Tag: Islamabad

Islamabad

  • Islamabad: পরপর খতম ৩ জঙ্গি! পাকভূমে ‘অজ্ঞাত হামলা’য় মৃত কাশ্মীরে বহু সন্ত্রাসের মাস্টারমাইন্ড সাজ্জাদ

    Islamabad: পরপর খতম ৩ জঙ্গি! পাকভূমে ‘অজ্ঞাত হামলা’য় মৃত কাশ্মীরে বহু সন্ত্রাসের মাস্টারমাইন্ড সাজ্জাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) ফের সক্রিয় অজ্ঞাত হামলাকারীদের রহস্যময় নেটওয়ার্ক। রহস্যমৃত্যু আরও এক ভারতশত্রুর। দিল্লির হিট লিস্টে থাকা হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি সাজ্জাদ আহমেদের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কোনও অজ্ঞাত আততায়ীর হামলায় মৃত্যু হয়েছে এই জঙ্গির। জানা যাচ্ছে, কাশ্মীরি এই জঙ্গি উপত্যকায় একাধিক সন্ত্রাসী হামলার মাস্টারমাইন্ড। তার মৃত্যু পাকিস্তানে সক্রিয় ভারত-বিরোধী নেটওয়ার্কের জন্য বিরাট ধাক্কা।

    অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা

    সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক টার্গেটেড হামলায় লস্কর ও জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের হত্যা করা হচ্ছে। এবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে, অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন হিজবুল মুজাহিদিনের এক কমান্ডার সাজ্জাদ আহমেদ। এ নিয়ে পাকিস্তানের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন মৃত্যুর (Death) কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর। অনেকে মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে অভ্যন্তরীণ কোনও সংঘাত। সাজ্জাদের প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। জানা গিয়েছে, সাজ্জাদ আদতে কাশ্মীরের বাসিন্দা ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে ভারত-বিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত ছিল। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, আততায়ীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    কে এই সাজ্জাদ

    সাজ্জাদ আহমেদ কাশ্মীরের বারামুলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ১৯৯৭ সালে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে আসে সাজ্জাদ। এরপর ধীরে ধীরে হিজবুল মুজাহিদিনে সক্রিয় হয়ে ওঠে। বলা হচ্ছে, বর্তমানে সে সংগঠনে কমান্ডার স্তরের দায়িত্বে ছিল। কয়েক বছর আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে চলে যায় সাজ্জাদ। সেখানে বসেই ভারতীয় বিরোধী সন্ত্রাসী কার্যকলাপে নামে। সূত্রের খবর, জম্মু ও কাশ্মীর-সহ ভারতের নানা প্রান্তে জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র ও তা বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা ছিল এই জঙ্গির। দেশের গোয়েন্দা বিভাগের হিট লিস্টে দীর্ঘদিন ধরে নাম ছিল এই জঙ্গির। ভারতে সন্ত্রাসী হামলাগুলির অন্যতম অপারেটর হিসেবে গণ্য করা হত এই জঙ্গিকে। তার মৃত্যু দেশের নিরাপত্তা বিভাগের জন্য নিশ্চিতভাবে স্বস্তির।

    ভারত-বিরোধীদের মৃত্যু

    সাম্প্রতিক সময়ে পাকভূমে অজ্ঞাত বন্দুকবাজের হামলায় মৃত্যু হয়েছে একাধিক ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসীর। আড়ালে থাকা এই হামলাকারীদের হিরো হিসেবে গণ্য করছে ভারতের জনগণ। সাজ্জাদের হত্যাও এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন গত কয়েকদিনে পাকিস্তানে বেশ কয়েকজন বড় জঙ্গি নেতা রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা গিয়েছে।

    শেখ ইউসুফ আফ্রিদির হত্যা: সম্প্রতি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অজ্ঞাত হামলায় মৃত্যু হয়েছিল লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার শেখ ইউসুফ আফ্রিদির। জানা যায়, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে লস্করের সংগঠনের প্রধান ছিল আফ্রিদি। মূলত এখান থেকে মুজাহিদদের (আত্মঘাতী জঙ্গি) প্রশিক্ষণ দিয়ে কাশ্মীর-সহ অন্যান্য জায়গায় পাঠানোর দায়িত্ব ছিল এর উপরেই। বহুবার হাফিজ সইদের সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা এই আফ্রিদিকে।

    সালমান আজহারের মৃত্যু: দু’দিন আগে জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষ কমান্ডারদের মধ্যে অন্যতম সালমান আজহারের মৃত্যুও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। সালমান আজহারকে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হত। তাকে বাহাওয়ালপুরের সুবহানআল্লাহ মরকজে কবর দেওয়া হয়েছে।

    ২০১৯ সাল থেকে চলছে রহস্যজনক হত্যার ধারা

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালের পর থেকে পাকিস্তানে টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে অনেক জঙ্গিকে নিশানা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি জঙ্গি অজ্ঞাত আততায়ীদের হাতে মারা গিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ঘটনাগুলি নিয়ে পাকিস্তান সরকার বা তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে খুব কমই সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্তের অবস্থাও স্পষ্ট নয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানে লস্কর এবং জইশের মতো সংগঠনের হাজার হাজার জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। এই সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের পঞ্জাব, গিলগিট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর (POK) এলাকায় অনেক ট্রেনিং ক্যাম্প সক্রিয় রয়েছে, যেখানে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আসলে পাকিস্তানে হাজার হাজার জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। তাদের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত হলে আরও সমস্যায় পড়তে পারে পাক সরকার। তাই পুরোটাই লুকিয়ে রাখার চেষ্টা হয়।

  • Donald Trump: “পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন দূতেরা”, ঘোষণা ট্রাম্পের

    Donald Trump: “পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন দূতেরা”, ঘোষণা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) গিয়ে ইরানের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূতেরা। অন্তত এমনই ঘোষণা করলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতিমধ্যেই দেশ ছেড়েছেন।

    ট্রাম্পের দাবি (Donald Trump)

    সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে ইসলামাবাদে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আগেই দাবি করেছিলেন, দু’মাসের সংঘাত সমাধানের লক্ষ্যে ইরান একটি প্রস্তাব দিচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি বলেছি, ‘না, তোমরা সেখানে যাওয়ার জন্য ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নেবে না। আমাদের হাতে সব কার্ড আছে। তারা চাইলে যে কোনও সময় আমাদের ফোন করতে পারে। কিন্তু তোমরা আর ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নিয়ে গিয়ে বসে বসে অর্থহীন আলোচনা করবে না।’”

    আরাঘচির বক্তব্য

    এদিকে, আরাঘচি ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদ ছেড়ে গিয়েছেন। এটি ছিল তাঁর ত্রিদেশীয় সফরের প্রথম গন্তব্য। এরপর তাঁর যাওয়ার কথা, ওমান এবং রাশিয়ায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি প্রেস টিভি জানিয়েছে, তিনি শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে আরাঘচি বলেন, তিনি পাকিস্তানি আধিকারিকদের সঙ্গে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেছেন, যা যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার একটি কার্যকর কাঠামো হতে পারে। তিনি এও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কূটনীতিতে আন্তরিক কিনা, তা এখনও দেখা বাকি (Donald Trump)।”

    ট্রাম্পের ইঙ্গিত

    পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ওমান সফর শেষে এবং রাশিয়ায় যাওয়ার আগে আরাঘচি ফের পাকিস্তান সফর করতে পারেন (Pakistan)। বিদেশমন্ত্রকের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, তার প্রতিনিধিদলের একটি অংশ তেহরানে ফিরে গিয়েছে যুদ্ধ সমাপ্তি সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিতে। তারা রবিবার রাতে ফের ইসলামাবাদে ফিরবে। এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে যে কোনও আলোচনা ফোনের মাধ্যমে হতে পারে। তিনি লেখেন, “যদি তারা কথা বলতে চায়, তাহলে শুধু ফোন করলেই হবে!!!” তাঁর আরও দাবি, ইরানে কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা কেউ জানে না এবং সেখানে চরম অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিশৃঙ্খলা চলছে।

    হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা

    বিশ্লেষকদের মতে, “সব কার্ড আমাদের হাতে” কথাটি সম্ভবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং অঞ্চলে ৫০,০০০-এর বেশি সেনার উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে, যারা প্রয়োজনে ফের যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত (Donald Trump)। এদিকে, এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করতে চাপ বেড়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে যে অচলাবস্থা চলছে, তার কারণে। এই প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস শনিবার জানিয়েছে, তারা এই জলপথে তাদের অবরোধ এখনই তুলে নিতে চায় না। যদিও এটি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে (Pakistan)। ট্রাম্প বলেন, “আমার দূতদের সফর বাতিল মানেই যুদ্ধ ফের শুরু হবে না। আমরা এখনও সেই বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করিনি।”

    ইরানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, আরাঘচি শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকটে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি ওমানি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি রাশিয়ায় যাবেন, যেখানে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু করেছিল আমেরিকা ও ইজরায়েল (Donald Trump)।

     

  • US Iran War: হরমুজ অবরোধ আমেরিকার! কাদের জাহাজ আটকাবে মার্কিন সেনা? কারা ছাড় পাবে?

    US Iran War: হরমুজ অবরোধ আমেরিকার! কাদের জাহাজ আটকাবে মার্কিন সেনা? কারা ছাড় পাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবরুদ্ধ হরমুজ। সোমবার ভারতীয় সময় অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকেই হরমুজ প্রণালীতে ‘অবরোধ’ শুরু করল আমেরিকা। তবে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সায় দেয়নি ব্রিটেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার ইরান যুদ্ধের শুরুতেই নিঃশর্ত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। কিন্তু স্টার্মার তাঁর আশা পূরণ করেননি। এবার ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী অবরোধের সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করল লন্ডন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল থেকে হরমুজ অবরোধের যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিয়েছেন, তাতে তাঁর সায় নেই, পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন ব্রিটিশ বাহিনী ইরানের বন্দর অবরোধের অভিযানে শামিল হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

    কাদের আটাকানো হবে, কারা ছাড় পাবে

    ট্রাম্পের নির্দেশের পর আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, হরমুজে অবরোধ নিরপেক্ষ ভাবে সকল দেশের উপরেই প্রয়োগ করা হবে। যে সমস্ত জাহাজ ইরানের কোনও না কোনও বন্দরে প্রবেশ করার চেষ্টা করবে বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবে, সেগুলিকেই আটকানো হবে। আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের ইরানি বন্দরগুলির ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে। তবে ইরানের বন্দরের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না-রেখে যে জাহাজগুলি হরমুজ দিয়ে যাতায়াত করবে, তাদের বাধা দেবে না মার্কিন সেনা। তাদের জলপথে যাতায়াতের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না।

    ট্রাম্পের নির্দেশ

    মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নাবিকদের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে দেওয়া হয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে শুল্ক দিয়ে যে সমস্ত দেশ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি পদক্ষেপ করবেন। সেই ভাবনা থেকেই অবরোধ শুরু করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহণের জন্য ইরানকে শুল্ক দেওয়া ‘বেআইনি’ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকা-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘাত শুরুর পর হরমুজের জলে যে মাইন পেতেছিল ইরানের সেনা, সেগুলিও ধ্বংস করার কাজ আমেরিকা শুরু করবে। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘যারা বেআইনি শুল্ক দেয়, তাদের কেউ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে না। আর আমাদের উপর ইরান থেকে কেউ যদি কোনও হামলা করে বা গুলি চালায়, শান্তিপূর্ণ ভাবে যাতায়াতকারী কোনও জাহাজের উপর যদি হামলা হয়, আমরা তাদের নরকে পাঠাব।’’

    ইরানের পাল্টা

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা দিয়েছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। বলা হয়েছে, হরমুজের দিকে কোনও সামরিক জাহাজ যদি এগিয়ে আসে, তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসাবে ধরা হবে এবং কঠোর ভাবে তার জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ আমেরিকার উদ্দেশে বলেছেন, ‘‘তোমরা যদি যুদ্ধ করো, আমরাও করব। তোমরা যদি যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসো, আমরাও যুক্তি দিয়ে বিবেচনা করব।

  • US Iran War: ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা সমঝোতা ব্যর্থ, হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

    US Iran War: ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা সমঝোতা ব্যর্থ, হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুরুতেই ব্যর্থ ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’ (Islamabad Talk Collapses)। ফলে নতুন করে ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ (US Iran War) বাধা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে গত ১১ এপ্রিল ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’ আয়োজিত হয় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানে। সেখানে যোগ দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ও ইরানি পার্লামেন্টের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বেশ কিছু ক্ষণ পর শান্তি বৈঠক থেকে বেরিয়ে দু’পক্ষই জানিয়ে দেয় যে আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। পরে এই নিয়ে আলাদা আলাদা করে বিবৃতি দিয়েছেন ভান্স ও গালিবাফ। সেখানে একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাতে দেখা গিয়েছে তাঁদের।

    বৈঠক ভেঙে যাওয়ার প্রেক্ষাপট

    এই বৈঠককে গত কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বৈঠক শেষে ভ্যান্স স্পষ্টভাবে জানান, “ইরান আমাদের চূড়ান্ত প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করেছে।” অন্যদিকে তেহরানের অভিযোগ—মার্কিন দাবি “অতিরিক্ত” এবং “আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী”। ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমেরিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভান্স। তা ছাড়াও ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন বিশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কাশনার। ভান্স তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘আমরা কোনও সমঝোতায় পৌঁছোতে পারিনি। এই খবর আমেরিকার চেয়ে ইরানের জন্য বেশি খারাপ। সমঝোতা ছাড়াই আমরা আমেরিকায় ফিরে যাচ্ছি। আমাদের শর্তগুলো খুব পরিষ্কার ভাবে ওঁদের জানিয়েছি, কী আমরা চাই এবং কী চাই না। যতটা সম্ভব স্পষ্ট করেই আমাদের অবস্থান জানিয়েছি। ওরা সেটা মানতে চায়নি।’ বৈঠক চলাকালীন ট্রাম্পের সঙ্গে অনবরত যোগাযোগ রেখেছিলেন ভান্সরা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, ৬ থেকে ১২ বার ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের ফোনে কথা হয়েছে। ট্রাম্পের বলে দেওয়া প্রস্তাবগুলিই ইরানের সামনে রেখেছিলেন ভান্স। তাতে ইরানের জবাব, তাদের অবস্থান ফোনেই ট্রাম্পকে তিনি জানান। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও সুরাহা হল না।

    আলোচনা ভাঙার পিছনে কারণ

    ইসলামাবাদ বৈঠকের ব্যর্থতা শুধু একটি কূটনৈতিক পরাজয় নয়—এটি পুরো পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালী এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ‘চোকপয়েন্ট’। যুদ্ধ থামার বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও অস্থির হয়ে উঠছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়নি, কিন্তু পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। যে কোনও সময় আবার বড় আকারে হামলা শুরু হতে পারে। ইসলামাবাদে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।

    পারমাণবিক চুক্তি

    একটি জায়গাতেই ইরান-আমেরিকা (US Iran War) আলোচনা ধাক্কা খেয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ভান্স। জানিয়েছেন, ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক বোমা তৈরি না-করার নিশ্চয়তা চান তাঁরা। তা মেলেনি। ভান্সের কথায়, ‘‘সহজ সত্যিটা হল, আমরা ইরানের কাছ থেকে পরমাণু বোমা তৈরি না-করার বিষয়ে একটা ইতিবাচক নিশ্চয়তা চাই। ওদের বলতে হবে যে, ওরা বোমা বানাবে না এবং পরমাণু বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা উপাদানও হাতে রাখবে না। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এটাই। সেই সমঝোতাতেই আমরা পৌঁছোতে চেয়েছি। ভান্সের এই বিবৃতির পর ইরান দাবি করেছে, আমেরিকার অবাস্তব, অযৌক্তিক দাবির কারণেই পাকিস্তানে আয়োজিত বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান যেন স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা ত্যাগ করে। কিন্তু ইরান এটিকে তার সার্বভৌম অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে প্রত্যাখ্যান করে।

    হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ

    হরমুজ প্রণালী—বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহনের পথ—এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। ইরান দাবি করে, তারা এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইঙ্গিত দেন, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে “নৌ অবরোধ” (Naval Blockade) ব্যবহার করা হতে পারে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে, ইরানের তেল রফতানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে—যার বড় প্রভাব পড়বে চীন ও ভারতের মতো দেশগুলিতে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ। কয়েকটি জাহাজই কেবল ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ইরানের পাতা মাইন (naval mines) বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    লেবানন ইস্যু

    ইরান চেয়েছিল লেবানন-এ হেজবোল্লাহ-র বিরুদ্ধে ইজরায়েল-এর হামলা বন্ধ হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল জানায়, এটি আলাদা বিষয়—এবং হামলা চলতেই থাকবে।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

    তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। সরবরাহ চেইন ব্যাহত হচ্ছে। বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কাতার ও কুয়েত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তারা সম্পূর্ণভাবে এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপগুলি চোখে পড়েতে পারে। বেড়ে যাবে মার্কিন নৌবাহিনীর টহল ও জাহাজ আটক-এর ঘটনা। ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। ইরানের পক্ষ থেকে প্রক্সি যুদ্ধের বিস্তার ঘটতে পারে।

  • India Pakistan Relation: “বাংলার দিকে নজর দিলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে” বাংলায় এসে পাক মন্ত্রীকে জবাব রাজনাথের

    India Pakistan Relation: “বাংলার দিকে নজর দিলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে” বাংলায় এসে পাক মন্ত্রীকে জবাব রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার দিকে নজর দিলে পাকিস্তানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে। পাকিস্তানের তরফে কলকাতায় হামলার হুমকির জবাবে কড়া বার্তা দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ (Khawaja Asif) মন্তব্য করেছিলেন, ভবিষ্যতে কোনও সংঘাত হলে ইসলামাবাদ কলকাতায় হামলা চালাতে পারে। সেই মন্তব্যেরই জবাবে ব্যারাকপুরে এক জনসভা থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন উসকানিমূলক মন্তব্য করা উচিত হয়নি। ৫৫ বছর আগে তারা এর ফল ভুগেছে, যখন পাকিস্তান দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। এবার যদি বাংলার দিকে নজর দেয়, তবে কত ভাগে ভাঙবে, তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন।”

    ইসলামাবাদকে জবাব

    ৫৫ বছর আগে কী হয়েছিল মনে আছে তো? ভোটপ্রচারে ব্যারাকপুরে এসে পাকিস্তানকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কথা স্মরণ করান ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বললেন, ‘৫৫ বছর আগের কথা মনে রাখা উচিত পাকিস্তানের। কী করে দু’টুকরো হয়েছিল! আবার কিছু করার চেষ্টা করলে পরিণতি কী হবে, সেটা ওরাই বুঝতে পারবে।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী এখানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যখন ভারতের সামরিক পদক্ষেপের পর পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে ওঠে। এদিন তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ভারত সর্বদা প্রস্তুত। পাকিস্তান যদি কোনও রকম ‘মিসঅ্যাডভেঞ্চার’ করে, তবে ভারত নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না।

    কী বলেছিল পাকিস্তান

    গত বৃহস্পতিবার ভোটমুখী কেরালায় দলের প্রচারে গিয়ে পাকিস্তানকে হুমকি দিয়েছিলেন রাজনাথ। বলেছিলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তান আবার কিছু করলে তাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করা হবে। রাজনাথের এই মন্তব্যের পরেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ দাবি করেন, ভারত ফের সাজানো হামলার ছক কষছে। তাতে ভারতীয়দের পাশাপাশি ভারতের জেলে বন্দি পাকিস্তানিদেরও ব্যবহার করা হতে পারে। এই প্রসঙ্গেই খোয়াজা কলকাতাকে টেনেছেন। সেই সূত্রে তাঁর দাবি, ‘এর পর কলকাতা পর্যন্ত হামলা চালাবে পাকিস্তান!’ এ বার তার জবাব দিলেন রাজনাথ। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক মন্তব্য ও পাল্টা হুঁশিয়ারিতে ভারত-পাক সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

  • Pak Airstrike on Hospital: ‘সামরিক অভিযানের নামে গণহত্যা’, কাবুলের হাসপাতালে পাক হামলার কড়া নিন্দা ভারতের

    Pak Airstrike on Hospital: ‘সামরিক অভিযানের নামে গণহত্যা’, কাবুলের হাসপাতালে পাক হামলার কড়া নিন্দা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বর্বরোচিত’ এবং ‘কাপুরুষোচিত’-র মতো কাজ করেছে পাকিস্তান (Pak Airstrike on Hospital)। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর হামলার কড়া নিন্দা করল ভারত। এই হামলায় অন্তত ৪০০ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই হামলার প্রতিবাদ করে ভারত বলেছে, ‘এই হামলা আদতে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের উপরে আঘাত যা আঞ্চলিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করবে।’ নয়াদিল্লি জানিয়েছে, সোমবার রাতে পাকিস্তান যা করেছে, তা এক নৃশংস গণহত্যা। এখন সেই গণহত্যাকে ‘সামরিক অভিযান’ বলে চালানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান।

    কোনও যুক্তিতেই ‘সামরিক নিশানা’ নয়

    ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়, রমজান মাসে শান্তি এবং দয়া প্রদর্শন করে থাকেন গোটা বিশ্বের মুসলিমরা। কিন্তু রমজান মাসেই যেভাবে হামলা হয়েছে সেটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। হাসপাতালকে নিশানা করে হামলা চালানোটা কোনওভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়। পাকিস্তান যেভাবে জঘন্য হামলা চালিয়েছে সেটা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বে আঘাত। অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে বারবার এভাবেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। কাবুলের হাসপাতালে পাক হামলার তীব্র নিন্দা করে নয়াদিল্লির তোপ, পাকিস্তান সামরিক অভিযানের নামে আফগানিস্তানে গণহত্যা চালিয়েছে। যে হামলায় এত জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়, সেটিকে কোনও যুক্তিতেই ‘সামরিক নিশানা’ বলে দেখানো যায় না। এই হামলাকে পাকিস্তানের ‘আগ্রাসী’ মনোভাব বলে বর্ণনা করেছে ভারত।

    পাকিস্তানের ধারাবাহিক বেপরোয়া আচরণ

    সোমবার রাতে ২০০০ শয্যার এই হাসপাতালে পাকিস্তান আকাশপথে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ্ ফিতরাত। তিনি জানান, স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ হাসপাতালটিতে হামলা হয়েছে। হামলার জেরে হাসপাতালের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ৪০০ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২৫০ জন জখম হওয়ার খবর মিলেছে বলেও প্রাথমিক ভাবে জানান ফিতরাত। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই হামলা শুধু আফগানিস্তানের উপর নয়, গোটা এলাকার শান্তি এবং স্থিতাবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। এটি পাকিস্তানের ধারাবাহিক বেপরোয়া আচরণকেই ফের এক বার প্রকট করল বলে মনে করছে দিল্লি। প্রসঙ্গত, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। গতবছর ভয়ানক ভূমিকম্পের পর আফগানিস্তানকে বিপুল ত্রাণ পাঠিয়েছে ভারত। কাবুলে পুরোপুরি সক্রিয় হয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। ভারতে প্রথমবার নিযুক্ত হয়েছেন তালিবান রাষ্ট্রদূত। নানা আন্তর্জাতিক মঞ্চেও আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। দুই দেশই একযোগে বারবার তুলোধোনা করেছে পাকিস্তানকে।

  • Pak Airstrike on Kabul: কাবুলের হাসপাতালে বিমান হানা পাকিস্তানের, ঝলসে মৃত্যু ৪০০ জনের, আহত ২৫০-র বেশি

    Pak Airstrike on Kabul: কাবুলের হাসপাতালে বিমান হানা পাকিস্তানের, ঝলসে মৃত্যু ৪০০ জনের, আহত ২৫০-র বেশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারবার প্রতিবেশী দেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পেরে না উঠে সেই দেশের সাধারণ মানুষকে নিশানা করে পাকিস্তান (Pak Airstrike on Kabul)। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। কাবুলের হাসপাতালে ভয়ঙ্কর হামলা চালাল ইসলামাবাদ। তালিবান প্রশাসন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোররাতে আফগান রাজধানীর উপর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এই হামলায়। আহত আড়াইশো জন। যদিও পাকিস্তানের দাবি, আমজনতাকে লক্ষ্য করে হামলা হয়নি। কিন্তু তালিবান প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, পাক হামলায় গুঁড়িয়ে গিয়েছে হাসপাতাল। উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে ঘটনাস্থলে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী।

    ধ্বংসস্তূপে পরিণত হাসপাতাল

    গত দুই সপ্তাহ ধরে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ চলছে। সোমবারও দু’দেশের সীমান্তে গুলির লড়াই হয়েছে। গোলাগুলিতে আফগান তালিবান বাহিনীর চার সৈন্য নিহত হন। ওই গোলাগুলির কয়েক ঘণ্টা পরেই খবর ছড়ায়, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের এক হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলিতে হাসপাতালের কিছু ভিডিয়োও প্রকাশ করা হয়েছে (ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম)। ফুটেজগুলিতে দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যেরা টর্চের আলো জ্বালিয়ে হাসপাতাল থেকে জখমদের উদ্বার করছেন। হাসপাতাল ভবনটির একটি বড় অংশ দৃশ্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চারদিকে আগুন জ্বলছে। সেই আগুন নেবানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন একদল দমকলকর্মী।

    রোজা ভাঙার সময় আক্রমণ

    সোমবার রাতে ২০০০ শয্যার এই হাসপাতালে পাকিস্তান আকাশপথে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, কাবুলের ওই হাসপাতালটি মূলত নেশামুক্তি কেন্দ্র। বরাবরই সেখানে রোগীদের ভিড় থাকে। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত। তিনি জানান, স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ হাসপাতালটিতে হামলা হয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, অনেকেই ওই সময় রোজা ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেসময়েই হামলা করেছে পাকিস্তান। হামলার জেরে হাসপাতালের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ৪০০ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২৫০ জন জখম হওয়ার খবর মিলেছে বলেও প্রাথমিক ভাবে জানান ফিতরাত। আকাশপথে হাসপাতালে হামলার ঘটনায় সরাসরি পাকিস্তানের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে আফগানিস্তান।

    ‘নীতিবিরুদ্ধ’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

    হাসপাতালে হামলার কথা অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ। তাদের দাবি, হাসপাতাল নয়, সামরিক ঘাঁটি, যাকে তারা জঙ্গি ঘাঁটি বলে উল্লেখ করেছে, সেখানেই চালানো হয়েছে এই হামলা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি কাবুলের দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছেন। এর আগে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান কান্দাহার বিমানবন্দর, পাক্তিয়ার সামরিক ঘাঁটি এবং রাজধানী কাবুলের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলা চালানো হয়েছে কান্দাহার শহরের তালিবানের আল-বদর কর্পসের সদর দফতরেও। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ কাবুলের হাসপাতালে হামলার নিন্দা করে পোস্ট করেছেন সমাজমাধ্যমে। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান নিজেদের ‘নৃশংস কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যাওয়ার জন্যই হাসপাতাল এবং অসামরিক ভবনগুলিকে নিশানা করছে। এই হামলা ‘নীতিবিরুদ্ধ’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলেও মন্তব্য করেছেন তালিবান সরকারের মুখপাত্র।

  • India: সীমান্তপার সন্ত্রাসে ভারতকে জড়ানোর চেষ্টা, পাকিস্তানের দাবি পত্রপাঠ খারিজ নয়াদিল্লির

    India: সীমান্তপার সন্ত্রাসে ভারতকে জড়ানোর চেষ্টা, পাকিস্তানের দাবি পত্রপাঠ খারিজ নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্তপার সন্ত্রাসের ঘটনায় ভারতকে (India) জড়ানোর চেষ্টা পাকিস্তানের। ইসলামাবাদের অভিযোগ পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি (Terrorism Link)। বিদেশমন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, এটি এমন একটি দেশের মরিয়া চেষ্টা, যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীকে আশ্রয় ও মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে এমনই জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রকের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। পাকিস্তান একটি বিবৃতিতে সাম্প্রতিক কিছু জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য ভারতকে কাঠগড়ায় তুলেছে। তারই প্রেক্ষিতে জয়সওয়াল বলেন, “আমরা এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি। নিজেদের অপকর্মের দায় ভারতের ওপর চাপানো পাকিস্তানের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই। যত গল্পই বানানো হোক না কেন, বাস্তবতা বদলাবে না, আর পাকিস্তানের এই তথাকথিত ‘ভুক্তভোগী’ হওয়ার দাবিতে কেউ আর বিভ্রান্তও হবে না।”

    পাকিস্তানের চেষ্টা ব্যর্থ (India)

    তিনি বলেন, “নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরতে পাকিস্তানের এই দীর্ঘ প্রয়াস আন্তর্জাতিক মহলে এখন আর কোনও গুরুত্ব পায় না। কারণ বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ ঘোষিত বহু জঙ্গি এবং জঙ্গি সংগঠনকে আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস পাকিস্তানের রয়েছে।” এদিনই জয়সওয়াল পাকিস্তানের আর একটি বিবৃতিরও জবাব দেন। ওই বিবৃতিতে পাকিস্তান ভারত এবং কানাডার মধ্যে সম্প্রতি হওয়া পারমাণবিক ও রফতানি-নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তির সমালোচনা করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, এই চুক্তি পারমাণবিক বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

    কী বললেন জয়সওয়াল

    এর জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “এই বিষয়ে পাকিস্তানের দেওয়া বিবৃতি আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। পারমাণবিক বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা নিখুঁত এবং আন্তর্জাতিক মহলে তা সুপরিচিত। গোপনে পারমাণবিক প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার সুপরিচিত ইতিহাস রয়েছে যে দেশের, তাদের মুখে রফতানি নিয়ন্ত্রণ বা বিস্তার-ঝুঁকি নিয়ে নীতিকথা বড়ই হাস্যকর। এই ধরনের অবান্তর কথা আসলে পাকিস্তানের নিজেদের দুর্বল রেকর্ড থেকে দৃষ্টি সরানোর একটি প্রচেষ্টা (Terrorism Link)।”

    কী বলছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা

    কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই দু’টি বিবৃতি আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যর্থতা এবং পারমাণবিক বিস্তার সংক্রান্ত অতীত থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটি যৌথ প্রচেষ্টার অংশ (India)। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের প্রতিক্রিয়া আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইসলামাবাদ জঙ্গি পরিকাঠামো ভেঙে না ফেলা পর্যন্ত এবং রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদের ব্যবহার বন্ধ না করা পর্যন্ত পাকিস্তানের অভিযোগে কান দেবে না ভারত। প্রসঙ্গত, এই ঘটনাগুলি ঘটছে নিয়ন্ত্রণরেখা (Line of Control) বরাবর উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এবং পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিশ্রুতি নিয়ে (Terrorism Link) আন্তর্জাতিক মহলের নতুন করে নজরদারির মধ্যেই (India)।

     

  • Iran: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনির হত্যাকাণ্ডের জেরে ব্যাপক হিংসা পাকিস্তানে, হত ৪৪

    Iran: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনির হত্যাকাণ্ডের জেরে ব্যাপক হিংসা পাকিস্তানে, হত ৪৪

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনির হত্যাকাণ্ডের জেরে হিংসার ঘটনায় পাকিস্তানে (Pakistan) অন্তত ৪৪ জন নিহত এবং ১৩৭ জনেরও বেশি জখম হয়েছেন। তার পরেই রবিবার পাকিস্তানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিক ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া গিয়েছে হতাহতের এই সংখ্যা। সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় গিলগিট-বালটিস্তানের স্কার্দু ও গিলগিটে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অঞ্চলটির কিছু অংশে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

    ১৪৪ ধারা জারি (Iran)

    পাঞ্জাব, সিন্ধ, বালুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকার ১ মার্চ থেকে এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এই ধারায় সব ধরনের বিক্ষোভ, সমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট, মিছিল এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে (Iran)। রাজধানী ইসলামাবাদে বিক্ষোভকারীরা সরকারি দফতর ও বিদেশি মিশনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে প্রশাসন ‘রেড জোন’ ও কূটনৈতিক এনক্লেভের সব প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ বন্ধ করে দেয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কার্দু ও গিলগিটে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৭ জন শিয়া বিক্ষোভকারী নিহত হন। ইসলামাবাদে বিক্ষোভ চলাকালে গুলিতে নিহত হন আরও ১২ জন। পেশাওয়ারে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। করাচিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলা চালালে মার্কিন মেরিন প্রহরীরা গুলি চালায়। এতে ১১ জন নিহত হন বলে খবর।

    নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত

    শিয়া বিক্ষোভকারীরা করাচি ও লাহোরে আমেরিকার কূটনৈতিক দফতরগুলিকেও টার্গেট করে এবং গিলগিট-বালটিস্তানে রাষ্ট্রসংঘ মিশনের কাছাকাছি সমাবেশ করে। ইসলামাবাদ, স্কার্দু ও করাচির হাসপাতালগুলি জানিয়েছে, অন্তত ১৮ জন গুরুতর জখম বিক্ষোভকারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন (Iran)। খামেইনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভের জেরে এই অস্থিরতা শুরু হয়। একাধিক শহরে বিক্ষোভ দ্রুত সংঘর্ষের আকার নেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত বাঁধে জনতার। দক্ষিণের করাচি থেকে উত্তরের গিলগিট-বালটিস্তান পর্যন্ত পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গিয়েছে (Pakistan)। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে তাদের কনস্যুলার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ২ মার্চ ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাস এবং করাচি ও লাহোরের কনস্যুলেটগুলিতে সব ভিসা সাক্ষাৎকার ও আমেরিকান সিটিজেন সার্ভিস বাতিল করা হয়েছে (Iran)।

  • Pakistan Afghanistan War: ডুরান্ড লাইনে বিস্ফোরণ-এয়ারস্ট্রাইক! রাতভর হামলা, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ পাকিস্তানের

    Pakistan Afghanistan War: ডুরান্ড লাইনে বিস্ফোরণ-এয়ারস্ট্রাইক! রাতভর হামলা, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি যুদ্ধে’ নামল পাকিস্তান (Pakistan Afghanistan War)। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দহার, পাকতিকায় পাকিস্তান আকাশপথে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কাবুল। পাল্টা হানায় পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। যদিও এই পরিসংখ্যান মানতে রাজি নয় ইসলামাবাদ। তাদের পাল্টা দাবি, দুই পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। উল্টো দিকে মারা গিয়েছেন ৩৬ জন আফগান সেনা। শুক্রবার ভোর থেকেই কাবুলে বিস্ফোরণ ও যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তালিবান সরকার জানায়, তারা বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন সংলগ্ন বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং পোস্ট দখল করে ফেলেছে। তবে পাকিস্তান এসব দাবি অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, আফগান যোদ্ধাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    পাকিস্তানের অপারেশন ঘাজাব লিল হক

    ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ঘাজাব লিল হক’ নামের সামরিক অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লিখেছেন, “যে কোনও আগ্রাসী বাসনাকে ধ্বংস করতে সক্ষম আমাদের সামরিক বাহিনী।” ইসলামাবাদের দাবি, পাক-আফগান সীমান্ত বরাবর আফগানিস্তানের আগ্রাসী আচরণের মোকাবিলা করতেই তাদের এই পদক্ষেপ। শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ডুরান্ড লাইন (পাক-আফগান আন্তর্জাতিক সীমান্ত) বরাবর ইসলামাবাদ হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তালিবানের। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ্ তারারের পাল্টা দাবি, আফগান হানায় দুই পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তিন জন। পাকিস্তানের হানায় ৩৬ জন তালিব যোদ্ধা মারা গিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

    পাক সেনার এফ-১৬ ভেঙে পড়ার ভিডিও ভাইরাল

    যুদ্ধ ঘোষণার পরেই পাক সেনার এফ ১৬ ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। আফগান প্রশাসনের দাবি, তারাই গুলি করে নামিয়েছে ওই যুদ্ধবিমান। সেই দাবি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। তবে, একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, ভিডিওটি ভুয়ো। এআই-এর সহায়তায় তৈরি। ভিডিওতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে বলেও দাবি। তবে, সীমান্তে রক্তক্ষয়ী  সংঘাতের জন্য পাকিস্তানকেই দায়ী করেছে আফগানিস্তান। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ্ মুজাহিদ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লিখেছেন, “ভীরু পাক সেনা কাবুল, কান্দাহার, পাকতিকার কিছু এলাকায় বিমানহানা চালিয়েছে। ভাগ্যক্রমে কোনও মৃত্যুর খবর নেই।” কাবুলের দাবি, পাকিস্তানই প্রথমে আফগান সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালানো শুরু করে। একাধিক আফগান শহরে এয়ারস্ট্রাইক করে পাকিস্তান। এরপরই দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    পাক সামরিক ঘাঁটি দখল, দাবি আফগানিস্তানের

    আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে ৪ ঘণ্টা ধরে পাল্টা অভিযানে পাকতিয়া, পাকতিকা, খোস্ত, নানগারহার, কুমার ও নুরিস্তান সীমান্ত এলাকায় অভিযান চলেছে। তাদের দাবি, ২টি পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটি ও ১৯টি পোস্ট দখল করা হয়েছে এবং ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া কিছু সেনাকে জীবিত আটক এবং অস্ত্র-গোলাবারুদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আফগান কর্তৃপক্ষ এ-ও স্বীকার করেছে, তাদের ৮ জন তালেব যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে। নানগারহারের একটি শরণার্থী শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নারী ও শিশু সহ ১৩ জন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

    টোরখাম সীমান্ত এলাকাতেও সংঘর্ষ

    প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মশাররফ আলি জাইদি বলেন, ‘‘কোনও পাকিস্তানি সেনাকে আটক করা হয়নি।’’ পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রকের দাবি, আফগান তালিবান বাহিনী খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে ইচ্ছাকৃত এবং উস্কানিমূলক হামলা চালায়। যার জবাবে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বলেন, ‘‘পাকিস্তান তার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিয়ে কোনও আপস করবে না।’’ সংঘর্ষ টোরখাম সীমান্ত এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে, যা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পারাপার পয়েন্ট।

    কোন দিকে এগোচ্ছে পরিস্থিতি

    ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুরান্ড লাইন, যা আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। গত কয়েক মাস ধরেই সীমান্তে সংঘর্ষ চলছে। যদিও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি শান্ত রেখেছিল। বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন নিয়ে এবার সরাসরি যুদ্ধে নামল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ৷ গত কয়েক মাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সীমান্ত সংঘর্ষে দু’পক্ষের ৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সেনা জওয়ানদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে। ফের দুই দেশের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি (Iran’s Foreign Minister Seyed Abbas Araghchi) জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে সাহায্য করতে তৈরি ইরান।

    ভারতকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার পাকিস্তানের

    অন্যদিকে, নিজেদের স্বভাববশত যে কোনও বিষয়ে ভারতকে টেনে আনার পুরনো রীতি ছাড়েনি পাকিস্তান। পাক-আফগান দ্বন্দ্ব নিয়েও পাকিস্কতান প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ‘‘ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের পর, আফগানিস্তানে শান্তির প্রত্যাশা ছিল ৷ তালিবানরা আফগান জনগণের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর মনোযোগ দিচ্ছে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তালিবানরা আফগানিস্তানকে কার্যত ভারতের উপনিবেশে পরিণত করেছে। তারা সারা বিশ্ব থেকে সন্ত্রাসবাদীদের আফগানিস্তানে জড়ো করছে ৷ সন্ত্রাসবাদকে রফতানি করাও শুরু করেছিল ৷’’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য পাকিস্তান সরাসরি এবং বন্ধু দেশগুলির মাধ্যমে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল । তবে, তালিবানরা ভারতের মতো প্রতিশোধের মানসিকতাই দেখিয়েছে বলে দাবি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ৷

    নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা কেন, প্রশ্ন কাবুলের

    অন্যদিকে, কাবুলের তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান দুই দেশের মধ্যে ২৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তকে আফগানিস্তান কখনওই সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। এক বিবৃতিতে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রমজানের মধ্যেই রাত আটটায় এই অভিযান শুরু হয়েছিল ৷ কয়েকদিন আগে পাকিস্তান বাহিনী আফগান ভূখণ্ড দখলের প্রতিক্রিয়ায় শুরু করেছিল তার বিরুদ্ধেই এই অভিযান বলে দাবি তালিবানের। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘কয়েক দিন আগে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগান ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ৷ আমাদের সীমান্ত লঙ্ঘন করে এসে নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করেছে ৷ তাই পাক হামলার প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়েছে।’’

LinkedIn
Share