Tag: International Trade

  • Belgium PM: ‘আগেই সতর্ক করেছিলেন মোদি, শোনেনি ইউরোপ, আজ উপলব্ধি হচ্ছে’! ভারতে এসে অকপট বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

    Belgium PM: ‘আগেই সতর্ক করেছিলেন মোদি, শোনেনি ইউরোপ, আজ উপলব্ধি হচ্ছে’! ভারতে এসে অকপট বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ অনেক দেরিতে বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার (Belgium PM)। তাঁর বক্তব্য, অর্থনৈতিক নির্ভরতা যখন রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন মুক্ত বাণিজ্যের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারীত্বের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন (Modi Trade Warning) তিনি। ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বিভাজনের প্রেক্ষাপটে দু’পক্ষের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়েভার বলেন, ইউরোপ বর্তমানে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রের নির্ভরতা কেবল অর্থনৈতিক বিষয় হিসেবে থাকছে না; বরং তা কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

    বদলাচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য (Belgium PM)

    তিনি বলেন, বিশ্বের বড় শক্তিগুলির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে এবং কিছু দেশ নিজেদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা বা নির্ভরতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা ইউরোপের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ডি ওয়েভারের কথায়, ভারত ও ইউরোপের সামনে থাকা বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ একই ধরনের। বিশেষ করে কোনও একটি দেশ বা শক্তির ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক নির্ভরতা তৈরি হলে সেটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপের কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা ইউরোপকে নতুন করে বাণিজ্যনীতি ও অংশীদার বাছাইয়ের বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। ভারতের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, ইউরোপের বর্তমান উপলব্ধির অনেক আগেই ভারত এই ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা তখন ইউরোপ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নেয়নি।

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বহু আগেই ইউরোপকে সতর্ক করেছিলেন। তখন সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব পায়নি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপ সেই বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছে। ডি ওয়েভারের বক্তব্য, এই উপলব্ধি ইউরোপের ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্বিত হলেও এখন তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

    বিশ্ব অর্থনীতির কাঠামো যখন বিভিন্ন শক্তিশালী গোষ্ঠী ও বাণিজ্যিক ব্লকে ভাগ হয়ে পড়ছে, তখন ভারত ও ইউরোপ কীভাবে একটি স্থায়ী কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডি ওয়েভার সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক সম্মান, বহুপাক্ষিকতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন।

    তাঁর মতে, ইউরোপ এমন অংশীদার খুঁজছে যারা বহুপাক্ষিকতার প্রতি আস্থাশীল এবং শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এই জায়গায় ভারত ইউরোপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে (Modi Trade Warning)।

    বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে ডি ওয়েভার দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভারতের বিপুল মানবসম্পদ, দক্ষ জনশক্তি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন তিনি।

    জাপানের মতো তুলনামূলকভাবে পরিণত অর্থনীতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্যও তুলে ধরেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারতের অর্থনীতির বিকাশের পর্যায় এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইউরোপের জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই দু’পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব বলেই মনে করেন তিনি।

    ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা

    ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে ডি ওয়েভার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপের বাজারে উৎপাদন সক্ষমতার অতিরিক্ত অংশ কম দামে প্রবেশ করেছে। এর ফলে ইউরোপের নিজস্ব শিল্পভিত্তি দুর্বল হয়েছে এবং নির্দিষ্ট উৎসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই নির্ভরতাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে তিনি কোনও দেশের নাম সরাসরি না বললেও এমন একটি প্রতিবেশী দেশের কথা উল্লেখ করেন, যে এই প্রক্রিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টতই চিনের দিকে ইঙ্গিত ছিল। ডি ওয়েভারের মতে, ভারত ইউরোপের তুলনায় আগেই এই প্রবণতা উপলব্ধি করেছিল এবং সতর্ক করেছিল। কিন্তু ইউরোপ তখন সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেনি (Belgium PM)।

    বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উন্মুক্ততার নীতি বজায় রাখার পাশাপাশি কৌশলগত নির্ভরতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, মুক্ত বাণিজ্য মানে এমন নয় যে কোনও দেশের জাতীয় স্বার্থ বা নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নির্ভরতাগুলি উপেক্ষা করতে হবে। বরং উন্মুক্ত অর্থনীতির সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।

    সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা

    ডি ওয়েভার আরও বলেন, ভারত ও ইউরোপের ইতিহাস, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু সেই পার্থক্য সত্ত্বেও গণতন্ত্র, উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দু’পক্ষের স্বার্থের যথেষ্ট মিল রয়েছে (Modi Trade Warning)।

    ভারতকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক শক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, বিশ্বব্যবস্থা যখন নতুনভাবে গড়ে উঠছে, তখন ভারতের মতো একটি বড় শক্তির কণ্ঠস্বর বাদ দিয়ে কোনও মুক্ত ও সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কল্পনা করা কঠিন।

    এদিকে ইউরোপের শক্তি হিসেবে তিনি তুলে ধরেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একক বাজার, শিল্প সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পূর্ব-অনুমানযোগ্য ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকারকে। তাঁর মতে, এই দু’পক্ষের নিজস্ব সক্ষমতাকে কাজে লাগানো গেলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব তৈরি করা সম্ভব (Belgium PM)।

    বাণিজ্য অংশীদার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য বাড়ানোর পক্ষে মত দেন ডি ওয়েভার। তাঁর বক্তব্য, যেসব দেশ নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা সম্মান করে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এর ফলে কোনও একটি দেশ বা অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

    বিশ্ব রাজনীতি

    বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে বিভিন্ন দেশকে নির্দিষ্ট কোনও একটি শিবির বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের সম্পর্ককে কোনও একটি পক্ষের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার বদলে স্বাধীন ও পারস্পরিক স্বার্থনির্ভর অংশীদার হিসেবে দেখার পক্ষে তিনি (Belgium PM)।

    সব মিলিয়ে ডি ওয়েভারের বক্তব্যে ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্যের পাশাপাশি কৌশলগত স্বনির্ভরতা, সরবরাহ-শৃঙ্খলের নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা এবং ভারতের আগের সতর্কবার্তাকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হল—ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধু সস্তা পণ্য বা বড় বাজারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; নির্ভরতার ঝুঁকি, জাতীয় স্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে (Modi Trade Warning)।

    আর সেই নতুন বাস্তবতায় ভারতকে ইউরোপের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনর্বিন্যাসের সময়ে ভারত-ইউরোপ সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যেতে পারে (Belgium PM)।

     

  • Trump Tariffs: ফের আদালতে ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি, প্রভাব ভারতের পণ্যেও

    Trump Tariffs: ফের আদালতে ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি, প্রভাব ভারতের পণ্যেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি (Trump Tariffs)। সোমবার ডেমোক্র্যাট-শাসিত ২৫টি মার্কিন অঙ্গরাজ্য একটি মামলা দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, ভারত-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর (India Tariffs) নতুন করে শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন ফের তার আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। একই ধরনের শুল্ক নিয়ে একাধিক আদালতের রায়ের পরেও প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ওই রাজ্যগুলির।

    মার্কিন আদালতে দায়ের মামলা (Trump Tariffs)

    নিউইয়র্কের মার্কিন কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এতে গত মাস থেকে কার্যকর হওয়া ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ককে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ নম্বর ধারার আওতায় এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের রফতানি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবেই এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্পের শুল্কনীতির জন্য নতুন এই মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরীক্ষা হতে চলেছে। কারণ, মার্কিন আদালতে একের পর এক ধাক্কা সত্ত্বেও, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কৌশল এখনও বহাল রয়েছে।

    আদালতের রায় উপেক্ষা করছেন ট্রাম্প!

    ওরেগন ও নিউইয়র্ক-সহ ২৫টি অঙ্গরাজ্য এই মামলা করেছে। এসব রাজ্যের নেতৃত্বে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট গভর্নর অথবা অ্যাটর্নি জেনারেল। রাজ্যগুলির দাবি, আদালত যে ব্যাপক আমদানি শুল্ককে ইতিমধ্যেই বেআইনি বলে রায় দিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার ভিন্ন আইনি যুক্তি ব্যবহার করে কার্যত সেই শুল্কই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে (India Tariffs)। মামলায় বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ নম্বর ধারা ঐতিহাসিকভাবে নির্দিষ্ট দেশ বা শিল্পের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু এই ধারার মাধ্যমে আমেরিকায় আমদানি হওয়া প্রায় সব ধরনের পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের নজির নেই। রাজ্যগুলির আরও অভিযোগ, জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন এমন শুল্ক ফের চালু করছে, যেগুলি ইতিমধ্যেই বাতিল করেছে আদালত। রয়টার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে এক বিবৃতিতে ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড বলেন, “প্রতিটি ধাপে হেরে যাওয়ার পরেও ট্রাম্প আবারও কর্মজীবী পরিবার এবং ওরেগনের স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসার ওপর আরও বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন (Trump Tariffs)।”

    ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যে নয়া শুল্ক

    গত ২৪ জুলাই নতুন শুল্কের ঘোষণা করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের আমদানিতে এই শুল্ক কার্যকর হয়েছে। তবে কয়েকটি দেশ তাদের নজরদারি ও প্রয়োগব্যবস্থা জোরদার করায় তুলনামূলক কম শুল্কের সুবিধা পেয়েছে। একজন মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বক্তব্য, ভারতের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ১২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে সব পণ্যের ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রযোজ্য নয়। তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং মার্কিন-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া পণ্যগুলিকে নতুন শুল্ক থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন শুল্ক ঘোষণার সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, “প্রায় এক শতাব্দী ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং আমরা তা কঠোরভাবে কার্যকর করি। আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদারদেরও একই কাজ করার সময় অনেক আগেই এসেছে।”

    নতুন আইনি পথে ট্রাম্প

    আগের শুল্ক নীতিগুলি আদালতে বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তার অর্থনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—শুল্কনীতিকে টিকিয়ে রাখতে নতুন আইনি পথ বেছে নিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, International Emergency Economic Powers Act বা IEEPA প্রেসিডেন্টকে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এর ফলে ট্রাম্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্যোগ আইনি ধাক্কা খায়।এরপর ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ নম্বর ধারার আওতায় সাময়িকভাবে বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প (Trump Tariffs)। পরে মার্কিন কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেই শুল্ককেও বেআইনি বলে রায় দেয়। যদিও প্রশাসন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করায় শুল্কগুলি আপাতত কার্যকর রয়েছে (India Tariffs)। এই আইনি পথগুলিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার পর এবার ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ নম্বর ধারার ওপর নির্ভর করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিদেশি সরকারের অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক বাণিজ্যিক নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঐতিহ্যগতভাবে এই ধারাটি ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদেও চিনের ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে এই একই আইনি ধারা ব্যবহার করেছিলেন। সেই শুল্ক নির্দিষ্ট একটি দেশের বিরুদ্ধে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছিল বলে আইনি চ্যালেঞ্জের পরেও তা বহাল ছিল।

    শুল্কনীতিতে অনড় ট্রাম্প

    একাধিক আদালতের রায়ে ধাক্কা খেলেও ট্রাম্প আমেরিকার উৎপাদন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কাঠামো বদলে দেওয়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে শুল্কনীতিকে তুলে ধরছেন। গত বছর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আমেরিকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির সমান। সেই যুক্তিতে তিনি জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন। পরে আদালত সেই পদক্ষেপে বাধা দেয়। নতুন মামলার মাধ্যমে ফের স্পষ্ট হল, ট্রাম্প প্রশাসন শুল্কনীতিকে কার্যকর রাখতে একের পর এক আইনি পথ খুঁজছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলি আদালতের মাধ্যমে সেই নীতিকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে (India Tariffs)। ফলে ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতি শুধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নয়, মার্কিন (Trump Tariffs) প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা নিয়েও ফের চলে এসেছে বড়সড় আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে।

     

LinkedIn
Share