Tag: international mother language day

international mother language day

  • Mother Language: আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জেনে নিন মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের গুরুত্ব

    Mother Language: আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জেনে নিন মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের গুরুত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ২১ ফেব্রুয়ারি। বিশ্বব্যাপী আজকের দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (International Mother Language Day) হিসেবে পালিত হয়। কেন এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ? কোথায় জুড়ে এর তাৎপর্য? বর্তমান পৃথিবীতে প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। এমন সময় দেখা যাচ্ছে আমরা মাতৃভাষা (Mother Language) থেকে যেন ক্রমশই দূরে সরে যাচ্ছি। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। আজকের দিনে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ইংরেজি ভাষা। এটা মনে করা হয় যে ইংরেজিতে সাবলীলভাবে যিনি কথা বলতে পারেন, তিনি বেশি শিক্ষিত। যিনি পারেন না তিনি কম শিক্ষিত।

    মাতৃভাষার অনুভূতি (Mother Language)

    আমাদের ভাবা দরকার মাতৃভাষার (Mother Language) গুরুত্ব কমিয়ে অপর ভাষায় সাবলীল হওয়াটা কি সত্যিই গর্বের? বাড়িতে আমরা যে অনুভূতিটা পাই, যে আরাম পাই, যে ধরনের স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, মাতৃভাষার ক্ষেত্রেও ঠিক অনেকটা একই রকম। নিজের মাতৃভাষায় কথা বললে মনে হয় যেন আমরা বাড়িতে রয়েছি। আমরা বিদেশে গিয়েও যদি কারও সঙ্গে নিজের মাতৃভাষায় কথা বলি তখন আমাদের অনুভব হয় যে আমরা হয়তো নিজের বাড়িতেই রয়েছি। ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের দিকে যদি আমরা একবার তাকিয়ে দেখি, তাহলে দেখব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্য রচনা নিজের মাতৃভাষাতেই করেছিলেন। অন্যদিকে, মুন্সি প্রেম চাঁদ তিনি হিন্দিতে সাহিত্য রচনা করেছেন। কারণ হিন্দি ছিল তাঁর মাতৃভাষা। নিজের মাতৃভাষা তামিলে সাহিত্য রচনা করেছেন সুব্রহ্মণ্য ভারতী। ওড়িশার বিখ্যাত সাহিত্যিক গোপীনাথ মোহান্তি তিনিও নিজের মাতৃভাষা (International Mother Language Day) ওড়িয়াতেই সাহিত্য রচনা করেছেন। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে যে আঞ্চলিক ভাষায় শিক্ষা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে পড়ুয়ারা। শুধুমাত্র তাই নয় এটি সেই নির্দিষ্ট অঞ্চলের সংস্কৃতিকেও শক্তিশালী করে।

    ভারতীয় ভাষা পুস্তক প্রকল্প

    চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি সেই বাজেটে একটি প্রকল্প চালু করেন যার নাম দেন, ভারতীয় ভাষা পুস্তক প্রকল্প। এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হল, স্কুল এবং কলেজের পড়ুয়াদের জন্য ভারতীয় ভাষায় বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল বই সরবরাহ করা। অর্থমন্ত্রী মনে করেন যে, এর মাধ্যমে শিক্ষা আরও সহজেই পৌঁছাতে পারবে পড়ুয়াদের কাছে। অর্থাৎ মাতৃভাষায় শিক্ষায় বিষয়বস্তু সহজেই বোধগম্য হয়। এর পাশাপাশি এটি একটি প্রজন্মকে সশক্তিকরণের পথে নিয়ে যায়।

    মোদি জমানায় বাড়ছে মাতৃভাষায় শিক্ষার গুরুত্ব

    মোদি জমানায় এমন উদ্যোগ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরাও দুহাত ভরে সমর্থন করছেন। সেরকমই একজন হলেন এম জৈন কলেজের ডিন ডঃ এমএম রানা। তিনিও মাতৃভাষায় ওপর শিক্ষাদানের এমন উদ্যোগকে প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, ‘‘২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে ভারতীয় ভাষা পুস্তক নামের যে প্রকল্পটি আনা হয়েছে, তা সত্যিই একটি বড় পদক্ষেপ। স্থানীয় ভাষায় ডিজিটাল বইয়ের মাধ্যমে এই প্রকল্প পড়ুয়াদেরকে আরও বেশি উন্নত করবে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় পড়ার বই ইংরেজি বা হিন্দিতে হয়। কিন্তু আঞ্চলিক ভাষায় এমন উদ্যোগের ফলে পড়ুয়ারা আরো ভালোভাবে পড়ার ধারণাগুলি বুঝতে পারবে এবং তারা অনেক কিছু বিশ্লেষণ করতে পারবে সহজেই।

    কী বলছে সমীক্ষা?

    সম্প্রতি, একটি সমীক্ষা হয়েছিল নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে। সেই সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে এই দেশগুলির ৩৭ শতাংশ পড়ুয়াকে সেই ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হয় না, যে ভাষাটা তারা সবচেয়ে ভালো বোঝে। ইউনিসেফের এক প্রতিবেদন অনুসারে ভারতের ক্ষেত্রে এটি ৩৫ শতাংশ। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এর মধ্যে বেশিরভাগই রয়েছে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের। ভারতের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এবং যেখানে সম্ভব অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষায় শিক্ষাদানকে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে।

    করোনা অতিমারিও মাতৃভাষায় শিক্ষাকে প্রভাবিত করেছে

    অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন যে, করোনা অতিমারিও মাতৃভাষায় শিক্ষাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। ইউনেস্কোর সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে এবং সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সময় বিভিন্ন স্কুলই বন্ধ ছিল। এর ফলে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার মান আরও নিচে নেমে গিয়েছে। প্রত্যেকটি স্কুলে গড়ে কমবেশি ২৪ সপ্তাহ ধরে বন্ধ ছিল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্কুল আবার ৭০ সপ্তাহ বন্ধ ছিল এই সময়ের মধ্যে।

    মাতৃভাষার কোনও বিকল্প নেই

    প্রসঙ্গত বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে শিক্ষা ক্রমশই বহুভাষার হয়ে উঠেছে। ভারতবর্ষের মতো দেশে অভিভাবকরা ইংরেজি ভাষায় শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। একাধিক ভাষা জেনে রাখা ভালো। কিন্তু শিক্ষাদানটা সেই বিষয়ে হওয়া উচিত যে ভাষাতে সহজে বোঝা যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইংরেজি হল বিশ্বব্যাপী একটি ভাষা। কিন্তু নিজের সংস্কৃতি, নীতি, সাহিত্য থেকে পড়ার যে কোনও জটিল তত্ত্ব বোঝার জন্য মাতৃভাষার (Mother Language) কোনও বিকল্প নেই।

  • Murshidbad: শহিদ বরকতের জন্মভিটায় পালিত হল একুশে ফেব্রুয়ারি

    Murshidbad: শহিদ বরকতের জন্মভিটায় পালিত হল একুশে ফেব্রুয়ারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের আজকের দিনেই এই বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিলেন রফিক, জাব্বার, সালাম, বরকাত এবং নাম না জানা আরও অনেকে। এইসব শহিদদের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য একুশে ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় মর্যাদায় পালন করা হয় শহিদ দিবস হিসেবে। বাংলা ভাষার উপর উর্দু চাপানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানে। তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। প্রতিবাদে এর বিরুদ্ধে পাক সরকার গুলি করলে নিহত হন এই ভাষাবীরেরা। উল্লেখ্য এই ভাষাবীরদের মধ্যে ছিলেন মুর্শিদাবাদের (Murshidbad) পুত্র বরকত।

    মুর্শিদাবাদে জন্ম বরকতের (Murshidbad)

    মুর্শিদাবাদ (Murshidbad) জেলায় সালারের বাবলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বাংলা ভাষার সৈনিক বরকত। আজ তাঁর জন্মভিটেতে প্রচুর মানুষ উপস্থিত হন। তাঁর স্মৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য আয়োজন হয় বিরাট অনুষ্ঠানের। জেলাবাসী তাঁর ত্যাগে গর্বিত। এলাকার মানুষের বক্তব্য, বাংলাকে ভালোবেসেছিলেন বলেই ওঁরা জীবন দিয়ে আমাদের ভাষাকে রক্ষা করেছেন। আমাদের জীবনে অমৃত রসের স্পর্শ দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা স্বীকৃতি পেয়েছে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদ এই একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছে।

    আন্দোলনের ইতিহাস

    ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে প্রথম গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয়, সেখানে ভাষা হিসেবে গৃহীত হয়েছিল উর্দু এবং ইংরেজি। এরপর বাংলাকে গণপরিষদের ভাষা হিসাবে গ্রহণ করার জন্য দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সহ মুসলিম লিগের নেতারা এই বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দেননি। যার ফলে ২ মার্চ ঢাকার ফজলুল হক মুসলিম হলে এই বাংলা ভাষার পক্ষে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয়। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ সাধারণ ধর্মঘটের আহ্বান করেন এবং ছাত্ররা শোভাযাত্রা নিয়ে রাজপথে নামেন। এই শোভাযাত্রায় তৎকালীন পুলিশ নির্বিচারে লাঠি চালায়। ফলে বহু ছাত্র আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে ১৩ থেকে ১৫ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    পরবর্তী সময়ে ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ আলি জিন্নাহ ঢাকায় আসেন এবং তিনি রেসকোর্স ময়দানে একুশে মার্চ একটি জনসভায় উর্দুকে জাতীয় ভাষা হিসাবে স্বীকৃতির কথা বলেন। প্রতিবাদে ২৬ মার্চ ঢাকায় ধর্মঘট পালন করা হয়। ১৯৪৮ সালের ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্রভাষা কর্ম পরিষদ ঢাকায় গঠিত হয়। ১৯৫০ সালে গণপরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে লিয়াকাত আলি খান জিন্নাহকে অনুসরণ করে আবার বলেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এর প্রতিবাদে রাজপথ উত্তাল হয়ে ওঠে, ৩০ জানুয়ারি পালিত হয় ধর্মঘট। আরও পরে ১৯৫২ সালেই সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষার সংগ্রাম পরিষদ একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবস পালন এবং হরতালের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু তৎকালীন পাক সরকার ১৪৪ ধারা জারি করেছিল। কিন্তু ছাত্র সমাজ তাকে ভঙ্গ করে রাজপথে শামিল হন। পালটা পাক পুলিশ ছাত্রদের উপর নির্মমভাবে গুলিবর্ষণ করে। সেই গুলিতে শহিদ হয়েছিলেন রফিক, জাব্বার, সালাম, বরকত এবং অনেক নাম না জানা মানুষ। আজকের দিনকে মনে রেখে মুর্শিদাবাদে (Murshidbad) পালিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • International Mother Language Day: আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জানেন ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস?

    International Mother Language Day: আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জানেন ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!
    তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালবাসা!

    সালটা ছিল ১৯৪৮। ওই বছরেরই ২৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তানের গণপরিষদে একটি সংশোধনী প্রস্তাব আনেন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভাগ হয় গঠিত হয় ভারত এবং পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র। পাকিস্তানে সেসময়ে উর্দু ভাষায় যাবতীয় কাজ চালানো হত, তার সঙ্গে অবশ্যই ইংরেজিও ছিল কিন্তু পূর্ব পাকিস্তান যেখানে ১০০ শতাংশই বাঙালিদের বসবাস ছিল সেখানকার অধিবাসীদেরকেও সংসদে উর্দুর পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় বক্তব্য রাখতে হত এবং সরকারি কাজে এই দুটো ভাষাই ব্যবহার করতে হতো, স্বাভাবিকভাবে বাংলা ভাষা চেতনায় অথচ মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম উর্দু । ওই সংশোধনীতে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বলেন যে ইংরেজি এবং উর্দুর পাশাপাশি সংসদে বাংলায় বক্তৃতা করতে দিতে হবে এবং সরকারি কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহারও শুরু করতে হবে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে সেই দাবি নস্যাৎ করে দেয় পাক প্রশাসন এবং জোর করে উর্দুকে চাপিয়ে রাখা হয় বাংলা ভাষার উপরে।

    কোন পরিস্থিতিতে শুরু হয় ভাষা আন্দোলন

    জানা যায়, তৎকালীন সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এবং মহম্মদ আলি জিন্নাহ  সেসময়কার পূর্ব পাকিস্তান মানে এখনকার বাংলাদেশ সফরে এসে নানা কটূক্তিও করতে থাকেন বাংলাভাষাকে নিয়ে। এই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়। এই পটভূমিকাই জন্ম দেয় ভাষা আন্দোলনের। ১৯৫২ সালে সেই আন্দোলনে চরম আকার নেয়। ভাষা আন্দোলনকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে দলে দলে ছাত্রদের উন্মুক্ত যোগদান। প্রতিটি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বাংলা ভাষার জন্য রাস্তায় নামতে থাকে। সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের অধিকারের দাবিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা পথে নামে। ওই বছরেরই ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। 

    উর্দুর করাল গ্রাস থেকে বাংলা ভাষাকে রক্ষা করার জন্য এই আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুপুর তিনটে নাগাদ গুলি চালায় তৎকালীন পাক-প্রশাসন, পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে মারা যান বেশ কয়েকজন। অবশেষে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। এবং ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে সে দেশের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকেও স্থান দেওয়া হয়।

    উর্দু ভাষার আগ্রাসন থেকে  বাংলা ভাষাকে বাঁচানোর জন্য এই আন্দোলন, এই লড়াইকে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ। সারা বিশ্বব্যাপী তাই প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (International Mother Language Day)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     
  • International Mother Language Day: আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, দিনটির গুরুত্ব জানেন?

    International Mother Language Day: আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, দিনটির গুরুত্ব জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ২১ ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (International Mother Language Day)। ১৯৯৯ সালে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফে। তার পর থেকে ফি বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় দিনটি।

    ভাষা আন্দোলন

    ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় বাংলাদেশে। আন্দোলন দমন করতে অবিভক্ত বাংলাদেশের ওই আন্দোলনে গুলি চালায় পূর্ব পাকিস্তানের খান সেনারা। গুলিতে হত হন চার ছাত্র। তার পর থেকে মাতৃভাষার জন্য আস্ত একটি দিন উৎসর্গ করার দাবি তোলেন বিশ্বনেতাদের একাংশ। যার জেরে ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার সাধারণ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করা হয়। পরে একে স্বাগত জানায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদ। রাষ্ট্রসঙ্ঘ তার সদস্য দেশগুলিকে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র ও বহুভাষিকতার প্রচারে উৎসাহিত করে।

    মাতৃভাষা দিবসের থিম

    ফি বছর ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের জন্য একটি থিম বেছে নেয়। বিগত বছরগুলিতে যেসব থিম বেছে নেওয়া হয়েছিল, সেগুলি হল সীমান্তহীন ভাষা, উন্নয়ন, শান্তি পুনর্মিলনের জন্য আদিবাসী ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ও টেকসই করার জন্য ভাষাগত বৈচিত্র ও বহুভাষিকতা উন্নয়ন।চলতি বছরের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের থিম হল, ‘বহুভাষিক শিক্ষা – শিক্ষা আন্তঃপ্রজন্মীয় শিক্ষার (International Mother Language Day) একটি স্তর’। থিমটি আন্তঃপ্রজন্মীয় শিক্ষার প্রচারে বহুভাষিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে।

    আরও পড়ুুন: রেল মানচিত্রে জুড়ল কাশ্মীর ও জম্মু, দেশের দীর্ঘতম সুড়ঙ্গের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

    রাষ্ট্রসঙ্ঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, বহুভাষী ও বহু সাংস্কৃতিক সমাজগুলি ভাষা সংরক্ষণের মাধ্যমে উন্নতি লাভ করে, যা ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বহন করে। তবে ভাষাগত বৈচিত্র আরও বেশি ভাষা বিলুপ্ত হওয়ার কারণে হুমকির সম্মুখীন হয়। বিভিন্ন গবেষণা শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষা ব্যবহার করার সুবিধার বিষয়ে কথা বলে। আত্মসম্মান ও সমালোচনামূলক চিন্তা দক্ষতা বৃদ্ধি করে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা দান। অথচ বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ মানুষই নিজস্ব ভাষায় পড়াশোনা (International Mother Language Day) করার সুযোগ পান না।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

     

     
     
LinkedIn
Share