Tag: International Monetary Fund

International Monetary Fund

  • UPI: দশ বছর পূর্ণ করল ইউপিআই, লেনদেনের পরিমাণ কত বেড়েছে জানেন?

    UPI: দশ বছর পূর্ণ করল ইউপিআই, লেনদেনের পরিমাণ কত বেড়েছে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল ইউপিআই (UPI)। ২০১৬ সালের ২৫ অগাস্ট ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার উদ্যোগে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা ২০২৬ সালে পূর্ণ করল দশ বছর। এক দশকের মধ্যেই ইউপিআই ভারতের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে (PM Modi)। একই সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে যেখানে মাত্র ১ কোটি ৭৮ লাখ  লেনদেন হয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৬২ কোটিরও বেশি। অর্থাৎ মাত্র এক দশকের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যায় প্রায় ১৩ হাজার গুণ বৃদ্ধি ঘটেছে। ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে এই বিপুল সম্প্রসারণ ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।

    ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেন (UPI)

    শুধু লেনদেনের সংখ্যা নয়, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্যও গত দশ বছরে নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের মূল্য ছিল মাত্র ০.০৭ লাখ  কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৩১৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ লেনদেনের আর্থিক মূল্যে চার হাজার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি ঘটেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য, ইউপিআই এখন ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের পরিকাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। একই সঙ্গে এটি এমন একটি তাৎক্ষণিক ও পারস্পরিক সংযুক্ত অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে একটি মাত্র প্রয়োগের সাহায্যে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির এবং ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর মধ্যে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে অর্থ লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে ইউপিআই অর্থপ্রদানের অন্যতম পছন্দের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দোকানে কেনাকাটা, পরিষেবার মূল্য মেটানো, ব্যক্তিগতভাবে টাকা পাঠানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার ক্রমশ বেড়েছে। এর ফলে নগদ অর্থের উপর নির্ভরতা কমেছে এবং দ্রুত, সহজ ও তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    কী বলছে অর্থমন্ত্রক

    অর্থমন্ত্রকের দাবি, ইউপিআই শুধু শহরাঞ্চলের মানুষের জীবনকে সহজ করেনি, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার সুযোগ বাড়িয়েছে। প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমিয়ে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়ে এটি দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করেছে। এর ফলে অর্থনীতিতে বৃহত্তর মানুষের অংশগ্রহণের পথও আরও প্রশস্ত হয়েছে। ইউপিআইয়ের (UPI) সাফল্য এখন শুধু ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল অর্থপ্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবেও এটি আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে ১১টি দেশে ইউপিআই কার্যকর রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ফ্রান্স, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, কাতার, কম্বোডিয়া, গ্রিস এবং মালদ্বীপে এর ব্যবহার চালু হয়েছে। ফলে ভারতের তৈরি এই ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ক্রমশ পক্ষ্ম বিস্তার করছে (PM Modi)।

    ইউপিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতা

    বিশ্বব্যাপী ইউপিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতাও ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ইউপিআইকে লেনদেনের পরিমাণের নিরিখে বিশ্বের বৃহত্তম তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নির্মাণে ভারতের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদানের লেনদেনের প্রায় ৪৯ শতাংশই ইউপিআইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের বিস্তার এবং ইউপিআইয়ের আন্তর্জাতিক গুরুত্বের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি দেখায়, কীভাবে একটি দেশীয় ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে।

    অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য

    আকাশবাণীর এক প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে (UPI) জানানো হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ইউপিআইয়ের লেনদেনের পরিমাণ এবং আর্থিক মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। ২০১৬ সালে চালু হওয়ার সময় যে ব্যবস্থা ছিল সীমিত পরিসরের, দশ বছর পরে সেটিই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউপিআইয়ের সাফল্যের অন্যতম কারণ হল এর সহজ ব্যবহারযোগ্যতা। সাধারণ মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠাতে বা গ্রহণ করতে পারছেন। ছোট ব্যবসায়ী থেকে বড় প্রতিষ্ঠান—বিভিন্ন স্তরের ব্যবহারকারীর কাছে এই ব্যবস্থা পৌঁছে যাওয়ায় ডিজিটাল লেনদেনের পরিধিও দ্রুত বেড়েছে (PM Modi)।

    ডিজিটাল লেনদেন

    ইউপিআইয়ের (UPI) বিস্তার ভারতের আর্থিক ব্যবস্থায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। আগে ব্যাংকিং পরিষেবা থেকে দূরে থাকা বহু মানুষ এখন মোবাইলভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন। ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়ছে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসা, খুচরো বিক্রি এবং দৈনন্দিন পরিষেবার ক্ষেত্রে ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবহার বাড়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের মতে, ইউপিআইয়ের ব্যাপক পরিসর, নির্ভরযোগ্যতা এবং বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ভারতের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম সফল উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। একদিকে যেমন এটি কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে সহজ করেছে, অন্যদিকে তেমনই ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ইউপিআইয়ের উত্থান

    দশ বছর আগে যে ব্যবস্থা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তা এখন দেশের আর্থিক লেনদেনের অভ্যাসই বদলে দিয়েছে। লেনদেনের সংখ্যা থেকে আর্থিক মূল্য, ব্যবহারকারীর পরিধি থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইউপিআইয়ের (UPI) উত্থান উল্লেখযোগ্য। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে এর ব্যবহার আরও বাড়লে ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের এই মডেল বিশ্বের অন্যান্য দেশেও আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, দশ বছরে ইউপিআইয়ের যাত্রা শুধু একটি ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার সাফল্যের গল্প নয়। এটি ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক রূপান্তর, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নির্মাণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের ১ কোটি ৭৮ লাখ লেনদেন থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৪ হাজার ১৬২ কোটিরও বেশি লেনদেনে পৌঁছে যাওয়া সেই (PM Modi) পরিবর্তনেরই পরিসংখ্যানগত প্রমাণ। আর ৩১৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি বার্ষিক লেনদেনের মূল্য দেখিয়ে ইউপিআই ইতিমধ্যেই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে ক্রমশ নিজের অবস্থান পোক্ত করেছে (UPI)।

     

  • India GDP Ranking: বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতিগুলির একটি ভারত, বলছে আইএমএফ

    India GDP Ranking: বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতিগুলির একটি ভারত, বলছে আইএমএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অল্প সময়ের জন্য বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছিল ভারত। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডারের (IMF) ২০২৫–২৬ সালের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী ফের ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে ভারত। যদিও (India GDP Ranking) দেশটি এখনও বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতিগুলির একটি। তবে এই অবস্থান পতনের পেছনে বড় কোনও অর্থনৈতিক কারণ নেই, এটি মূলত পরিসংখ্যানগত।

    আইএমএফের হিসেব (India GDP Ranking)

    আইএমএফের এপ্রিল ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক আউটলুক (World Economic Outlook) অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতের অর্থনীতি প্রায় ৩.৯২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে ব্রিটেনের অর্থনীতি প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার এবং জাপানের ৪.৪৪ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে ভারতের জিডিপি ছিল ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ব্রিটেনের ৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি ছিল। তাহলে ভারতের অবস্থান কমল কেন? যদিও ভারতের জিডিপি টাকার হিসেবে ২০২৪ সালে ছিল ৩১৮ ট্রিলিয়ন। ২০২৫ সালে এটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৬.৫ ট্রিলিয়নে। ডলারের নিরিখে হিসেব করলে তাকে তুলনামূলকভাবে ছোট দেখায়।

    অবমূল্যায়নের পূর্বাভাসও রয়েছে

    এই পতন ঘটেছে যদিও টাকার হিসেবে নামমাত্র বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৯ শতাংশ। পার্থক্যটি মূলত জিডিপি গণনার পদ্ধতিতে।আইএমএফ দেশগুলির জিডিপি ডলারের ভিত্তিতে র‍্যাঙ্ক (India GDP Ranking)করে। অর্থাৎ স্থানীয় মুদ্রার জিডিপিকে ডলারের বিনিময় হারের ভিত্তিতে রূপান্তর করা হয়। এই সময়ে টাকার মান ২০২৪ সালে প্রতি ডলারে ৮৪.৬ থেকে ২০২৫ সালে ৮৮.৫-এ নেমে এসেছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে আরও অবমূল্যায়নের পূর্বাভাসও রয়েছে। পরিসংখ্যান মন্ত্রক ২০২২–২৩ থেকে ২০২৩–২৪ পর্যন্ত চার বছরে নামমাত্র জিডিপি ২.৮ শতাংশ থেকে ৩.৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে সংশোধন করেছে, যা অর্থনীতির আকারকে তুলনামূলকভাবে ছোট দেখিয়েছে (IMF)।

    আইএমএফের পূর্বাভাস

    বিনিময় হার পরিবর্তনের ফলে র‍্যাঙ্কিং প্রভাবিত হয়েছে। সম্প্রতি টাকা দুর্বল অবস্থায় ছিল, ডলারের মূল্যমানের প্রেক্ষিতে লেনদেন হয়েছে ৯৪–৯৫ টাকার মধ্যে। পরে ৯৩.৩৯-এ স্থিতিশীল হয়েছে। এর কারণ হল পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি। বিদেশি পুঁজির বহিঃপ্রবাহ এবং হেজিং খরচ বৃদ্ধিও টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক হস্তক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ পাউন্ড তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় ব্রিটেন তার অবস্থান ধরে রেখেছে (India GDP Ranking)। আইএমএফের (IMF) পূর্বাভাস, এই অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। ২০২৬ সালে ভারত ষষ্ঠ স্থানে থাকবে (প্রায় ৪.১৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা ব্রিটেনের ৪.২৬ মার্কিন ডলার ট্রিলিয়নের নীচে। তবে ২০২৭ সালে ভারত আবার চতুর্থ স্থানে উঠবে (৪.৫৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার), টপকে যাবে ব্রিটেনকে।

    অর্থনীতিবিদদের অভিমত

    অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৮ সালে ভারত জাপানকে ছাড়িয়ে যেতে পারে (৫.০৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বনাম ৪.৭৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার)। ২০৩১ সালের মধ্যে ভারত দৃঢ়ভাবে তৃতীয় স্থানে পৌঁছতে পারে (৬.৭৯  ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার), সেই সময় জাপান থাকবে ৫.১৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে এই ব্যবধান খুবই কম (ব্রিটেনের ক্ষেত্রে প্রায় ১১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, জাপানের ক্ষেত্রে মাত্র ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), ফলে ফল অনেকটাই নির্ভর করবে প্রবৃদ্ধি এবং মুদ্রার ওঠানামার ওপর।
    তবে র‍্যাঙ্কিংয়ে পরিবর্তন হলেও, আইএমএফের মতে, ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবেই থাকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপি ৬.১৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে এবং তৃতীয় স্থানে (IMF) থাকা জার্মানির সঙ্গে ব্যবধান কমবে (India GDP Ranking)।

    জিডিপির বেস ইয়ারে পরিবর্তন

    জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকবে (৩৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২৭.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে জিডিপির বেস ইয়ার ২০১১–১২ থেকে ২০২২–২৩-এ পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে নতুন হিসেব অনুযায়ী অর্থনীতির আকার আগের তুলনায় ছোট দেখা যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ’২৬ অর্থবর্ষের জিডিপি পুরানো সিরিজে ৩৫৭ ট্রিলিয়ন টাকা থেকে নতুন সিরিজে ৩৪৫.৫ ট্রিলিয়ন টাকায় নেমে এসেছে। আইএমএফও তাদের পূর্বাভাস কমিয়েছে, ২০২৭ সালের জিডিপি অনুমান ৪.৯৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ৪.৫৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার করা হয়েছে।

     

  • India’s GDP: জিডিপি বৃদ্ধি ১০ বছরে দ্বিগুণ! জাপান-জার্মানিকে শীঘ্রই ছাপিয়ে যাবে ভারতের অর্থনীতি, বলছে আইএমএফ

    India’s GDP: জিডিপি বৃদ্ধি ১০ বছরে দ্বিগুণ! জাপান-জার্মানিকে শীঘ্রই ছাপিয়ে যাবে ভারতের অর্থনীতি, বলছে আইএমএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আর্থিক বৃদ্ধির হারে নতুন মাইলফলক ছুঁল ভারত। ১০ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট (India’s GDP)। ২০১৫ সালে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ২.১ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার। চলতি বছরে সেটাই বেড়ে ৪.৩ লক্ষ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ১০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে জিডিপির সূচক। বিশ্ব অর্থনীতির নিরিখে এ এক অভূতপূর্ব উদাহারণ দাবি, অর্থনীতিবিদদের।

    সাফল্যের খতিয়ান

    ভারতীয় অর্থনীতি গত এক দশকে এক অভূতপূর্ব সাফল্যের গল্প রচনা করেছে। আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার (IMF)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, গত ১০ বছরে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৫ সালে ভারতের জিডিপি ছিল ২.১ লক্ষ কোটি ডলার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৪.৩ লক্ষ কোটি ডলারে পৌঁছবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ১০৫ শতাংশ, যা আমেরিকা, চিনের মতো বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এই অসাধারণ প্রবৃদ্ধির ফলে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে নিজের স্থান আরও মজবুত করেছে।

    আমেরিকা-চিনকে তুলনামূলক টেক্কা

    আইএমএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আমেরিকার জিডিপি ১৮.৩ লক্ষ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৩০.৩ লক্ষ কোটি ডলারে পৌঁছবে, যা ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। অন্যদিকে, চিনের জিডিপি ১১.১ লক্ষ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ১৯.৫ লক্ষ কোটি ডলার হবে, যা ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধির হার দেখায়। এই দুই অর্থনৈতিক মহাশক্তির তুলনায় ভারতের ১০৫ শতাংশ বৃদ্ধি স্পষ্টতই একটি বড় অর্জন। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় যে, ভারত (India’s GDP) শুধু নিজের অর্থনীতির আকার বাড়িয়েছে তাই নয়, বরং বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর তুলনায় অনেক দ্রুত গতিতে এগিয়ে গিয়েছে।

    চিনের কাছে বড় ধাক্কা

    আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারের মুদ্রাস্ফীতি সমন্বিত তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ভারতের জিডিপি (India’s GDP) ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দুনিয়ার সেরা পাঁচটি অর্থনৈতিক দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই দেশ। এই গতি বজায় থাকলে চলতি বছরে আর্থিক বৃদ্ধির নিরিখে জাপানকে ছাপিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সে ক্ষেত্রে ২০২৭ সালে ভারতের কাছে হার মানবে জার্মানি। এই একই সময়ে চিনের জিডিপি ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে ড্রাগনের অর্থনীতি ছিল ১১.২ লক্ষ কোটি ডলারের। এ বছরে সেটা বেড়ে ১৯.৫ লক্ষ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ২০২০ সালে কোভিড অতিমারি শুরু হলে আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে বেজিংয়ের আর্থিক বৃদ্ধির সূচক। একটা সময়ে অবশ্য জিডিপির নিরিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মান্দারিনভাষীদের দেশটি ছাপিয়ে যাবে বলে মনে করা হয়েছিল। সেই অনুমান বাস্তবায়িত হয়নি।

    বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি

    বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসাবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে আমেরিকা। ২০১৫ সালে ২৩.৭ লক্ষ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি। এ বছর সেটাই বেড়ে ৩০.৩ লক্ষ কোটি ডলার হয়েছে। অর্থাৎ, গত ১০ বছরে ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে মার্কিন অর্থনীতি।

    অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের অবস্থান

    আইএমএফ-এর রিপোর্টে বিশ্বের অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির তুলনাও দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, জার্মানির জিডিপি ২০১৫ সালে ৩.৪ লক্ষ কোটি ডলার থেকে ২০২৫ সালে ৪.৯ লক্ষ কোটি ডলারে পৌঁছবে, যা ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি। জাপানের জিডিপি ৪.৪ লক্ষ কোটি ডলারে স্থির থাকবে, অর্থাৎ গত ১০ বছরে কোনও বৃদ্ধি ঘটেনি। ব্রিটেনের জিডিপি ২.৯ লক্ষ কোটি থেকে ৩.৭ লক্ষ কোটি ডলারে উন্নীত হবে (২৮% বৃদ্ধি), ফ্রান্সের জিডিপি ২.৪ থেকে ৩.৩ লক্ষ কোটি ডলার (৩৮% বৃদ্ধি), এবং ইটালির জিডিপি ১.৮ থেকে ২.৫ লক্ষ কোটি ডলার (৩৯% বৃদ্ধি) হবে। এছাড়াও, কানাডার জিডিপি ১.৬ থেকে ২.৩ লক্ষ কোটি ডলার (৪৪% বৃদ্ধি), ব্রাজিলের ১.৮ থেকে ২.৩ লক্ষ কোটি ডলার (২৮% বৃদ্ধি), রাশিয়ার ১.৪ থেকে ২.২ লক্ষ কোটি ডলার (৫৭% বৃদ্ধি), দক্ষিণ কোরিয়ার ১.৫ থেকে ১.৯ লক্ষ কোটি ডলার (২৭% বৃদ্ধি), অস্ট্রেলিয়ার ১.২ থেকে ১.৯ লক্ষ কোটি ডলার (৫৮% বৃদ্ধি), এবং স্পেনের ১.২ থেকে ১.৮ লক্ষ কোটি ডলার (৫০% বৃদ্ধি) হবে। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, ভারতের বৃদ্ধির হার অন্য কোনও বড় অর্থনীতির কাছাকাছিও নেই।

    মোদি-সরকারের সাফল্য

    ভারতের (India’s GDP) এই সাফল্য় নিয়ে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “এই অবিশ্বাস্য সাফল্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফলপ্রসূ নেতৃত্ব এবং তাঁর সরকারে প্রচেষ্টার ফল। লাভজনক অর্থনীতি, কাঠামোগত পরিবর্তন এবং বাণিজ্যিক পদ্ধতি সহজ করার ফলেই আজ মোদি সরকার ভারতকে বিশ্বের দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতিতে পরিণত করেছে। স্বাধীনতার পর এই সাফল্য আগে কোনও সরকার পায়নি। এতে শুধু ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিই হচ্ছে না, একইসঙ্গে গ্লোবাল পাওয়ারহাউসগুলিকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।”

  • IMF on India economy: কোভিডের মতোই ইউক্রেন সমস্যা সামাল দিতে সুবিধাজনক জায়গায় ভারত, জানাল IMF

    IMF on India economy: কোভিডের মতোই ইউক্রেন সমস্যা সামাল দিতে সুবিধাজনক জায়গায় ভারত, জানাল IMF

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia Ukraine war) প্রভাবে বিশ্ব যখন অর্থনৈতিক পতনের (Global economic fallout) মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, সেই সময় এই সমস্যার মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে ভারত। এমনটাই জানাল আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (IMF)। 

    ২০২২ সালে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির (Economic growth) হার ৮.২ শতাংশের অনুমান করেছে আইএমএফ। তাদের মতে, বিশ্বের সার্বিক এবং বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলির তুলনায় ভাল জায়গায় থাকবে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অবস্থান।

    আইএমএফ-এর এক শীর্ষ কর্তা স্বীকার করেন, কোভিড-১৯ অতিমারীর সময়ও ভারত তার অর্থনীতিকে বিশ্বের তুলনায় অনেকটা ভালভাবে সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে। ওই কর্তার কথায়, ভারত ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি জানান, ভারত ভ্যাকসিন রফতানি করে মহামারী চলাকালীন বিশ্বের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার উদাহরণ তৈরি করেছে। এর ফলে, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

    সংগঠনের দাবি, বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে থাকবে ভারত। সেখানে, চিনের আনুমানিক বৃদ্ধির হার ৪.৪ শতাংশ। অর্থাৎ, ভারতের বৃদ্ধির হার চিনের দ্বিগুণেরও বেশি বলে অনুমান করেছে আইএমএফ। পাশাপাশি, বিশ্বের সার্বিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৩.৬ শতাংশ  বলে অনুমান করেছে আইএমএফ। 

    আইএমএফ-এর মতে, ভারতের উচ্চ বৃদ্ধির হার শুধু ভারতের জন্যই নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই সুখবর। সংগঠন জানিয়েছে, ভারত এমন কয়েকটি অর্থনীতির মধ্যে একটি, যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামান্য নিম্নগতি সত্ত্বেও, এই বছর প্রবৃদ্ধি ৮.২ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ভারতের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্বের জন্য ইতিবাচক, যেখানে প্রবৃদ্ধির মন্থরতা একটি বড় ফ্যাক্টর।

    ক্রয় ক্ষমতা সমতার (PPP) নিরিখে মোট বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৭% প্রতিনিধিত্ব করে ভারত। বিশ্বের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে ভারতের অর্থনীতি। এর ফলে, বিশ্ব অর্থনীতির (World economy) সার্বিক মান বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ।

     

     

LinkedIn
Share