Tag: ISRO

ISRO

  • ISRO: এবার চন্দ্রযান ৫ মিশনের অনুমোদন দিল কেন্দ্র, জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে হবে অভিযান

    ISRO: এবার চন্দ্রযান ৫ মিশনের অনুমোদন দিল কেন্দ্র, জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে হবে অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার মহাকাশে পাড়ি দেবে ইসরোর (ISRO) চন্দ্রযান-৫। ইতিমধ্যে এবিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ছাড়পত্র পেয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)। এমনটাই জানিয়েছেন ইসরো প্রধান ভি নারায়ণন। প্রসঙ্গত, চন্দ্রযান ৩ সফল হওয়ার পরে চন্দ্রযান-৪ অভিযানের জন্য গত বছরেই অনুমোদন করে কেন্দ্র। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মোদি মন্ত্রিসভা চন্দ্রযান ৪ মিশন অনুমোদন করেছিল। এই অভিযানের উদ্দেশ্য হল চাঁদে একটি মহাকাশযান অবতরণ করানো, চাঁদের মাটি এবং পাথরের নমুনা সংগ্রহ করা এবং নিরাপদে তা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। এই মিশনে জন্য খরচ ধরা হয়েছে ২১০৪ কোটি টাকা। চন্দ্রযান ৪ মিশন নিয়ে এখন ইসরোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, ২০২৭ সালেই উৎক্ষেপণ করা হতে পারে চন্দ্রযান ৪। এই আবহে সামনে এল চন্দ্রযান ৫ এর অনুমোদনের খবর। চন্দ্রযান-৫ সম্পর্কে নারায়ণন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মাত্র তিন দিন আগে আমরা চন্দ্রযান-৫ অভিযানের অনুমোদন পেয়েছি (Chandrayaan 5 Mission)। আমরা জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করব।”

    চন্দ্রযান-৫ যে রোভার নিয়ে যাবে তার ওজন হবে ২৫০ কেজি (ISRO)

    প্রসঙ্গত, রবিবারই এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা ঘোষণা করেন ইসরো (ISRO) চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন। তিনি আরও জানিয়েছেন জাপানের সহযোগিতায় এই মিশন পরিচালিত হবে। সম্প্রতি, ইসরো চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ভি নারায়ণন। চন্দ্রযান ৫ মিশন নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, চন্দ্রযান ৩ মিশনে রোভার যন্ত্রটির ওজন ছিল ২৫ কেজি। তবে, চাঁদের পৃষ্ঠদেশে অনুসন্ধানের জন্য চন্দ্রযান ৫ যে রোভারটি নিয়ে যাবে, সেটির ওজন হবে ২৫০ কেজি। বস্তুত, চাঁদের পৃষ্ঠদেশ নিয়ে গবেষণার জন্যই চন্দ্রযান কর্মসূচি শুরু করে ইসরো।

    ২০০৮ সালে পাড়ি দেয় চন্দ্রযান ১, ২০১৯ সালে চন্দ্রযান ২

    চাঁদের দেশে গবেষণা (ISRO) করতে ভারত একাধিক চন্দ্রযান কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রথম মিশন শুরু হয় ২০০৮ সালে। চন্দ্রযান-১, ২০০৮ সালে সফলভাবেই পাড়ি দেয় মহাকাশে। চন্দ্রপৃষ্ঠে রাসায়নিক, খনিজ ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা চালায় চন্দ্রযান ১। ২০১৯ সালে উৎক্ষেপণ করা চন্দ্রযান-২-তে একটি ল্যান্ডার এবং রোভার ছিল, কিন্তু অবতরণের সময় ল্যান্ডারটি বিধ্বস্ত হয়ে মিশনটি (Chandrayaan 5 Mission) শেষ হয়ে যায়। তার পরে ২০১৯ সালে চন্দ্রযান-২ সম্পূর্ণ সাফল্য পায়নি। সেসময় ইসরো প্রধান জানান, লক্ষ্যে সফল না হলেও চন্দ্রযান ২-এর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা থেকে প্রচুর ছবি পাচ্ছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)।

    বিরাট সাফল্য পায় চন্দ্রযান ৩

    পরবর্তীকালে ভারতের মহাকাশ গবেষণা এবং চন্দ্রাভিযানে অন্যতম বড় সাফল্য এসেছে চন্দ্রযান ৩-এর হাত ধরেই। চন্দ্রযান ৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবতরণ করে। উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে গোটা দেশ। চন্দ্রযান ৩-এর ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ যেখানে অবতরণ করে, বিশ্বের অন্য কোনও দেশ সেখানে আজও মহাকাশযান পাঠাতে পারেনি। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৩ অগাস্ট, চাঁদের মাটিতে পা রেখেছিল তৃতীয় চন্দ্রযানের ল্যান্ডার বিক্রম। পাখির পালকের মতো অবতরণ (সফ্‌ট ল্যান্ডিং) করে ওই ল্যান্ডারটি। যা এর আগে কোনও দেশ কখনও করতে পারেনি। তার পেট থেকে বেরিয়ে আসে রোভার প্রজ্ঞান। চাঁদের মাটি-পাথর নমুনা সংগ্রহ করে নিজের মধ্যে থাকা মিনি-গবেষণাগারে পরীক্ষা করে তার ফল পৃথিবীতে পাঠিয়েছিল প্রজ্ঞান। ১৪ দিনের কাজের পর, ল্যান্ডার ও রোভার চির-ঘুমে চলে যায়। এই সাফল্যের পরেই ২০২৪ সালে চন্দ্রযান ৪ এর অনুমোদন দেয় কেন্দ্রের মোদি সরকার। পরবর্তীকালে ২০২৫ সালে চন্দ্রযান ৫ কেন্দ্রের অনুমোদন পেল।

    মহাকাশ অভিযানে ইসরোর (ISRO) অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প

    চন্দ্রযান অভিযানের বাইরেও, ইসরো বেশ কয়েকটি অন্যান্য কর্মসূচিও গ্রহণ করেছে। যা নিয়ে চর্চা চলছে দেশজুড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল গগনযান অভিযান। ভারতের প্রথম মানব মহাকাশযান কর্মসূচি হতে চলেছে এই কর্মসূচি। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল ভারতীয় নভোচারীদের মহাকাশে পাঠানো। এছাড়াও, নারায়ণন ভারতের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন সাংবাদিক সম্মেলনে। যার নাম হবে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন। এই প্রকল্প ভারতের স্বাধীন মহাকাশ গবেষণার সুবিধা তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন ইসরো প্রধান। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইসরো ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে মহাকাশচারী পাঠানোর জন্য কাজ করছে। বর্তমানে, আমেরিকাই একমাত্র দেশ যারা চাঁদে মানুষ পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। জানা গিয়েছে, চিন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভশ্চরদের পাঠানোর জন্যও কাজ করছে।

  • NASA: ইসরোর সাফল্য থেকে এলিয়েন অস্তিত্ব, কী বলছেন নাসার বাঙালি বিজ্ঞানী গৌতম?

    NASA: ইসরোর সাফল্য থেকে এলিয়েন অস্তিত্ব, কী বলছেন নাসার বাঙালি বিজ্ঞানী গৌতম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুনীতা ইউলিয়ামসদের পৃথিবীতে ফেরা, চন্দ্রাভিযানে ইসরো সাফল্য সহ এলিয়নদের অস্তিত্ব নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিলেন নাসার নাসার (NASA) সিনিয়র বিজ্ঞানী গৌতম চট্টোপাধ্যায় (Goutam Chattopadhyay)। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মহাকাশ গবেষণার খুঁটিনাটি নানা দিক নিয়ে আলোচনা করলেন এই বাঙালি বিজ্ঞানী।

    কোন্নগরের নবগ্রাম বিদ্যাপীঠে শুরু পড়াশোনা (NASA)

    ছোট থেকেই মেধাবী গৌতমবাবুর জন্ম কোন্নগরের নবগ্রামে। সেখানেই কেটেছে শৈশব। নবগ্রাম বিদ্যাপীঠে শুরু পড়াশোনা। শিবপুর বিই কলেজে ইলেকট্রনিক্স নিয়ে স্নাতকোত্তর, তারপর বেঙ্গালুরু হয়ে পাড়ি দেন আমেরিকায়। মর্কিন দেশে করেন ডক্টরেট করতে। বিগত ১৪ বছর ধরে তিনি কর্মরত রয়েছেন নাসা’তে (NASA)। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা প্রতিবছর মহাকাশ বিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের বিশেষভাবে সম্মানিত করে থাকে। ২০২৩ সালে তরুণ বিজ্ঞানী হিসেবে নাসার পিপলস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন গৌতমবাবু।

    নাসার (NASA) আসল কাজ বিজ্ঞানের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া

    বিজ্ঞানী গৌতম চট্টোপাধ্যায় একাধিক আবিষ্কার করেছেন বলে জানা যায়। তাঁর মতে, নাসার (NASA) আসল কাজ হচ্ছে বিজ্ঞানের নানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। সংবাদমাধ্যকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘জল ও প্রাণ কোথা থেকে এল। ধুমকেতু কি পৃথিবীতে জল এনেছে ? পৃথিবীতে জল কোথা থেকে এল বা প্রাণের সন্ধান কিভাবে এল? সেটার সন্ধান করলেই মঙ্গল গ্রহ বা অন্যান্য গ্রহে জল বা প্রাণ আছে কি না, সেটার অনেকটা উত্তর পাওয়া যাবে। এই সব খোঁজার জন্যই আমি একটা যন্ত্র তৈরি করেছি, যার নাম হোয়াটস আপ।’’

    মঙ্গল গ্রহে প্রাণ নিয়ে কী বললেন?

    গৌতম বাবু বলেন, ‘‘মঙ্গল গ্রহের ক্ষেত্রে আমরা যেটা করছি, মঙ্গলে কি প্রাণ আছে বা কখনও ছিল সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে। নাসার (NASA) তরফে মঙ্গল গ্রহে একাধিক ছোট-বড় রোভার পাঠানো হয়েছে। তাতে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি লাগানো হচ্ছে। ২০২০ সালে নাসা থেকে রোভার গিয়েছিল। যে জায়গায় রোভারটি ল্যান্ড করেছিল, সেখানে আগে একটি লেক ছিল। যদিও নাসা এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণের সন্ধান পায়নি।’’ এলিয়েন নিয়ে তাঁর মত হল, ‘‘পৃথিবীর বাইরে কোথাও প্রাণের সন্ধান পাওয়া যায়নি তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হয় এলিয়েন আছে, তার সম্ভাবনাও আছে। যদিও তা এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।’’

    প্রসঙ্গ সুনীতা ইউলিয়ামসদের পৃথিবীতে ফেরা

    নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও সুনীতার এখনও পৃথিবীতে ফেরেননি। এই প্রসঙ্গে নাসার (NASA) বিজ্ঞানী গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এখান থেকে একটা ক্যাপসুলে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওখানে যাওয়ার পর একটা সমস্যা সৃষ্টি হয়। ঝুঁকি না-নেওয়ার জন্যই এই বিলম্ব। এখনও পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে ১৯ মার্চ অন্য একটি ক্যাপসুলে করে সুনীতা উইলিয়ামস ও অন্যান্যদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। ওনারা সুস্থভাবেই পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এই ঘটনায় একদিক থেকে সুবিধাই হয়েছে। পরবর্তীকালে যদি মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানো হয়, তাহলে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক কি প্রতিক্রিয়া হবে তা দেখা গেল। কারণ মঙ্গলগ্রহে যেতে আসতে ১৪ মাস সময় লাগে। সুনীতা উইলিয়ামস বা অন্যান্যরা যখনই অভিযানে যান, তাঁরা এই ধরনের ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকেন।’’

    ইসরোর সাফল্য

    বাঙালি বিজ্ঞানীর (Goutam Chattopadhyay) মতে, ‘‘ইসরো যেভাবে সফলতা পেয়েছে খুবই খুশির ব্যাপার। মহাকাশ গবেষণার জন্য বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যেতে হবে। নাসার সঙ্গে ইসরোর কোলাবরেশন আছে। এ বছরই আমরা নিসার মিশনের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছি। কোথাও যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, তারজন্য এই যন্ত্র সাহায্য করবে। ভারতীয় হিসেবে এটা গর্বের ব্যাপার।’’

  • Gautam Adani: ইসরোর সঙ্গে কাজ করবে আদানির সংস্থা! টক্কর দেবে ইলন মাস্কের স্পেস এক্সকে?

    Gautam Adani: ইসরোর সঙ্গে কাজ করবে আদানির সংস্থা! টক্কর দেবে ইলন মাস্কের স্পেস এক্সকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে এখন অনেকটা জায়গা করে নিয়েছে ইলন মাস্কের স্পেস এক্স বা জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের মতো সংস্থা। এবার ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোও গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল বা এসএসএলভি (SSLV) তৈরিতে দুটি সরকারি সংস্থার পাশাপাশি ইসরোকে সাহায্য করবে আদানি গ্রুপের একটি সংস্থাও। এর মধ্য দিয়েই গৌতম আদানি গ্লোবাল স্পেস ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করবেন। এর ফলে আদানি (Gautam Adani) গ্রুপ স্যাটেলাইট লঞ্চ মার্কেটে ইলন মাস্কের স্পেস এক্সের মতো শীর্ষস্থানীয় সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে।

    স্পেস সেক্টরে ভারতীয় বাজার তৈরির চেষ্টা

    ২০২৩ সালে স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের সফল উৎক্ষেপণের পর কেন্দ্রীয় সরকার এই রকেট উৎপাদনের জন্য কোনও বেসরকারি সংস্থাকে এই প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে চেয়েছিল। আর এর পিছনে সরকারের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য ছিল ভারতের স্পেস সেক্টরের বাণিজ্যিকরণ করা। মনে করা হচ্ছে, সরকারের এটা ছিল বেসরকারিকরণের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ। সরকার আশা করেছিল স্পেস সেক্টরের কিছুটা বেসরকারিকরণ হলে ভারতীয় সংস্থাগুলো এই সেক্টরে গোটা বিশ্বের বাজার আরও দ্রুত ধরতে পারবে। আর তাতে আখেরে লাভ হবে আমাদের দেশের অর্থনীতিরই। এই এসএসএলভির উৎপাদনের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য প্রায় ২০টি বেসরকারি সংস্থা আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত এই দায়িত্ব পেয়েছে ৩টি সংস্থার মধ্যে একটি। যার মধ্যে রয়েছে ভারত ডায়নামিক্স ও হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। এছাড়া তৃতীয় সংস্থা হিসাবে এই রকেট উৎপাদনের দায়িত্ব পেয়েছে আলফা ডিজাইন টেকনোলজিস। আর এই সংস্থাতেই অংশীদারিত্ব রয়েছে আদানি গ্রুপের অধীনস্ত সংস্থা আদানি ডিফেন্স সিস্টেমের।

    আদানির কৌশলগত পদক্ষেপ

    আদানি গ্রুপ (Gautam Adani) ভারতীয় স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (SSLV) তৈরির জন্য তিন ফাইনালিস্টের মধ্যে একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। অন্য দুটি প্রতিযোগী হল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ভারত ডাইনামিক্স লিমিটেড (BDL) এবং হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)। যদি আদানি ডিফেন্স সিস্টেমসকে চুক্তি প্রদান করা হয়, তবে তাদের সহযোগী আলফা ডিজাইন টেকনোলজিস এর সাথে মিলে তারা এই পরবর্তী প্রজন্মের লঞ্চ ভেহিকেলগুলি দেশে তৈরি করার দায়িত্ব নেবে। চুক্তি অনুযায়ী নির্বাচিত কোম্পানিকে ইসরোকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে, যার মধ্যে দুটি এসএসএলভি লঞ্চ সফলভাবে সম্পাদনের জন্য ২৪ মাসের চুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যদি এই প্রকল্পে আদানি গ্রুপ সফল হয়, তবে এটি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈচিত্র্য আনবে। আদানি ডিফেন্স সিস্টেমসের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বিশেষ জ্ঞান রয়েছে। এবার এক্ষেত্রে কাজ করলে আদানি গ্রুপ স্যাটেলাইট লঞ্চ মার্কেটে প্রবেশের সুযোগ পাবে। এর ফলে ভারতের গ্লোবাল স্পেস প্লেয়ার হিসেবে অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

    এসএসএলভি কি?

    স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল (SSLV) হলো একটি খরচ সাশ্রয়ী রকেট যা ভারতীয় স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ISRO) দ্বারা তৈরি হয়েছে। এটি ছোট স্যাটেলাইট লঞ্চের জন্য বিশ্বের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে তৈরি। এই এসএসএলভি ৫০০ কেজি বা ১ হাজার ১০০ পাউন্ড পর্যন্ত ভরের স্যাটেলাইটকে লোয়ার আর্থ অর্বিট বা এলইও-তে প্রতিস্থাপন করতে পারে। যোগাযোগ, আবহাওয়া পূর্বাভাস, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি নানা কাজে স্মল স্যাটেলাইটগুলি সাহায্য করে।

    ইলন মাস্ককে চ্যালেঞ্জ

    মহাকাশের দৌড়ে অনেক ক্ষেত্রেই ভারতীয় সংস্থা ইসরো পিছনে ফেলে দিয়েছে আমেরিকান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসাকে। কম খরচে মহাকাশে নিখুঁতভাবে স্যাটেলাইট পাঠানো সংস্থাগুলোর তালিকায় ক্রমাগত উপরের দিকে উঠে এসেছে ইসরো। আর এবার তারা এসএসএলভি (SSLV) বা স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল উৎপাদনের জন্য গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে এখন অনেকটা জায়গা করে নিয়েছে ইলন মাস্কের স্পেস এক্স বা জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের মতো সংস্থা। কিন্তু সেদিক থেকে দেখতে গেলে, ভারতের মহাকাশ গবেষণায় এখনও তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য  বেসরকারি সংস্থার নাম উঠে আসেনি। তবে এবার গৌতম আদানির সংস্থা এসএসএলভি তৈরিতে সাহায্য করলে ভারতেও মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি ছায়া পড়বে। একই সঙ্গে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ককে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথে ধীরে ধীরে পা ফেলতে পারবেন গৌতম আদানি।

  • Mangalyaan 2: মঙ্গলে অবতরণ! মঙ্গলযান ২ ল্যান্ডার মিশনকে অনুমোদন মহাকাশ কমিশনের

    Mangalyaan 2: মঙ্গলে অবতরণ! মঙ্গলযান ২ ল্যান্ডার মিশনকে অনুমোদন মহাকাশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চাঁদের পর এবার মঙ্গল। নতুন মিশনে চোখ ভারতের। মঙ্গল গ্রহে মহাকাশযান অবতরণের জোরদার তৎপরতা চলছে। এই কৃতিত্ব অর্জন করে ফেললে ভারত হবে বিশ্বের চতুর্থ এমন দেশ যারা মঙ্গলে মহাকাশযান পাঠাবে। মার্স ল্যান্ডার মিশন (Mars Lander Mission) আবার মঙ্গলযান-২ (Mangalyaan-2) নামেও পরিচিত। এই মিশনের অনুমোদন দিয়েছে মহাকাশ বিষয়ক কমিশন। এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এই মিশন। মার্স ল্যান্ডার মিশন ভারতের মহাকাশ গবেষণার চেষ্টাকে প্রসারিত করার একটি বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গির অংশ।

    একের পর এক মিশন ইসরোর

    এই উদ্যোগ নেওয়ার পিছনে যা লক্ষ্য রয়েছে তা হল, ভারত ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশে স্পেশ স্টেশন গড়তে চাইছে। ২০৪০-এর মধ্যে প্রথম কোনও ভারতীয়কে চাঁদে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি একাধিক চন্দ্রযান মিশনের লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে ইসরো-র। বহু উচ্চাকাঙ্খা সমৃদ্ধ এইসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভারত নেক্সট জেনারেশন লঞ্চ ভেহিকেল (Next Generation Launch Vehicle)-ও গড়তে উদ্যোগী।

    মঙ্গলযান-২ এর লক্ষ্য

    ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) তাদের মাসিক রিপোর্টে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর মহাকাশ কমিশনের ১৫৪তম সভায় মঙ্গল ল্যান্ডার মিশন (MLM) অনুমোদন পেয়েছে। এই মিশনের লক্ষ্য হলো মঙ্গলের পৃষ্ঠে একটি ভারতীয় মহাকাশযান অবতরণ করা, যা আগে শুধুমাত্র তিনটি দেশ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। মঙ্গলযান ২, যা মঙ্গল অরবিটার মিশন (MOM)-এর পরবর্তী ধাপ, মঙ্গলে ভারতের দ্বিতীয় অভিযান। মিশনের অংশ হিসেবে, ইসরো একটি স্কাই ক্রেনের মাধ্যমে রেট্রোথ্রাস্টার ব্যবহার করে মঙ্গল পৃষ্ঠে ল্যান্ডারটি হাল্কাভাবে নামানোর পরিকল্পনা করেছে।

    একসময় মঙ্গলে জল ছিল!

    বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, একসময় মঙ্গলে জল ছিল। এর পৃষ্ঠে তরল প্রবাহিত হয়েছে। এর ফলে প্রাচীন জীবনের কোনো চিহ্ন মঙ্গল মাটিতে থাকতে পারে। ইসরো এই মিশনের (Mangalyaan 2) মাধ্যমে তাই খুঁজে বের করার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, ইসরো এই অভিযানের জন্য, একটি ছোট ফ্লাইং ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনাও করেছে (ISRO), যা মঙ্গলের পাতলা বায়ুমণ্ডলে কাজ করতে সক্ষম হবে। ড্রোনের পাখা এবং রোটরকে পৃথিবীর তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে ঘুরতে হবে, যাতে তা প্রয়োজনীয় উত্তোলন শক্তি সৃষ্টি করতে পারে।

  • ISRO Chairman: গগনযান মিশন নিয়ে কী বললেন ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন?

    ISRO Chairman: গগনযান মিশন নিয়ে কী বললেন ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO Chairman) আগামী এক দশকের জন্য অনেক বড় বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই অভিযানগুলি মহাকাশ গবেষণায় পৃথিবীর মানচিত্রে ভারতের অবস্থান আরও উল্লেখযোগ্য করে তুলবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। এর মধ্যে রয়েছে নতুন একটি প্রোপালসন সিস্টেম, শুক্রগ্রহে অভিযান, মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে উপগ্রহ পাঠানো, চন্দ্রযান-৪, চন্দ্রযান-৫ ও গগনযান কর্মসূচি। ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন (V Narayanan) এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একথা জানিয়েছেন।

    কী বললেন ইসরোর চেয়ারম্যান (ISRO Chairman)?

    ওই সাক্ষাৎকারে ইসরো চেয়ারম্যান (ISRO Chairman) গগনজান মিশন সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন এবং এই অভিযানে চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেন। প্রসঙ্গত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই জানিয়েছিলেন যে গগনযান অভিযান ২০২৬ সালে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথমে মানববিহীন যান পাঠানো হবে মহাকাশে। ইসরো চেয়ারম্যান সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন প্রথমে মোট তিনটি মানববিহীন পরীক্ষামূলক যান পাঠানো হবে। ২০২৫ সালে শ্রী হরিকোটা থেকে প্রথম মানববিহীন যানটি পাঠানোর কথা রয়েছে। ইসরোর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন যে প্রথমে ওই যানটি মহাকাশচারীদের ১৭০ কিলোমিটার ওপরে এবং তারপরে ৪০০ কিলোমিটার কক্ষপথের রেখে নিরাপদে ফের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে।

    নিসার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ (ISRO Chairman)

    জানা গিয়েছে, ভারত-আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে নিসার (NISAR) স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করার কথা রয়েছে চলতি বছরের মার্চ মাসে। এটি প্রতি ১২ দিনে প্রায় সমস্ত ভূমি ও বরফ স্ক্যান করবে। পাঠাবে হাই রেজোলিউশনের ছবি। এলভিএম৩-এম৫ মিশন রূপায়ণ হবে প্রথম ত্রৈমাসিকে। এই মিশনটি একটি আন্তর্জাতিক গ্রাহকের জন্য স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবে। এটি মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা প্রদর্শন করবে। এর পর রয়েছে গগনযান মানব মিশন। তবে এই অভিযানের নির্দিষ্ট কোনও তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে ব্যোমমিত্র মিশনের সাফল্য প্রশস্ত করবে ভারতের প্রথম মানব মহাকাশযাত্রার পথ।

  • Chandrayaan 4: চাঁদ থেকে পাথর, মাটি সংগ্রহ করে ফিরবে পৃথিবীতে, কবে পাড়ি দিচ্ছে ‘চন্দ্রযান ৪’?

    Chandrayaan 4: চাঁদ থেকে পাথর, মাটি সংগ্রহ করে ফিরবে পৃথিবীতে, কবে পাড়ি দিচ্ছে ‘চন্দ্রযান ৪’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৭ সালে চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেবে ‘চন্দ্রযান ৪’ (Chandrayaan 4)। ওই অভিযানে চাঁদের পাথর, মাটির নমুনা নিয়ে ফের পৃথিবীতে ফিরে আসবে মহাকাশযানটি। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh)। একইসঙ্গে, ‘গগনযান’ (Gaganyaan Mission) ও ‘সমুদ্রযান’ (Samudrayaan Mission) মিশনের সময়ও ঘোষণা করেন তিনি। ফলে, আগামী তিন বছর ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সময় আসতে চলেছে (ISRO Future Projects)।

    চাঁদের পাথর-মাটি নমুনা সংগ্রহ

    জিতেন্দ্র জানান, চন্দ্রযান ৪ (Chandrayaan 4) অভিযানে প্রথমবার ব্যবহার করা একটি নয়, দুটি হভি লিফ্ট এলভিএম ৩ রকেট (LVM3 Rocket)। দুই ভারী রকেটে করে পাঠানো হবে এই মিশনের জন্য প্রয়োজন পাঁচটি বিভিন্ন অংশকে। সেগুলি দুটি ভাগে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে সেখানে জুড়বে। চন্দ্রযান ৪ (Chandrayaan 4) মিশনের লক্ষ্য হল চাঁদের থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ফিরে আসা। অন্যদিকে, গগনযান অভিযান সম্পর্কে বলতে গিয়ে জিতেন্দ্র জানান, আগামী বছর মহাকাশে পাড়ি দেবে গগনযান। ওই মিশনে পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে চার ভারতীয় মহাকাশচারীকে পাঠানো হবে। শুধু মহাকাশ নয়, সমুদ্রের গভীরেও বিশেষ অভিযান চালাবে ইসরো। সেটাও আগামী বছরেই। জিতেন্দ্র জানান, মিশন সমুদ্রযান-এর মাধ্যমে তিনজন বিজ্ঞানী বিশেষভাবে নির্মিত সাবমার্সিবল (ডুবো) ভেসেলে চেপে সমুদ্রের ৬ হাজার মিটার গভীরে গিয়ে গবেষণা চালাবেন। সিং বলেন, ‘‘বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষতার লক্ষ্যে দেশের এই অগ্রগতি বাকি বিশ্বের সঙ্গে ভারতকে একাসনে বসাবে।’’

    সমুদ্রযান অভিযানের গুরুত্ব অপরিসীম

    গত বছরের স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় সমুদ্রযানের কথা উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। এদিন জিতেন্দ্র জানান, সমুদ্রযান অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হল সমুদ্রতলের মূল্যবান সম্পদ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের উন্মোচন করা যা আখেরে ভারতের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত লক্ষ্যপূরণের জন্য অপরিহার্য। গগনযান মিশন নিয়ে বলতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, চলতি বছর এই অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে দেশে তৈরি হিউম্যানয়েড রোবট ‘বিয়োমিত্র’-কে মহাকাশে পাঠানো হবে এবং আবার ফিরিয়ে আনা হবে। এর পর, সামনের বছর মানব-অভিযান সম্পন্ন করা হবে (ISRO Future Projects)।

    মোদি জমানায় মহাকাশ সেক্টরে বিপুল উন্নতি

    জিতেন্দ্র সিংয়ের মতে, মোদি জমানায় গত এক দশকে মহাকাশ সেক্টরে (India Space Sector) প্রভূত পরিমাণ উন্নতি করেছে ভারত। পরিকাঠামোগত হোক বা বিনিয়োগ এই ক্ষেত্রে ভারত ব্যাপকহারে অগ্রসর হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ইসরো (ISRO) গঠন হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। এর দুদশক পার করার পর ১৯৯৩ সালে দেশে প্রথম লঞ্চপ্যাড (রকেট উৎক্ষেপণের প্ল্যাটফর্ম) গড়ে তোলে ভারত। দ্বিতীয় লঞ্চপ্যাড নির্মাণ হয় ২০০৪ সালে। তিনি বলেন, ‘‘এখন ভারী রকেট উৎক্ষেপণের জন্য আমরা প্রথমবার তৃতীয় লঞ্চপ্যাড নির্মাণ করছি। পাশাপাশি, শ্রীহরিকোটার চাপ কমাতে এবং ছোট রকেট উৎক্ষেপণের জন্য তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনে নতুন উৎক্ষেপণকেন্দ্র গড়ে তুলছি।’’

    দেশের মহাকাশ ক্ষেত্রে বিনিয়োগর জোয়ার

    বর্তমানে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির মূল্য প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই গতিতে চললে, আগামী এক দশকে তা ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। আর তেমনটা হলে, মহাকাশ-শক্তিধর হিসেবে বিশ্বের হাতে গোনা দেশগুলির সঙ্গে একই সরণিতে চলে আসবে ভারত। এটা সম্ভব হয়েছে কারণ, মোদি জমানায়, এই মহাকাশ বিজ্ঞান ক্ষেত্রে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে বহু বেসরকারি সংস্থাও। যার ফলে, এখন ভারতের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের জোয়ার চোখে পড়ছে (ISRO Future Projects)।

  • Shubhanshu Shukla: রাকেশ শর্মার পর প্রথম ভারতীয়, নাসার হাত ধরে মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন শুভাংশু

    Shubhanshu Shukla: রাকেশ শর্মার পর প্রথম ভারতীয়, নাসার হাত ধরে মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন শুভাংশু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে যেতে চলেছেন শুভাংশু শুক্ল। ১৯৮৪-তে রাকেশ শর্মার পর এবার মহাকাশে পাড়ি জমাবে কোনও ভারতীয়। নাসার মহাকাশ অভিযানে যাবেন উইং কমান্ডার শুভাংশু। নাসার অ্যাক্সিয়ম মিশন ৪ অভিযানে অংশ নিতে চলেছেন তিনি। এটি একটি বেসরকারি মহাকাশ অভিযান, যা স্পেসএক্স ড্রাগন মহাকাশযানের সঙ্গে যুক্ত। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ হবে।

    ইতিহাসের দরজায় ভারত

    দেখতে দেখতে ৪০ টা বছর পার হয়ে গেল। ভারতের মুকুটে পালক লাগল আবার। ভারতের গগনযান অভিযানের জন্য ইসরো ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশুকে মহাকাশচারী হিসেবে বেছে নিয়েছিল। এই মিশনের জন্য ইসরো, নাসা এবং অ্যাক্সিওম স্পেস একসঙ্গে কাজ করছে। নাসার অ্যাক্সিয়ম মিশন ৪ অভিযানে পাইলটের ভূমিকায় কাজ করবেন শুভাংশু শুক্ল। সঙ্গে থাকবেন আরও তিনজন মহাকাশচারী। অভিজ্ঞ মার্কিন মহাকাশচারী ও মিশন কমান্ডার পেগি হুইটসন, পোল্যান্ডের স্লাওসুজ উজনানস্কি-উইসনিয়েভস্কি এবং হাঙ্গেরির টিবর কাপু।

    শুভাংশুর সফর

    শুভাংশু শুক্লর জন্ম ১৯৮৫ সালের ১০ অক্টোবর। উত্তরপ্রদেশের লখনউতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পাইলট হিসেবে শুভাংশু মোট ২০০০ ঘণ্টা আকাশে থেকেছেন। ২০০৬ সালে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার অফিসার হিসেবে কমিশন পান। তিনি যুদ্ধবিমানের টেস্ট পাইলট এবং কমব্যাট লিডার। সুখোই-৩০, মিগ ২১, মগ ২৯, জাগুয়ার, হক, ডর্নিয়ার সহ বিভিন্ন ধরনের বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা আছে তাঁর।

    ইসোরোর ঘোষণা

    এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর আমেরিকা সফরকালে ঘোষণা করেছিলেন এই অভিযানের কথা। মোদি বলেছিলেন, ভারতের একজন মহাকাশচারী খুব শীঘ্রই আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে যাবেন। সেই ঘোষণাই অবশেষে বাস্তবায়িত হতে চলেছে বলে জানিয়েছে ইসরো। তারা একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, আমেরিকার একটি বেসরকারি সংস্থা অ্যাক্সিয়ম স্পেস ইনকর্পোরেশনের সঙ্গে এ ব্যাপারে চুক্তি হয়েছিল তাদের। সেই চুক্তি অনুযায়ীই দু’জন ‘গগনযাত্রী’কে বেছে নিয়েছে ন্যাশনাল মিশন অ্যাসাইনমেন্ট বোর্ড। মূল মহাকাশচারী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে গ্রুপ ক্যাপটেন শুভাংশুকে। তাঁর বিকল্প হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে গ্রুপ ক্যাপটেন প্রশান্ত বালাকৃষ্ণন নায়ারকে। শীঘ্রই এই অভিযানের জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করবেন দু’জনে। তাঁরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দেবেন স্পেসএক্সের রকেটে।

  • ISRO 100th Mission: মহাকাশে ক্রমশ ডানা মেলছে ভারতের ‘নাবিক’, জিপিএস-এর বিকল্প হাতের মুঠোয়?

    ISRO 100th Mission: মহাকাশে ক্রমশ ডানা মেলছে ভারতের ‘নাবিক’, জিপিএস-এর বিকল্প হাতের মুঠোয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শীঘ্রই অতীত হতে চলেছে এদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস-এর ব্যবহার? নির্ভুল দেশীয় নেভিগেশন সিস্টেম (NavIC Navigation System) কি হাতের মুঠোয় করে ফেলল নরেন্দ্র মোদির ভারত? প্রশ্নটা উঠছে, কারণ বুধবার এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। শততম উৎক্ষেপণে (ISRO 100th Mission) সফলভাবে মহাকাশে পৃথিবীর নির্দিষ্ট কক্ষপথে প্রতিস্থাপন করল এনভিএস-০২ উপগ্রহকে। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে ভোর ৬টা ২৩ মিনিটে স্যাটেলাইটকে নিয়ে মহাকাশে পাড়ি দেয় জিওসিনক্রোনাস লঞ্চ ভেহিকল (জিএসএলভি-এফ১৫) রকেট। কিছুক্ষণ পরই, নির্দিষ্ট কক্ষপথে উপগ্রহটিকে প্রতিস্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়।

    মহাকাশ প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভর ভারত (ISRO 100th Mission)

    জিএসএলভি-এফ১৫ হল ভারতের নিজস্ব জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের ১৭তম উৎক্ষেপণ এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্রায়োজেনিক স্টেজ (ইঞ্জিন) ব্যবহৃত একাদশতম অভিযান। এদিনের সফল অভিযানের (ISRO 100th Mission) মাধ্যমে অত্যাধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার জায়গা ফের একবার মজবুত করল ভারত। সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে এবারের উৎক্ষেপণে ৩.৪ ব্যাসের ধাতব বস্তু দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল রকেটের পেলোড ফেয়ারিং (রকেটের মাথায় রাখা স্যাটেলাইটের রক্ষাত্মক বর্ম)।

    ইসরো জানিয়েছে, এনভিএস-০২ উপগ্রহ ভারতের নেভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় (NavIC Navigation System) সহায়তা প্রদান করবে। এতে রয়েছে দেশে তৈরি এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা অ্যাটমিক ঘড়ির কম্বিনেশন, যার মাধ্যমে নির্ভুল সময় (গন্তব্যে পৌঁছনোর) উপলব্ধ হবে। এনভিএস-০২ উপগ্রহটি হল ভারতে তৈরি দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন সিরিজের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট। ২০২৩ সালের মে মাসে এই সিরিজের প্রথম উপগ্রহ এনভিএস-০১ উৎক্ষেপিত হয়েছিল।

    এনভিএস-০২ স্যাটেলাইট আদতে ঠিক কী?

    দীর্ঘদিন ধরেই ভারত মার্কিন নেভিগেশন সিস্টেম জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম)-এর মতো নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম তৈরি (NavIC Navigation System) করার কাজ করছে। ভারতের এই স্বাধীন আঞ্চলিক সিস্টেমের নাম— ইন্ডিয়ান নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টিলেশন (সংক্ষেপে ‘নাবিক’)। ইসরো নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম উপগ্রহ ছিল এনভিএস-০১। এদিন এই সিরিজের দ্বিতীয় উপগ্রহ উৎক্ষেপণ (ISRO 100th Mission) হল। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, ‘নাবিক’ সিস্টেমে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার যে উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, তার সক্ষমতা, নির্ভুলতা, পারফরম্যান্সের ধার ও ভার পূর্বসুরীর তুলনায় ঢের বেশি।

    জিপিএস-এর শক্তিশালী বিকল্প হয়ে উঠছে ‘নাবিক’

    নিজস্ব উপগ্রহ-ভিত্তিক নেভিগেশন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ভারত যে কতটা বদ্ধপরিকর তার প্রমাণ এদিনের এনভিএস-০২ অভিযান। আরও বেশি নিখুঁত, আরও বেশি নির্ভরযোগ্যতা এবং ক্ষমতাবৃদ্ধি— এই তিনের মিশেল রয়েছে নতুন স্যাটেলাইটে। এর ফলে, কৃষি থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা— সর্বত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ‘নাবিক’ (NavIC Navigation System)। এদিনের সফল উৎক্ষেপণের (ISRO 100th Mission) ফলে একদিকে ভারতের প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা আরও প্রতিষ্ঠিত হল। একইভাবে, মহাকাশ প্রযুক্তিতে বিশ্বের দরবারে ভারতের ক্ষমতাও এক কদম এগলো।

  • ISRO: নতুন বছরেই সেঞ্চুরি ইসরোর! শততম উৎক্ষেপণে সাফল্য, মহাকাশে পৌঁছে দিল ‘নাবিক’-কে

    ISRO: নতুন বছরেই সেঞ্চুরি ইসরোর! শততম উৎক্ষেপণে সাফল্য, মহাকাশে পৌঁছে দিল ‘নাবিক’-কে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরেই ফের সাফল্যের মুকুট ইসরোর। শততম মিশনেও সাফল্য পেল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ভোর ৬টা ২৩ মিনিটে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় জিএসএলভি-এফ১৫ রকেটকে। ইসরোর নতুন চেয়ারম্যান ভি নারায়ণের নেতৃত্বে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস রিসার্চ সেন্টার থেকে এই রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। এটাই ২০২৫ সালে ইসরোর প্রথম মিশন। এদিন দেশীয় ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ত্রিস্তরীয় রকেট জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (জিএসএলভি)-এফ-১৫ কক্ষপথে স্থাপন করল এনভিএস-০২ উপগ্রহকে। প্রসঙ্গত, এই উপগ্রহ হল, ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম ‘নাবিক’-এর অন্তর্ভুক্ত দ্বিতীয় প্রজন্মের দ্বিতীয় উপগ্রহ।

    ৪৬ বছর পর শততম উৎক্ষেপণ

    শ্রীহরিকোটা থেকে ইসরো প্রথম স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল উৎক্ষেপণ করা হয় ১৯৭৯ সালের ১০ অগাস্ট। স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল ৩-তে (এসএলভি-৩ ই-১০) চাপিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে রোহিণী  পে-লোডের উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। সেইসময় ভারতীয় মহাকাশ সংস্থায় ছিলেন এপিজে আবদুল কালাম। তিনি ওই মিশনের অধিকর্তা ছিলেন। প্রায় ৪৬ বছর পর শততম উৎক্ষেপণ করল ইসরো। ইসরো এই রকেটকে ‘নটি বয়’ নাম দিয়েছে। কারণ বারংবার উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হয়েছে এই রকেট। ১৬টি লঞ্চের মধ্যে মাত্র ১০ লঞ্চ বা উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে, বাকি সবই ব্যর্থ হয়েছে। ৩৭ শতাংশ ব্যর্থতার হার নিয়ে এবার ১০০ তম মিশনে ফুল মার্কস পেল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। উল্লেখ্য, শততম উৎক্ষেপণের নজির গড়ার আগে মঙ্গলবার চেয়ারম্যান ভি নায়ায়ণন-সহ সংস্থার শীর্ষকর্তারা পুজো দিতে যান অন্ধ্রের তিরুপতির বিশ্বখ্যাত তিরুমালা বেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে। তারপরেই ‘নটি বয়’ সাফল্য পেল।

    কী করবে জিএসএলভি এফ ১৫

    এদিন এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণের পরে ইসরোর তরফে বলা হয়েছে, ‘লিফট-অফ! এনভিএস ০২-কে নিয়ে সাফল্যের সঙ্গে উৎক্ষেপণ করেছে জিএসএলভি-১৫।’ ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, জিএসএলভি-এফ১৫ এনভিএস-০২ স্যাটেলাইটকে জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে পৌঁছে দেয়। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইসরোর এই সাফল্যকে কুর্নিশ করেছেন। তাঁর কথায়, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ক্রমশ উন্নতির পথে চলছে। দেশের মুকুটে যুক্ত হচ্ছে এক-একটি পালক।

  • ISRO: বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে মহাকাশে দুই উপগ্রহকে জুড়ল ভারত, ইসরোকে অভিনন্দন মোদির

    ISRO: বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে মহাকাশে দুই উপগ্রহকে জুড়ল ভারত, ইসরোকে অভিনন্দন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ গবেষণায় ইসরোর (ISRO) মুকুটে জুড়ল নয়া পালক। মহাকাশে দুই কৃত্রিম উপগ্রহকে সংযুক্ত (ডকিং) করে ইতিহাস রচনা করল দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। রাশিয়া, আমেরিকা এবং চিনের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে এই সাফল্য অর্জন করল ভারত। চতুর্থবারের প্রয়াসে এমন সাফল্য পেল ভারত। বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, সকাল ১০টা নাগাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশের এমন সাফল্যের ঘোষণা করে ইসরো। এরপরেই এক্স মাধ্যমে ইসরোকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    সমাজমাধ্যমে কী লিখল ইসরো (ISRO)?

    সমাজমাধ্যমে লেখা হয়, ‘‘দুই কৃত্রিম উপগ্রহকে সংযুক্ত করার কাজ সফল। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৫ থেকে তিন মিটার দূরত্বে এনে শুরু হয় প্রক্রিয়া। নির্ভুল পদ্ধতিতে সংযুক্ত করার কাজ সফল হয়। সবকিছু মসৃণভাবেই মিটেছে। সবকিছু স্থিতিশীল।’’

    শুভেচ্ছা জানালেন মোদি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ইসরোর এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত এবং তিনি এক্স মাধ্যমে পোস্ট করেছেন এবিষয়ে। নিজের এক্স মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘ইসরোর সমস্ত বিজ্ঞানীদের জানাই অভিনন্দন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সাফল্য। দেশের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলস্টোন।’’

    শুভেচ্ছা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    ইসরোর এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং-ও। নিজের এক্স মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লেখেন, ‘‘ডকিং সম্পূর্ণ হল। ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণার অনেক দিক খুলে গেল।’’

    কেন এই ডকিং পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ?

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর কৃত্রিম উপগ্রহ সংযুক্তিকরণ অভিযানের সূচনা ঘটে। এই অভিযানে দু’টি কৃত্রিম উপগ্রহকে মহাকাশে পাঠায় ইসরো (ISRO)। একটি হল, ‘SDX01 (Chaser)’ এবং অপরটি হল ‘SDX02 (Target)’. ইসরো সূত্রে তখনই জানা যায়, প্রতিটি কৃত্রিম উপগ্রহের ওজন ২২০ কেজি করে। পিএসএলভি-সি৬০ রকেটে চাপিয়ে সেগুলিকে উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রসঙ্গত, এই অভিযানের মাধ্যমে অনেক কিছুরই দরজা খুলে গেল মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ইসরোর পরবর্তী চন্দ্রযান অভিযান বা গগনযান অভিযান অথবা ভারতের নিজস্ব স্পেস স্টেশন নির্মাণের সময় এই পদ্ধতি কাজে আসবে। এই ডকিং প্রক্রিয়া ছিল তারই ট্রায়াল। চন্দ্রযান ৪ অভিযানে চাঁদের মাটি পৃথিবীতে নিয়ে আসা, চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানো, মহাকাশচারীদের জন্য রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই অভিযান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    দেশীয় প্রযুক্তিকেই কাজে লাগানো হয়

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দুটি কৃত্রিম উপগ্রহকে মহাকাশে সংযুক্তিকরণ করার কাজ মোটেও সহজ নয়। জানা গিয়েছে, এই অভিযানকে সফল করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতীয় ডকিং সিস্টেমকেই ব্যবহার করে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। গত ১২ ডিসেম্বর ৩ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত কাছাকাছি হয় দুই উপগ্রহ, এরপরে পিছু হটে তারা। খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও, দুই কৃত্রিম উপগ্রহকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর গত ৭ এবং ৯ জানুয়ারি ইসরোর তরফ থেকে দু’বার ডকিংয়ের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সম্ভব হয়নি ডকিং। আজ ১৬ জানুয়ারি সেই কাজেই মিলল সাফল্য।

    মহাকাশ গবেষণায় প্রথম সারিতেই ভারত

    মহাকাশ বিজয়ের লক্ষ্যে এই মুহূর্তে সক্রিয় হয়ে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। ভারতও মহাকাশ গবেষণায় (ISRO) একেবারে প্রথম সারিতেই চলে এসেছে। জোর কদমে চলছে মহাকাশ গবেষণা। সৃষ্টিতত্ত্বের বিশ্লেষণ, মহাজাগতিক সম্পদকে পৃথিবীর কাজে লাগানোর প্রয়াস চলছেই। বিপদে পড়লে দুই মহাকাশযান যাতে সংযুক্ত হতে পারে, প্রয়োজনীয় রসদ যাতে আদান প্রদান করতে পারে, সেক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল এই ডকিং বা সংযুক্ত প্রক্রিয়া।

    প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা এন সুরেন্দ্রণ কী বললেন সংবাদমাধ্যমকে?

    ডকিং প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন ডিরেক্টর এন সুরেন্দ্রণ। মহাকাশে দুই উপগ্রহের সংযুক্তিকরণ সফল হতে, তাঁর বিবৃতিও সামনে আসে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, আজকের এই সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে মহাকাশে স্পেস স্টেশন গড়তে এবং চন্দ্রযান ৪ মিশনের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী হতে চলেছে এই ডকিং পদ্ধতি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share