Tag: Jagannath Rath Yatra

Jagannath Rath Yatra

  • Rath Yatra 2026: কেন অসম্পূর্ণ জগন্নাথদেবের মূর্তি? রথযাত্রার পবিত্র দিনে পৌরাণিক ইতিহাস জানুন

    Rath Yatra 2026: কেন অসম্পূর্ণ জগন্নাথদেবের মূর্তি? রথযাত্রার পবিত্র দিনে পৌরাণিক ইতিহাস জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই, দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে রথযাত্রা ২০২৬ (Rath Yatra 2026)। হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই উৎসবকে ঘিরে প্রতি বছর ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় বিশেষ উৎসাহ। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতেই পালিত হয় রথযাত্রা বা রথদ্বিতীয়া। ওড়িশার পুরীর জগন্নাথধাম এই উৎসবের প্রধান কেন্দ্র হলেও পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের বহু রাজ্যে রথযাত্রা অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদযাপিত হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এই উৎসবের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ডাবলিন, মস্কো, নিউ ইয়র্ক-সহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরেও ভক্তরা রথযাত্রা পালন করেন।

    রথযাত্রার তাৎপর্য কী?

    ‘রথ’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ চাকাযুক্ত যান বা যুদ্ধরথ। তবে সনাতন ধর্মে রথের ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পূর্ণ আলাদা। ভক্তদের বিশ্বাস, কাঠের নির্মিত বিশাল রথে আরোহন করে ভগবান জগন্নাথ, তাঁর দাদা বলরাম এবং বোন সুভদ্রা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করেন। দেবতাদের এই ঐতিহ্যবাহী যাত্রাকেই বলা হয় রথযাত্রা

    রথযাত্রার ইতিহাস: কী বলছে পৌরাণিক কাহিনি?

    রথযাত্রার উৎপত্তি নিয়ে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। ভগবান জগন্নাথকে শ্রীকৃষ্ণেরই এক বিশেষ রূপ হিসেবে মানা হয়। প্রাচীন গ্রন্থ ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ-এর বর্ণনা অনুযায়ী, দ্বাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতকের মধ্যে এই রথযাত্রার প্রচলন শুরু হয় বলে মনে করা হয়। সেই সময়ের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর পরম ভক্ত। কিংবদন্তি অনুসারে, তিনি স্বপ্নাদেশ পান জগন্নাথরূপী বিষ্ণুমূর্তি প্রতিষ্ঠা করার এবং সেই সঙ্গে রথযাত্রার আয়োজন করার। লোককথা অনুযায়ী, রাজাকে নির্দেশ দেওয়া হয় পুরীর সমুদ্রতটে ভেসে আসা এক বিশেষ কাঠ দিয়ে জগন্নাথের মূর্তি নির্মাণ করতে। কিন্তু উপযুক্ত শিল্পীর সন্ধান না পেয়ে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। ঠিক সেই সময় এক বৃদ্ধ এসে নিজেই মূর্তি নির্মাণের দায়িত্ব নেন। তবে তিনি শর্ত দেন, কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন তাঁর কাজে বাধা না দেন বা দরজা না খোলেন।

    কেন অসম্পূর্ণ জগন্নাথের মূর্তি?

    বৃদ্ধ শিল্পী একটি বন্ধ কক্ষে মূর্তি তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রতিদিন ঘরের ভেতর থেকে হাতুড়ির শব্দ শোনা গেলেও একদিন আচমকাই সব শব্দ থেমে যায়। উদ্বিগ্ন হয়ে রানির অনুরোধে রাজা দরজা খুলে ফেলেন। দরজা খুলেই দেখা যায়, তিনটি মূর্তি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। হাত-পা অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং রহস্যময় সেই শিল্পীও নিখোঁজ। পরে জানা যায়, তিনি আসলে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ছিলেন। এই ঘটনায় রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন গভীর অনুতাপে ভেঙে পড়েন। পরে স্বপ্নে ভগবান জগন্নাথ তাঁকে দর্শন দিয়ে জানান, এই অসম্পূর্ণ রূপেই তিনি পূজিত হতে চান। সেই থেকেই হাত-পা অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শুরু হয় তাঁদের আরাধনা। পরবর্তীকালে পুরীতে নির্মিত হয় জগন্নাথ মন্দির এবং রথযাত্রা পায় স্থায়ী রূপ।

    পুরীর তিন রথের বিশেষ পরিচয়

    পুরীর রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ তিনটি পৃথক রথ, যেগুলির প্রত্যেকটির নাম, রঙ, উচ্চতা এবং চাকার সংখ্যা আলাদা।

    • জগন্নাথদেবের রথ: নান্দীঘোষ — ১৮টি চাকা
    • বলরামের রথ: তালধ্বজ — ১৬টি চাকা
    • সুভদ্রার রথ: দর্পদলন — ১২টি চাকা

    প্রতিবছর নতুন কাঠ দিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই রথগুলি নির্মাণ করা হয়। লক্ষ লক্ষ ভক্ত রশি টেনে রথ টানার মধ্য দিয়ে নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভক্তি প্রকাশ করেন।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ রথযাত্রা?

    রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে পুরীর শ্রীক্ষেত্রে এই সময় লাখো ভক্তের সমাগম ঘটে। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ এই ঐতিহাসিক উৎসবের সাক্ষী হতে আসেন। সময়ের সঙ্গে রথযাত্রার জনপ্রিয়তা ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আজও ভক্তদের কাছে এই উৎসব ভগবান জগন্নাথের আশীর্বাদ লাভের এক অনন্য উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • Rath Yatra 2026: আজ মহাপ্রভুর স্নানযাত্রা! ১০৮ কলসে মহাস্নান, তারপরই জ্বর— জগন্নাথদেবকে ঘিরে এই রহস্য জানেন?

    Rath Yatra 2026: আজ মহাপ্রভুর স্নানযাত্রা! ১০৮ কলসে মহাস্নান, তারপরই জ্বর— জগন্নাথদেবকে ঘিরে এই রহস্য জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, সোমবার (২৯ জুন), শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের পবিত্র স্নানযাত্রা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসবকে দেবস্নান পূর্ণিমা বা স্নান পূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হলেও, এ বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে মলমাস (অধিক মাস) পড়ায় আষাঢ় মাসের পূর্ণিমাতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে মহাপ্রভুর স্নানযাত্রা। ওড়িশার পুরী জগন্নাথধাম থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মাহেশ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আজ ভক্তিভরে পালিত হচ্ছে এই বিশেষ উৎসব। তবে ঐতিহ্য, আচার এবং জাঁকজমকের নিরিখে সবচেয়ে বড় আয়োজন হয় পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে। ফলে সারা বিশ্বের জগন্নাথভক্তদের নজর এখন পুরীতেই।

    স্নান পূর্ণিমার তিথি

    বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে সোমবার ভোর-রাত ৩টা ৮ মিনিটে এবং শেষ হবে মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে। অন্যদিকে, গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে সোমবার ভোর-রাত ২টো ৪৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে মঙ্গলবার ভোর ৪টে ৪৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথি অত্যন্ত পবিত্র। তাই এদিন বহু মানুষ পূজা-পাঠ, দান-ধ্যান, ব্রত পালন এবং বিভিন্ন শুভ কাজ সম্পন্ন করেন।

    স্নানযাত্রা থেকেই শুরু রথযাত্রার প্রস্তুতি

    জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রাকে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা বলেই মনে করা হয়। যদিও তারও আগে চন্দনযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় প্রস্তুতি পর্ব, তবুও স্নানযাত্রার পর থেকেই কার্যত শুরু হয়ে যায় রথযাত্রার কাউন্টডাউন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে মানুষের মতোই কষ্ট পান মহাপ্রভু জগন্নাথ। তাই গরমের সময় তাঁর কপালে চন্দনের প্রলেপ দেওয়া হয়, যা চন্দনযাত্রা নামে পরিচিত। বর্ষার সূচনালগ্নে সেই পর্ব শেষ করে পালিত হয় স্নানযাত্রা।

    ১০৮ কলস সুগন্ধি জলে মহাপ্রভুর মহাস্নান

    স্নানযাত্রার দিন শ্রীমন্দিরের স্নানবেদীতে বিশেষ বৈদিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রাকে ১০৮টি পবিত্র কলসে ভরা সুগন্ধি জল দিয়ে স্নান করানো হয়। প্রথমে শ্রীজগন্নাথ, তারপর বলভদ্র এবং সবশেষে দেবী সুভদ্রার পূজা সম্পন্ন করে তাঁদের মহাস্নানের আয়োজন করা হয়। স্নান সম্পন্ন হওয়ার পর তিন দেবদেবীকে বিশেষ গজবেশে সজ্জিত করা হয়, যা ভক্তদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং তাৎপর্যপূর্ণ। স্কন্দপুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার পর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নই এই স্নানযাত্রা উৎসবের প্রচলন করেন।

    কেন জ্বরে আক্রান্ত হন জগন্নাথদেব?

    স্নানযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, বছরে একবার ১০৮ কলস জল দিয়ে মহাস্নানের পর মহাপ্রভুর জ্বর আসে। সেই কারণেই স্নানযাত্রার পর শুরু হয় ‘অনসর’ বা ‘অনবাসর’ পর্ব। এই সময় প্রায় ১৫ দিন ধরে জগন্নাথদেব, বলভদ্র এবং সুভদ্রা ভক্তদের দর্শনের বাইরে থাকেন। শ্রীমন্দিরের দরজা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয় এবং দেবদেবীদের গোপন কক্ষে বিশ্রাম ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, রাজবৈদ্য আয়ুর্বেদিক ওষুধ ও পাঁচন দিয়ে মহাপ্রভুর চিকিৎসা করেন। এই সময় দেবতাদের বিশেষ খাদ্যও নিবেদন করা হয়।

    ১৫ দিন পর নবযৌবন দর্শন

    অনসর পর্ব শেষ হলে সুস্থ হয়ে ওঠেন মহাপ্রভু। এরপর নতুন রূপে, নতুন সাজে তিনি ভক্তদের দর্শন দেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানকে বলা হয় নেত্রোৎসব বা নবযৌবন দর্শন। এই দিনই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে লক্ষ লক্ষ ভক্তের। নতুন সাজে মহাপ্রভুর প্রথম দর্শনকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।

    এরপর মহাপ্রভুর রথযাত্রা

    নবযৌবন দর্শনের পরই শুরু হয় রথযাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি। রাজবেশে সজ্জিত হয়ে শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা তিনটি পৃথক রথে চেপে মাসির বাড়ি— গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই যাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ভগবানের ভক্তদের কাছে স্বয়ং এসে আশীর্বাদ করার প্রতীক। তাই স্নানযাত্রা থেকেই শুরু হয়ে যায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রার আবহ। এবছর রথযাত্রা ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার। উল্টোরথ (পুনর্যাত্রা) ২৪ জুলাই, শুক্রবার।

    ধর্মীয় গুরুত্ব

    স্নানযাত্রা শুধু একটি আচার নয়, এটি ভক্তি, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেবতার মানবিক রূপ—গরমে কষ্ট পাওয়া, স্নানের পর অসুস্থ হওয়া, চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা—এই সমস্ত বিশ্বাস জগন্নাথ সংস্কৃতিকে অন্য সব ধর্মীয় পরম্পরা থেকে আলাদা করে তুলেছে। এই কারণেই স্নানযাত্রা থেকে রথযাত্রা পর্যন্ত প্রতিটি পর্বকে ঘিরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের আবেগ, অপেক্ষা এবং উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। পুরী হোক বা মাহেশ—আজ দেবস্নান পূর্ণিমার এই পবিত্র দিনে সর্বত্রই ধ্বনিত হচ্ছে, ‘‘জয় জগন্নাথ’’।

  • Puri Chappanna Bhog: রথযাত্রায় জগন্নাথদেবকে দেওয়া হয় বিশেষ ছাপ্পান্ন ভোগ, কী এর মাহাত্ম্য?

    Puri Chappanna Bhog: রথযাত্রায় জগন্নাথদেবকে দেওয়া হয় বিশেষ ছাপ্পান্ন ভোগ, কী এর মাহাত্ম্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথের দিনগুলিতে (Rath Yatra 2024) পুরীতে তুমুল আয়োজন পুরীর জগন্নাথধামে৷ রথযাত্রার একাধিক উপাচারের অন্যতম আকর্ষণ হল জগন্নাথদেবকে ৫৬ ভোগ (Puri Chappanna Bhog) নিবেদন। ৫৬ ভোগের রাজকীয় সেই খাবারের পদগুলি থেকে নিয়ম সবক্ষেত্রেই পাওয়া যায় পুরাণকথার একাধিক আঙ্গিক। কিন্ত কেন দেওয়া হয় এই বিশেষ ভোগ? 

    ৫৬ ভোগ নিয়ে কী বলছে পুরাণ? (Puri Chappanna Bhog)

    পুরাণ মতে, যশোদা বালক কৃষ্ণকে আট প্রহর খেতে দিতেন। কিন্তু, একটা সময় ইন্দ্রের রোষে পড়ে মহাপ্রলয়ের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় প্রাণীদের রক্ষা করতে নিজের কনিষ্ঠ আঙুলে গোবর্ধন পাহাড় তুলে নিয়েছিলেন তিনি। সাতদিন ওইভাবেই তিনি ছিলেন। খাবার ও জল কোনও কিছুই মুখে দেননি। প্রলয় বন্ধ হওয়ার পর সেই পাহাড় নামিয়ে রেখেছিলেন। এদিকে যে ছেলে দিনে আটবার খাবার খেত তাকে টানা সাতদিন অনাহারে থাকতে দেখে কেঁদে উঠেছিল যশোদার মন। তখন ব্রজবাসী-সহ যশোদা সাতদিন ও আট প্রহরের হিসেবে কৃষ্ণের জন্য ৫৬টি পদ পরিবেশন করেছিলেন। আর সেই থেকেই নারায়ণের ছাপ্পান্ন ভোগ (Puri Chappanna Bhog) চলে আসছে।

    মর্ত্যে এসে চার ধাম যাত্রা করেন ভগবান বিষ্ণু…

    এও কথিত আছে, ভগবান বিষ্ণু মর্ত্যলোকে এসে তাঁর চার ধামে যাত্রা করেন। এই চার ধাম হল- বদ্রীনাথ ধাম, দ্বারিকা ধাম, পুরী ধাম এবং রামেশ্বরম। প্রথমে হিমালয়ের শিখরে অবস্থিত বদ্রীনাথ ধামে স্নান করেন, তারপর গুজরাটের দ্বারিকা ধামে গিয়ে বস্ত্র পরিধান করেন, ওড়িশার পুরী ধামে ভোজন করেন আর সবশেষে রামেশ্বরমে গিয়ে বিশ্রাম নেন। আর পুরী ধামে যেখানে তিনি ভোজন করেন সেখানে ভোগের কোনও চমক থাকবে না এটা কখনও হয়। পুরাণ মতে, ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার কৃষ্ণের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত করা হয় জগন্নাথদেবকে। জগন্নাথের মধ্যে বিষ্ণুর সকল অবতারের চিহ্ন আছে। আর সেই কারণে তাঁকেও অর্পণ করা হয় ছাপান্ন ভোগ। 

    কী কী পদ থাকে এই ছাপ্পান্ন ভোগে? 

    জগন্নাথকে দেওয়া ৫৬ ভোগে (Puri Chappanna Bhog) রাখা হয়— ১) উকখুড়া অর্থাৎ মুড়ি, ২) নাড়িয়া কোড়া অর্থাৎ নারকেল নাড়ু, ৩) খুয়া অর্থাৎ খোয়া ক্ষীর, ৪) দই, ৫) পাচিলা কদলি অর্থাৎ পাকা কলা, ৬) কণিকা অর্থাৎ সুগন্ধী ভাত, ৭) টাটা খিচুড়ি অর্থাৎ শুকনো খিচুড়ি, ৮) মেন্ধা মুণ্ডিয়া অর্থাৎ বিশেষ ধরণের কেক, ৯) বড়া কান্তি অর্থাৎ বড় কেক, ১০) মাথা পুলি অর্থাৎ পুলি পিঠে, ১১) হামসা কেলি অর্থাৎ মিষ্টি কেক, ১২) ঝিলি অর্থাৎ এক ধরণের প্যান কেক, ১৩) এন্ডুরি অর্থাৎ নারকেল দিয়ে তৈরি কেক, ১৪) আদাপচেদি অর্থাৎ আদা দিয়ে তৈরি চাটনি, ১৫) শাক ভাজা, ১৬) মরিচ লাড্ডু অর্থাৎ লঙ্কার লাড্ডু, ১৭) করলা ভাজা, ১৮) ছোট্ট পিঠে, ১৯) বরা অর্থাৎ দুধ তৈরি মিষ্টি, ২০) আরিশা অর্থাৎ ভাত দিয়ে তৈরি মিষ্টি, ২১) বুন্দিয়া অর্থাৎ বোঁদে, ২২) পাখাল অর্থাৎ পান্তা ভাত, ২৩) খিরি অর্থাৎ পায়েস, ২৪) কাদামবা অর্থাৎ বিশেষ মিষ্টি ২৫) পাত মনোহার মিষ্টি ২৬) তাকুয়া মিষ্টি, ২৭) ভাগ পিঠে, ২৮) গোটাই অর্থাৎ নিমকি, ২৯) দলমা অর্থাৎ ভাত ও সবজি, ৩০) কাকারা মিষ্টি ৷ ৩১) লুনি খুরুমা অর্থাৎ নোনতা বিস্কুট, ৩২) আমালু অর্থাৎ মিষ্টি লুচি, ৩৩) বিড়ি পিঠে, ৩৪) চাড়াই নাডা মিষ্টি, ৩৫) খাস্তা পুরি, ৩৬) কদলি বরা, ৩৭) মাধু রুচি অর্থাৎ মিষ্টি চাটনি, ৩৮) সানা আরিশা অর্থাৎ রাইস কেক, ৩৯) পদ্ম পিঠে, ৪০) পিঠে, ৪১) কানজি অর্থাৎ চাল দিয়ে বিশেষ মিষ্টি. ৪২) দাহি পাখাল অর্থাৎ দই ভাত, ৪৩) বড় আরিশা, ৪৪) ত্রিপুরি, ৪৫) সাকারা অর্থাৎ সুগার ক্যান্ডি, ৪৬) সুজি ক্ষীর, ৪৭) মুগা সিজা, ৪৮) মনোহরা মিষ্টি, ৪৯) মাগাজা লাড্ডু, ৫০) পানা, ৫১) অন্ন, ৫২) ঘি ভাত, ৫৩) ডাল, ৫৪) বেসর অর্থাৎ সবজি বিশেষ, ৫৫) মাহুর অর্থাৎ লাবরা, ৫৬) সাগা নাড়িয়া অর্থাৎ নারকেলের দুধ দিয়ে মাখা ভাত। (Rath Yatra 2024)

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Rath Yatra 2024: পুরীর রথযাত্রায় তিন দেবদেবীর রথের আলাদা মাহাত্ম্য আছে, জানেন কি?

    Rath Yatra 2024: পুরীর রথযাত্রায় তিন দেবদেবীর রথের আলাদা মাহাত্ম্য আছে, জানেন কি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংস্কৃত ভাষায় রথ (Rath Yatra 2024) মানে গাড়ি এবং যাত্রা মানে মিছিল। ক্ষণিকের জন্য জগন্নাথদেবকে রথের উপর দর্শন করাকে বহু পুণ্য কর্মের ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বাস, এই রথযাত্রা এতটাই পবিত্র যে, কেউ যদি এই দিনে রথ অথবা রথের রশি স্পর্শ করেন, তাহলে বহু পুণ্য কর্মের ফল লাভ করতে পারেন।

    পুরীর রথযাত্রার বিশেষত্ব

    জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় আজও আমরা দেখে থাকি, প্রতিবছর রথযাত্রার উদ্বোধন করেন সেখানকার রাজা। রাজত্ব না থাকলেও বংশ পরম্পরাক্রমে পুরীর রাজপরিবারের নিয়মানুযায়ী, যিনি রাজা উপাধিপ্রাপ্ত হন, তিনিই এই যাত্রার সূচনা করেন। জগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রার পরপর তিনটি রথের সামনে এসে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান ও সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের সম্মুখভাগ ঝাঁট দেওয়ার পরই পুরীর রথের রশিতে টান পড়ে। শুরু হয় জগন্নাথদেবের রথযাত্রা (Rath Yatra Chariots)।

    পুরীর রথযাত্রা (Rath Yatra 2024) উৎসব হচ্ছে, বড় ভাই বলরাম বা বলভদ্র ও বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবন যাত্রার স্মারক। তিন জনের জন্য আলাদা আলাদা তিনটি রথ। রথযাত্রা উৎসবের মূল দর্শনীয় জিনিস হল এই রথ তিনটি। প্রথমে যাত্রা শুরু করে বড় ভাই বলভদ্রের রথ। তারপর সুভদ্রা এবং শেষে জগন্নাথ।

    পুরীর এই রথ তিনটির আলাদা আলাদা নাম। জগন্নাথ দেবের রথ — নন্দী ঘোষ, বলরামের রথ — তালধ্বজ ও সুভদ্রার রথ — দর্পদলন নামে পরিচিত। প্রতি বছর উল্টোরথের পর রথ তিনটি ভেঙে ফেললেও রথের পার্শ্বদেবদেবীর মূর্তি, সারথি ও ঘোড়াগুলিকে সযত্নে তুলে রাখা হয়। 

    এক নজরে রথ তিনটির (Rath Yatra Chariots) পরিচয়…

    নন্দীঘোষ (জগন্নাথ): কথিত আছে, এই রথটি (Rath Yatra 2024) দেবরাজ ইন্দ্র শ্রীজগন্নাথদেবকে প্রদান করেছিলেন। এই রথ নির্মাণে ছোট বড় ৮৩২টি কাঠের টুকরো লাগে। উচ্চতা ৪৪’২” বা ১৩.৫ মিটার। দৈর্ঘ্য ৩৪’৬” এবং প্রস্থ ৩৪’৬”। আগে ১৮টি চাকা থাকলেও, বর্তমানে ১৬টি থাকে। রথের ধ্বজার নাম ত্রৈলোক্যমোহিনী ও রশির নাম শঙ্খচূড় নাগিনী। দ্বারপাল ব্রহ্মা ও ইন্দ্র। রথে উপস্থিত নয় জন পার্শ্ব দেবগণ হলেন — বরাহ, গোবর্ধন, কৃষ্ণ/গোপীকৃষ্ণ, নৃসিংহ, রাম, নারায়ণ, ত্রিবিক্রম, হনুমান ও রুদ্র। এঁদের সঙ্গে রয়েছেন ধ্যানমগ্ন ঋষিরা — নারদ, দেবল, ব্যাসদেব, শুক, পরাশর, বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র ও মরীচি। লাল ও হলুদ কাপড়ে মোড়া এই রথে (Jagannath Chariot) কালো রঙের চারটি ঘোড়া হল— শঙ্খ, বলাহক, শ্বেত ও হরিদাক্ষ। রথের সারথি দ্বারুজ ও রক্ষক গরুড়। রথের কলসের নাম হিরন্ময়। রথের দ্বারপাল জয়, বিজয়। রথের রজ্জুর নাম শঙ্খচূড়। রথের নেত্রর নাম তৈলক্ষ মোহিনী। রথের অধীশ্বর প্রভু জগন্নাথ।

    তালধ্বজ (বলভদ্র/বলরাম): ৭৬৩টি ছোট বড় কাঠের টুকরো দিয়ে নির্মিত এই রথ। এই রথের (Rath Yatra 2024) উচ্চতা ৪৪’ বা ১৩.২ মিটার। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ৩৩’ x ৩৩’। আগে ১৬টি থাকলেও এখন চাকার সংখ্যা ১৪টি। ধ্বজার নাম উন্মনী এবং রশির নাম বাসুকী নাগ। ন’জন পার্শ্বদেবতা হলেন — গণেশ, কার্তিক, সর্বমঙ্গলা, প্রলম্ব, হলায়ুধ, মৃত্যুঞ্জয়, নাটেশ্বর, মহেশ্বর ও শেষদেব। দ্বারপাল রুদ্র ও সাত্যকি। সারথি মাতলি এবং রক্ষক বাসুদেব। রথের শ্বেতবর্ণের চারটি ঘোড়ার নাম তীব্র, ঘোর, শ্রম (স্বর্ণনাভ) ও দীর্ঘ (দীর্ঘশর্মা)। সুদর্শন চক্রের পাশে দুটি পাখির (কাকাতুয়া) নাম স্বধা ও বিশ্বাস। রথটি সবুজ ও লাল কাপড়ে মোড়া। রথের ধ্বজার/পতাকার নাম উন্মনী। 

    দর্পদলন (সুভদ্রা): ৫৯৩টি টুকরো কাঠ দিয়ে তৈরি এই রথের (Rath Yatra 2024) উচ্চতা ৪২’৩” বা ১২.৯ মিটার এবং দৈর্ঘ্য – প্রস্থ ৩১’৬” x ৩১’৬”। চাকার সংখ্যা ১২। ধ্বজার নাম নাদম্বিক এবং রশির নাম স্বর্ণচূড় নাগ। ধ্বজার পাশের পাখি দুটির নাম শ্রুতি ও স্মৃতি। রথটি (Rath Yatra Chariots) লাল ও কালো কাপড়ে ঢাকা। ন’জন পার্শ্বদেবী হলেন — চণ্ডী, চামুণ্ডা, মঙ্গলা, উগ্রতারা, বনদুর্গা, শুলিদুর্গা, শ্যামাকালী, বিমলা ও বরাহি। দ্বারপালিকা — ভূদেবী ও শ্রীদেবী। সারথি অর্জুন আর রক্ষক জয়দুর্গা। লাল রঙের ঘোড়া চারটির নাম রচিকা, মোচিকা, জিতা ও অপরাজিতা। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bahuda Yatra: আজ উল্টো রথ, ৮ দিন মাসির বাড়ি কাটিয়ে ঘরে ফিরছেন জগন্নাথ

    Bahuda Yatra: আজ উল্টো রথ, ৮ দিন মাসির বাড়ি কাটিয়ে ঘরে ফিরছেন জগন্নাথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আষাঢ় মাসে শুক্লা দ্বিতীয়াতে হয় রথযাত্রা (Ratha Yatra 2022)। ঠিক ৯ দিনের মাথায়, অর্থাৎ শুক্লা একাদশীর দিন উল্টো রথযাত্রা হয়। কথিত, আজকের দিন মাসির বাড়িতে আটদিন কাটিয়ে নিজ গৃহ অর্থাৎ, শ্রীমন্দিরে ফিরবেন জগন্নাথ (Lord Jagannath), বলরাম ও সুভদ্রা।

    গত ১ জুলাই তিন দেবদেবী মাসির বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। আট দিন সেখানে কাটিয়ে আজ গুণ্ডিচা থেকে জগন্নাথধামের (Jagannath Dham) পথে তিন দেবদেবী। সেদিন ছিল রথযাত্রা। আজকের গন্তব্য ঠিক উল্টো। তাই ফেরাকে বলা হয় উল্টো রথযাত্রা। এই যাত্রা বহুদা যাত্রা (Bahuda Yatra) নামেও ভক্তদের মধ্যে পরিচিত।

    আজকের এই ফিরতি যাত্রার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে বার্ষিক রথযাত্রা উৎসব। এরপর দিনই হবে ১০ জুলাই, অর্থাৎ রবিবার হবে সুনাবেশ যাত্রা। এদিন তিন দেবদেবীকে নতুন বস্ত্র পরানো হবে। ২৩ জুলাই সম্পন্ন হবে নিলাদ্রি বিজে যাত্রা।

    আরও পড়ুন: বাড়িতে সুখ-সমৃদ্ধি আনতে চান? রথযাত্রার পবিত্র দিনে করুন এই কাজগুলো

    পুরীর জগন্নাথ ধামের রথযাত্রা জগদ্বিখ্যাত। বলা বাহুল্য, রথযাত্রার মতো উল্টো রথেও সেখানে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। পুরীর এই উৎসবের অনেক মাহাত্ম্যও রয়েছে। 

    সুভদ্রার (দর্পদলন) রথটি মাঝখানে, তার পরে পশ্চিমে বলভদ্রের (তালধ্বজ) রথ এবং সবশেষে পূর্বে জগন্নাথের (নন্দীঘোষ) রথ। অর্থাৎ, মাঝখানে সুভদ্রা, ডানে জগন্নাথ এবং বামদিকে বলভদ্র।

    উল্টো রথযাত্রার সময় প্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার রথগুলি মৌসিমা মন্দিরে থামে। ভগবান জগন্নাথের মাসিকে উৎসর্গ করা মৌসিমা মন্দিরে তিন দেবতাকে ‘পোদা পিঠা পরিবেশন করা হয়, যা ভাত, নারকেল, মসুর এবং গুড় সমন্বিত একটি অনন্য সুস্বাদু খাবার।

    এর পরে, জগন্নাথের রথ গজপতির প্রাসাদের সামনে লক্ষীনারায়ণ ভেতা বা লক্ষ্মীর সমাবেশের জন্য থামে। তারপর রথ টানা হয় এবং তার চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছায়। বলা বাহুল্য, রথযাত্রার মতো উল্টো রথেও সেখানে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। পুরীর এই উৎসবের অনেক মাহাত্ম্যও রয়েছে। 

    আরও পড়ুন: পুরীর মন্দির ঘিরে রয়েছে এই অলৌকিক গল্পগুলি, জানতেন কি?

    সুভদ্রার (দর্পদলন) রথটি মাঝখানে, তার পরে পশ্চিমে বলভদ্রের (তালধ্বজ) রথ এবং সবশেষে পূর্বে জগন্নাথের (নন্দীঘোষ) রথ। অর্থাৎ, মাঝখানে সুভদ্রা, ডানে জগন্নাথ এবং বামদিকে বলভদ্র।

    উল্টো রথযাত্রার সময় প্রভু জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার রথগুলি মৌসিমা মন্দিরে থামে। ভগবান জগন্নাথের মাসিকে উৎসর্গ করা মৌসিমা মন্দিরে তিন দেবতাকে ‘পোদা পিঠা পরিবেশন করা হয়, যা ভাত, নারকেল, মসুর এবং গুড় সমন্বিত একটি অনন্য সুস্বাদু খাবার।

    এর পরে, জগন্নাথের রথ গজপতির প্রাসাদের সামনে লক্ষীনারায়ণ ভেতা বা লক্ষ্মীর সমাবেশের জন্য থামে। তারপর রথ টানা হয় এবং তার চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছায়।

  • Rath Yatra 2022: পুরীর রথযাত্রার তিন রথের আলাদা মাহাত্ম্য আছে, জানেন কি?

    Rath Yatra 2022: পুরীর রথযাত্রার তিন রথের আলাদা মাহাত্ম্য আছে, জানেন কি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংস্কৃত ভাষায় রথ মানে গাড়ি এবং যাত্রা মানে মিছিল। ক্ষণিকের জন্য জগন্নাথদেবকে রথের উপর দর্শন করাকে বহু পুণ্য কর্মের ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই অনুষ্ঠানটি এতই পবিত্র যে, কেউ যদি এই দিনে রথ স্পর্শ করে অথবা এমনকি রথের দড়ি স্পর্শ করে, তাহলে বহু পুণ্য কর্মের ফল লাভ করতে পারেন।

    জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় আজও আমরা দেখে থাকি, প্রতিবছর রথযাত্রার উদ্বোধন করেন সেখানকার রাজা। রাজত্ব না থাকলেও বংশ পরম্পরাক্রমে পুরীর রাজপরিবারের নিয়মানুযায়ী যিনি রাজা উপাধিপ্রাপ্ত হন, তিনি জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাদেবীর পরপর তিনটি রথের সামনে এসে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান ও সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের সম্মুখভাগ ঝাঁট দেওয়ার পরই পুরীর রথের রশিতে টান পড়ে। শুরু হয় জগন্নাথদেবের রথযাত্রা।

    আরও পড়ুন: বিপদ এড়াতে বিপত্তারিণী পুজো! জানুন এই ব্রতর মাহাত্ম্য

    পুরীর রথযাত্রা উৎসব হচ্ছে, বড় ভাই বলরাম বা বলভদ্র ও বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবন যাত্রার স্মারক। তিন জনের জন্য আলাদা আলাদা তিনটি রথ। রথযাত্রা উৎসবের মূল দর্শনীয় জিনিস হল এই রথ তিনটি। প্রথমে যাত্রা শুরু করে বড় ভাই বলভদ্রের রথ। তারপর সুভদ্রা এবং শেষে জগন্নাথ।

    পুরীর এই রথ তিনটির আলাদা আলাদা নাম। জগন্নাথ দেবের রথ — নন্দী ঘোষ, বলরামের রথ — তালধ্বজ ও সুভদ্রার রথ — দর্পদলন নামে পরিচিত। প্রতি বছর উল্টোরথের পর রথ তিনটি ভেঙে ফেললেও রথের পার্শ্বদেবদেবীর মূর্তি, সারথি ও ঘোড়াগুলিকে সযত্নে তুলে রাখা হয়। 

    এবারে রথ তিনটির একটু পরিচয় দেওয়া যাক :

    আরও পড়ুন: যোগিনী একাদশী কবে জেনে নিন, ব্রত পালনের নিয়মবিধি জানেন তো?

    নন্দীঘোষ (জগন্নাথ): কথিত আছে, এই রথটি দেবরাজ ইন্দ্র শ্রীজগন্নাথদেবকে প্রদান করেছিলেন। এই রথ নির্মাণে ছোট বড় ৮৩২টি কাঠের টুকরো লাগে। উচ্চতা ৪৪’২” বা ১৩.৫ মিটার ও দৈর্ঘ্য প্রস্থ ৩৪’৬” x ৩৪’৬”। আগে ১৮টি চাকা থাকলেও, বর্তমানে ১৬টি থাকে। রথের ধ্বজার নাম ত্রৈলোক্যমোহিনী ও রশির নাম শঙ্খচূড় নাগিনী। দ্বারপাল ব্রহ্মা ও ইন্দ্র। রথে উপস্থিত নয় জন পার্শ্ব দেবগণ হলেন — বরাহ, গোবর্ধন, কৃষ্ণ/গোপীকৃষ্ণ, নৃসিংহ, রাম, নারায়ণ, ত্রিবিক্রম, হনুমান ও রুদ্র। এঁদের সঙ্গে রয়েছেন ধ্যানমগ্ন ঋষিরা — নারদ, দেবল, ব্যাসদেব, শুক, পরাশর, বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র ও মরীচি। লাল ও হলুদ কাপড়ে মোড়া এই রথে কালো রঙের চারটি ঘোড়া হল— শঙ্খ, বলাহক, শ্বেত ও হরিদাক্ষ। রথের সারথি দ্বারুজ ও রক্ষক গরুড়। রথের কলসের নাম হিরন্ময়। রথের দ্বারপাল জয়, বিজয়। রথের রজ্জুর নাম শঙ্খচূড়। রথের নেত্রের নাম তৈলক্ষ মোহিনী। রথের অধীশ্বর প্রভু জগন্নাথ।

    তালধ্বজ (বলভদ্র/বলরাম): ৭৬৩টি ছোট বড় কাঠের টুকরো দিয়ে নির্মিত এই রথ। এই রথের উচ্চতা ১৩.২ মিটার। দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ৩৩’ x ৩৩’। আগে ১৬টি থাকলেও এখন চাকার সংখ্যা ১৪টি। ধ্বজার নাম উন্মনী এবং রশির নাম বাসুকী নাগ। ন’জন পার্শ্বদেবতা হলেন — গণেশ, কার্তিক, সর্বমঙ্গলা, প্রলম্ব, হলায়ুধ, মৃত্যুঞ্জয়, নাটেশ্বর, মহেশ্বর ও শেষদেব। দ্বারপাল রুদ্র ও সাত্যকি। সারথি মাতলি এবং রক্ষক বাসুদেব। রথের শ্বেতবর্ণের চারটি ঘোড়ার নাম তীব্র, ঘোর, শ্রম (স্বর্ণনাভ) ও দীর্ঘ (দীর্ঘশর্মা)। সুদর্শন চক্রের পাশে দুটি পাখির (কাকাতুয়া) নাম স্বধা ও বিশ্বাস। রথটি সবুজ ও লাল কাপড়ে মোড়া। রথের ধ্বজার/পতাকার নাম উন্মনী। 

    দর্পদলন (সুভদ্রা): ৫৯৩টি টুকরো কাঠ দিয়ে তৈরি এই রথের উচ্চতা ৪২’৩” বা ১২.৯ মিটার এবং দৈর্ঘ্য – প্রস্থ ৩১’৬” x ৩১’৬”। চাকার সংখ্যা ১২। ধ্বজার নাম নাদম্বিক এবং রশির নাম স্বর্ণচূড় নাগ। ধ্বজার পাশের পাখি দুটির নাম শ্রুতি ও স্মৃতি। রথটি লাল ও কালো কাপড়ে ঢাকা। ন’জন পার্শ্বদেবী হলেন — চণ্ডী, চামুণ্ডা, মঙ্গলা, উগ্রতারা, বনদুর্গা, শুলিদুর্গা, শ্যামাকালী, বিমলা ও বরাহি। দ্বারপালিকা — ভূদেবী ও শ্রীদেবী। সারথি অর্জুন আর রক্ষক জয়দুর্গা। লাল রঙের ঘোড়া চারটির নাম রচিকা, মোচিকা‚ জিতা ও অপরাজিতা। 

     

  • Rath Yatra 2022: পশ্চিমবঙ্গের এই প্রাচীন রথযাত্রাগুলোও সমান ঐতিহ্যবাহী, জানেন কি?

    Rath Yatra 2022: পশ্চিমবঙ্গের এই প্রাচীন রথযাত্রাগুলোও সমান ঐতিহ্যবাহী, জানেন কি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরীর জগন্নাথের রথযাত্রা হল বিশ্বের সব থেকে বড় আর প্রসিদ্ধ রথযাত্রা। তবে পুরীর পাশাপাশি,  পশ্চিমবঙ্গেরও বহু প্রাচীন আর প্রসিদ্ধ বেশ কিছু রথযাত্রা এখনও হয়ে থাকে। তার মধ্যে যেমন রয়েছে মায়াপুরের ইসকনের রথ, তেমনই রয়েছে মাহেশের রথও।

    মাহেশের রথ: পশ্চিমবঙ্গের তথা ভারতের অন্যতম প্রাচীন রথযাত্রা হল শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা। বিশালাকারের এই রথ। রথকে ঘিরে একমাসের মেলাও বসে এই এলাকায়। ১৩৯৬ সাল থেকে এই রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। রথের ওজন ১২৫ টন। উচ্চতা ৫০ ফুট। চাকার সংখ্যা ১২টি। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেঅ এখানে দর্শনার্থীরা আসেন না, দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তের মানুষও আসেন এখানে। 

    আরও পড়ুন: কীভাবে শুরু হয়েছিল পুরীর জগন্নাথ রথযাত্রা? জেনে নিন

    গুপ্তিপাড়ার রথ: হুগলির গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রা বাংলার রথযাত্রাগুলোর মধ্যে অন্যতম বিখ্যাত রথযাত্রা। ১৭৪০ সালে এই রথ উৎসব শুরু করেন মধুসূদানন্দ। তবে এই নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। গুপ্তিপাড়ার রথের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য হল ৪০ কুইন্টাল খাবারের ভাণ্ডার লুট প্রথা। পুরীর রথকে যেমন জগন্নাথ দেবের রথ বলে, গুপ্তিপাড়ার রথকে বলে বৃন্দাবন জীউর রথ। এই রথের ১৬টি চাকা। উচ্চতা ৩৬ ফুট।

    মায়াপুরে ইসকনের রথ: শ্রী চৈতন্যদেবের জন্মস্থান নদীয়ার মায়াপুরে ইসকনের রথ খুবই প্রসিদ্ধ। মহা সমারোহ এবং ভক্ত সমাগমের সঙ্গে এখানে রথযাত্রা হয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বিখ্যাত রথ উৎসব। 

    মহিষাদলের রথ: পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের রথযাত্রা খুবই বিখ্যাত। এটি দুশো বছরের পুরোনো রথ। ১৭৭৬ সালে মহিষাদল বাড়ির জমিদার আনন্দলালের স্ত্রী জানকী এই উৎসবের শুরু করেন। তোপধ্বনি করে রথযাত্রার সূচনা হয়।

    আরও পড়ুন: প্রতিবছর রথযাত্রার আগে জ্বর আসে জগন্নাথদেবের, কেমন করা হয় চিকিৎসা?

    রাজবলহাটের রথ: হুগলির জঙ্গিপাড়ার রাজবলহাটের রথযাত্রা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বিখ্যাত রথযাত্রা। এই রথে জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রার পরিবর্তে রাধাকৃষ্ণকে বসিয়ে টানা হয়। সঙ্গে থাকেন নিতাই-গৌরও।

    আমাদপুরের রথ: বর্ধমানের মেমারি অঞ্চলের ছোট্ট গ্রাম আমোদপুর বা আমাদপুর। গ্রাম ছোট্ট হলেও, এই গ্রামে রথযাত্রা পালন করা হয় ধুমধাম করে। গ্রামের জমিদার পরিবারের দেবতা হলেন রাধামাধব। সেই রাধামাধবকে নিয়ে হয় রথযাত্রা। গ্রামেরই প্রাচীন মন্দিরে পুজো হয় তাঁর। রথের দিন সকালে তাঁকে প্রথমে দুর্গাবাড়ি (মা দুর্গার মন্দির), পরে সারা গ্রাম ঘোরানো হয়।

  • Rath Yatra 2022: রথের দিন জগন্নাথদেবকে দেওয়া হয় বিশেষ ছাপ্পান্ন ভোগ, জানেন কি এর মাহাত্ম্য?

    Rath Yatra 2022: রথের দিন জগন্নাথদেবকে দেওয়া হয় বিশেষ ছাপ্পান্ন ভোগ, জানেন কি এর মাহাত্ম্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরাণ মতে, যশোদা বালক কৃষ্ণকে আট প্রহর খেতে দিতেন। কিন্তু, একটা সময় ইন্দ্রের রোষে পড়ে মহাপ্রলয়ের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় প্রাণীদের রক্ষা করতে নিজের কনিষ্ঠ আঙুলে গোবর্ধন পাহাড় তুলে নিয়েছিলেন তিনি। সাতদিন ওইভাবেই তিনি ছিলেন। খাবার ও জল কোনও কিছুই মুখে দেননি। প্রলয় বন্ধ হওয়ার পর সেই পাহাড় নামিয়ে রেখেছিলেন। এদিকে যে ছেলে দিনে আটবার খাবার খেত তাকে টানা সাতদিন অনাহারে থাকতে দেখে কেঁদে উঠেছিল যশোদার মন। তখন ব্রজবাসী-সহ যশোদা সাতদিন ও আট প্রহরের হিসেবে কৃষ্ণের জন্য ৫৬টি পদ পরিবেশন করেছিলেন। আর সেই থেকেই নারায়ণের ছাপ্পান্ন ভোগ চলে আসছে।

    এও কথিত আছে, ভগবান বিষ্ণু মর্ত্যলোকে এসে তাঁর চার ধামে যাত্রা করেন। এই চার ধাম হল- বদ্রীনাথ ধাম, দ্বারিকা ধাম, পুরী ধাম এবং রামেশ্বরম। প্রথমে হিমালয়ের শিখরে অবস্থিত বদ্রীনাথ ধামে স্নান করেন,তারপর গুজরাটের দ্বারিকা ধামে গিয়ে বস্ত্র পরিধান করেন, ওড়িশার পুরী ধামে ভোজন করেন আর সবশেষে রামেশ্বরমে গিয়ে বিশ্রাম নেন। আর পুরী ধামে যেখানে তিনি ভোজন করেন সেখানে ভোগের কোনও চমক থাকবে না এটা কখনও হয়। 

    আরও পড়ুন: রথযাত্রার আগে জেনে নিন জগন্নাথদেবের পুজো-বিধি ও তার তাৎপর্য

    পুরাণ মতে, ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার কৃষ্ণের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত করা হয় জগন্নাথদেবকে। জগন্নাথের মধ্যে বিষ্ণুর সকল অবতারের চিহ্ন আছে। আর সেই কারণে তাঁকেও অর্পণ করা হয় ছাপান্ন ভোগ। 

    কিন্তু, কী এই ছাপ্পান্ন ভোগ? কী কী পদ থাকে এই ছাপ্পান্ন ভোগে? জগন্নাথকে দেওয়া ৫৬ ভোগে রাখা হয়—

    ১) উকখুড়া অর্থাৎ মুড়ি, ২) নাড়িয়া কোড়া অর্থাৎ নারকেল নাড়ু, ৩) খুয়া অর্থাৎ খোয়া ক্ষীর, ৪) দই, ৫) পাচিলা কদলি অর্থাৎ পাকা কলা, ৬) কণিকা অর্থাৎ সুগন্ধী ভাত, ৭) টাটা খিচুড়ি অর্থাৎ শুকনো খিচুড়ি, ৮) মেন্ধা মুণ্ডিয়া অর্থাৎ বিশেষ ধরণের কেক, ৯) বড়া কান্তি অর্থাৎ বড় কেক, ১০) মাথা পুলি অর্থাৎ পুলি পিঠে, ১১) হামসা কেলি অর্থাৎ মিষ্টি কেক, ১২) ঝিলি অর্থাৎ এক ধরণের প্যান কেক, ১৩) এন্ডুরি অর্থাৎ নারকেল দিয়ে তৈরি কেক, ১৪) আদাপচেদি অর্থাৎ আদা দিয়ে তৈরি চাটনি, ১৫) শাক ভাজা, ১৬) মরিচ লাড্ডু অর্থাৎ লঙ্কার লাড্ডু, ১৭) করলা ভাজা, ১৮) ছোট্ট পিঠে, ১৯) বরা অর্থাৎ দুধ তৈরি মিষ্টি, ২০) আরিশা অর্থাৎ ভাত দিয়ে তৈরি মিষ্টি, ২১) বুন্দিয়া অর্থাৎ বোঁদে, ২২) পাখাল অর্থাৎ পান্তা ভাত, ২৩) খিরি অর্থাৎ পায়েস, ২৪) কাদামবা অর্থাৎ বিশেষ মিষ্টি ২৫) পাত মনোহার মিষ্টি ২৬) তাকুয়া মিষ্টি, ২৭) ভাগ পিঠে, ২৮) গোটাই অর্থাৎ নিমকি

    আরও পড়ুন: পুরীর মন্দির ঘিরে রয়েছে এই অলৌকিক গল্পগুলি, জানতেন কি?

    ২৯) দলমা অর্থাৎ ভাত ও সবজি, ৩০) কাকারা মিষ্টি ৷ ৩১) লুনি খুরুমা অর্থাৎ নোনতা বিস্কুট, ৩২) আমালু অর্থাৎ মিষ্টি লুচি, ৩৩) বিড়ি পিঠে, ৩৪) চাড়াই নাডা মিষ্টি, ৩৫) খাস্তা পুরি, ৩৬) কদলি বরা, ৩৭) মাধু রুচি অর্থাৎ মিষ্টি চাটনি, ৩৮) সানা আরিশা অর্থাৎ রাইস কেক, ৩৯) পদ্ম পিঠে, ৪০) পিঠে, ৪১) কানজি অর্থাৎ চাল দিয়ে বিশেষ মিষ্টি. ৪২) দাহি পাখাল অর্থাৎ দই ভাত, ৪৩) বড় আরিশা, ৪৪) ত্রিপুরি, ৪৫) সাকারা অর্থাৎ সুগার ক্যান্ডি, ৪৬) সুজি ক্ষীর, ৪৭) মুগা সিজা, ৪৮) মনোহরা মিষ্টি, ৪৯) মাগাজা লাড্ডু, ৫০) পানা, ৫১) অন্ন, ৫২) ঘি ভাত, ৫৩) ডাল, ৫৪) বেসর অর্থাৎ সবজি বিশেষ, ৫৫) মাহুর অর্থাৎ লাবরা, ৫৬) সাগা নাড়িয়া অর্থাৎ নারকেলের দুধ দিয়ে মাখা ভাত।

  • Jagannath Rath Yatra: বাড়িতে সুখ-সমৃদ্ধি আনতে চান? রথযাত্রার পবিত্র দিনে করুন এই কাজগুলো

    Jagannath Rath Yatra: বাড়িতে সুখ-সমৃদ্ধি আনতে চান? রথযাত্রার পবিত্র দিনে করুন এই কাজগুলো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্মের (Hinduism) একটি অন্যতম পবিত্র উৎসব হল রথযাত্রা (Rath Yatra)। রথযাত্রা এক বিশেষ পুণ্য তিথি, এই তিথির মাধ্যমে জগন্নাথ, (Lord Jagannath) বলরাম ও সুভদ্রা নগর ভ্রমণ প্রচলিত আছে। 

    কথিত আছে, স্নানযাত্রার ১৫ দিন পর রথে চড়ে মাসির বাড়ি যান জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা৷ এই শুক্রবার রথযাত্রা৷ তাই ইতিমধ্যে জগন্নাথ ধামে (Jagannath Dham) প্রস্তুতি তুঙ্গে৷ কিন্তু জানেন কি রথের দিন কিছু নিয়ম মানলেই ঘুরতে পারে আপনার রথের চাকা৷ 

    রথ হল জয়ের প্রতীক। কথিত রয়েছে, রথ দেখলে আধ্যাত্মিক জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, চিত্তশুদ্ধি ঘটে এমনকি রথ টানার সময় একজন যদি তা দাঁড়িয়ে দেখেন তাতে তাঁর অন্তরে থাকা সমস্ত পাপের মোচন ঘটে।

    আরও পড়ুন: পুরীর রথযাত্রার তিন রথের আলাদা মাহাত্ম্য আছে, জানেন কি?

    শাস্ত্র অনুযায়ী, সংসারে সমৃদ্ধি, শ্রীবৃদ্ধির জন্য রথ উৎসব কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ তাই রথের দিন সকালটা অন্যান্য দিনের চেয়ে আলাদা। কী কী করবেন?

    • এদিন সকাল সকাল স্নান সেরে নিন৷ রথযাত্রার দিন সকালে গঙ্গা বা যে কোনও জলাশয়ে গিয়ে স্নান করা খুবই ভাল বলে মানা হয়। এই দিন জলে নিমপাতা মিশিয়ে স্নান করলে জীবন থেকে নানা বাধা বিপত্তি কেটে যায় এবং শরীর থেকে নেগেটিভ এনার্জি দূর হয়ে পজিটিভ এনার্জি ভরে থাকে।
    • রথের দিন বাড়িতে জগ্ননাথ, বলরাম ও সুভদ্রার একত্রে থাকা ছবি বা মূর্তি পুজো করুন। জগন্নাথদেবকে সাদা, হলুদ ফুলে সাজিয়ে তুলুন৷ সঙ্গে সাজিয়ে তুলুন বলরাম ও সুভদ্রাকেও৷ 
    • সাদা চন্দন দিয়ে জগন্নাথকে সাজাতে ভুলবেন না যেন৷ ঠাকুর ঘর ছাড়া, ঘরের অন্য কোথাও জগন্নাথ দেবের মূর্তি থাকলে, সব মূর্তিতেই মালা, ফুল দিন৷
    • কথিত রয়েছে, মনস্কামনা পূরণের জন্য ১১ রকমের ফল, ১১ রকমের মিষ্টি এবং ১১টি এক টাকার কয়েন একটি হলুদ কাপড়ে করে জগন্নাথদেবের আসনে রেখে দিতে হবে।
    • এ দিন জগন্নাথ দেবের সামনে জ্বালিয়ে দিন ঘিয়ের প্রদীপ৷ লক্ষ্য রাখুন প্রদীপটি যেন জ্বলতে থাকে৷ সেই প্রদীপ থেকে জ্বালিয়ে নিন রথে রাখা প্রদীপটি৷
    • বাড়িতে নারায়ণ থাকলে তার সামনেও এই ব্রত পালন করতে পারেন। একটি পেতলের বাটিতে একটু আতপ চাল, দুটো কাঁচা হলুদ এবং ১ টাকার একটি কয়েন দিন।

    আরও পড়ুন: পুরীর মন্দির ঘিরে রয়েছে এই অলৌকিক গল্পগুলি, জানতেন কি?

    • শাস্ত্র মতে, তুলসি জগন্নাথদেবের সবচেয়ে প্রিয় তাই ১০৮টি তুলসী পাতা দিয়ে মালা তৈরি করুন, ১০৮টি পাতা না থাকলে ৫৪টি পাতা দিয়ে মালা তৈরি করতে পারেন। তবে তুলসি পাতা ফুটো করবেন না। তুলসি পাতার ডগাগুলিকে বেঁধে বেঁধে এই মালা তৈরি করতে হবে।
    • জগন্নাথদেব ক্ষীর খেতে ভালেবাসেন৷ ক্ষীর যেন থাকে জগন্নাথের প্রসাদে৷ রথ টানার আগে অবশ্যই শঙ্খধ্বনি ও কাঁসর-ঘণ্টা বাজান৷
    • রথ যেখান দিয়ে টানা হয় সেই স্থানের কিছুটা মাটি লাল কাপড়ে বেঁধে বাড়ির ঈশান কোণে পুঁতে রাখুন। এই টোটকাটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ। 
    • রথের দিন যদি সম্ভব হয় রথের দড়ি অবশ্যই টানুন, এতে যজ্ঞের সমান পুণ্য অর্জন করা যায়। 
    • এই দিন সাধ্যমতো দান ধ্যান করাও খুবই শুভ বলে মানা হয়। রথের দিন যদি কোনও মানুষ কিছু চাইতে আসে তা হলে সেই ব্যক্তিকে খালি হাতে কখনওই ফেরাবেন না।
    • এই দিন বাড়িতে বৃক্ষরোপণ করা অত্যন্ত শুভ কাজ। ছোট বড় যে কোনও গাছ বাড়িতে লাগানো যেতে পারে।
      রথযাত্রার পূণ্য লগ্নে অনেকেই গৃহ প্রবেশের অনুষ্ঠান করে থাকেন।
    • তাছাড়া বাড়িতে যাঁদের দুর্গাপুজো হয়, তাঁরাও এইদিনে খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠান করেন। এখন অবশ্য একাধিক বারোয়ারি পুজোরও খুঁটিপুজো করা হয়ে থাকে এই রথযাত্রার দিনেই।
  • Jagannath Rath Yatra: রথযাত্রার আগে জেনে নিন জগন্নাথদেবের পুজো-বিধি ও তার তাৎপর্য

    Jagannath Rath Yatra: রথযাত্রার আগে জেনে নিন জগন্নাথদেবের পুজো-বিধি ও তার তাৎপর্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় আনুমানিক সাতশো বছরের পুরনো পুরীরথযাত্রা (Puri Rath yatra) উৎসব। এই বিশেষ উৎসবকে ঘোষা যাত্রা বলেও পরিচিত। রথযাত্রার দিন এই তিন দেবতাকে গুণ্ডিচা মন্দিরে (Gundicha Temple) জগন্নাথদেবের (Lord Jagannath) মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। 

    হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লাপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে রথযাত্রা পালিত হয়। মোট ১১ দিন ধরে জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলরামকে উৎসর্গ করে আরাধনা করা হয়। রথযাত্রা ঘিরে রয়েছে একাধিক আচার-অনুষ্ঠান। রয়েছে একাধিক পুজবিধি। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক জগন্নাথদেবের রথযাত্রার (Jagannath Rath yatra) বিভিন্ন দিনক্ষণ ও তার তাৎপর্য—

    আরও পড়ুন: বাড়িতে সুখ-সমৃদ্ধি আনতে চান? রথযাত্রার পবিত্র দিনে করুন এই কাজগুলো

    আনসারী- স্নানযাত্রার পর অর্থাত পূর্ণিমার পরে কাঠের মূর্তিগুলি শোভাযাত্রা (রথযাত্রা) তারিখ অবধি গর্ভগৃহের একটি ঘরে রাখা হয়।

    চেরা পাহারা- মন্দিরের সিংহদ্বারের উত্তর দিকে পাশাপাশি রেখে দেওয়া হয়। এদিন ওড়িশার রাজা সোনার হাতলের ঝাড়ু দিয়ে রথটি পরিষ্কার করেন, পথও পরিষ্কার করেন এবং চন্দন ছিটিয়ে দেন।

    রথযাত্রা- মূল উৎসব। রথযাত্রা শুরু হয় এদিন। গুণ্ডিচাতে মাসির বাড়িতে যাওয়ার প্রথা জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রার।

    হেরা পঞ্চমী- প্রথম পাঁচ দিন গুণ্ডিচা মন্দিরে থাকেন তিন ভাই-বোন। পঞ্চম দিন ভগবান জগন্নাথের স্ত্রী দেবী লক্ষ্মীর এক অনুষ্ঠান ও পুজো করা হয়।

    সন্ধ্যা দর্শন- এই দিনে জগন্নাথ দর্শন করা ১০ বছর ধরে শ্রী হরির পুজো করার সমান পুণ্য লাভ হয়। 

    আরও পড়ুন: পুরীর রথযাত্রার তিন রথের আলাদা মাহাত্ম্য আছে, জানেন কি?

    বহুদা যাত্রা- অর্থাৎ উল্টো রথযাত্রা। ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রার ঘরে প্রত্যাবর্তন। 

    সুনা বেসা- রথযাত্রা শেষে যখন নিজের বাড়িতে জগন্নাথ ফিরে আসেন, তখন নিয়ম মেনে জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলরামকে ফের নতুন পোশাক পরানো হয়। সুন্দর সাজে সজ্জিত করা হয়।

    আধার পানা- আষাঢ়ের শুক্ল দ্বাদশীতে দিব্য এই রথে একটি বিশেষ পানীয় নিবেদন করা হয়। একে পানা বলা হয়, যা দুধ, পনির, চিনি এবং শুকনো ফল দিয়ে তৈরি হয়।

    নীলাদ্রি বিজে- জগন্নাথ রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণীয় আচার হল নীলাদ্রি বিজে।

LinkedIn
Share