Tag: Iran

Iran

  • Trump: “ইরানের দিকে তাক করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়েছে’’! হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প, কেন জানেন?

    Trump: “ইরানের দিকে তাক করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়েছে’’! হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাঁকে হত্যার চেষ্টা হলে ইরানের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব সামরিক হামলার নির্দেশ আগে থেকেই দেওয়া রয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে করা এক পোস্টে তিনি জানান, ইরান যদি তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকার পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ ভয়াবহ সামরিক জবাব দেওয়া হবে।

    ট্রাম্পের বক্তব্য (Trump)

    ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি কার্যকর করা হলে বা একজন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা করা হলে ইরানের দিকে তাক করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়েছে।’’ তাঁর আরও দাবি, প্রথম দফার হামলার পরপরই হাজার হাজার অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক বছরের জন্য, প্রয়োজনে যার মেয়াদ আরও বাড়ানো যেতে পারে, মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের সব এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।” এর আগে নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “আমি অনেক দিন ধরেই তাদের টার্গেট। এটাই বাস্তবতা। যদি আমার সঙ্গে কিছু ঘটে, তা হলে এমন মাত্রায় ইরানে বোমাবর্ষণের নির্দেশ দিয়ে রেখেছি, যা তারা আগে কখনও দেখেনি।’’

    ইরানের পয়লা নম্বর টার্গেট

    তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁকে হত্যার নতুন কোনও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য নেই। ইজরায়েল এই ধরনের নতুন কোনও তথ্য পেয়েছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “না, না। ইজরায়েল এমন কিছুই পায়নি। আমি বহু দিন ধরেই ইরানের হত্যার তালিকায় এক নম্বরে আছি। এটাই বাস্তবতা।” চলতি সপ্তাহেই নিজেকে ইরানের পয়লা নম্বর টার্গেট বলে উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প। এদিন তিনি ফের জানান, ইরানকে কখনওই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না। তবে ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে কোনও সংঘাত হলেও, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে তিনি মনে করেন না। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে ইরান। পরে মার্কিন প্রশাসন ট্রাম্পকে হত্যার একাধিক কথিত ইরান-যোগের ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রকাশ করলেও, তেহরান বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    যুদ্ধবিরতির অধ্যায় শেষ!

    এদিকে ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরান ফের আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে ওয়াশিংটন তেহরানকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতির অধ্যায় শেষ হয়ে গিয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের কাছে আবার আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গিয়েছে।’’

  • US: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলায় উত্তপ্ত ইরান, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র

    US: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলায় উত্তপ্ত ইরান, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) বিরুদ্ধে ফের নতুন করে সামরিক হামলা চালাল আমেরিকা (US)। বুধবার দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতির সমঝোতা ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর আন্তর্জাতিক নৌপথ নিরাপদ রাখতে নতুন করে এই সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে।

    মার্কিন বাহিনীর কৈফিয়ত (US)

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর ইরানের হুমকি মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে অতিরিক্ত হামলা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড।” আরও বলা হয়, “আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও অসামরিক নাবিকদের ওপর সাম্প্রতিক অযৌক্তিক হামলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন আধিকারিক জানান, বুধবারের হামলা মঙ্গলবারের তুলনায় আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালিত হয়েছে (US)।এদিকে বাহরিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর কথা জানিয়ে নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং কাছের কোনও নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

    কী বলছেন ট্রাম্প

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থেকে নিকটস্থ নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।” এদিকে, কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রকেট ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “একটি সতর্কবার্তা দিচ্ছি। আজ রাতেই আমরা তাদের (ইরানের) ওপর কঠোর হামলা চালাব (US)।” পরে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানে বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করে ট্রাম্প লেখেন, “গতকালের জাহাজে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। আবার এমন কিছু ঘটলে এর জবাব আরও ভয়াবহ হবে (Iran)।” এর আগে তিনি বলেন, “যা কিছু ঘটবে, খুব দ্রুতই ঘটবে।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইলে “কাজটি পুরোপুরি শেষও করে দিতে পারে।” অন্তর্বর্তী সমঝোতা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “এটি খুবই আকর্ষণীয় প্রশ্ন। আমার কাছে মনে হয়, বিষয়টি শেষ হয়ে গিয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে আর কোনও আলোচনা করতে চাই না।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের সঙ্গে যদি নতুন কোনও চুক্তিও করি, সেটি টিকবে কি না, আমি নিশ্চিত নই। আমি তাদের খুবই অসৎ বলে মনে করি (US)।”

    একের পর এক জায়গায় হামলা

    তবে ট্রাম্পের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি আবার পুরোপুরি যুদ্ধের রূপ নেবে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হবে কি না, সেটিও এখনও অনিশ্চিত বলেই জানান তিনি। বুধবারের হামলায় ইরানের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে একাধিক শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী থেকে ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত বিভিন্ন এলাকায় হামলা হয়েছে। হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের বৃহত্তম বন্দর বন্দর আব্বাস। সেখানে ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শহরটিতে অন্তত আটটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে (Iran)। এছাড়া উত্তরের আককালা এলাকার একটি রেলসেতুতেও হামলার খবর দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইরানশাহর বিমানবন্দরে হামলায় ফায়ার ব্রিগেডের এক কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।

    প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের

    চাবাহার, কোনারাক, সিরিক, জাস্ক, বুশেহর এবং আবু মুসা দ্বীপ-সহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। কয়েকটি বন্দরে ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম। চাবাহারে একটি হাসপাতালেও আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে (US)। মার্কিন হামলার পর কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “শহিদ খামেনি আমাদের শিখিয়েছেন আমেরিকাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এবং মিথ্যা একদিন ধ্বংস হবেই। ইরানিদের কঠোর জবাবের জন্য অপেক্ষা করুন।” ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটিগুলিতে বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। এর আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচলের বিষয়ে ইরানের দায়িত্ব স্বীকার করা অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন।

    আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সংঘাতের প্রভাব

    মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলার দায় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও, বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করতে তেহরান এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকে। ইরান বুধবার দাবি করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলার জবাবে তারা বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে আমেরিকার তরফে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি (Iran)। এদিকে, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। বুধবার লেনদেন শেষে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি এক ডলারের বেশি বেড়ে ৭৯ দশমিক ২৮ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এপ্রিলের শেষ দিকে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারের বেশি যে সর্বোচ্চ মূল্য ছিল, বর্তমান দর এখনও তার ঢের নীচে রয়েছে (US)।

     

  • Netanyahu: ‘ভারত থেকে বিপুল সমর্থন পাচ্ছে ইজরায়েল’, ভান্সের মন্তব্যের জবাবে মোদির দেশের প্রশংসায় নেতানিয়াহু

    Netanyahu: ‘ভারত থেকে বিপুল সমর্থন পাচ্ছে ইজরায়েল’, ভান্সের মন্তব্যের জবাবে মোদির দেশের প্রশংসায় নেতানিয়াহু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের কাছ থেকে ইজরায়েল অভূতপূর্ব সমর্থন পায়।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভান্সের (JD Vance Ally Claim) ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই ইজরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’’ মন্তব্যের জবাবে এমনই দাবি করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, আমেরিকা ছাড়াও ইজরায়েলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদার রয়েছে। ভারতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের আরও কিছু বন্ধু রয়েছে। যেমন, ভারত নামে একটি ছোট দেশ, যার জনসংখ্যা ১৪০ কোটিরও বেশি। আর সেখান থেকে আমরা বিপুল সমর্থন পাই।’’

    নেতানিয়াহুর ভারত-প্রশস্তি (Netanyahu)

    তিনি জানান, ফেসবুকে ভারতীয় ইউজারদের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক সমর্থন দেখতে পান। তিনি জানান, গত এক দশকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, উদ্ভাবন এবং বাণিজ্য-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘‘ব্যক্তিগত বন্ধু’’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, এবং ভারতকে ‘‘বিশ্বশক্তি’’ আখ্যা দিয়েছিলেন। সম্প্রতি আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই দু’দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের একদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভান্স বলেছিলেন, ‘ইজরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র’।

    ভান্সের দাবি

    সাংবাদিক সম্মেলনে ভান্স দাবি করেছিলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই বর্তমানে এমন বিশ্বনেতা, যিনি ইজরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন।’’ তিনি এও জানিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইজরায়েলের ব্যবহৃত অধিকাংশ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, করেছে অর্থায়নও। ভান্সের প্রতি সম্মান জানিয়েই নেতানিয়াহু (Netanyahu) বলেন, ‘‘আমি তাঁকে সম্মান করি, কিন্তু তাঁর মূল্যায়নের প্রতিটি বিষয়ে আমি একমত নই।’’

    ইজরায়েলের বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ওপর জোর 

    নেতানিয়াহুর দাবি, বিশ্বের বহু দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং এআইয়ের মতো ক্ষেত্রে ইজরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। তাঁর কথায়, “সামরিক উদ্ভাবন ও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন দেশের নেতারা নিয়মিত ইজরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।” নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন ইরান-ইস্যু এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য কৌশল নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। যদিও বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে সময়ে সময়ে দুই দেশের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়, তবুও প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (JD Vance Ally Claim) এখনও ইজরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদার। এর পাশাপাশি ভারত-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে নেতানিয়াহুর (Netanyahu) ইজরায়েল।

     

  • Khamenei: খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ভারতের শ্রদ্ধাঞ্জলি, ইরানে গিয়ে কী লিখলেন ভারতের প্রতিনিধিরা?

    Khamenei: খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ভারতের শ্রদ্ধাঞ্জলি, ইরানে গিয়ে কী লিখলেন ভারতের প্রতিনিধিরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনেইয়ের (Khamenei) শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ভারতের তরফে শ্রদ্ধা জানালেন কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন। তেহরানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাঁরা ভারত সরকার ও দেশের জনগণের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় মার্গেরিটা জানান, বিহারের রাজ্যপালের সঙ্গে তিনি তেহরানে খামেনেইয়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। ভারত সরকার ও দেশের জনগণের পক্ষ থেকে তাঁরা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি (Khamenei)

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি ভারত ও ইরানের দীর্ঘদিনের সভ্যতাগত সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে। পাশাপাশি, দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। বিদেশমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের ইমাম খোমেনির মোসাল্লা নমাজ প্রাঙ্গণে আজ, ৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে বিদায়ী অনুষ্ঠান। চলবে ৫ জুলাই পর্যন্ত। ৬ জুলাই তেহরানে বের হবে শোকযাত্রা।

    শোকবইয়ে স্বাক্ষর ভারতের

    ৭ জুলাই ইরানের কোম শহরে আর একটি শোকযাত্রা হবে। ৯ জুলাই মাশহাদে হবে চূড়ান্ত শেষকৃত্য। পরে ইমাম রেজার পবিত্র মাজারে খামেনেইকে সমাহিত করা হবে বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম (Khamenei)। এর আগে, ৫ মার্চ নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসে গিয়ে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। তিনি ভারতের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে খামেনেইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি ভারতের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ইরানের (Iran) দূতাবাসে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেছেন এবং খামেনেইয়ের মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন (Khamenei)।

     

  • PM Modi: খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিহারের রাজ্যপাল-কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, কী বার্তা দিতে চায় কেন্দ্র?

    PM Modi: খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিহারের রাজ্যপাল-কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, কী বার্তা দিতে চায় কেন্দ্র?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা সৈয়দ আলি খামেনেইয়ের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য এবং দাফন অনুষ্ঠানে (Khamenei State Funeral) উপস্থিত থাকতে পারবেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক সফরের কারণে ওই শোকের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও যেতে পারছেন না তিনি। তাই ভারতের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা। সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে এঁদের।

    খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে প্রতিনিধি দল (PM Modi)

    ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে সরকারি সূত্রের খবর, ওই সময় প্রধানমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকবেন। আগে থেকেই নির্ধারিত এই বিদেশ সফরের সূচির কারণে তাঁর পক্ষে ইরান সফর সম্ভব হচ্ছে না। এরপরই নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বিহারের রাজ্যপাল এবং বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীকে ভারতের প্রতিনিধি মনোনীত করা হয়েছে। তাঁরাই যাবেন। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনেই নিহত হন বলে খবর। প্রথমে মার্চ মাসে তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরে ইরান সরকার জুলাই মাসে নতুন করে অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ নির্ধারণ করে (PM Modi)।

    ভারতের বার্তা

    আগামী ৪ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য শুরু হবে। সেখানে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে খামেনেইয়ের দেহ। এরপর তেহরান ও পবিত্র শহর কোমে শোকযাত্রার আয়োজন করা হবে। ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরেও বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। শিয়া মুসলিমদের কাছে এই দু’টি শহরের বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। ৯ জুলাই খামেনেইয়ের নিজের শহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে তাঁর দাফনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য পর্ব। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতেও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত ভারতের সঙ্গে (Khamenei State Funeral) ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বকেই তুলে ধরে। যদিও, সরকারি সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতির একমাত্র কারণ পূর্বনির্ধারিত বিদেশ সফরের সূচি (PM Modi)।

     

  • Iran: খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ ইরানের প্রেসিডেন্টের

    Iran: খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ ইরানের প্রেসিডেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ্ সৈয়দ আলি খামেনেইর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফনের অনুষ্ঠান প্রথমে মার্চ মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে ইরান-ইজরায়েল এবং আমেরিকাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। পরে ইরানি কর্তৃপক্ষ ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে একাধিক অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারণ করে।

    খামেনেইর অন্ত্যেষ্টিতে আমন্ত্রণ ভারতের (Iran)

    অনুষ্ঠানের সূচনা হবে ৪ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে। সেখানে খামেনেইর মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। দেশজুড়ে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শোকানুষ্ঠান ও বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তেহরান এবং পবিত্র নগরী কোমে বিশাল শোকমিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরেও বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজা মাজারে খামেনেইকে দাফন দেওয়া হবে। মাশহাদই ছিল খামেনেইর জন্মস্থান। সপ্তাহব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানে লক্ষাধিক নয়, বরং কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা ইরানি প্রশাসনের (Iran)।

    ভারত-ইরান সম্পর্ক

    প্রসঙ্গত, ভারত এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রয়েছে। সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়া সঙ্কটকালেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এর আগে ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব দেখা গিয়েছে। ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। একই বছরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরি।

    সম্প্রতি ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নয়াদিল্লি সফরে এসেছিলেন। ওই সফরে তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন, সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও (Iran)। ইরানের এই (PM Modi) রাষ্ট্রীয় শোকের অনুষ্ঠানে ইরাক, পাকিস্তান, রাশিয়া, চিন-সহ একাধিক আঞ্চলিক দেশের প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকতে পারে বলেও খবর।

     

  • Peace Deal: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির পথে নয়া সঙ্কট, পুনর্গঠন প্যাকেজ নিয়ে তীব্র মতবিরোধ

    Peace Deal: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির পথে নয়া সঙ্কট, পুনর্গঠন প্যাকেজ নিয়ে তীব্র মতবিরোধ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের পর যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের (Peace Deal) সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল, ঠিক তখনই নয়া এক বিতর্কের জেরে ভেস্তে যেতে বসেছে শান্তি প্রক্রিয়া। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক সাহায্য প্যাকেজ, যাকে ইরান (Iran Denies Trump Claim) একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবেই বিবেচনা করছে।

    ট্রাম্পের বক্তব্য (Peace Deal)

    তেহরানের (ইরানের রাজধানী) দাবি, দীর্ঘ সংঘাতের ফলে ইরানের অর্থনীতি ও পরিকাঠামো যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এই বিশাল অর্থনৈতিক প্যাকেজ অপরিহার্য। ইরানের মতে, পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সাহায্য ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা ছাড়া স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য প্রকাশ্যে ইরানের এই দাবি অস্বীকার করেছেন। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এই ব্যাপারে তারা সম্মত হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে—এই ধরনের খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো।”

    আন্তর্জাতিক মহলেও ঘনিয়েছে উদ্বেগের মেঘ

    ট্রাম্পের এহেন বক্তব্য ইরানের অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি মেলে না। তাই দুই দেশের শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েই উঠছে নয়া প্রশ্ন। আগামী ১৯ জুন সম্ভাব্য চুক্তি সই হওয়ার আগে দু’পক্ষের অবস্থান ১৮০ ডিগ্রি আলাদা হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও ঘনিয়েছে উদ্বেগের মেঘ।বিশ্লেষকদের মতে, ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই প্যাকেজ সরাসরি ক্ষতিপূরণ নাকি (Peace Deal) দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও পুনর্গঠন কর্মসূচি—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পশ্চিমী বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি মার্কিন সরকারের সরাসরি অর্থ প্রদান নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির একটি পরিকল্পনা হতে পারে।

    শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা

    এদিকে, ইরান একে যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের নিশ্চয়তা হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে একই বিষয়কে দু’পক্ষ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করায় শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক সহায়তার প্রশ্নেই সবচেয়ে বড় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। যদি ইরান এই অর্থনৈতিক নিশ্চয়তাকে অনড় শর্ত হিসেবে ধরে রাখে এবং ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে এমন কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি না হয়, তাহলে পুরো শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অনেক সময় যুদ্ধবিরতি (Iran Denies Trump Claim) বা শান্তি চুক্তি সামরিক ইস্যুতে নয়, বরং অর্থায়ন, বাস্তবায়ন ও পারস্পরিক প্রত্যাশার পার্থক্যের কারণেই ব্যর্থ হয়। আমেরিকা-ইরানের মধ্যে চলা আলোচনাও এখন (Peace Deal) ঠিক এমনতর পরীক্ষারই সম্মুখীন।

     

  • US-Iran Peace Deal: তেলের বাজারে স্বস্তি! ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ১০০ দিন পর খুলছে হরমুজ প্রণালী

    US-Iran Peace Deal: তেলের বাজারে স্বস্তি! ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ১০০ দিন পর খুলছে হরমুজ প্রণালী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে স্বস্তি! দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত অবসানের পথে। যুদ্ধ থামিয়ে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump)। রবিবার, ১৪ জুন তিনি ঘোষণা করলেন যে আমেরিকা ও ইরান শান্তিচুক্তিতে (US-Iran Peace Deal) সম্মত হয়েছে। লেবানন সহ সমস্ত জায়গায় মিলিটারি অপারেশন বন্ধ করা হবে অবিলম্বে। একইসঙ্গে তিনি জানান যে হরমুজ প্রণালীও খুলে গিয়েছে (Strait of Hormuz Re-Opening)। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনও জাহাজকে টোল বা ট্যাক্স দিতে হবে না। ট্রাম্প বলেন যে এই শান্তিচুক্তি ওই এলাকায় স্থিতাবস্থা ফেরাতে বিরাট বড় পদক্ষেপ। শান্তিচুক্তিতে কী কী শর্ত রয়েছে, তাও তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় লেবানন-সহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান প্রথম এই ঘোষণা করে। পরে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই বিষয়টি নিশ্চিত করে। আগামী ১৯ জুন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে। আমি হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে ও বিনামূল্যে উন্মুক্ত করার অনুমোদন দিচ্ছি। একইসঙ্গে মার্কিন নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে। বিশ্বের জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করুক, তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।” এর কিছুক্ষণ পরেই ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চলা যুদ্ধের “তাৎক্ষণিক সমাপ্তি” ঘটছে। পাশাপাশি আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে নতুন আলোচনা শুরু হবে।

    চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে?

    • হরমুজ প্রণালী: প্রথমেই ট্রাম্প জানান যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত সম্পূর্ণ টোল ফ্রি বা কর মুক্ত হবে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে যাতে কোনও বাধা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করবে শান্তিচুক্তি। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলতে হবে চুক্তির নিয়মে।
    • ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা নয়: আমেরিকা ইরানের বন্দরে যাওয়া-আসার যে পথগুলি বন্ধ করে রেখেছিল, তাও তুলে নেবে ৩০ দিনের মধ্যে। যুদ্ধের সময় ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রিতে যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল আমেরিকা, তা প্রত্যাহার করা হবে।
    • ইরানকে আর্থিক সাহায্য: খসড়া প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে ইরানে যুদ্ধের জেরে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্নির্মাণের জন্য আমেরিকা ও তার বন্ধু দেশগুলি অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সাহায্য করবে। ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলার আটকে রয়েছে বিদেশি ভাঁড়ারে। সেই টাকাও ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। শান্তিচুক্তিতে সই করার আগেই এই তহবিলের অর্ধেক টাকা দাবি করা হয়েছে।
    • ইরানের পরমাণু প্রোগ্রাম: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নাকি এই চুক্তিতে আপত্তি করেছিলেন। ট্রাম্প সে কথা ফাঁস করে দেন সাংবাদিক বৈঠকে। একইসঙ্গে তিনি বলেন যে নেতানিয়াহুর আপত্তি থাকলেও, এই চুক্তি ইজরায়েলকে সম্ভাব্য বিরাট বড় বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। ইরানের পরমাণু প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনাও হবে এই শান্তিচুক্তিতে, তা উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদি ইরান আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু শক্তি নিয়ে চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ফের মিলিটারি অভিযান শুরু হবে।

    আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তি

    চুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনের পথে একটি “গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ”। অন্যদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইটালি জানিয়েছে, তারা ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে।

    বাজারে ইতিবাচক প্রভাব

    শান্তিচুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করে। সোমবার এশিয়ার বাজার খুলতেই তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়। একইসঙ্গে জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় গত কয়েক মাসে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, “এই চুক্তির ফলে শুধু এখনই নয়, দীর্ঘমেয়াদেও জ্বালানির দাম কমবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন পথ খুলবে।”

    যুদ্ধের অবসান!

    গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। পাল্টা জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং মধ্য প্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করে। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতির পথে দুই দেশ এগোলেও, চূড়ান্ত চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তবে আপাতত বিশ্ববাসীর নজর ১৯ জুনের জেনেভা বৈঠকের দিকে, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা।

    শান্তিচুক্তি না হলে কী হবে?

    ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যদি পরমাণু শক্তি নিয়ে আলোচনায় ইরান সম্মতি না দেয়, তাহলে ফের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। আর যদি এই চুক্তিই ভেঙে যায়, তাহলে তিনি হয় তেহরানে ফের হামলা শুরু করবেন, নয়তো আমেরিকাকে মধ্য প্রাচ্যের অভিভাবক (Guardian of the Middle East) করে তুলবেন। এর বিনিময়ে তাদের ওই অঞ্চল থেকে পাওয়া রাজস্বের ২০ শতাংশ দেওয়া হতে পারে।

  • Iran-US Conflicts: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন! ইরানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা বাহরিন-কুয়েতে তেহরানের ড্রোন হানা

    Iran-US Conflicts: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন! ইরানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা বাহরিন-কুয়েতে তেহরানের ড্রোন হানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শান্তিচুক্তি জলে। ইরান ও আমেরিকার (Iran-US Conflicts) মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধে উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য। ফের অশান্ত হরমুজ প্রণালী (Strait Of Hormuz)। বুধবার রাতভর ইরানে গোলাবর্ষণ করেছে আমেরিকা। পালটা জবাব দিয়েছে তেহরানও। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। ইরানের একটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে বাহরিন, কুয়েত ও জর্ডনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের এই হামলার নিন্দা করেছে বাহারিন সেনা। কুয়েত ও জর্ডনও এই হামলার বিরোধিতা করেছে। অসামরিক নাগরিকদের উপর এই হামলা চালোনো হয়েছে বলে দাবি করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি।

    ইরানের একাধিক শহরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র

    ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আগেই। সেই মতো বুধবার ইরানে আক্রমণের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি করে মার্কিন সেনা। বুধবার রাতভার সিরিক, মিনাব-সহ ইরানের একাধিক শহরে আছড়ে পড়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। সূত্রের খবর, তড়িঘড়ি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে ইরানি সেনা। যদিও এই হামলায় হতাহতের খবর এখনও জানা যায়নি। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলির তরফে জানানো হয়েছে, কেবল সিরিক এবং মিনাব শহরেই নয়, বন্দর আব্বাস, কাশেম দ্বীপেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন হামলার পালটা জবাব দেয় তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তারা। ইরানের ইসলামিক রিভ্যালুশিনারী গার্ডের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে প্রত্যাঘাত করে তেহরান। কুয়েত, বাহরিন-সহ একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় একটি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, পাল্টা ইরানের

    বুধবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমেরিকা গত কাল জোরালা হামলা চালিয়েছে। আজ আবার ওদের (ইরান) উপর হামলা চালাতে চলেছে। ওরা চুক্তির জন্য সমঝোতা করতে অনেক বেশি সময় নিয়ে ফেলেছে। চুক্তি করলে তা ওদের জন্য খুব ভাল হত। কিন্তু এখন ওদের মূল্য চোকাতে হবে।” ট্রাম্পের কথার সূত্র ধরেই মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ পরে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। আমেরিকাকে জবাব দিয়েছে ইরানও। সে দেশের পার্লামেন্টের জাতীয় সুরক্ষা সংক্রান্ত কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজির হুঁশিয়ারি, “যুদ্ধ নির্দিষ্ট কোনও অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না।” মনে করা হচ্ছে, এই মন্তব্য করে ইরান ইঙ্গিত দিতে চেয়েছে যে, পশ্চিম এশিয়ার যে দেশগুলিতে মার্কিন ঘাঁটি আছে, সেই সমস্ত দেশে হামলা চালাবে তারা।

    ফের অশান্ত হরমুজ, তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    আমেরিকার পাল্টা কৌশলে হরমুজ প্রণালী ধরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করেছে ইরান। তেহরানের হুঁশিয়ারি, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কোনও জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আমেরিকার যদিও দাবি, হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে জানানো হয়, ইরানের ‘ধারাবাহিক আগ্রাসন’ মোকাবিলায় সক্রিয় আমেরিকা। তব, হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)। আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী অবৈধভাবে অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। উল্লেখ্য, গত সোমবার হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ইরান সেটি ভূপাতিত করেছে বলে অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা চলছে।

    কেন হামলা,জানাল ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের জবাবে বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। আল জাজিরা জানিয়েছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে বাহরিনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম ও আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরান দাবি করেছে, গত এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। এ প্রেক্ষাপটে নিজেদের প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

    রাষ্ট্রপুঞ্জের সভায় ইরানের দাবি

    বাহরিনে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরানি ড্রোন। রাষ্ট্রপুঞ্জের সভায় বিষয়টিকে ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে ইরান। বুধবার ইরানের বিদেশমন্ত্রকের তরফে রাষ্ট্রপুঞ্জের সভায় বাহরিনে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোটা কতটা জরুরি ছিল, তা বিশদে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানে হামলা চালিয়ে আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদকে উপেক্ষা করেছে— এমন অভিযোগও এনেছে তেহরান। পাশাপাশি, বিষয়টি আমেরিকার পরিকল্পিত আগ্রাসন ছাড়া কিছু নয়, এমনটাও দাবি করেছে ইরান।

    ইরানি হামলার নিন্দা বাহরিন-কুয়েত-সৌদি-মিশরের 

    বাহরিন, কুয়েত, জর্ডন, আরব-আমিরাত ইরানের হামলার নিন্দা করেছে। জর্ডান, বাহরিন এবং কুয়েতের ওপর ইরানের হামলার ঘটনায় ‘কঠোর ভাষায়’ নিন্দা জানিয়েছে মিশরও। একই সঙ্গে এই তিন দেশের প্রতি ‘পূর্ণ সংহতি’ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই অস্থিরতায় জর্ডন, বাহরিন এবং কুয়েতের পাশে আছে মিশর। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব হামলার ঘটনা ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন। এতে বিপজ্জনক ভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে যা সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। বাহরিন দাবি করেছে, অসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান, যা কখনওই কাম্য নয়। বাহরিন সেনা এর জবাব দিতে প্রস্তুত। সৌদি আরব ইরানের এই হামলাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।

  • Iran: ২১ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা ইরানের, বাহরিনে ইউএস ফিফথ ফ্লিট সদর দফতরকেও টার্গেট

    Iran: ২১ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা ইরানের, বাহরিনে ইউএস ফিফথ ফ্লিট সদর দফতরকেও টার্গেট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের (Iran) চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাত (Drone Attack) আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ২১টি মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ধ্বংস এবং বাহরিনে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দফতরেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা। আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার।

    ইরানের দাবি (Iran)

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, চারটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে জর্ডনের আল-আজরাক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসি। এছাড়া জর্ডনের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানোর কথা বলা হয়েছে। এদিকে, ইরানের (Iran) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, কুয়েত এবং বাহরিনেও নতুন করে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, ওই দুই দেশেও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি এও জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত আড়াইটে নাগাদ বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন ফিফথ ফ্লিটের সদর দফতরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম অঞ্চলের কয়েকটি জায়গায় হামলা চালানোর পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়।

    ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলায় সিরিকে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দু’টি জলের ট্যাঙ্ক ধ্বংস হয়েছে। এর জবাবে আইআরজিসির নৌবাহিনী বাহরিনে মার্কিন নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা (Drone Attack) চালায়। ইরানের (Iran) এহেন দাবির কিছুক্ষণ পরেই বাহরিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়ে দেয়, দেশজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বার্তায় নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং কাছাকাছি কোনও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ শুরু করেছে।

    ইরানের হুঁশিয়ারি

    সেন্টকমের জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান শুরু হয়েছে, যা আগের দিনের হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জবাব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে টহলরত একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ইরানের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে। তিনি জানান, হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আমেরিকা এর উপযুক্ত জবাব দেবে। অন্যদিকে, ইরানের (Iran) বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও হুমকির জবাব দিতে তেহরান প্রস্তুত। তিনি বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করেছে। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কোনও হামলার জবাব দিতে ছাড়বে না।” উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের আহ্বানও জানান তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সামরিক উত্তেজনা ইতিমধ্যেই ইরান-ইজরায়েলের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে (Drone Attack)। যার বড় ধরনের প্রভাব পড়তে (Iran) পারে পুরো পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।

     

LinkedIn
Share