Tag: Interim Trade Agreement

  • India US Trade Deal: চুপিসারে বাণিজ্য চুক্তির ফ্যাক্ট-শিটের ভাষায় বদল এনে সুর নরম আমেরিকার!

    India US Trade Deal: চুপিসারে বাণিজ্য চুক্তির ফ্যাক্ট-শিটের ভাষায় বদল এনে সুর নরম আমেরিকার!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চুপিসারে বাণিজ্য চুক্তির ফ্যাক্ট-শিটের (Fact Sheet) ভাষায় বদল এনে সুর নরম করল আমেরিকা (India US Trade Deal)। হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশের একদিন পরেই গোপনে ভারত–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির ফ্যাক্টশিটের ভাষা ও কিছু শর্ত সংশোধন করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে, ভারত “৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কিনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ” -এই বাক্যাংশটি পরিবর্তন করে করা হয়েছে “কিনতে ইচ্ছুক”, যা চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানকে নমনীয় করেছে।

    ফ্যাক্টশিটে ভাষা বদল (India US Trade Deal)

    ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক ও পরস্পর-লাভজনক বাণিজ্য চুক্তির একটি কাঠামো ঘোষণা করার কয়েকদিন পর, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস চুক্তির মূল শর্তসমূহ উল্লেখ করে একটি ফ্যাক্টশিট প্রকাশ করে। ওই নথিতে বলা হয়েছিল, ভারত সব মার্কিন শিল্পপণ্যের ওপর শুল্ক বাতিল বা হ্রাস করবে এবং বিভিন্ন মার্কিন খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপরও শুল্ক কমাবে। ফ্যাক্টশিটের প্রাথমিক সংস্করণে বলা ছিল: “ভারত আরও বেশি মার্কিন পণ্য কিনতে এবং জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য, কয়লা ও অন্যান্য পণ্য মিলিয়ে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি কিনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তবে বর্তমানে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে থাকা সংস্করণে বলা হয়েছে, ভারত আরও বেশি মার্কিন পণ্য কিনতে “ইচ্ছুক”। এছাড়া পণ্যের তালিকা থেকে “কৃষিপণ্য” শব্দটিও বাদ দেওয়া হয়েছে।

    শিল্পপণ্যের ওপর শুল্ক বাতিল বা হ্রাস

    একইভাবে, আগের সংস্করণে বলা হয়েছিল: “ভারত সব মার্কিন শিল্পপণ্যের ওপর শুল্ক বাতিল বা হ্রাস করবে এবং শুকনো ডিস্টিলার্স গ্রেইনস, লাল জোয়ার, ট্রি নাটস, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, কিছু ডালজাতীয় পণ্য, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও স্পিরিট-সহ বিভিন্ন মার্কিন খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে (India US Trade Deal)।” সংশোধিত সংস্করণে এই তালিকা থেকে “কিছু ডালজাতীয় পণ্যের” উল্লেখ বাদ দেওয়া হয়েছে (Fact Sheet)। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে, আগের ফ্যাক্টশিটে বলা হয়েছিল, “ভারত তার ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স প্রত্যাহার করবে” এবং “বৈষম্যমূলক বা অতিরিক্ত বোঝাস্বরূপ চর্চা ও ডিজিটাল বাণিজ্যের অন্যান্য বাধা মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক ডিজিটাল বাণিজ্য বিধিমালা নিয়ে আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” কিন্তু নতুন ফ্যাক্টশিটে “ভারত ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স প্রত্যাহার করবে”—এই বক্তব্যটি আর নেই। সেখানে কেবল উল্লেখ রয়েছে যে, “ভারত একটি শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক ডিজিটাল বাণিজ্য বিধিমালা নিয়ে আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি

    গত সপ্তাহে ভারত ও আমেরিকা একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ঘোষণা করে, যার আওতায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে উভয় দেশ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি শুল্ক কমাবে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বর্তমান ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাবে। এর বিনিময়ে ভারত সব মার্কিন শিল্পপণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বাতিল বা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে এবং শুকনো ডিস্টিলার্স গ্রেইনস, পশুখাদ্যের জন্য লাল জোয়ার, ট্রি নাটস, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও স্পিরিট-সহ বিভিন্ন মার্কিন খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে (India US Trade Deal)। দুই পক্ষের জারি করা যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে ভারত ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের মার্কিন জ্বালানি পণ্য, বিমান ও বিমান যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তিপণ্য এবং কোকিং কয়লা কেনার পরিকল্পনা করছে (Fact Sheet)।

    চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের অগাস্টে রুশ তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন। তিনি বলেন, “ভারত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে এবং নয়াদিল্লি মস্কো থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তেল আমদানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ নয়াদিল্লি (Fact Sheet) ও ওয়াশিংটন চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে (India US Trade Deal)।

     

  • India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ঘোষণা করার পর, ট্রাম্প প্রশাসনের শেয়ার করা ভারতের একটি মানচিত্র (India Map) চলে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরালও (Trade Deal) হয়েছে এই মানচিত্রটি। বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর (USTR) যে ভারতের মানচিত্র প্রকাশ করে, তাতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুরো অঞ্চল এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে (POK) ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই মানচিত্রে আকসাই চিনকেও ভারতের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও চিন এই অঞ্চলকে নিজের ভূখণ্ড বলেই দাবি করে।

    নয়া মানচিত্র (India Map)

    অবশ্য ভারতের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল না। ভারত বরাবরই বলে আসছে যে কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবু এই মানচিত্র আমেরিকার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে একটি স্পষ্ট বিচ্যুতি নির্দেশ করে। এটি ইচ্ছাকৃতই হোক বা অনিচ্ছাকৃত, পাকিস্তানের উদ্দেশে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ভারতের মানচিত্রের সঙ্গেই সাযুজ্য রাখছে। এর আগে আমেরিকা বা তাদের বিদেশ দফতর যে মানচিত্রগুলি প্রকাশ করত, তাতে সাধারণত পাকিস্তানের আপত্তির কথা মাথায় রেখে পিওকে-কে স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখানো হত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ প্রকাশিত মানচিত্র পাকিস্তানের দাবিকে কার্যত উপেক্ষাই করেছে। এই ঘটনার সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্থির ও অনিশ্চিত অবস্থায় ট্রাম্প নেতৃত্ব এক টালমাটাল সময় পার করার পর ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার তাদের সম্পর্ক নতুন করে সাজাচ্ছে। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে সর্বোচ্চ। নতুন বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় সেই শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এশীয় দেশগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন (India Map)।

    ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত

    এছাড়া ট্রাম্প আবারও ভারত ও পাকিস্তানকে একসঙ্গে দেখার (re-hyphenation) নীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করেন, যা জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের শুরু করা ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত এবং পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টরাও তা অনুসরণ করে এসেছিলেন। মানচিত্রে লাদাখের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত বিতর্কিত আকসাই চিন অঞ্চলকেও ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যদিও চিন দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের আপত্তি উপেক্ষা করে এই অঞ্চলের ওপর দাবি জানিয়ে আসছে (Trade Deal)। প্রসঙ্গত, ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) বারবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতর ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীর এবং অরুণাচল প্রদেশের ভুল উপস্থাপনার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে এসেছে। আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপে অবশেষে ভারতের এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা দ্রুত এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর গৌরব আর্য টুইট করে লেখেন, “মানচিত্রের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পুরো নম্বর। খুব ভালো কাজ (India Map)।”

    পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    আর এক ইউজার লেখেন, “পাকিস্তান, (আসিম) মুনির এবং ওয়াশিংটন সফর নিয়ে প্রচারের পক্ষে এটা একটা বড় ধাক্কা”, যা ইসলামাবাদের ট্রাম্পকে তোষামোদ করার প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে (Trade Deal)। গত ছ’মাসে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তিনবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে দু’বার সাক্ষাৎ করেছেন, যার মধ্যে জুন মাসের একটি বহুল আলোচিত মধ্যাহ্নভোজও রয়েছে। এটি ছিল প্রথমবার, যখন কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেন, কোনও বেসামরিক নেতৃত্ব ছাড়াই। এক সাংবাদিক টুইট-বার্তায় লেখেন, “বাণিজ্য গৌণ বিষয়। আসল বিষয় হল, এই মানচিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান থেকে বড় পরিবর্তন, যেখানে পিওকে-কে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হত।”

    অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি

    তবে মধ্য-মার্চে স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ভারতের রফতানিকারীদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে, বিশেষত ৫০ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের পরে। ভারত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, ওষুধ, গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশে ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, যদিও কৃষি ও দুগ্ধ খাতে নিজের ‘রেড লাইন’ অটুট রেখেছে (India Map)। এখন প্রশ্ন হল, এই মানচিত্র কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে সূক্ষ্ম কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যা ভারতের দিকে ঝুঁকছে? এটি কি ট্রাম্পের সঙ্গে এক বছরের টানাপোড়েনের পর ভারতকে তুষ্ট করার কৌশল, নাকি নিছকই আমলাতান্ত্রিক অসাবধানতা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, এই (Trade Deal) মানচিত্র ভারতকে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সুবিধা দিয়েছে এবং ভারতের সবচেয়ে সংবেদনশীল ভূখণ্ডগত দাবিকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে (India Map)।

     

LinkedIn
Share