Tag: ISKCON

ISKCON

  • Bangladesh: বাংলাদেশে হয়রানির শিকার আরও এক হিন্দু সন্ন্যাসী, এবার গ্রেফতার সন্ত মহারাজ স্বরূপ দাস

    Bangladesh: বাংলাদেশে হয়রানির শিকার আরও এক হিন্দু সন্ন্যাসী, এবার গ্রেফতার সন্ত মহারাজ স্বরূপ দাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দু সন্ন্যাসীদের ওপর পুলিশি হয়রানি চলছেই। ইসকনের চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পর এবার গ্রেফতার সনাতন জাগরণ ঐক্য জোটের সন্ত মহারাজ স্বরূপ দাস। প্রসঙ্গত, স্বরূপ দাস (Swarup Das) চট্টগ্রামের হাটাজারির গৌরাঙ্গ বাড়ির অধ্যক্ষ।

    হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই লাগাতার হামলা

    গত ৫ অগাস্ট বাংলাদেশে (Bangladesh) হাসিনা সরকারের পতেনর পর থেকেই আক্রমণের শিকার সংখ্যালঘু হিন্দুরা। সম্প্রতি, এই ধরনের হামলার ঘটনা আরও বেড়েছে। এরই প্রতিবাদে বাংলাদেশে রাস্তায় নেমেছে সনাতনী সমাজ। এই আবহে গত ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশের (Bangladesh) বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে। জামাত-বিএনপি নিয়ন্ত্রিত ইউনূস সরকার রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনে চিন্ময় মহারাজের বিরুদ্ধে। এরপরেই এবার গ্রেফতার করা হল সন্ত মহারাজ স্বরূপ দাসকে। বৃহস্পতিবারই চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, কোন অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।

    সরকারের প্রাণভোমরা জামাত-বিএনপির হাতে (Swarup Das)

    চিন্ময় কৃষ্ণের গ্রেফতারির পরে ইউনূস সরকারও ইসকনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, জামাতরাও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে ইসকনকে নিষিদ্ধ না করলে, আরও হামলা হবে। উল্লেখ্য জামাত-বিএনপি হল ইউনূস সরকারের প্রাণভোমরা। ইতিমধ্যেই শিবচরে ইসকনের মন্দির জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছিল বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ। সেই সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুও। ইসলামি মৌলবাদীদের দাবি, ওই সমাবেশে নাকি বাংলাদেশের (Bangladesh) জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়েছিল। তবে এর সুনির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ মেলেনি। এই অভিযোগেই চট্টগ্রামে একটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন বিএনপি নেতা ফিরোজ খান। গত ৩১ অক্টোবর চিন্ময় দাস-সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সেই নেতা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh: বাংলাদেশে জোর করে বন্ধ করা হল ইসকন মন্দির, তুলে নিয়ে যাওয়া হল ভক্তদের

    Bangladesh: বাংলাদেশে জোর করে বন্ধ করা হল ইসকন মন্দির, তুলে নিয়ে যাওয়া হল ভক্তদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে হিন্দুদের ওপর লাগাতার অত্যাচার শুরু হয়েছে। সরকারের মাথায় লোকদেখানো করে মহম্মদ ইউনূসকে বসানো হয়েছে। কিন্তু, সরকার কার্যত পরিচালনা করছে জামাতে ইসলামি এবং হেফাজতে ইসলামের মতো বাংলাদেশের মৌলবাদী সংগঠনগুলি। তাদের নির্দেশেই সব কিছু হচ্ছে। চিন্ময় প্রভু গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সেখানকার সরকারের আচরণ এবং কট্টরপন্থিদের ভূমিকা আরও বেশি করে তা প্রমাণ করে দিয়েছে। এই আবহে ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার বাংলাদেশের হাইকোর্টে ইসকনকে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশে ইসকনের মন্দির-অফিসে হুমকি আসতে শুরু করেছে।

    বন্ধ করা হল ইসকন মন্দির (Bangladesh)

    জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে (Bangladesh) ইসকনের (ISKCON) ৬৫টি মন্দির রয়েছে। ৫০ হাজারেরও বেশি অনুগামী রয়েছে। ঢাকায় ১৩টি ইসকন মন্দির রয়েছে। চট্টগ্রামে ১৪টি, সিলেটে ৯টি, খুলনায় ৮টি এবং রংপুরে ৭টি ইসকন মন্দির রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের শিবচরে ইসকনের মন্দিরগুলিকে নিশানা করছে মৌলবাদী জামাতরা। মন্দির বন্ধের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। বাংলাদেশের সোনালি মার্কেটে অবস্থিত ইসকন মন্দির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মন্দির বন্ধ না করলে, ভয়ঙ্কর পরিণতি হবে বলেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইসকনের এই মন্দির থেকেই বোর্ড খুলে নেওয়া হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মৌলবাদী নেতারা আধ ঘণ্টার মধ্যে মন্দির বন্ধ করার এবং ইসকনের সদস্যদের গ্রেফতার করার হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ ও সেনারাও সেখানে উপস্থিত ছিল। ইসকনের সমর্থকদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। বেছে বেছে হিন্দুদেরই পুলিশ ধরছে বলে অভিযোগ। হিন্দুদের ওপরে মৌলবাদীদের নেতৃত্বে হামলার লাগাতার অভিযোগ আসছে। বাড়ি-ঘর, দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ভয়ঙ্কর চিত্রও সামনে এসেছে।

    আরও পড়ুন: সাগরে ঘনিভূত নিম্নচাপ, রাজ্যে শীতের আমেজে বাধা, বাড়বে রাতের তাপমাত্রা

    কী বললেন ইসকন কলকাতার ভাইস প্রেসেডেন্ট?

    ইসকন কলকাতার ভাইস প্রেসেডেন্ট এবং মুখপাত্র রাধারমণ দাস বলেন, ‘‘বাংলাদেশের শিবচরের ইসকন (Bangladesh) নামহাট্টা সেন্টারটি মুসলিমরা এসে জোর করে বন্ধ করে দিয়ে যায়। এরপর সেখানে সেনারা যান। ইসকনের ভক্তদের সেখান থেকে একটি গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।’’ একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন রাধারমণ দাস। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ইসকন মন্দিরের একটি হোর্ডিং খুলে ফেলা হচ্ছে লোহার রড দিয়ে।

     

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • ISKCON Bangladesh: ‘‘সনাতনীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হোক’’, ইউনূসকে কড়া বার্তা বাংলাদেশ ইসকনের

    ISKCON Bangladesh: ‘‘সনাতনীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হোক’’, ইউনূসকে কড়া বার্তা বাংলাদেশ ইসকনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংখ্যালঘুদের শান্তিতে বাঁচতে দেওয়া হোক। নিশ্চিত করা হোক তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের (Chinmay Krishna Das) গ্রেফতারি নিয়ে মহম্মদ ইউনূস সরকারকে কড়া বার্তা দিল ইসকন বাংলাদেশ (ISKCON Bangladesh)। এই নিয়ে দু’টি পৃথক বিবৃতি জারি করেছে ইসকন। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে সংগঠনের তরফে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছে ইসকন। 

    সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি

    এই আবহে ইসকনের (ISKCON Bangladesh) তরফ থেকে বলা হয়েছে, ‘‘আমরা ধারাবাহিক ভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আবেদন করেছি যাতে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়া হয়। আমরা চাই যাতে সরকার এবং প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করে সনাতনীদের উদ্বেগ মেটায়। বাংলাদেশ আমাদের জন্মস্থান। আমরা এই দেশের গর্বিত নাগরিক। আমাদের অনেক আচার্য্যদের জন্ম এই দেশে। আমরা চাই সরকার যাতে এই দেশের প্রতিটি নাগিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখে। আমরা বর্তমান এবং ভবিষ্যতের যে কোনও সরকারের সঙ্গেই সমন্বয় বজায় রাখতে চাই। আমারা চাই যাতে সবাই সব ধর্মের প্রতি সহনশীল হন এবং যে কোনও ধরনের উস্কানি দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।’’

    চিন্ময় প্রভুকে মুক্তির দাবি

    অপর এক বিবৃতিতে চিন্ময় প্রভু ইস্যুতে ইসকন বাংলাদেশের (ISKCON Bangladesh) তরফ থেকে বলা হয়, ‘‘বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের (Chinmay Krishna Das) গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা করছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সনাতনীদের উপর যে হামলা চলছে আমরা সেই সব ঘটনারও নিন্দা করছি। আমরা চাই যাতে সরকার সনাতনীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটে’র প্রতিনিধি এবং একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রথম থেকেই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সরব ছিলেন। তাঁর বাকস্বাধীনতার বিষয়টি বজায় রাখা খুবই প্রয়োজন। তিনি অন্যদের অধিকারের জন্যে মনে যে বল যোগাচ্ছেন, তা সমর্থন করা খুবই প্রয়োজন। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এবং এদেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের বিচার প্রাপ্য। সংখ্যালঘুদের প্রতি কোনও ধরনের বৈষম্য আর মেনে নেওয়া হবে না।’’

    আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত ইজরায়েল-হিজবুল্লার! কেন এই সিদ্ধান্ত, কী ভাবছেন নেতানিয়াহু?

    সনাতনীদের ওপর হামলা বন্ধ হোক

    ইসকনের (ISKCON Bangladesh) তরফ থেকে আরও বলা হয়, ‘‘সরকারের প্রতি আমাদের দাবি, সনাতনীদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের সাজা দিতে হবে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস (Chinmay Krishna Das) এবং দেশের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে। দেশের সব সম্প্রদায়ের মধ্যে যাতে শান্তি বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে হবে। বাংলাদেশের এক সনাতনী সংগঠন হওয়ার দরুণ সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং অধিকার রক্ষা করার বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর।’’ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছে ইসকনের সাধু চিন্ময় কৃষ্ণ দাস সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে। সোমবার বাংলাদেশ বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাংলাদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘুরা। প্রতিবাদে সরব হন তাঁরা। ভারত সরকারের তরফেও ইসকনের সাধুর গ্রেফতারি এবং জামিন মঞ্জুর না হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • ISKCON: ‘‘ চিন্ময় প্রভুর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা, মেনে নিচ্ছি না”, গর্জে উঠল কলকাতার ইসকন

    ISKCON: ‘‘ চিন্ময় প্রভুর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা, মেনে নিচ্ছি না”, গর্জে উঠল কলকাতার ইসকন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) ঘটনায় নতুন করে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। বাংলাদেশে ইসকনের সন্ন্যাসী তথা বাংলাদেশের সম্মিলিত জাগরণ জোটের প্রধান মুখপাত্র চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারি নিয়ে পথে নেমেছে বিজেপি। ভারতের পক্ষ থেকে ইউনূস সরকারকে ইতিমধ্যেই হিন্দুদের সুরক্ষা দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এবার এই ঘটনা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন কলকাতার ইসকন (ISKCON) কর্তৃপক্ষ।

    ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কী বললেন? (ISKCON)

    মঙ্গলবার মুখ খুললেন ইসকনের (ISKCON) ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধা রমণ দাস। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে যেভাবে ভারতীয় হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছিল, মহিলাদের অপহরণ করা হচ্ছিল, সেই ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন প্রভু চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। তিনি আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছিলেন। বিক্ষোভ থামাতেই বাংলাদেশের পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল চিন্ময় প্রভুর এক সহকারী আমাকে ফোন করে জানান যে চিন্ময় প্রভুকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিন শুনলাম, তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ মামলা হয়েছে। তারজন্য হিন্দুরা সকলে পথে নেমেছেন। অথচ প্রতিবাদীদের ওপর মৌলবাদীরা আক্রমণ চালাচ্ছে,পুলিশও তাতে মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাচ্ছি। আমরা এসব মেনে নিচ্ছি না। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিশ্ব জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রতিবাদ। কলকাতায়ও চিন্ময় দাসের গ্রেফতারির প্রতিবাদ জানানো হবে, নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কর্মসূচিও খুব শীঘ্রই নেওয়া হবে। ভারত সরকারের কাছে আবেদন, বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়ন রুখতে পদক্ষেপ নেওয়া হোক। ”এ বিষয়ে তিনি রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন।

    আরও পড়ুন: দুয়ারে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন, বৈঠকে বিজেপির ইস্তাহার কমিটি

    ৫১ জন আইনজীবী লড়াই করলেও মেলেনি জামিন

    গত ৩০ অক্টোবর চিন্ময় দাস সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। নগরীর কোতোয়ালি থানায় সেই মামলা দায়ের করেন ফিরোজ খান নামে এক ব্যক্তি। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা করার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে এই মামলা করা হয়। এই ঘটনায় আগেই দু’জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাঁদের নাম রাজেশ চৌধুরী ও হৃদয় দাস। সোমবার বিকেলে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে পুলিশ চিন্ময় প্রভুকে গ্রেফতার করার পর থেকেই অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। হাজার হাজার হিন্দু পথে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। একটাই দাবি, নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে সনাতন হিন্দু প্রতিনিধি (ISKCON) চিন্ময় প্রভুকে। কিন্তু মুক্তি দূর অস্ত, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে দেশদ্রোহের মামলা। মঙ্গলবার ৫১ জন আইনজীবী চিন্ময় প্রভুর হয়ে লড়াই করলেও জামিন মেলেনি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh: চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারের প্রতিবাদে কড়া প্রতিক্রিয়া রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিত, সদগুরুর

    Bangladesh: চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারের প্রতিবাদে কড়া প্রতিক্রিয়া রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিত, সদগুরুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুদের ওপর লাগাতার অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছিল। এই আবহের মধ্যে এবার সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারি ঘিরে ফের উত্তপ্ত বাংলাদেশ (Bangladesh)। এরপর বিক্ষোভ আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশে। ভারত সরকার প্রতিবাদ জানিয়েছে। একইসঙ্গে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন রাম জন্মভূমি মন্দিরের প্রধান পুরোহিতসহ বিভিন্ন ধর্মগুরু। ইসকনের পক্ষ থেকে এই বিষয় নিয়ে ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারের ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় শুধু বাংলাদেশের মাটিতে থেমে নেই। ভারতে সনাতনীরাও প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। চাপ বাড়ছে বাংলাদেশ সরকারের।

    পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা (Bangladesh)

    চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারি প্রসঙ্গে শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের (Bangladesh) প্রধান পুরোহিত আচার্য সত্যেন্দ্র দাস বলেন, ‘‘যা হয়েছে অত্যন্ত খারাপ। আমার এটাই মনে হচ্ছে, পাকিস্তান যেমন হিন্দুদের সঙ্গে ব্যবহার করে থাকে বাংলাদেশও তেমনটাই করছে। বাংলাদেশে যাঁরা হিন্দুদের সমর্থন করছেন, তাঁদেরকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে, এটা খুব খারাপ। আমাদের সরকারের উচিত অবিলম্বে এই বিষয়টিতে নজর দেওয়া। এখনও সরকার যদি কিছু না বলে তাহলে হিন্দুদের ওপর যে অন্যায় অত্যাচার হচ্ছে তা আরও বাড়বে আর এটাই চলতে থাকবে।’’

    সরব হয়েছেন সদগুরু

    ইসকনের-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য চিন্ময় কৃষ্ণদাস ব্রহ্মচারী। তিনি সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্রও। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে তিনি ‘চিন্ময় প্রভু’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ (Bangladesh) সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্রের পাশাপাশি, পুণ্ডরীক্ষ ধামের অধ্যক্ষও তিনি। তাঁর গ্রেফতারের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন আধ্যাত্মিক শিক্ষক এবং ইশা লিডারশিপ অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সদগুরু। মঙ্গলবার বাংলাদেশে হিন্দু নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেফতারকে অসম্মানজনক বলে অভিহিত করেছেন তিনি। সদগুরু এক্স হ্যান্ডলে সকল বাংলাদেশি নাগরিককে একটি গণতান্ত্রিক জাতি গঠনের জন্য আহ্বান জানান। তিনি লিখেছেন, ‘‘মুক্ত গণতন্ত্রের মূল্য বোঝা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। ধর্মের ভিত্তিতে নিপীড়ন ঠিক নয়। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের প্রতিবেশি গণতান্ত্রিক নীতি থেকে দূরে সরে গিয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব হওয়া উচিত একটি গণতান্ত্রিক জাতি গঠন করা যেখানে সকল নাগরিকের প্রয়োজনীয় অধিকার এবং তাদের চাহিদা ও বিশ্বাস অনুযায়ী জীবন যাপন করার ক্ষমতা থাকবে।’’

    গোয়েন্দা শাখার মুখপাত্র রেজাউল করিম কী বলেছেন?

    সোমবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে হিন্দু সংগঠন সম্মিলিত সনাতনী জোটের নেতা চিন্ময় প্রভুকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের গোয়েন্দা শাখার মুখপাত্র রেজাউল করিমকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে,  নিয়মিত পুলিশের অনুরোধের ভিত্তিতে দাসকে আটক করা হয়েছে। করিম বলেন, ‘‘পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য দাসকে এখন সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।’’

    ভারত সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ ইসকনের

    ইসকন একটি এক্স পোস্টে ভারত সরকারকে অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের (Bangladesh) সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধ করে। এক্স পোস্টে লিখেছে, ‘‘বিশ্বের যে কোনও জায়গায় সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইসকনের কোনও সম্পর্ক নেই। এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করা নিন্দনীয়। ভারত সরকারকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধ করে এবং জানিয়ে দেয় যে আমরা শান্তিপ্রিয় ভক্তি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। আমরা চাই বাংলাদেশ সরকার অবিলম্বে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তি দিন। এই ভক্তদের সুরক্ষার জন্য ভগবান কৃষ্ণের কাছে আমাদের প্রার্থনা।’’

    রাস্তায় নেমেছে হিন্দুরা

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দাসকে আটক করা হয়েছিল। বাংলাদেশ (Bangladesh) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এই আটকের নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে এটি বিদেশে দেশের ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রসঙ্গত, গত ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সমাবেশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে অসম্মান করার অভিযোগে দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়। এদিকে দাসের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ বন্দরনগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে রাস্তায় নেমেছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh: ‘‘হিন্দুদের সুরক্ষা দিন’’, চিন্ময় প্রভুর জামিন খারিজ হতেই বাংলাদেশকে কড়া বার্তা দিল ভারত

    Bangladesh: ‘‘হিন্দুদের সুরক্ষা দিন’’, চিন্ময় প্রভুর জামিন খারিজ হতেই বাংলাদেশকে কড়া বার্তা দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিন্ময় দাসের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ফের উত্তপ্ত বাংলাদেশ (Bangladesh)। এবার ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল। ঢাকা-সহ বিভিন্ন জায়গায় মশাল মিছিল, বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছেন বাংলাদেশের হিন্দুরা। গ্রেফতারির পর থেকেই দেশ জুড়ে আন্দোলন শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রতিবাদ হয়েছে ভারতেও। তারপরও মঙ্গলবার চিন্ময় দাসের জামিন খারিজ করে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আর জামিন হতেই বাংলাদেশে থাকা হিন্দুসহ সমস্ত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়ার দাবি জানাল ভারত।

    প্রতিবাদে মশাল মিছিল (Bangladesh)

    সোমবার ঢাকার (Bangladesh) শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় দাসকে গ্রেফতার করা হয়। চিন্ময় দাস বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে তিনি চিন্ময় প্রভু নামে পরিচিত। এছাড়া তিনি পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ। সম্প্রতি চিন্ময় দাসের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম ও রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের ৮ দফা দাবি নিয়ে কয়েকটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জানা গিয়েছে, গত ৩০ অক্টোবর চিন্ময় দাস-সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এক ব্যক্তি। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা করার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে এই মামলা করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সেই মামলাতে গ্রেফতার করা হয়েছে চিন্ময় দাসকে। চিন্ময় দাসের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রতিবাদে সরব হন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও। গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ শুরু হয়। পথে নামেন বাংলাদেশের হিন্দুরা। বিভিন্ন জায়গায় মশাল মিছিলও হয়। ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন তাঁরা। চিন্ময় দাসের মুক্তির দাবি জানান।

    আরও পড়ুন: দুয়ারে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন, বৈঠকে বিজেপির ইস্তাহার কমিটি

    জামিন খারিজ করে দিল আদালত

    বাংলাদেশে (Bangladesh) ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিন খারিজ করে দিল চট্টগ্রামের আদালত। দেশদ্রোহের অভিযোগে সোমবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে পেশ করা হয় আদালতে। তাঁর হেফাজত চায়নি পুলিশ। চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে হিন্দুদের ওপর চলছে অত্যাচার। মারধর, ঘরবাড়ি লুট থেকে জোর করে চাকরি ছাড়ানোর মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে। হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ। হিন্দুদের একজোট করার কাজ করেছিলেন।

    বাংলাদেশকে বার্তা দিল ভারত

    চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রনধীর জয়সওয়াল এক্স হ্যান্ডলে বাংলাদেশে হিন্দু সহ সমস্ত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার আর্জি জানিয়েছেন।

    কী বার্তা দিলেন চিন্ময় প্রভু?

    চট্টগ্রামের (Bangladesh) আদালত নির্দেশ দিয়েছে, জেলের মধ্যে চিন্ময়কৃষ্ণ যাতে সমস্ত রকম ধর্মীয় আচার-আচরণ করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে হবে প্রশাসনকে। এ দিন আদালত চত্বরে সংবাদ মাধ্যমকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বার্তা দেন, পূর্বপরিকল্পিত সমস্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে হিন্দুদের।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladesh Crisis: বাংলাদেশে গ্রেফতার নিপীড়িত হিন্দুদের মুখ চিন্ময় প্রভু

    Bangladesh Crisis: বাংলাদেশে গ্রেফতার নিপীড়িত হিন্দুদের মুখ চিন্ময় প্রভু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh Crisis) গ্রেফতার নিপীড়িত হিন্দুদের মুখ চিন্ময় প্রভু (Chinmoy Krishna Das)। ঘটনার প্রতিবাদে ফের পথে নামেন সে দেশের হিন্দুরা। সোমবার ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। ইসকন পুণ্ডরীক ধামের সভাপতি তিনি।

    হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন চিন্ময় (Bangladesh Crisis)

    শুক্রবার রংপুরে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করেন হিন্দুরা। এই সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন চিন্ময় প্রভু। সেই সময় তিনি হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন। চট্টগ্রামে তিনটি মন্দির ভাঙার চেষ্টা হলে স্থানীয় মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ সেগুলি রক্ষায় হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেও ভাষণে উল্লেখ করেছিলেন চিন্ময়। এদিন দুপুরে গ্রেফতার করা হল তাঁকেই। 

    হিন্দুদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল মুসলমানরা

    প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলাদেশে কট্টরপন্থী মুসলমানরা হিন্দুদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তাদের দাবি, ইসকনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হোক। তা না হলে ধরে ধরে হত্যা করা হবে ইসকন ভক্তদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হুমকির কথা জানিয়ে ভারত ও আমেরিকার হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন ইসকনের এক সদস্য। এর আগে গত ৫ নভেম্বর ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন চট্টগ্রামের এক মুসলমান ব্যবসায়ী। ইসকনকে জঙ্গি সংগঠনের তকমা দেন তিনি (Bangladesh Crisis)।

    আরও পড়ুন: ‘‘ছাপ্পা ভোট দিয়ে জেতানো বিধায়কদের শপথে থাকবে না বিজেপি ’’, সাফ জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু

    সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে অশান্তির জেরে প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। তার পর থেকেই হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বাড়তে থাকে। হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও বেশ কিছু মন্দির ধ্বংস করার অভিযোগও ওঠে সে দেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধে। ৫ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয় শতাধিক হিন্দুকে। সেদিন চিন্ময় প্রভুকে গ্রেফতার করা হয়নি। তাঁকে গ্রেফতার করা হল এদিন। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রেজিউল করিম মল্লিক। তিনি বলেন, “তাঁকে (চিন্ময় প্রভুকে) ডিবি গ্রেফতার করেছে।” চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ঊষাতন তালুকদার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্রকুমার নাথ-সহ অন্যরা। তাঁরা চিন্ময়ের (Chinmoy Krishna Das) দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন (Bangladesh Crisis)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

  • ISKCON: ট্রাম্পের বিপুল জয়ে উদ্বিগ্ন ইউনূস, ইসকনকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ নাও করা হতে পারে

    ISKCON: ট্রাম্পের বিপুল জয়ে উদ্বিগ্ন ইউনূস, ইসকনকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ নাও করা হতে পারে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ব্যাপক আক্রমণের ঘটনা ঘটতে থাকে। এমন অবস্থায় প্রতিবাদ জানাতে দিকে দিকে শুরু হয় বিক্ষোভ সমাবেশ। ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিপুল জনসমাগম হয়। সেই জনজোয়ার নজর কাড়ে গোটা বিশ্বের। এই দুই সমাবেশেই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল ইসকন। এরপরে ইসকনের ওপর বাংলাদেশ সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে, এমন খবর রটে যায়। জল্পনার অবশ্য বিশেষ কিছু কারণও ছিল। বাংলাদেশে বর্তমানে ইউনূস সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে জামাত-বিএনপির এবং হেফাজতে-ইসসামের হাতে। সেই মৌলবাদীরা সম্প্রতি ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলে। চট্টগ্রামে বিপুল জনসমাগমের পরেই এক মৌলবাদী সমাজ মাধ্যমে ইসকন (ISKCON) বিরোধী পোস্ট করে। সংস্থাকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়। যার ফলে অশান্ত হয় চট্টগ্রাম। এই ঘটনায় ৫৮২ জনকে আটক করে পুলিশ। প্রশাসনের তরফ থেকেও বলা হয়, ধৃতরা প্রত্যেকেই ইসকনের সদস্য। অনেকে বলতে থাকেন, আসলে প্রশাসন অশান্তি ছড়ানোর জন্য মৌলবাদীদের বদলে ইসকনকে দায়ী করছে মূলত দুটি কারণে- প্রথমতঃ বাংলাদেশের প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে মৌলবাদীদের হাতে এবং দ্বিতীয়তঃ সে কারণেই ইসকনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে মৌলবাদীদের খুশি করতে চায় বাংলাদেশের প্রশাসন। তার পরেই যেন খেলা ঘুরতে শুরু করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট (Donald Trump) নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যখন তিনি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ছিলেন, তখনই বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন। তাই ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই উদ্বেগে রয়েছে বাংলাদেশের ইউনূস সরকার। এমন অবস্থায় ওয়াকিবহাল মনে করছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ইসকনের (ISKCON) বিরুদ্ধে কোনওরকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অন্ততপক্ষে আর নিতে পারবে না।

    ইউনূস আত্মবিশ্বাসী ছিলেন কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট হবেন

    বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ইউনূসের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অনেকের ধারণা, ইউনূসকে বাংলাদেশে ক্ষমতার মসনেদ বসাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা। ২০২৪ সালের মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে ইউনূস আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস জিতবেন। ইউনূস ভেবেছিলেন, ডেমোক্র্যাট রাষ্ট্রপতির অধীনে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থাকে সেক্ষেত্রে তাঁর সোনায় সোহাগা হবে। বাংলাদেশে ধর্মীয়ভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর যে ধরনের নির্যাতন চলছে, সে নিয়ে মার্কিন প্রশাসন কোনও কথা বলবে না। একইসঙ্গে কট্টরপন্থী ইসলামিক মৌলবাদীদের সঙ্গে ইউনূসের যোগকেও উপেক্ষা করে চলবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাই আশা ছিল কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট হবেন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প বিপুল ভোটে জয়ী হতেই সে আশা ভেঙে যায়। বাংলাদেশে ধর্মীয়ভাবে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় গত ৩১ অক্টোবরই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে, এর প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ট্রাম্পের ওই পোস্টে ইউনূস ও তাঁর কট্টর মৌলবাদী ইসলামপন্থী বন্ধুরা খুবই অস্বস্তিতে পড়ে যান। নিজের পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘‘হিন্দু খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে বর্বর অত্যাচার হচ্ছে বাংলাদেশে, তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বাংলাদেশ বর্তমানে উপদ্রুত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।’’

    কী বলছেন আওয়ামী লিগের নির্বাসিত নেতা?

    ট্রাম্পের এমন ট্যুইটবাণ ইউনূসকে হজম করতে হয়। তিনি তখনও আশায় মগ্ন ছিলেন যে কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে বদলে গিয়েছে। ইউনূস সরকার আশঙ্কিত যে কোনও মুহূর্তে নতুন মার্কিন প্রশাসন, বাংলাদেশের হিন্দু সহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় নিয়ে ফের সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। ইউনূস নিজেও জানেন, এক্ষেত্রে তাঁর ডেমোক্র্যাট বন্ধুরা কিছুই করতে পারবেন না। স্বরাজ্য পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, এক আওয়ামী লিগের নির্বাসিত নেতা দাবি করেছেন, ‘‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের জমানায় ইউনূস ও তাঁর প্রশাসনকে কঠিন তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে। কোনওভাবেই আর কট্টর ইসলামপন্থী মৌলবাদীদের প্রতি নরম হতে পারবে না ইউনূস।’’ আওয়ামী লিগের ওই নেতার আরও দাবি, ‘‘ইউনূস নিজেও জানেন যে ধর্মীয়ভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা যদি হয় তবে সেখানে নজরদারি চালাতে থাকবে ট্রাম্প প্রশাসন এবং তিনি নিজেও মৌলবাদীদের খুশি করার মতো পদক্ষেপ করতে পারবেন না।’’

    মার্কিন দেশে রয়েছেন প্রচুর ইসকন (ISKCON) ভক্ত

    প্রসঙ্গত, অনেকেই বলছেন যে, ইউনূস প্রশাসন ইসকনের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসকনের প্রচুর প্রভাবশালী ভক্ত রয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন শিল্পপতি থেকে বিভিন্ন পেশাদাররা, যাঁরা প্রত্যেকেই রিপাবলিকানদের ঘনিষ্ঠ। এমনকী, খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসকনের সুসম্পর্ক রয়েছে। আবার বেশ কিছু প্রভাবশালী ইসকন ভক্তের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ‘‘ট্রাম্পের সঙ্গে বহু পুরনো এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ইসকনের। মার্কিন মুলুকে ইসকনের রথযাত্রার সূচনার নেপথ্যে বিরাট ভূমিকা ছিল ট্রাম্পের। ইসকনের রথযাত্রার অন্যতম বড় পৃষ্ঠপোষকও ট্রাম্প। 

    ট্রাম্প ও ইসকনের (ISKCON) ইতিহাস 

    ৪৮ বছর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প জগন্নাথের রথ তৈরির জন্য মুফতে জায়গা দিয়েছিলেন। ১৯৭৬ সাল। মার্কিন মুলুকে প্রথমবার রথযাত্র উৎসবের উদ্যোগ চলছে। রথ কোথায় তৈরি করা হবে, তা নিয়ে ইসকনের কর্তারা যখন ধন্দে, তখনই প্রায় ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ট্রাম্প। জানা যায়, ইসকনের কর্তারা নিউইয়র্ক শহরের ধনী ব্যক্তিদের কাছে রথ বনানোর জন্য জায়গা চেয়ে অনুনয়-বিনয় করছেন। কেউ তাঁদের জায়গা দিচ্ছেন না। জায়গার খোঁজে তাঁরা যখন হন্যে হচ্ছেন, তখনই একদিন তাঁরা গেলেন ট্রাম্পের কাছে। সব শুনে তাঁর সেক্রেটারি বললেন, ওঁর সঙ্গে দেখা করে অনুরোধ জানাতে পারেন। তবে তাতে কাজ হবে না। ইসকনের কর্তারা ট্রাম্পের সেক্রেটারির হাতেই তাঁর জন্য নিয়ে যাওয়া মহাপ্রসাদ তুলে দিয়ে এসেছিলেন। এর কয়েক দিন পরেই এসেছিল ট্রাম্পের সই করা চিঠি। তার পরেই তাঁর একটি ফার্ম হাউসে শুরু হয় রথ তৈরির কাজ। মার্কিন মুলুকে সেই প্রথম গড়ায় রথের চাকা। ফলে, আমেরিকায় এখন ট্রাম্প ক্ষমতায় চলে আসার ফলে, বাংলাদেশে ইউনূস সরকারের ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দুরভিসন্ধি হয়ত সম্ভব হবে না।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • ISKCON: মৌলবাদীদের খুশি করতে বাংলাদেশে ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে চলেছে ইউনূস সরকার?

    ISKCON: মৌলবাদীদের খুশি করতে বাংলাদেশে ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে চলেছে ইউনূস সরকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) ইউনূস সরকারের প্রাণ ভোমরা রয়েছে বিএনপি সমেত মৌলবাদীদের হাতে। এমন অবস্থায় সে দেশে হিন্দুদের ওপর একের পর এক আক্রমণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে ওসমান নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী সমাজ মাধ্যমে ইসকনের (ISKCON) বিরুদ্ধে একটি পোস্ট করেন। এই পোস্টে  ইসকনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয় চট্টগ্রাম। প্রশাসনের তরফ থেকেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার জন্য ইসকনকে দায়ী করা হয়। অনেকেই মনে করছেন বাংলাদেশে ইসকনকে নিষিদ্ধ করে ইউনূস সরকার উগ্র মৌলবাদীদের খুশি করার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু বেছে বেছে ইসকনকে টার্গেট করা হচ্ছে কেন? এর কিছু কারণ রয়েছে।

    সংখ্যালঘু আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে ইসকন (ISKCON) 

    বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, ইসকনের সন্ন্যাসী ও ব্রহ্মচারীরা সেদেশের জাগরণ মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত। এই জাগরণ মঞ্চের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় মঠ, মন্দির, প্রতিষ্ঠানও যুক্ত রয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর মৌলবাদীদের আক্রমণের প্রতিবাদে গত মাসের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে একটি বিরাট সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এই সমাবেশের পরে ঢাকাতেও একটি বিরাট সমাবেশ করা হয়েছিল। সেখানে নিজেদের নিরাপত্তার দাবি তুলেছিলেন হিন্দুরা। ঢাকায় সমাবেশকে সফল করার পিছনে জাগরণ মঞ্চের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। চট্টগ্রাম এবং ঢাকায়- এই দুই জায়গার সমাবেশ, ইউনূস সরকারের আমলে সে দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনকে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছিল এবং এতে বিপাকে পড়তে হয়েছিল ইউনূস সরকারকে। কারণ হিন্দুদের ওপর লাগাতার হামলার কথা তারা অস্বীকার করে আসছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাকে নাকি অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছে, এমনও বক্তব্য সামনে এসেছে, ইউনূস সরকারের বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তিদের মাধ্যমে। কিন্তু চট্টগ্রাম ও ঢাকায় যে সংখ্যালঘুদের সমাবেশ হয়, তা প্রমাণ করে যে ইউনূস সরকারের এমন বক্তব্য ঠিক কত বড় মিথ্যা এবং বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রকৃত দুর্দশা ঠিক কতটা!

    বাংলাদেশে হিন্দুদের দাবি 

    প্রসঙ্গত, সংখ্যালঘু হিন্দুরা ইউনূস সরকারের কাছে নিজেদের দাবিও পেশ করেন। এই দাবিগুলির মধ্যে ছিল- সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক গঠন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য সংসদে আসন সংরক্ষণ, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার যারা অভিযুক্ত, তাদের বিচারের জন্য ট্রাইবুনাল গঠন, হামলায় যে সমস্ত সংখ্যালঘু হিন্দুদের ক্ষতি হয়েছে, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলির আধুনিকীকরণ, পালি ও সংস্কৃত শিক্ষা বোর্ডের সংস্কার, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টিকে ফাউন্ডেশনে উন্নত করা, প্রতিবছর দুর্গাপুজোতে পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা। এই সমস্ত দাবিগুলি নিয়েই সে দেশের হিন্দুরা লাগাতার আন্দোলনে নেমেছেন। একের পর এক সমাবেশ করেছেন। সাম্প্রতিক ইতিহাসে বাংলাদেশে হিন্দুরা, এর আগে কখনও নিজেদের এতটা সংগঠিত করেননি। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এত বড় সমাবেশ কখনও সে দেশে হতে দেখা যায়নি। বাংলাদেশে হিন্দুদের এমন প্রতিবাদ, গর্জে ওঠা- এই সমস্ত কিছুই সে দেশের কট্টরপন্থী উগ্র ইসলামিক মৌলবাদীদের চমকে দিয়েছে। উগ্র মৌলবাদীদের অনেকেই আবার বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রীও হয়ে রয়েছেন।

    বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলেছে বাংলাদেশে হিন্দুদের সমাবেশ, তাই কি উদ্বিগ্ন মৌলবাদীরা?

    স্বরাজ্য পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লিগের সঙ্গে যুক্ত ঢাকার এক হিন্দু আইনজীবী বলছেন, ‘‘উগ্র ইসলামিক মৌলবাদীরা কখনও ভাবতে পারেনি যে হিন্দুরা এত বড় সমাবেশ করবে এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এমনভাবে তাঁরা দাবি জানাবেন। কারণ উগ্র মৌলবাদীরা, সর্বদাই আশা করতেন যে হিন্দুরা বিনয়ী হবেন। তাঁরা বাধ্য হবেন এবং বাংলাদেশে তাঁদের দুঃখজনক পরিণতিকে তাঁরা মেনে নেবেন,- এমনটাই মনে করছিলেন উগ্র মৌলবাদীরা। স্বাভাবিকভাবে সে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের এমন প্রতিবাদকে মৌলবাদীরা মেনে নিতে পারছেন না।’’ প্রসঙ্গত, সম্প্রতি চট্টগ্রামে হিন্দুদের সমাবেশ যেদিন করা হয় দিনটি ছিল শুক্রবার। শুক্রবার সমাবেশ করাকেও মৌলবাদীরা আবার ভালো চোখে দেখছেন না। কারণ শুক্রবার ইসলামে পবিত্র দিন মানা হয়। মৌলবাদীদের মতে, শুক্রবার সমাবেশের ডাক দিয়ে নাকি তাঁদের প্রতি অবমাননা করা হয়েছে।

    মৌলবাদীদের খুশি করতেই কি ইসকনকে (ISKCON) নিষিদ্ধ করতে পারে ইউনূস সরকার?

    প্রসঙ্গত, হিন্দুদের এই জাগরণে সে দেশে ইসকন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য এই সংস্থার সন্ন্যাসী হলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। যিনি জাগরণ মঞ্চের নেতৃত্ব প্রদান করছেন এবং নির্যাতিত হিন্দুদের আওয়াজ বিশ্বের মঞ্চে তুলে ধরছেন। এই আবহে ওয়াকিবহাল মনে করছে যে ইসকনকে টার্গেট করে আসলে ইউনূস সরকার, বাংলাদেশের হিন্দুদের কাছে একটি বার্তা পাঠাবে, আন্দোলন করার জন্য চরম মূল্য দিতে হল ইসকনকে। এতে খুশি করা যাবে বাংলাদেশের (Bangladesh) মৌলবাদীদেরও।’’ ঠিক এই কারণেই চট্টগ্রাম সমাবেশের ঠিক একদিন পরেই ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস সমেত ১৮ জনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। বাংলাদেশের বিএনপি’র স্থানীয় নেতা ফিরোজ খানের অভিযোগের ভিত্তিতে অন্যান্য ১৯ জনের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়। প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওই ঐতিহাসিক সমাবেশ লালদিঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    কী বলছেন চট্টগ্রামের ব্য়বসায়ী কার্তিক পাল?

    সমাবেশের সঙ্গে যুক্ত অন্যতম উদ্যোক্তা চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ী কার্তিক পাল স্বরাজ্য পত্রিকাকে টেলিফোনে বলেন, ‘‘গত এক নভেম্বরের ওই সমাবেশে ইউনূস সরকার মনে করছে অত্যধিক পরিমাণে বাড় বেড়েছে হিন্দুদের। তাঁদের এজন্য সবক শেখানো দরকার। ঠিক এই কারণেই অত্যন্ত সহজ উপায় ছিল ইসকনকে (ISKCON) টার্গেট করা। কারণ হিন্দুদের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান সে দেশে ইসকন। বড় অংশের হিন্দুরাই সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। তাই ইসকনকে টার্গেট করে হিন্দুদেরকে সবক শেখাতে চাইছে আসলে ইউনূস সরকার।’’

    চট্টগ্রামের ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইসকনকে দায়ী করছে প্রশাসন

    প্রসঙ্গত, এর পরই গত ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের ওসমান মোল্লার ইসকনকে নিয়ে সমাজ মাধ্যমে অপমানজনক পোস্টের বিরুদ্ধে হিন্দুরা সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই নামাতে হয় সেনাবাহিনীকে। সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, হিন্দুদের বাড়িতে ঢুকে তারা লুটপাট চালিয়েছে। মূল্যবান জিনিসপত্র যেমন ভাঙচুর করেছে তেমনই মহিলাদেরও শ্লীলতাহানি করেছে তারা। স্বরাজ্য পত্রিকার প্রতিবেদন অনুসারে, কয়েকজন মহিলাকে গণধর্ষণও করা হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীরা নিজেদের এই তাণ্ডবকে আড়াল করতে নাকি সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ। গত ৬ নভেম্বরের এই ঘটনার জন্য বাংলাদেশের প্রশাসন আবার উল্টে ইসকনকেই দায়ী করেছে। এক প্রশাসনের আধিকারিক জানিয়েছেন, অশান্তি সৃষ্টি ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ৫৮২ জন হিন্দুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর পিছনে ইসকনের সমর্থকরা জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেন ওই আধিকারিক।

    কী বলছেন ঢাকার হিন্দু নেতা সুধাংশু পাল?

    একইসঙ্গে ঢাকার হিন্দু সমাজের অন্যতম নেতা সুধাংশু পাল, স্বরাজ্য পত্রিকাকে বলেন, ‘‘ইসকনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন অভিযোগ আসলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ প্রশাসন ইসকনকে নিষিদ্ধ করার জন্য ও ইসলামপন্থীদের প্রচারে আরও অক্সিজেন দেওয়ার জন্য এধরনের অভিযোগ আনছে। প্রশাসনের এমন অভিযোগের পরে, ইসকনের ওপর ইউনূস সরকার সহজেই নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে। এতে বাংলাদেশের হিন্দুদের মনোবলও ভেঙে দেওয়া যাবে।’’

    ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে মিছিল, প্রতিবাদ জানিয়ে ট্যুইট শুভেন্দুর

    প্রসঙ্গত, ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে সেদেশের মৌলবাদী সংগঠন হেফাজতে-ইসলাম গতকাল শুক্রবার একটি মিছিল করে। সে নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী। (যদিও সেই ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম)। নিজের পোস্টে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসকন। ৭৬টা দেশে যার শাখা রয়েছে, হরে কৃষ্ণ আন্দোলনকে, যারা ছড়িয়ে দিচ্ছে পৃথিবীজুড়ে, সেই ইসকনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশে। তার কারণ সেখানকার সন্ন্যাসী এবং ব্রহ্মচারীরা হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার আওয়াজ তুলছেন।

     

    তথ্য সহায়তা: স্বরাজ্যমার্গ

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Janmashtami 2024: মায়াপুর ইসকনে জন্মাষ্টমী উৎসব, সামিল হাজার হাজার দেশি-বিদেশি ভক্ত

    Janmashtami 2024: মায়াপুর ইসকনে জন্মাষ্টমী উৎসব, সামিল হাজার হাজার দেশি-বিদেশি ভক্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫১ তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে নদিয়ার মায়াপুর ইসকনে (ISKCON) জাঁকজমকভাবে পালিত হচ্ছে জন্মাষ্টমী উৎসব। আর এই উৎসবে (Janmashtami 2024) সামিল হতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত ইসকনের প্রধান কেন্দ্র মায়াপুরে এসে উপস্থিত হয়েছেন। সোমবার সকাল থেকেই ভক্তরা উৎসবে মেতে উঠেছেন।

    জন্মাষ্টমীতে দেশি-বিদেশি ভক্ত সমাগম (Janmashtami 2024)

    জানা গিয়েছে, সোমবার ইসকন মায়াপুরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার পালন করা হবে নন্দ উৎসব। ইসকন মন্দিরে তৈরি করা হয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম মন্দির। মন্দিরের চূড়াই রয়েছে সোনায় মোড়ানো চক্র। বিদেশ থেকে আনা হয়েছিল এই তিনচক্র। তারপর বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মন্দিরের মূল চূড়ায় সেই চক্র স্থাপন করা হয়। শুধু জন্মাষ্টমী নয়, সারা বছরই বিভিন্ন তিথিতে সুসজ্জিত হয়ে ওঠে ইসকন মন্দির। শ্রীকৃষ্ণের ভোগ নিবেদনে থাকে বিপুল আয়োজন। আর প্রত্যেকটি তিথিতেই লক্ষ লক্ষ দেশি-বিদেশি ভক্তদের সমাগম লেগেই থাকে। বিশেষ করে ঝুলন যাত্রা এক অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। তারপরে জন্মাষ্টমী (Janmashtami 2024) তিথি শুরু হয়।

    সোমবার সকাল থেকেই সাজো সাজো রব মায়াপুর ইসকন মন্দির চত্বর। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে এখনও পর্যন্ত হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ এসে পৌঁছেছেন। নদী ঘাটগুলিতে রয়েছে প্রশাসনিক বিশেষ তৎপরতা। কারণ, মায়াপুর ইসকন মন্দিরে পৌঁছাতে গেলে নদীপথ পার করতে হয় ভক্তদের। তবে, সারা বছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মায়াপুর ইসকনের নিজস্ব নিরাপত্তায় মুড়ে রাখা হয় মন্দির চত্বর। আজ জন্মাষ্টমী উৎসব উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে ইসকন কর্তৃপক্ষ।

    আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ ঘনাচ্ছে নিম্নচাপ, জন্মাষ্টমীতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দক্ষিণবঙ্গে

    ইসকনের জনসংযোগ আধিকারিক কী বললেন?

    মঙ্গলবার নন্দ উৎসবে সকাল থেকেই চলবে হরিনাম সংকীর্তন। কীর্তনের ছন্দে নাচে-গানে মেতে উঠবেন দেশি-বিদেশি ভক্তরা। জানা গিয়েছে, যত দিন যাচ্ছে ততই বিদেশি ভক্তদের আনাগোনা বাড়ছে। মায়াপুর ইসকনের জনসংযোগ আধিকারিক রসিক গৌরাঙ্গ দাস বলেন,  ‘‘জন্মাষ্টমীকে (Janmashtami 2024) কেন্দ্র করে তিনদিন ধরে অনুষ্ঠান চলছে। প্রথমদিন অধিবাস ছিল। সোমবার ভোর সাড়ে চারটে থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত জন্মাষ্টমী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার নন্দ উৎসবেও দেশ-বিদেশের ভক্তরা সামিল হবেন।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share