Tag: Indira Gandhi

Indira Gandhi

  • Emergency History: জরুরি অবস্থা নিয়ে নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অধ্যায়, গণতন্ত্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরল এনসিইআরটি

    Emergency History: জরুরি অবস্থা নিয়ে নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অধ্যায়, গণতন্ত্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরল এনসিইআরটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় পাঁচ দশক আগে ভারতে জারি হওয়া জরুরি অবস্থা নিয়ে প্রথমবারের মতো নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে বিস্তারিত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করল ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)। নতুন সোশ্যাল সায়েন্স বই ‘Understanding Society: India and Beyond’-এ জরুরি অবস্থাকে ভারতীয় গণতন্ত্রের সামনে আসা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে উল্লেখ (Emergency History) করা হয়েছে, ওই সময় দেশের অধিকাংশ মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) স্থগিত করা হয়েছিল এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এনসিইআরটির এক আধিকারিক জানান, নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে এই প্রথম জরুরি অবস্থা নিয়ে আলাদা অংশ যুক্ত করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ৫০ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে এই অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।

    জরুরি অবস্থা ও গণতন্ত্রের ওপর প্রভাব (Emergency History)

    নতুন পাঠ্যবইয়ের সংশ্লিষ্ট অংশে বলা হয়েছে, “ভারতে গণতন্ত্রের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছিল ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময়। ১৯৭০-এর গোড়ার দিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর (Indira Gandhi) নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছিল। বেকারত্ব বৃদ্ধি, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় তুমুল বিক্ষোভ দেখা দেয়।” বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের জুন মাসে ‘অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা’র কারণ দেখিয়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এই সময় অধিকাংশ মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয় এবং বহু রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি তীব্র চাপে পড়ে এবং নাগরিক স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।

    জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলন

    পাঠ্যবইয়ে (NCERT) জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন জয়প্রকাশ নারায়ণ। তাঁর (Jayaprakash Narayan) ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘লোকনায়ক’ নামে পরিচিত এই সমাজতান্ত্রিক চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক নেতা ছাত্র-যুব এবং সাধারণ নাগরিকদের সংগঠিত করেছিলেন। বিশেষ করে বিহার ও গুজরাটে তাঁর নেতৃত্বে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। বইটিতে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয় এবং সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পায়। সেই নির্বাচনে তৎকালীন শাসক দলের পরাজয় ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্তি ও জনগণের মতামতের গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে (Emergency History)।

    গণতন্ত্রের সামনে অন্যান্য চ্যালেঞ্জও আলোচনায়

    জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গটি বৃহত্তর একটি অধ্যায়ের অংশ, যেখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তি এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বইটিতে ভুয়ো খবর, বিভ্রান্তিকর তথ্য, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, জননিয়ম লঙ্ঘন, দারিদ্র্য, আঞ্চলিকতাবাদ, সামাজিক বৈষম্য এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে গণতান্ত্রিক চর্চার সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    নতুন বিভাগ

    নয়া সংস্করণের বইয়ে প্রথমবারের মতো ‘ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইউ’ (Democracy and You) নামে একটি বিশেষ বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে। এনসিইআরটির মতে, এই অংশের লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের পাঠের সঙ্গে বাস্তব জীবনের নাগরিক দায়িত্ব ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের সম্পর্ক বোঝানো। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারবে।

    গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের ওপর জোর

    সংশোধিত পাঠ্যবইয়ে ভারতের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় সমাজে গণতান্ত্রিক চর্চার উল্লেখ করে দেখানো হয়েছে, কীভাবে সেই ঐতিহ্য বর্তমান শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত (Emergency History)। এছাড়া গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে একটি পৃথক অধ্যায়ও রাখা হয়েছে। সেখানে সংবাদমাধ্যমকে ‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ’ (Fourth Pillar of Democracy) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। জনসাধারণের সমস্যাকে সামনে আনা, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে (NCERT)।

    বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের পরিসংখ্যান

    ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ব্যাপ্তি বোঝাতে বইটিতে বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৯৬.৮ কোটিরও বেশি। দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা বিপুল সংখ্যক ভোটকেন্দ্র এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের কাঠামোর কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

    তৃণমূল স্তরের গণতন্ত্র ও নারীদের অংশগ্রহণ

    পাঠ্যবইয়ের এই অধ্যায়ে তৃণমূল স্তরের গণতন্ত্রের বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও কয়েকটি কেস স্টাডি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুজরাটের একটি পঞ্চায়েত এবং ত্রিপুরার মহিলা-বান্ধব পঞ্চায়েতের উদাহরণের মাধ্যমে স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে (Emergency History)। এছাড়া নারীদের ভোটাধিকার, স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলিতে সংরক্ষণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ নিয়েও একটি পৃথক অংশ রাখা হয়েছে (NCERT)। এর মাধ্যমে নারী প্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে (Emergency History)।

  • Narendra Modi Untold Story: জরুরি অবস্থার অন্ধকারে ‘স্বামীজি’ থেকে ‘সর্দারজি’! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে লড়েছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি?

    Narendra Modi Untold Story: জরুরি অবস্থার অন্ধকারে ‘স্বামীজি’ থেকে ‘সর্দারজি’! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে লড়েছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গণতন্ত্রের অন্ধকারতম সময়! ২৫ জুন, সালটা ১৯৭৫। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) ঘোষণা করলেন জরুরি অবস্থার (Emergency Period)। ১৯৭৭ সাল অবধি, ২১ মাস জারি থাকে এই জরুরি অবস্থা। সাংবিধানিক মূল্য়বোধের সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে দেশে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল এই সময়। সরকারের বিরোধিতা, মানেই আশ্রয় হত অন্ধ কারাগার। সেই সময় সবচেয়ে সক্রিয় ও দক্ষ কর্মীদের জেলের বাইরে রেখে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের নীতি। আরএসএস-এর সেই পরিকল্পনার অন্যতম মুখ ছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। গুজরাটের বিভিন্ন প্রান্তে—বরোদা, আমেদাবাদ, রাজকোটে ঘুরে ঘুরে তিনি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করছিলেন জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে। পুলিশের চোখ এড়িয়ে আরএসএস-এর বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি নানা রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন—কখনও ‘সর্দারজি’, কখনও ‘বটুকভাই’, তো কখনও ‘স্বামীজি’।

    ‘বটুকভাই’ থেকে ‘স্বামীজি’ – ছদ্মবেশের কাহিনী

    ১৯৭৫ সালের ২৫শে জুন থেকে ২১ মাসব্যাপী দেশে জারি হওয়া জরুরি অবস্থার সময়, সরকারের কড়া দমননীতি থেকে বাঁচতে নানা ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সময় তাঁকে ‘বেশভূষার মাস্টার’ বলেও ডাকা হতো। জরুরি অবস্থার সময় আরএসএস-এর নীতি ছিল যে কোনও মূল্যে জেলের বাইরে থেকে অস্থির সময়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আরএসএস তখন কার্যত আন্ডারগ্রাউন্ডে। সেই সময় তৈরি করা হয়েছিল গুজরাট লোক সংঘর্ষ সমিতি। সেই সময় মাত্র ২৫ বছর বয়সে আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক পদে উঠে এসেছিলেন মোদি। সেই সময় নানা লেখালেখি করতেন মোদি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁর সেই লেখা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সেই সময় যাতে চিহ্নিত না হয়ে যান সেকারণে নরেন্দ্র মোদি কখনও স্বামীজি, কখনও শিখের ছদ্মবেশ ধরতেন। তখনই গুজরাট ভ্রমণের সময় মোদি ‘বটুকভাই’ নাম নিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করেন। পরে এক পর্যায়ে, তিনি সন্ন্যাসীর বেশ নেন—গায়ে গেরুয়া বসন, মুখে ধর্মীয় ভাষ্য। একদিন, তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, সেখানে স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায়ের একজন আচার্য উপস্থিত হন। তখন পরিবারের লোকেরা তাঁকে ‘উদয়পুর থেকে আগত স্বামীজি’ বলে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর আচার্য ও ছদ্মবেশী ‘স্বামীজি’-র মধ্যে ধর্মীয় বিতর্কও শুরু হয়!

    ভবনগর জেলে ‘সৎসঙ্গ’ করে বার্তা পৌঁছানো

    জরুরি অবস্থা জারির পরেই মোদি তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেই সময় তিনি ও তাঁর সতীর্থরা নানা ধরনের মিটিং করতেন কিছুটা আড়ালে। সিনিয়র আরএসএস নেতা নাথ জাগড়া, বসন্ত গজেন্দ্রগড়করের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তথ্য় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কিছুটা অভিনব পথ নিয়েছিলেন। সাবধানে পরিকল্পনা করে, ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বরে মোদি ‘স্বামীজি’ ছদ্মবেশে ভবনগর জেলে পৌঁছান। সেখানে আটক আরএসএস নেতা বিশ্নুভাই পাণ্ড্যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। একটি ‘সৎসঙ্গ’-এর অজুহাতে তিনি জেলের ভিতরে প্রবেশ করেন এবং এক ঘণ্টা ধরে গোপনে আলোচনা করেন। পুলিশের চোখ এড়িয়ে নির্বিঘ্নে বেরিয়েও আসেন।

    ‘সর্দারজি’ সেজে কলেজ ছাত্রদের মাঝে

    কংগ্রেসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেই সময় গুজরাটে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে গুজরাটে শুরু হয়েছিল নবনির্মাণ আন্দোলন। সেই সময় দেখা গিয়েছিল পড়ুয়াদের শক্তি। সেই সময় আরএসএসের যুব প্রচারক ছিলেন মোদি। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের আওতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় তিনি ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন করেন। তখন তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মবেশ ছিল ‘সর্দারজি’। মাথায় পাগড়ি পরে, শিখ বেশে তিনি ঘোরাফেরা করতেন। এমনকি কলেজপড়ুয়া ছাত্ররা তাঁর উপস্থিতিতে উচ্চস্বরে সর্দারজি-র কৌতুক বলতেও কুণ্ঠাবোধ করত না। পরিচিত পরিবারের শিশু ও তাদের বন্ধুরাও এসে তাঁকে এই নতুন রূপে দেখতে পেত।

    রহস্যময় এবং কৌশলী অধ্যায়

    এই সব ছদ্মবেশ ও বুদ্ধিদীপ্ত চালচলনের জোরেই প্রশাসন তাঁর অবস্থান কখনও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারেনি। প্রায়ই দেখা যেত, পুলিশ এসে পৌঁছানোর আগেই অন্য জায়গায় সরে গিয়েছেন মোদি। ১৯৭৭ সালে জরুরী অবস্থা উঠে যাওয়ার পরে নরেন্দ্র মোদি ক্রমেই জাতীয় ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ছড়িয়ে দিতে থাকেন। আরএসএস-এর হাত ধরে ১৯৮৫ সালে বিজেপিতে যোগদান। তারপর ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীত্ব গ্রহণ। ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন মোদি। তারপর ভারতে আচ্ছে দিন-এর শুরু। কিন্তু আজও জরুরি অবস্থার অন্ধকার দিনে মোদির এই নানা ছদ্মবেশী কাহিনী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক রহস্যময় এবং কৌশলী অধ্যায় হয়ে রয়ে গিয়েছে।

  • Samvidhan Hatya Diwas: ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ কেন পালন করছে বিজেপি? ১৯৭৫-এর জরুরি অবস্থার অজানা ইতিহাস

    Samvidhan Hatya Diwas: ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ কেন পালন করছে বিজেপি? ১৯৭৫-এর জরুরি অবস্থার অজানা ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৫ জুন ভারতীয় গণতন্ত্রের কাছে এক কালো দিন। আজ থেকে ঠিক পঞ্চাশ বছর আগে, আচমকা মধ্যরাতে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। না, কোনও যুদ্ধ নয়। নিজের গদি বাঁচাতে দেশবাসীকে কার্যত বন্দি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। যার প্রতিবাদে আজ দেশজুড়ে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ পালন করছে বিজেপি। কী ঘটেছিল সেই সময়ে? কেমন ছিল সেই অন্ধকারময় অধ্যায়?

    ইতিহাসের পাতা উল্টে ফেরা যাক ঠিক ৫০ বছর আগেকার একটি অস্থির সময়ে। সালটা ১৯৭৫। যে সময় দেশ এক কঠিন সময়ের চরম নজির দেখেছিল ভারতবাসী। এমন একটা সময় যখন ক্ষমতাবলে দেশের সংবিধানকে হত্যা করেছিল দেশেরই শাসক। কংগ্রেস শাসনের স্বৈরতন্ত্রের সামনে ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল গণতন্ত্র। বিরোধে ওঠা সব কণ্ঠকে নির্বিচারে করা হয়ছিল রোধ। বিরোধী হলেই ঠাঁই ছিল গারদ।

    ক্ষমতা হারানোর ভয় পেলেন ইন্দিরা…

    ১৯৭১ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের রায়বেরিলি কেন্দ্র থেকে জয়ী হন ইন্দিরা গান্ধী। বিপক্ষ প্রার্থী ছিলেন সংযুক্ত সোশ্যালিস্ট পার্টির রাজনারায়ণ। এই ভোটে ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে কারচুপি করে জেতার অভিযোগ আনেন রাজনারায়ণ। সোশ্যালিস্ট পার্টির এই নেতা দ্বারস্থ হন এলাহাবাদ হাইকোর্টের। ইন্দিরার বিরুদ্ধে সরকারি ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচন জেতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এক ঐতিহাসিক রায়ে ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করে তাঁকে ৬ বছর পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি জগমোহনলাল সিনহা।

    ক্ষমতা হারানোর ভয়ে দিশাহারা ইন্দিরা তখন দ্বারস্থ হলেন সুপ্রিম কোর্টের। ১৯৭৫ সালের ২৩ জুন মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে। ২৪ জুন বিচারপতি আইয়ার নির্দেশ দিলেন, যতক্ষণ না চূড়ান্ত রায় আসছে, ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন। তবে সাংসদ হিসেবে কাজ চালাতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর বিরোধীরা বলতে শুরু করেন, “চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত ইন্দিরা প্রধানমন্ত্রী থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।” অন্যদিকে, ইন্দিরার পদত্যাগের দাবিতে তখন দেশজুড়ে প্রবল আন্দোলন শুরু করেন জয়প্রকাশ নারায়ণ।

    চুপিসারে মধ্যরাতে জারি এমার্জেন্সি

    ক্ষমতা হারানোর ভয় আরও তাড়া করতে শুরু করে কংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রীকে। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ঠিক একদিন পরেই, ১৯৭৫ সালের ২৫ এবং ২৬ জুন মধ্যরাতে, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারি করেন যাতে তাঁকে পদত্যাগ করতে না হয়। এই জরুরি অবস্থা চলেছিল ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত! এই গোটা সময় দেশ একটা চরম অন্ধকারময় অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। এই সময়ে গোটা দেশকে কার্যত কারাগারে পরিণত করেছিল কংগ্রেস সরকার। গণতন্ত্র এবং মানুষের মৌলিক অধিকার দুটোই সেদিন কেড়ে নেয় গান্ধী পরিবারের শাসন। সরকার চাইলে যে কোনও ব্যক্তিকে যতদিন খুশি জেলে ভরে রাখতে পারত। সব থেকে বড় কথা, কোনও রকমের শুনানি ছাড়াই কয়েক হাজার সরকার বিরোধী ব্যক্তি জেলে ছিলেন। তাঁদের জামিনের আবেদন করার অধিকারও ছিল না।

    প্রথম গ্রেফতারি ভোর আড়াইটেয়…

    ২৬ তারিখের ভোররাত, অর্থাৎ জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই করা হয় প্রথম গ্রেফতারি। সেই সময়ের বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ প্রভাবিত অর্গানাইজার পত্রিকার প্রধান সম্পাদক এইচ আর মালকানিকে পান্ডারা রোডে তাঁর বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। ওই রাতেই গ্রেফতার করা হয় লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণকে। কেন? কারণ, ইন্দিরা বিলক্ষণ জানতেন, তাঁর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে শুধুমাত্র আরএসএস ও জন সংঘের। তাই, আগেভাগে এদের গারদে পাঠাতে উদ্যত হয়েছিলেন ইন্দিরা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সকল অধ্যাপকদের তালিকা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল হাসানের কাছে চেয়ে নেন ইন্দিরা-পুত্র সঞ্জয় গান্ধী। সেসময় জনসংঘ এবং আরএসএস-এর বহু প্রচারক কার্যকর্তা গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন।

    সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ, বন্ধ নির্বাচন

    শুধু তাই নয়। গণমাধ্যমগুলির ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করে ইন্দিরা-সরকার। তালিকায় ছিল ৩,৮০১ সংবাদপত্র। সূর্য ওঠার আগেই দেশের প্রথমসারির সংবাদপত্রগুলির অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় সরকার। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরালকে নির্দেশ দেন ইন্দিরা। জানিয়ে দেওয়া হয়, সংবাদপত্রের খবর আগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে যাতে আসে। তারপর কোন খবর ছাপা হবে তা সরকার ঠিক করবে। বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশে সমস্ত ধরনের নির্বাচন।

    ভারতের ইতিহাসে কালো অধ্যায়

    এমনকি, ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাও জানত না। ২৬ জুন সকাল ৬টার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত ১৫ জনেরও বেশি মন্ত্রী প্রথমবারের জন্য জানতে পারেন, জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে দেশে। এরপরই আকাশবাণীর বেতার ভাষণে জরুরি অবস্থা জারির কথা ঘোষণা করেন ইন্দিরা গান্ধী। পরিসংখ্যান বলছে, সেসময় মোট রাজনৈতিক গ্রেফতারির সংখ্যা ১,১০,৮০৬। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের কোমরে দড়ি পরিয়ে পুলিশ জিপের সঙ্গে বেঁধে রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হত। আর থানার লক আপে চলত অকথ্য পুলিশি অত্যাচার! যার জেরে অকালে এই পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়েছে। শূন্য হয়েছে অনেক মায়ের কোল। মুছেছে অনেক শিঁথির সিঁদুর। এমনকি, দেহ লোপাটও করার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।

    তোষামোদের প্রতিদানে জোড়ে ‘সেকুলার’

    বেঁচে থাকার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। সেটাই তখন ছিল কংগ্রেস সরকারের কুক্ষিগত। ২৮ বছর ধরে তখন দেশ শাসন করছিল কংগ্রেস। কংগ্রেস বললে ভুল হবে। গান্ধী-নেহরু পরিবারের বাবা ও মেয়ের হাতেই ছিল ক্ষমতা। আর এই একটাই পরিবারের হাতে বন্দি ছিল একটা গোটা দেশ! দেশে যখন এই কালো অধ্যায় চলছে, বিরোধী সমস্ত নেতা যখন জেলের ভিতর, তখনই এক প্রকার গায়ের জোরে ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনী এনে প্রস্তাবনায় জোড়া হয় ‘সেকুলার’ শব্দ। কেন? কারণ, তাঁর এই স্বৈরচারে সঙ্গ দিয়েছিল কমিউনিস্ট ও মুসলিম লিগ! তার প্রতিদান স্বরূপ দেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় জোড়া হয় ‘সেকুলার’। প্রায় পৌনে ২ বছর পর, ১৯৭৭ সালের মার্চ মাসে দেশে লোকসভা নির্বাচন হলে, তাতে বিপুল পরাজয় হয় ইন্দিরা এবং কংগ্রেসের। গণতন্ত্রের হাতিয়ারে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বদলা নিয়েছিল দেশবাসী।

    ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ পালন

    সংবিধানকে ভূলুণ্ঠিত করা শাসকদের আসল রূপ যাতে মানুষ মনে রাখে, দেশের এই কালো অধ্যায়কে স্মরণ করে প্রতি-বছর ২৫ জুন ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ পালন করে আসছে বিজেপি। লক্ষ্য, তাঁদের শ্রদ্ধার্ঘ জানানো, যাঁরা জরুরি অবস্থার সময়ে স্বৈরাচারী সরকারের অবর্ণনীয় নির্যাতনের ভুক্তভোগী ছিলেন। সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের লড়াইকে সম্মান করা, যাঁরা প্রাণ বিপন্ন করেও গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করে গিয়েছেন। জরুরি অবস্থা চলাকালীন যারা অমানবিক কষ্ট সহ্য করেছিলেন, তাঁদের অবদানকে স্মরণ করা। প্রতিটি ভারতীয়ের মধ্যে ব্যক্তি স্বাধীনতার অমর জ্যোতিকে বাঁচিয়ে রাখা। যাতে ভবিষ্যতে কংগ্রেসের মতো কোনও একনায়কতান্ত্রিক মানসিকতা এর পুনরাবৃত্তি করতে না পারে।

  • Sonia Gandhi: ভারত-বিরোধী মন্তব্যের জন্য পরিচিত মিশেলকে ইন্দিরা পুরস্কার দিয়ে বিতর্কে কংগ্রেস

    Sonia Gandhi: ভারত-বিরোধী মন্তব্যের জন্য পরিচিত মিশেলকে ইন্দিরা পুরস্কার দিয়ে বিতর্কে কংগ্রেস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশে নানা সময় গিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন কংগ্রেসের (Sonia Gandhi) প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ রাহুল গান্ধী। এবার তাঁর দলই ইন্দিরা গান্ধী স্মারক ট্রাস্টের মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ শান্তি, নিরস্ত্রীকরণ ও উন্নয়নের জন্য ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার দিয়েছে চিলির প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মিশেল বাসেলেটকে। এই মিশেল আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ঘোর বামপন্থী মতাদর্শের জন্য পরিচিত। কাশ্মীর সংক্রান্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবের সমর্থক। ভারতবিরোধী মন্তব্যের জন্যও তিনি নানা সময় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন (Indira Gandhi Peace Prize)।

    মিশেলের হাতে পুরস্কার (Sonia Gandhi)

    এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি হয় বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫। পুরস্কারটি মিশেলের হাতে তুলে দেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন এবং ট্রাস্টের প্রধান সোনিয়া গান্ধী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মিশেলকে এই পুরস্কার দেওয়ার জন্য বেছে নেওয়ার ঘটনাটিকে স্রেফ একটি কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, এটি কংগ্রেসের একটি সুপরিকল্পিত আদর্শগত বার্তা। মিশেলের পরিচয় এমন একটি রাজনৈতিক বর্ণনার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায় যা প্রায়ই বর্তমান ভারত সরকারের বিপরীতে নিজেকে উপস্থাপন করে, এমনকি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেও।

    তীব্র ভারত বিদ্বেষী

    মিশেল অতিবামপন্থী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি চিলির সোশ্যালিস্ট পার্টির আজীবন সদস্য। তাঁর দলের প্রধান লক্ষ্যই হল বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার এই অতিবামপন্থী আদর্শের ভিত্তিতে নির্মিত। তিনি তাঁর আন্তর্জাতিক ভূমিকার মধ্যেও এই আদর্শিক অবস্থান বজায় রেখেছেন। এমন নির্দিষ্ট মতাদর্শের একজন রাজনীতিককে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিক মিত্র বাছাই সম্পর্কে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলে (Sonia Gandhi)। মিশেল তীব্র ভারত বিদ্বেষী। কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতিও তিনি সহানুভূতিশীল। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার হিসেবে মিশেল কূটনৈতিক ভাষার সীমানা ছাড়িয়ে ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তগুলির অন্যতম জোরালো আন্তর্জাতিক সমালোচকে পরিণত হন। তাঁর শাসনকাল উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে চিরকাল।

    কাশ্মীরের পরিস্থিতি

    এর কারণগুলি হল, কাশ্মীরে হস্তক্ষেপ (Indira Gandhi Peace Prize)। কাশ্মীর থেকে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের পর ২০১৯ সালে মিশেল তাঁর রাষ্ট্রসংঘের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিচ্ছিন্নতাবাদী লবির বক্তব্যের সঙ্গে সহমতও পোষণ করেছিলেন তিনি। তিনি সরাসরি দাবি করেছিলেন যে কাশ্মীরের জনগণকে প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়ায় পরামর্শ ও অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। তাঁর এই দাবি যা ভারতের সাংবিধানিক অখণ্ডতাকে চ্যালেঞ্জ করতে চাওয়া গোষ্ঠীর বক্তব্যের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগও করেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ইউএন হিউম্যান রাইটস অফিস কাশ্মীর নিয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল, ভারত সরকার সেটিকে অফিসিয়ালি প্রত্যাখ্যান করে “মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং “স্পষ্ট পক্ষপাতদুষ্ট” বলে উল্লেখ করে। এসব রিপোর্টে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনি কাঠামোর সমালোচনা করা হয়েছিল এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের হুমকিকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছিল (Sonia Gandhi)।

    ভারতকে লক্ষ্য করে বিবৃতি

    ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতির সমালোচনাও করেছিলেন মিশেল। তিনি এনআরসির বিষয়ে একাধিকবার ভারতকে লক্ষ্য করে বিবৃতি দেন, যাকে ভারত সরকার অযাচিত এবং বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নয় বলে সাফ জানিয়ে দেয়। মিশেল বারবার ও ধারাবাহিকভাবে ভারতকে টার্গেট করেছে, যেখানে তিনি ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনি পদক্ষেপগুলিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর বিবৃতিগুলিতে প্রায়ই কাশ্মীর এবং এনআরসি প্রসঙ্গে মুসলিম সংখ্যালঘুদের উদ্বেগের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু ভারতের সামনে থাকা জটিল নিরাপত্তা ও জনসংখ্যাগত চ্যালেঞ্জগুলি উপেক্ষিত হয়েছে। মিশেল নিজেকে বৈশ্বিক বিরোধ প্রচারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন (Indira Gandhi Peace Prize)। রাষ্ট্রসংঘের পদ ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিষয়গুলি নিয়ে তির্যক সমালোচনা করেছেন। তিনি বারংবার ইউএপিএর মতো ভারতীয় আইনগত কাঠামোর সমালোচনা করেছেন এবং নাগরিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসবই ভারত সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের বিরোধী (Sonia Gandhi)।

    মিশেলের ভারতবিরোধী মন্তব্য

    পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে সোনিয়া গান্ধী চিলিতে মিশেলের নারী-অধিকার ও সামাজিক সংস্কারমূলক কাজের প্রশংসা করেন। যদিও রাষ্ট্রসংঘে তাঁর বিতর্কিত মেয়াদকাল বা ভারতের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সংঘাতের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন সোনিয়া। সমালোচকদের মতে, এই নির্বাচিত প্রশংসা মিশেলের ভারতবিরোধী অবস্থানের প্রতি নীরব সমর্থনই প্রকাশ করে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শান্তি পুরস্কার এমন একজন বিদেশিকে দেওয়া হল, যিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে ভারতের অবস্থানকে দুর্বল করেছেন। এর মাধ্যমে কংগ্রেস একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে দিল। কংগ্রেসের এহেন পদক্ষেপকে এমন একটি রাজনৈতিক জুয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা নিরঙ্কুশ জাতীয় সংহতির চেয়ে আন্তর্জাতিক বামপন্থী স্বীকৃতি এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধী রাজনীতিকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়। এই পুরস্কার আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে যে কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে আদর্শ পুরস্কারপ্রাপক (Indira Gandhi Peace Prize) সেই ব্যক্তি, যাঁর আন্তর্জাতিক প্রভাব ভারতের কর্মকাণ্ড ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে কাজে লাগানো হয়েছে (Sonia Gandhi)।

LinkedIn
Share