Tag: Islamic State

Islamic State

  • AI Qaeda: ভারতে প্রভাব বিস্তারে নয়া  কৌশল আল-কায়দার, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    AI Qaeda: ভারতে প্রভাব বিস্তারে নয়া  কৌশল আল-কায়দার, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ গোটা উপমহাদেশে নিজেদের জঙ্গি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নয়া কৌশল আল-কায়দার। সর্বধর্মীয় সম্প্রীতির কথা নয়, বরং বৃহত্তর প্যান-ইসলামপন্থী আদর্শের প্রচার, বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে ভাঙন তৈরি করে নতুন গোষ্ঠী গড়ে তোলা (AI Qaeda) এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে এই জঙ্গি সংগঠন। গত ১২ অক্টোবর ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা শাখার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে (Terror Groups)। নিরাপত্তা আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়দার শাখা সংগঠনটি নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানো, সমর্থনের ভিত্তি মজবুত করা এবং ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে আরও জটিল করে তোলার লক্ষ্যে কৌশলগত পরিবর্তন আনছে।

    আল-কায়দার উদ্দেশ্য (AI Qaeda)

    ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত আল-কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশের শাখার উদ্দেশ্য ছিল ভারত-সহ বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতে নিজেদের সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তার করা। তবে আদর্শগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও, গোড়ার দিকে উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক উপস্থিতি গড়ে তুলতে পারেনি তারা। এর অন্যতম কারণ ছিল ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। হিংসাত্মক কার্যকলাপ ও প্রচার কৌশলের মাধ্যমে ওই জঙ্গি সংগঠন বহু নতুন সদস্যকে আকৃষ্ট করেছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতীতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে আল-কায়দা এখন তুলনামূলকভাবে বৃহত্তর প্যান-ইসলামপন্থী আদর্শকে সামনে আনতে চাইছে। নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা উপসম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়ানোর পরিবর্তে, বিভিন্ন গোষ্ঠীকে কাছে টানতে অপেক্ষাকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শগত অবস্থান গ্রহণের চেষ্টা করছে সংগঠনটি। এর মাধ্যমে স্থানীয় সহযোগিতা আদায়, সমর্থনের পরিধি বাড়ানো এবং নিজেদের কার্যকরী নেটওয়ার্ক বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আল-কায়দা স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছিল। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি নির্বিচারে শত্রুতা না দেখিয়ে স্থানীয় সংগঠনগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখার ফলে তারা নিজেদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে পেরেছিল। সেই অভিজ্ঞতাই এবার দক্ষিণ এশিয়ায় কাজে লাগাতে চাইছে আল-কায়দা।

    ইসলামিক স্টেটের আপসহীন শত্রুতার মনোভাব

    অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী সম্প্রদায় ও উপসম্প্রদায়ের প্রতি ইসলামিক স্টেটের আপসহীন শত্রুতার মনোভাব সম্ভাব্য সহযোগীদের দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। একাধিক অঞ্চলে তাদের হিংসাত্মক কার্যকলাপ ও সংঘাতমুখী অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। ফলে আগের মতো প্রভাব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে সংগঠনটির পক্ষে।

    আল-কায়দা এই দুই সংগঠনের কৌশলগত পার্থক্যকে কাজে লাগাতে চাইছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনকে সংগঠনটির চরমপন্থী লক্ষ্য থেকে সরে আসা বলে মনে করছেন না নিরাপত্তা আধিকারিকেরা। বরং সম্ভাব্য সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে আদর্শগত বাধা কমিয়ে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আল-কায়দার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের মতাদর্শে তথাকথিত ‘দূরবর্তী শত্রু’, বিশেষত পশ্চিমি শক্তিগুলিকে লক্ষ্য করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। এখন উপমহাদেশে নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বজায় রেখেই আঞ্চলিক সহযোগীদের সমর্থনের ভিত্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে সংগঠনটি (AI Qaeda)।

    আল-কায়দার আঞ্চলিক কৌশলে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে দেশের প্রতিষ্ঠিত জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার পাশাপাশি নতুন বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী তৈরিতে উৎসাহ জোগানোর চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশের জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশকে আল-কায়দার অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অতীতে এই সংগঠনের মধ্যেই ভাঙন দেখা দিয়েছিল। একটি অংশ ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে নব্য জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে পড়ে।

    বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি বাংলাদেশের মতো সংগঠনগুলিকে নিজেদের আদর্শ অনুসরণকারী আরও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী গড়ে তুলতে উৎসাহিত করছে আল-কায়দা।

    প্রতিবেদনে ইমাম মাহমুদের কাফিলা নামে একটি গোষ্ঠীর উল্লেখ রয়েছে, যারা ভারতে নিজেদের কার্যকলাপ কেন্দ্রীভূত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্কের বাইরে উপমহাদেশের আরও বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রভাব ছড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ধরনের গোষ্ঠীগুলিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক গোয়েন্দা আধিকারিকের মতে, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি বাংলাদেশের মতো সংগঠনগুলির ইতিমধ্যেই সদস্যসংখ্যা ও সাংগঠনিক কার্যক্ষমতা রয়েছে। ফলে আল-কায়দা সরাসরি প্রতিটি অভিযানের দায়িত্ব না নিয়েও আদর্শগত দিশা দেখানোর ভূমিকা নিতে পারে এবং বিদ্যমান নেটওয়ার্কগুলিকে নিজেদের বৃহত্তর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে।

    একাধিক বিচ্ছিন্ন সংগঠন তৈরি হলে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তদন্তও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সংগঠনগুলির পারস্পরিক যোগসূত্র, নেতৃত্বের কাঠামো এবং মূল সংগঠনের সঙ্গে নতুন গোষ্ঠীগুলির সমন্বয়ের মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে। পাশাপাশি, বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও পেতে পারে মূল সংগঠনগুলি (Terror Groups)।

    ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা শাখার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উপমহাদেশে নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বজায় রাখতে চাইছে আল-কায়দা। এর মধ্যে শিয়া গোষ্ঠীর সঙ্গেও সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টার উল্লেখ রয়েছে (AI Qaeda)।

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এই ধরনের সম্পর্ক সংগঠনটিকে রসদ ও অন্যান্য সহায়তা জোগাতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও সুবিধা হতে পারে তাদের।

    ছোট ছোট গোষ্ঠীর উত্থান

    বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ছোট ছোট গোষ্ঠীর উত্থানে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে আল-কায়দা আরও বিস্তৃত ও ছড়িয়ে থাকা নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চাইছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে সংগঠনটির ভৌগোলিক পরিসর বাড়তে পারে এবং তাদের কার্যকলাপের প্রকৃত সাংগঠনিক কাঠামো শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    প্রতিবেদনে ইসলামিক স্টেটের আগের সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সঙ্গেও আল-কায়দার বর্তমান কৌশলের তুলনা করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু যুবক ওই সংগঠনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে কেরলের ২০ জনেরও বেশি যুবক উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে আফগানিস্তানে গিয়ে সংগঠনটিতে যোগ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটে যোগ দেওয়া কয়েকজন ভারতীয় পরে সংগঠনটির চরম হিংসা, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং অবমাননাকর কাজের দায়িত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতায় হতাশ হয়ে পড়েন বলে দাবি করা হয়েছে।

    ইসলামিক স্টেট

    আল-কায়দা ইসলামিক স্টেটের এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত আদর্শগত পরিসর তুলে ধরে নতুন সদস্য ও সহযোগী গোষ্ঠীগুলিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা আধিকারিকেরা।

    সব মিলিয়ে, বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ককে কেন্দ্র করে উপমহাদেশে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে (Terror Groups) আল-কায়দা—এমনই দাবি ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা শাখার প্রতিবেদনে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত কৌশলগত পরিবর্তন ও সাংগঠনিক তৎপরতার দাবিগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতি ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলির নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে (AI Qaeda)।

     

  • Nigeria Massacre: নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের নৃশংস হামলায় নিহত অন্তত ২৯

    Nigeria Massacre: নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের নৃশংস হামলায় নিহত অন্তত ২৯

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের নৃশংস হামলায় নিহত অন্তত ২৯ জন। হামলার দায় স্বীকার করেছে (Nigeria Massacre) ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (ISWAP)। গোষ্ঠীটির দাবি, তারা হামলা চালিয়ে অন্তত ২৫ জন খ্রিস্টানকে হত্যা করেছে।

    খেলার মাঠে অতর্কিতে হামলা (Nigeria Massacre)

    রবিবার আদামাওয়া (Islamic State) অঙ্গরাজ্যের গোম্বি লোকাল গভর্নমেন্ট এরিয়ার গুইয়াকু কমিউনিটিতে হিংসার ঘটনাটি ঘটে। অঞ্চলটি ক্যামেরুন সীমান্তের কাছে, দীর্ঘদিন ধরে জেহাদি তৎপরতার জন্য পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলাকারীরা একটি ফুটবল খেলার মাঠে অতর্কিতে হামলা চালায়। সেই সময় বহু তরুণ-তরুণী খেলা দেখতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, বন্দুকধারীরা এলাকায় ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে।

    স্থানীয়দের বক্তব্য

    স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমাদের লোকজন গুইয়াকু কমিউনিটির ফুটবল মাঠে জড়ো হয়েছিল…। তখন বিদ্রোহীরা অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে।” নিহতদের অধিকাংশই যুবক-যুবতী। এর মধ্যে ফুটবল খেলা দেখতে আসা কয়েকজন মহিলাও রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, হামলার সময় ঘরবাড়ি, যানবাহন ও গির্জায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আদামাওয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর আহমাদু উমারু ফিনতিরি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, গুইয়াকু কমিউনিটিতে প্রাণঘাতী হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দে করে অবিলম্বে নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি (Nigeria Massacre)।

    পোড়া গির্জার ছবি

    জানা গিয়েছে, প্রথমে প্রশাসন বোকো হারাম জঙ্গিদের দায়ী করলেও, পরে হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি (Islamic State) দেয় আইএসডাব্লুএপি। তাদের দাবি, অন্তত ২৫ জন খ্রিস্টানকে হত্যা করা হয়েছে। একটি গির্জা ও প্রায় ১০০টি মোটরবাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। টেলিভিশন ফুটেজে পোড়া গির্জা ও কয়েকটি পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল দেখা গিয়েছে। কমিউনিটি নেতারা জানান, হামলাকারীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও সম্পত্তি ধ্বংস করেছে। নিরাপত্তা রক্ষীরা না থাকায় তারা সঙ্গে সঙ্গে কোনও প্রতিরোধের মুখেও পড়েনি (Nigeria Massacre)।

    নিরাপত্তা সঙ্কট

    এই হামলায় নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সঙ্কটকে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এখানে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদ্রোহ করছে জেহাদিরা। রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে বোকো হারাম ও আইএসডাব্লুএপি সংক্রান্ত হিংসায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখো মানুষ। এই সংঘাত প্রতিবেশী নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনেও ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এতে প্রকাশ্যে দায় স্বীকার করা হয়েছে এবং জনসমাগমে থাকা নিরীহ মানুষদের টার্গেট করা হয়েছে।

    কৃষিজমি নিয়ে বিবাদের জের

    দেশে সাধারণ নির্বাচন এক বছরেরও কম সময় দূরে থাকায় নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে চাপ বাড়ছে। সরকার বিদ্রোহ দমন ও নতুন করে হওয়া হামলা ঠেকাতে বাড়তি চাপে রয়েছে (Nigeria Massacre)। এদিকে, এদিনই ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লামুর্দে এলাকায় আর একটি হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, সেখানে কৃষিজমি নিয়ে বিবাদের জেরে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয় (Islamic State)। স্থানীয় প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “মানুষের প্রাণ গিয়েছে, সম্পত্তিও নষ্ট হয়েছে।”

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গুইয়াকুর হামলাটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলির একটি। আইএসডাব্লুএপির দাবি, তারা অন্তত ২৫ জন খ্রিস্টানকে হত্যা করেছে এবং একটি গির্জা ও প্রায় ১০০টি মোটরবাইকে আগুন দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই গোষ্ঠীটি ফের হামলা চালাতে পারে। প্রত্যাশিতভাবেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছেন উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার সাধারণ মানুষ।

     

  • Hybrid Terror Modules: একটি সাধারণ মতাদর্শ, একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত! প্রকাশ্যে হাইব্রিড টেরর মডিউল

    Hybrid Terror Modules: একটি সাধারণ মতাদর্শ, একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত! প্রকাশ্যে হাইব্রিড টেরর মডিউল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধরা পড়েছে একাধিক জঙ্গি মডিউল (Hybrid Terror Modules)। তার জেরে প্রকাশ্যে এসেছে চরমপন্থী কার্যকলাপের একটি উদ্বেগজনক ও পরিবর্তিত ধারা (India)। আগে যেখানে জঙ্গিরা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকত, এখন তদন্তকারীরা দেখছেন, এদের অনেকেই একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হলেও, তাদের মূল চালিকা শক্তি একটি সাধারণ মতাদর্শ।

    ফরিদাবাদ মডিউল (Hybrid Terror Modules)

    ফরিদাবাদ মডিউলের কথাই ধরা যাক। এই মডিউলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জইশ-ই-মোহাম্মদের। তদন্তকারীরা জানান, তাদের মূল মতাদর্শগত ঝোঁক ছিল ইসলামিক স্টেটের দিকে। এই ধরনের বহু-সংগঠনভিত্তিক সংযোগ জঙ্গি নেটওয়ার্কের কাঠামো ও কার্যপদ্ধতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে দিল্লি পুলিশ ও মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-এর যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হওয়া সাম্প্রতিক একটি ঘটনায়ও। আটক দুই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে ইসলামিক স্টেট এবং জইশ-ই-মোহাম্মদের। তদন্তকারীদের মতে, এই ধরনের ওভারল্যাপ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, বরং একটি বৃহত্তর ও পরিকল্পিত কৌশলেরই অংশ।

    কী বলছেন আইবি আধিকারিক

    আইবি-র (ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো) এক আধিকারিকের মতে, এই নয়া প্রবণতা একটি সুপরিকল্পিত পরিবর্তনের ফল। এখন জঙ্গিরা আর কোনও একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে টিকি বেঁধে রাখে না। বরং তারা বিভিন্ন চরমপন্থী মতাদর্শ ও গোষ্ঠী দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করছে (Hybrid Terror Modules)। তাঁর মতে, এটি একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। কারণ ওই ব্যক্তিরা সরাসরি কোনও কমান্ড কাঠামো ছাড়া নিজেরাই জঙ্গি মডিউল তৈরি করছে। এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি স্বাধীনভাবে কাজ করে। তাই নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষে তাদের শনাক্ত করা ও দমন করা ক্রমশই কঠিন হয়ে উঠছে।

    নয়া মডেলে মদত পাকিস্তানের

    জানা গিয়েছে, এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (ISI)। আধিকারিকরা  জানিয়েছেন, আইএসআই এখন এমন একটি মডেলকে উৎসাহিত করছে, যেখানে নিয়োগপ্রাপ্তরা কোনও একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত থাকে না। বরং তারা নিজেরাই তাদের মতাদর্শ ও কার্যপদ্ধতি বেছে নিতে পারে (India)। এই পদ্ধতির বেশ কিছু সুবিধাও রয়েছে। এগুলি হল, দায় অস্বীকার করা সহজ, ঝুঁকি কম, খরচ কম এবং বিদেশে সরাসরি জঙ্গি সংগঠন গড়ার প্রয়োজন নেই। দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত ‘জিরো-টলারেন্স’ নীতি নেয়। তার ফলে দেশের ভেতরে সংগঠিত জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। এই জন্যই পাকিস্তান কৌশল বদলে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো শুরু করেছে (Hybrid Terror Modules)।

    ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার

    অপারেশন সিঁদুরের পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলি লক্ষ্য করেছে পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যাপক প্রচার করা হচ্ছে। এই কৌশল ইসলামিক স্টেটের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত পদ্ধতির মতো, যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিয়োগ ও উগ্রপন্থায় প্ররোচিত করা হয় (India)। এই প্রোপাগান্ডা ব্যবস্থাটি মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল এবং সহজেই প্রভাবিত হয়, সেই সব তরুণদের টার্গেট করে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লাগাতার তাদের জেহাদি সাহিত্য ও চরমপন্থীমূলক কনটেন্ট দেখানো হয়। এরপর তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে একই ধরণের ইউজারদের একত্রিত করা হয়। তার পরেই ধীরে ধীরে গঠন করা হয় একটি জঙ্গি মডিউল।

    মতাদর্শগত প্রভাব

    জম্মু-কাশ্মীরের বাইরে সাম্প্রতিক বেশ কিছু জঙ্গি হামলার তদন্তেও দেখা গিয়েছে, অধিকাংশই স্ব-প্রণোদিত মডিউল দ্বারা পরিচালিত, যাদের কোনও সরাসরি সংগঠনগত যোগ নেই। তাদের একমাত্র মিল হল, মতাদর্শগত প্রভাব, বিশেষত ইসলামিক স্টেট (Hybrid Terror Modules)। কোয়েম্বাটোরে একটি মন্দির উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনায় জড়িত জেমশা রুবিন নিজেই উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়েছিল। একইভাবে, বেঙ্গালুরুর রামেশ্বরম ক্যাফে বিস্ফোরণ এবং ম্যাঙ্গালুরু বিস্ফোরণ চেষ্টার ঘটনাগুলিও একই ধরনের মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই ব্যক্তিদের মধ্যে কোনও সরাসরি যোগাযোগ বা সংগঠনগত সম্পর্ক ছিল না। প্রতিটি ঘটনাই ছিল আলাদা, স্বনির্ভর এবং স্ব-প্রণোদিত।

    এই নয়া কৌশল অনুযায়ী, আইএসআই নিয়োগপ্রাপ্তদের কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনে যোগ দিতে চাপ দিচ্ছে না। বরং ব্যাপকভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, যাতে লোকজন নিজেরাই মতাদর্শ বেছে নিয়ে নেমে পড়ে সন্ত্রাসমূলক কাজকর্মে (India)। আধিকারিকরা সতর্ক করে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের বিকেন্দ্রীভূত জঙ্গি মডেল আরও বাড়বে। সংগঠিত নেটওয়ার্কের পরিবর্তে মতাদর্শভিত্তিক এই কাঠামো নিরাপত্তার জন্য আরও জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করবে। যার খেসারত দিতে হবে ভারতবাসীকে (Hybrid Terror Modules)।

    অতএব, সাধু সাবধান!

     

LinkedIn
Share