Tag: Italy

Italy

  • Europe Crisis: ইউরোপের পাঁচ দেশে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ

    Europe Crisis: ইউরোপের পাঁচ দেশে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, আবাসন সংকট, শিক্ষা খাতে সমস্যা এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির অভিযোগে উত্তাল ইউরোপের (Europe Crisis) একাধিক দেশ। গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্স, আলবেনিয়া, ইতালি, পর্তুগাল ও বেলজিয়ামে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক দেশে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ করতে হয়েছে। কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দু’পক্ষেরই অনেকে, কোথাও আবার গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনজীবনের নানা সমস্যা নিয়ে ক্ষোভের পাশাপাশি রাজনৈতিক মেরুকরণও তীব্র হয়েছে। বামপন্থী দল, শ্রমিক সংগঠন ও ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন দেশে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে বিক্ষোভের কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রতিটি দেশে আলাদা।

    ফ্রান্স: বিক্ষোভের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক ভবন

    ইউরোপের চলতি অস্থিরতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতির খবর মিলেছে ফ্রান্স থেকে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষক সংকট, স্কুলের পরিকাঠামোর দুরবস্থা, বৈষম্য এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ থেকে পথে নামেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও শ্রমিক সংগঠন CGT-র হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৮ লক্ষের মধ্যে।

    অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলের পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে একদল বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দোকানপাটে লুটপাট, গাড়ি ও ভবনে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে। লিমোজ শহরের ১৪০ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহাসিক টাউন হল আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্সেইয়ের টাউন হলে ভাঙচুরের পাশাপাশি লিয়ঁর একটি পর্যটন দফতরেও অগ্নিসংযোগের খবর সামনে এসেছে।

    প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিল, তুলুজ-সহ একাধিক শহরে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি। সুপারমার্কেট, ফার্মেসি, পোশাকের দোকান এবং বৈদ্যুতিন পণ্যের বিপণিও হামলার লক্ষ্য হয়। প্যারিসে মুখোশধারী কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ক্যামেরা বিচ্ছিন্ন করে দোকানের কাচ ভেঙে ভিতরে ঢোকার অভিযোগ উঠেছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সাঁ-এতিয়েন শহরে জনতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে ১৭ বছরের এক কিশোরের ডান হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকী হাতটি হারানোরও খবর পাওয়া গিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর দাবি, চরম বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীরা হিংসা ছড়ানোর জন্য দায়ী। তাঁর বক্তব্য, রাস্তায় হিংসার মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেদনে তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রায় ১,২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৫০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁও সরকারি সম্পত্তি ও জনসাধারণের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    এদিকে, ফ্রান্সের রাজনীতিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। জাতীয়তাবাদী নেত্রী মারিন ল্য পেন বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁর আন্দোলনের বিরুদ্ধে হিংসাকে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, মেলঁশোঁ বিক্ষোভকারীদের লুটপাট থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্সের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলিও ‘ইয়েলো অ্যান্ড ইয়ুথ’ ব্যানারে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি।

    বিক্ষোভের সঙ্গে প্যালেস্তাইনপন্থী আন্দোলন, অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং বামপন্থী রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও বিতর্ক বেড়েছে। তবে এসব রাজনৈতিক যোগসূত্র ও অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

    আলবেনিয়া: টানা পাঁচ দিন বিক্ষোভ, আহত বহু

    ফ্রান্সের পাশাপাশি আলবেনিয়াতেও সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে টানা পাঁচ দিন ধরে বিক্ষোভ চলেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে ক্ষোভের জেরে উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও আন্দোলনে যোগ দেন।

    বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, পেট্রলবোমা, মলোটভ ককটেল ও আতশবাজি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে। কয়েকটি গাড়ি ও আবর্জনার পাত্রে আগুন লাগানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট, ব্যাঙ্ক এবং ডাকঘরও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে বলে দাবি।

    আলবেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন পুলিশকর্মী এবং ১৭ জন বিক্ষোভকারী। পুলিশ প্রধান স্কেন্দের হিতার বক্তব্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে ১৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৩৮৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাঁচ দিনে ১৩২ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাত পুলিশকর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    এই আন্দোলনের পিছনে রয়েছে আরও কিছু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ। আলবেনিয়ার দক্ষিণ উপকূলে একটি বিলাসবহুল পর্যটন প্রকল্পকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধিতা চলছে। প্রকল্পটির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রতিষ্ঠিত একটি বিনিয়োগ সংস্থার যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী রামা পদত্যাগের দাবি নাকচ করে বিরোধী রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে সংঘর্ষে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। দুরেস শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ডাকঘরের জানলা ভাঙচুর এবং জ্বলন্ত ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা অবরোধের খবর পাওয়া গিয়েছে।

    ইতালি: মিলান ও বোলোনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

    ইতালিতেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। মিলান ও বোলোনিয়ায় বিক্ষোভ চলাকালীন সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং তরুণদের জন্য উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগের দাবি তোলেন।

    পর্তুগাল: আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়ার প্রতিবাদে মিছিল

    পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও আবাসনের ক্রমবর্ধমান খরচ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে পথে নামেন কয়েক হাজার মানুষ। দেশের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন CGTP-র ডাকে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, মজুরি ও পেনশন বাড়াতে হবে এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতি এবং সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আবাসন আন্দোলনের কর্মীরা। বামপন্থী দল ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এই অসন্তোষকে কেন্দ্র করে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পর্তুগালের বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র ছিল আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়। অন্যান্য দেশের মতো একই ধরনের হিংসাত্মক পরিস্থিতি সর্বত্র তৈরি হয়েছিল, এমন দাবি করার মতো তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

    বেলজিয়াম: শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ছাত্র বিক্ষোভ

    বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসেও ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। কয়েকশো তরুণ-তরুণী শিক্ষার খরচ বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে—এমন সংস্কারের আশঙ্কায় প্রতিবাদে অংশ নেন। কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একটি গাড়ি উল্টে দেওয়ার ঘটনার পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। লিয়ঁজ শহরেও শিক্ষা খরচ এবং পড়াশোনার প্রয়োজনীয় উপকরণের নাগাল নিয়ে ছাত্র বিক্ষোভ হয়। প্রতিবেশী ফ্রান্সের আন্দোলন বেলজিয়ামের প্রতিবাদকে কিছুটা প্রভাবিত করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক ক্ষোভ, রাজনৈতিক মেরুকরণ

    ফ্রান্স থেকে আলবেনিয়া, ইতালি, পর্তুগাল ও বেলজিয়াম—পাঁচটি দেশের বিক্ষোভের পিছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, আবাসন, শিক্ষা এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ। কোথাও আন্দোলন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, কোথাও আবার ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠন নিজেদের নির্দিষ্ট দাবিতে পথে নেমেছে। বিভিন্ন দেশে বামপন্থী দল ও সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও, সব দেশের অস্থিরতাকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক পরিকল্পনার ফল হিসেবে দেখার আগে পৃথকভাবে ঘটনাগুলি যাচাই করা জরুরি। একইভাবে, ফ্রান্সে বামপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে কথিত যোগসূত্র নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তারও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ইউরোপের এই ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়ে দিচ্ছে—অর্থনৈতিক চাপ ও জনপরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দ্রুত উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

  • Giorgia Meloni: ইতালির স্কুলে বোরখা-নিকাব নিষিদ্ধের প্রস্তাব, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ও সীমা চান মেলোনি

    Giorgia Meloni: ইতালির স্কুলে বোরখা-নিকাব নিষিদ্ধের প্রস্তাব, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ও সীমা চান মেলোনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতালির স্কুলগুলিতে বোরখা ও নিকাব (Burqa Niqab Ban) পরা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় (Giorgia Meloni) নাগরিকত্ব নেই—এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যারও একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর রোমে নিজের দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’-র যুব সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই পরিকল্পনার কথা জানান মেলোনি। তিনি বলেন, শিগগিরই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেশ করা হবে।

    স্কুলে বোরখা-নিকাব নিষিদ্ধের প্রস্তাব

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় স্কুলে মুখ ঢেকে রাখা পোশাক, বিশেষ করে বোরখা ও নিকাব পরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। বোরখা এমন একটি পোশাক, যাতে শরীর ও মুখ সম্পূর্ণ ঢাকা থাকে। অন্যদিকে নিকাবে মুখ ঢাকা থাকে, তবে চোখ দেখা যায়।

    মেলোনি বলেন, ইতালিতে কোনও ব্যক্তি “বাস্তব বা কথিত কোনও ঐতিহ্যের নামে” কোনও তরুণীকে নিজের মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করতে পারবেন না। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা ইতালিতে এসে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাঁদের ইতালীয় ভাষা শিখতে হবে, দেশের সংস্কৃতি বুঝতে হবে এবং দেশের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

    তবে প্রস্তাবটি এখনও আইন নয়। সরকারের অনুমোদন মেলার পর ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন পেতে হবে, তবেই তা আইনে পরিণত হবে।

    শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ও সীমা

    মেলোনির প্রস্তাবের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই—এমন শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা। তবে সেই সীমা কত হবে, তা এখনও জানাননি প্রধানমন্ত্রী।

    এ ছাড়া, যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইতালীয় স্কুলব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে, তাঁদের অভিভাবকদের জন্য ইতালীয় ভাষা শেখার ক্লাস বাধ্যতামূলক করার কথাও বলেছেন মেলোনি।

    মেলোনির বক্তব্য, কোনও শ্রেণিতে মাত্র একজন শিক্ষার্থী যদি ইতালীয় ভাষা না বোঝে, তাহলে শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাকে ভাষা শেখা এবং স্কুলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেলে, এমনকি সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে গেলে, তাদের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, ইতালীয় শিশুদের নিজেদের শ্রেণিকক্ষেই যেন সংখ্যালঘু মনে না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা দরকার।

    অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক

    ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে ইতালি ইউরোপে অভিবাসী আগমনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির রাজনীতি ও সমাজে অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলি থেকে আসা অভিবাসীদের একীভূতকরণ নিয়ে ইতালিতে বিতর্ক রয়েছে। ধর্মীয় প্রতীক, সাংস্কৃতিক একীকরণ, নাগরিকত্বের নিয়ম এবং অভিবাসন নীতি—এই বিষয়গুলি বিভিন্ন সময়ে মতভেদের কারণ হয়েছে (Giorgia Meloni)।

    ইতালির অভিবাসন ও শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান ফোন্দাজিওনে ইসমুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ইতালির স্কুলগুলিতে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই—এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা আনুমানিক ৯ লক্ষ ৩০ হাজার। মোট স্কুলশিক্ষার্থীর মধ্যে তাদের অংশ ১১.৬ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১২ জনের ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই।

    এখনও চূড়ান্ত নয় প্রস্তাব

    মেলোনির সরকার এখনও শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই এমন শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা বা অনুপাত নির্দিষ্ট করেনি। মুখ ঢাকা পোশাক (Burqa Niqab Ban) নিষিদ্ধ করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার প্রস্তাব—দু’টিই প্রথমে সরকারের অনুমোদন এবং পরে সংসদের অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। ফলে প্রস্তাবগুলি ঠিক কীভাবে কার্যকর হবে, তা আইন প্রণয়নের পরেই স্পষ্ট হবে (Giorgia Meloni)।

     

  • Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতীয় পড়ুয়াদের (Indian Students) প্রথম পছন্দ ছিল আমেরিকা। উন্নত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কারণে বহু দশক ধরে দেশটি ছিল ভারতীয় শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের গন্তব্য। দীর্ঘদিনের চেনা এই ছবিটাই বদলে যাচ্ছে দ্রুত। কড়া অভিবাসন নীতি, ভিসা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইউরোপের নতুন সুযোগ-সুবিধার কারণে ক্রমশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে (US) ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা। খবরে প্রকাশ, শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তারা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করছেন। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, স্পেন এবং আয়ারল্যান্ড এখন আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।

    ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার (Indian Students)

    এই পরিবর্তন অবশ্য নতুন নয়। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক লাখ কুড়ি হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইউরোপে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও আয়ারল্যান্ডে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার বেড়েছে প্রায় ৬৮.৩৩ শতাংশ। শিক্ষা-প্রযুক্তি সংস্থা জ্ঞানধনের তথ্য বলছে, আমেরিকাকে উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীর হার ২০২৩ সালে ছিল ৫৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ২৬ শতাংশে, ২০২৫ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে। একই সময়ে ইউরোপে পড়াশোনার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪ সালে শুধু জার্মানিতেই ছিলেন ৪৩ হাজারেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও অনেকটাই বাড়বে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের। বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত সংস্থা ‘আপগ্র্যাড স্টাডি অ্যাব্রড’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপ বিদেশে পড়াশোনার দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। জার্মানি ও ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের বছর বাইশের এক প্রযুক্তিবিদ্যায় স্নাতকের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আমেরিকায় পাঠাতে চাইলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য বেছে নেন জার্মানিকেই।

    ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির পর ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রতি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে (Indian Students)। এই চুক্তিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য সহজতর ভিসা ব্যবস্থা, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগের স্পষ্ট রূপরেখা এবং ভারতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি সংক্রান্ত একাধিক পদক্ষেপের কথা রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন গতিশীলতা কাঠামো বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য ভারতীয় শিক্ষার্থী ও দক্ষ জনশক্তিকে আকৃষ্ট করে ইউরোপকে আন্তর্জাতিক প্রতিভার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।” বিদেশে পড়াশোনার প্ল্যাটফর্ম লিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অনব কুমার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রথমবারের মতো একটি বড় অর্থনৈতিক জোট স্পষ্টভাবে বলছে, তারা বৃহৎ পরিসরে ভারতীয় মেধাকে স্বাগত জানাতে চায়।” তাঁর দাবি, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে ভারত থেকে ইউরোপে শিক্ষার্থী ও কর্মীর সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে (US)।

    কম খরচও বড় কারণ

    শুধু সুযোগ-সুবিধা নয়, খরচের দিক থেকেও ইউরোপ এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা কেসি ওভারসিজের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়ার খরচ আমেরিকার তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিদেশে পড়াশোনার খরচও বেড়েছে। ফলে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে খাবারে কাটছাঁট করা, গণপরিবহণের বদলে হেঁটে যাতায়াত করা কিংবা অতিরিক্ত কাজ করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে হচ্ছে। ইউরোপ স্টাডি সেন্টারের পরিচালক শিবরামন পাণ্ডিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ইউরোপ এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তির পর আমাদের কাছে অনুসন্ধানের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।” স্টুডেন্ট অ্যাকোমোডেশন সংস্থা ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন আধিকারিক ময়ঙ্ক মহেশ্বরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি-সহ ইউরোপের একাধিক দেশ কম শিক্ষাব্যয়, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ, উন্নত কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিকভাবে ভালো সুবিধার কারণে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করছে।” বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী নিজের পেশাগত লক্ষ্য অনুযায়ী দেশ বেছে নিচ্ছেন (Indian Students)। যেমন, প্রযুক্তি-শিক্ষার্থীদের কাছে জার্মানি, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের জন্য নেদারল্যান্ডস, ব্যবস্থাপনা শিক্ষার জন্য ফ্রান্স এবং কম খরচে গবেষণার সুযোগের জন্য পর্তুগাল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

    আমেরিকার কড়া নীতিতে কমছে আগ্রহ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি আমেরিকার কঠোর অভিবাসন নীতিও এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে যে ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার মেয়াদ পর্যন্ত থাকার অনুমতি পান, তার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিসা চালুর প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে (US)। এছাড়া শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি, ভিসা নবীকরণে কড়াকড়ি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর বাড়তি নজরদারি এবং ভিসার শর্ত ভাঙলে দ্রুত বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নিতেও দেখা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী আমেরিকাকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে দেখছেন না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮ হাজার শিক্ষার্থী গেলেও, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যাটাই কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ২৬ হাজারে।

    ইউরোপে আগ্রহ বাড়লেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে

    ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আবেদন ও ভর্তি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২,৬৩০। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৩,৭০০-তে পৌঁছেছে। দেশটিতে ভারতীয়রা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অন্যতম বৃহত্তম শিক্ষার্থী গোষ্ঠী। আইনডহোভেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Indian Students)।স্পেনও এখন নয়া গন্তব্য হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের ইউরোপীয় শিক্ষার্থী পরিস্থিতি প্রতিবেদনের তথ্য  অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ১,০৮৭ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছেন। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রা ব্যয়, শিক্ষার্থী-বান্ধব ভিসা ব্যবস্থা এবং ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইউরোপে পড়াশোনা করলেই চাকরি নিশ্চিত নয়। প্রয়োজন দক্ষতা, স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক যোগ্যতা (US)।

    চাকরির সুযোগ

    পাণ্ডিয়ান বলেন, “কেউ যদি বলে এই দেশে পড়লেই চাকরি পাবেন, তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না। শুধু ওই দেশে পড়াশোনা করলেই চাকরির অধিকার তৈরি হয় না। প্রয়োজন দক্ষতা অর্জন। তবেই সুযোগের দরজা খুলবে।” শিক্ষার্থীদের একাংশ আবার ভাষাগত সমস্যা, আবাসনের সঙ্কট, চাকরির প্রতিযোগিতা এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপের কিছু দেশে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান এবং বিদেশিদের প্রতি কঠোর মনোভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবুও কম খরচ, ইংরেজি মাধ্যমে বাড়তে থাকা পাঠ্যক্রম, স্পষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং তুলনামূলক সহজ অভিবাসন নীতির কারণে ইউরোপ এখন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে আমেরিকা, কানাডা এবং ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে (Indian Students)।

     

  • PM Modi: “ভারতের যুবসমাজ বিকশিত ভারতের যাত্রা ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে”, রোজগার মেলায় বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “ভারতের যুবসমাজ বিকশিত ভারতের যাত্রা ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে”, রোজগার মেলায় বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার ১৯তম রোজগার মেলায় (Rozgar Mela) বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থায় নবনিযুক্ত ৫১ হাজারেরও বেশি প্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সমাবেশে বক্তব্যও রাখেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “ভারতের যুবসমাজ বিকশিত ভারতের যাত্রা ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রোজগার মেলা যুবশক্তিকে নতুন সুযোগের মাধ্যমে ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে, ইউএই এবং ইতালিতে তাঁর সাম্প্রতিক সফর সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সবুজ প্রযুক্তি এবং উন্নত উৎপাদন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতীয় যুবকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, “নেদারল্যান্ডসে আমার সাম্প্রতিক সফরের সময় সেমিকন্ডাক্টর, জল ব্যবস্থাপনা, কৃষি এবং উন্নত উৎপাদন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুইডেনে এআই ও ডিজিটাল উদ্ভাবনে সহযোগিতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। নরওয়ে এবং ভারতের মধ্যে সবুজ প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, আর ইউএই-এর সঙ্গে কৌশলগত, জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।”

    সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের প্রসঙ্গ

    তিনি আরও জানান, ভারত ও ইতালির মধ্যে প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে চুক্তি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সমস্ত চুক্তি সরাসরি ভারতের যুবসমাজকে উপকৃত করবে।” সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ডাচ সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্র নির্মাতা এএসএমএল (ASML) এবং টাটা গ্রুপের (Tata Group) অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি (PM Modi) বলেন, “ভারত বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সাপ্লাই চেইন অংশীদার হয়ে উঠছে। এএসএমএল ও টাটার এই চুক্তি একটি বিরল অংশীদারিত্ব, যা অসংখ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং ভারতের জন্য পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তির দরজা খুলে দেবে।”

    ১২ লাখ নিয়োগপত্র বিলি

    তিনি জানান, সুইডেন ও ইউএই-এর সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, বিশেষ করে এআই এবং সুপারকম্পিউটিং ক্ষেত্রে, ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তরুণ পেশাজীবীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। সরকার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর যে গুরুত্ব দিয়েছেন, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রোজগার মেলা উদ্যোগের লক্ষ্য হল দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এই উদ্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে আয়োজিত ১৮টি রোজগার মেলার মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ নিয়োগপত্র বিলি করা হয়েছে (PM Modi)। ১৯তম রোজগার মেলা (Rozgar Mela) দেশের ৪৭টি জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়। নবনিযুক্ত প্রার্থীরা ভারতের বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগে যোগ দেবেন, যার মধ্যে রয়েছে রেলমন্ত্রক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, আর্থিক পরিষেবা বিভাগ এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগ ইত্যাদি।

     

  • PM Modi Gifts Melody: ‘মেলোডি খাও, খুদ জান যাও’ এবার বিশ্বমঞ্চে! মোদির উপহারে ভাইরাল টফি ব্র্যান্ড, কী বললেন ভারতীয় সংস্থার কর্তা?

    PM Modi Gifts Melody: ‘মেলোডি খাও, খুদ জান যাও’ এবার বিশ্বমঞ্চে! মোদির উপহারে ভাইরাল টফি ব্র্যান্ড, কী বললেন ভারতীয় সংস্থার কর্তা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ‘মেলোডি’ টফি উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই দেয়া নেয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তৈরি হয়েছে এক মিষ্টি মুহূর্ত। আর সেই ঘটনাতেই কার্যত আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভারতের জনপ্রিয় টফি ব্র্যান্ড ‘মেলোডি’। ‘মোদি’ ও ‘মেলোনি’-র নাম মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বহুল ব্যবহৃত ‘মেলোডি’ ডাকনামের সঙ্গেই যেন বাস্তবের এই উপহারকে জুড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই অপ্রত্যাশিত প্রচারে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত পার্লে প্রোডাক্টস। সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট ময়াঙ্ক শাহ জানিয়েছেন, এই উপহার দেওয়ার বিষয়ে তাদের আগে কোনও ধারণাই ছিল না। তিনি বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ অবাক, তবে ভীষণভাবে আনন্দিত। আমাদের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতেই হবে, কারণ তিনি এই ব্র্যান্ডকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন।”

    ‘মেলোডি’-র চাহিদা বেড়েছে

    ঘটনার পর থেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও কুইক কমার্স অ্যাপে ‘মেলোডি’-র চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও জানিয়েছেন শাহ। তাঁর কথায়, “সকাল থেকেই বিপুল ট্র্যাকশন দেখা যাচ্ছে। আগামী দিনে এই বৃদ্ধির গতি আরও বাড়বে বলেই আমরা আশা করছি।” পার্লের দাবি, ‘মেলোডি’ ইতিমধ্যেই ভারতের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া টফি ব্র্যান্ড। আন্তর্জাতিক স্তরে এই প্রচারের ফলে শুধু ভারত নয়, বিদেশের বাজারেও বিক্রি বাড়বে বলে আশাবাদী সংস্থা। বর্তমানে বিশ্বের ২০০-রও বেশি দেশে রফতানি করা হয় ‘মেলোডি’। ময়াঙ্ক শাহ জানান, এই মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে বিদেশের বাজারে আরও বড় আকারে প্রবেশের পরিকল্পনাও করা হতে পারে। এমনকি বিভিন্ন দেশে স্থানীয় উৎপাদন শুরু করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    পার্লের জন্য বিশ্বজোড়া প্রচার

    চাহিদা বাড়লেও আপাতত দাম বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন পার্লে কর্তা। তাঁর কথায়, “দাম বাড়ানোর কথা ভাবছি না। তবে চাহিদা যে হু হু করে বাড়ছে, তা ইতিমধ্যেই বোঝা যাচ্ছে।” পণ্যের স্বাদ বা পরিচয়ে বড় কোনও বদলের ইঙ্গিতও দেয়নি সংস্থা। শাহ বলেন, “মেলোডি মানেই চকলেটি স্বাদ। এটা একটি ক্লাসিক ব্র্যান্ড, আমরা সেটাকেই বজায় রাখতে চাই।” সঙ্গে হাসতে হাসতেই তিনি স্মরণ করিয়ে দেন জনপ্রিয় ট্যাগলাইন— “মেলোডি খাও, খুদ জান যাও।” স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন মায়াঙ্ক। জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে পার্লে প্রোডাক্টসের আইপিও আনার কোনও পরিকল্পনা নেই। একটি সাধারণ টফি যে আন্তর্জাতিক কূটনীতির আলোচনায় জায়গা করে নিতে পারে, তা হয়তো ভাবেনি কেউই। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ‘মিষ্টি কূটনীতি’ এখন পার্লের জন্য এনে দিয়েছে বিশ্বজোড়া প্রচারের নতুন সুযোগ।

  • India Italy Relation: ‘মেলোডি’-র হাত ধরে ভারত-ইটালির কূটনীতিতে নয়া মোড়! কী হল মোদি-মেলোনি বৈঠকে?

    India Italy Relation: ‘মেলোডি’-র হাত ধরে ভারত-ইটালির কূটনীতিতে নয়া মোড়! কী হল মোদি-মেলোনি বৈঠকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কূটনীতিতে চকোলেটের মতো মিষ্টি-মধুর সম্পর্ক তৈরি হল ভারত-ইটালির (India Italy Relation)। ‘মেলোডি’ শুধু দুই ব্যক্তির বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়নেই থেমে থাকল না। বুধবার ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে পাশে (Modi-Meloni Meet) নিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে’ পরিণত করার ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানিয়ে দিলেন বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবে দুই দেশ। মোদি-মোলোনির বন্ধুত্বের ছাপ পড়ল দুই দেশের সম্পর্কেও। যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর কথা জানিয়ে জর্জিয়া বলেন, ‘বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ইউরো। ২০২৯ সালের মধ্যে সেটিকে আমরা ২২ বিলিয়ন ইউরোতে নিয়ে যেতে চাই।’

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিশাল সুযোগ

    ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। আর সেটাকেই কাজে লাগাতে চান ‘মেলোডি’। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সময়ে ইটালির সমর্থনের জন্য মেলোনিকে ধন্যবাদ জানান মোদি। সোজাসুজি বলে দেন, ‘দুই দেশের ব্যবসায়ীরা যাতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পান, তার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’ ২০২৩ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৪০০ কোটি ইউরো। ২০২৯ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০০০ কোটি ইউরোতে (সাড়ে ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি) পৌঁছোনোর যৌথ লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে ভারতে ৮০০-র বেশি ইটালির সংস্থা কাজ করছে।

    ইন্ডিয়া-ইটালি ইনোভেশন সেন্টার

    প্রযুক্তির উপরে সবচেয়ে বেশি জোর দেন মোদি। তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও অসামরিক পারমাণবিক শক্তির মতো ক্ষেত্রে ভারত-ইতালির কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।’ দুই দেশের স্টার্টআপ, গবেষণা কেন্দ্র ও শিল্পক্ষেত্রকে যুক্ত করতে একটি ‘ইন্ডিয়া-ইটালি ইনোভেশন সেন্টার’ গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। প্রতিরক্ষা এবং ক্লিন এনার্জি খাতেও একসঙ্গে কাজ হবে বলে ঘোষণা করেছেন মোদি। প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং জ্বালানি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক নিবিড় করার কথা জানানো হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।

    লজিস্টিকস এবং ব্লু ইকোনমি

    ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-সহ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে সঙ্কটের প্রসঙ্গও এসেছে যৌথ বিবৃতিতে। বৈঠকের পরে মোদি বলেন, “প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন আমাদের অংশীদারির চালিকাশক্তি। এআই, কোয়ান্টাম, মহাকাশ এবং অসামরিক পারমাণু শক্তির মতো অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।” জাহাজ চলাচল, বন্দর আধুনিকীকরণ, লজিস্টিকস এবং ব্লু ইকোনমি আগামী দিনে নয়াদিল্লি-রোম সম্পর্কের অন্যতম ভরকেন্দ্র হবে বলেও জানান মোদি। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা— ‘‘হেলিকপ্টার, নৌ-প্ল্যাটফর্ম-সহ সমুদ্র-যুদ্ধের উপযোগী অস্ত্র এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা—সংক্রান্ত অংশীদারিত্ব বাড়ানো হবে।’’

    প্রেসিডেন্ট মাত্তারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির

    ২০ মে রোমের কুইরিনালে প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট মাত্তারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বৈঠকে দুই নেতা ভারত-ইটালি সম্পর্কের দ্রুত অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় উদীয়মান প্রযুক্তি ও এআই। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার উপর জোর দেন দুই নেতা। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের সংঘাত পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়। আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্রপথে স্বাধীন চলাচল এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তাঁরা।

    ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর

    দুই প্রধানমন্ত্রী ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (আইএমইসি)-এ সহযোগিতার কথাও ঘোষণা করেছেন। মেলোনি জানিয়েছেন, বিশেষত ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও দক্ষ কর্মীদের যাতায়াত বাড়াতে এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নে ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গাজায় যাওয়া জাহাজ আটক করা নিয়ে ইজরায়েলের সমালোচনা করেন মেলোনি।

    ভারত-ইটালি নিয়মিত আলোচনা

    মোদি-মেলোনি বৈঠকে স্থির হয়, দুই দেশ প্রতি বছর শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক করবে এবং নিয়মিত মন্ত্রীস্তর ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাবে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও একমত হয়েছে দুই দেশ। সন্ত্রাসে অর্থ জোগান বন্ধে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুজরাটের লোথালে ন্যাশনাল মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা এবং ভারতীয় নার্স নিয়োগ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারত ও ইতালি ২০২৭ সালকে সংস্কৃতি এবং পর্যটনের বছর “Year of Culture and Tourism” হিসেবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    একে অপরের পরিপূরক

    যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ইটালির ডিজাইন ও জিনিস তৈরির দক্ষতা এবং ভারতের উদ্ভাবনী চিন্তা একে অপরের পরিপূরক। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এই দিনটিকে “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করে জানান, ভারত-ইতালি সম্পর্ক এখন এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। কূটনৈতিক বৈঠকের বাইরেও নজর কাড়ে মোদি-মেলোনি দুই নেতার ব্যক্তিগত মুহূর্ত। কূটনীতির টেবিলে চুক্তির কালি শুকোতে সময় লাগে। তবে ‘মেলোডি’র মিষ্টি স্বাদ বুঝিয়ে দিয়েছে— ভারত ও ইটালির সম্পর্ক এখন শুধু কাগজে-কলমে নয়, তাতে অন্য রসায়নও দানা বাঁধছে।

     

     

     

  • Modi-Meloni Meet: রোমে ‘মেলোডি’ সন্ধ্যা! কলোসিয়ামে সেলফি, গাড়িতে সফর, নৈশভোজে মোদি-মেলোনির ছবি ভাইরাল

    Modi-Meloni Meet: রোমে ‘মেলোডি’ সন্ধ্যা! কলোসিয়ামে সেলফি, গাড়িতে সফর, নৈশভোজে মোদি-মেলোনির ছবি ভাইরাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রোমে পা দিতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) স্বাগত জানালেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (Giorgia Meloni)। সমাজমাধ্যমে লিখলেন, ‘রোমে স্বাগত বন্ধু’। মঙ্গলবার রোমে পৌঁছেই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে নৈশভোজ, গাড়িতে সফর এবং ঐতিহাসিক কলোসিয়ামে সেলফিতে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বুধবারের আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগেই দুই নেতার এই অনানুষ্ঠানিক মুহূর্তগুলি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    চার দেশে সফর শেষে ইটালিতে মোদি

    পাঁচ দেশীয় সফরে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। চার দেশে সফর শেষে ইটালিতে এসে পৌঁছেছেন তিনি। ইটালিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী। দু’দেশই যৌথ কৌশলগত পরিকল্পনা করেছে। ২০২৫-’২৯ এই সময়কালকে ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে যৌথ নিবন্ধও লিখেছেন মোদি ও মেলোনি। ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে মোদির কেমিস্ট্রি বেশ জনপ্রিয়। মোদির সঙ্গে মেলোনির এটি সপ্তম সাক্ষাৎ। আর সেই সাক্ষাতের একের পর এক ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এদিন নীল কুর্তা পাজামা ও বন্ধগলা কোটে অন্যরকম লুকে ধরা দেন নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে, কালার কনট্রাস্টে বেবি পিঙ্ক টপ ও সাদা ট্রাইজার পরেছিলেন জর্জিয়া মেলোনি। এর আগেও মোদি-মেলোনির একাধিক সেলফি চর্চার বিষয়বস্তু হয়েছিল।

    মোদি-মেলোনি একই ফ্রেমে

    জর্জিয়া মেলোনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি সেলফি তুলে পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টেই মোদিকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন মেলোনি। যা লক্ষ লক্ষ লাইক ও শেয়ার হয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদিও রোম সফরের একাধিক ছবি পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, মেলোনির সঙ্গে গাড়িতে সফর করছেন তিনি, পাশাপাশি নৈশভোজ ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনাতেও অংশ নেন দুই নেতা। মোদি লেখেন, “রোমে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে নৈশভোজ ও ঐতিহাসিক কলোসিয়াম পরিদর্শনের সুযোগ হল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বুধবারের বৈঠকে ভারত-ইতালি বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।” রোমের রাতের আলোয় আলোকিত কলোসিয়ামের সামনে মোদি-মেলোনির ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় লক্ষাধিক মানুষ সেই ছবি দেখেছেন ও শেয়ার করেছেন। নেটিজেনদের মধ্যে বহুদিন ধরেই জনপ্রিয় “মেলোডি” শব্দবন্ধ— যা ‘মেলোনি’ ও ‘মোদি’-র নাম মিলিয়ে তৈরি। জর্জিয়া মেলোনি নিজেই এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন। “মেলোডি”-র উষ্ণ রসায়ন ফের নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

    দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক

    গত কয়েক বছরে দুই দেশ বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক করিডরের বিষয়টিও মোদি মেলোনির মধ্যে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল। এই করিডোর ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপকে সংযুক্তকারী একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও সংযোগ প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী রোমে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দফতরেও যাবেন। সেখানে তিনি খাদ্য সুরক্ষা, কৃষি সংস্কার এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করবেন। ২০২৪ সালের জুনে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর এটাই মোদির ইটালিতে প্রথম সফর। রোমে অবতরণ করার পর পরই এক্স পোস্টে মোদি লেখেন, ‘এই সফরের মূল লক্ষ্য হবে ভারত-ইটালি সহযোগিতা কী ভাবে বৃদ্ধি করা যায়। বিশেষ করে ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের উপর আলোকপাত করা হবে।’

    আমেরিকার উপর ভারতের নির্ভরতা কমানোই লক্ষ্য

    পাঁচ দিনের বিদেশ সফরে গিয়েছেন মোদি। নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাশাহি ঘুরে শেষ পর্যায়ে এখন রোমে রয়েছেন তিনি। ইটালি থেকেই ভারতে ফিরবেন মোদি। তাঁর এই রোম সফর দু’দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে মত কূটনৈতিক মহলের। ইটালির এক প্রশাসনিক কর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দু’দেশই নিজেদের মধ্যে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নতি করতে চাইবে। চলতি বছরের শুরুতেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এক বাণিজ্যচুক্তি করেছে ভারত। এই চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, আমেরিকার উপর ভারতের নির্ভরতা কমানো। সেই চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটাই ছিল মোদির প্রথম ইউরোপ সফর।

    মোদি-মেলোনি কী কী নিয়ে আলোচনা

    বুধবার ভিলা ডোরিয়া পামফিলিতে ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ওই বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনেতা দু’দেশের অংশীদারি জোরদার করার জন্য একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে পারেন। শুধু তা-ই নয়, দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। ২০২৩ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১,৪০০ কোটি ইউরো। ২০২৯ সালে এই বাণিজ্যের পরিমাণ দু’হাজার কোটিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। শুধু দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নয়, তার পরে মোদি ও মেলোনি দু’দেশের শিল্পপতিদের সঙ্গে দেখা করবেন। সূত্রের খবর, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার বিষেয়ে আলোচনা হতে পারে। আবার একাংশের মতে, সামুদ্রিক পরিবহণ, কৃষি, উচ্চশিক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, আর্থিক অপরাধ দমনের মতো বিষয়গুলি নিয়ে কোনও চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। এ ছাডা়ও, পশ্চিম এশিয়া, ইউক্রেন এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা-সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে মোদি-মেলোনির মধ্যে। মেলোনি ছাড়াও ইটালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লার (Sergio Mattarella) সঙ্গে একটি বৈঠক করার কথা মোদির। রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দফতর পরিদর্শন করার কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

  • PM Modi in Europe: নজরে জ্বালানি-প্রতিরক্ষা-এআই! পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝেই পাঁচ দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Europe: নজরে জ্বালানি-প্রতিরক্ষা-এআই! পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝেই পাঁচ দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার আবহে আগামী ১৫ মে, শুক্রবার থেকে ছয় দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে শুরু করে ইউরোপের একাধিক দেশে যাবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ভারতের কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত সম্পর্ক আরও গভীর করাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। ১৫ থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা এই পাঁচ দেশের সফরে প্রধানমন্ত্রী যাবেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালিতে। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে চলেছে জ্বালানি সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, সবুজ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ব্লু ইকোনমি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, সদ্য সম্পন্ন ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (India-EU FTA) প্রেক্ষাপটে ইউরোপ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করাই এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    আমিরশাহীতে আলোচনায় জ্বালানি ও প্রবাসী ভারতীয়রা

    প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের শুরু ১৫ মে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে। সেখানে প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান (Mohamed bin Zayed Al Nahyan)-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টানরাশিপ (Comprehensive Strategic Partnership) আরও শক্তিশালী করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাবে জ্বালানি নিরাপত্তা। এছাড়াও আরবে থাকা প্রায় ৪৫ লক্ষ ভারতীয় প্রবাসীর কল্যাণও মূল লক্ষ্য। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE) ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম বড় উৎস। উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চিলক ও আন্তর্জাতিক নানান বিষয়ে মত বিনিময় করবেন। দ্বিপাক্ষিক সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং মানুষে মানুষে সংযোগের বিষয়টিও স্থান পাবে তাঁদের আলোচ্য সূচীতে।

    নেদারল্যান্ডসে প্রযুক্তি ও সবুজ শক্তি

    সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী যাবেন নেদারল্যান্ডসে। সেখানে তিনি রাজা উইলিয়াম অ্যালেকজান্ডার (Willem-Alexander) এবং রানী ম্যাক্সিমার সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন। সেদেশের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের (Rob Jetten) সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হবেন। নেদারল্যান্ডসে এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিতীয় সফর। এর আগে তিনি ২০১৭-এ সেখানে যান। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, উদ্ভাবন, পরিবেশ বান্ধব হাইড্রজেন, সেমিকন্ডাক্টর ও জল সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৫ থেকে ১৭ মে নেদারল্যান্ডস সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বর্তমানে ভারত-নেদারল্যান্ডস দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৭.৮ বিলিয়ন ডলার। আগামী দিনে তা কয়েক গুণ বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস বর্তমানে ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ।

    সুইডেনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা ও শিল্প সহযোগিতা

    ১৭ ও ১৮ মে রবিবার সুইডেনের কোটেনবার্গে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে সুইডিস প্রধানমন্ত্রী উল্ফ ক্রিস্টারসনের (Ulf Kristersson) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সম্পর্কের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখবেন তারা। এর মধ্যে আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, স্টার্ট আপ, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আলোচনা। দুই প্রধানমন্ত্রী শিল্পের জন্য ইউরোপীয় রাউন্ড টেবিল বৈঠকেও ভাষণ দেবেন। এই অগ্রণী প্যান ইউরোপীয় বাণিজ্যিক ফোরামের বৈঠকে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েনও (Ursula von der Leyen) উপস্থিত থাকবেন। ২০২৫ সালে ভারত-সুইডেন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৭.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুইডেনের বিনিয়োগ ভারতে ২.৮২৫ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে।

    নরওয়েতে ব্লু ইকোনমি ও নর্ডিক সম্মেলন

    ১৮ থেকে ১৯ মে নরওয়ে সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ৪৩ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সে দেশে যাচ্ছেন। নরওয়েতে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেখা করবেন রাজা হারলাড ভি (Harald V) এবং প্রধানমন্ত্রী জোনাস (Jonas) এর সঙ্গে। ভারত-ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক সম্পদ এবং নরওয়ের ২৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। ১৯ মে অসলোতে অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ইন্ডিয়া-নর্জিক সামিট (India-Nordic Summit)। সেখানে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেনের নেতারা অংশ নেবেন। আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে আর্কটিক গবেষণা, নবীকরণযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং টেকসই উন্নয়ন। ভারত-নরওয়ে বাণিজ্য ও গবেষণা সম্মেলনেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ প্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বর্তমানে ভারত-নরওয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২.৭৩ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া নরওয়ের গভর্নমেন্ট পেনশন ফান্ড ভারতের পুঁজিবাজারে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

    ইতালিতে প্রতিরক্ষা ও উদ্ভাবন নিয়ে আলাপচারিতা

    সফরের শেষ পর্যায়ে ১৯ ও ২০ মে ইতালি সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলানির (Giorgia Meloni) সঙ্গে বৈঠকে ২০২৫-২৯ জয়েন্ট স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান (Joint Strategic Action Plan 2025–2029) পর্যালোচনা করা হবে। এই রোডম্যাপের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা, শক্তি, বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দুই দেশের। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ইউরোপের দেশগুলির কয়েক কোটি মানুষের জন্য দারুণ সুযোগ তৈরি করবে। এখান থেকে গৃহীত সিদ্ধান্ত নির্মাণশিল্প এবং অনুসারী শিল্পগুলির ক্ষেত্রে আরও গতি আনবে। এর ফলে বাণিজ্যের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক গণতন্ত্রও পোক্ত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, ২০২৫-২০২৯ যৌথ কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার আওতায় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, পরিচ্ছন্ন শক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারত-ইতালি সম্পর্ক দ্রুত এগোচ্ছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্য ১৬.৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ইতালির মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.৬৬ বিলিয়ন ডলার।

LinkedIn
Share