Tag: Jahangir Khan

  • Jahangir Khan: জাহাঙ্গির-রেজিনার নামে ৬০টিরও বেশি সম্পত্তির হদিশ, মালিকানার উৎস খতিয়ে দেখছে সিট

    Jahangir Khan: জাহাঙ্গির-রেজিনার নামে ৬০টিরও বেশি সম্পত্তির হদিশ, মালিকানার উৎস খতিয়ে দেখছে সিট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফলতার একদা দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan) এবং তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবি ওরফে সারিকা বিবির নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল, সংক্ষেপে সিট। তদন্তকারী দল সূত্রে খবর, এ পর্যন্ত অন্তত ৬০টি সম্পত্তির দলিল (Property Deeds) উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে জমি, ফ্ল্যাট এবং আবাসন-সহ একাধিক স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তিগুলি কীভাবে জাহাঙ্গির ও তাঁর স্ত্রীর নামে হয়েছে এবং কেনাবেচার ক্ষেত্রে অর্থের উৎস কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রতিটি সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য, পূর্ববর্তী মালিক এবং লেনদেন সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আর্থিক লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া দলিলগুলি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Jahangir Khan)

    বর্তমানে জাহাঙ্গির এবং তাঁর স্ত্রী রেজিনা দু’জনেই পৃথক মামলায় গ্রেফতার। জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আর, স্বামীকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে থানায় অশান্তি করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন রেজিনা। জাহাঙ্গির বর্তমানে রয়েছেন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে, তাঁর স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে। জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি গড়ে তোলা এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে ফলতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুই। একই অভিযোগ পুলিশ সুপার এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই জাহাঙ্গির এবং তাঁর পরিবারের সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার উৎস নিয়ে উঠেছে গুচ্ছের প্রশ্ন (Jahangir Khan)।

    জাহাঙ্গিরের উত্থানের শুরু

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে জাহাঙ্গিরের উত্থানের শুরু ২০১৩ সালে। ওই বছর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি বেলসিংহা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। পরে হন ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। ২০২৩ সালের পর জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণও বেড়েছে রকেটের মতো গতিতে।উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতায় তৃণমূল প্রার্থী করেছিল জাহাঙ্গিরকে। নির্বাচনের দিন অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। তবে পুনর্নির্বাচনের আগে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর একাধিক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হন। গ্রেফতারি এড়াতে নেপালের দিকে পালিচ্ছিলেন। যদিও সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, উদ্ধার হওয়া সমস্ত নথি (Property Deeds) খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য, মালিকানা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ (Jahangir Khan)।

     

  • Jahangir Khan Wife Arrested: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরেই বড় পদক্ষেপ, ফলতা-কাণ্ডে পাকড়াও জাহাঙ্গিরের স্ত্রী

    Jahangir Khan Wife Arrested: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরেই বড় পদক্ষেপ, ফলতা-কাণ্ডে পাকড়াও জাহাঙ্গিরের স্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় থানায় হামলা ও ধৃত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’-কে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় তদন্তে বড় অগ্রগতি করল পুলিশ। শনিবার সকালে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী সারিনা বিবি ওরফে রেজিনা বিবিকে গ্রেফতার করেছে ফলতা থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, থানায় হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অশান্ত করার ঘটনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায় যে রেজিনা এলাকা ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি পালানোর জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থাও করেছিলেন। সেই খবরের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    জাহাঙ্গিরকে ছাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত?

    তদন্তকারীদের দাবি, গত মঙ্গলবার গ্রেফতার হওয়া জাহাঙ্গির খানকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় নিয়ে গিয়ে তদন্ত চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে তৃণমূল নেতার মুক্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভে সামিল হন। পুলিশের অভিযোগ, ওই বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না। বরং জাহাঙ্গিরকে থানার হেফাজত থেকে ছিনিয়ে আনার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার আগের দিন এলাকায় একটি বৈঠক করেন রেজিনা বিবি। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, জাহাঙ্গিরের সমর্থকরা থানার কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হবেন এবং সুযোগ বুঝে একযোগে থানার উপর হামলা চালিয়ে তাঁকে মুক্ত করার চেষ্টা করবেন।

    বিক্ষোভ থেকে সংঘর্ষ: নেতৃত্বে রেজিনা বিবি

    পুলিশের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার ফলতার শতল কলসা এলাকায় বেআইনি জমায়েতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষের সময় এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বহু বিক্ষোভকারী পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ রক্ষা পেতে নিকটবর্তী পুকুরে ঝাঁপ দেন বলেও জানা যায়। ঘটনার দিনই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলা এবং হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে অন্তত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই বিক্ষোভে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন রেজিনা বিবি। তিনি এলাকার বাসিন্দা এবং বহিরাগতদের উস্কানি দিয়ে বেআইনিভাবে জমায়েত সংগঠিত করেছিলেন বলে অভিযোগ।

    মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর জোরদার অভিযান

    এই ঘটনার পর বুধবার ফলতায় এক জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, কোনওভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া চলবে না। গুন্ডামি, সন্ত্রাস বা জঙ্গিপনার মতো কার্যকলাপ সরকার বরদাস্ত করবে না বলেও তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন, থানায় হামলার ঘটনায় যাঁদের ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত করা গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। তাঁর এই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনা বিবির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক আইনের আওতায় নতুন মামলা দায়ের করা হয়।

    দেশদ্রোহ-সহ একাধিক ধারায় মামলা

    ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গির খান-সহ ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে। তার মধ্যে দেশদ্রোহ-সংক্রান্ত ধারাও রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। শুক্রবার পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শনিবার রেজিনা বিবির গ্রেফতারের মাধ্যমে তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল বলে মনে করছে প্রশাসন। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, থানায় হামলার ঘটনায় আর কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এর নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না। ফলতা-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা যেমন তীব্র হয়েছে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টিও এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

  • Suvendu Adhikari: ফলতাকাণ্ডে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী, অন্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ফলতাকাণ্ডে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী, অন্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফলতায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কেউ যদি মনে করেন আইন হাতে তুলে নেবেন, তা হবে না। ফলতাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় (Falta Assembly) তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে হওয়া নজিরবিহীন হিংসার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কঠোর বার্তা, কোনও গুন্ডামি, জঙ্গিপনা চলতে দেওয়া হবে না।

    রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশ

    মঙ্গলবার ফলতার ধৃত তৃণমূল নেতা ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান এক দল লোকজন। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর নেতৃত্বে তাঁরা থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তবে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বুধবার ফলতায় জলকল্যাণ শিবিরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সেখান থেকেই তিনি মঙ্গলবারের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। নাম না করেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘টিভিতে দেখলাম এখানে কিছু লোক এক জন মাফিয়ার স্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশ এবং আধাসেনাকে আক্রমণ করতে গিয়েছিল।’’ এই ধরনের গুন্ডামি কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান তিনি। তার পরই শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ‘‘এসপি-কে বলে গেলাম, ভিডিয়োতে যত জনকে দেখা গিয়েছে, কেউ যেন বাড়িতে না থাকে। তাঁদের সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’’ শুধু তা-ই নয়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় (বিএনএস) রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য

    ফলতাবাসীদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘‘আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন, যত বড় মাফিয়া বা ডন হোক না কেন, রাজ্যের বিজেপি সরকার তাদের সবক শেখানোর কাজ করবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।’’ এই সরকার কাউকে ছাড়বে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা হামলা করেছেন, তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে চড়ানো হবে। এমন শিক্ষা দেওয়া হবে যাতে কোনও দিন কোনও পুলিশ, সরকারি কর্মী এবং আধাসেনাকে আক্রমণ করতে না পারেন।’’ বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে ফলতায় হওয়া একাধিক আর্থিক দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,‘‘গত আমফান ঘূর্ণিঝড়ের সময় ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকটি বাড়ির মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকাও এরা চুরি করেছে। চোরদের সেই সম্পূর্ণ তালিকা আমার হাতে চলে এসেছে, খুব শীঘ্রই তার আইনি ব্যবস্থা হবে।’’ এখানেই শেষ নয়, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি অভিযোগ করেন যে, এই প্রকল্পের নামে ৬০ হাজার টাকা করে প্রায় ৮,০০০ ইউনিটের টাকা কারা তুলে নিজেদের পকেটে পুরেছেন, তা ফলতার সব মানুষ ভাল করেই জানেন। নতুন সরকার এই সমস্ত টাকা চুরির হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

  • JP Nadda: জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলা মামলা, ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীরকে নিয়ে অপরাধের পুনর্নির্মাণ পুলিশের

    JP Nadda: জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলা মামলা, ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীরকে নিয়ে অপরাধের পুনর্নির্মাণ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালে ডায়মন্ড হারবার সফরের সময় বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার (JP Nadda) কনভয়ে হামলার ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করেছে পুলিশ। এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত তথা ফলতার তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীর খানকে (Jahangir Khan) সঙ্গে নিয়ে সম্প্রতি ঘটনাস্থলে অপরাধের পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Reconstruction) করেছে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। রাস্তা দিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় পরনে হাফ প্যান্ট ছিল। দুই হাতে কান ধরে ছিলেন এবং রাস্তায় উপস্থিত জনতার কাছে ক্ষমা চাইছিলেন।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তপ্রক্রিয়া (JP Nadda)

    ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জাহাঙ্গীর খানকে (Jahangir Khan) ফলতার নির্দিষ্ট ঘটনাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২০২০ সালের সেই দিনটিতে (JP Nadda) ঠিক কী ঘটেছিল, কনভয় লক্ষ্য করে কীভাবে এবং কোথা থেকে আক্রমণ চালানো হয়েছিল— তার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণচিত্র তৈরি করেন তদন্তকারীরা। পুলিশি জেরা ও পুনর্নির্মাণের সময় একসময়ের এই দাপুটে নেতাকে অত্যন্ত অনুতপ্ত ও বিপর্যস্ত দেখায়। সেই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতেই তিনি নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

    মামলা পুনরুজ্জীবন ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

    দীর্ঘদিন এই মামলার (JP Nadda) তদন্ত থমকে থাকার পর, সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি নতুন করে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, ইতিপূর্বে রাজনৈতিক প্রভাব বা অন্য কোনও কারণে তদন্তের গতিপ্রকৃতি ব্যাহত হয়েছিল, যার ফলে মূল অভিযুক্তরা আইনি সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। তবে বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজরদারির পর এই মামলার জট খুলতে শুরু করেছে।

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে জাহাঙ্গীর খানের (Jahangir Khan) রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে সরে যাওয়া এবং পরবর্তীকালে নেপাল সীমান্ত থেকে তাঁর গ্রেফতারের পর, পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা এই পুরোনো ও স্পর্শকাতর মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না এবং ঘটনার পেছনে থাকা সমস্ত কুশীলবদের আইনের আওতায় আনা হবে।

  • Jahangir Khan: মানুষকে ভয়মুক্ত করতে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকে হাফ প্যান্টে হাঁটিয়ে আদালতে নিয়ে গেল পুলিশ

    Jahangir Khan: মানুষকে ভয়মুক্ত করতে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকে হাফ প্যান্টে হাঁটিয়ে আদালতে নিয়ে গেল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ধৃত ডায়মন্ড হারবারের ১ নম্বর ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি জাহাঙ্গির খানকে (Jahangir Khan) নিয়ে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ তাঁকে হাফ প্যান্ট ও গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় হেঁটে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলতার (Falta) একজন কুখ্যাত এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে এই অবস্থায় প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের চেয়ে বিরোধীমহলে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

    পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ (Jahangir Khan)

    গত শনিবার রাতে ডায়মন্ড হারবার স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি অভিযানের সময় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জাহাঙ্গির খান (Falta) ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে জাহাঙ্গির সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। এরপর রবিবার ধৃত তৃণমূল নেতাকে ডায়মন্ড হারবার আদালতে পেশ করার সময় এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায়। সাধারণত নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়ার খাতিরে ধৃতদের পুলিশের গাড়িতে করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হলেও, জাহাঙ্গির খানের (Jahangir Khan) ক্ষেত্রে পুলিশ তাঁকে থানা থেকে আদালত পর্যন্ত হেঁটে নিয়ে যায়। সেই সময় তাঁর পরনে ছিল একটি সাধারণ হাফ প্যান্ট এবং গেঞ্জি। ফলতার (Falta) নেতা গ্রেফতার হতেই ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

    আইন সবার জন্য সমান

    এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের একাংশের মতে, আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। বিজেপির অবশ্য দাবি, এইরকম দাগি দুষ্কৃতীকে প্রকাশ্যে এনে ভয় দেখানোর পরিবেশ থেকে জনসাধারণকে মুক্ত করাই একমাত্র কাজ। অন্যদিকে, একজন ব্লক স্তরের প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্য রাস্তায় এভাবে নিয়ে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত (Jahangir Khan) বা এর পেছনে কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরে ও বাইরে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিশেষ কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ঘটনার জেরে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় (Falta) রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

  • Jahangir Arrested: দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা! নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান

    Jahangir Arrested: দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা! নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝুঁকেছিলেন পুষ্পা, এবার ধরা পড়লেন। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। শেষ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর জালে ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। সূত্রের খবর, দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন জাহাঙ্গির (Jahangir Arrested)। অবশেষে নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতার করে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

    নেপালে পালানোর চেষ্টা

    এসটিএফ সূত্রে খবর, নেপাল সীমান্ত ধরে পালানোর চেষ্টা করছিলেন জাহাঙ্গির। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান এসটিএফ-এর আধিকারিকেরা। ভারত-নেপাল সীমান্তে বাড়িভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেছিল জাহাঙ্গির।পরিবার নিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকাই ছিল জাহাঙ্গিরের লক্ষ্য। নেপালে পালিয়ে গিয়ে পাকাপাকি থাকার চেষ্টা করছিলেন। আগেভাগে নেপালের স্কুলে ভর্তি করেছিলেন সন্তানদের। মিলেছে জাহাঙ্গিরের সন্তানদের স্কুলে ভর্তির তথ্যও। পুলিশ বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর খোঁজ শুরু হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, পালিয়ে যাওয়ার পর নিজের অবস্থান গোপন রাখতে একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করেছিলেন তৃণমূল নেতা। তিনি মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখেন। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ থেকেও লগআউট করে যান, যাতে তাঁর অবস্থান বা যোগাযোগের সূত্র খুঁজে পাওয়া না যায়। ফলে গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে।

    কী করে জাহাঙ্গিরের খোঁজ পেল পুলিশ ?

    জাহাঙ্গিরের বিভিন্ন সঙ্গীদের গ্রেফতার করে পুলিশ জানতে পারে, তিনি নেপালে যাতায়াত করতেন। সেই সূত্রেই জাহাঙ্গিরের এক কাছের লোক যে নেপালে থাকত তাকে ট্র্যাক করতে শুরু করে পুলিশ। তাকে ট্র্যাক করে জানা যায়, ঘরভাড়া নিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকতে শুরু করে দিয়েছেন জাহাঙ্গির। নেপালে জাহাঙ্গিরের সন্তানকে ভর্তি করার কাজও এগোয়। পুলিশ জানতে পারে, জাহাঙ্গির বাংলা-নেপাল বর্ডারের কাছে রয়েছেন। সেইমতো টিম গঠন করা হয়। টিম গঠন করে সাদা পোশাকের ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ এবং এসটিএফের টিম সেখানকার উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশ আসছে খবর পেয়ে পালাতে শুরু করেন জাহাঙ্গির। তাঁকে ধরপাকড়ের জন্য দৌড়াদৌড়িও শুরু হয়ে যায়। শেষমেশ তাঁকে ধরে ফেলে পুলিশ।

    ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ ও এসটিএফ-এর অভিযান

    ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির। ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমি চাই ফলতায় শান্তি থাকুক। অনেক উন্নয়ন হোক। সোনার ফলতা হোক, এটা আমার স্বপ্ন ছিল। মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। আগামী ২১ মে পুননির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে তাই নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি’। ইভিএমে তৃণমূলের প্রতীকের পাশে জাহাঙ্গিরের নাম পর্যন্ত পাল্টাতে পারেনি তৃণমূল। ২৪ মে ভোটের ফল বেরোলে দেখা যায়, ফলতায় ১ লক্ষ ৯ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে ৭৭৮৩ টি ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছেন জাহাঙ্গির। এরপর কার্যত অন্তর্ধানে চলে যান। কোনও খোঁজ ছিল না তাঁর। বিভিন্ন মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকে তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ এবং এসটিএফ যৌথভাবে একাধিক জায়গায় অভিযান চালায়।

    জাহাঙ্গিরের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার

    ২০১৯ সালে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় রক্ষাকবচ পান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফলতার ওই তৃণমূল নেতা। এর পাশাপাশি, ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের আগে হাইকোর্ট থেকে আর একটি রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির। রাজ্যে পালাবদলের পর তদন্তের স্বার্থে জাহাঙ্গির খানের অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষার নির্দেশ প্রত্যাহার করার আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল খোদ রাজ্য সরকার। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, একাধিক মামলার তদন্তের খাতিরে এই প্রভাবশালী নেতাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। কিন্তু আদালতের আইনি রক্ষাকবচ থাকার কারণে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে পারছিল না। ২৬ মে কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খান জাহাঙ্গির। তাঁর আইনি সুরক্ষার মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকার করে উচ্চ আদালত। গত ২৬ মে জাহাঙ্গিরকে দেওয়া সমস্ত রক্ষাকবচই প্রত্যাহার করে নেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি পার্থসারথি সেন বলেন, পুলিশ যখন মামলা রুজু করেছে, তখন তদন্ত হবেই। এরপর জাহাঙ্গিরকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা ছিল না পুলিশের। জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারির দাবিতে সরব হন ফলতাবাসীও।

    জাহাঙ্গিরের নাম মোট ৭টি এফআইআর

    আইনি বাধা সরে যেতেই জাহাঙ্গিরকে পাকড়াও করার জল্পনা শুরু হয়। দীর্ঘ নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার শেষ পর্যন্ত তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এসটিএফ। নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়। জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। এলাকায় তাঁর প্রভাবশালী ভূমিকার কারণে তাঁকে অনেকেই ‘স্বঘোষিত ডন’ বলেও উল্লেখ করেন। সাধারণ মানুষকে রীতিমতো ভয়ে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রের খবর, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ফলতা থানায় খুন, খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, হুমকি, বাড়ি ভাঙচুর, লুঠ-সহ একাধিক অভিযোগে মোট ৭টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। অবশেষে জাহাঙ্গির গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তিতে ফলতাবাসী।

     

     

     

     

  • Falta Repoll: ছাপ্পা-রিগিং বিতর্কের পর পুনর্নির্বাচনের ফলতায় চলছে ভোটগ্রহণ, সকাল থেকেই বুথে বুথে লাইন ভোটারদের

    Falta Repoll: ছাপ্পা-রিগিং বিতর্কের পর পুনর্নির্বাচনের ফলতায় চলছে ভোটগ্রহণ, সকাল থেকেই বুথে বুথে লাইন ভোটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে আজ, বৃহস্পতিবার ২১ মে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। এই কেন্দ্রের মোট ২৮৫টি বুথে পুনরায় ভোট নেওয়া হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার। আগামী ২৪ মে ভোটগণনা হবে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ২৯ এপ্রিলের ভোটে একাধিক অনিয়ম ও ভোটপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার অভিযোগের জেরে গোটা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ভোটে অনিয়মের অভিযোগ

    গত ২৯ এপ্রিল ছিল রাজ্যের শেষ দফার বিধানসভা নির্বাচন। সেই দিন ফলতা কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথ থেকে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, একাধিক ইভিএমে আতর, কালি ও টেপ লাগানো হয়েছিল। কোথাও বুথ দখল, কোথাও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ জমা পড়ে। ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোট দিতে বাধা দেওয়া এবং ভুয়ো ভোটারের মাধ্যমে অন্যের হয়ে ভোট দেওয়ার মতো অভিযোগও ওঠে। এছাড়াও বেশ কিছু বুথে সিসিটিভি বা ভিডিও রেকর্ডিং পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়। কোথাও দীর্ঘ সময় নজরদারি ব্যবস্থা বন্ধ ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। কিছু বুথে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীদের অযাচিত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

    কমিশনের সিদ্ধান্ত

    ফলতা থেকে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসার পর পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, পরিস্থিতি বিচার করে নির্বাচন কমিশনের উচিত পুনরায় ভোট করানো। পরে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভোটের দিন সকালে কয়েকটি বুথে ক্যামেরা বন্ধ ছিল এবং পরে “টেপ রিমুভড” বলে তথ্য দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যেই বিপুল ভোট পড়ে যায় বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন জানায়, ফলতায় “স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক ভোটপ্রক্রিয়া” বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই কেন্দ্রের সবকটি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    পুনর্নির্বাচন ঘিরে ফলতায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে খবর, আগের ভোটের তুলনায় নিরাপত্তা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। এবার প্রতিটি বুথে ৮ জন করে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) জওয়ান মোতায়েন থাকবেন। গত ২৯ এপ্রিল বুথপিছু মাত্র ৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। মোট ২৮৫টি বুথের জন্য প্রায় ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT) প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    ওয়েবকাস্টিং ও ড্রোন নজরদারি

    প্রতিটি বুথের ভেতরে দুটি এবং বাইরে একটি করে ওয়েব ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গোটা ভোটপ্রক্রিয়ার লাইভ ওয়েবকাস্টিং করা হচ্ছে, যা জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য তিন জন বিশেষ নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

    ভোটের আগে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গির

    পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগেই ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, তিনি আর এই নির্বাচনে লড়ছেন না। নিজেকে “ফলতার ভূমিপুত্র” উল্লেখ করে জাহাঙ্গির বলেন, তিনি চান ফলতায় শান্তি ও উন্নয়ন বজায় থাকুক। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    রাজনৈতিক সমীকরণে বদল

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একসময় ফলতার রাজনীতিতে জাহাঙ্গির খানের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এলাকায় তৃণমূল বিরোধী সুর জোরালো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রোড শোও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, প্রচারের পুরো পর্বে জাহাঙ্গির খানের সমর্থনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিও রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই তাঁর ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানো নতুন করে জল্পনা তৈরি করে।

  • TMC: মুখ লুকিয়েছেন তৃণমূলের মাথারা, বিপদ আঁচ করেই কি ফলতার নির্বাচন থেকে সরে গেলেন জাহাঙ্গির?

    TMC: মুখ লুকিয়েছেন তৃণমূলের মাথারা, বিপদ আঁচ করেই কি ফলতার নির্বাচন থেকে সরে গেলেন জাহাঙ্গির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পরেই এলাকা ছেড়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী (TMC) জাহাঙ্গির খান। জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) গা ঢাকা দেওয়ার আগেই বড়সড় কোনও বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কর্পূরের মতো উবে গিয়েছেন তাঁর মাথায় যাঁর আশীর্বাদী হাত ছিল, তৃণমূলের সেই ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বা ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জোড়া (কমান্ডার) বন্দ্যোপাধ্যায় রাতারাতি ‘হাওয়া’ হয়ে যাওয়ায় প্রমাদ গুণতে শুরু করেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী। গ্রেফতারির আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে থাকা জাহাঙ্গির মঙ্গলবার ভোটপ্রচারের শেষ দিনে ঘোষণা করেন, ‘‘আমি এই ভোটে লড়ছি না।’’ তাঁর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অভিষেক কিংবা ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও নির্দেশ রয়েছে কি না, তা জানাননি ফলতার ‘বাদশা’।

    বিজেপির কাছে গোহারা (TMC)

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিজেপির কাছে গোহারা হেরে গিয়ে এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পাঙ্গা নিতে গিয়ে কার্যত মুখ পুড়িয়েছেন তৃণমূল অ্যান্ড কোং-এর (অন্তত, লোকে তো তাই বলে) কর্ণধার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকে মুখ লুকিয়েছেন বুয়া-ভাতিজা। অবশ্য, এর মধ্যে একদিন সহানুভূতি কুড়োতে এবং অবশ্যই জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আইনজীবীর সাজ-পোশাক পরে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হয়েছিলেন মমতা। সেখানে নিজের কানে ‘চোর-চোর’ স্লোগান শুনে (এই প্রথম নয়, আগেও শুনেছেন, তবে এত জোরালোভাবে নয়), সেই যে কালীঘাটের বাড়িতে সেঁধিয়েছেন, তার পর থেকে আর তাঁকে দেখা যায়নি টিভি কিংবা সংবাদপত্র মায় হ্যান্ডবিলেও। এই যখন স্বয়ং দলনেত্রীর দশা, তখন আর কোন ভরসায় ফলতার নির্বাচনী ময়দানে খেলতে নামেন জাহাঙ্গির! অগত্যা তিনিও মুখ লুকোলেন।

    জাহাঙ্গিরের বোধোদয়!

    ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) বলেন, ‘‘ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই আমি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’’ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন (TMC) পেরিয়ে গিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও ইভিএমে জাহাঙ্গির এবং তাঁর দল তৃণমূলের বোতাম জ্বলজ্বল করবে। তৃণমূলের রাজত্বে কেউটে জাহাঙ্গির প্রথমবার নির্বাচনের সময় কোনও ইভিএমে টেপ আটকে দিয়েছিলেন পদ্ম-প্রতীকের পাশে, কোথাও আবার বিজেপি প্রার্থীর বোতামে লাগিয়ে দিয়েছিলেন আতর। ভোটাররা কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা জানতেই এই ‘ডায়মন্ড হারবার দাওয়াই’ অ্যাপ্লাই করেছিলেন বলে অভিযোগ।

    ‘কেউটে’ থেকে ‘হেলে’

    রাজ্যে পালাবদলের সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সেই জাহাঙ্গিরই বদলে গিয়ে ‘কেউটে’ থেকে ‘হেলে’ হয়ে গিয়েছেন! মঙ্গলবারই ফলতায় রোড-শো করেন ‘সিংহম’ মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে প্রচারে এসেছিলেন তিনি। সেই সময় প্রচারে না বেরিয়ে বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক-ঘনিষ্ঠ ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির। তিনি বলেন, ‘‘আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাইব ফলতা শান্তিতে থাকুক, সুস্থ থাকুক এবং ভালো থাকুক (TMC)। ফলতায় আরও বেশি বেশি উন্নয়ন হোক।’’ গলার কাছে দলা পাকানো কান্নাটা আটকে কোনওক্রমে ধরা গলায় তিনি বলেন, ‘‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। তাই আমাদের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।’’ জাহাঙ্গিরের এহেন ভোল বদলে যারপরনাই বিস্মিত ফলতায় তৃণমূলের ‘দুধেল গাই’রাও।

    প্রসঙ্গত, পুনর্নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই হাতকড়া পড়েছে জাহাঙ্গিরের ভায়রাভাইয়ের হাতে (Jahangir Khan)। গ্রেফতার হয়েছেন ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি। রাজনীতির কারবারিদের মতে, জাহাঙ্গির ভেবেছেন এবার হয়তো তাঁর পালা। তাই লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পগার পার হয়েছেন ‘ঐতিহাসিক’ চরিত্র জাহাঙ্গির (TMC)।

    বেচারা! কারা যেন জাহাঙ্গিরকে গাছে তুলে মইটা কেড়ে নিল!

     

  • Jahangir Khan: ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে ভয় দেখাচ্ছে জাহাঙ্গির বাহিনী, অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ভোটারদের

    Jahangir Khan: ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে ভয় দেখাচ্ছে জাহাঙ্গির বাহিনী, অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ভোটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ মে হবে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচন। তার আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই এলাকায় শনিবার ছড়ায় ব্যাপক উত্তেজনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সোমবার ভোট গণনা হবে (Jahangir Khan)। তার আগে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ভয় দেখাচ্ছেন, দিচ্ছেন হুমকিও। এই অভিযোগ তুলেই এলাকায় হয় বিক্ষোভ দেখানো (Falta Constituency)। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় সিআরপিএফ (CRPF) ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)।

    ভোটারদের অভিযোগ (Jahangir Khan)

    স্থানীয়দের দাবি, ফলতা বিধানসভা এলাকায় অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, তৃণমূল নেতা ইসরাফিল চৌকিদার তাঁদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া এবং রক্তপাত ঘটানোর হুমকি দিয়েছেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওরা জিতলে আমাদের বাড়ি পুড়িয়ে দেবে এবং রক্তপাত ঘটাবে।” এক মহিলা ভোটার জানান, তাঁরা তৃণমূলকে ভোট দিলেও, হামলার শিকার হয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমরা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি। তারপরেও নিছক সন্দেহের বশে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা ওই ব্যক্তির গ্রেফতারি চাই। মহিলাদের নিরাপত্তা চাই (Jahangir Khan)।”

    তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরের হুমকি

    ফলতার হাসিমনগর এলাকায়ও একই ধরনের উত্তেজনার ছবি সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এলাকায় এসে হুমকি দিয়েছেন, দল ক্ষমতায় এলে পুরুষদের খুন করা হবে, ধর্ষণ করা হবে মহিলাদের (Falta Constituency)। স্থানীয় এক মহিলার দাবি, “গতকাল (শুক্রবার) থেকে তৃণমূলের লোকজন গ্রামে ঢুকে মহিলাদের হেনস্থা করছে, মানুষকে মারধর করছে। প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করি আমরা। পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে, মেয়েদেরও মারধর করেছে (Jahangir Khan)।” এর আগে উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা, যাঁকে রাজ্যে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে, তিনি ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে জাহাঙ্গিরকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তার পরেও যে জাহাঙ্গিরের দল বিশেষ শোধরায়নি, স্থানীয় ভোটারদের কথায়ই তা পরিষ্কার।

    এবার বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে দুদফায়। প্রথম দফার ভোট হয়েছে ২৩ মে, পরের দফায় নির্বাচন হয়েছে ২৯ মে। ভোটারদের অভিযোগ, ইভিএমে বিজেপির পদ্ম প্রতীকের সামনে টেপ লাগানো ছিল।ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায় বিরোধীরা (Falta Constituency)। তার পরেই সিদ্ধান্ত হয় ওই বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হবে ২১ মে। এদিকে, অনুমতি ছাড়াই স্ট্রং-রুম খোলার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ছ’জন আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে (Jahangir Khan)।

     

  • Assembly Election 2026: হুমকি দিয়ে ভোটার কার্ড হাতানোর অভিযোগ! ফলতায় অভিষেক ঘনিষ্ঠ টিএমসি প্রার্থীকে হুঁশিয়ারি ‘সিংহম’-এর

    Assembly Election 2026: হুমকি দিয়ে ভোটার কার্ড হাতানোর অভিযোগ! ফলতায় অভিষেক ঘনিষ্ঠ টিএমসি প্রার্থীকে হুঁশিয়ারি ‘সিংহম’-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হুমকি দিয়ে ভোটার কার্ড হাতানোর অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে গেল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। দ্বিতীয় দফার ভোটের (Assembly Election 2026) আগে সোমবার সকালে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের (Jahangir Khan) বাড়িতে অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের দুঁদে আইপিএস অফিসার তথা নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা। তবে খুঁজে পাওয়া যায়নি জাহাঙ্গিরকে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ধারণা, গ্রেফতারি বা জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে প্রার্থী এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। এরপরই জাহাঙ্গিরের উদ্দেশে তাঁর পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের রীতিমতো ধমক দিতে দেখা যায় অজয় পাল শর্মাকে। তিনি বলেন, “ওর বাড়ির লোককে বলে দেবেন, উনি যা করছেন, তাতে পরে যেন কাঁদতে না হয়।”

    জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে মূলত দুটি গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনের কাছে। সাধারণ মানুষকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া। পরিচয়পত্র কেড়ে নিয়ে ভোটারদের ভোটাধিকারে বাধা দেওয়া। কমিশন সূত্রে খবর, সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে জাহাঙ্গিরের বাড়ির সদর দরজায় পৌঁছন পুলিশ পর্যবেক্ষক। তবে তল্লাশি শুরু হলেও বাড়িতে খোঁজ মেলেনি খোদ প্রার্থীর। বাড়ির সামনে তাঁর ব্যবহৃত লাল রঙের বিলাসবহুল গাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকলেও জাহাঙ্গির খান কোথায়, সে বিষয়ে পরিবারের তরফে সদুত্তর মেলেনি। এদিন প্রচারেও দেখা যায়নি জাহাঙ্গিরকে। সম্ভবত তিনি বেপাত্তা, এমনই খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রে।

    আইপিএস অফিসারের কড়া হুঁশিয়ারি

    তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে অভিযান চলাকালীন মেজাজ হারাতে দেখা যায় আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে। জাহাঙ্গিরের পরিবার ও অনুগামীদের উদ্দেশে তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ওর খবর আমরা ভালোভাবেই নেব। ওকে পরিষ্কার বুঝিয়ে দেবেন যে, বারবার লোকজনকে ভয় দেখানোর যে অভিযোগ আসছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে যেন কান্নাকাটি না করে।” এই অভিযানকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটের আগে প্রার্থীকে মানসিক চাপে ফেলতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে এই অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তবে তৃণমূল যাই বলুক, জাহাঙ্গিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ওই এলাকার সাধারণ মানুষ অবশ্য পুলিশি তৎপরতায় একটু নিশ্চিন্তে। জাহাঙ্গিরকে সমর্থন নিয়ে তৃণমূলের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপির অমিত মালব্যও। এক্স মাধ্যমে পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। বলেছেন ‘ কমিশনের বার্তা পরিষ্কার: জেলায় বহাল থাকবে আইনের শাসন, চলবে না হুমকি, অভিষেক ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে তাই সময় নষ্ট নয়, দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে।’

    কে এই জাহাঙ্গির

    জেলার রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী জাহাঙ্গির। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত তিনি। ২০১৪ সালে অভিযেক ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জাহাঙ্গিরের উত্থান শুরু হয়ে জেলার রাজনীতিতে। ফলতা, বজবজ পুরসভা এলাকায় ধীরে ধীরে তাঁর প্রভাব বাড়ে। জাহাঙ্গির ফলতার যুব তৃণমূলের সভাপতি হন। বজবজ বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের পর্যবেক্ষকও হন তিনি। অভিষেকের নির্দেশেই জাহাঙ্গিরের উত্থান। গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে এই জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ নতুন নয়। আগেও একাধিক ভোটে তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    কে এই অজয় পাল শর্মা?

    অজয় পালের প্রোফাইল ঘাঁটলে যে কেউ চমকে উঠতে পারেন। তিনি ২০১১ সালের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। তবে তাঁর কেরিয়ার শুরু হয়েছিল অন্যভাবে। লুধিয়ানার ভূমিপুত্র অজয় আসলে একজন ডাক্তার। পাটিয়ালার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে তিনি ডেন্টাল সার্জারি বা বিডিএস (BDS) পাশ করেন। কিন্তু সেই পেশা ছেড়ে তিনি তুলে নেন পুলিশের উর্দি। বর্তমানে প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের অপরাধী দমনে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। কড়া মেজাজ আর নির্ভীক দাপটের জন্যই তাঁকে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ উপাধি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভোটে দুষ্কৃতীদের বুকে ত্রাস তৈরি করতে যোগীরাজ্য থেকে আনা হচ্ছে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ এই আইপিএস অফিসারকে। দ্বিতীয় দফার (West Bengal Election Second Phase) হাইভোল্টেজ ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হয়ে এসেছেন অজয় পাল শর্মা (Ajay Pal Sharma Police Observer)। উত্তরপ্রদেশের পুলিশ মহলে যাঁর পরিচয় ‘সিংহম’ হিসেবে।

    কমিশনের নজরে দক্ষিণ ২৪ পরগণা

    গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ১৫২টি আসনের ভোট মোটের ওপর নির্বিঘ্নেই মিটেছে। কিন্তু আসল পরীক্ষা আগামী ২৯ তারিখ। ওই দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। আর এই দফার অন্যতম স্নায়ুকেন্দ্র হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা। ভাঙড় থেকে ক্যানিং, মিনাখাঁ থেকে বাসন্তী – এই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত বারবার রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভোট নিয়ে বরাবরই নালিশ জানায় বিরোধীরা। অভিযোগ ওঠে দেদার ছাপ্পা ও রিগিংয়ের। তাই নির্বাচন কমিশনের তরফে এবার অজয় পাল শর্মার মতো অফিসারকে এখানে পাঠানো হয়েছে। এর অর্থ হল, অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করলেই চরম ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখা।

LinkedIn
Share