Tag: Indus

  • Indus Waters Treaty: হেগের সালিশি আদালতে শুনানি ইন্দাস জলচুক্তির, অংশ নেবে না, সাফ জানাল ভারত

    Indus Waters Treaty: হেগের সালিশি আদালতে শুনানি ইন্দাস জলচুক্তির, অংশ নেবে না, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হেগের সালিশি আদালত (কোর্ট অফ আরবিট্রেশন) ইন্দাস জলচুক্তির (Indus Waters Treaty) কাঠামোর আওতায় নতুন শুনানি ও নথি তলবের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে গেলেও, ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার বৈধতা তারা স্বীকার করে না এবং এতে অংশও নেবে না (India)। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হল, গত সপ্তাহে ইন্দাস জলচুক্তির (IWT) অধীনে গঠিত কোর্ট অব আরবিট্রেশন (CoA)-এর জারি করা একটি নির্দেশ। ওই নির্দেশে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির পরিচালনাসংক্রান্ত ‘পন্ডেজ লগবুক’ জমা দিতে বলা হয়েছে, যা আদালত ‘মেরিটস সংক্রান্ত দ্বিতীয় ধাপ’ বলে উল্লেখ করেছে।

    হেগের পিস প্যালেসে শুনানি (Indus Waters Treaty)

    আদালত জানিয়েছে, ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি হেগের পিস প্যালেসে শুনানি হবে। একই সঙ্গে আদালত নথিভুক্ত করেছে যে, ভারত এখনও কোনও কাউন্টার-মেমোরিয়াল জমা দেয়নি এবং শুনানিতে অংশগ্রহণের কোনও ইঙ্গিতও দেয়নি। তবে নয়াদিল্লির কাছে এই পুরো প্রক্রিয়াটাই অর্থহীন। সরকারি সূত্রের খবর, ‘অবৈধভাবে গঠিত’ এই তথাকথিত কোর্ট অব আরবিট্রেশন একই সঙ্গে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ‘সমান্তরাল শুনানি’ চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রের ভাষায়, “আমরা যেহেতু এই আদালতের বৈধতা স্বীকার করি না, তাই তাদের কোনও যোগাযোগেরই জবাব দিই না। তাছাড়া ইন্দাস জলচুক্তি বর্তমানে স্থগিত থাকায়, ভারতের পক্ষে কোনও জবাব দেওয়াও বাধ্যতামূলক নয়। এটি পাকিস্তানের একটি কৌশল—আমাদের টেনে এনে দেখানোর চেষ্টা যে আমরা এখনও প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছি।”

    পহেলগাঁওকাণ্ড

    এই নজিরবিহীন অচলাবস্থার নেপথ্যের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল, যখন পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ওই ঘটনার একদিন পরেই ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দাস জলচুক্তিকে ‘স্থগিত’ ঘোষণা করে। ১৯৬০ সালের পর এই প্রথমবার ভারত জল সহযোগিতাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করল (India)। এই সিদ্ধান্ত ‘অপারেশন সিঁদুরে’র সঙ্গেও যুক্ত ছিল এবং ভারতের পাকিস্তান নীতিতে এক সুস্পষ্ট মোড় ঘোরার ইঙ্গিত দেয়। এটি জানিয়ে দেয়, শত্রুতার আবহে সহযোগিতা কখনওই চলতে পারে না। ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া ছিল আতঙ্কগ্রস্ত। পরবর্তী ন’মাসে পাকিস্তান কূটনীতিকদের তলব করেছে, বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে, রাষ্ট্রসংঘে চিঠি দিয়েছে, ১০টিরও বেশি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন (Indus Waters Treaty) করেছে। এসব কিছুর কেন্দ্রীয় বক্তব্য একটাই, ভারত তাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল দুর্বল জায়গায় আঘাত হেনেছে।

    ইন্দাস নদী

    পাকিস্তানের কৃষির প্রায় ৮০–৯০ শতাংশ ইন্দাস নদী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। দেশটির জলাধার সক্ষমতা এক মাসের প্রবাহও ধরে রাখতে পারে না। তাদের প্রধান জলাধার, তারবেলা ও মাঙ্গলা নাকি প্রায় ‘ডেড স্টোরেজে’ পৌঁছে গিয়েছে। একসময় যা ছিল নিছক একটি প্রযুক্তিগত চুক্তি, তা এখন পরিণত হয়েছে কৌশলগত চাপের হাতিয়ারে (India)। ভারতের অবস্থান সত্ত্বেও হেগ-ভিত্তিক আদালত এমনভাবে এগোচ্ছে, যেন চুক্তির কাঠামো এখনও পুরোপুরি কার্যকর। ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারির এক নির্দেশে আদালত ২–৩ ফেব্রুয়ারির শুনানির বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করে এবং জানায়, ভারত উপস্থিত না থাকলে পাকিস্তান একাই পিস প্যালেসে সশরীরে যুক্তি উপস্থাপন করবে। এর পাঁচ দিন পর, পাকিস্তানের অনুরোধে জারি করা আর এক নির্দেশে আদালত ভারতকে বাগলিহার ও কিষানগঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ পরিচালন লগবুক জমা দিতে বলে। উদ্দেশ্য, ভারত ঐতিহাসিকভাবে পন্ডেজের হিসেব ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখিয়েছে কি না, তা যাচাই করা। আদালত সতর্ক করে দিয়েছে, ভারত সহযোগিতা না করলে তারা ‘প্রতিকূল অনুমান’ টানতে পারে অথবা নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান যে নথি পাবে, তা গ্রহণ করতে পারে (Indus Waters Treaty)।

    ভারতের অবস্থান

    আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থান তাদের বিচার করার ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে না (India)। এটাই সেই অবস্থান, যা ভারত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইন্দাস জলচুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত মতপার্থক্য নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের কাছে যায়, আর আইনি বিরোধ যায় সালিশি আদালতে। ভারতের ধারাবাহিক দাবি, বর্তমান বিরোধগুলি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের এক্তিয়ারভুক্ত, আর পাকিস্তানের সালিশি আদালত সক্রিয় করার চেষ্টা ‘ফোরাম শপিং’য়ের শামিল। এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই কোর্ট অব আরবিট্রেশনের সঙ্গে যুক্ত হতে অস্বীকার করছে নয়াদিল্লি। শুধুমাত্র নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দিয়ে ভারত ইঙ্গিত দিচ্ছে, পাকিস্তানকে এই বিরোধকে বৃহত্তর আইনি ও রাজনৈতিক মঞ্চে রূপ দিতে দেওয়া হবে না (Indus Waters Treaty)। আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশগুলি দেখাচ্ছে, তারা দুটি সমান্তরাল প্রক্রিয়ার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করার চেষ্টা করছে, যাকে ভারত সম্পূর্ণ অবৈধ বলে মনে করছে (India)।

    আন্তর্জাতিক ইস্যু বানানোর চেষ্টা

    হেগে যা ঘটছে, তা কেবল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের হিসেবনিকেশ নিয়ে আইনি বিরোধ নয়। এটি সংযমের দীর্ঘ দশকের পর কূটনৈতিকভাবে চুক্তিকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের ভারতের সিদ্ধান্তের প্রথম বাস্তব পরীক্ষা। পাকিস্তানের কাছে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক ইস্যু বানানো অস্তিত্বের প্রশ্ন। আর ভারতের কাছে সরে দাঁড়ানো একটি কৌশলগত পছন্দ। কোর্ট অব আরবিট্রেশন আদেশ জারি করতে পারে, শুনানির দিন ঠিক করতে পারে, প্রক্রিয়াগত নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু ভারতের অংশগ্রহণ ছাড়া এবং চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত থাকায়, এই কার্যক্রম একতরফা আইনি নথি হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে রয়েছে, বাধ্যতামূলক রায়ের নয় (India)।

    সাউথ ব্লকের দৃষ্টিতে, সেটাই আসলে উদ্দেশ্য। পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর থেকে ভারতের বার্তা স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক—ভূমির বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনও চুক্তি টিকে থাকতে পারে না। আর পাকিস্তান যতদিন না নয়াদিল্লির ভাষায় ‘অস্বাভাবিক শত্রুতা’ বন্ধ করছে, ততদিন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত জলবণ্টন চুক্তিটিও একাধিক অর্থে স্থগিতই থাকবে (Indus Waters Treaty)।

     

  • Jammu Kashmir: দুলহস্তি স্টেজ–টু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে মিলল শিলমোহর, খরচ কত জানেন?

    Jammu Kashmir: দুলহস্তি স্টেজ–টু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে মিলল শিলমোহর, খরচ কত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের অধীন পরিবেশ (Jammu Kashmir) মূল্যায়ন কমিটি অনুমোদন দিল জম্মু-কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার জেলায় ২৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুলহস্তি স্টেজ–টু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,২৭৭.৪৫ কোটি টাকা (Indus Treaty Freeze)। প্রস্তাবিত প্রকল্পটিকে বর্তমানে চালু থাকা ৩৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুলহস্তি স্টেজ–ওয়ান প্রকল্পের সম্প্রসারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপ ২০০৭ সালে চালু হয় এবং তারপর থেকে সফলভাবে কাজ হয়ে আসছে।

    মউ স্বাক্ষর (Jammu Kashmir)

    রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন প্রায় চার বছর আগে, ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি, জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী বিল্ড–ওন–অপারেট–ট্রান্সফার মডেলে ৪০ বছরের জন্য দুলহস্তি স্টেজ–টু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পে চেনাব নদীর জল ব্যবহার করা হবে। নদীটি সিন্ধু নদের অববাহিকার অন্তর্গত। পরিবেশ মূল্যায়ন কমিটি জানিয়েছে, প্রকল্পটির সমস্ত নকশা ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তির নিয়ম মেনে পরিকল্পিত। যদিও চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর এই চুক্তি কার্যত স্থগিত রাখা হয়েছে।

    দুলহস্তি স্টেজ–ওয়ান বিদ্যুৎকেন্দ্র

    নতুন প্রকল্পের জন্য দুলহস্তি স্টেজ–ওয়ান বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৮.৫ মিটার ব্যাসবিশিষ্ট ৩,৬৮৫ মিটার দীর্ঘ একটি পৃথক সুড়ঙ্গ দিয়ে জল আনা হবে। এই সুড়ঙ্গের মাধ্যমে স্টেজ–টু প্রকল্পের জন্য একটি হর্সশু আকৃতির পন্ডেজ নির্মাণ করা হবে। পন্ডেজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় একটি সার্জ শ্যাফ্ট, প্রেশার শ্যাফ্ট এবং একটি ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হবে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ১৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট বসানো হবে। এর ফলে প্রকল্পটির মোট ক্ষমতা হবে ২৬০ মেগাওয়াট, এবং বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে (Indus Treaty Freeze)।

    ভূমি প্রয়োজনের পরিমাণ

    প্রকল্পটির জন্য মোট ভূমি প্রয়োজনের পরিমাণ আনুমানিক ৬০.৩ হেক্টর। এই প্রকল্পের জন্য কিশ্তওয়ার জেলার বেঞ্জওয়ার ও পালমার—এই দুই গ্রামের ৮.২৭ হেক্টর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের জন্য পূর্বে অধিগৃহীত জমিও দ্বিতীয় পর্যায় তৈরিতে ব্যবহার করা হবে (Jammu Kashmir)। পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার সময় পরিবেশ মূল্যায়ন কমিটি নির্দেশ দেয় যে, প্রকল্পটি চালু হওয়ার পাঁচ বছর পর এর পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য একটি সমীক্ষা করা হবে। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত সরকারি বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, “প্রকল্প চালু হওয়ার পাঁচ বছর পর পরিবেশের ওপর এর প্রভাব সংক্রান্ত একটি সমীক্ষা করা হবে। সমীক্ষা হবে একটি স্বতন্ত্র সংস্থা দ্বারা সম্পন্ন।”

    চেনাব ভ্যালি পাওয়ার প্রজেক্টস

    এছাড়াও মন্ত্রক এনএইচপিসি (NHPC) এবং চেনাব ভ্যালি পাওয়ার প্রজেক্টস লিমিটেড (CVPPL)-কে একটি স্বনামধন্য সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সমীক্ষা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে চেনাব নদী অববাহিকার টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কৌশল প্রণয়ন করা যায়। এই সমীক্ষায় বৈজ্ঞানিকভাবে সুদৃঢ় পরিবেশগত প্রবাহ ব্যবস্থা, নদীখাতের গঠন ও পলিসঞ্চালন প্রক্রিয়ার পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি জলজ ও নদীতীরবর্তী জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জীবিকা ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগ মোকাবিলা এবং চেনাব অববাহিকার ক্যাসকেড কাঠামোর মধ্যে মারুসুদার উপনদীকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (Jammu Kashmir)।

    দুল হস্তি জলাধার

    দুল হস্তি জলাধারে প্রতিবছর গড়ে ২ কোটি ৪০ লক্ষ টন পলি জমা হয়, যার বেশিরভাগই মে থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে, যখন নদীর জলপ্রবাহ বেশি থাকে। জলাধারের ধারণক্ষমতা বজায় রাখতে পলি ব্যবস্থাপনার জন্য ফ্লাশিং ও স্লুইসিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় (Indus Treaty Freeze)। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চুক্তি হওয়ার পর প্রকল্পটি ৪৪ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে। বর্তমানে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি শুরু হওয়া টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের কারণে প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রকল্প রূপায়ণ করতে গেলে কোনও বনভূমি পড়বে না। তাই ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বন দফতরের কোনও ছাড়পত্রেরও প্রয়োজন নেই। এনএইচপিসি প্রকল্পের সম্প্রসারণ হিসেবে এটি ইতিমধ্যেই নির্মিত বাঁধ ও ইনটেক কাঠামো ব্যবহার করবে। তাই নতুন করে কোনও জলাধার নির্মাণেরও প্রয়োজন হবে না (Jammu Kashmir)।

  • Afghanistan: পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে কি ভারতের পথেই হাঁটতে চলেছে আফগানিস্তান?

    Afghanistan: পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে কি ভারতের পথেই হাঁটতে চলেছে আফগানিস্তান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানকে (Pakistan) শিক্ষা দিতে তবে কি ভারতের পথেই হাঁটতে চলেছে আফগানিস্তান (Afghanistan)? ইসলামাবাদের (পাকিস্তানের রাজধানী) দিকে জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবছে কাবুলও (আফগানিস্তানের রাজধানী)। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত সংঘাত ও কাবুলে ইসলামাবাদের বিমান হামলার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন পাঠানরা। আফগানিস্তানের তথ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, তালিবান নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যাতে পাকিস্তানের দিকে জলপ্রবাহ সীমিত করা যায়।

    আফগানিস্তানের বক্তব্য (Afghanistan)

    আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা মাওলাভি হিবাতুল্লা আখুন্দজাদা ঘোষণা করেছেন, তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব কুনার নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন। এভাবে কাবুল তাদের জলের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই লক্ষ্য পূরণে দেশীয় কোম্পানিগুলির সঙ্গে বাঁধ নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য দ্রুত আলোচনা চলছে বলেও আফগানিস্তানের তথ্য উপমন্ত্রী মুহাজের ফারাহী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন। আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ, “বিদেশি সংস্থার জন্য অপেক্ষা না করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গেই যেন দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।” বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের পর এবার যদি আফগানিস্তানও জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে ঘোর বিপাকে পড়বে ভারত এবং আফগানিস্তানের এই পড়শি দেশটি। এমনিতেই দেশটি এখন দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক সংকট, বিশৃঙ্খল অভ্যন্তরীণ অবস্থা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার জালে জড়িত। এমতাবস্থায় কাবুল পদক্ষেপ করলে, ভয়ঙ্কর সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে ইসলামাবাদকে।

    পহেলগাঁওকাণ্ড

    প্রসঙ্গত, দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে বেছে (Afghanistan) বেছে ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে নৃশংসভাবে হত্যা করে পাক মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা। তার পরেই ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Water Treaty) সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দেন, “রক্ত ও জল একসঙ্গে বইতে পারে না।” এর ফলে পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত জল এখন ভারতের প্রয়োজন ও নীতির ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত। ভারতের এসব সিদ্ধান্তের জন্য পাকিস্তানকে কোনও জবাবদিহি করতে হয় না। ফলে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানে জলসঙ্কট, অপ্রত্যাশিত বন্যা বা খরার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

    সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি

    প্রসঙ্গত, পহেলগাঁওকাণ্ডের পর ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের হস্তক্ষেপে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত। ওই চুক্তি অনুযায়ী, বিপাশা, শতদ্রু, ইরাবতীর জলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের হাতে। আর সিদ্ধু, বিতস্তা, চন্দ্রভাগার জল ব্যবহার করতে পারবে পাকিস্তান। সিন্ধু ও তার শাখা এবং উপনদীর ৩০ শতাংশ জল ব্যবহার করতে পারবে ভারত। বাকি ৭০ শতাংশ পাবে পাকিস্তান (Pakistan)। চুক্তিতে বলা হয়েছে, সিন্ধু, বিতস্তা এবং চন্দ্রভাগা – এই তিন নদীর জল সেচের কাজের পাশাপাশি নৌ চলাচল, মাছ চাষ, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করতে পারবে ভারত। পাকিস্তানের হুঁশিয়ারির পরেও (Afghanistan) এই চুক্তি ফের লাগু করেনি ভারত।

    কুনার নদী

    এদিকে, ৪৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ কুনার নদীর উৎপত্তি আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালায়। এই পর্বতমালা আবার রয়েছে পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি। নদীটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মধ্যে দিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছে। এই পাকিস্তানের জালালাবাদ শহরে নদীটি কাবুল নদীর সঙ্গে মিশেছে। তার পর কাবুল নদী পাকিস্তানের অ্যাটক শহরের কাছে সিন্ধু নদের সঙ্গে মিশেছে। পাকিস্তানে কুনার নদীকে “চিত্রাল নদী” নামে ডাকা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই নদী আফগান-পাকদের মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কাবুল নদীতে জলের জোগান দিয়ে থাকে এই কুনার নদীই। এই জল কেবল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেই নয়, পাঞ্জাব প্রদেশেও কৃষি এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়। আফগান সাংবাদিক সামি ইউসুফজাই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “কাবুল এবং কুনার নদী পাকিস্তানের জলের অন্যতম উৎস (Pakistan)।”

    তালিবান সরকারের অগ্রাধিকার

    কাবুলে প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর তালিবান সরকার তাদের দেশের নদী ও জলবিদ্যুৎ সম্পদের ওপর সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হল (Afghanistan), জ্বালানি, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় আত্মনির্ভরতা অর্জন করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো। ভারত ও পাকিস্তানের মতো ইসলামাবাদ (Pakistan) এবং কাবুলের মধ্যেও কোনও দ্বিপাক্ষিক নদীজল বণ্টন চুক্তি। ফলে আফগানিস্তানের পক্ষে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। তবে কাবুলের সাম্প্রতিক এই অবস্থান নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের জন্য একাধিক দিক থেকে জলসঙ্কট সৃষ্টি করবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক সঙ্কট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত দেশটি, নিজেদের ভুল নীতি ও জঙ্গি কার্যকলাপের জেরে এখন নয়া জলসংঘাতের মুখোমুখি হতে চলেছে (Afghanistan)।

  • Pakistan: “এটি নতুন ভারত, যা কোনও আপস করে না”, লালকেল্লা থেকেই পাকিস্তানকে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    Pakistan: “এটি নতুন ভারত, যা কোনও আপস করে না”, লালকেল্লা থেকেই পাকিস্তানকে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানকে (Pakistan) সতর্ক করে বলেন যে ভারত আর পারমাণবিক হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি নতুন ভারত, যা কোনও আপস করে না। ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আর কোনওভাবেই পরমাণু হুমকি সহ্য করবে না। আমরা কোনও ধরনের ব্ল্যাকমেলের ফাঁদে পা দেব না।” শুক্রবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। পাকিস্তানকে সতর্ক করে তিনি জানান, ভারত এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে রক্ত ও জল একই সঙ্গে প্রবাহিত হবে না।

    রক্ত ও জল এক সঙ্গে প্রবাহিত হবে না (Pakistan)

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রক্ত ও জল এক সঙ্গে প্রবাহিত হবে না। মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে যে সিন্ধু জল চুক্তি অন্যায্য। সিন্ধু নদী ব্যবস্থা থেকে প্রবাহিত জল শত্রুর জমি সেচের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, অথচ আমাদের দেশের কৃষকরা ভুগছেন। কেমন ধরনের চুক্তি এটি, যা গত সাত দশক ধরে আমাদের কৃষকদের এত বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে?” প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ভারতকে হুমকি দিয়েছিলেন। এদিন লালকেল্লার অনুষ্ঠান থেকে তাকে কার্যত ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে ব্ল্যাক চেক!

    শাহবাজ শরিফ মঙ্গলবার বলেন, “দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রাপ্য এক ফোঁটা জলও ভারতকে ছিনিয়ে নিতে দেওয়া হবে না।” প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার একদিন পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়, যার মধ্যে ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি (IWT) স্থগিত রাখাও অন্তর্ভুক্ত। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “ভারত জঙ্গি ও যারা তাদের সমর্থন করে, তাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য করবে না এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে ভবিষ্যতে কোনও ধরনের দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড ঘটলে তার শাস্তি কী হবে, তা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীই ঠিক করবে (Pakistan)।”

  • India: ‘এদের এক্তিয়ারই নেই’, সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের

    India: ‘এদের এক্তিয়ারই নেই’, সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালের ৮ অগাস্ট সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির (Indus Waters Treaty) বিষয়ে হেগের স্থায়ী সালিশি আদালতের (PCA) রায়কে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত (India)। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কিষানগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে তারা কখনওই এই আদালতের এক্তিয়ার স্বীকার করে না। ভারত স্পষ্ট করে জানিয়েও দিয়েছে, নয়াদিল্লি আদালতের এক্তিয়ার স্বীকার করে না এবং পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত চুক্তির বাস্তবায়নও ফের শুরু করা হবে না। ভারতের এই দৃঢ় অবস্থান এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর হুমকিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে এবং তার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফের একপ্রস্ত শুল্ক আরোপ করেছে ভারতীয় পণ্যের ওপর। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বহিঃচাপের মুখে নয়াদিল্লির এই অবস্থান ক্রমবর্ধমান কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ইঙ্গিত দেয়।

    সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি (India)

    নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তান একতরফাভাবে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে এই সালিশি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সমাধানের সুযোগকে ক্ষুণ্ণ করেছে। সরকার জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের জোরাজুরিতে বিশ্বব্যাংক ২০২২ সালে একইসঙ্গে একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ এবং সালিশি আদালত সক্রিয় করার পদক্ষেপ নিয়েছিল, যা বাস্তব ও আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে এবং চুক্তির কাঠামোর অধীনে সেটি গ্রহণযোগ্যও নয়। ভারত সরকারের তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগতি রাখা হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাস নেটওয়ার্ক ভাঙতে বিশ্বাসযোগ্য ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত এটি ফের কার্যকর হবে না (India)।

    স্থায়ী সালিশি আদালতের রায়

    স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় পাকিস্তানের ব্যাখ্যার পক্ষে গিয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, সিন্ধু, ঝিলাম এবং চেনাবের মতো (Indus Waters Treaty) পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলিকে ‘রান-অফ-দ্য-রিভার’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নকশায় ভারতকে চুক্তির ধারা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং নিজস্ব কোন মানদণ্ড চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। আদালতের নির্দেশ, ভারতকে জলের প্রবাহ এমনভাবে রাখতে হবে (Indus Waters Treaty) যাতে পাকিস্তান অবাধে তা ব্যবহার করতে পারে। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের দাবি, ভারতীয় প্রকল্পগুলি নিম্নপ্রবাহের জলের প্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে। শাহবাজ শরিফের দেশের এই অভিযোগ ভারত ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বারংবার উড়িয়ে দিয়েছে (India)।

  • Indus Waters Treaty: পাক আপত্তি উড়িয়ে চন্দ্রভাগা নদীর ওপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে টেন্ডার ডাকল ভারত

    Indus Waters Treaty: পাক আপত্তি উড়িয়ে চন্দ্রভাগা নদীর ওপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে টেন্ডার ডাকল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের বদলা নিতে হাতের পাশাপাশি পাকিস্তানকে (Pakistan) ভাতেও (Indus Waters Treaty) মারতে উদ্যোগী হয়েছিল নরেন্দ্র মোদির সরকার। পাকিস্তান হাতে-পায়ে ধরায় আপাতত চলছে যুদ্ধবিরতি। তবে পাক প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরিফের দেশকে ভাতে মারতে আরও একধাপ এগোল নয়াদিল্লি। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে যে প্রকল্প, শেষমেশ সেই প্রকল্পই শুরুর উদ্যোগ নিল ভারত। জম্মু-কাশ্মীরের চন্দ্রভাগা নদীর ওপর সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের জন্য ডাকা হল টেন্ডার।

    পাক আপত্তি উড়িয়েই হবে প্রকল্প (Indus Waters Treaty)

    এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল আটের দশকে। তার পর থেকে বার বার আপত্তি জানিয়ে এসেছে পাকিস্তান। এতদিন পর এবার তাদের আপত্তি উড়িয়ে দিয়েই শুরু হচ্ছে প্রকল্পের কাজ। ন্যাশনাল হাইড্রোলিক্টক পাওয়ার কর্পোরেশন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বিডিংয়ের ভিত্তিতে সাওয়ালকোট প্রকল্পের টেন্ডার ডাকা হয়েছে। টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর। কাজ শুরু হচ্ছে এনএইচপিসি এবং জম্মু-কাশ্মীর পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে। সাওয়ালকোট ভারতের সবচেয়ে বড় রান-অফ-দ্য-রিভার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। একে দেখা হচ্ছে সিন্ধু অববাহিকার জলস্রোত ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে, বিশেষত যখন স্থগিত রয়েছে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি।

    সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি

    বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু ও তার পাঁচটি উপনদীর জল বণ্টিত হয়ে থাকে দুই দেশের মধ্যে। সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তা – এই তিন পশ্চিমমুখী নদী পাকিস্তানের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে। সেই দেশের ৮০ শতাংশ কৃষি এই তিন নদীর ওপর নির্ভরশীল। গত ২২ এপ্রিল দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে বেছে বেছে হত্যা করা হয় ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে। অভিযোগ, ঘটনার নেপথ্যে ছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী। তারাই এই হত্যালীলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনার পরে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটিগুলিতে হামলা চালায় ভারত। শুরু হয় দুই পড়শি দেশের সংঘাত। তার আগেই অবশ্য ভারত বাতিল করে দিয়েছিল সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি। এখনও সেই সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে। তাই চুক্তির শর্ত মেনে চন্দ্রভাগার ওপরে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য পাকিস্তানের সম্মতির আর প্রয়োজন নেই। সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে সেই সম্মতি ছাড়াই কাজ শুরু (Pakistan) করতে চলেছে ভারত।

    ডিপিআর জমা দেওয়া হয় ২০১৮ সালে

    সাওয়ালকোট প্রকল্পটি জম্মু-কাশ্মীরের রামবান ও উধমপুর জেলাজুড়ে (Indus Waters Treaty) বিস্তৃত। জম্মু থেকে ওই এলাকার দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার, আর শ্রীনগর থেকে ১৩০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। এই প্রকল্পের কথা ভাবা হয়েছিল সেই ১৯৬০ সালে। তবে ডিপিআর জমা দেওয়া হয় ২০১৮ সালে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায়। সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করার পর এখন এই প্রকল্পের কাজই দ্রুত শেষ করতে চাইছে নয়াদিল্লি। চন্দ্রভাগা নদীর ওপর যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে, তা থেকে মেলার কথা ১ হাজার ৮৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এটিই হবে কাশ্মীরের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জম্মু ও কাশ্মীরের বিদ্যুতের চাহিদা অনেকটাই মিটবে বলে আশা ভূস্বর্গ প্রশাসনের। ভারত চন্দ্রভাগার ওপর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করলে বিপাকে পড়বে পাকিস্তান। ইতিমধ্যেই তারা এ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে (Pakistan)। তাদের বক্তব্য, ভারতের এই পদক্ষেপের জেরে প্রভাবিত হবে চন্দ্রভাগার জলপ্রবাহ।

    কাজ হবে দু’টি ধাপে

    জানা গিয়েছে, চন্দ্রভাগার ওপর ভারতের এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ হওয়ার কথা দু’টি ধাপে। কারণ প্রক্রিয়াগত নানা অসুবিধার কারণে বার বার পিছিয়ে গিয়েছে এই প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পে খরচ হওয়ার কথা ২২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা (Indus Waters Treaty)। সাওয়ালকোট প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে চন্দ্রভাগার তীরের একাধিক গ্রাম। সেই সব গ্রামের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং তাঁদের অন্যত্র থাকার বন্দোবস্ত করে দেওয়াও প্রকল্পের অংশ।

    কী বলছেন ওমর আবদুল্লা

    জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা রয়েছেন বিদ্যুৎ দফতরের দায়িত্বেও। এই প্রকল্প শুরুর উদ্যোগকে তিনি বহু প্রতীক্ষিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন (Indus Waters Treaty)। রামবানের বিধায়ক অর্জুন সিং রাজু বলেন, “এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জম্মু-কাশ্মীরের পাশাপাশি উপকৃত হবে পুরো দেশ (Pakistan)।” প্রসঙ্গত, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করা নিয়ে ভারতের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে পাকিস্তান। তাদের বক্তব্য, এই জলের ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তানের বহু মানুষ। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছে তারা (Indus Waters Treaty)।

  • Pakistan: সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন, মোদি সরকারকে আর্জি পাকিস্তানের

    Pakistan: সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন, মোদি সরকারকে আর্জি পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের জেরে পাকিস্তানের (Pakistan) সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে দিয়েছে ভারত। তার পর থেকে এ পর্যন্ত মোদি সরকারকে চারবার চিঠি দিল পাকিস্তান। প্রতিটি চিঠিতেই আর্জি জানানো হয়েছে সিদ্ধান্ত (Indus Treaty) পুনর্বিবেচনার। চিঠিগুলি এসেছে পাকিস্তানের জলসম্পদ মন্ত্রকের সচিব সৈয়দ আলি মুর্তাজার কাছ থেকে। ভারতের জলশক্তি মন্ত্রক চারটি চিঠিই নিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে বিদেশমন্ত্রকে।

    বেছে বেছে ২৭ জন হিন্দু পর্যটককে হত্যা (Pakistan)

    গত ২২ এপ্রিল দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে বেছে বেছে ২৭ জন হিন্দু পর্যটককে হত্যা করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। তার পরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করে ভারত। এর মধ্যেই রয়েছে সিন্ধু জলচুক্তি। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৬০ সালে, বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায়। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পর ভারত সাফ জানিয়ে দেয়, যতদিন না পর্যন্ত পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করছে, ততদিন এই চুক্তি স্থগিত থাকবে।

    বিপাকে পাকিস্তান

    সিন্ধু ও তার দুটি উপনদী বিতস্তা ও চন্দ্রভাগা পাকিস্তানমুখী। এই তিন নদীর জলের ওপর পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষিকাজ নির্ভর করে। সিন্ধুর বাকি তিন উপনদী বিপাশা, শতদ্রু এবং ইরাবতী ভারতের ওপর দিয়েই বইছে। পাকিস্তানের আশঙ্কা, সিন্ধু চুক্তির শর্ত না মানলে পাকিস্তানমুখী নদীগুলির জলপ্রবাহ অনিয়মিত হয়ে পড়বে। ফলে পাকিস্তানজুড়ে দেখা দিতে পারে জলসংকট। সেই পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, ভারতকে চিঠি লিখে তারই চেষ্টা করে চলেছে শাহবাজ শরিফের সরকার (Pakistan)।

    প্রসঙ্গত, ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করতেই পাক সেনেটর সইদ আলি জাফর বলেছিলেন, “এই সমস্যার আশু সমাধান চাই। নয়তো আমরা না খেতে পেয়ে মরব। আমাদের প্রয়োজনীয় জলের তিন-চতুর্থাংশই আসে দেশের বাইরে থেকে। সিন্ধু অববাহিকা হল আমাদের জীবনরেখা। ১০ জনের মধ্যে ন’জনের বেঁচে থাকা নির্ভর করে সিন্ধু অববাহিকার জলের (Indus Treaty) ওপর। প্রায় ৯০ শতাংশ ফসলই এর ওপর নির্ভরশীল। আমাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জলাধারও এখানে রয়েছে। এ যেন এক জলবোমা! এই বোমা আমাদের নিষ্ক্রিয় করতেই হবে (Pakistan)।”

  • Himanta Biswa Sarma: পাকিস্তানের মিথ্যে হুমকির বেলুন ফাটিয়ে দিলেন হিমন্ত, ইসলামাবাদকে দিলেন ভূগোলের পাঠ

    Himanta Biswa Sarma: পাকিস্তানের মিথ্যে হুমকির বেলুন ফাটিয়ে দিলেন হিমন্ত, ইসলামাবাদকে দিলেন ভূগোলের পাঠ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের জেরে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত। তার পরেই বন্ধু দেশ চিনকে পাশে টেনে ব্রহ্মপুত্রের জল বন্ধের হুঁশিয়ারি দেয় পাকিস্তান (Pakistan)। শাহবাজ শরিফের দেশের ওই হুঁশিয়ারিতে যে ভারত আদৌ ভীত নয়, ওই হুঁশিয়ারি যে নিছকই ফাঁকা বুলি, তা সাফ জানিয়ে দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)।

    পাকিস্তানের বেলুন ফুটো (Himanta Biswa Sarma)

    রীতিমতো তথ্য দিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, চিন যদি ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দেয় বা জল বন্ধ করে দেয়, তাহলে অসুবিধা তো দূর, বরং সুবিধাই হবে ভারতের। ২ জুন এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে পাকিস্তানকে বাস্তবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, “যদি চিন ব্রহ্মপুত্রের জল ভারতকে দেওয়া বন্ধ করে দেয়? পাকিস্তানের নয়া আতঙ্ক কল্পনার জবাব— ভারত যখন পুরনো সিন্ধু জলচুক্তি থেকে সরে এসেছে, তখন পাকিস্তান তার মিত্র চিনের নাম করে আর একটি মিথ্যা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে – যদি চিন ভারতের দিকে ব্রহ্মপুত্রের জল বন্ধ করে দেয়?’ এই মিথ্যাটিকে আমরা ভয় দিয়ে নয়, বরং তথ্য দিয়ে ভেঙে দিই— ব্রহ্মপুত্র এমন একটি নদ যা ভারতে ‘বাড়ে’, ছোট হয় না। চিন ব্রহ্মপুত্রের মোট প্রবাহের মাত্র ৩০–৩৫ শতাংশ জল সরবরাহ করে, সেটিও প্রধানত হিমবাহ গলে যাওয়া ও সীমিত তিব্বতি বৃষ্টিপাত থেকে।”

    ব্রহ্মপুত্রের জল

    তিনি জানান, ব্রহ্মপুত্রের বাকি ৬৫–৭০ শতাংশ জল ভারতে তৈরি হয়, মূলত অরুণাচলপ্রদেশ, অসম, নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ে প্রচণ্ড বর্ষণের ফলে। এছাড়া সুবনসিরি, লোহিত, কামেং, মানাস, ধানসিরি, জিয়া-ভরালী, কপিলি ও খাসি, গারো ও জয়ন্তিয়া পাহাড় থেকে আসা নদী যেমন কৃষ্ণাই, দিগারু ও কুলসি ভারতের মধ্যে ব্রহ্মপুত্রকে প্রবাহিত রাখতে বড় অবদান রাখে। এভাবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্টভাবে বোঝান যে, চিন জল বন্ধ করলেও ব্রহ্মপুত্র ভারতের ভিতরেই বয়ে চলে এবং শক্তিশালী থাকে। পাকিস্তানের আতঙ্ক-সৃষ্টির প্রচেষ্টাকে তিনি তথ্য দিয়ে খণ্ডন করে দেন (Himanta Biswa Sarma)। ব্রহ্মপুত্রের উৎস তিব্বতের মালভূমি। ভারতীয় উপমহাদেশ, দেশের উত্তর-পূর্ব অংশকে কৃষিকাজের জল জোগায়, পানীয় জল জোগায়, বাস্তুতন্ত্র বজায় রাখে। তিব্বতের দক্ষিণ-পশ্চিমের চেমাইয়ুংদাং হিমবাহ থেকে এর উৎপত্তি। তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র পরিচিত ইয়ারলুং সাংপো নামে। অরুণাচলপ্রদেশে এর নাম হয়েছে দিহাং। সমস্ত উপনদী সঙ্গমে এসে মিশলে নাম হয় ব্রহ্মপুত্র। বাংলাদেশে এই নদেরই নাম যমুনা। শেষে এই নদী এসে মিশেছে সুন্দরবনের কাছে গঙ্গায়, যা থেকে তৈরি হয়েছে সুন্দরবন ব-দ্বীপ (Pakistan)।

    অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    অসমের মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “চুটিংয়ে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে জলের স্রোত ২০০০-৩০০০ কিউবিক মিটার প্রতি সেকেন্ডে। অসমের সমতল গুয়াহাটিতে তা-ই ফুলেফেঁপে হয় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার কিউসেক। ব্রহ্মপুত্রের উজানের ওপর ভারত নির্ভরশীল নয়। ব্রহ্মপুত্র ভারতের বৃষ্টিনির্ভর নদী ব্যবস্থার মধ্যে পড়ে, সেটি ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের পরেই শক্তিশালী হয়েছে। এই সত্যটা পাকিস্তানের জানা দরকার। আর চিন যদি জলের স্রোত বন্ধ করার কথা ভাবে (চিন অবশ্য এখনও এমন কথা বলেনি), তাতে ভারত উপকৃতই হবে। প্রতিবছর বন্যা হবে না অসমে, যাতে লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হন, জীবনজীবিকা নষ্ট হয় প্রতি বছর। অন্যদিকে, পাকিস্তান ৭৪ বছর ধরে সিন্ধু জলচুক্তির সুবিধা নিয়ে এসেছে। এখন ভারত নিজের সার্বভৌমিক ক্ষমতা দাবি করায় আতঙ্কিত। ওদের মনে করিয়ে দিই, ব্রহ্মপুত্রকে কোনও একপক্ষ নিয়ন্ত্রণ করে না। আমাদের ভূগোল, বর্ষা এবং সভ্যতা তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ এবং ভারত এখন তার জলসম্পদ সম্পর্কে স্বাধীন ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম (Himanta Biswa Sarma)।” অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তান সিন্ধু জলচুক্তির অধীনে ৭৪ বছর ধরে যে অগ্রাধিকারমূলক জলপ্রবাহের সুবিধা ভোগ করে এসেছে, এখন ভারত যখন বৈধভাবে তার সার্বভৌম অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে, তখন শত্রুর মতো আচরণ করা প্রতিবেশী দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    নাকের জলে চোখের জলে পাকিস্তান

    স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর আমলে স্বাক্ষরিত হওয়া সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার পর নাকের জলে চোখের জলে হওয়ার জোগাড় পাকিস্তানের। একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সিন্ধুর শাখানদীগুলির জলপ্রবাহ কমে যাওয়ায় পাঞ্জাব প্রদেশে ব্যাপক জলসংকট দেখা দিয়েছে। চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জলও মিলছে না (Pakistan)। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহবাজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইহসান আফজল রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ভারত যদি পাকিস্তানের জল বন্ধ করতে পারে, তাহলে চিনও ভারতের সঙ্গে একই কাজ করতে পারে। মনে হয় সেটা একেবারেই ভালো কাজ হবে না। এমনটা চলতে থাকলে পৃথিবীজুড়ে এক নয়া যুদ্ধ শুরু হবে (Himanta Biswa Sarma)।

  • India Pakistan Tension: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব দিল ভারত, কী বলল জানেন?

    India Pakistan Tension: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব দিল ভারত, কী বলল জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিত করার বিষয়টি (India Pakistan Tension) উত্থাপন করে নয়াদিল্লিকে কোণঠাসা করতে চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শনিবার তার জবাব দিল ভারত (UN Meet)। রাষ্ট্রসংঘে নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিল, ইসলামাবাদের মন্তব্য অপ্রয়োজনীয়। তারা অযথা ভারতের বিরুদ্ধে দোষারোপ করা বন্ধ করুক। কারণ পাকিস্তান থেকে ক্রমাগত সীমান্ত পারাপারের সন্ত্রাসবাদই এই চুক্তি বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসংঘের হিমবাহ বিষয়ক এক সম্মেলনের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওই মন্তব্য করেন। তার জবাবে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, “সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে চুক্তি লঙ্ঘন করছে পাকিস্তান নিজেই। আমরা অবাক হয়েছি পাকিস্তানের এই চেষ্টায়, যেখানে তারা এই ফোরামকে অপব্যবহার করে এমন বিষয় উত্থাপন করেছে যেগুলি এই ফোরামের আওতার মধ্যে পড়ে না। আমরা এই ধরনের চেষ্টার তীব্র নিন্দা করি।”

    ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিত (India Pakistan Tension)

    দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের জেরে পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামাবাদেকে ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধের অংশ হিসেবে সীমান্ত পারাপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও সাহায্য করার অভিযোগ করে আসছে। হিমবাহ সংরক্ষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শুক্রবার এই সিদ্ধান্তকে জলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এবং ইন্দাস নদীর জল বণ্টন সংক্রান্ত চুক্তিকে একতরফাভাবে ও অবৈধভাবে স্থগিত রাখার ভারতের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক (India Pakistan Tension)। তিনি বলেন, “কোটি কোটি মানুষের জীবনকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য জল বন্ধ করে রাখা উচিত নয় এবং পাকিস্তান তা কখনওই তা হতে দেবে না।”

    কী বললেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী?

    এর প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বলেন, “ইন্দাস জলচুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে পরিস্থিতির মধ্যে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে, যা এই চুক্তির বাধ্যবাধকতাগুলোর পুনর্মূল্যায়নকে জরুরি করে তোলে – এটি এমন একটি সত্য যা অস্বীকারযোগ্য নয়। এই পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং চলমান সীমান্ত পারাপার সন্ত্রাসবাদের হুমকি। তিনি বলেন, “তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অবিরাম সীমান্ত পারাপার সন্ত্রাসবাদ এই চুক্তির বিধান অনুযায়ী একে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার ক্ষমতাকে ব্যাহত করছে। পাকিস্তান নিজেই এই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, তাই ভারতের ওপর এর দোষ চাপানো থেকে বিরত থাকা উচিত।” তিনি বলেন, “পাকিস্তানের এই ফোরামকে অপব্যবহার করার এবং এমন বিষয় উত্থাপন করার প্রচেষ্টায় আমরা স্তম্ভিত, যেগুলি এই ফোরামের আওতাভুক্ত (UN Meet) নয়। আমরা এই ধরনের প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাই (India Pakistan Tension)।”

  • IWT: পাকিস্তানের সঙ্গে জল চুক্তি স্থগিত, নয়া জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ছে ভারত! চলছে একাধিক বিকল্পের পরীক্ষা

    IWT: পাকিস্তানের সঙ্গে জল চুক্তি স্থগিত, নয়া জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ছে ভারত! চলছে একাধিক বিকল্পের পরীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে দিয়েছে ভারত। দক্ষিণ কাশ্মীরের পাহেলগাঁওকাণ্ডের জেরে এই পদক্ষেপ করেছে (IWT) ভারত। এতে একদিকে যেমন বিপাকে পড়েছে পাকিস্তান। তেমনি অন্যদিকে, আখেরে লাভ হয়েছে ভারতের। সিন্ধু অববাহিকার তিন পশ্চিমাঞ্চলীয় নদী সিন্ধু, ঝিলাম এবং চেনাবের জল আরও ভালোভাবে ব্যবহারের জন্য একাধিক বিকল্প সম্ভাবনা পরীক্ষা করে দেখছে ভারত। এর মধ্যে চেনাব (চন্দ্রভাগা) নদী থেকে রাভি (ইরাবতী) নদীতে জল স্থানান্তরের জন্য ১০-১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ নির্মাণের প্রস্তাবও রয়েছে। ইন্ডাস ওয়াটার্স ট্রিটি (আইডব্লিউটি) অনুযায়ী, ভারত পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলো –শতদ্রু, ইরাবতী এবং বিয়াসের (বিপাশা) জল ব্যবহারের দাবিদার। আর পাকিস্তান পেয়ে থাকে পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলির জল ব্যবহারের অধিকার।

    ভারতের অধিকার (IWT)

    পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত হয়ে যাওয়ার পরে এখন সব জলের ওপর কায়েম হয়েছে ভারতের অধিকার। চেনাব নদীতে একটি টানেল নির্মাণের প্রস্তাবটি উঠে এসেছে দুটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে। এই বৈঠক দুটির একটি হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, অন্যটি হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে। দুই বৈঠকেই আলোচনা হয়েছে তিনটি পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীর জল কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে। বৈঠকগুলিতে উপস্থিত ছিলেন পিএমও, স্বরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ এবং জলশক্তি মন্ত্রক-সহ বিভিন্ন মন্ত্রকের পদস্থ কর্তারা।

    জোড়া বৈঠক

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন এক পদস্থ কর্তা সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “এটি বিবেচনাধীন একটি বিকল্প। চেনাবে টানেল নির্মাণের প্রযুক্তিগত ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ জলশক্তি মন্ত্রককে দেওয়া হয়েছে। কেবলমাত্র যদি এটি সম্ভবপর বলে প্রমাণিত হয়, তবেই আমরা প্রকল্পটি এগিয়ে নেব। সমীক্ষা শেষ হলে কী পরিমাণ জল এবং কোন জায়গা থেকে সরবরাহ করা যাবে – এসব তথ্যই স্পষ্ট হয়ে যাবে।” তিনি বলেন, “চেনাবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীরে কিশতোয়ার জেলায় অবস্থিত চারটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ৮৫০ মেগাওয়াট রাতলে, ১ হাজার মেগাওয়াট পাকাল দুল, ৬২৪ মেগাওয়াট কিরু এবং ৫৪০ মেগাওয়াট কওয়ারের কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আর এক সরকারি কর্তা বলেন, “পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলিতে চারটি প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ মন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (IWT)।

    সুড়ঙ্গ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ

    এগুলির মধ্যে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে অবস্থিত ১ হাজার ৮৫৬ মেগাওয়াটের সাওয়ালকোট, ৯৩০ মেগাওয়াটের কীরথাই-২ হাজার ২৬০ মেগাওয়াটের দুলহাস্তি পর্যায়-২ এবং ২৪০ মেগাওয়াটের উরি ১ পর্যায় -২ প্রকল্প।” সুড়ঙ্গ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ যে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প, তা স্বীকার করে নেন বৈঠকে উপস্থিত কর্তারা। তিনি বলেন, “এগুলিতে সময় লাগবে। তবে বর্তমানেই পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলিতে আমাদের পরিকাঠামোর ক্ষমতা বাড়ানো শুরু করা উচিত বলে মনে করা হয়েছে।” স্বল্পমেয়াদে ভারত পূর্বাঞ্চলীয় ও পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলিতে যে জলাধারগুলি রয়েছে, সেগুলিতে ড্রাউনডাউন ফ্লাশিং বা পলি অপসারণ পদ্ধতি পরিচালনার কথাও বিবেচনা করছে। সিন্ধু জল চুক্তি অনুযায়ী জলাধারে ড্রাউনডাউন ফ্লাশিং নিষিদ্ধ। ফ্লাশিং না করলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জলাধারে পলি জমে দীর্ঘমেয়াদে সেগুলি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ওই কর্তা বলেন, “যেহেতু আইডব্লিউটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে, ভারত পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলির জলাধারেও ড্রাউনডাউন ফ্লাশিং করতে পারবে, যা চুক্তি অনুযায়ী অনুমোদিত নয় (IWT)।”

    ইন্ডাস জল চুক্তি

    ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্ততায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ইন্ডাস জল চুক্তি। এই চুক্তি অনুযায়ী, ভারতকে ইরাবতী, বিয়াস ও শতদ্রুর পূর্বাংশের জল ব্যবহারের সম্পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা সিন্ধু নদ ব্যবস্থার মোট জলের প্রায় ২০ শতাংশ। অন্যদিকে, পাকিস্তানকে পশ্চিমাংশের সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর জল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা সিন্ধু নদের প্রায় ৮০ শতাংশ জল বহন করে। এই চুক্তি অনুসারে, ভারত এই তিনটি পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীর জল “অ-খরচযোগ্য” উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে। যেমন, নদীর প্রবাহভিত্তিক জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি ও গৃহস্থালির কাজে এই জল ব্যবহার করা যেতে পারে। “রান-অফ-দ্য-রিভার” প্রকল্প বলতে বোঝায় এমন বিদ্যুৎকেন্দ্র যেখানে জলাধার নির্মাণ ছাড়াই সরাসরি নদীর প্রবাহ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

    জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রভূত সম্ভাবনা

    ভারত পূর্বের নদীগুলির নিজের ভাগের প্রায় ৯৫ শতাংশ জল বাঁধের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যবহার করলেও, পশ্চিমের নদীগুলির জল ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। পশ্চিমের তিন নদীতে ভারতের নির্মিত প্রধান জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে বাগলিহার, সলাল ও কিশনগঙ্গা (IWT)। এক সরকারি আধিকারিকের মতে, “বর্তমানে আইডাব্লুটি স্থগিত থাকায় ভারত এই সুযোগে পশ্চিমের নদীগুলিতে থাকা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিকে দ্রুত শেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জল সংরক্ষণের নতুন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে।” প্রসঙ্গত, বর্তমানে পশ্চিমের নদীগুলি থেকে ভারত যে জল ব্যবহার করতে পারে, তা দিয়ে ১৮ হাজার ৫৬৯ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে (IWT)।

LinkedIn
Share