Tag: Indians Missing

  • Nepal Floods: নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়-সহ ৩৮৪ পর্যটক

    Nepal Floods: নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়-সহ ৩৮৪ পর্যটক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Floods) অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ। নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি বলে জানিয়েছে নেপাল পর্যটন বোর্ড। নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বিদেশিদের তালিকায় রয়েছেন ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ভোতে কোশি নদীর জল আচমকা বেড়ে গিয়ে রাসুয়া, ধাদিং এবং কাঠমান্ডুর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নুয়াকোট জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াল বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোতে নদীর আশপাশের (Indians Missing) বহু বসতি, বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ভেসে গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, নদীতীরবর্তী একাধিক এলাকায় যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বন্যায় নেপালে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের কর্তারা। নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়দের পাশাপাশি রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকও। ফলে এই বিপর্যয়ের প্রভাব শুধু নেপালের পর্যটন ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, একাধিক দেশের নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    নদীর জল বাড়তেই তছনছ বিস্তীর্ণ এলাকা (Nepal Floods)

    স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোতে কোশি নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ার পর প্রবল স্রোত আছড়ে পড়ে রাসুয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। নদী তীরবর্তী বসতিগুলির বহু বাড়িঘর মুহূর্তের মধ্যে জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু যানবাহন স্রোতে ভেসে যায়, ভেঙে পড়ে একটি আস্ত ধাতব সেতু। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নদীর দু’পাশে থাকা গোটা গোটা বসতি বানের জলে তলিয়ে যায়। টেলিভিশন সম্প্রচারে দেখা গিয়েছে, বহু বাড়ি চারদিক থেকে বন্যার জলের মধ্যে আটকে গিয়েছে। কোথাও আবার প্রবল স্রোতে যানবাহন ভেসে যাচ্ছে, কোথাও ভেঙে পড়ছে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ (Indians Missing) সেতু। রাসুয়া জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নদীর আশপাশে বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এখানে ব্যাপক প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।” তাঁর এই সতর্কবার্তার পর নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিতে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে (Nepal Floods)।

    আত্মীয় নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আতঙ্ক

    বন্যার ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে রাসুয়ার এক স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বি কে জানিয়েছেন, নদীর পাশের বহু বসতি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “যেদিকেই তাকাই, সর্বত্র ধ্বংসের চিত্র দেখতে পাচ্ছি। নদীর পাশের বসতিগুলি সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। আমার নিজের পাঁচজন আত্মীয়ও নিখোঁজ।” এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্ধানে উদ্বেগের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন তাঁদের পরিবারগুলি। বিশেষ করে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে আসার পর তাঁদের পরিবারের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজে বাধা

    নেপালের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে যেমন জলস্তর ক্রমেই বাড়ছে, অন্যদিকে দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছতে পারছে না। নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানিয়েছেন, শিয়াপ্রু বেসি এবং তিমুরে এলাকায় বন্যার জল না কমা পর্যন্ত উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আকাশপথে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানোর ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে (Nepal Floods)। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকস্মিকভাবে এতটা বন্যা কেন হল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই একই নদীতে গত বছরও ভয়াবহ হড়পা বান হয়েছিল। পরবর্তী তদন্তে সেই বন্যার সঙ্গে একটি হিমবাহ-হ্রদের জল বেরিয়ে যাওয়ার যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছিল। এবারের ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রাকৃতিক কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    নেপালের পাশাপাশি প্রতিবেশী তিব্বতেও বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। নেপাল সীমান্তের কাছে গিরং এলাকায় প্রবল বন্যার সঙ্গে কাদামাটির ধস নামে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেখানে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করেছেন (Indians Missing)। কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। ফলে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও সামনে আসেনি।

    ভারতীয় পর্যটকদের খোঁজে জরুরি সহায়তা

    নিখোঁজদের তালিকায় ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় থাকায় তাঁদের পরিবারগুলির জন্য জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছে নেপাল পর্যটন বোর্ড। কোনও পর্যটকের বিষয়ে তথ্য জানতে বা সহায়তা চাইতে সংশ্লিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

    নেপাল পর্যটন বোর্ডের জরুরি সহায়তা নম্বর: ১২৩৪

    পর্যটক সহায়তা নম্বর: ১১৪৪

    পর্যটক পুলিশের নম্বর: ৯৮৫১২৮৯৪৪৫

    নেপাল প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গমতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকায় এখনও পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। উদ্ধারকারী দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনোর চেষ্টা করছে (Nepal Floods)।

    নিখোঁজ ৩৮৪ জন

    নেপালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন অঞ্চলগুলির মধ্যে রাসুয়া ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে এই বন্যা শুধু স্থানীয় জনজীবনেই আঘাত করেনি, পর্যটন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর ক্ষতির কারণে আগামী দিনে উদ্ধার ও ত্রাণকাজের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে (Indians Missing)। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিখোঁজ ৩৮৪ জনকে নিরাপদে খুঁজে বের করা। বিশেষ করে ভারতীয় পর্যটক ও অনাবাসী ভারতীয়দের পরিবারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন এবং তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জলস্তর কমার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে (Nepal Floods)।

     

LinkedIn
Share