Tag: IOCL

  • India: আমদানিকারী থেকে জ্বালানি রফতানিকারী—পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যে বিশ্ববাজারে উত্থান ভারতের

    India: আমদানিকারী থেকে জ্বালানি রফতানিকারী—পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যে বিশ্ববাজারে উত্থান ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় ভারতকে (India) বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত খনিজ তেল আমদানিকারী দেশ হিসেবেই চিহ্নিত করা হত। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিদেশের ওপর (Global Energy Leader) নির্ভরশীলতাই ছিল ভারতের ভবিতব্য। সেই বাস্তবতা এখনও পুরোপুরি বদলায়নি। তবে গত কয়েক দশকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকার আমূল বদল হয়েছে। এখন শুধু অপরিশোধিত তেল আমদানি নয়, সেই তেল পরিশোধন করে উচ্চমূল্যের পেট্রোলিয়াম পণ্য তৈরি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করছে ভারত। বর্তমানে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিকারী দেশগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা-সহ বিশ্বের বহু দেশে ভারত থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের গুরুত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনই দেশের অর্থনীতিতেও তৈরি হয়েছে নয়া মূল্য সংযোজন।

    পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি খাতে ভারতের আয় (India)

    বর্তমানে পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি থেকে ভারতের বছরে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রোজগার হয়। এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ রফতানি খাত। আগামী কয়েক বছরে এই রফতানি আয় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ৫৫ থেকে ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে বলেই আশা। এই প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি হল দেশের পরিশোধন পরিকাঠামো সম্প্রসারণ। দেশের বৃহত্তম তেল পরিশোধন ও বিপণন সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড হরিয়ানার পানিপথ, গুজরাতের ভদোদরা এবং বিহারের বরৌনি শোধনাগার সম্প্রসারণে ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত ১৭.৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন পরিশোধন ক্ষমতা যুক্ত হবে। ফলে দেশের মোট পরিশোধন ক্ষমতা বছরে হবে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রফতানির পরিমাণও আরও বাড়বে (Global Energy Leader)।

    ভারতে রয়েছে অত্যাধুনিক তেল শোধনাগার

    ভারত এখন অপরিশোধিত তেল নয়, বরং উচ্চমূল্যের বিভিন্ন পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি করছে। এর মধ্যে রয়েছে পেট্রোল, উচ্চগতির ডিজেল, বিমান জ্বালানি, সামুদ্রিক জ্বালানি, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস, ন্যাফথা, পেট্রোরসায়ন শিল্পের কাঁচামাল এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত পেট্রোলিয়াম পণ্য। অপরিশোধিত তেলকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে পরিশোধিত জ্বালানিতে রূপান্তর করে ভারত (India) একদিকে যেমন রফতানি আয় বাড়িয়েছে, অন্যদিকে বিশ্বের বহু দেশের পরিবহণ, শিল্প, বিমান চলাচল ও জ্বালানি চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর তেল শোধনাগার ভারতের রয়েছে। এই শোধনাগারগুলিতে রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা নানা ধরনের অপরিশোধিত তেল শোধনের ক্ষমতা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রাপ্যতা ও দামের ভিত্তিতে উৎপাদন পরিকল্পনা বদলানো সম্ভব হয়, যা ভারতীয় সংস্থাগুলিকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখে।

    পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বৃদ্ধি

    কম পরিচালন ব্যয়, দক্ষ শ্রমশক্তি, আধুনিক পরিকাঠামো এবং ভারত মহাসাগরীয় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভারত ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে (India)। বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের সময় ভারতের এই সক্ষমতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। যখন বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, তখনও ভারতীয় শোধনাগারগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিত পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে (Global Energy Leader)। এর ফলে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অংশীদার হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্ববাজারে পরিশোধিত জ্বালানির চাহিদা বজায় থাকায় আগামী দিনে ভারতের সম্প্রসারিত পরিশোধন নেটওয়ার্ক বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতিতেও বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ছে, শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, উৎপাদনভিত্তিক শিল্প আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ক্রমেই হচ্ছে মজবুত। পাশাপাশি বাড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তাও (India)।

    বাড়ছে বিনিয়োগও

    এছাড়া, বৃহৎ পরিসরে শোধনাগার সম্প্রসারণের ফলে পরিবহণ ব্যবস্থা, পেট্রোরসায়ন শিল্প, সংরক্ষণাগার, পাইপলাইন এবং বন্দর পরিকাঠামোয় নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব অর্থনীতির একাধিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্পোন্নয়নকে আরও গতি দিচ্ছে। ভারতের জ্বালানি খাতের গল্প এখন আর শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিশোধন দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত এখন মূল্য সংযোজন, রফতানি বৃদ্ধি এবং বিশ্ব পেট্রোলিয়াম বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পরিশোধন ক্ষমতা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্রতি বছরে পৌঁছনোর পথে, বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনার মধ্যে ভারত ধীরে ধীরে শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেল আমদানিকারী দেশ থেকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রপ্তানিকারী দেশে পরিণত হচ্ছে।

    এই পরিবর্তন শুধু শিল্পোন্নয়নের প্রতিফলন নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে ভারতের ক্রমবর্ধমান অবস্থানেরও পরিচয় বহন করে। আগামী দিনে পরিশোধন ক্ষমতা ও রফতানি আরও বাড়লে (Global Energy Leader) বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারতের গুরুত্ব যে আরও বৃদ্ধি পাবে, তা বলাই বাহুল্য (India)।

     

  • Bangladesh: জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় ভারতের দ্বারস্থ বাংলাদেশ, স্কুল-কলেজে দেওয়া হল ছুটি

    Bangladesh: জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় ভারতের দ্বারস্থ বাংলাদেশ, স্কুল-কলেজে দেওয়া হল ছুটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধোপে টিকল না ভারত দখলের হম্বিতম্বি! শেষমেশ সেই ভারতের কাছেই হাত পাততে হল বাংলাদেশকে। জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছেও সাহায্য চেয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL) এবং অসমের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (NRL) থেকে চার মাসের মধ্যে ৫০,০০০ টন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।

    জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলা (Bangladesh)

    এদিকে, নিদারুণ জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলা করতে আজ, সোমবার থেকে  জেরে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত চলছে, তার জেরে দেশে জ্বালানি সঙ্কট আরও তীব্র হয়ে ওঠায় ঈদের ছুটি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। এই পদক্ষেপের ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার কমবে এবং যানজটও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার জেরে সাশ্রয় হবে জ্বালানি। বাংলাদেশ সরকারের কর্তাদের মতে, আবাসিক হল, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। তাই ঈদের ছুটি আগেই ঘোষণা করলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।

    স্কুল-কলেজে তালা

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলি ইতিমধ্যেই পুরো রমজান মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে প্রতিদিনের সীমা নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি বেসরকারি কোচিং সেন্টার এবং বিদেশি পাঠ্যক্রমভিত্তিক স্কুলগুলিকে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সঙ্কটের দরুন বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত চারটি সার কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এ বিষয়ে এক সরকারি আধিকারিক বলেন, “বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং আমদানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ব্যবহার কমাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

     

LinkedIn
Share