Tag: International Diplomacy

  • PM Modi: কূটনৈতিক সফরে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী, বৈঠক করবেন মাক্রঁর সঙ্গেও

    PM Modi: কূটনৈতিক সফরে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী, বৈঠক করবেন মাক্রঁর সঙ্গেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সফরে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ১৩ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত চলা এই সফরে তিনি ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফরের পাশাপাশি জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনেও (G7 Summit) অংশ নেবেন। ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে ভারতের ভূমিকা তুলে ধরাই প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল লক্ষ্য।

    মাক্রঁর সঙ্গে বৈঠক (PM Modi)

    সফরের প্রথম পর্যায়ে ফ্রান্সের নিস শহরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই রাষ্ট্রপ্রধান ভারত-ফ্রান্স বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবেন। এর পাশাপাশি যৌথভাবে উদ্বোধন করবেন ‘ভারত ইনোভেটস’ কর্মসূচি, যেখানে ভারত ও ফ্রান্সের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের স্টার্টআপ এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলি অংশ নেবে। উদীয়মান প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

    মোদি যাবেন স্লোভাকিয়ায়

    ফ্রান্স সফরের পর প্রধানমন্ত্রী যাবেন স্লোভাকিয়ায়। সেখানকার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর আমন্ত্রণে ওই দেশে যাবেন মোদি। ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী স্লোভাকিয়া সফরে যাচ্ছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে। সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো এবং প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনির সঙ্গে বৈঠক করবেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল শিল্প এবং রেলওয়ে উৎপাদন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। ভারত ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ২০২৫ সালের এপ্রিলে স্লোভাকিয়া সফর করেন। ওই বছরই স্লোভাক প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি ভারতের এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নিতে ভারত সফর করেন (PM Modi)।

    জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী

    সফরের তৃতীয় পর্যায়ে ১৬ ও ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন মোদি। সেখানে জি-৭ সদস্য দেশ, আমন্ত্রিত অংশীদার রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংহতি পুনর্গঠন, ভারসাম্যপূর্ণ ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং এআইয়ের নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করবেন তিনি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে (G7 Summit)। সফরের শেষে ১৮ জুন প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউরোপের বৃহত্তম প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ সম্মেলন ‘ভিভাটেক’-এ যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। মত বিনিময় করবেন ফ্রান্সে বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও। ভারত সরকারের মতে, ‘ভারত ইনোভেটস’ এবং ‘ভিভাটেক’-এ প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ভারতের উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ইউরোপের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

    ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক

    বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে (PM Modi)। এবারের বৈঠকে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এর ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে (G7 Summit)। বিদেশমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে স্লোভাকিয়ার স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন সেই দেশ সফরে। তাই এই সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউরোপের এই দেশের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    নয়া সহযোগিতার দোর খুলবে

    সফর শুরুর আগে এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইউরোপ এবং জি-৭ এর সদস্য দেশগুলির সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা এই সফরের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হবে। এর পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে ভারতের প্রতিশ্রুতির কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি (PM Modi)। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সফরে ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া এবং জি-৭ এর সদস্য  দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতার নয়া ক্ষেত্র তৈরি হবে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, কৌশলগত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ক্রমেই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাঁদের মতে, এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে না, বরং (G7 Summit) আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রাঙ্গনেও ভারতের ভূমিকা আরও দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে নয়া সহযোগিতার দোর খুলে দেবে। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) এই ইউরোপ সফরকে ভারতীয় কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

     

  • India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ তকমাকে বলল রাষ্ট্রীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল

    India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ তকমাকে বলল রাষ্ট্রীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানোর অভিযোগ তুলল ভারত (India Slams Pakistan)। সোমবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UN Security Council) আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পার্বতানেনি বলেন, “পাকিস্তান নিজেদের দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে।”

    পাকিস্তানকে তোপ ভারতের (India Slams Pakistan)

    গত বছর পাকিস্তান নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় একাধিক জঙ্গি সংগঠনকে এই নামে চিহ্নিত করে দাবি করেছিল যে, তারা ভারতের মদতপুষ্ট। যদিও এই দাবির স্বপক্ষে ইসলামাবাদ কোনও প্রমাণ দাখিল করেনি। এ প্রসঙ্গে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে এই নামকরণ আসলে পাকিস্তানের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের অংশ।” তিনি বলেন, “পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে এই ধরনের প্রচার চালাচ্ছে।” তাঁর দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ জিইয়ে রেখে পাকিস্তান আসলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে।

    পাকিস্তানের সমালোচনা

    তিনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামো ও সেনাবাহিনীর ভূমিকার সমালোচনাও করেন। পার্বতানেনির অভিযোগ, সাম্প্রতিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব আরও বেড়েছে। আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানেরও তীব্র সমালোচনা করে ভারত। পার্বতানেনি সাফ জানিয়ে দেন, অসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটিয়ে কোনও অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ বলা যায় না। তিনি এও বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও ইসলামি সংহতির কথা বললেও, রমজান মাসে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে পাকিস্তান ভণ্ডামির পরিচয় দিয়েছে।” ভারতের প্রতিনিধি দাবি করেন, প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর নিজেদের ব্যর্থতার দায় চাপানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানের।

    পাক-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী ও শিশু-সহ অন্তত ১৩ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হওয়ার তথ্য সামনে আসে। এরপর দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ ও পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু হয়। মার্চ মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানিয়েছিল, সংঘর্ষে আফগানিস্তানে অন্তত ৪২ জন নিহত ও ১০৪ জন আহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ (India Slams Pakistan)। এরপর আফগান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, ওই হামলায় ৪০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যদিও রাষ্ট্রসঙ্ঘ (UN Security Council) অন্তত ২৬৯ জনের মৃত্যুর খবর যাচাই করেছে। আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমলেও, সীমান্তে এখনও ঘটছে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা (India Slams Pakistan)।

     

LinkedIn
Share