ্যোগে নৌসেনা সহায়তা করছে। ভারতমুখী জাহাজগুলিকে রক্ষাকবচ দিতে ‘অপারেশন উর্জা সুরক্ষা’ চালু করেছে নৌসেনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের মতো তেল আমদানি নির্ভর দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যার পুরোটাই নির্ভর করছে ভারতীয় নৌবাহিনীর দক্ষতার উপর।

    বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন বাড়ানোর পরিকল্পনা

    পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে সারা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ক্ষেত্রে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যে দেশগুলির উপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি, সেই তালিকায় রয়েছে ভারতও। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতে এসেছে বেশ কয়েকটি জাহাজ। ভারত-ইরান সম্পর্কের খাতিরেই হরমুজ থেকে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে অনুমতি মিলেছে। তবে শুধু জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা নয়, বরং ভবিষ্যতের জরুরি অবস্থার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। নতুন পরিকল্পনার আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনী বিভিন্ন স্থানে নিজেদের মোতায়েন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। দিনকয়েক আগেই উত্তর আরব সাগর থেকে ভারতীয় বন্দরে জাহাজগুলিকে এসকর্ট করার জন্য দুটি টাস্ক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল। এখন, ভারতীয় নৌবাহিনী আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে। এই মোতায়েনের উদ্দেশ্য শুধু এলপিজি ও জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই নয়, বরং ভবিষ্যতে যে কোনও মোতায়েনের জন্য পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি থাকা।

  • PM Modi Meeting: রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ জরুরি, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi Meeting: রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ জরুরি, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল গ্রুপ (IGM) গঠন করল। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কমিটিতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে দেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল বৈঠকে (Virtual Meeting) বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ( PM Modi Meeting)। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা অংশ নেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    ছিল না ভোটমুখী পাঁচ রাজ্য

    ভোটমুখী পাঁচ রাজ্য অসম (Assam),কেরালা (Kerala),তামিলনাড়ু (Tamilnadu),পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল পুদুচেরির (Puducherry) মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেননি। নির্বাচন আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট কার্যকর থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, এই পাঁচ রাজ্যের মুখ্যসচিবদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করবেন কেন্দ্রের মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়, যাতে প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় বজায় রাখা যায়। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি রাজ্যগুলির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা খতিয়ে দেখেন। সীমান্ত, উপকূল, সাইবার স্পেস এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। গুজব ও মজুতদারি রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একের পর এক বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ভারত তার অগ্রগতির ধারা বজায় রেখেছে, যা সম্ভব হয়েছে সম্মিলিত জাতীয় প্রচেষ্টা এবং সক্রিয় প্রশাসনের মাধ্যমে।

    জ্বালানি সরবরাহ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈঠক

    এই ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও যোগ দেন। বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে খবর। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই বৈঠকে ‘টিম ইন্ডিয়া’-র ভাবনায় রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের বৈঠক এই প্রথম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই এই সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল ও একাধিক উপসাগরীয় দেশে।

  • Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালী পেরোতে প্রস্তুত আরও ৬টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার, ‘টোল’ নিচ্ছে না ইরান

    Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালী পেরোতে প্রস্তুত আরও ৬টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার, ‘টোল’ নিচ্ছে না ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা মঙ্গলবার জানান, আরও ৬টি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার প্রণালী পারাপারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়ম অনুযায়ী ইরান কোনও ‘টোল’ নিচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকার মঙ্গলবার জানিয়েছে, পর্যাপ্ত অশোধিত তেলের মজুত-সহ দেশের সব শোধনাগার পূর্ণ ক্ষমতায় চালু রয়েছে। পেট্রল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের বিপণন ও তেল শোধনাগার বিভাগের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান, খুচরো তেল বিতরণ কেন্দ্রগুলিতে তেলের ঘাটতির কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

    আসছে ‘জগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’

    রাজেশ কুমার বলেন, ইতিমধ্যেই ‘জগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’ নামের দুটি এলপিজি বাহক জাহাজ সোমবার সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। জাহাজ দুটি প্রায় ৯২ হাজার টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করছিল এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর সুরক্ষায় এই যাত্রা সম্পন্ন হয়। সরকারি সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL)-এর চার্টার করা ট্যাঙ্কারগুলি ২৬ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছানোর কথা। এর আগে ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দা দেবী’ নামের জাহাজও নিরাপদে প্রণালী পার হয়ে প্রায় ৯২,৭০০ টন এলপিজি সরবরাহ করেছে।

    ২০টি জাহাজে ৫৪০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক আটকে

    উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ইরান, ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে বাড়তে থাকা সংঘাতের কারণে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহণ হয়। ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি হয়, যার প্রায় ৯০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আসে। বর্তমানে প্রায় ৩ লক্ষ টন এলপিজি-সহ একাধিক পণ্যবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, প্রণালী অঞ্চলে প্রায় ২০টি জাহাজে ৫৪০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নজরদারি চালাচ্ছে এবং কিছু নাবিককে ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলির সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক স্তরেও উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর উচ্চপর্যায়ের আলোচনা এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে সূত্রের খবর। ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজও ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে, যাতে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

  • Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনার আধ ডজনেরও বেশি রণতরী, কেন গালফ অঞ্চলে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ?

    Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনার আধ ডজনেরও বেশি রণতরী, কেন গালফ অঞ্চলে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গালফ অঞ্চলের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ করেছেছে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy)। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ট্যাঙ্কার ও কার্গোগুলিকে এসকর্ট করার জন্য আধ ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলের কাছাকাছি মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই নৌবাহিনীর টাস্ক ফোর্সের শক্তি বাড়ানো বা কমানো হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার ইজরায়েল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের ফলে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। তাই এই পদক্ষেপ।

    আসছে আরও দুই জাহাজ

    ভারতীয় নৌবাহিনী দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার—‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’—কে নিরাপদে এসকর্ট করে। সোমবার আরও দুটি ট্যাঙ্কার—‘পাইন গ্যাস’ এবং ‘জগ বসন্ত’—কে এসকর্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজ দুটি সোমবার দুপুর পর্যন্ত ইরানের লারাক ও কেশম দ্বীপের মধ্যবর্তী জলসীমার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী কাছাকাছি অবস্থানরত যুদ্ধজাহাজগুলিকেই সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কারকে এসকর্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কুয়েত থেকে কোনও জাহাজ রওনা দিলে প্রায় দেড় দিন সময় লাগে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি পৌঁছাতে, তারপর থেকেই নৌবাহিনীর এসকর্ট শুরু হয়।

    ভারতের জাহাজকে যেতে দেওয়ার অনুমতি

    ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলি নৌবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের গতিবিধি সর্বক্ষণ নজরে রাখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ‘জগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে গেলে পারস্য উপসাগরে এখনও প্রায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ অবস্থান করবে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতের কয়েকটি জাহাজ দেশে আসতে সক্ষম হয়েছে। বাকি প্রায় সব দেশের জাহাজকে হরমুজ পার না করার হুমকি দিলেও ভারতের জাহাজকে যেতে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই আবহে ভারত ওমান উপসাগরে আরও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে।

    ইরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনীতি

    ইরানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা কাজ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে কথা হয়েছে। আলোচ্য বিষয় ছিল জলপথের সুরক্ষা এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি জাহাজের সুরক্ষা। এরপরেই ভারতের পতাকাবাহী জাহাজকে সুরক্ষিত ভাবে হরমুজ পার করতে দিয়েছে ইরান। এমনকী ইরানের নৌবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অতিক্রম করেছে ভারতের একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার (Indian LPG Tanker)। দীর্ঘ ১০ দিন পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের হস্তক্ষেপে সম্প্রতি এই নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হয়েছে।

    বিশ্বশক্তির সঙ্গে বহুপাক্ষিক যোগাযোগ

    ভারত শুধু দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির উপর নির্ভর না করে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও কথা বলেছে। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, ফরাসি বিদেশমন্ত্রী জঁ নোয়েল ব্যারো এবং অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের আধিকারিকরা। লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের রুটগুলিকে সক্রিয় রাখা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি প্রবাহ যাতে ব্যর্থ না হয় সেই দিকে নজর রাখা।

    অপারেশন সংকল্পের অধীনে নৌবাহিনী মোতায়েন

    ভারতীয় নৌবাহিনী অপারেশন সংকল্প-এর অধীনে আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এই মিশনের লক্ষ্য ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কাছাকাছি জলসীমায় যে কোনও হুমকির প্রতিরোধ করা। বাণিজ্যিক জাহাজকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে হরমুজের আশে পাশে ৬টি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। নিয়মিত টহল ছাড়াও ভারত গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজ এবং ফ্রিগেট মোতায়েন করেছে। এই যুদ্ধজাহাজগুলি আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে প্রস্তুত রয়েছে। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলির মধ্য দিয়ে চলাচলের সময় ভারতীয় জাহাজগুলি হুমকির সম্মুখীন হলে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত।

    ভারতীয় জাহাজ এবং নাবিকদের উপর নজরদারি

    আরও একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হল এই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা। সরকারি তথ্য অনুসারে, পারস্য উপসাগর এবং আশেপাশের জলসীমায় বর্তমানে কয়েক ডজন ভারতীয় জাহাজ এবং শত শত ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

    সঙ্কট ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল

    ভারতীয় জাহাজ কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবfলায় জরুরি সমন্বয় ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। জাহাজের গতিবিধি ট্র্যাক করার জন্য এবং ভারতীয় ক্রু বা পণ্যবাহী জাহাজের সঙ্গে জড়িত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য উন্নত সুরক্ষা প্রোটোকল, নিয়মিত রিপোর্ট ব্যবস্থা এবং একটি বিশেষ দল স্থাপন করেছে।

    ভারত সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ

    ভারত সরকারের সক্রিয় প্রচেষ্টায় দেশের নৌবাহিনীর ‘মিশন-বেসড ডিপ্লয়মেন্ট’ বর্তমানে বিশ্বের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বিস্তৃত। ২০১৭ সাল থেকে এই উপস্থিতি বজায় রয়েছে। ওমান ও এডেন উপসাগরের পাশাপাশি সেশেলস, মালদ্বীপ, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং বঙ্গোপসাগরের মায়ানমার-বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন এলাকাতেও নজরদারি চলছে। এই মোতায়েনের মাধ্যমে একদিকে যেমন এসকর্ট অপারেশন চালানো হচ্ছে, তেমনই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে যৌথ মহড়া এবং জলদস্যুতা বা সামুদ্রিক জরুরি পরিস্থিতিতেও দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ভারতীয় নৌবাহিনী পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলে নজরদারি ও উপস্থিতি বাড়িয়েছে। আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সহায়ক জাহাজ-সহ মোট সাতটি জাহাজ এখন মোতায়েন রয়েছে। এর আগে উত্তর আরব সাগর থেকে ভারতীয় বন্দরে জাহাজ নিরাপদে পৌঁছে দিতে দু’টি টাস্ক ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। এই পদক্ষেপ আসলে ২০১৯ সাল থেকে চালু থাকা ‘অপারেশন সংকল্প’-এরই সম্প্রসারণ। এই অভিযানের অধীনে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ নিয়মিতভাবে ওমান উপসাগর ও এডেন উপসাগরে মোতায়েন থাকে। লক্ষ্য একটাই, এলপিজি ও জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, এবং পারস্য উপসাগরের আশপাশে পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা।

     

LinkedIn
Share