Tag: Islamabad

Islamabad

  • Qari Saeed Abdul Aziz: অচেনা রেস্তোরাঁর খাবার, তারপর মসজিদের গেটেই মৃত্যু! লস্কর কমান্ডারের রহস্যমৃত্যু- কী চলছে পাকিস্তানে?

    Qari Saeed Abdul Aziz: অচেনা রেস্তোরাঁর খাবার, তারপর মসজিদের গেটেই মৃত্যু! লস্কর কমান্ডারের রহস্যমৃত্যু- কী চলছে পাকিস্তানে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মসজিদের গেটেই আচমকা মৃত্যু! পাকিস্তানের ইসলামাবাদে (Islamabad) নমাজ পড়তে গিয়ে আচমকাই মৃত্যু হল লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) শীর্ষ কমান্ডার ক্বারি সইদ আবদুল আজিজের (Qari Saeed Abdul Aziz)। কুবা মসজিদে নমাজ পড়তে গিয়েছিলেন তিনি। মসজিদের গেটের কাছে আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু (Lashkar Commander Death) হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    মৃত্যুর (Lashkar Commander Death) আগে কোথায় গিয়েছিলেন?

    ক্বারি সইদ (Qari Saeed Abdul Aziz) মসজিদে পৌঁছনোর আগে একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তবে খাবারের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না? সেই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

    লস্করের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন

    লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতেন ক্বারি সইদ (Qari Saeed Abdul Aziz)। জম্মু ও কাশ্মীরে সংঘর্ষে নিহত জঙ্গিদের পরিবারের জন্য সাহায্য ও সহায়তার ব্যবস্থা করার দায়িত্বে থাকা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। অর্থাৎ সংগঠনের অন্দরে তাঁর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

    ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের’ নিশানায় লস্কর?

    ক্বারি সইদের রহস্যমৃত্যুর (Lashkar Commander Death) খবরের মধ্যেই সামনে এসেছে আরও বিস্ফোরক দাবি। লস্করের (Lashkar-e-Taiba) সদস্য রিজওয়ান হানিফ একটি ভিডিয়োয় দাবি করেছেন, গত তিন থেকে চার বছরে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের প্রায় ৩০ জন সদস্যকে ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা’ হত্যা করেছে।

    একাধিক জায়গায় হত্যা

    রিজওয়ানের দাবি, পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, রাওয়ালাকোট এবং মুজাফফরাবাদে লস্কর সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে নিষিদ্ধ এই সংগঠনের বহু সদস্যকে টার্গেট করা হয়েছে।

    মুম্বই হামলার (Mumbai Terror Attack) সঙ্গে জড়িত সংগঠন

    লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba) সেই জঙ্গি সংগঠন, যার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওই ভয়াবহ হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ১৬৬ জনের। রাষ্ট্রসংঘ ২০০৫ সালে আল-কায়দা ও তালিবানের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে লস্কর-ই-তৈবাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

    প্রথমবার প্রকাশ্যে এমন দাবি

    লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) সঙ্গে যুক্ত কোনও সদস্যের মুখে পাকিস্তানের (Pakistan) মাটিতে সংগঠনের সদস্যদের ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের’ হাতে ধারাবাহিক হত্যার দাবি প্রকাশ্যে আসার ঘটনা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। আর তার কয়েক দিনের মধ্যেই লস্করের এক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারের রহস্যমৃত্যু—দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

    মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে রহস্য

    অচেনা রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া, কয়েক ঘণ্টা পরে মসজিদের গেটে আচমকা মৃত্যু (Lashkar Commander Death)—তার উপর সংগঠনের সদস্যদের একের পর এক ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হামলায় নিহত হওয়ার দাবি। ক্বারি সইদ আবদুল আজিজের (Qari Saeed Abdul Aziz) মৃত্যু তাই নিছক একটি আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা নয়, বরং পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলির (Pakistan Terrorism) অন্দরমহলে কী চলছে, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রহস্যের জট খুলবে কবে, এখন সেটাই দেখার।

  • Indus Waters Treaty: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের উদ্যোগে বাধা, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতেই অনড় ভারত

    Indus Waters Treaty: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের উদ্যোগে বাধা, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতেই অনড় ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty-IWT) নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) বিষয়টি উত্থাপন করে দাবি করেছে, চুক্তি নিয়ে ভারতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ থেকে কোনও বাধ্যতামূলক বা কার্যকর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তিতেই বিরোধ নিষ্পত্তির একটি সুস্পষ্ট ও বহুপাক্ষিক আইনি কাঠামো রয়েছে। ফলে সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। অতীতেও সীমান্তবর্তী নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধে, যেখানে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বিদ্যমান, সেখানে নিরাপত্তা পরিষদ হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে।

    ১৯৬০ সালের চুক্তিতেই বিরোধ মেটানোর পথ

    ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তিকে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী জলবণ্টন চুক্তি হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বব্যাঙ্ক চুক্তির কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয়ে স্বাক্ষরকারী হলেও, চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ও ধাপে ধাপে এগোনোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে রয়েছে পার্মানেন্ট সিন্ধু কমিশন (PIC), যেখানে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা করে। প্রযুক্তিগত বিষয়ে সমাধান না হলে নিউট্রাল এক্সপার্ট নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। আর জটিল আইনি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিষয়টি কোর্ট অব আরবিট্রেশন-এ নিয়ে যাওয়ার বিধানও রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশ স্বেচ্ছায় এই কাঠামো মেনে চুক্তি স্বাক্ষর করায় বিরোধ মেটানোর প্রধান পথও এটিই। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের মতো রাজনৈতিক মঞ্চে বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার আইনি ভিত্তি খুবই দুর্বল।

    রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    পাকিস্তান একাধিকবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে চিঠি দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ইসলামাবাদের দাবি, ভারতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং তাই বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদের আওতায় আনা উচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এবং ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও আইনি অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে কোনও বাধ্যতামূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নেই বলেই মত তাঁদের।

    দ্বিপাক্ষিক অবস্থানেই অনড় ভারত

    ভারত বরাবরই জানিয়ে এসেছে, সিন্ধু জলচুক্তি সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় সম্পূর্ণভাবে দ্বিপাক্ষিক এবং চুক্তির নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমেই তার সমাধান হওয়া উচিত। নয়াদিল্লির মতে, এই চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। তাই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা আন্তর্জাতিকীকরণের কোনও প্রয়োজন নেই। ভারতের এই অবস্থান তার দীর্ঘদিনের বিদেশনীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলিতে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার বিরোধিতা করা হয়।

    নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কেন কম?

    আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান দায়িত্ব আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা। কিন্তু যেখানে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, সেখানে সাধারণত নিরাপত্তা পরিষদ সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না। উদাহরণ হিসেবে ইথিওপিয়ার গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (GERD) সংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা পরিষদ সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে বিদ্যমান আইনি ও আঞ্চলিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিল। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদে কোনও বাধ্যতামূলক প্রস্তাব পাশ করাতে সদস্য দেশগুলির ব্যাপক সমর্থনের পাশাপাশি স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ভেটো এড়ানোও জরুরি। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে এমন ঐকমত্য গড়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    আইসিজিতেও যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ)-এ পাঠানোর সম্ভাবনাও খুবই কম। কারণ, আইসিজি সাধারণত সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলির সম্মতি ছাড়া কোনও মামলার বিচার করে না। পাশাপাশি সিন্ধু জলচুক্তিতে ইতিমধ্যেই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের মূল্যায়ন, পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘে বিষয়টি তুললেও সিন্ধু জলচুক্তির নির্ধারিত কাঠামোই বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান এবং কার্যকর পথ হিসেবে বহাল থাকবে। নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষে সেই ব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য বা প্রতিস্থাপন করার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

    আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা

    ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সিন্ধু জলচুক্তিতে স্বাক্ষর করে ভারত ও পাকিস্তান। ঠিক হয়, রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর জল ভারত ব্যবহার করবে। আর সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর অধিকাংশ জল যাবে পাকিস্তানে। এই জলের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহার করত পাকিস্তান। পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর পরেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে ভারত। তখন থেকেই জল সঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান। এই নিয়ে আগেই ভারতকে নিশানা করেছিল ইসলামাবাদ। সম্প্রতি এই ইস্যুতে ভারতকে ফের আক্রমণ করেছে পাকিস্তান। সিন্ধু জলচুক্তি পুনর্বহালের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ।

  • POJK Protests: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট ঘিরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রেশ পৌঁছল ইসলামাবাদেও

    POJK Protests: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট ঘিরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রেশ পৌঁছল ইসলামাবাদেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (POJK Protests) নীলম উপত্যকার আথমুকাম তহশিলে বিক্ষোভকারীদের উপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিচালনায় এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। রাজা এহসান নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে। ব্যাপক হিংসা, কম ভোট পড়া এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগের মধ্যেই শেষ হয়েছে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের তথাকথিত বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা (News Portals Banned)। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আথমুকাম তহশিলে বিক্ষোভকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিচালনার সময় এহসানের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ভোটপর্ব চলাকালীন ওই এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

    নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি (POJK Protests)

    রবিবার শেষ হওয়া দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, তীব্র অশান্তি এবং ভোটারদের কম অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। মোট ২১টি আসনে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। এর মধ্যে মুজফফরাবাদ বিভাগের ৯টি আসনের পাশাপাশি ছিল ১২টি উদ্বাস্তু আসনও। এই উদ্বাস্তু আসনের মানদণ্ডের বিরুদ্ধে ভোটের দিনও তীব্র বিক্ষোভ চলে। অভিযোগ, এর মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির কারণে একাধিক এলাকা কার্যত উত্তেজনার মধ্যেই ছিল। পরিস্থিতির বিস্তার এতটাই বেড়েছে যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অশান্তির আঁচ এখন গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতেও পৌঁছে গিয়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও।

    একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ব্যাহত

    ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে বিক্ষোভের আবহেই নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয় প্রতিরোধের তীব্রতা স্পষ্ট হয়েছে একাধিক নির্বাচনী এলাকায়। রাস্তা অবরোধ এবং ব্যাপক বিক্ষোভের কারণে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়। সূত্রের খবর, এলএ-২৭ কোটলিতে বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরোধ করায় নির্বাচনী কর্মী ও ভোটগ্রহণ সামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেনি। ফলে ওই আসনে ভোটগ্রহণ পুরোপুরি স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় এলএ-২৮ মুজফফরাবাদ-২ অর্থাৎ লেচরাট এলাকায়। সেখানে ৭১টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী আধিকারিক ও ভোটগ্রহণের সামগ্রী পৌঁছতে পারেনি। অন্যান্য কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায়ও কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে ব্যর্থ হন বলে খবর। এর ফলে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী গোষ্ঠী এবং বিক্ষোভকারী বিভিন্ন সংগঠন নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    দিনভর বিক্ষোভ, দীর্ঘ মিছিলের ডাক

    এদিকে পাক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় দিনভর বিক্ষোভ চলেছে। ডি-চকে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান-বিক্ষোভ করেন। মুজফফরাবাদের দিকে বিরাট মিছিল করার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। রাওয়ালাকোট থেকেও বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর বিক্ষিপ্ত গুলিচালনার খবর মিলেছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্ষোভস্থল ড্রেক ইদগাহে প্রায় ৫০ দিন ধরে অবস্থান চলছে। সেখানেও আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। নারী ও শিশুরাও বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চলবে। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা। ফলে ভোটের দিনও সেই অশান্তির প্রভাব স্পষ্ট ছিল (POJK Protests)।

    ভারতের অবস্থান

    এই অস্থিরতার মধ্যেই ভারত ফের জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের সমগ্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। ভারতের বক্তব্য, ওই অঞ্চলগুলির যে অংশ বর্তমানে পাকিস্তানের “অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে” রয়েছে, সেটিও ভারতেরই অংশ। ২৮ জুলাই নয়াদিল্লি ওই অঞ্চলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পাকিস্তানের অবৈধ দখল আড়াল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে চলা “গুরুতর” মানবাধিকার লঙ্ঘন আড়াল করারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ভারত।

    ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে ছড়াল বিক্ষোভ

    ২ আগস্ট, রবিবার বিকেল ৫টা থেকে রাওয়ালপিন্ডি প্রেস ক্লাবের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল পড়ুয়ারা। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পড়ুয়াদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন। পুলিশ সেখানে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জও করা হয় এবং বহু মানুষকে আটক করা হয়। তবে ওই ঘটনায় গুলিচালনার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। করাচি, ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও বড় জমায়েতের খবর এসেছে। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানান। সূত্রের খবর, বিক্ষোভ চলাকালীন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও ছাত্রনেতাকে আটক করে পুলিশ।

    ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা

    পাকিস্তানে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার অভিযোগ উঠেছে। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান অশান্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং প্রতিবেদন সম্প্রচারের পর দেশটির বিভিন্ন সংবাদ ওয়েবসাইটে অ্যাক্সেস রেস্ট্রিকটেড করা বলে জানা গিয়েছে (News Portals Banned)। স্থানীয় ও আঞ্চলিক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটগুলিকে আটকে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের কিছু অংশে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমের পরিষেবায়ও অ্যাক্সেস বন্ধ করা হয়েছে বলে খবর (POJK Protests)। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষের বাড়তে থাকা ক্ষোভ নিয়ে যে সংবাদমাধ্যমগুলি প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, মূলত তাদের উপরই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল, তার নেতা তথা জেলে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং সরকারের সমালোচক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে খবর। এদিকে ২৭ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ইউটিউব জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে না চললে তাঁদের চ্যানেল সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি মুজফফরাবাদে চলা হিংসা নিয়ে জরুরি তথ্য প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের এক নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিককে রাস্তায় টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।কমিটির দাবি, সাধারণ পোশাকে থাকা এক ব্যক্তিও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র চালাচ্ছিলেন। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিষদের ২ অগাস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জুলাইয়ের আগে ৩৩ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু এবং ২৭ জুলাইয়ের পর রাওয়ালাকোট, মিরপুর ও মুজফফরাবাদে আরও ৪৩ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির। এই পরিস্থিতিতে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি রাষ্ট্রসংঘ, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের দাবি, প্রকাশিত ভিডিওগুলি খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হোক এবং অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছেও পরিস্থিতির অবনতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের আবেদন জানানো (News Portals Banned) হয়েছে। আহত ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি (POJK Protests)।

     

  • POK: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ পড়ল ২২ দিনে, ইসলামাবাদের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে সরব আন্দোলনকারীরা

    POK: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ পড়ল ২২ দিনে, ইসলামাবাদের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে সরব আন্দোলনকারীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (POK) রাওয়ালাকোটে (Rawalakot) ইসলামাবাদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভ মঙ্গলবার পড়ল ২২তম দিনে। ঈদগাহ গ্রাউন্ডে (Eidgah Ground) অনুষ্ঠিত সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। সেখানে বক্তারা (Pakistan Protesters) দাবি করেন, এই অঞ্চলকে আর পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়, এবং প্রয়োজনে ভারতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের পথ খোঁজার কথাও বলেন।

    অব্যাহত আন্দোলনকারীদের ওপর নিপীড়ন (POK)

    আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুশাসনের অভাব, অর্থনৈতিক সঙ্কট, মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক অবহেলা এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, গত ৫ জুন থেকে গোটা অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে আন্দোলনের খবর বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে এবং জনসংযোগ সীমিত থাকে। স্থানীয় নাগরিক অধিকার-কর্মী সর্দার আমান খানের নেতৃত্বে আন্দোলন আরও জোরদার হয়, যখন পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দু’সপ্তাহের জন্য খাদ্য-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে অবরোধ জারি করে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকেই বিক্ষোভে মানুষের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের হুঁশিয়ারি ইসলামাবাদকে

    সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমান বলেন, “পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ নয়, এবং এই অঞ্চলের পাকিস্তানকে যতটা প্রয়োজন, তার চেয়ে ঢের বেশি প্রয়োজন পাকিস্তানেরই।” তাঁর দাবি, ৯ জুন থেকে নিয়ন্ত্রণরেখার (LoC) কাছে আলাদা একটি অবস্থান-বিক্ষোভও চলছে। একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকে, তাহলে এখানকার মানুষ ভারতের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়ার কথা ভাবতে পারে।” তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে এবং ইসলামাবাদের ওপর চাপ বাড়বে।”

    স্বৈরাচার মানব না

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওয় দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা পাক-শাসিত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে মানতে অস্বীকার করছেন। এর পাশাপাশি তাঁরা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন। সাফ জানিয়ে দেন কোনও ধরনের স্বৈরাচার মেনে নেওয়া হবে না। যদিও, এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি (POK)। এদিকে, এই আন্দোলন শুধু পাক অধিকৃত কাশ্মীরেই সীমাবদ্ধ নেই, বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী মানুষও পাকিস্তানের কূটনৈতিক মিশনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনকারীদের নেতারা জানিয়েছেন, মুজাফফরাবাদ-সহ (Pakistan Protesters) সমগ্র অঞ্চল নিয়ে তাঁদের রাজনৈতিক দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে আন্দোলন (POK)।

     

  • Pakistan: শোয়েব আখতারের ভাইয়ের জানাজায় লস্কর জঙ্গিদের উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক

    Pakistan: শোয়েব আখতারের ভাইয়ের জানাজায় লস্কর জঙ্গিদের উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) জঙ্গি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির প্রভাব এবং তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে (Terror Network Connections) নানা অভিযোগ রয়েছে। এবার পাকিস্তানের প্রাক্তন তারকা পেসার শোয়েব আখতারের (Shoaib Akhtar) পরিবারের একটি শোকানুষ্ঠান ঘিরে নতুন করে উসকে দিয়েছে সেই বিতর্ক। শোয়েবের বড় ভাই শাহিদ আখতারের (Shahid Akhtar) জানাজায় লস্কর-ই-তৈবার (LeT)-র একাধিক শীর্ষ নেতার উপস্থিতির ভিডিও এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা।

    শোয়েব আখতারের ভাইয়ের মৃত্যু

    গত ২৪ জুন শাহিদ প্রয়াত হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানান শোয়েব। তিনি “Returned to Allah” লিখে শোকপ্রকাশ করেন এবং জানাজার সময় এবং জায়গা সম্পর্কেও তথ্য ভাগ করে নেন। ইসলামাবাদে আয়োজিত ওই জানাজায় বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

    জানাজায় লস্কর নেতারা!

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিও এবং ছবিতে দাবি করা হয়েছে, জানাজায় উপস্থিত ছিলেন লস্কর-ই-তৈবার (LeT) ডেপুটি প্রধান সইফুল্লাহ কাসুরি (Saifullah Kasuri)। সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও (Pahalgam) জঙ্গি হামলার অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রী তিনি। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগ (Pakistan Markazi Muslim League)-এর সভাপতি ইনাম-উর-রহমান কাম্বোহ (Inam-ur-Rehman Kamboh)-কে-ও। উল্লেখ্য, পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগকে লস্কর-ই-তৈবার রাজনৈতিক শাখা হিসেবে দেখা হয়। সংগঠনটি গঠিত হয় জামাত-উদ-দাওয়া (JuD) এবং মিল্লি মুসলিম লিগের (MML) ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর। এই দুই সংগঠনের সঙ্গেই রাষ্ট্রসঙ্ঘ ঘোষিত জঙ্গি হাফিজ সইদের (Hafiz Saeed) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ। ভিডিওতে আরও যাঁদের উপস্থিতির দাবি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন লস্করের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি আবদুল্লাহ তুর (Abdullah Toor), PMML-এর জোনাল জেনারেল সেক্রেটারি হাফিজ উমর (Hafiz Umar) এবং খিদমত কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ ভাট্টি (Amjad Bhatti)।

    পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ

    ভারতের দাবি মতো, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল (Pakistan) জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। হামলার দায় কবুল করেছিল ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (The Resistance Front বা TRF), যাকে ভারত লস্কর-ই-তৈবার প্রক্সি সংগঠন হিসেবেই চিহ্নিত করে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অভিযোগ, সইফুল্লাহ কাসুরি এই (Terror Network Connections) হামলার অন্যতম মূল চক্রী। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাক সরকার।

    নতুন করে উঠছে প্রশ্ন

    জানাজায় লস্কর নেতাদের প্রকাশ্য উপস্থিতির ভিডিও সামনে আসার পর পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ এবং তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উঠছে মেলা প্রশ্ন। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এই ধরনের ঘটনা পাকিস্তানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রভাব এবং তাদের স্বাধীনভাবে সক্রিয় থাকার বিষয়টিকেই সামনে তুলে ধরছে। এদিকে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া আর একটি ভিডিওয় সইফুল্লাহ কাসুরিকে দাবি করতে শোনা যায়, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তাঁকে বিভিন্ন সরকারি বৈঠক ও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায় এবং সেনা সদস্যদের জানাজায় ইমামতি করার অনুরোধও করে। তবে এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তানের মাটিতে একাধিক জঙ্গি সংগঠন নিরাপদ আশ্রয় ও কার্যকলাপের সুযোগ পেয়ে থাকে। পাকিস্তান অবশ্য (Terror Network Connections) বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সব (Pakistan) ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরোধী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে।

     

  • Pakistan: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে চলা সরকার বিরোধী আন্দোলন দমনে অমানবিক ব্যবহার ইসলামাবাদের!

    Pakistan: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে চলা সরকার বিরোধী আন্দোলন দমনে অমানবিক ব্যবহার ইসলামাবাদের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়া মোড় নিল পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এ চলা সরকার বিরোধী আন্দোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর এবার ওই এলাকায় খাদ্য, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছে ইসলামাবাদ (Pakistan)। ফলে সাধারণ মানুষের (POK) দুর্ভোগ চরমে। নিদারুণ যন্ত্রণা সয়েই কোনওক্রমে দিন গুজরান করছেন পিওকের বাসিন্দারা।

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যান চলে বাধা (Pakistan)

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যশস্য, জ্বালানি তেল ও ওষুধ-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহনকে পিওকেতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তার জেরে আগে থেকেই চলা সঙ্কট আরও গভীর হয়েছে। যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) ঘোষিত অঞ্চলব্যাপী ধর্মঘটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও, আন্দোলনকারীদের দাবি—সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলছে। যদি পাক-প্রশাসন এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছে সরকার। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসন বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করতে তথ্য গোপন করছে।

    নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর গুলি

    এদিকে, আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ চলবে। একই সঙ্গে তাঁরা রাষ্ট্রসঙ্ঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং বিদেশে বসবাসকারী  কাশ্মীরিদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাক নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষে নিহত কয়েকজনের মরদেহও প্রশাসন সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। পিওকের এক বাসিন্দা জানান, নিরস্ত্র মানুষকে কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। তাই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে (Pakistan)।

    অস্থিরতার সূত্রপাত

    মূলত ১২টি আইনসভা আসনকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতার সূত্রপাত। এসব আসন জম্মু ও কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ, ইসলামাবাদ এই আসনগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং নিজেদের পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। আন্দোলন তীব্র হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার জেএএসিকে জঙ্গি সংগঠন বলে দেগে দেয়, এবং তাদের সমর্থকদের সন্ধানে অভিযান চালাতে শুরু করে। বিভিন্ন (POK) প্রতিবেদনে দাবি, এ পর্যন্ত সংঘর্ষ ও দমন-পীড়নের ঘটনায় অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে (Pakistan)।

     

  • POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফের সাম্প্রতিক যুদ্ধের হুমকির কড়া জবাব দিল (POK Atrocities) ভারত। মঙ্গলবার ভারতের (India) বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যর্থতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (POK Atrocities)

    সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য সম্পর্কে আমরা রিপোর্ট দেখেছি। এই ধরনের বক্তব্য পাকিস্তানের ব্যর্থতা আড়াল করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি মরিয়া চেষ্টা। আমরা এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি।” পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) যে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, সে প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে নিশানা করেন তিনি। জয়সওয়ালের দাবি, পিওকের বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক দমননীতিরই ফল।

    আন্দোলন দমনে পুলিশি নির্যাতন

    তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন দমনে পাক প্রশাসন চরম পুলিশি নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বাধা, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানের এই কাজকর্ম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দমনপীড়ন নীতির জন্য জবাবদিহি চাইবে।”

    আসিফের হুঁশিয়ারি

    প্রসঙ্গত, গত শনিবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া (POK Atrocities) সাক্ষাৎকারে আসিফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সিন্ধু নদীর জল নিয়ে যদি ভারতের পদক্ষেপ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে হুমকিস্বরূপ হয়ে ওঠে, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। তিনি বলেন, “যখনই আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জল নিরাপত্তা, হুমকির মুখে পড়েছে, তখন আমরা অবশ্যই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে পারি।” প্রসঙ্গত, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত বছরের জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। নয়াদিল্লির (India) অবস্থান, পাকিস্তান যতদিন না সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ করছে, ততদিন পর্যন্ত চুক্তি স্থগিতই থাকবে (POK Atrocities)।

     

  • India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ তকমাকে বলল রাষ্ট্রীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল

    India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ তকমাকে বলল রাষ্ট্রীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানোর অভিযোগ তুলল ভারত (India Slams Pakistan)। সোমবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UN Security Council) আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পার্বতানেনি বলেন, “পাকিস্তান নিজেদের দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে।”

    পাকিস্তানকে তোপ ভারতের (India Slams Pakistan)

    গত বছর পাকিস্তান নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় একাধিক জঙ্গি সংগঠনকে এই নামে চিহ্নিত করে দাবি করেছিল যে, তারা ভারতের মদতপুষ্ট। যদিও এই দাবির স্বপক্ষে ইসলামাবাদ কোনও প্রমাণ দাখিল করেনি। এ প্রসঙ্গে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে এই নামকরণ আসলে পাকিস্তানের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের অংশ।” তিনি বলেন, “পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে এই ধরনের প্রচার চালাচ্ছে।” তাঁর দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ জিইয়ে রেখে পাকিস্তান আসলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে।

    পাকিস্তানের সমালোচনা

    তিনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামো ও সেনাবাহিনীর ভূমিকার সমালোচনাও করেন। পার্বতানেনির অভিযোগ, সাম্প্রতিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব আরও বেড়েছে। আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানেরও তীব্র সমালোচনা করে ভারত। পার্বতানেনি সাফ জানিয়ে দেন, অসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটিয়ে কোনও অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ বলা যায় না। তিনি এও বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও ইসলামি সংহতির কথা বললেও, রমজান মাসে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে পাকিস্তান ভণ্ডামির পরিচয় দিয়েছে।” ভারতের প্রতিনিধি দাবি করেন, প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর নিজেদের ব্যর্থতার দায় চাপানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানের।

    পাক-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী ও শিশু-সহ অন্তত ১৩ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হওয়ার তথ্য সামনে আসে। এরপর দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ ও পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু হয়। মার্চ মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানিয়েছিল, সংঘর্ষে আফগানিস্তানে অন্তত ৪২ জন নিহত ও ১০৪ জন আহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ (India Slams Pakistan)। এরপর আফগান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, ওই হামলায় ৪০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যদিও রাষ্ট্রসঙ্ঘ (UN Security Council) অন্তত ২৬৯ জনের মৃত্যুর খবর যাচাই করেছে। আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমলেও, সীমান্তে এখনও ঘটছে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা (India Slams Pakistan)।

     

  • Islamabad: পরপর খতম ৩ জঙ্গি! পাকভূমে ‘অজ্ঞাত হামলা’য় মৃত কাশ্মীরে বহু সন্ত্রাসের মাস্টারমাইন্ড সাজ্জাদ

    Islamabad: পরপর খতম ৩ জঙ্গি! পাকভূমে ‘অজ্ঞাত হামলা’য় মৃত কাশ্মীরে বহু সন্ত্রাসের মাস্টারমাইন্ড সাজ্জাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) ফের সক্রিয় অজ্ঞাত হামলাকারীদের রহস্যময় নেটওয়ার্ক। রহস্যমৃত্যু আরও এক ভারতশত্রুর। দিল্লির হিট লিস্টে থাকা হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি সাজ্জাদ আহমেদের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কোনও অজ্ঞাত আততায়ীর হামলায় মৃত্যু হয়েছে এই জঙ্গির। জানা যাচ্ছে, কাশ্মীরি এই জঙ্গি উপত্যকায় একাধিক সন্ত্রাসী হামলার মাস্টারমাইন্ড। তার মৃত্যু পাকিস্তানে সক্রিয় ভারত-বিরোধী নেটওয়ার্কের জন্য বিরাট ধাক্কা।

    অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা

    সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক টার্গেটেড হামলায় লস্কর ও জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের হত্যা করা হচ্ছে। এবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে, অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন হিজবুল মুজাহিদিনের এক কমান্ডার সাজ্জাদ আহমেদ। এ নিয়ে পাকিস্তানের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন মৃত্যুর (Death) কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর। অনেকে মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে অভ্যন্তরীণ কোনও সংঘাত। সাজ্জাদের প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। জানা গিয়েছে, সাজ্জাদ আদতে কাশ্মীরের বাসিন্দা ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে ভারত-বিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত ছিল। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, আততায়ীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    কে এই সাজ্জাদ

    সাজ্জাদ আহমেদ কাশ্মীরের বারামুলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ১৯৯৭ সালে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে আসে সাজ্জাদ। এরপর ধীরে ধীরে হিজবুল মুজাহিদিনে সক্রিয় হয়ে ওঠে। বলা হচ্ছে, বর্তমানে সে সংগঠনে কমান্ডার স্তরের দায়িত্বে ছিল। কয়েক বছর আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে চলে যায় সাজ্জাদ। সেখানে বসেই ভারতীয় বিরোধী সন্ত্রাসী কার্যকলাপে নামে। সূত্রের খবর, জম্মু ও কাশ্মীর-সহ ভারতের নানা প্রান্তে জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র ও তা বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা ছিল এই জঙ্গির। দেশের গোয়েন্দা বিভাগের হিট লিস্টে দীর্ঘদিন ধরে নাম ছিল এই জঙ্গির। ভারতে সন্ত্রাসী হামলাগুলির অন্যতম অপারেটর হিসেবে গণ্য করা হত এই জঙ্গিকে। তার মৃত্যু দেশের নিরাপত্তা বিভাগের জন্য নিশ্চিতভাবে স্বস্তির।

    ভারত-বিরোধীদের মৃত্যু

    সাম্প্রতিক সময়ে পাকভূমে অজ্ঞাত বন্দুকবাজের হামলায় মৃত্যু হয়েছে একাধিক ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসীর। আড়ালে থাকা এই হামলাকারীদের হিরো হিসেবে গণ্য করছে ভারতের জনগণ। সাজ্জাদের হত্যাও এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন গত কয়েকদিনে পাকিস্তানে বেশ কয়েকজন বড় জঙ্গি নেতা রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা গিয়েছে।

    শেখ ইউসুফ আফ্রিদির হত্যা: সম্প্রতি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অজ্ঞাত হামলায় মৃত্যু হয়েছিল লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার শেখ ইউসুফ আফ্রিদির। জানা যায়, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে লস্করের সংগঠনের প্রধান ছিল আফ্রিদি। মূলত এখান থেকে মুজাহিদদের (আত্মঘাতী জঙ্গি) প্রশিক্ষণ দিয়ে কাশ্মীর-সহ অন্যান্য জায়গায় পাঠানোর দায়িত্ব ছিল এর উপরেই। বহুবার হাফিজ সইদের সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা এই আফ্রিদিকে।

    সালমান আজহারের মৃত্যু: দু’দিন আগে জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষ কমান্ডারদের মধ্যে অন্যতম সালমান আজহারের মৃত্যুও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। সালমান আজহারকে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হত। তাকে বাহাওয়ালপুরের সুবহানআল্লাহ মরকজে কবর দেওয়া হয়েছে।

    ২০১৯ সাল থেকে চলছে রহস্যজনক হত্যার ধারা

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালের পর থেকে পাকিস্তানে টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে অনেক জঙ্গিকে নিশানা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি জঙ্গি অজ্ঞাত আততায়ীদের হাতে মারা গিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ঘটনাগুলি নিয়ে পাকিস্তান সরকার বা তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে খুব কমই সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্তের অবস্থাও স্পষ্ট নয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানে লস্কর এবং জইশের মতো সংগঠনের হাজার হাজার জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। এই সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের পঞ্জাব, গিলগিট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর (POK) এলাকায় অনেক ট্রেনিং ক্যাম্প সক্রিয় রয়েছে, যেখানে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আসলে পাকিস্তানে হাজার হাজার জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। তাদের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত হলে আরও সমস্যায় পড়তে পারে পাক সরকার। তাই পুরোটাই লুকিয়ে রাখার চেষ্টা হয়।

  • Donald Trump: “পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন দূতেরা”, ঘোষণা ট্রাম্পের

    Donald Trump: “পাকিস্তানে গিয়ে ইরানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন দূতেরা”, ঘোষণা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) গিয়ে ইরানের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূতেরা। অন্তত এমনই ঘোষণা করলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতিমধ্যেই দেশ ছেড়েছেন।

    ট্রাম্পের দাবি (Donald Trump)

    সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে ইসলামাবাদে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আগেই দাবি করেছিলেন, দু’মাসের সংঘাত সমাধানের লক্ষ্যে ইরান একটি প্রস্তাব দিচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি বলেছি, ‘না, তোমরা সেখানে যাওয়ার জন্য ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নেবে না। আমাদের হাতে সব কার্ড আছে। তারা চাইলে যে কোনও সময় আমাদের ফোন করতে পারে। কিন্তু তোমরা আর ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নিয়ে গিয়ে বসে বসে অর্থহীন আলোচনা করবে না।’”

    আরাঘচির বক্তব্য

    এদিকে, আরাঘচি ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদ ছেড়ে গিয়েছেন। এটি ছিল তাঁর ত্রিদেশীয় সফরের প্রথম গন্তব্য। এরপর তাঁর যাওয়ার কথা, ওমান এবং রাশিয়ায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি প্রেস টিভি জানিয়েছে, তিনি শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে আরাঘচি বলেন, তিনি পাকিস্তানি আধিকারিকদের সঙ্গে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেছেন, যা যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার একটি কার্যকর কাঠামো হতে পারে। তিনি এও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কূটনীতিতে আন্তরিক কিনা, তা এখনও দেখা বাকি (Donald Trump)।”

    ট্রাম্পের ইঙ্গিত

    পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ওমান সফর শেষে এবং রাশিয়ায় যাওয়ার আগে আরাঘচি ফের পাকিস্তান সফর করতে পারেন (Pakistan)। বিদেশমন্ত্রকের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, তার প্রতিনিধিদলের একটি অংশ তেহরানে ফিরে গিয়েছে যুদ্ধ সমাপ্তি সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিতে। তারা রবিবার রাতে ফের ইসলামাবাদে ফিরবে। এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে যে কোনও আলোচনা ফোনের মাধ্যমে হতে পারে। তিনি লেখেন, “যদি তারা কথা বলতে চায়, তাহলে শুধু ফোন করলেই হবে!!!” তাঁর আরও দাবি, ইরানে কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা কেউ জানে না এবং সেখানে চরম অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিশৃঙ্খলা চলছে।

    হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা

    বিশ্লেষকদের মতে, “সব কার্ড আমাদের হাতে” কথাটি সম্ভবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং অঞ্চলে ৫০,০০০-এর বেশি সেনার উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে, যারা প্রয়োজনে ফের যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত (Donald Trump)। এদিকে, এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করতে চাপ বেড়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে যে অচলাবস্থা চলছে, তার কারণে। এই প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস শনিবার জানিয়েছে, তারা এই জলপথে তাদের অবরোধ এখনই তুলে নিতে চায় না। যদিও এটি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে (Pakistan)। ট্রাম্প বলেন, “আমার দূতদের সফর বাতিল মানেই যুদ্ধ ফের শুরু হবে না। আমরা এখনও সেই বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করিনি।”

    ইরানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, আরাঘচি শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকটে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি ওমানি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তিনি রাশিয়ায় যাবেন, যেখানে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু করেছিল আমেরিকা ও ইজরায়েল (Donald Trump)।

     

LinkedIn
Share