Tag: Intelligence Sharing

  • Canada: ঢোক গিলল কানাডা! খালিস্তানপন্থীরা উদ্বেগের কারণ, এবার জানাল সেদেশের গোয়েন্দা সংস্থাও

    Canada: ঢোক গিলল কানাডা! খালিস্তানপন্থীরা উদ্বেগের কারণ, এবার জানাল সেদেশের গোয়েন্দা সংস্থাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ কূটনৈতিক জয় হল ভারতেরই! ঢোক গিলতে হল কানাডাকে। খালিস্তানপন্থীরা যে ক্রমেই কানাডায় জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, তা জানিয়ে দিয়েছে কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (CSIS)। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে, খালিস্তানপন্থীরা এখনও কানাডার ভেতরে চরমপন্থী অ্যাজেন্ডা প্রচার করছে। বস্তুত, এই কথাটাই নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে কানাডাকে, প্রকাশ করেছে উদ্বেগও। এবার সেই একই উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কানাডার গোয়েন্দারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতের একটি কূটনৈতিক স্বীকৃতি।

    হুমকির পরিবেশ তৈরি করছে খালিস্তানপন্থীরা (Canada)

    ২০২৫ সালের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই রিপোর্টটি কানাডার সংসদে উপস্থাপন করা হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার মাটিতে কোনও হামলা না হলেও, অব্যাহত রয়েছে উদ্বেগ। রিপোর্টটি এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৮২ বোমা হামলার ৪০তম বার্ষিকীর প্রেক্ষাপটে তৈরি, যেখানে ৩২৯ জন নিহত হয়েছিলেন। কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হিসেবে বিবেচিত হয় ওই ঘটনা। যদিও ২০২৫ সালে কানাডা-ভিত্তিক খালিস্তানি চরমপন্থীদের সঙ্গে যুক্ত কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি, তবুও এতে সতর্ক করা হয়েছে যে হুমকির পরিবেশ এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং পরিবর্তনশীল। গোয়েন্দাদের মতে, “সিবিকেইদের হিংসাত্মক চরমপন্থী কার্যকলাপ অব্যাহত। এটি কানাডা এবং কানাডার স্বার্থের জন্য একটি জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে রয়ে গিয়েছে।” প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি কানাডিয়ান সমাজেও সংযুক্ত এবং তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে চরমপন্থী মতাদর্শ প্রচার করছে। সাধারণ মানুষের অজান্তে তহবিল জোগাড় করে তা হিংসাত্মক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    কানাডার ভূখণ্ডকে ঘাঁটি করা হচ্ছে

    প্রসঙ্গত, এটি গত এক বছরে সিএসআইএসের পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বারের মতো এমন সতর্কবার্তা। ২০২৫ সালের জুন মাসের প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছিল, খালিস্তানি চরমপন্থীরা কানাডার ভূখণ্ডকে প্রচার, তহবিল জোগাড় এবং হিংসার ষড়যন্ত্র ছকার নীল নকশার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে, যার মূল লক্ষ্য হল ভারত। এইসব তথ্য নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে। ভারত বারবার অটোয়াকে (কানাডার রাজধানী) এই ধরনের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। এই ইস্যুটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে, বিশেষ করে প্রাক্তন কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সময়ে। নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধের কারণে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পৌঁছেছিল তলানিতে।

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্য

    ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যৌথ প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ভারত সফর করেন। এই সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দশ মাসে তৃতীয়বারের মতো সাক্ষাৎ করেন, যা সম্পর্ক পুনর্গঠনের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয় বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। এই সফরের আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল অটোয়া সফর করেন, যা সংবেদনশীল নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে যে আলাপ-আলোচনা চলছে, তারই প্রতিফলন। তার সঙ্গে কানাডার জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা উপদেষ্টা নাথালি দ্রুইনের আলোচনার ফলে উভয় দেশই নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যোগাযোগ রাখতে আধিকারিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য হল, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত বিনিময় করা এবং সহযোগিতা জোরদার করা।

    মার্চ মাসে ভারতের বৈঠকে মোদি সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বৈশ্বিক প্রভাবের ওপর জোর দেন। যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই চ্যালেঞ্জগুলি শুধু ভারত ও কানাডার জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই গুরুতর। এই হুমকিগুলি মোকাবিলায় দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই নয়া কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং গোয়েন্দা পর্যায়ের সমন্বয় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় সতর্ক এবং দৃঢ় প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

     

  • PM Modi: ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা! ভারতকে সঙ্গে নিয়ে নয়া ‘ষড়ভুজ জোটের’ প্রস্তাব নেতানিয়াহুর, সঙ্গে আর কারা?

    PM Modi: ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা! ভারতকে সঙ্গে নিয়ে নয়া ‘ষড়ভুজ জোটের’ প্রস্তাব নেতানিয়াহুর, সঙ্গে আর কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তার আগেই জেরুজালেম থেকে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক জোটের প্রস্তাব সামনে এসেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) যাকে তিনি “হেক্সাগন অফ অ্যালায়েন্স” (ষড়ভুজ জোট) বলেছেন, তার রূপরেখা প্রকাশ্যে এনেছেন। নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত জোটের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে (পশ্চিম এশিয়া) তাঁর ভাষায় “র‍্যাডিক্যাল অ্যাক্সিস” বা চরমপন্থী অক্ষশক্তির মোকাবিলা করা। তিনি ইজরায়েল, গ্রিস ও সাইপ্রাসের পাশাপাশি ভারতকে এই জোটের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইজরায়েলি বিদেশ দফতরের ২২ ফেব্রুয়ারির বিবৃতি অনুযায়ী, আরও কিছু আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশ এই কাঠামোর অংশ হতে পারে।

    ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনা (PM Modi)

    এই ঘোষণা এমন একটা সময়ে এল যখন ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনা বাড়ছে এবং পাকিস্তান ও সৌদি আরব ন্যাটোর ধাঁচে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে একত্রিত হয়েছে। এখানে তুরস্কও যোগ দিতে আগ্রহী। নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে মোদি ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েলে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এটি মোদির দ্বিতীয় ইজরায়েল সফর। মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সফরকালে দুই নেতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করবেন। ২২ ফেব্রুয়ারির মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেতানিয়াহু এই ধারণার রূপরেখা তুলে ধরেন বলে ইজরায়েল সরকারের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কী বললেন নেতানিয়াহু

    নেতানিয়াহু বলেন, “আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের চারপাশে বা ভেতরে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলব—মূলত এটি হবে একটি হেক্সাগন জোট (PM Modi)।” তিনি বলেন, “এর মধ্যে থাকবে ভারত, আরব দেশসমূহ, আফ্রিকান দেশসমূহ, ভূমধ্যসাগরীয় দেশ (গ্রিস ও সাইপ্রাস) এবং এশিয়ার কিছু দেশ, যাদের নাম এখন উল্লেখ করছি না। আমি এটি সংগঠিতভাবে উপস্থাপন করব (Benjamin Netanyahu)।” নেতানিয়াহু বলেন, “উদ্দেশ্য হল এমন দেশগুলির একটি অক্ষ তৈরি করা, যারা চরমপন্থী অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং লক্ষ্য নিয়ে একমত। তা সে চরমপন্থী শিয়া অক্ষই হোক, যাকে আমরা কঠোরভাবে আঘাত করেছি, অথবা উদীয়মান চরমপন্থী সুন্নি অক্ষ। এই দেশগুলির দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা এবং আমাদের সহযোগিতা বড় ফল দিতে পারে, পাশাপাশি আমাদের স্থিতিস্থাপকতা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারে।”

    ‘হেক্সাগন’ জোটের আহ্বান

    এই কাঠামোর লক্ষ্য নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর করা (PM Modi)। প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহুর ‘হেক্সাগন’ জোটের আহ্বান তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি পশ্চিম ও দক্ষিণ এশিয়ায় চলমান এক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। ভারত-ইউএই-ইজরায়েল-গ্রিস সমঝোতার আগের আলোচনা থেকে ভিন্নভাবে, এটি প্রকাশ্য কৌশলগত নীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নেতানিয়াহু সরাসরি প্রতিপক্ষদের নাম উল্লেখ করেছেন এবং উদ্দেশ্যও স্পষ্ট করেছেন (Benjamin Netanyahu)। ইজরায়েলের এই প্রস্তাব এমন একটা সময়ে এসেছে যখন সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত সৌদি-পাকিস্তান কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অঞ্চলজুড়ে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের “ইসলামিক ন্যাটো” (PM Modi)। নেতানিয়াহু এই নয়া জোটকে একটি পাল্টা ভারসাম্য হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, “চরমপন্থী শিয়া অক্ষ, যাকে আমরা কঠোরভাবে আঘাত করেছি, এবং উদীয়মান চরমপন্থী সুন্নি অক্ষ—উভয়ের বিরুদ্ধেই।”

    “র‍্যাডিক্যাল শিয়া অক্ষ”

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, “র‍্যাডিক্যাল শিয়া অক্ষ” বলতে মূলত ইরান ও তার সহযোগী গোষ্ঠী যেমন হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের বোঝানো হয়েছে (Benjamin Netanyahu)। “উদীয়মান র‍্যাডিক্যাল সুন্নি অক্ষ” বলতে পশ্চিম এশিয়ায় আইএসআইএসের অবশিষ্টাংশ ও অন্যান্য জঙ্গি নেটওয়ার্ক-সহ চরমপন্থী হুমকিকে বোঝানো হয়েছে। এই জোটের গুরুত্ব হল, এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভারত, ইউএই এবং ইজরায়েল বহু বছর ধরে সহযোগিতা করছে আব্রাহাম চুক্তি ও আই২ইউ২ (I2U2) গোষ্ঠীর মাধ্যমে। যদিও আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা চুক্তি ছিল না। প্রসঙ্গত, “হেক্সাগন” শব্দ ব্যবহার করে নেতানিয়াহু একটি কাঠামোবদ্ধ স্থাপত্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেখানে গ্রিস, সাইপ্রাস, এশিয়া এবং আফ্রিকার আরও কিছু দেশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে ভারতকে (Benjamin Netanyahu) কল্পনা করা হয়েছে প্রধান অংশীদার হিসেবে (PM Modi)।

     

LinkedIn
Share