Tag: Indian politics

Indian politics

  • BJP Slams Rahul Gandhi: প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ধর্না, রাহুলকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তোপ বিজেপির

    BJP Slams Rahul Gandhi: প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ধর্না, রাহুলকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেডিক্যাল প্রবেশিকায় (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের ধর্না ঘিরে ক্রমেই চড়ছে রাজনীতির পারদ। এদিন রাহুল গান্ধীকে একযোগে নিশানা বিজেপির (BJP Slams Rahul Gandhi) শীর্ষ নেতৃত্বের। অভিযোগ, লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে সাংবিধানিক মর্যাদার অপব্যবহার করেছেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ বিজেপির।

    কী অভিযোগ বিজেপির?

    বিজেপির (BJP) দাবি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করার অধিকার থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) সরকারি বাসভবনের সামনে গিয়ে ধর্নায় বসা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শাসক দলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সুরক্ষিত ব্যক্তিদের অন্যতম। ফলে তাঁর সরকারি বাসভবনের সামনে এ ধরনের কর্মসূচি নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর যে সাংবিধানিক মর্যাদা রয়েছে, সেই পদমর্যাদার সঙ্গে এই ধরনের আচরণ কোনওভাবেই মানানসই নয়। রাহুল গান্ধী দিশাহীন রাজনীতি করছেন, কটাক্ষ বিজেপির। একইসঙ্গে বুধবার দেশজুড়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণাও করেছে গেরুয়া শিবির।

    বিএল সন্তোষের কড়া আক্রমণ

    রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) ‘‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’’, ‘‘শিশুসুলভ’’ বলেও কটাক্ষ বিজেপির (BJP Slams Rahul Gandhi) একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের। বিএল সন্তোষ বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেসকে একযোগে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে কংগ্রেস অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির তৈরি করেছে।’’ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বাড়ি লক্ষ্য করে এ ধরনের কর্মসূচি দেশের নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, এই ঘটনা ‘‘রাষ্ট্রদ্রোহের কাছাকাছি একটি কাজ’’।

    ‘‘গণতন্ত্রের ইতিহাসে লজ্জাজনক দিন’’

    বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, মঙ্গলবার ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি ‘‘লজ্জাজনক দিন’’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ‘‘কোনও অনুমতি ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন রাহুল গান্ধী। বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মর্যাদা এবং নিরাপত্তার গুরুত্ব তাঁর অজানা নয়। তা সত্ত্বেও তিনি যে আচরণ করেছেন, তা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। নিট ইস্যুতে আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত ছিল। কিন্তু কংগ্রেস সেই আলোচনার পথ ছেড়ে সংঘাতের রাজনীতি করেছে।’’ তাঁর প্রশ্ন দেশ কি রাহুল গান্ধীর ইচ্ছেমতো চলবে? সংসদে আলোচনা না করে কেন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ধর্না? তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।

    নিশিকান্ত দুবের বিস্ফোরক অভিযোগ

    সরব হয়েছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও। রাহুলের বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন সাংসদের। রাহুল গান্ধীর বিদেশ সফরগুলির তদন্তের দাবি করেছেন নিশিকান্ত। তিনি বলেন, ‘‘বিদেশে রাহুল গান্ধী কাদের সঙ্গে দেখা করেছেন? কোন কোন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন? ভারতের বিরুদ্ধে কাজ করে এমন কোনও গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না? কিংবা বিদেশি সংস্থার কোনও অর্থায়নের যোগ রয়েছে কি না?- সেই সমস্ত বিষয় সরকারকে খতিয়ে দেখা উচিত।’’

    ‘‘বিশেষ সুবিধার অপব্যবহার’’

    অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ ও রাজস্থানের বিজেপি সভাপতি মদন রাঠোরের অভিযোগ, ‘‘লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর কিছু বিশেষ সাংবিধানিক সুযোগ- সুবিধা রয়েছে। কিন্তু তিনি সেই মর্যাদার অপব্যবহার করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসার কোনও যৌক্তিকতা ছিল না। এটি কংগ্রেসের হতাশা, দিশাহীনতা এবং শিশুসুলভ রাজনীতির পরিচয় বহন করে।’’

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    মঙ্গলবার নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে ধর্না দেয় কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) পদত্যাগের দাবিতে তাঁর সরকারি বাসভবনের বাইরে ধর্নায় বসে কংগ্রেস (Congress)। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ ইন্ডি জোটের (INDI Alliance) একাধিক বিরোধী নেতাও। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। যদিও পরে অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

    দেশজুড়ে বিজেপির প্রতিবাদ

    প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভের প্রতিবাদে বুধবার দেশজুড়ে আন্দোলনে বিজেপি। দলের নির্দেশ অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের রাজ্য ও জেলা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন।

    ক্রমশ তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত

    প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে ধর্নাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াই এখন আরও তীব্র। বিজেপির অভিযোগ, নিট ইস্যুর আড়ালে কংগ্রেস রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছে এবং বিরোধী দলনেতার সাংবিধানিক মর্যাদার অপব্যবহার করেছেন রাহুল গান্ধী। তাই এই ঘটনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নামছে বিজেপি। শাসক দলের বার্তা, গণতন্ত্রের নামে দেশের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক শালীনতার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। এখন দেখার এই রাজনৈতিক টানাটানি কোন দিকে মোড় নেয়?

  • Narendra Modi Untold Story: জরুরি অবস্থার অন্ধকারে ‘স্বামীজি’ থেকে ‘সর্দারজি’! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে লড়েছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি?

    Narendra Modi Untold Story: জরুরি অবস্থার অন্ধকারে ‘স্বামীজি’ থেকে ‘সর্দারজি’! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে লড়েছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গণতন্ত্রের অন্ধকারতম সময়! ২৫ জুন, সালটা ১৯৭৫। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) ঘোষণা করলেন জরুরি অবস্থার (Emergency Period)। ১৯৭৭ সাল অবধি, ২১ মাস জারি থাকে এই জরুরি অবস্থা। সাংবিধানিক মূল্য়বোধের সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে দেশে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল এই সময়। সরকারের বিরোধিতা, মানেই আশ্রয় হত অন্ধ কারাগার। সেই সময় সবচেয়ে সক্রিয় ও দক্ষ কর্মীদের জেলের বাইরে রেখে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের নীতি। আরএসএস-এর সেই পরিকল্পনার অন্যতম মুখ ছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। গুজরাটের বিভিন্ন প্রান্তে—বরোদা, আমেদাবাদ, রাজকোটে ঘুরে ঘুরে তিনি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করছিলেন জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে। পুলিশের চোখ এড়িয়ে আরএসএস-এর বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি নানা রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন—কখনও ‘সর্দারজি’, কখনও ‘বটুকভাই’, তো কখনও ‘স্বামীজি’।

    ‘বটুকভাই’ থেকে ‘স্বামীজি’ – ছদ্মবেশের কাহিনী

    ১৯৭৫ সালের ২৫শে জুন থেকে ২১ মাসব্যাপী দেশে জারি হওয়া জরুরি অবস্থার সময়, সরকারের কড়া দমননীতি থেকে বাঁচতে নানা ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সময় তাঁকে ‘বেশভূষার মাস্টার’ বলেও ডাকা হতো। জরুরি অবস্থার সময় আরএসএস-এর নীতি ছিল যে কোনও মূল্যে জেলের বাইরে থেকে অস্থির সময়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আরএসএস তখন কার্যত আন্ডারগ্রাউন্ডে। সেই সময় তৈরি করা হয়েছিল গুজরাট লোক সংঘর্ষ সমিতি। সেই সময় মাত্র ২৫ বছর বয়সে আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক পদে উঠে এসেছিলেন মোদি। সেই সময় নানা লেখালেখি করতেন মোদি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁর সেই লেখা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সেই সময় যাতে চিহ্নিত না হয়ে যান সেকারণে নরেন্দ্র মোদি কখনও স্বামীজি, কখনও শিখের ছদ্মবেশ ধরতেন। তখনই গুজরাট ভ্রমণের সময় মোদি ‘বটুকভাই’ নাম নিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করেন। পরে এক পর্যায়ে, তিনি সন্ন্যাসীর বেশ নেন—গায়ে গেরুয়া বসন, মুখে ধর্মীয় ভাষ্য। একদিন, তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, সেখানে স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায়ের একজন আচার্য উপস্থিত হন। তখন পরিবারের লোকেরা তাঁকে ‘উদয়পুর থেকে আগত স্বামীজি’ বলে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর আচার্য ও ছদ্মবেশী ‘স্বামীজি’-র মধ্যে ধর্মীয় বিতর্কও শুরু হয়!

    ভবনগর জেলে ‘সৎসঙ্গ’ করে বার্তা পৌঁছানো

    জরুরি অবস্থা জারির পরেই মোদি তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেই সময় তিনি ও তাঁর সতীর্থরা নানা ধরনের মিটিং করতেন কিছুটা আড়ালে। সিনিয়র আরএসএস নেতা নাথ জাগড়া, বসন্ত গজেন্দ্রগড়করের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তথ্য় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কিছুটা অভিনব পথ নিয়েছিলেন। সাবধানে পরিকল্পনা করে, ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বরে মোদি ‘স্বামীজি’ ছদ্মবেশে ভবনগর জেলে পৌঁছান। সেখানে আটক আরএসএস নেতা বিশ্নুভাই পাণ্ড্যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। একটি ‘সৎসঙ্গ’-এর অজুহাতে তিনি জেলের ভিতরে প্রবেশ করেন এবং এক ঘণ্টা ধরে গোপনে আলোচনা করেন। পুলিশের চোখ এড়িয়ে নির্বিঘ্নে বেরিয়েও আসেন।

    ‘সর্দারজি’ সেজে কলেজ ছাত্রদের মাঝে

    কংগ্রেসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেই সময় গুজরাটে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে গুজরাটে শুরু হয়েছিল নবনির্মাণ আন্দোলন। সেই সময় দেখা গিয়েছিল পড়ুয়াদের শক্তি। সেই সময় আরএসএসের যুব প্রচারক ছিলেন মোদি। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের আওতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় তিনি ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন করেন। তখন তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মবেশ ছিল ‘সর্দারজি’। মাথায় পাগড়ি পরে, শিখ বেশে তিনি ঘোরাফেরা করতেন। এমনকি কলেজপড়ুয়া ছাত্ররা তাঁর উপস্থিতিতে উচ্চস্বরে সর্দারজি-র কৌতুক বলতেও কুণ্ঠাবোধ করত না। পরিচিত পরিবারের শিশু ও তাদের বন্ধুরাও এসে তাঁকে এই নতুন রূপে দেখতে পেত।

    রহস্যময় এবং কৌশলী অধ্যায়

    এই সব ছদ্মবেশ ও বুদ্ধিদীপ্ত চালচলনের জোরেই প্রশাসন তাঁর অবস্থান কখনও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারেনি। প্রায়ই দেখা যেত, পুলিশ এসে পৌঁছানোর আগেই অন্য জায়গায় সরে গিয়েছেন মোদি। ১৯৭৭ সালে জরুরী অবস্থা উঠে যাওয়ার পরে নরেন্দ্র মোদি ক্রমেই জাতীয় ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ছড়িয়ে দিতে থাকেন। আরএসএস-এর হাত ধরে ১৯৮৫ সালে বিজেপিতে যোগদান। তারপর ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীত্ব গ্রহণ। ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন মোদি। তারপর ভারতে আচ্ছে দিন-এর শুরু। কিন্তু আজও জরুরি অবস্থার অন্ধকার দিনে মোদির এই নানা ছদ্মবেশী কাহিনী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক রহস্যময় এবং কৌশলী অধ্যায় হয়ে রয়ে গিয়েছে।

  • Samvidhan Hatya Diwas: ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ কেন পালন করছে বিজেপি? ১৯৭৫-এর জরুরি অবস্থার অজানা ইতিহাস

    Samvidhan Hatya Diwas: ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ কেন পালন করছে বিজেপি? ১৯৭৫-এর জরুরি অবস্থার অজানা ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৫ জুন ভারতীয় গণতন্ত্রের কাছে এক কালো দিন। আজ থেকে ঠিক পঞ্চাশ বছর আগে, আচমকা মধ্যরাতে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। না, কোনও যুদ্ধ নয়। নিজের গদি বাঁচাতে দেশবাসীকে কার্যত বন্দি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। যার প্রতিবাদে আজ দেশজুড়ে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ পালন করছে বিজেপি। কী ঘটেছিল সেই সময়ে? কেমন ছিল সেই অন্ধকারময় অধ্যায়?

    ইতিহাসের পাতা উল্টে ফেরা যাক ঠিক ৫০ বছর আগেকার একটি অস্থির সময়ে। সালটা ১৯৭৫। যে সময় দেশ এক কঠিন সময়ের চরম নজির দেখেছিল ভারতবাসী। এমন একটা সময় যখন ক্ষমতাবলে দেশের সংবিধানকে হত্যা করেছিল দেশেরই শাসক। কংগ্রেস শাসনের স্বৈরতন্ত্রের সামনে ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল গণতন্ত্র। বিরোধে ওঠা সব কণ্ঠকে নির্বিচারে করা হয়ছিল রোধ। বিরোধী হলেই ঠাঁই ছিল গারদ।

    ক্ষমতা হারানোর ভয় পেলেন ইন্দিরা…

    ১৯৭১ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের রায়বেরিলি কেন্দ্র থেকে জয়ী হন ইন্দিরা গান্ধী। বিপক্ষ প্রার্থী ছিলেন সংযুক্ত সোশ্যালিস্ট পার্টির রাজনারায়ণ। এই ভোটে ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে কারচুপি করে জেতার অভিযোগ আনেন রাজনারায়ণ। সোশ্যালিস্ট পার্টির এই নেতা দ্বারস্থ হন এলাহাবাদ হাইকোর্টের। ইন্দিরার বিরুদ্ধে সরকারি ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচন জেতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এক ঐতিহাসিক রায়ে ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করে তাঁকে ৬ বছর পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি জগমোহনলাল সিনহা।

    ক্ষমতা হারানোর ভয়ে দিশাহারা ইন্দিরা তখন দ্বারস্থ হলেন সুপ্রিম কোর্টের। ১৯৭৫ সালের ২৩ জুন মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে। ২৪ জুন বিচারপতি আইয়ার নির্দেশ দিলেন, যতক্ষণ না চূড়ান্ত রায় আসছে, ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। তবে সাংসদ হিসেবে কাজ চালাতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর বিরোধীরা বলতে শুরু করেন, “চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত ইন্দিরা প্রধানমন্ত্রী থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।” অন্যদিকে, ইন্দিরার পদত্যাগের দাবিতে তখন দেশজুড়ে প্রবল আন্দোলন শুরু করেন জয়প্রকাশ নারায়ণ।

    চুপিসারে মধ্যরাতে জারি এমার্জেন্সি

    ক্ষমতা হারানোর ভয় আরও তাড়া করতে শুরু করে কংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রীকে। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ঠিক একদিন পরেই, ১৯৭৫ সালের ২৫ এবং ২৬ জুন মধ্যরাতে, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করেন যাতে তাঁকে পদত্যাগ করতে না হয়। এই জরুরি অবস্থা চলেছিল ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত! এই গোটা সময় দেশ একটা চরম অন্ধকারময় অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। এই সময়ে গোটা দেশকে কার্যত কারাগারে পরিণত করেছিল কংগ্রেস সরকার। গণতন্ত্র এবং মানুষের মৌলিক অধিকার দুটোই সেদিন কেড়ে নেয় গান্ধী পরিবারের শাসন। সরকার চাইলে যে কোনও ব্যক্তিকে যতদিন খুশি জেলে ভরে রাখতে পারত। সব থেকে বড় কথা, কোনও রকমের শুনানি ছাড়াই কয়েক হাজার সরকার বিরোধী ব্যক্তি জেলে ছিলেন। তাঁদের জামিনের আবেদন করার অধিকারও ছিল না।

    প্রথম গ্রেফতারি ভোর আড়াইটেয়…

    ২৬ তারিখের ভোররাত, অর্থাৎ জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই করা হয় প্রথম গ্রেফতারি। সেই সময়ের বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ প্রভাবিত অর্গানাইজার পত্রিকার প্রধান সম্পাদক এইচ আর মালকানিকে পান্ডারা রোডে তাঁর বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। ওই রাতেই গ্রেফতার করা হয় লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণকে। কেন? কারণ, ইন্দিরা বিলক্ষণ জানতেন, তাঁর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে শুধুমাত্র আরএসএস ও জন সংঘের। তাই, আগেভাগে এদের গারদে পাঠাতে উদ্যত হয়েছিলেন ইন্দিরা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সকল অধ্যাপকদের তালিকা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল হাসানের কাছে চেয়ে নেন ইন্দিরা-পুত্র সঞ্জয় গান্ধী। সেসময় জনসংঘ এবং আরএসএস-এর বহু প্রচারক কার্যকর্তা গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন।

    সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ, বন্ধ নির্বাচন

    শুধু তাই নয়। গণমাধ্যমগুলির ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করে ইন্দিরা-সরকার। তালিকায় ছিল ৩,৮০১ সংবাদপত্র। সূর্য ওঠার আগেই দেশের প্রথমসারির সংবাদপত্রগুলির অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় সরকার। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরালকে নির্দেশ দেন ইন্দিরা। জানিয়ে দেওয়া হয়, সংবাদপত্রের খবর আগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে যাতে আসে। তারপর কোন খবর ছাপা হবে তা সরকার ঠিক করবে। বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশে সমস্ত ধরনের নির্বাচন।

    ভারতের ইতিহাসে কালো অধ্যায়

    এমনকি, ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও জানত না। ২৬ জুন সকাল ৬টার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত ১৫ জনেরও বেশি মন্ত্রী প্রথমবারের জন্য জানতে পারেন, জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে দেশে। এরপরই আকাশবাণীর বেতার ভাষণে জরুরি অবস্থা জারির কথা ঘোষণা করেন ইন্দিরা গান্ধী। পরিসংখ্যান বলছে, সেসময় মোট রাজনৈতিক গ্রেফতারির সংখ্যা ১,১০,৮০৬। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের কোমরে দড়ি পরিয়ে পুলিশ জিপের সঙ্গে বেঁধে রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হত। আর থানার লক আপে চলত অকথ্য পুলিশি অত্যাচার! যার জেরে অকালে এই পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়েছে। শূন্য হয়েছে অনেক মায়ের কোল। মুছেছে অনেক শিঁথির সিঁদুর। এমনকি, দেহ লোপাটও করার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।

    তোষামোদের প্রতিদানে জোড়ে ‘সেকুলার’

    বেঁচে থাকার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। সেটাই তখন ছিল কংগ্রেস সরকারের কুক্ষিগত। ২৮ বছর ধরে তখন দেশ শাসন করছিল কংগ্রেস। কংগ্রেস বললে ভুল হবে। গান্ধী-নেহরু পরিবারের বাবা ও মেয়ের হাতেই ছিল ক্ষমতা। আর এই একটাই পরিবারের হাতে বন্দি ছিল একটা গোটা দেশ! দেশে যখন এই কালো অধ্যায় চলছে, বিরোধী সমস্ত নেতা যখন জেলের ভিতর, তখনই এক প্রকার গায়ের জোরে ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনী এনে প্রস্তাবনায় জোড়া হয় ‘সেকুলার’ শব্দ। কেন? কারণ, তাঁর এই স্বৈরচারে সঙ্গ দিয়েছিল কমিউনিস্ট ও মুসলিম লিগ! তার প্রতিদান স্বরূপ দেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় জোড়া হয় ‘সেকুলার’। প্রায় পৌনে ২ বছর পর, ১৯৭৭ সালের মার্চ মাসে দেশে লোকসভা নির্বাচন হলে, তাতে বিপুল পরাজয় হয় ইন্দিরা এবং কংগ্রেসের। গণতন্ত্রের হাতিয়ারে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বদলা নিয়েছিল দেশবাসী।

    ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ পালন

    সংবিধানকে ভূলুণ্ঠিত করা শাসকদের আসল রূপ যাতে মানুষ মনে রাখে, দেশের এই কালো অধ্যায়কে স্মরণ করে প্রতি-বছর ২৫ জুন ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ পালন করে আসছে বিজেপি। লক্ষ্য, তাঁদের শ্রদ্ধার্ঘ জানানো, যাঁরা জরুরি অবস্থার সময়ে স্বৈরাচারী সরকারের অবর্ণনীয় নির্যাতনের ভুক্তভোগী ছিলেন। সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের লড়াইকে সম্মান করা, যাঁরা প্রাণ বিপন্ন করেও গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করে গিয়েছেন। জরুরি অবস্থা চলাকালীন যারা অমানবিক কষ্ট সহ্য করেছিলেন, তাঁদের অবদানকে স্মরণ করা। প্রতিটি ভারতীয়ের মধ্যে ব্যক্তি স্বাধীনতার অমর জ্যোতিকে বাঁচিয়ে রাখা। যাতে ভবিষ্যতে কংগ্রেসের মতো কোনও একনায়কতান্ত্রিক মানসিকতা এর পুনরাবৃত্তি করতে না পারে।

  • Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ বিজেপি নেতৃত্বের

    Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ বিজেপি নেতৃত্বের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব (PM Modi)। রবিবার ছিল তাঁর ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করেন পদ্ম নেতৃত্ব।

    শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর (Shyama Prasad Mukherjee)

    এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “দেশের মহান সন্তান, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এবং শিক্ষাবিদ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শাহাদত দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তিনি মাতৃভূমির সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর গতিশীল ব্যক্তিত্ব দেশের প্রতিটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।”

    শাহি স্মরণে শ্যামাপ্রসাদ

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা ও আত্মমর্যাদার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন।” তাঁর দাবি, ‘এক নিশান, এক বিধান, এক প্রধান’ স্লোগান তুলে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে ধরে রাখার লড়াইয়েও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। শাহ বলেন, “সংবিধান সভার সদস্য হিসেবে ভাষা ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষের সামনে একটি বিকল্প রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরেছিলেন।”

    শ্রদ্ধা জানালেন নাড্ডাও

    শ্যামাপ্রসাদকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাও। দিল্লিতে দলের সদর দফতরে শ্যামাপ্রসাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন তিনি। দলীয় কর্মীদের মধ্যে গাছের চারাও বিলি করেন নাড্ডা। তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় ঐক্যের স্থপতি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ত্যাগ ও আদর্শ আগামিদিনেও দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করবে (Shyama Prasad Mukherjee)।”

    জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা

    প্রসঙ্গত, শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা, যা পরবর্তীকালে বিজেপির আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে পরিচিত হয়। স্বাধীনতার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ১৯৫০ সালে দিল্লি চুক্তি নিয়ে মতবিরোধের জেরে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। দলের প্রথম সভাপতি হন শ্যামাপ্রসাদই। ১৯৫৩ সালে (PM Modi) জম্মু-কাশ্মীর সফরে গিয়েছিলেন তিনি। ১১ মে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। বন্দি ছিলেন জেলে। সেখানেই ওই বছরেরই ২৩ জুন মৃত্যু হয় তাঁর। শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু নিয়ে আজও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে (Shyama Prasad Mukherjee)।

     

  • Osman Faizan Ali: নিট ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, চর্চায় প্রবাসী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলি

    Osman Faizan Ali: নিট ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, চর্চায় প্রবাসী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট (NEET) সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন করে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল (Osman Faizan Ali)। এই বিক্ষোভকে ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলির ভূমিকা নিয়ে।

    ককরোচ জনতা পার্টি (Osman Faizan Ali)

    প্রতিবাদ কর্মসূচিটি হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) উদ্যোগে। আন্দোলনটিকে ছাত্র-যুবদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিভিন্ন পোস্টার ও প্রচারসামগ্রীতে ওসমান ফয়জান আলির ছবি দেখা গিয়েছে। বেশ কয়েকটি প্ল্যাকার্ডে তাঁর পরিচয় হিসেবে লেখা ছিল ‘ইন্ডিয়ান ওসমান ফয়জান আলি – ফ্রম ইউএসএ’। বিক্ষোভকারীর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, তাঁদের অনেকেই পোস্টারে থাকা ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। কয়েকজন আবার জানান, সংগঠকদের কাছ থেকে তাঁরা পোস্টার পেয়েছেন এবং ছবিতে থাকা ব্যক্তির সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা নেই।

    কে এই ওসমান ফয়জান আলি?

    জানা গিয়েছে, ওসমান মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘@bbm_india_’-এ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ও নিট ইস্যু নিয়ে একাধিক ভিডিও এবং পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। এসব কনটেন্টে আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিতও উঠে এসেছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। ১ জুন ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে মন্তব্য করতে গিয়ে ওসমান বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য আন্দোলনকারীদের মধ্যে আবেগ ও উত্তেজনা উসকে দিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। যদিও ভিডিওতে সরাসরি কোনও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ডাক দেওয়া হয়নি (Osman Faizan Ali)। সম্প্রতি প্রকাশিত আরও একটি ভিডিওতে তিনি দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান। তবে সেই ভিডিওতেও আন্দোলন আটকে দিলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

    ওসমানের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান

    ওসমানের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘Button Ballot Movement by Osman Faizan Ali’-এর পুরনো কিছু কনটেন্টে দেখা গিয়েছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি হায়দরাবাদ ও সেকেন্দ্রাবাদের ভোটারদের এআইএমআইএম (AIMIM) এবং কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থন করার ডাক দিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যে বিজেপিকে পরাজিত করার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ককরোচ জনতা পার্টি-সমর্থন এবং অতীতের রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন সময়ে বিজেপি-বিরোধী অবস্থানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে অবশ্য ওসমানের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি (CJP)।

    বিশ্লেষকদের বক্তব্য

    বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমার যুগে দ্রুত বদলাচ্ছে রাজনৈতিক আন্দোলনের চরিত্র। এখন দেশের বাইরে অবস্থান করেও কোনও ব্যক্তি অনলাইনের মাধ্যমে আন্দোলনের বয়ান গঠন, জনমত প্রভাবিত করা এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচার করার সুযোগ পাচ্ছেন (Osman Faizan Ali)। যন্তর মন্তরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব কতটা, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা প্রচারসামগ্রীর উৎস সম্পর্কে কতটা সচেতন, এবং সর্বোপরি, বিদেশে থেকে অনলাইন সক্রিয়তা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনায় অনলাইন প্রচার, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং জনআন্দোলনের সম্পর্ক নিয়ে (CJP) আরও বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (Osman Faizan Ali)।

    অতএব, সাধু সাবধান!

     

  • TMC Revolt: তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! ২০ সাংসদের বিদ্রোহে একদা ‘নিষ্ক্রিয়’ এনসিপিআই এখন লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    TMC Revolt: তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! ২০ সাংসদের বিদ্রোহে একদা ‘নিষ্ক্রিয়’ এনসিপিআই এখন লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন এবং বিস্ময়কর ঘটনায় বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলের লোকসভার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করে এক অতি-অপরিচিত রাজনৈতিক দল, ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন তৃণমূলের একাধিক প্রবীণ ও প্রভাবশালী সাংসদ। তাঁরা ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক আসন বিন্যাস এবং নতুন দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জমা দিয়েছেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে আত্মপ্রকাশের পরই এই গোষ্ঠী এনডিএ (NDA) জোটে যোগদানের ঘোষণা করেছে। ফলে শুধু তৃণমূল নয়, জাতীয় স্তরেও বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    কে এই এনসিপিআই?

    বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন ঠিকানা হওয়া ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI) নামটি রবিবার দুপুর পর্যন্ত কার্যত অজানাই ছিল। রাজনৈতিক মহলের অধিকাংশ সদস্যই এই দলের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এমনকি ত্রিপুরার একাধিক রাজনৈতিক নেতা দাবি করেছেন, তাঁরা কোনওদিন এই দলের নামও শোনেননি। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, এনসিপিআই একটি নিবন্ধিত অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। ২০২২-২৩ সালের মধ্যে দলটি নিবন্ধিত হলেও এটি কোনও স্বীকৃত জাতীয় বা আঞ্চলিক দল নয় এবং নির্বাচন কমিশনের তরফে তাদের কোনও স্থায়ী নির্বাচনী প্রতীকও বরাদ্দ করা হয়নি। দলের সদর দফতর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বাঁকড়ায় অবস্থিত। অর্থাৎ বিভিন্ন মহলে প্রচারিত ধারণার বিপরীতে, দলটির মূল ভিত্তি ত্রিপুরা নয়, পশ্চিমবঙ্গেই।

    মাত্র ৮২২ ভোট থেকে লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    এনসিপিআই-এর অতীত নির্বাচনী রেকর্ড অত্যন্ত সীমিত। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে দলটি মাত্র দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। কৈলাসহর কেন্দ্রের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলি পান ২৮৬ ভোট এবং চাওমনু কেন্দ্রের প্রার্থী বরজেদা ত্রিপুরা পান ৫৩৬ ভোট। অর্থাৎ পুরো দল মিলিয়ে মোট ভোট ছিল মাত্র ৮২২। নির্বাচন কমিশনের ফলাফলে দলটির সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে ‘এনসিপিএন’ ব্যবহার করা হয়েছিল। কমিশনের নিজস্ব কোডিং ব্যবস্থার কারণে অনেক সময় দলের প্রচলিত সংক্ষিপ্ত নামের পরিবর্তে আলাদা কোড ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তৃণমূলের ১৯-২০ জন সাংসদ যোগ দেওয়ায় কার্যত রাতারাতি লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে এনসিপিআই। একইসঙ্গে এনডিএ-র অভ্যন্তরেও এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

    কেন বিজেপিতে সরাসরি যোগ দিলেন না বিদ্রোহীরা?

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদদের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম আইনি ও কৌশলগত হিসাব। ভারতের দশম তফশিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে অথবা দলের হুইপ অমান্য করলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হতে পারে। তবে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে। যদি কোনও আইনসভা দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটিকে দলত্যাগ নয়, বৈধ ‘মার্জার’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সংখ্যা এই দুই-তৃতীয়াংশের সীমা অতিক্রম করায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ আইন প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। অন্যদিকে নতুন দল গঠন করলে এই সুরক্ষা পাওয়া যেত না। ফলে একটি বিদ্যমান নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে বেছে নেওয়া ছিল তাঁদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর পথ।

    এনসিপিআই-কে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে বড় কৌশল

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপিআই-এর মতো কার্যত নিষ্ক্রিয় ও নেতৃত্বহীন একটি দলকে বেছে নেওয়ার মধ্যে আরও বড় রাজনৈতিক সুবিধা রয়েছে। যদি বিদ্রোহীরা সরাসরি বিজেপি বা অন্য কোনও বড় এনডিএ শরিক দলে যোগ দিতেন, তাহলে তাঁদের প্রতিষ্ঠিত সাংগঠনিক কাঠামোর অধীনেই কাজ করতে হত। কিন্তু এনসিপিআই-এর ক্ষেত্রে বাস্তবিক অর্থেই পুরো দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ আইনি সুরক্ষা বজায় রেখেই তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়, সংগঠন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে এনডিএ-র অংশ হিসেবেও কাজ করতে পারবেন। এক কথায় আইনি জট এড়াতেই আলাদা দলে মিশে যাওয়ার পদক্ষেপ।

    তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কী?

    এই বিদ্রোহের প্রভাব শুধু দিল্লির সংসদেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। সূত্রের দাবি, কলকাতাকেন্দ্রিক এক বৃহৎ গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই দলের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রায় ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। যদি বিধায়করাও একই পথে হাঁটেন এবং এনসিপিআই-তে যোগ দেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের শক্তি নাটকীয়ভাবে কমে যেতে পারে। অন্যদিকে এনডিএ-র রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্যে অভূতপূর্বভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

    ‘‘তৃণমূল’’ নাম ও প্রতীক নিয়ে নতুন লড়াই?

    সবচেয়ে আকর্ষণীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দলীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে। যেহেতু বিদ্রোহী শিবিরের দাবি হবে যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে এসেছে, তাই ভবিষ্যতে ‘‘তৃণমূল’’ নাম, প্রতীক এবং সংগঠনের প্রকৃত উত্তরাধিকার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে শিবসেনা, এনসিপি-সহ একাধিক দলের ক্ষেত্রে প্রতীক ও দলের মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াই দেখা গেছে। সেই নজির অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গেও অনুরূপ সংঘাত দেখা দিতে পারে।

    জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

    যদি এই পরিস্থিতি বাস্তবে পূর্ণতা পায়, তাহলে এটি স্বাধীন ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় দলীয় ভাঙন হিসেবে চিহ্নিত হবে। মাত্র কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত, নির্বাচনে মাত্র ৮২২ ভোট পাওয়া একটি দল হঠাৎ করেই লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হবে— এমন নজির ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রায় অদেখা। একই সঙ্গে এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র, বিরোধী জোট রাজনীতি এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সমীকরণকেও আমূল বদলে দিতে পারে। বর্তমানে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন একটাই প্রশ্নে— এই সাংসদদের পদক্ষেপের পর কি তৃণমূলের বিধায়করাও একই পথে হাঁটবেন, নাকি দলটি এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে?

  • Rebel TMC MPs: তৃণমূলে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত! ১৯ সাংসদের সমর্থন নিয়ে সোমে স্পিকারের দোরে যাওয়ার পরিকল্পনা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের

    Rebel TMC MPs: তৃণমূলে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত! ১৯ সাংসদের সমর্থন নিয়ে সোমে স্পিকারের দোরে যাওয়ার পরিকল্পনা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও প্রবল হল তৃণমূল কংগ্রেসে (Rebel TMC MPs) বড়সড় ভাঙনের জল্পনা। দলের ২৮ লোকসভা সাংসদের মধ্যে ১৯ জনের সমর্থন পাওয়ার দাবি করে বিদ্রোহী শিবির জানিয়েছে, তারা সোমবারই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) সঙ্গে দেখা করে নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাইবে। তারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদনও জানাবে।

    বিদ্রোহীদের বক্তব্য (Rebel TMC MPs)

    বিদ্রোহী সাংসদদের অন্যতম জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার দাবি, তাঁদের গোষ্ঠী কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভায় নেতা এবং শতাব্দী রায়কে উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাবে। তাঁর বক্তব্য, রবিবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিদ্রোহী সাংসদদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বসুনিয়ার দাবি, এখনও পর্যন্ত ১৯ জন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন এবং আরও কেউ যোগ দিতে চাইলে, দরজা খোলা রয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য, এনডিএর অংশ হয়ে সংসদে শাসক জোটের পাশে বসা এবং উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রের পাশে থাকা নিশ্চিত করা।

    অভিষেকের জন্যই দল গাড্ডায়!

    তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। বসুনিয়ার কথায়, “আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। পরে দল কর্পোরেট সংস্থার মতো পরিচালিত হতে শুরু করে এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।” এই কারণেই বহু নেতা ও সাংসদ ক্ষুব্ধ বলেও দাবি (Rebel TMC MPs) তাঁর। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে এবং কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার রয়েছে। ফলে নিজেদের লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের সহযোগিতা পাওয়া জরুরি বলেই তাঁরা এনডিএর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বসুনিয়া এও (Om Birla) জানান, প্রথমে স্পিকারের কাছে আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের কাছেও ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানানো হবে (Rebel TMC MPs)।

    বিদ্রোহ চারিদিকে!

    এদিকে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগেই তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নেতাদের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে। তৃণমূলের আর এক বর্ষীয়ান নেতা অনুব্রত মণ্ডলও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। ছাব্বিশের নির্বাচনে দলের ভরাডুবির জন্য রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাককেও দায়ী করেছেন (Om Birla) তিনি। উল্লেখ্য, বিদ্রোহী শিবিরের তরফে এসব দাবি করা হলেও (Rebel TMC MPs), শনিবার দুপুর পর্যন্তও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি তৃণমূলের পক্ষ থেকে।

     

  • TMC Crisis: তৃণমূলে মহাভাঙন! এনডিএ-তে যোগদানের আবেদন ২১ বিক্ষুব্ধ সাংসদের, দিল্লিতে চাপে মমতা-অভিষেক

    TMC Crisis: তৃণমূলে মহাভাঙন! এনডিএ-তে যোগদানের আবেদন ২১ বিক্ষুব্ধ সাংসদের, দিল্লিতে চাপে মমতা-অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছিল, তা এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হল। দলের ২১ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ এনডিএ-র শরিক হতে চেয়ে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাংগঠনিক সংকট বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সোমবার সকালে দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকের পরই লোকসভার স্পিকারের দফতরে চিঠি জমা পড়ে বলে জানা গিয়েছে।

    বিজেপিতে নয়, এনডিএ-তে যোগ দিতে চান বিদ্রোহীরা

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতে যোগদানের কথা বলেননি। তাঁদের দাবি, তাঁরা তৃণমূলের একটি পৃথক সংসদীয় ব্লক হিসেবে এনডিএ জোটের অংশ হতে চান। বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম সামনে এসেছে। উপদলনেতা হিসেবে থাকছেন শতাব্দী রায়। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পাঠানো চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁরা দল পরিবর্তন করছেন না, বরং সংসদে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আবেদন গৃহীত হলে কার্যত লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান সংসদীয় দলের অস্তিত্ব ভেঙে যাবে এবং একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম হবে।

    দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতেই কি সংখ্যার হিসাব?

    ভারতের দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও সংসদীয় দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য আলাদা হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আইনগত সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। সেই হিসেবে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। সূত্রের দাবি, প্রথমে ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে ছিলেন। পরে আরও একজন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় সংখ্যা বেড়ে ২১-এ পৌঁছেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    স্পিকারের দফতরে জমা পড়ল চিঠি

    সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা দিল্লিতে উপস্থিত না থাকায় তাঁর অফিসে চিঠিটি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্পিকার অন্য একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজধানীর বাইরে রয়েছেন। চিঠির পরবর্তী সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে এখন জল্পনা শুরু হয়েছে। স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান।

    বিদ্রোহী শিবিরে কারা?

    এখনও পর্যন্ত যে নামগুলি সামনে এসেছে, সেগুলি হল—

    • ● কাকলি ঘোষ দস্তিদার
    • ● পার্থ ভৌমিক
    • ● দেব (দীপক অধিকারী)
    • ● জুন মালিয়া
    • ● শর্মিলা সরকার
    • ● খলিলুর রহমান
    • ● অসিত মাল
    • ● অরূপ চক্রবর্তী
    • ● প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ● শতাব্দী রায়
    • ● কালিপদ সোরেন
    • ● সুখেন্দু শেখর রায় (পদত্যাগ করেছেন)

    এছাড়াও আরও কয়েকজন সাংসদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সব নাম এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

    সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফায় চরম অস্বস্তি

    এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি শুধু রাজ্যসভার সদস্যপদই নয়, দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ পদত্যাগপত্রে গত পনেরো বছরের শাসনকালে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

    চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন যে—

    • ● রাজ্যে ব্যাপক দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে;
    • ● নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে;
    • ● শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি ঘটেছে;
    • ● শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে;
    • ● আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

    সুখেন্দুশেখরের মতে, এই কারণগুলির ফলেই সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে জনগণ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন এবং বিজেপিকে ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রদান করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, নবগঠিত সরকার ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোতে শুরু করেছে এবং জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১২-তে নেমে এসেছে।

    দিল্লিতে থেকেও ভাঙন আটকাতে ব্যর্থ মমতা-অভিষেক?

    ঘটনাচক্রে, এই সংকটের সময়েই দিল্লিতে রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডি জোটের বৈঠকে অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক বৈঠকও করছিলেন তাঁরা। বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন করে জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা শুরু করেছিলেন। কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়েই দলের লোকসভার বড় অংশের সাংসদ যদি এনডিএ-র সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    জাতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

    বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। যদি তাঁদের মধ্যে ২১ জন আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে এনডিএ-র শরিক হন, তাহলে সংসদে তৃণমূলের শক্তি কার্যত ভেঙে পড়বে।

    এর ফলে—

    • ● লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যাবে।
    • ● ইন্ডি জোটে দলের গুরুত্ব হ্রাস পেতে পারে।
    • ● জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
    • ● বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সংসদে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছতে পারে।

    রাজনৈতিক তাৎপর্য

    তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে দল একাধিক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তবে লোকসভায় এত বড় মাপের সাংসদ বিদ্রোহের ঘটনা নজিরবিহীন। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই বিদ্রোহ শুধুমাত্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়ে থাকবে, নাকি তা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর স্পিকারের সিদ্ধান্ত, বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য পাল্টা কৌশলের দিকে।

  • Grok: ‘পরিবারতন্ত্র নয়, তথ্যই শেষ কথা’; এলন মাস্কের ‘গ্রক’ এআই-এর তথ্যে রাহুল গান্ধীর চেয়ে অনেক এগিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি

    Grok: ‘পরিবারতন্ত্র নয়, তথ্যই শেষ কথা’; এলন মাস্কের ‘গ্রক’ এআই-এর তথ্যে রাহুল গান্ধীর চেয়ে অনেক এগিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র বনাম কাজের নিরিখে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে এবার প্রবেশ করল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এলন মাস্কের মালিকানাধীন মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এর নিজস্ব এআই চ্যাটবট ‘গ্রক’-এর (Grok) একটি উত্তর বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে তুলনামূলক এক প্রশ্নের উত্তরে মোদিকেই এগিয়ে রেখেছে গ্রকের তথ্য ভিত্তি।

    ঘটনাটি ঠিক কী (Grok)?

    সম্প্রতি একজন ব্যবহারকারী গ্রক-এর (Grok) কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, ভারতের প্রগতি এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদি এবং রাহুল গান্ধীর মধ্যে কার অবদান বা গ্রহণযোগ্যতা বেশি? এর উত্তরে গ্রক (Grok) কোনও ব্যক্তিগত মতামত না দিয়ে বিভিন্ন ডেটা বা তথ্যের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে।

    Grok-এর বিশ্লেষণে যা উঠে এসেছে

    উন্নয়ন ও অর্থনীতি

    গ্রক (Grok) তার উত্তরে উল্লেখ করেছে যে, গত এক দশকে ভারতের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল ইন্ডিয়া অভিযান এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে মোদি সরকারের সাফল্য পরিসংখ্যানগতভাবে প্রমাণিত।

    পরিবারতন্ত্র বনাম যোগ্যতা

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, গ্রক (Grok) রাহুল গান্ধীকে ‘পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির’ (Dynastic Politics) উত্তরাধিকারী হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি মোদিকে একজন ‘স্বনির্ভর’ এবং ‘ডেটা-নির্ভর’ নেতা হিসেবে তুলে ধরেছে।

    গ্রক-এর জনপ্রিয়তা ও জনমত

    সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগের নিরিখেও তথ্যের ভিত্তিতে মোদিকে অনেক বেশি রেটিং দিয়েছে এই এআই (AI)।

    রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

    বিজেপি এই প্রতিবেদনটিকে তাদের প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির নিরপেক্ষ ডেটাও মোদিকে শ্রেষ্ঠ বলছে, সেখানে বিরোধীদের পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ধরণের এআই (AI) মডেলের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, অ্যালগরিদম বা ডেটা অনেক সময় পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে।

    প্রযুক্তির যুগে রাজনীতির লড়াই আর কেবল জনসভায় সীমাবদ্ধ নেই, তা এখন এআই (AI)-এর ল্যাবেও পৌঁছে গেছে। এলন মাস্কের গ্রক (Grok) যেভাবে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে, তা আগামী নির্বাচনে এবং রাজনৈতিক বিতর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

  • Atal Bihari Vajpayee: ‘অটল’ ছিল তাঁর চরিত্র, বিশ্বাস, আচরণ! জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ভারতীয় রাজনীতির এক অবিচল নক্ষত্রকে

    Atal Bihari Vajpayee: ‘অটল’ ছিল তাঁর চরিত্র, বিশ্বাস, আচরণ! জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ভারতীয় রাজনীতির এক অবিচল নক্ষত্রকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতরত্ন অটল বিহারি বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) ছিলেন ভারতীয় রাজনীতির এমন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যাঁর পরিচয় ক্ষমতা বা পদে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আদর্শ, মানবিকতা ও দেশভক্তির দ্বারা গড়ে উঠেছিল। তাঁর নামের মতোই ‘অটল’ ছিল তাঁর চরিত্র—দৃঢ় বিশ্বাস, শালীন আচরণ এবং সহমর্মিতায় ভরপুর এক রাষ্ট্রনায়ক। রাজনৈতিক মতভেদ সত্ত্বেও বিরোধীরাও তাঁকে সম্মান করতেন। প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। আস্থা ভোটের আগে লোকসভায় এক অবিস্মরণীয় ভাষণ দিলেন অটলজি। অথবা, তাঁর কাব্যচর্চাকে কটাক্ষ করে কংগ্রেসের তৎকালীন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী বললেন, শুধু কবিতা লিখলে দেশ চলে না। একটুও মেজাজ না হারিয়ে ততোধিক তীক্ষ্ণ শ্লেষে তিনি বললেন, ঠিকই, শুধু কবিতা লিখলে দেশ চলে না, লিখে রাখা ভাষণ জনসভায় গিয়ে পড়লে দেশ দৌড়য়। তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এমন নানা মুহূর্তের কথা দেশবাসীর মুখে মুখে আজও ঘোরে।

    জন্ম-বড় হওয়া, রাজনীতিতে যোগ

    ১৯২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর গ্বালিয়রে জন্ম অটল বিহারী বাজপেয়ীর (Atal Bihari Vajpayee)৷ অটল বিহারীর পৈত্রিক গ্রাম যদিও ছিল উত্তর প্রদেশের আগ্রা জেলার বটেশ্বরে। সেখান থেকে মধ্য়প্রদেশে গিয়ে বসবাস শুরু করেন অটল বিহারীর ঠাকুরদা শ্যামলাল বাজপেয়ী। তাঁর মা কৃষ্ণা দেবী, বাবা কৃষ্ণবিহারী বাজপেয়ী৷ বাবা ছিলেন কবি, পেশায় স্কুলশিক্ষক৷ কবিতায় হাতেখড়ি বাবার কাছেই৷ গ্বালিয়রের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতক হন। পরে কানপুরের ডিএভি কলেজ থেকে স্নাতকোত্তরে উত্তীর্ণ হন প্রথম শ্রেণিতে। ইংরেজি, হিন্দি, সংস্কৃত— বেশ তরুণ বয়সেই তিনটি ভাষায় পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন বাজপেয়ী। রাজনীতি বোধ হয় ছিল তাঁর মজ্জায়। ছাত্রাবস্থাতেই ‘আর্যসমাজ’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। বাবাসাহেব আপ্তে-র অনুপ্রেরণায় ১৯৩৯ সালে যোগ দেন আরএসএসে। কয়েক বছরের মধ্যেই হয়ে ওঠেন সঙ্ঘের প্রচারক।

    স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ

    দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও যোগ দিয়েছিলেন অটল বিহারী ((Atal Bihari Vajpayee)৷ ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন৷ জেল খেটেছিলেন ২৩ দিন। ১৯৫১ সালে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় অটল যোগ দেন ভারতীয় জনসঙ্ঘে৷ দলের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রিয়পাত্রও হয়ে ওঠেন শীঘ্রই৷ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অন্ধ ভক্ত ছিলেন অটলবিহারী। কাশ্মীরে যেতে বিশেষ অনুমতি পত্রকে বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতায় ১৯৫৩ সালে আমরণ অনশনে বসেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। একই সঙ্গে অনশনে বসেছিলেন অটল বিহারীও। এই আন্দোলন চলাকালীনই শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু হলে ভেঙে পড়েন অটল বিহারী। ১৯৫৭ সালে উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর থেকে বাজপেয়ী প্রথম বার লোকসভায় নির্বাচিত হন৷ ১৯৬৮ সালে ভারতীয় জনসঙ্ঘের সর্বভারতীয় সভাপতি হন।

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে প্রথম হিন্দিতে ভাষণ

    হিন্দিতে তাঁর দক্ষতার জন্য সংসদে বার বার প্রশংসিত হয়েছে বাজপেয়ীর বক্তৃতা। এমনকী, অটল বিহারী একদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে ভবিষ্যদ্বাণীও করেছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। প্রথম ব্যক্তি হিসাবে বাজপেয়ীই রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে হিন্দিতে ভাষণ দেন। হিন্দির প্রসারে সব সময় সক্রিয় ছিলেন তিনি। উত্তর প্রদেশের সঙ্গে আত্মার যোগাযোগ থাকলেও গোটা দেশে সমান জনপ্রিয় ছিলেন অটল বিহারী। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি গোটা জীবনে চারটি আলাদা রাজ্য থেকে ভোটে জিতে সাংসদ হয়েছেন। উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাট থেকে সাংসদ ছিলেন তিনি।

    বিজেপির প্রথম সভাপতি

    ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার অবসান। ইন্দিরা-বিরোধী ঐক্য জোরদার করতে চরণ সিং-এর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় লোক দল এবং মোরারজি দেশাইদের কংগ্রেস (ও) এবং বাজপেয়ী-আডবাণীদের জনসঙ্ঘ মিশে যায়, তৈরি হয় জনতা পার্টি। নির্বাচনে ভরাডুবি হয় কংগ্রেসের। মোরারজি দেশাইয়ের প্রধানমন্ত্রিত্বে দেশে প্রথম অকংগ্রেসি মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। অটল বিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) সে মন্ত্রিসভায় বিদেশমন্ত্রী হন। নানান মতাদর্শের ‘জগাখিচুড়ি’ জনতা পার্টি অবশ্য বেশি দিন ঐক্যবদ্ধ থাকেনি। ১৯৮০ সালে সাবেক জনসঙ্ঘীরা বেরিয়ে যান জনতা পার্টি থেকে। তৈরি হয় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), যার প্রথম সভাপতি হন বাজপেয়ী।

    প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী

    ১৯৯৬ সালে লোকসভা নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি। দেশের দশম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন অটলবিহারী৷ কিন্তু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না দলের। ম্যাজিক ফিগার জোগাড়ও করতে পারেননি বাজপেয়ী। ১৩ দিনে পতন ঘটে বাজপেয়ী সরকারের। কিন্তু ইস্তফা দেওয়ার আগে যে ভাষণ অটল দিয়েছিলেন লোকসভায়, তা সংসদে প্রধানমন্ত্রীদের দেওয়া স্মরণীয় ভাষণগুলোর অন্যতম হয়ে রয়ে গিয়েছে। বাজপেয়ী সরকার টেকেনি ঠিকই। কিন্তু কংগ্রেস সমর্থন নিয়ে তৈরি হওয়া সংযুক্ত মোর্চা সরকারও বছর দু’য়েকের বেশি টিকতে পারেনি। ফলে ১৯৯৮ সালে ফের নির্বাচনের মুখোমুখি হয় দেশ। আরও বেশি আসন নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি। ফের সরকার গঠন করে এনডিএ। কিন্তু সে বারও পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় থাকতে পারেননি বাজপেয়ী। তেরো মাসে সরকার পড়ে যায়। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনের রায়ও ছিল বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের পক্ষেই। তৃতীয় বার সুযোগ পেয়ে প্রথম অকংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড গড়েন বাজপেয়ী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয় কার্যকালে অটলবিহারী বাজপেয়ী অনেকগুলি ক্ষেত্রে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। দেশের আর্থিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছিল। রাজকোষ দ্রুত ফুলে-ফেঁপে উঠেছিল। দেশ জুড়ে পরিকাঠামো উন্নয়ন গতি পেয়েছিল।

    তাঁর মুখচ্ছবি সহাস্য

    এক টালমাটাল সন্ধিক্ষণে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন— এক দিকে জোট রাজনীতির উত্থান, অন্য দিকে দেশের অর্থনীতিতে বড়সড় বদল আনার প্রক্রিয়া। কিন্তু হাজার ঝড়ঝাপ্টা সামলেও অধিকাংশ অবকাশে তাঁর মুখচ্ছবি সহাস্য। আর সর্বোপরি ছিল তাঁর অসামান্য বাগ্মিতা এবং পাণ্ডিত্য। ২৪টি দল নিয়ে গঠিত এনডিএ সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সমন্বয় ও সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর সময়েই জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ও গোল্ডেন কোয়াড্রিল্যাটারালের মাধ্যমে দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসে।

    অসাধারণ কূটনীতিক

    রাজনীতির মতো, কূটনীতিতেও ভারসাম্যের পরিচয় দিতে চেয়েছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee)। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোর লক্ষ্যে বড়সড় পদক্ষেপ করেছিল ভারত। তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে সঙ্গে নিয়ে ভারত-পাক বাসযাত্রার সূচনা করেছিলেন বাজপেয়ী। বলেছিলেন, ‘‘বন্ধু বদলানো যায়৷ কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো যায় না।’’ কিন্তু কার্গিলে পাক অনুপ্রবেশ ও দখলদারির খবর পেয়েই সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিতে দ্বিধা করেননি তিনি। অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে পোখরানে পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটায় ভারত। তাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয় নয়াদিল্লিকে। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে ভারতের অভূতপূর্ব সুসম্পর্কের দরজাটাও খুলে দিয়ে যান অটলবিহারী বাজপেয়ী-ই। তাঁর আমলেই ভারত সফরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন। ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা হয়ে যায় ক্লিন্টনের সেই ভারত সফরেই।

    ঐক্য ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রতীক

    জনসংঘ ও পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টিকে আদর্শিক শক্তি জোগানো এই নেতা সংসদীয় গণতন্ত্রে শালীনতা ও যুক্তিবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সংসদে তাঁর বক্তৃতা ছিল যুক্তি, রসবোধ ও সৌজন্যের অনবদ্য মিশ্রণ। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাজপেয়ী লোকসভায় ১০ বার এবং রাজ্যসভায় ২ বার নির্বাচিত হন। জাতীয় স্বার্থকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার এক উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি হয় যখন প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিংহ রাও বিরোধী দলের নেতা হয়েও অটল বিহারি বাজপেয়ীকে জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান। কাশ্মীর ও মানবাধিকার ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর সংযত অথচ দৃঢ় বক্তব্য ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। মতাদর্শগত দিক থেকে বাজপেয়ীর চেয়ে অনেকটা দূরত্বে অবস্থান করা মনমোহন সিং বলেছিলেন, ‘‘অটল বিহারী বাজপেয়ী হলেন ভারতীয় রাজনীতির ভীষ্ম।’’ দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট নয়াদিল্লির এইমসে তাঁর মৃত্যু হয়। ‘সদৈব অটল’ নামে তাঁর স্মৃতিসৌধ আজও তাঁর অবিচল আদর্শের প্রতীক।

     

     

     

     

LinkedIn
Share