Tag: Iran

Iran

  • Iran Israel War: যুদ্ধ শুরু ইরান-ইজরায়েলের, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি বিদেশ মন্ত্রকের

    Iran Israel War: যুদ্ধ শুরু ইরান-ইজরায়েলের, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি বিদেশ মন্ত্রকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধের আশঙ্কায় ভারতীয়দের আগেই ইরান (Iran Israel War) ছাড়তে বলেছিল বিদেশ মন্ত্রক। এই পরিস্থিতিতে শনিবার অতর্কিতে ইরানে হামলা চালাল ইজরায়েল। ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বাড়ির কাছেই হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর। ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করেছে ইরান। তাই ইজরায়েলে বসবাসকারী সকল ভারতীয় নাগরিককে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সর্বদা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে। পাশাপাশি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।

    প্রত্যাঘাত হানতে পারে ইরান

    যুদ্ধের আশঙ্কা করাই হচ্ছিল। সত্যি সত্যি ইরানে বড়সড় হামলা হল। তবে আমেরিকা নয়, হামলা চালাল ইজরায়েল। শনিবার সকালে ইরানের উপরে বড় হামলা চালায় ইজরায়েল। তেহরানে পরপর বিস্ফোরণ হয়েছে। হামলার পরই রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ইরান। তেহরান জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ রাস্তায় ছোটাছুটি করছেন। লম্বা অ্যাম্বুল্যান্সের মিছিল দেখা যাচ্ছে। পাল্টা জবাব দেবে ইরান, তা ধরেই নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইজরায়েলে সাইরেন বাজছে। ইরান নিজেদের এয়ারস্পেস খালি করেছে। হামলার আশঙ্কায় ইজরায়েল সমস্ত স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তেই প্রত্যাঘাত হানতে পারে ইরান।

    কী কী নির্দেশ বিদেশ মন্ত্রকের?

    ইজরায়েলে বসবাসকারী সকল ভারতীয় নাগরিককে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সর্বদা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিকদের ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ এবং হোম ফ্রন্ট কমান্ডের জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশিকা এবং নির্দেশাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। তাদের আবাসস্থল বা কর্মক্ষেত্রের নিকটে থাকা সুরক্ষিত স্থানগুলি কোথায় তা জেনে নিতে হবে। এছাডাও, ভারতীয় নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইজরায়েলের অভ্যন্তরে সমস্ত অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদ, সরকারি ঘোষণা এবং জরুরি সতর্কতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকরা তেল আবিবের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে হেল্পলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন।

    হেল্পলাইন নম্বর হল

    টেলিফোন: +৯৭২-৫৪-৭৫২০৭১১
    ই-মেইল: cons1.telaviv@mea.gov.in

    পরমাণু অস্ত্রের আশঙ্কা

    কূটনীতিকদের অনুমান, আমেরিকার নির্দেশেই ইজরায়েল হামলা করেছে তেহরানে। ইরানকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা হচ্ছে। পারস্য় উপসাগরে মার্কিন রণতরী অপেক্ষা করছে। এই পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালী দিয়েই বিশ্বের চাহিদার ৬০ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে। তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে গোটা বিশ্বের। সেই কারণে আগে হরমুজ প্রণালীর পথ খোলা রাখতে চাইছে আমেরিকা। এবারের আক্রমণের পাল্টা জবাবে ইরান পরমাণু অস্ত্র পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ।

  • Iran: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ! ইরানে একযোগে হামলা আমেরিকা-ইজরায়েলের, পাল্টা তেহরানের

    Iran: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ! ইরানে একযোগে হামলা আমেরিকা-ইজরায়েলের, পাল্টা তেহরানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়ে গেল পূর্ণমাত্রার সংঘাত। শনিবার সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল (US Israel) একযোগে হামলা চালাল ইরানে (Iran)। ইরানজুড়ে একযোগে ৩০টিরও বেশি টার্গেটে আঘাত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্টের বাসভবন, সর্বোচ্চ নেতার দফতর এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়। জবাবে তেল আভিভের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তেহরান।

    আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই কোথায় (Iran)

    ইরান জানিয়েছে, তেহরানের পূর্ব ও উত্তরাংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ্ আলি খামেনেই বসবাস করেন। যদিও সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, খামেনেইকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরান ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাবে’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। হামলার সপক্ষে যুক্তি দিয়ে ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইরান দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছিল, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের জন্য হুমকি হতে পারে। ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, “অস্ত্র নামিয়ে রাখো, নইলে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হবে।” এই নতুন হামলা ঘটল কয়েক মাস পর, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কাঠামোয় আঘাত হেনেছিল এবং গত বছরের জুনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দেশজুড়ে ডজনখানেক টার্গেটে হামলা চালিয়েছিল।

    ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’

    ইজরায়েল জানায়, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ নামে একটি ‘প্রি-এম্পটিভ’ হামলা শুরু করেছে। এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল কয়েক মাস ধরে। হামলার তারিখও নির্ধারিত হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ আগে। ইরানে প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, সর্বোচ্চ নেতার দফতর, ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এবং পারচিন—যা ইরানের অন্যতম সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটি। প্রাথমিক চিত্রে তিন ধরনের টার্গেটের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমত, পশ্চিম ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি—বিশেষ করে কেরমানশাহ, কারাজ এবং খোররামাবাদ অঞ্চলে। এই এলাকাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। দ্বিতীয়ত, তেহরানের সরকারি ভবনগুলি। তৃতীয়ত, সন্দেহভাজন পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান—যেমন কোম ও বুশেহর (US Israel)।

    কী বলল আমেরিকা

    ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা আকাশ ও সমুদ্রপথে পরিচালিত হচ্ছে। আমেরিকা জানিয়েছে, হামলা কেবল ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুকেই কেন্দ্র করে হচ্ছে। হামলার খবর স্বীকার করে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেব। ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারবে না (Iran)।” এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ইজরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং জানায়, তাদের জবাব হবে “চূর্ণকারী”। তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, কোম, কারাজ ও কেরমানশাহ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে খবর (US Israel)। হামলার পর ইজরায়েল ও ইরান উভয়ই অসামরিক উড়ানের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ইরান থেকে সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইজরায়েল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

    ইরানে শহর ছাড়ার ধুম

    আধিকারিকরা জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক দিনব্যাপী অভিযান চালাতে পারে। এদিকে তেহরানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীতে পেট্রোল পাম্পগুলিতে লম্বা লাইন পড়েছে। কারণ বহু মানুষ শহর ছাড়ার চেষ্টা করছেন (US Israel)। সর্বশেষ হামলার ঢেউ আগের টার্গেটভিত্তিক হামলার তুলনায় আরও বড় হতে পারে। এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “ইরানের অভ্যন্তরে তার সামরিক অভিযানের ফলে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটতে পারে (Iran)।” মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ঝুঁকির মধ্যেই ভারত ইজরায়েলে থাকা নাগরিকদের “সর্বোচ্চ সতর্কতা” অবলম্বন এবং নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই হামলা এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলার হুমকি দিচ্ছিলেন (US Israel)। পাশাপাশি তেহরানে খামেনেই সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমন অভিযানে হাজার হাজার প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছেন (Iran)।

    একাধিক মার্কিন বেসে পাল্টা হামলা ইরানের

    আমেরিকার হামলার পাল্টা হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতার, কুয়েত ও জর্ডানের একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্যবস্তু ঘাঁটিগুলি হল— কাতারের আল উদেইদ এয়ার বেস, কুয়েতের আল সালেম এয়ার বেস এবং জর্ডানের মুওয়াফাক আল-সালতি ঘাঁটি। এছাড়া, ইরান বাহরাইনে একটি মার্কিন নৌঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)-র আল-ধাফরা এয়ারবেসেও হামলা চালিয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযানের পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইরানের এই হামলার পর বাহরাইনের রাজধানী মানামা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজধানী আবু ধাবিতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে।

  • Middle East Tensions: যুদ্ধ আসন্ন? যে কোনও পরিবহণে ইরান ছাড়ুন, ভারতীয় নাগরিকদের নির্দেশ ভারতীয় দূতাবাসের

    Middle East Tensions: যুদ্ধ আসন্ন? যে কোনও পরিবহণে ইরান ছাড়ুন, ভারতীয় নাগরিকদের নির্দেশ ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে থাকা ভারতীয় (India) নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলেছে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস (Middle East Tensions)। ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা হতে পারে — এমন উদ্বেগ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্রতর হচ্ছে। এই নতুন পরামর্শ এমন একটা পরিস্থিতিতে এসে পড়েছে যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের নির্দেশ (Middle East Tensions)

    পরামর্শে বলা হচ্ছে, “ভারত সরকারের ৫ জানুয়ারি ২০২৬-এর দেওয়া পরামর্শের ধারাবাহিকতায় এবং ইরানের পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায়, যারা বর্তমানে ইরানে আছেন — শিক্ষার্থী (student), তীর্থযাত্রী (pilgrim), ব্যবসায়ী (businessperson) এবং পর্যটক (tourist) — তাঁদের যে কোনও পরিবহণ (means of transport) ব্যবহার করে ইরান ছাড়তে বলা হয়েছে, যার মধ্যে কমার্সিয়াল ফ্লাইটও রয়েছে।” দূতাবাস আগের জানুয়ারি নির্দেশনাটিকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে এবং সব ভারতীয় নাগরিক ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তাঁরা যেন বিক্ষোভে অংশ না নেন কিংবা যেখানে বিক্ষোভ হচ্ছে সেই অঞ্চলের কাছাকাছি না যাওয়ার, দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে আপডেট মনিটর করার অনুরোধও করা হয়েছে।

    মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে

    ভারতীয় নাগরিকদের এও বলা হয়েছে, তাঁরা যেন সব সময় তাঁদের ভ্রমণ ও ইমিগ্রেশন নথি, যেমন পাসপোর্ট এবং পরিচয়পত্র হাতের নাগালে রাখে, এবং প্রয়োজনে সহায়তার জন্য দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন (Middle East Tensions)। এটা এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরান–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে। পারমাণবিক আলোচনা চলতে থাকলেও, পরিস্থিতির উন্নতি নিশ্চিত নয়। আলোচনা পরবর্তী রাউন্ড জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এসব পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তেহরান এবং অন্যান্য শহরে ঠাঁই নিয়েছে, কখনও কখনও সরকারপন্থী সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও হয়েছে। জানুয়ারির শুরুর দিকে আগের বিক্ষোভগুলি শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Ayatollah Ali Khamenei) প্রশাসনের অধীনে কঠোরভাবে দমন করা হয়েছিল, যেটিতে (India) অনেক প্রতিবাদকারী নিহত ও আটক হন (Middle East Tensions)।

     

  • US Military Strike Threat: ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়াল ইরানে, সংঘর্ষ

    US Military Strike Threat: ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়াল ইরানে, সংঘর্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়াল ইরানে (Iran)। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পাল্টা গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছে (US Military Strike Threat)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং স্থগিত পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে এই অস্থিরতা নতুন করে সামনে এসেছে। অর্থনৈতিক সংকট ও অতীতের বিক্ষোভ দমন অভিযানের ক্ষোভই এই আন্দোলনের মূল কারণ।

    সরকারবিরোধী স্লোগান (US Military Strike Threat)

    শনিবার ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান শোনা যায়। পরে শিক্ষার্থীরা পাল্টা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এটি ছিল সাম্প্রতিক ক্ষোভের প্রকাশ। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, তেহরানের শীর্ষ টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিড়ের মধ্যে মারামারি শুরু হয় এবং মানুষ “বি শরাফ” (ফারসি ভাষায় যার অর্থ ‘লজ্জাজনক’) বলে চিৎকার করে। পার্সিয়ান ভাষার টিভি চ্যানেল ‘ইরান ইন্টারন্যাশনালে’ প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে বড় একটি জনতা সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে। পরে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, ওই প্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষে কয়েকজন জখম হয়েছে বলে খবর।

    “খামেনেইর মৃত্যু হোক”

    বিক্ষোভকারীদের “খামেনেইর মৃত্যু হোক” এবং “কাজ শেষ করো” ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়। তারা প্রাক্তন শাহের প্রশংসা করে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও জানায়। ফার্স প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল মানুষ ইরানের পতাকা নাড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছে এবং মুখোশ পরা আর একটি দলের মুখোমুখি অবস্থান করছে। স্যুট পরিহিত ব্যক্তিরা বিক্ষোভকারীদের আটকে রাখার চেষ্টা করছে (US Military Strike Threat)। ১৮ ফেব্রুয়ারিতেও এএফপি যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানিরা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। তারা সারা দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় নিহতদের স্মরণে জড়ো হয়েছিল।

    উত্তেজনা চরমে

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বর্তমানে চরমে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সীমিত হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- ওমানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করলেও, ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ত্যাগ করতে হবে, এ বিষয়ে এখনও কোনও সমঝোতা হয়নি (Iran)। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।

    ইরানে বিক্ষোভ

    ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যখন অর্থনীতি ভেঙে পড়ার প্রতিবাদে দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামে। পরে আন্দোলন বিস্তৃত হয়ে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। খামেনেই নেতৃত্বাধীন সরকার কঠোর দমনপীড়নের মাধ্যমে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করে (US Military Strike Threat)। ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ৩,০০০-এরও বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছে, এই হিংসা “জঙ্গি কার্যকলাপ” এবং ইরানের শত্রুদের প্ররোচনায় ঘটেছে (Iran)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৭,০০০-এরও বেশি। ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের অর্থনৈতিক দাবির বৈধতা স্বীকার করলেও “চিরশত্রু” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে (US Military Strike Threat)।

    ট্রাম্পের নির্দেশ

    ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়ায় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড পাঠিয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে গভর্নরদের সঙ্গে নৈশভোজে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের সামরিক বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “তেহরান যদি চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে “খারাপ কিছু” ঘটবে। চুক্তির জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন। গত বছর ব্যর্থ পারমাণবিক কূটনীতি ও ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছিল (Iran)।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরান জানিয়েছে, তারা শিগগিরই একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দেবে। তবে ‘অ্যাক্সিওস’ এক প্রবীণ মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এমন একটি চুক্তি বিবেচনা করতে প্রস্তুত, যেখানে “সীমিত, প্রতীকী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ” অনুমোদিত হতে পারে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র শূন্য মাত্রার সমৃদ্ধকরণের দাবি করেনি।” খামেনেই সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে হামলা চালালে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে (US Military Strike Threat)। তাহলে কি শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ইরানে হামলা করবেন? তা হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে (Iran)।

     

  • Iran: মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হুঁশিয়ারি দিল ইরান, কী বলল জানেন?

    Iran: মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হুঁশিয়ারি দিল ইরান, কী বলল জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনও সামরিক পদক্ষেপ করে, তবে তাকে তারা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবেই বিবেচনা করবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এই মর্মে সতর্ক করে দিল ইরান (Iran)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US) ঘোষণার পর, যেখানে তিনি বলেন যে একটি ‘নৌবহর’ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, এরই মধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলি ওই অঞ্চলের আরও কাছে চলে এসেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রবীণ ইরানি আধিকারিক জানান, ওয়াশিংটন এই হামলাকে সীমিত বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন, তেহরান এর জবাব দেবে সবচেয়ে কঠোর উপায়ে।

    ইরানের সতর্কবার্তা (Iran)

    ইরানের পক্ষে এই সতর্কবার্তাটি এসেছে এমন একটা সময়ে, যখন প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন এবং যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন-সহ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী রণতরী বহর ভারত মহাসাগর পেরিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমাদের একটি বড় সামরিক শক্তি ইরানের দিকে এগোচ্ছে।” তবে তিনি এও জানান, সেটি ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না। এদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “তেহরানের সশস্ত্র বাহিনী আবারও হামলার শিকার হলে আমাদের কাছে যা কিছু আছে, সব কিছু দিয়েই পাল্টা আঘাত হানতে কোনও দ্বিধা করব না।”

    সর্বাত্মক সংঘর্ষই হবে ভয়াবহ

    তিনি বলেন, “যে কোনও সর্বাত্মক সংঘর্ষই নিশ্চিতভাবে হবে ভয়াবহ।” তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, তাঁর বক্তব্য কোনও হুমকি নয়, বরং একজন কূটনীতিক ও অভিজ্ঞ সেনা হিসেবে তিনি যে বাস্তবতা তুলে ধরাকে প্রয়োজনীয় মনে করেছেন, সেটাই তিনি প্রকাশ করেছেন। এই ক্রমবর্ধমান কঠোর ভাষার পটভূমিতে রয়েছে ইরানে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ, যা গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, বিক্ষোভ দমনে সরকারের অভিযানে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন (Iran)।

    এর আগে, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে অথবা তেহরান যদি তার পরমাণু কর্মসূচি ফের শুরু করে, সে ক্ষেত্রে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি একাধিকবার দিয়েছেন ট্রাম্প। গত বছরের জুন মাসে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল আমেরিকা (Iran)। একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ বহর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে (US)। ওই অঞ্চলে ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ডেস্ট্রয়ার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে।

     

  • Indians in Iran: জ্বলছে ইরান, আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি কেন্দ্রের

    Indians in Iran: জ্বলছে ইরান, আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে (Iran) বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indians in Iran) সরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা আমেরিকা (US Strike Threats) পুরোপুরি নাকচ না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তেহরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মধ্যে বুধবার ভারত সরকার ইরানে বসবাসকারী সব ভারতীয় নাগরিককে যে কোনও উপায়ে সে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং নতুন করে ইরান সফর এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

    ইরান থেকে ভারতীয়দের সরিয়ে আনার পরিকল্পনা (US Strike Threats)

    জানা গিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতি ক্রমাগত বদলে যাওয়ায়, যারা দেশে ফিরতে চান, সেই সব ভারতীয় নাগরিকদের (Indians in Iran) প্রত্যাবর্তন সহজ করতে বিদেশমন্ত্রক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছে সরকারি সূত্র (Iran)।জানা গিয়েছে, অসামরিক বিমান ছাড়াও সামরিক পরিবহণ বিমান ব্যবহার করে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে সরকার। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে শিক্ষার্থী-সহ ১০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় ইরানে বসবাস করছেন। বুধবার তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস শিক্ষার্থী, তীর্থযাত্রী, ব্যবসায়ী ও পর্যটক-সহ সব ভারতীয় নাগরিককে যে কোনও উপলব্ধ পরিবহণের মাধ্যমে ইরান ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে (US Strike Threats)। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার, বিক্ষোভ বা প্রতিবাদী এলাকায় না যাওয়ার এবং দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের হেল্পলাইন

    জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকরা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা ভারতীয় দূতাবাসের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন, টেলিফোন: ৯৭২৫৪৭৫২০৭১১, ৯৭২৫৪৩২৭৮৩৯২, ই-মেল: কনস তেলআভিভ@এমইএ.গভ.ইন উল্লেখ্য, এই প্রথম নয় যে ভারত এই ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। গত বছর জুন মাসে মধ্যপ্রাচ্যে (Iran) সামরিক সংঘাতের জেরে উত্তেজনা বাড়ার পর ভারত সফলভাবে ইরান থেকে নিজের নাগরিকদের সরিয়ে এনেছিল। সেই সময় ভারত সরকার ‘অপারেশন সিন্ধু’ চালু করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল ইরানে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা (US Strike Threats)।

    ইরানে কী ঘটেছে?

    গত মাসের শেষের দিকে তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যখন ইরানি মুদ্রা রিয়াল রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। পরে এই বিক্ষোভ দেশের ৩১টি প্রদেশেই ছড়িয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক সঙ্কটের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে পরিণত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে এই বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত ইরানে ২,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানে বিক্ষোভ দমনের সময় হত্যাকাণ্ড কমেছে বলে জানানো হলে সামরিক হামলার ইচ্ছা কিছুটা খাটো করে দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে বর্তমানে বড় ধরনের গণহত্যার কোনও পরিকল্পনা নেই, তবু পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অস্থির (US Strike Threats)। আগে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও পরে অপেক্ষা করে দেখার নীতি গ্রহণ করেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি একজন অনিশ্চিত নেতা হিসেবেই পরিচিত (Iran)। মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউট থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সিনিয়র ফেলো পল সেলেম সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প আপাতদৃষ্টিতে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছেন বলে মনে হলেও, তিনি এখনও পুরোপুরি অনিশ্চিত চরিত্রের মানুষ (US Strike Threats)।

  • US Military Withdrawal: আস্তিন গুটোচ্ছে আমেরিকা, আকাশসীমা বন্ধ করল তেহরান, ইরানে হানা কি অচিরেই?

    US Military Withdrawal: আস্তিন গুটোচ্ছে আমেরিকা, আকাশসীমা বন্ধ করল তেহরান, ইরানে হানা কি অচিরেই?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যেই একের পর এক জরুরি পদক্ষেপ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US Military Withdrawal)। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে নীরবে সেনা ও কর্মী প্রত্যাহার, ইরানের আকস্মিক আকাশসীমা বন্ধ এবং উভয় পক্ষের কড়া হুঁশিয়ারি—এই জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে যে তেহরানের (Iran) ওপর হামলা যে কোনও মুহূর্তে শুরু হতে পারে।

    কর্মী প্রত্যাহার (US Military Withdrawal) 

    বুধবার আমেরিকা কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে তাদের কিছু কর্মী প্রত্যাহার করে নেয়। এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা থাকেন। কাতার সরকার জানিয়েছে, বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতেই এই প্রত্যাহার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও তাদের কর্মীদের ওই উপসাগরীয় আরব দেশটির একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

    কঠোর সতর্কবার্তা জারি

    প্রসঙ্গত, এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসে এমন একটা সময়ে, যখন ইরান প্রতিবেশী দেশগুলির প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে, বিশেষত, যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তেহরান হুমকি দিয়েছে, আমেরিকা যদি ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তবে তারা ওইসব দেশে থাকা মার্কিন স্থাপত্যগুলির ওপর পাল্টা আঘাত হানবে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন (Iran)।

    “অনিশ্চয়তাই এই কৌশলের একটি অংশ”

    তবে এক পশ্চিমী সামরিক কর্তা সংবাদসংস্থাকে বলেন, এসব ইঙ্গিত থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ট্রাম্প প্রশাসন প্রায়ই এমন কৌশলগত পদক্ষেপ করে, যার উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তাই এই কৌশলের একটি অংশ।” উত্তেজনা (US Military Withdrawal) আরও বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ইরান সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। ‘নোটিস টু এয়ারমেন’ (NOTAM) জারি করে অধিকাংশ ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়, কেবল অনুমোদিত কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ছাড়া। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশ জারির আগেই ইরান ও ইরাকের আকাশ দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়।

    আকাশসীমা বন্ধ রাখার সময়সীমা

    পরবর্তী কালে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইরান আকাশসীমা বন্ধ রাখার সময়সীমা আরও বাড়িয়েছে। তবে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার সময় ও পরিসর এখনও স্পষ্ট নয়। ইউরোপীয় কর্তাদের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (Iran)। ইরান আকাশসীমা বন্ধ করার কিছুক্ষণ আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভ দমনের অংশ হিসেবে ইরানে যে হত্যাকাণ্ড চলছিল, তা বন্ধ হচ্ছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথাও বলেন তিনি। ট্রাম্প জানান, অন্য পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে, এই মুহূর্তে ব্যাপক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা নেই।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ

    তিনি সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানের বিষয়টি উড়িয়ে না দিলেও বলেন, ওয়াশিংটন প্রক্রিয়াটি কীভাবে এগোয়, তা দেখবে। পাশাপাশি তিনি জানান, ইরানের পক্ষ থেকে তার প্রশাসন একটি খুবই ভালো বক্তব্য পেয়েছে (US Military Withdrawal)।সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলকে নির্দেশ দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা যেন দ্রুত, চূড়ান্ত হয় এবং সপ্তাহ বা মাসব্যাপী দীর্ঘ সংঘাতের রূপ না নেয়। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিভিন্ন সূত্রের দাবি, “তিনি যদি কিছু করেন, তবে সেটির চূড়ান্ত ও নির্ণায়ক হতে চান।” তবে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাঁকে বোঝাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন যে, একটি হামলাই দ্রুত ইরানি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে (Iran)। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরানের শক্তিশালী পাল্টা আঘাত মোকাবিলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি নাও থাকতে পারে (US Military Withdrawal)।

    অর্থনৈতিক সঙ্কট

    ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক সঙ্কট, রাজনৈতিক দমননীতি এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দমন-পীড়নে অন্তত ২,৬১৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যান্য হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়েছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানের সবচেয়ে ভয়াবহ হিংসাত্মক ঘটনাগুলির একটি। মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, আটক বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি যে কোনও মুহূর্তে শুরু হতে পারে। হিংসার মাত্রা সাম্প্রতিক যে কোনও (Iran) আন্দোলনের চেয়ে বেশি এবং এটি কয়েক দশক আগের বিপ্লবী সময়ের অশান্তির স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে (US Military Withdrawal)।

     

  • Indian Embassy: দেশে ফিরে যান, নয়া নির্দেশিকা জারি তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    Indian Embassy: দেশে ফিরে যান, নয়া নির্দেশিকা জারি তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়া নির্দেশিকা জারি করল তেহরানের ভারতীয় দূতাবাস। তাতে ভারতীয় নাগরিকদের বাণিজ্যিক বিমান-সহ উপলব্ধ পরিবহণের মাধ্যমে ইরান (Iran) ছেড়ে চলে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে (Indian Embassy)। ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের পূর্ববর্তী সতর্কতার পরে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, কারণ দেশজুড়ে বিক্ষোভ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান প্রেক্ষাপটে ইরানে বর্তমানে অবস্থানরত ভারতীয় ছাত্র, তীর্থযাত্রী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    হিংসার আগুনে জ্বলছে ইরান (Indian Embassy)

    এই নির্দেশিকাটি দেশব্যাপী হিংসাত্মক বিক্ষোভের প্রতিফলন, যেখানে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিক থেকে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০,০০০ এরও বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি এবং মুদ্রার অবনতির জেরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের সমস্ত প্রদেশের ১৮০টিরও বেশি শহরে (Indian Embassy)। বর্ধিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাস্তা বন্ধ, গণপরিবহণ ব্যাহত এবং ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিক্ষোভ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাড়ছে হিংসাত্মক ঘটনাও। ইরান ৮৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি করেছে, যার ফলে ইরানিরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারছেন না, পারছেন না কোনও ভিডিও পোস্ট করতেও।

    ফ্লাইট বাতিল

    বিভিন্ন বিমান সংস্থা ইরানে এবং সেখান থেকে ফ্লাইট সীমিত বা বাতিল করছে। ১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। যোগাযোগ বন্ধ থাকায় অনেক ভারতীয় পরিবার ইরানে (Iran) থাকা আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর পাচ্ছে না। তাদের চোখেমুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট (Indian Embassy)। ভারতের বিদেশমন্ত্রক ৫ জানুয়ারি ভারতীয় নাগরিকদের আপাতত ইরানে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের ইরানে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে এবং যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বানও জানিয়েছে। সর্বশেষ পরামর্শটি সেই সতর্কতার আরও তীব্রতা তুলে ধরেছে। যেহেতু ইরানে অশান্তির পারদ ক্রমশ চড়ছে, তাই এখন অবিলম্বে সে দেশ ছেড়ে ভারতে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, জাপান, জার্মানি এবং ফ্রান্স-সহ অন্যান্য দেশ তাদের নাগরিকদের জন্য একই ধরণের নির্দেশিকা জারি করেছে।

    ভারতীয় দূতাবাস ভারতীয় নাগরিকদের জন্য জরুরি হেল্পলাইন চালু রেখেছে, যদিও ইন্টারনেট এবং টেলিযোগাযোগ ব্ল্যাকআউটের কারণে যোগাযোগ কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারত এর আগে ২০২৫ সালের জুনে অপারেশন সিন্ধু চালু করেছিল, ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষের সময় ৩,৪০০ জনেরও বেশি ভারতীয় নাগরিককে ইরান (Iran) থেকে সরিয়ে নিয়েছিল (Indian Embassy)।

  • India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    India: জ্বলছে ইরান, দেশে ফের ‘রাজতন্ত্র’ ফেরার জল্পনা, কেন শাহি-শাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানজুড়ে ঘটে চলা বিক্ষোভ সাম্প্রতিক বছরের যে কোনও আন্দোলনের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, দৃঢ় এবং দীর্ঘস্থায়ী বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা (India)। আগের দফাগুলির বিক্ষোভের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এবার ওয়াশিংটন প্রকাশ্যেই এই আন্দোলনকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত স্পষ্ট হওয়ায়, তেহরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা আর নিছক গল্প-গুজব নয়। কূটনৈতিক ও কৌশলগত মহলে বিষয়টি এখন নীরবে হলেও গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে যে একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তার মধ্যে অন্যতম হল, ইরানে শাহ শাসনের প্রত্যাবর্তন। বিশেষ করে, বর্তমানে বিতাড়িত ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বে পাহলভি রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা উঠছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় তিনি ছিলেন মাত্র ১৮ বছরের তরুণ। তখনই নির্বাসনে যেতে হয় তাঁর পরিবারকে (India)।

    পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন (India)

    চার দশক পর সেই পুরনো রাজতন্ত্রকে ফের নয়া মোড়কে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে ‘স্থিতিশীলতা’, ‘ধারাবাহিকতা’ এবং ‘বিশ্ব মঞ্চে ইরানের প্রত্যাবর্তনে’র প্রতীক হিসেবে। ইরানে যদি সত্যিই কোনও পাল্টা বিপ্লব হয়, তার ফল হতে পারে নানা রকম। তবে ভারতের কাছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হবে, শাহ-নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার পুনরাগমন। এই উদ্বেগের কারণ এই নয় যে, নয়াদিল্লি বর্তমান ইরানি ধর্মীয় শাসকদের প্রতি কোনও সহানুভূতি পোষণ করে। ভারতের দুশ্চিন্তা অনেক বেশি কাঠামোগত ও কৌশলগত। একজন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত শাহ আদতে স্বাধীন শক্তি হবেন না, বরং তিনি হবেন পশ্চিমী, বিশেষ করে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা শাসক। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে এমন সরকারের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থাকাই স্বাভাবিক (India)।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়

    এর ফলে ইরান আবারও সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ে ঢুকে পড়বে, মার্কিন জ্বালানি নীতি, নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা এবং পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলবে তেহরান। ভারতের দৃষ্টিতে এই পরিবর্তনই যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ইরান যদি পুরোপুরি মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং কৌশলগত স্বার্থে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণেই, ইরানের বর্তমান অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের ওপর নজর রাখছে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহল। যদি ইরান ভবিষ্যতে আমেরিকা-নির্ভর বা ওয়াশিংটনের অধীন এক শাসনব্যবস্থায় পরিচালিত হয়, তাহলে দেশটির কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পরিসর মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে। এমন ইরান ভারতের স্বার্থে এমন কোনও ব্যতিক্রম তৈরি করতে আগ্রহী বা সক্ষম হবে না, যা আমেরিকার নীতির পরিপন্থী (India)।

    বৃহত্তর কৌশল

    এর প্রথম এবং সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ধাক্কা আসবে যোগাযোগ ও সংযোগ ক্ষেত্রে। বর্তমানে ইরানের মাধ্যমেই ভারত মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানে সীমিত হলেও একটি বিকল্প স্থলপথ পেয়ে থাকে। এই সুযোগটি সম্ভব হয়েছে কারণ বর্তমান তেহরান মার্কিন চাপ উপেক্ষা করতে রাজি। ঠিক এই রাজনৈতিক ফাঁকফোকরের মধ্যেই টিকে আছে ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্প, সেখানে ভারতের উপস্থিতি এবং পশ্চিমমুখী স্থলপথে পৌঁছনোর বৃহত্তর কৌশল। কিন্তু শাহ-নেতৃত্বাধীন ইরান সেই ফাঁক বন্ধ করে দেবে। মধ্য এশিয়া কোনও পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল নয়, সেখানে মূল প্রভাব রাশিয়া ও চিনের। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ইরান সেই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বেমানান হয়ে পড়বে, যার মাধ্যমে ভারত ওই অঞ্চলে পৌঁছতে চায়।

    চাবাহার বন্দর

    এর প্রত্যক্ষ ফল হবে চাবাহার বন্দরে ভারতের বিনিয়োগ এবং রাশিয়াগামী নর্থ-সাউথ করিডর-সহ সংশ্লিষ্ট স্থলপথ কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া (India)। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল হবে। যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ ইরানকে কাবুল সম্ভবত অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখবে। এর ফলে আফগানিস্তান আরও একবার পাকিস্তানের প্রভাববলয়ে ফিরে যেতে পারে, যে পরিস্থিতি এড়াতে ভারত গত কয়েক দশক ধরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কাজ করে এসেছে। তবে ভারতের অস্বস্তির কারণ কেবল সংযোগ ব্যবস্থা নয়। এর গভীরে রয়েছে ইতিহাসের স্মৃতি। শেষবার যখন ইরানে শাহ শাসন ছিল, তখন ভারতের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় পাহলভি রাজতন্ত্র শুধু পশ্চিমের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং অঞ্চলটিতে পশ্চিমী নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিল।

    পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান

    এই অবস্থানের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে পড়েছিল ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে। সেই সময় ইরানের পশ্চিমঘেঁষা অবস্থান ভারতের কৌশলগত স্বার্থের পক্ষে ছিল না—এই স্মৃতি এখনও দিল্লির নীতিনির্ধারকদের মনে টাটকা রয়েছে (India)। ১৯৬৫ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পশ্চিমী দেশগুলি থেকে সরাসরি সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে ইসলামাবাদের জন্য। বিশেষ করে পাক  বিমান বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি বজায় রাখা তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই সঙ্কটের সময়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় ইরান। তৎকালীন শাহের শাসনাধীন ইরান কার্যত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তানের জন্য অস্ত্র সংগ্রহে। পশ্চিমি দেশগুলির কাছ থেকে সরাসরি অস্ত্র কিনতে না পারায়, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে তা তেহরান হয়ে পাকিস্তানে পাঠানোর ব্যবস্থা করে ইরান (India)।

    পাকিস্তানের হাতে যুদ্ধবিমান

    ১৯৬৬ ও ১৯৬৭ সালে ইরান প্রায় ৯০টি অতিরিক্ত এফ-৮৬ সাবার যুদ্ধবিমান  তুলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এই যুদ্ধবিমানগুলি ছিল কানাডায় নির্মিত কানাডায়ার সিএল-১৩ এমকে৬ মডেল, যা আগে পশ্চিম জার্মানির লুফটওয়াফের (West German Air Force) অধীনে ছিল। জার্মান মজুত থেকে এই বিমানগুলি সংগ্রহ করে ইরানের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। লুফটওয়াফের পাইলটরা বিমানগুলি উড়িয়ে তেহরানে নিয়ে আসতেন, তারপর ইরানি পাইলটরা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ইউনিফর্ম পরে সেগুলি পাকিস্তানে নিয়ে যেতেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোটা প্রক্রিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অজান্তে হওয়া সম্ভব ছিল না। যদিও ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশকেই অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় রেখেছিল, বাস্তবে এই লেনদেন ঘটেছে আমেরিকার নীরব সম্মতিতেই। কারণ ইরান তখন আমেরিকার অন্যতম ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্র ছিল (India)।

    অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে কারা যুক্ত

    এই অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে যুক্ত জার্মান অস্ত্র ব্যবসায়ী গেরহার্ড মার্টিন্স পরে দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সাবার যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত ছিল এবং পাকিস্তানের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য স্টুয়ার্ট সাইমিংটন, যিনি এই চুক্তি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করেছিলেন, তিনিও জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানত যে বিমানগুলি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছেই পৌঁছবে। ১৯৭১ সালের মধ্যে এই যুদ্ধবিমানগুলিতে সাইডউইন্ডার ক্ষেপণাস্ত্রও সংযোজন করা হয়। ১৯৭১ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের সময় এই সমর্থন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানের অবস্থান যখন দ্রুত অবনতি হচ্ছিল, তখন ইরান প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। শাহ প্রকাশ্যে ভারতের ভূমিকার নিন্দা করেন এবং সংঘর্ষকে আগ্রাসন হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে তেহরান সম্পূর্ণভাবে ইসলামাবাদের পাশে রয়েছে।

    ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই

    নয়াদিল্লিকে পাঠানো এক কড়া বার্তায় ইরানের তৎকালীন শাসক ঘোষণা করেছিলেন, “ইরানের কোনও আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু পাকিস্তানকে নিশ্চিহ্ন করার কোনও প্রচেষ্টা আমরা মেনে নেব না। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতকে আমাদের এই অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকতে হবে। আমরা ইরানের সীমান্তে আর একটি ভিয়েতনাম চাই না (India)।” এই বক্তব্য শুধু আদর্শগত অবস্থান বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিফলন নয়। শাহের দৃষ্টিতে পাকিস্তান ছিল পশ্চিমী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্রন্টলাইন স্টেট’, অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিরোধক এবং সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর সহযোগী শক্তি। অন্যদিকে, নিরপেক্ষ জোটভুক্ত হলেও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা ভারত এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারেনি।

    শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না

    ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিষয়টি ছিল স্পষ্ট। শাহ-শাসিত ইরান নিরপেক্ষ ছিল না, ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তিও ছিল না। বরং পাকিস্তানকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছিল, একটি এমন পশ্চিমী নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে, যেখানে ভারতের স্বার্থকে অগ্রাহ্য করা হয়েছিল। এই কাঠামোগত বাস্তবতা সহজে বদলে যাওয়ার নয়। ২০২৫ সালে যদি ইরানে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সেই সরকার আবারও টিকে থাকা ও বৈধতার জন্য পশ্চিমী সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হবে। এই নির্ভরশীলতা পাকিস্তান প্রশ্নে, আঞ্চলিক সংঘাতে, জ্বালানি সরবরাহ এবং নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলবে (India)। বিশেষত যুবরাজের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা এই ইঙ্গিতই দেয় যে, ভবিষ্যতের কোনও শাহ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক-কূটনৈতিক সমীকরণে ঝুঁকবেন।

    ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা শিক্ষা থেকে এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের অধীনস্থ একটি ইরান ভারতের জন্য কখনও ততটা সহায়ক হয়নি, যতটা হয়েছে একটি স্বাধীন, সীমাবদ্ধ হলেও কৌশলগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পশ্চিমী চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া (India) ইরান।

     

  • US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে ভারতীয় রফতানিকারীদের মধ্যে যে আশঙ্কা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, ভারতের ইরান-বাণিজ্যের পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বহুমুখী হওয়ায় এই শুল্কের প্রভাব অত্যন্ত সামান্য হবে।

    ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার (US)

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে ইরানের সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির খুবই ছোট অংশ। ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ২১০০ কোটি মার্কিন ডলার, চিন ১৭০০ কোটি মার্কিন ডলার, তুরস্ক ১১০০ কোটি মার্কিন ডলার, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই তালিকায় ভারতের অংশীদারিত্ব তুলনামূলকভাবে খুবই নগণ্য। তবে সোমবার প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করার পরেই ভারতীয় চাল রফতানিকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, ইরানে চাল রফতানির ক্ষেত্রে ভারতই সবচেয়ে বড় জোগানদাতা। তেহরান তার মোট চাল আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভারত থেকেই করে। ফলে এই বাজার ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঘোষণার পর বহু ভারতীয় রফতানিকারী ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে অনিচ্ছুক। শীর্ষস্থানীয় চাল রফতানিকারী সংস্থার বাল্ক এক্সপোর্ট বিভাগের প্রধান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ট্রাম্পের কাঠামোর আওতায় প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় বাসমতি চাল শিল্পের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।” নয়াদিল্লি-ভিত্তিক এক রফতানিকারী সংস্থা বলেন, “গত দু’মাসে যে চাল পাঠানো হয়েছে, তার অর্থপ্রাপ্তি নিয়েই আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।” তিনি আরও বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ চাল পাননি। আবার কিছু ক্ষেত্রে অশান্তির কারণে ক্রেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।”

    এদিকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত চিনের জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, চিন ইরানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চিনে ইরানের রফতানির পরিমাণ ছিল ২২০০ কোটি ডলার, যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল জ্বালানি তেল। একই বছরে চিন থেকে ইরানের আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিন ইরানের রফতানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেলের ক্রেতার সংখ্যা সীমিত, কারণ এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিতে অর্থের জোগান বন্ধ করা।

     

LinkedIn
Share