Tag: Insomnia In Young Adults

  • Insomnia In Young Adults: ‘জেন জি’ কি ঘুমের সমস্যায় ভুগছে? কী ধরনের সমস্যা বাড়ছে?

    Insomnia In Young Adults: ‘জেন জি’ কি ঘুমের সমস্যায় ভুগছে? কী ধরনের সমস্যা বাড়ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কখনও দিনভর ক্লান্তি ভাব। আবার কখনও কাজের প্রতি অনিহা এবং মেজাজ খিটখিটে ভাব। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন,‌ নেপথ্যে থাকতে পারে পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি। তরুণ প্রজন্মের অন্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠছে অনিদ্রা (Insomnia In Young Adults)। মে মাস হল বেটার স্লিপ অ্যাওয়ারনেস মান্থ (Better Sleep Awareness Month)। একাধিক সর্বভারতীয় সমীক্ষার উঠে এসেছে ঘুম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এখনই সতর্ক না হলে দেশজুড়ে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    কী বলছে সমীক্ষার রিপোর্ট?

    ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাড়ছে অনিদ্রার সমস্যা (Insomnia In Young Adults)। একাধিক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রায় ২৬ শতাংশ তরুণ ভারতীয় ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন। ৩৭ শতাংশ ভারতীয়দের অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া রয়েছে। অর্থাৎ, ভালোভাবে ঘুম হয় না। ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। ২০ শতাংশ ভারতীয় দিনে কাজের সময় ঘুম ঘুম ভাব এবং ক্লান্তি বোধ করেন। অর্থাৎ প্রতি চারজনের মধ্যে একজন ভারতীয় ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন। শহুরে ভারতীয়দের মধ্যে এই সমস্যা আরও বেশি। একাধিক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ জেন জি নামে, যারা পরিচিত, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন।

    কেন জেন জি অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের ঘুমের সমস্যার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। তাঁরা জানাচ্ছেন, জেন জি-দের মধ্যে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে মোবাইলে সময় কাটানোর প্রবণতা বড্ড বেশি। ঘুমোনোর আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুকে উত্তেজিত করে দেয়। তাই গভীর ঘুম হয় না।
    • এছাড়াও মানসিক চাপের সমস্যা বাড়ছে‌। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্ট্রেসের সমস্যা ঘুমের সমস্যাও তৈরি করছে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই কাজ এবং ব্যক্তিগত কারণে মানসিক চাপে ভুগছেন। তার জেরেই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে।
    • অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস ঘুমের সমস্যা তৈরি করছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনিয়মিত ভাবে খাবার খেলে অনেক সময়েই হজমের সমস্যা তৈরি হয়। যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। কম বয়সিদের মধ্যে অনিয়মিত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস বাড়ছে। পর্যাপ্ত ঘুমের সমস্যার নেপথ্যে এটা থাকে।

    তরুণ প্রজন্মের জন্য কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    মে মাস বেটার স্লিপ অ্যাওয়ারনেস মান্থ! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। এই নিয়ে সচেতনতার হার বড্ড কম। অনিদ্রা বা ঠিকমতো ঘুম না হওয়ার জেরে শুধুই ক্লান্তি ভাব বাড়ে না। বরং এই সমস্যা আরও গভীর। শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অপর্যাপ্ত ঘুম মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এর ফলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। মস্তিষ্ক ও স্নায়ু ক্লান্ত হয়ে থাকে। মানসিক অবসাদ এবং চাপ বাড়তে পারে। কাজের দক্ষতা নষ্ট হয়। স্মৃতিশক্তি কমতে পারে। তাছাড়া দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এমনকি রোগ প্রতিরোধ শক্তি ও কমতে থাকে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। ঘুম পর্যাপ্ত না হলে বিপদ বাড়বে, এই সম্পর্কে সচেতনতাও জরুরি।‌ চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, প্রাপ্ত বয়স্কদের নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমোনো জরুরি। শিশুদের কমপক্ষে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। শরীর ও মন সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। সেদিকে নজর রেখেই প্রতিদিনের কাজের সময় নির্ধারণ জরুরি। ভালো ঘুমের জন্য নিয়মিত যোগাভ্যাস প্রয়োজন আবার ঘুমের আগে অতিরিক্ত মোবাইল দেখার অভ্যাস পরিবর্তন প্রয়োজন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share