Tag: Israel

Israel

  • Modi Pezeshkian Discussion: ‘জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিতই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার’ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা মোদির

    Modi Pezeshkian Discussion: ‘জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিতই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার’ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শান্তির বার্তা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাসুদ পেজেশকিয়ানের (Masoud Pezeshkian) সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। মধ্যপ্রাচ্য যখন কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই সময়েই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন মোদি (Modi Pezeshkian Discussion)। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা, সেইসঙ্গে পণ্য ও জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করাই এখন ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার। ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ওই অঞ্চলে বাড়তে থাকা সংঘাত, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সোশ্যাল হ্য়ান্ডেলে সেই আলোচনার কথা তুলে ধরলেন।

    আন্তর্জাতিক মহলকে উদ্যোগী হওয়ার বার্তা

    সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবিক দিকটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলকে উদ্যোগী হতে হবে। মোদি বলেন, “ওই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছি।” পশ্চিম এশিয়ায় যেভাবে যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যেভাবে একের পর এক হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় যেভাবে উত্তেজনার আবহে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে, প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।”

    ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থে জোর

    আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করে জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ভারতের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পাশাপাশি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ এবং পণ্য পরিবহণ যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সেই বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। মোদি নিজেই তাঁর পোস্টে জানান, যুদ্ধের আবহে ভারতের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত কয়েক লক্ষ ভারতীয়র সুরক্ষাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

    ভারত শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে

    ভারত সরকার এই সংকট সমাধানে কূটনৈতিক সংলাপ ও আলোচনার পথেই জোর দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযম ও আলোচনার পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারত যে কোনওভাবেই যুদ্ধ চায় না, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজার পক্ষপাতী, তা আবারও বিশ্বমঞ্চে মনে করিয়ে দিয়েছেন মোদি। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, “শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি ভারতের অঙ্গীকারের কথা আবারও ওনাকে বলেছি। আলোচনা ও কূটনীতির পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রী মোদির এই বার্তা আবার প্রমাণ করেছে ভারত শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে।

    মোদিকে বার্তা পেজেশকিয়ানের

    মোদিকে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তবে তারা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং ইরানের স্কুল ছাত্রীদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর। এদিকে এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে ব্রিকস গোষ্ঠীর ভূমিকার তাৎপর্য তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। এর আগে ১১ মার্চ রুশ এবং পাক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পরে পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, তিন শর্তে ইরান যুদ্ধ বন্ধে রাজি হবে- আন্তর্জাতিক স্তরে ইরানের ন্যায্য অধিকার মেনে নিতে হবে। সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও হামলা না ঘটে সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

    উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ

    বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) ইতিমধ্যেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির (Abbas Araghchi) সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। এই আলোচনায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    ইরানে থাকা ভারতীয়দের সহায়তা

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরানে প্রায় ৯ হাজার ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ছাত্র ও তীর্থযাত্রীরা আছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সংকটের সময় অনেক ভারতীয়কে ইতিমধ্যেই দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফেরানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদ এলাকায় স্থানান্তর করার কাজও চলছে। সামগ্রিকভাবে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস যারা দেশ ছাড়তে চান তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে। প্রয়োজনে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের স্থলপথ ব্যবহার করে সেখান থেকে বাণিজ্যিক বিমানে ভারতে ফেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দূতাবাস ভিসা প্রক্রিয়া, সীমান্ত পারাপার এবং যাত্রাপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছে।

    ‘হরমুজ প্রণালী’

    এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই সংকটের আবহে বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা রয়টার্স প্রথমে ভারতীয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করে, ভারত এবং ইরান, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্য়ে কথা হওয়ার পর, ভারতের জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসার অনুমতি দিয়েছে ইরান। কিন্তু পরে সংবাদসংস্থা রয়টার্স-ই ইরানের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায় যে, ভারতের সঙ্গে ইরানের এরকম কোনও চুক্তি হয়নি। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের বিদেশমন্ত্রী ও ইরানের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে সম্প্রতি ৩ বার কথোপকথন হয়েছে। শেষ কথা হয়েছে জাহাজ পরিবহণের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে। এর বেশি আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।” তবে বুধবারই হরমুজ পার করে আসা একটি জাহাজ মুম্বইতে পৌঁছেছে। এর আগে অবশ্য গোটা বিশ্বের উদ্বেগ বাড়িয়ে ইরানের সদ্য় মনোনীত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই হুঙ্কারের সুরে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনওভাবেই ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) খোলা হবে না। এটাকে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে চাপে রাখার কৌশল হিসাবে ব্যবহার করা হবে। তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, “শহিদদের মৃত্যুর বদলা আমরা নেবই। কারণ, তাঁরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার জন্য জীবন দিয়েছেন।”

    মোদির বার্তা, ভারত-ইরান যোগ কূটনৈতিক উদ্যোগ

    আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের (US-Iran Conflict) অবিরাম যুদ্ধ চলছে। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। একের পর এক প্রাণহানি হচ্ছে। এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ যেতে না দিয়ে ইজরায়েল-আমেরিকার পাশাপাশি কার্যত গোটা বিশ্বের মাথাব্য়াথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান। কারণ এই রুট দিয়েই তেলবহনকারী জাহাজগুলি যাতায়াত করে। একমাত্র রাশিয়া ও চিনকে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল করার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতমাসে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তাঁদের কথা হল। যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা-ইজরায়েল তো বটেই এবং ইরানের সঙ্গেও ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারসাম্য বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে শান্তি ও কূটনীতির বার্তা দিলেন, তা বিশ্বমঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের দৃঢ়তাই আরও স্পষ্ট করছে।

  • Strait of Hormuz: বড় কূটনৈতিক জয় দিল্লির! জয়শঙ্করের ফোনের পরেই হরমুজ দিয়ে ভারতগামী ট্যাঙ্কার ছাড়ল ইরান, তেল পৌঁছল মুম্বই

    Strait of Hormuz: বড় কূটনৈতিক জয় দিল্লির! জয়শঙ্করের ফোনের পরেই হরমুজ দিয়ে ভারতগামী ট্যাঙ্কার ছাড়ল ইরান, তেল পৌঁছল মুম্বই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড় কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের। বুধবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা হয় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S Jaishankar)। এর পরেই হরমুজ প্রণালীতে সেফ প্যাসেজ পেল ভারতের অশোধিত তেলবাহী জাহাজ। ভারতের জ্বালানি বহনকারী ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সবুজ সঙ্কেত দিল ইরান। বুধবার সন্ধ্যায় মুম্বই বন্দরে একটি জাহাজ পৌঁছেও গিয়েছে।  বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, হরমুজে (Strait Of Hormuz) আটকে থাকা ভারতের বাকি জাহাজগুলিও সেফ প্যাসেজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান। যুদ্ধের ১৩তম দিনে তেল সঙ্কটে ভোগা ভারতে স্বস্তি।

    ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলি যাতায়াতের অনুমতি

    মধ্যপ্রাচ্যে ভয়ংকর যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে বিশ্ব। ইরানের হামলার আতঙ্কে থমকে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তৈল বাণিজ্য। কার্যত গোটা বিশ্বের জন্য হরমুজ বন্ধ করে দেয় ইরান। ব্যতিক্রম ছিল রাশিয়া এবং চিন। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়ে গেল ভারতের। সূত্রের খবর, ইরানের বিদেশমন্ত্রক মৌখিকভাবে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলি যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। ভারতীয় পতাকা লাগানো জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেবে ইরান, আক্রমণ করা হবে না তাকে। এমনটাই জানিয়েছে ইরান। তবে ইজরায়েল, আমেরিকা, এবং ইউরোপের সব জাহাজে এখনও নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে ইরানের ইসলামিক রেভেলুশনারি গার্ড কোর।

    মোদি সরকারের কূটনৈতিক ‘কৌশল’

    মোদি সরকারের কূটনৈতিক ‘কৌশলে’ মন গলল ইরানের। হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারতের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দল ইরান। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই পুস্পক এবং পরিমল নামের দুই পণ্যবাহী জাহাজও নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলেও খবর। শীঘ্রই ভারতের বন্দরে এই জাহাজ দু’টি পৌঁছবে। এছাড়া দেশ মহিমা, দেশ অভিমান, স্বর্ণ কমল, বিশ্ব প্রেরণা, জগ বিরাট, জগ লোকেশ এবং এলএনজিসি অসীম নামের জাহাজগুলি ইতিমধ্যেই আরব সাগরে পৌঁছে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী পার করে। একদিন আগেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জানা যাচ্ছে, এই ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। হরমুজে ভারতীয় জাহাজ চলাচল নিয়েও আলোচনা হয় আরাগাছি এবং জয়শঙ্করের মধ্যে। এর আগেও বার দু’য়েক ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন জয়শঙ্কর। বস্তুত গত দুসপ্তাহ ধরে লাগাতার ব্যাক চ্যানেলে আলোচনা চলছে দু’দেশের। তাতেই মিলল সাফল্য। আপাতত অন্তত হরমুজের ওপারে আটকে থাকা জাহাজগুলি নিরাপদে ফেরানোর অনুমতি পাওয়া গিয়েছে বলে খবর।

    কেন ভারতকে অনুমতি

    ইরান যুদ্ধে শুরু থেকেইপ্রকাশ্যে ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান নিয়েছে। অন্তত । কিন্তু ভারত মহাসাগরে ভারতীয় জলসীমার অদূরে ইরানের রণতরীতে মার্কিন হামলার পর ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে আবার হরমুজেই আক্রান্ত হয় ভারতীয় পণ্যবাহী একটি তাইল্যান্ডের জাহাজ। তাতে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুও হয়। তারপরই মোদি সরকার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তৎপরতা বাড়ায়। সেটারই সুফল মিলল। এর ফলে দ্রুত দেশের জ্বালানি সমস্যা মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    হরমুজ পার করে মুম্বই বন্দরে

    এদিকে বুধবার হরমুজ পার করে আসা একটি জাহাজ মুম্বইতে পৌঁছেছে। লাইবেরিয়ার পতাকা লাগানো ওই জাহাজটির নাম শেনলং সুয়েজম্যাক্স (Shenlong Suezmax)। ওই জাহাজে ছিল ভারতের জন্য জ্বালানি। গত ১ মার্চ জাহাজটি সৌদি আরবের রাস টানুরা বন্দরে ক্রুড অয়েল ভরেছিল । তার দু’দিন পরে সেটি ওই বন্দর থেকে রওনা দেয়। জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলেন এক ভারতীয়। ৮ মার্চ ওই জাহাজের শেষ সিগন্যাল পাওয়া গিয়েছিল হরমুজ প্রণালীতে। জাহাজটিতে ছিল ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৩৫ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল। মুম্বই পোর্ট অথরিটির ডেপুটি কনজারভেটর প্রবীণ সিং জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা ক্রুড অয়েল পূর্ব মুম্বইয়ের মাহুলের রিফাইনারিতে নিয়ে যাওয়া হবে। মুম্বইয়ে শেনলংয়ের প্রতিনিধি জিতেন্দ্র যাদব জানান, শেনলং সুয়েজম্যাক্স জাহাজে ছিলেন ২৯ জন ভারতীয়, পাকিস্তানি এবং ফিলিপাইন্সের ক্রু। জাহাজে ক্যাপ্টেনের ভূমিকায় ছিলেন সুকান্ত সিং সান্ধু।

    কীভাবে ভারতে এল তেলবাহী জাহাজ

    লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটি ১ মার্চ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে রওনা দেয়। সামুদ্রিক ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা যায় যে, জাহাজটির সিগন্যাল শেষবার ৮ মার্চ হরমুজ প্রণালীর ভিতরে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় দেখা গিয়েছিল, তারপর নিখোঁজ হয়ে যায়। এর থেকে বোঝা যায় যে, জাহাজের ক্রুরা বিপজ্জনক জলপ্রপাত অতিক্রম করার সময় জাহাজের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (AIS) এবং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ফার্স্টপোস্টের এক প্রতিবেদন অনুসারে, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সফলভাবে অতিক্রম করার পর, পরের দিন ভারতের দিকে যাত্রা শুরু করার সময় জাহাজটি আবার সামুদ্রিক ট্র্যাকিং সিস্টেমে দেখা দেয়।

    হরমুজ নিয়েই গত কয়েকদিনে উত্তেজনা

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলার পর ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল। হরমুজ দিয়ে কোনও জাহাজ পার করার চেষ্টা করলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। এই হরমুজ নিয়েই গত কয়েকদিনে আরও চড়েছে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পারদ। একদিকে, ইরানের হুঁশিয়ারি—নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এই প্রণালী দিয়ে এক বিন্দু তেলও রফতানি হতে দেবে না তারা। অন্যদিকে আমেরিকার হুমকি—ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে মাইন পুঁতে অন্য দেশের জাহাজকে ধ্বংসের চেষ্টা করে, তবে ফল ভালো হবে না। সবমিলিয়ে এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় সমস্যা তৈরি হয়।

    হরমুজ প্রণালীর আশে পাশে ভারতীয় জাহাজের অবস্থান

    ভারতের শিপিংয়ের ডিরেক্টর জেনারেল জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এখনও হরমুজে আটকে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে হরমুজ প্রণালী পার করে আটটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ সমুদ্রের সুরক্ষিত অঞ্চলে পৌঁছে গিয়েছিল। এদিকে ভারতের জাহাজ পরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ চলাচল করছে। এর মধ্যে ৬৭৭ জন ভারতীয় নাবিকসহ ২৪টি জাহাজ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে এবং ১০১ জন ভারতীয় নাবিকসহ চারটি জাহাজ প্রণালীর পূর্ব দিকে অবস্থান করছে। ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টার একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে বলে মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা সমন্বয় করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • Israel: মোদি তেল আভিভ ছাড়ার পরেই ইরানে হানার ছক কষা হয়, সাফ জানালেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত

    Israel: মোদি তেল আভিভ ছাড়ার পরেই ইরানে হানার ছক কষা হয়, সাফ জানালেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে কাজে লাগানো হয়েছে “অপারেশনাল সুযোগ”। অন্তত ইজরায়েলের (Israel) তরফে এমনই দাবি করা হয়েছে সংবাদ মাধ্যমে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েল যৌথ হামলা চালায় ইরানে। ইজরায়েলি আধিকারিকরা একেই অপারেশনাল সুযোগ বলে বিবৃতি দিয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সুযোগটি তৈরি হয় কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) তেল আভিভ সফর শেষ হওয়ার পর। ভারতে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার সংবাদ মাধ্যমে জানান, মোদির সফরের সময় তেহরানের বিরুদ্ধে আসন্ন সামরিক অভিযানের কোনও পূর্বাভাস ছিল না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তাই মোদি থাকার সময় ইজরায়েলের ইরান হানার ছক কষা হয়েছিল বলে যে দাবি কংগ্রেস করছে, সেটা খারিজ করে দিলেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত। প্রসঙ্গত, গত দু’দিন ধরে কংগ্রেস এ নিয়ে আক্রমণ করেছে মোদিকে।

    অপারেশনাল সুযোগ (Israel)

    তিনি বলেন, “এটি ছিল একটি অপারেশনাল সুযোগ, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলে যাওয়ার পর সৃষ্টি হয়। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় আমরা আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছিলাম, কিন্তু যে বিষয়টি তখনও আমরা জানতাম না, তা শেয়ার করা সম্ভব হয়নি।” আজার আরও জানান, মোদির সফর শেষ হওয়ার পর প্রায় দু’দিন সময় লাগে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত রূপ নিতে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইজরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার তরফে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান চালায়। হামলা করা হয় রাজধানী তেহরান-সহ একাধিক শহরে। “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে পরিচিত এই অভিযানটি স্থগিত হয়ে থাকা পারমাণবিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে এবং তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ পুনরায় শুরু করেছে—এমন অভিযোগের পর পরিচালিত হয়। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পাল্টা আঘাত হানে। এর কয়েকটি উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে রয়েছে দুবাই, আবুধাবি, কাতার ও বাহরাইন (Israel)।

    ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

    তেহরান তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “যুদ্ধ এড়াতে আলোচনার চেষ্টা করার জন্য ইরানের অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।” আজার জানান, ইরানকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা ও সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে ইজরায়েল বহু বছর ধরে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। তিনি বলেন, “আমাদের এমন গোয়েন্দা সক্ষমতা তৈরি (PM Modi) করতে হয়েছে যাতে আমরা ইরানের শাসনব্যবস্থা ও তাদের সামরিক কাঠামোকে বুঝতে পারি—তারা পরবর্তী পদক্ষেপ কী নিতে পারে, কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তারা কোথায় অবস্থান করছে এবং কোন সক্ষমতাগুলি ইজরায়েলের জন্য হুমকির সৃষ্টি করছে।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার প্রযুক্তি উন্নয়নে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরক্ষা ঢাল শক্তিশালী করতে ইজরায়েল বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এই হুমকি শুধু ইরান থেকেই নয়, বরং তেহরান-সমর্থিত আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলির কাছ থেকেও আসে (Israel)।” দু’দিনের ইজরায়েল সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি দুই দেশের সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সম্পর্ককে বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করতে রাজি হন (PM Modi)।

     

  • PM Modi: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগী মোদি, কথা বললেন ৮ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে

    PM Modi: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগী মোদি, কথা বললেন ৮ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) কথা বলেছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইজরায়েল, সৌদি আরব, জর্ডন, বাহরাইন, ওমান, কুয়েত এবং কাতারের নেতাদের সঙ্গে (Peace Stability Security)। এই অঞ্চলে দ্রুত পরিবর্তনশীল উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা এবং ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির পক্ষ থেকে ইজরায়েল, উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশ, এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক টার্গেটে হামলার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

    কাতারের আমিরের সঙ্গে কথা (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি কাতারের ওপর হামলার নিন্দে করেন এবং কাতারে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থন ও যত্নের জন্য আমিরকে ধন্যবাদও জানান। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার ভাই, মহামান্য শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, কাতারের আমিরের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা কাতারের সঙ্গে দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছি এবং তার (Peace Stability Security) সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার যে কোনও লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দে করি। সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর আমরা জোর দিয়েছি। এই কঠিন সময়ে কাতারে ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর অব্যাহত সমর্থন ও যত্নের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি।”

    কথা আরও ৭ বিশ্বনেতার সঙ্গেও

    মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও (PM Modi) দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন কুয়েতের যুবরাজ সাবাহ আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহ-এর সঙ্গেও। দুটি ক্ষেত্রেই আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী এবং সেখানে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে আলোচনা করেন। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “মহামান্য সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ওমানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের নিন্দে করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে, টেকসই কূটনৈতিক সম্পৃক্ততাই দ্রুত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। ওমানে ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি (PM Modi)।”

    হামলার তীব্র নিন্দে

    এদিনই প্রধানমন্ত্রী জর্ডনের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহের সঙ্গেও কথা (Peace Stability Security) বলেন এবং জর্ডনের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি এবং এই কঠিন সময়ে জর্ডনে প্রবাসী ভারতীয়দের দেখভাল করার জন্য ধন্যবাদ জানান বাদশাহকে। এর আগে আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ এবং বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেন টেলিফোনে। আলোচনায় তিনি সৌদি আরব ও বাহরাইনের ওপর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দে করেন। পাশাপাশি ওই দেশগুলিতে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুস্থতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে ভারতের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয় (PM Modi)।

    শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান

    প্রসঙ্গত, এই ফোনালাপগুলি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানকে ঘিরে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ। ১ মার্চ, রবিবার তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং দ্রুত সব ধরনের শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে অঞ্চলে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান (Peace Stability Security)। ভারতের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমষ্টিগত নিরাপত্তার প্রতি দেশের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে এবং সর্বোপরি নিরীহ অসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেয় বলে দাবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের (PM Modi)।

  • Iran: “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তানও”, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির কমান্ডারের

    Iran: “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তানও”, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির কমান্ডারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পাকিস্তান (Pakistan) তার আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগ দিয়েছে। এই ভূমিকার জন্য পাকিস্তানকে মূল্য চোকাতে হবে। এর জবাবে ইরানি (Iran) ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখেও পড়তে পারে পাকিস্তান।” এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সিনিয়র কমান্ডার সারদার হোসেইন নেজাত। উল্লেখ্য, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এজন্য পাকিস্তান তার আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে। তাই এই সতর্কবার্তা।

    ইরান-পাকিস্তানের যৌথ সীমান্তের মানচিত্র (Iran)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টটিতে ইরান ও পাকিস্তানের যৌথ সীমান্তের একটি মানচিত্র সংযুক্ত ছিল। সেখানে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকাকে দৃশ্যত চিহ্নিত করে সম্ভাব্য দুর্বল অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে ইরান পাকিস্তানকে টার্গেট করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মানচিত্রে পাকিস্তানের বালুচিস্তান অঞ্চল থেকে ইরানে প্রবেশের রুটও দেখানো হয়েছে এবং সীমান্ত বরাবর সম্ভাব্য দুর্বল স্থানগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে (Pakistan)। সারদার হোসেইন নেজাত বলেন, “আমাদের নির্ভুল তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসন ইরানের ওপর হামলায় পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করেছে। পাকিস্তান খুব শিগগিরই এর মূল্য দেবে এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলির মতো আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিরাপদ থাকবে না।”

    ইরানে বোমাবর্ষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

    প্রসঙ্গত, ১ মার্চ পাকিস্তানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানে বোমাবর্ষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনাই-এর মৃত্যু হয়। তারপরেই বিক্ষোভ হিংসার রূপ নেয় এবং অন্তত ২৩ জন নিহত হন। করাচিতে একদল বিক্ষোভকারী মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরের প্রাচীর ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। এতে ১০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন (Iran)। পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচির মাই কোলাচি রোডে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের বাইরে শত শত মানুষ জড়ো হন। সবচেয়ে গুরুতর হিংসার ঘটনা সেখানেই ঘটে। কিছু যুবক কনস্যুলেটের বাইরের ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে মূল ভবনের জানালা ভাঙচুর করে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে (Pakistan)। পুলিশ সার্জন সুম্মাইয়া সাঈদ জানান, অন্তত ১০ জন নিহত এবং প্রায় ৬০ জন জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক (Iran)।

    পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সেনা নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নিঃশর্তভাবে অনুগত বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে পাকিস্তান যে দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না, সেই ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের গোপন যোগাযোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের চাপের মুখে রয়েছে। যদি ইরান ইসলামাবাদের ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে পাকিস্তান আফগানিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাও বাড়তে পারে (Iran)।

     

  • Israel: তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে খামেনেইয়ের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল ইজরায়েল!

    Israel: তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে খামেনেইয়ের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল ইজরায়েল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েল (Israel) বহু বছর ধরে তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে এবং মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে ঢুকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই (Khamenei) ও তাঁর নিরাপত্তা দলের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল, তাঁকে হত্যা করার অনেক আগে থেকেই। একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন ইজরায়েলি গোয়েন্দা আধিকারিক এবং অভিযানের সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম। জানা গিয়েছে, তেহরানের প্রায় সব ট্রাফিক ক্যামেরাই বছরের পর বছর হ্যাক করা হয়েছিল। সেগুলির ভিডিও ফুটেজ এনক্রিপ্ট করে তেল আভিভ ও দক্ষিণ ইজরায়েলের সার্ভারে পাঠানো হত।

    নজরদারির খুঁটিনাটি (Israel)

    সূত্রের খবর, একটি নির্দিষ্ট ক্যামেরার কোণ বিশেষভাবে কার্যকর ছিল—এর মাধ্যমে দেহরক্ষীরা কোথায় তাঁদের ব্যক্তিগত গাড়ি পার্ক করতেন, তা নির্ধারণ করা যেত এবং পাস্তুর স্ট্রিটের নিকটবর্তী কম্পাউন্ডের ভেতরের রুটিন সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জটিল অ্যালগরিদম ব্যবহার করে খামেনেইয়ের নিরাপত্তা রক্ষীদের ওপর বিস্তারিত ডসিয়ার প্রস্তুত করা হয়েছিল। এতে তাঁদের ঠিকানা, ডিউটির সময়সূচি, কর্মস্থলে যাওয়ার রুট এবং কোন কর্মকর্তাকে রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন—এসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। গোয়েন্দাদের ভাষায় এটি হল, “প্যাটার্ন অব লাইফ”। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশে প্রায় এক ডজন মোবাইল ফোন টাওয়ারের বিভিন্ন উপাদানও ইজরায়েল বিঘ্নিত করেছিল। ফলে ফোনে কল করলে সেটি ‘ব্যস্ত’ দেখাত এবং খামেনেইয়ের নিরাপত্তা দলের সদস্যরা সম্ভাব্য সতর্কবার্তা গ্রহণ করতে পারতেন না (Israel)।

    ইজরায়েলি গোয়েন্দা আধিকারিকের বক্তব্য

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইজরায়েলি গোয়েন্দা আধিকারিক বলেন, হামলার অনেক আগেই আমরা তেহরানকে ঠিক যেমনভাবে জেরুজালেমকে চিনি, তেমনভাবেই চিনতাম।” তিনি জানান, ইজরায়েলের সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ৮২০০, মোসাদের নিয়োগ করা মানবসূত্র (Khamenei) এবং সামরিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিপুল তথ্য সংগ্রহ করে একটি ঘন ও বিস্তৃত ইন্টেলিজেন্স মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। পত্রিকাটি আরও জানায়, ইজরায়েল ‘সোশ্যাল নেটওয়ার্ক অ্যানালিসিস’ নামে পরিচিত একটি গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করেছিল, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র ও নয়া লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা যায়, অন্তত এমনই জানিয়েছেন এই পদ্ধতির ব্যবহারের সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি (Israel)।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দু’জন জানান, হামলার দিন সকালে খামেনেই ও শীর্ষ আধিকারিকরা কম্পাউন্ডে উপস্থিত ছিলেন। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইজরায়েলি গোয়েন্দারা সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্সের ওপর নির্ভর করেছিলেন, যার মধ্যে হ্যাক করা ট্রাফিক ক্যামেরা ও অনুপ্রবেশ করা মোবাইল নেটওয়ার্কও অন্তর্ভুক্ত ছিল (Khamenei)। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পক্ষেরও একটি অতিরিক্ত মানবসূত্র ছিল, যা খামেনেই ও শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।

     

  • Israel Strikes on Iran: ইরানে ইজরায়েলি হামলার জেরে ভারতে হিংসার আশঙ্কা! সব রাজ্যকে সতর্ক করল কেন্দ্র

    Israel Strikes on Iran: ইরানে ইজরায়েলি হামলার জেরে ভারতে হিংসার আশঙ্কা! সব রাজ্যকে সতর্ক করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সাম্প্রতিক ইরান হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনির মৃত্যুর প্রেক্ষিতে ভারতের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (এমএইচএ)। সম্ভাব্য সহিংসতা ও ছিটেফোঁটা বিক্ষোভের আশঙ্কায় রাজ্যগুলিকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ‘আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে হবে।’

    শিয়া সংগঠনগুলির উদ্যোগে বিক্ষোভ

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেইনি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায়। শিয়া সংগঠনগুলির উদ্যোগে উত্তরপ্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, কর্নাটক এবং দিল্লি-সহ বিভিন্ন স্থানে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যগুলির মুখ্যসচিব ও ডিজির কাছে কাছে পাঠানো এক বার্তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়, ইরানপন্থী ও বিরোধী উভয় গোষ্ঠীর সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও জমায়েতের ওপর নজর রাখতে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজর

    বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলির সামনে প্রতিবাদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এছাড়া ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে হিংসায় প্ররোচনা দেওয়া হতে পারে’ এমন ইরানপন্থী কট্টরপন্থী ধর্মীয় বক্তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ইরানপন্থী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের অ্যাকাউন্টগুলির ওপর নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানপন্থী ছাত্র সংগঠন ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলির কার্যকলাপের দিকেও নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কা

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন যেমন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং আল-কায়েদা ভারতে মার্কিন ও ইজরায়েলি দূতাবাস-কনস্যুলেট, তাদের কর্মী, প্রতিনিধি দল, ব্যবসায়ী, পর্যটনকেন্দ্র, পশ্চিমের দেশগুলির নাগরিকদের যাতায়াতের স্থান, সিনাগগ, চাবাড হাউস ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষদের জমায়েতের স্থানগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। একইভাবে ইরানের দূতাবাস, কনস্যুলেট ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলিও নিশানায় থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যগুলিকে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করার পাশাপাশি দূতাবাস, কনস্যুলেট ও বিদেশি পর্যটকদের ভিড় থাকে এমন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো এবং বিস্ফোরক বা আইইডি-র উপস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

  • Modi on Iran Israel War: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে শান্তির আহ্বান! কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা মোদির

    Modi on Iran Israel War: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে শান্তির আহ্বান! কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে সদা সতর্ক ভারত (Modi on Iran Israel War)। রবিবার রাতেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি (ক্যাবিনেট কমিটি অফ সিকিয়োরিটি)-র বৈঠক আয়োজন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়ে আসার বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, বলে খবর। অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার রাতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ৷ অসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার উপর তিনি বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত এই হানাহানি বন্ধ করার কথাও বলেন ৷ প্রধানমন্ত্রী মোদি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৷ এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

    ভারতীয়দের নিরাপদে উদ্ধার নিয়ে আলোচনা

    ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলায় উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য রবিবার রাতেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিএস) একটি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ মন্ত্রিসভা কমিটি সমস্ত বিভাগকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়ার কথা বলেছে ৷ দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতিতে ফিরে আসার উপরও জোর দিয়েছে ভারত ৷ দু’দিনের সফরে গুজরাট, রাজস্থান, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু সফর সেরে রবিবার রাতে দিল্লি ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী। রাত সাড়ে ৯টায় দিল্লিতে ফিরেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে যোগ দেন মোদি। সূত্রের দাবি, রবিবার রাতের বৈঠকে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দিল্লি

    ইরান এবং ওমানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলভাগ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। বিশ্বের মোট রফতানিযোগ্য এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ ধরেই রফতানি করা হয়। আর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। তা ছাড়া, ভারত অভ্যন্তরীণ জ্বালানি-চাহিদা পূরণে ৮০ শতাংশ তেল অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করে থাকে। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে তেল কেনে ভারত। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে নয়াদিল্লি। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প উপায় নিয়েও রবিবার রাতের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

    মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বিবৃতি

    সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য সিসিএস বৈঠক হয়েছে ৷ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই অঞ্চলে বৃহৎ ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি ৷” বৈঠকে এই অঞ্চলে যাতায়াতকারী সাধারণ ভারতীয় পর্যটক, শিক্ষার্থীদের অসুবিধা, সেইসঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের উপর কী কী প্রভাব পড়বে তা নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সিসিএস সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে এই ঘটনাবলীর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় এবং সম্ভাব্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত শত্রুতা বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতিতে ফিরে আসার গুরুত্বের উপরও জোর দিয়েছে কমিটি ৷” সিসিএস সভায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পিকে মিশ্র এবং শক্তিকান্ত দাস, প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব টিভি সোমনাথন এবং বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি উপস্থিত ছিলেন।

    দুবাই হামলার তীব্র নিন্দা

    এছাড়াও ইরানের দুবাই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi on West Asia Crisis)৷ রবিবার রাতে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন৷ জানান যে, এই কঠিন সময়ে সংহতির সঙ্গে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পাশে থাকবে। নরেন্দ্র মোদি দুবাইয়ে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা প্রদানের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ৷ তিনি বলেছেন যে, নয়াদিল্লি উত্তেজনা হ্রাস, আঞ্চলিক শান্তি, সুরক্ষা এবং স্থিতিশীলতা সমর্থন করে। এক্স পোস্টে মোদি লেখেন, “সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট, আমার ভাই শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এই হামলায় প্রাণহানির জন্য সমবেদনা জানাই। এই কঠিন সময়ে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে থাকবে৷ সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। আমরা উত্তেজনা কমানো, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা সমর্থন করি।”

    বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা

    ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। পালটা হামলা চালাচ্ছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার রাতেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা পরিষদের (ক্যাবিনেট কমিটি অফ সিকিয়োরিটি) জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে ইরান-ইজরায়েল-সহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানো, যুদ্ধে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এরপরই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মোদি। সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে ভারত যথেষ্ট উদ্বেগ তাও তাঁকে জানানো হয়েছে ৷ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে ৷”

    ভারতীয় নাগরিকদের আশ্বাস বিদেশমন্ত্রকের

    সূত্রের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসরত এবং বর্তমানে বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে। সামরিক উত্তেজনার জেরে পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুবাই, দোহা-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শতাধিক ভারতীয় যাত্রী আটকে পড়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বর্তমানে ইরানে প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক বাস, পড়াশোনা ও কাজ করেন এবং ইজরায়েলে রয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার ভারতীয়। উপসাগরীয় ও পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মোট প্রায় ৯০ লক্ষ ভারতীয় বসবাস করেন। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলি সেখানকার ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং জরুরি সহায়তার জন্য হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়া-সহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ভারত সফলভাবে তার নাগরিকদের উদ্ধার করেছে বলেও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • Israel: মধ্যপ্রাচ্য আরও ছড়াল সংঘাত, ইজরায়েলে রকেট-হানার জবাবে বেইরুটে বিমান হামলা তেল আভিভের

    Israel: মধ্যপ্রাচ্য আরও ছড়াল সংঘাত, ইজরায়েলে রকেট-হানার জবাবে বেইরুটে বিমান হামলা তেল আভিভের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ল সোমবার। এদিন ইজরায়েল (Israel) বেইরুট এবং লেবাননের (Lebanese Territory) অন্যান্য অংশে হিজবুল্লা-সংশ্লিষ্ট টার্গেটে বিমান হামলা চালায়। লেবাননের ভূখণ্ড থেকে উত্তর ইজরায়েলের দিকে প্রজেক্টাইল নিক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা পরেই এই হামলা চালানো হয়।

    প্রসারিত হচ্ছে রণভূমি (Israel)

    এই হামলা এবং পাল্টা হানার জেরে ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে রণভূমের এলাকা।  সীমান্তবর্তী এলাকায় গুলিবিনিময় দিয়ে যা শুরু হয়েছিল, তা এখন যৌথ সামরিক অভিযানের আকার নিয়েছে। ইজরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা আরও বিস্তৃত সংঘাতের জন্য প্রস্তুত। ইজরায়েলি বিমানবাহিনী (IAF)-এর দাবি, বেইরুট এলাকায় হিজবুল্লার সদস্যদের লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলের একাধিক পোস্টে ইজরায়েলি বায়ুসেনা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননেও হিজবুল্লার এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে। আইএএফ জানিয়েছে, “বৈইরুট এলাকায় হিজবুল্লা জঙ্গি সংগঠনের বর্ষীয়ান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লার এক জঙ্গি চাঁইকেও আঘাত করেছে আইডিএফ। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”

    প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে একাধিক প্রোজেক্টাইল ইজরায়েলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। এরই কয়েকটি পড়েছিল খোলা জায়গায়। অনেক ক্ষেত্রেই সাইরেন বাজানো হয়নি বলে অভিযোগ। আইএএফ এক পোস্টে জানিয়েছে, “দেশের উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কবার্তা জারি হওয়ার পর বিমানবাহিনী লেবানন থেকে ছোড়া একটি প্রোজেক্টাইলকে আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। খোলা এলাকায় পড়ে কয়েকটি। যদিও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর মেলেনি।” এর আগে সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছিল যে লেবাননের মাটি থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে, এটি শনাক্ত হওয়ার পর উত্তর ইজরায়েলের (Israel) বিভিন্ন অংশে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে (Lebanese Territory)।

    হিজবুল্লার টার্গেটে জোরালো জবাব

    এদিকে, ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) জানিয়েছে, তারা লেবাননজুড়ে হিজবুল্লার টার্গেটে জোরালো জবাব দিচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লা ইজরায়েলি অসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, “ইরানি জঙ্গি শাসনের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুল্লা ইজরায়েল ও তার নাগরিকদের বিরুদ্ধে গুলি চালিয়েছে। আইডিএফ এই অভিযানে হিজবুল্লার অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এবং সংগঠনটিকে ইজরায়েলের পক্ষে হুমকি হয়ে উঠতে বা উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের ক্ষতি করতে দেবে না।” পৃথক এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে (Israel), সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য হিজবুল্লা দায়ী এবং বৃহত্তর সংঘাতের জন্য তারা প্রস্তুত। “রোরিং লায়ন” অভিযানের অংশ হিসেবে বাহিনী এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে।

    আইডিএফের বক্তব্য

    আইডিএফ জানিয়েছে, “উত্তর ইজরায়েলের দিকে প্রোজেক্টাইল নিক্ষেপের জবাবে আইডিএফ লেবাননজুড়ে হিজবুল্লার টার্গেটে আঘাত হানছে। হিজবুল্লা ইরানি শাসনের হয়ে কাজ করছে, ইজরায়েলি অসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং লেবাননকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে (Lebanese Territory)। ‘রোরিং লায়ন’ অভিযানের অংশ হিসেবে আইডিএফ সর্বাত্মক যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।” প্রসঙ্গত, এই ঘটনাবলী এমন একটা সময় ঘটছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনি এবং তাঁর পরিবারের (Israel) সদস্যরা নিহত হয়েছেন। ওই হামলার পর ইরান পাল্টা হিসেবে একাধিক আরব দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে খবর।

     

  • Iran: ইজরায়েলের পাশে আমেরিকা, ইরানে হামলার নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

    Iran: ইজরায়েলের পাশে আমেরিকা, ইরানে হামলার নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৭৯ সালের আগে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির রাজত্বে ইরান (Iran) মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল। ইজরায়েলের সঙ্গে (US Israel Axis) সাইলেন্ট সম্পর্কও বজায় রাখত তারা। দুই দেশই নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে সহযোগিতা করত, যা ঠান্ডা যুদ্ধের সময় পশ্চিমি শক্তির সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ অবস্থানকে প্রতিফলিত করত।

    ইরানের রাজনৈতিক পরিচয় (Iran)

    রুহোল্লাহ খোমেইনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের পর সেই অবস্থানের আকস্মিক অবসান ঘটে। নয়া শাসনব্যবস্থা ইরানের রাজনৈতিক পরিচয়কে তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর পুনর্নির্ধারণ করে। এগুলি হল,  পশ্চিমি আধিপত্যের বিরোধিতা,  ইজরায়েলের বৈধতা প্রত্যাখ্যান এবং
    শিয়া ইসলামি রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্বভিত্তিক শাসন। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের প্রতি বৈরিতা কেবল বিদেশনীতির পছন্দের বিষয় হয়ে থাকেনি। বরং তা রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানই বৃহত্তম শিয়া-অধ্যুষিত রাষ্ট্র, যেখানে অধিকাংশ আরব দেশ সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ। সুন্নি-শিয়া বিভাজনের সূচনা ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে, মহানবী হজরত মহম্মদের মৃত্যুর পর। প্রথমদিকে বিরোধের কেন্দ্র ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব। সুন্নিরা নবীর ঘনিষ্ঠ সাহাবি আবু বকরকে নেতা নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন। দ্বিতীয়ত, শিয়ারা বিশ্বাস করতেন নেতৃত্ব নবীর পরিবারভুক্ত আলির প্রাপ্য (Iran)।

    ধর্মতাত্ত্বিক পার্থক্যের রূপ

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রাজনৈতিক মতভেদ গভীর ধর্মতাত্ত্বিক পার্থক্যের রূপ নেয় (US Israel Axis)। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৮৫-৯০ শতাংশ মুসলিম সুন্নি এবং ১০-১৫ শতাংশ শিয়া সম্প্রদায়ের। ইরানের জনসংখ্যার প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ শিয়া। এদিকে, সৌদি আরব, মিশর ও জর্ডন-সহ অধিকাংশ আরব দেশেই সুন্নিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। বারো ইমামপন্থী শিয়া ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হল “গায়েব ইমামে”  বিশ্বাস। শিয়ারা মনে করেন দ্বাদশ ইমাম গায়েব হয়েছেন এবং একদিন মাহদি হিসেবে ফিরে আসবেন। এই বিশ্বাস ঐতিহাসিকভাবে একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। সেটি হল, ইমামের অনুপস্থিতিতে শাসন করবেন কে? বহু শতাব্দী ধরে শিয়া আলেমরা সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ থেকে বিরত থেকেছেন। তাঁরা সমাজে নৈতিক ও আইনি দিশারি হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৭৯ সালে এই অবস্থানের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে (Iran)।

    “ইসলামি ফকিহের অভিভাবকত্ব”

    বিপ্লবের পর খোমেইনি “ভেলায়াত-এ ফকিহ” বা “ইসলামি ফকিহের অভিভাবকত্ব” মতবাদ প্রবর্তন করেন। এই ব্যবস্থায় গায়েব ইমামের প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত ইসলামি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন প্রবীণ শিয়া ফকিহ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন। এই ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হয়, সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সর্বোচ্চ নেতা, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের ওপর আলেমদের তত্ত্বাবধান এবং শিয়া ফিকহভিত্তিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো (US Israel Axis)। মুসলিম বিশ্বে এই কাঠামো অনন্য। কোনও সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই আলেমশাসনের এমন সমতুল্য ব্যবস্থা নেই।ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা তার আঞ্চলিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তেহরান নিজেকে শিয়া সম্প্রদায়ের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে শিয়া-ঘনিষ্ঠ আন্দোলনগুলিকে সমর্থন করে। তারা এই নীতিকে অবিচার ও বহিরাগত আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে তুলে ধরে।

    কৌশলগত চ্যালেঞ্জ

    সুন্নি রাজতন্ত্রগুলি, বিশেষত সৌদি আরব, এই সক্রিয়তাকে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। তাদের আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক প্রভাব কমে যাওয়া এবং নিজ নিজ দেশে শিয়া সংখ্যালঘুদের মধ্যে অস্থিরতার সম্ভাবনা (Iran)। একে প্রায়ই সাম্প্রদায়িক সংঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আসলে এটি ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক বৈধতা ও আঞ্চলিক প্রভাবের প্রতিযোগিতার এক জটিল সমন্বয়। ইরানের স্বতন্ত্র পরিচয় আরও একটি মাত্রা যোগ করে। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ রাষ্ট্রের বিপরীতে ইরান আরব নয়, বরং বহন করে পারস্যজাতীয় সংস্কৃতি। তাদের ভাষা ফার্সি এবং তাদের সাম্রাজ্যের ইতিহাস ইসলামেরও পূর্ববর্তী (US Israel Axis)। জাতিগত, ভাষাগত, ঐতিহাসিক স্মৃতি ও ধর্মীয় পার্থক্য তেহরানের স্বাতন্ত্র্যবোধকে জোরদার করে এবং আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও গভীর করে।

    কৌশলগত হিসেব-নিকেশের ফল

    অনেক সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ধর্মীয় কারণে নয়, বরং কৌশলগত হিসেব-নিকেশের ফল (Iran)। সৌদি আরব ১৯৪৫ সাল থেকে “তেলের বিনিময়ে নিরাপত্তা” অংশীদারত্ব বজায় রেখেছে এবং শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সম্পদ-স্বল্প জর্ডন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ১৯৭৮ সালের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির পর মিশর ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলে এবং এখনও উল্লেখযোগ্য সামরিক সহায়তা পায়। এই সরকারগুলি আদর্শগতভাবে ইজরায়েলের সঙ্গে একাত্ম নয়, বরং তারা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং শাসনব্যবস্থার টিকে থাকাকে অগ্রাধিকার দেয় (US Israel Axis)। ধর্মতত্ত্ব ও বৈদেশিক জোটের বাইরে রয়েছে প্রভাব বিস্তারের বৃহত্তর লড়াই। সৌদি আরব নিজেকে সুন্নি ইসলামের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে, আর ইরান নিজেকে পশ্চিমি ও ইজরায়েলি প্রভাববিরোধী প্রতিরোধ অক্ষের সামনে রাখে।

    এই প্রেক্ষাপটে ইরানের বিচ্ছিন্নতা হল বিপ্লবী আদর্শ, শিয়া রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব, পারস্য পরিচয় এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার (Iran) সমন্বিত ফল—যা তাকে অধিকাংশ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র থেকে আলাদা অবস্থানে দাঁড় করিয়ে রেখেছে।

     

LinkedIn
Share