Tag: Jai Hind Slogan

  • Netaji’s Historic Flag Hoisting: ৮২ বছরেও ‘জয় হিন্দ’-এর চেতনা অমলিন, আন্দামানে নেতাজির তিরঙ্গা উত্তোলনের বর্ষপূর্তি পালিত

    Netaji’s Historic Flag Hoisting: ৮২ বছরেও ‘জয় হিন্দ’-এর চেতনা অমলিন, আন্দামানে নেতাজির তিরঙ্গা উত্তোলনের বর্ষপূর্তি পালিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ঐতিহাসিক তিরঙ্গা পতাকা উত্তোলনের ৮২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেন। মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর তিনি জম্মুর রাম বিহার এলাকার জেডিএ পার্কে তিরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করেন এবং ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ফ্ল্যাগ পয়েন্ট’-এর উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে এলজি সিনহা বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রদত্ত “জয় হিন্দ” স্লোগান আজও জাতীয় বীরত্ব ও ঐক্যের প্রতীক। এই স্লোগান একসময় আজাদ হিন্দ ফৌজকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং আজও ১৪০ কোটির বেশি ভারতীয়কে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সব স্তরের সদস্যরা দৈনন্দিন অভিবাদনে ‘জয় হিন্দ’ ব্যবহার করেন।

    লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৪৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু পোর্ট ব্লেয়ারকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত ঘোষণা করেন এবং দেশবাসীর সামনে স্বাধীনতার দৃঢ় সংকল্প তুলে ধরেন। বর্তমান প্রজন্মের কাছে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    সিনহা বলেন, “নেতাজির দেশপ্রেম ও সাহস ছিল তুলনাহীন। ঐক্যের ভিত্তিতেই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বার্তা তিনি দেশবাসীকে দিয়েছিলেন।” তিনি আরও জানান, স্বরাজের পক্ষে অবস্থান, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিল্পায়ন এবং ক্ষুদ্র শিল্প বিকাশে নেতাজির চিন্তাভাবনাই আজকের আত্মনির্ভর ভারতের ভিত্তি নির্মাণ করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ইতিহাসে প্রাপ্য মর্যাদা পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন মনোজ সিনহা। তিনি বলেন, “অতীতে নেতাজি ও স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো নেতাদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তবে মোদির উদ্যোগে গুজরাটের কেভাডিয়ায় স্থাপিত সর্দার প্যাটেলের বিশাল ব্রোঞ্জ মূর্তি আজ জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।”

    লেফটেন্যান্ট গভর্নর সিনহা জম্মুকে ভারতের জাতীয় ঐক্য ও অবিচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক ধারার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জম্মুর মানুষের দৃঢ় মনোবল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের সম্পূর্ণ একীকরণের আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছে। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের দাবিতে জম্মু অঞ্চলের মানুষের ত্যাগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট গভর্নর সিনহা বলেন, “আমাদের ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ঐক্য বজায় রেখেই আমাদের যৌথ ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ রক্ষা করতে হবে।” তিনি প্রতি বছর ৩০ ডিসেম্বর নিয়মিতভাবে নেতাজিকে স্মরণে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের আহ্বান জানান। এই উপলক্ষে তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজির ভূমিকা তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।

    অনুষ্ঠানে বিধায়ক শ্যাম লাল শর্মা ও অরবিন্দ গুপ্ত, হাউজিং ও আরবান ডেভেলপমেন্ট দফতরের কমিশনার-সচিব মানদীপ কৌর, ডিভিশনাল কমিশনার রমেশ কুমার, আইজিপি ভীম সেন তুতি, ডিআইজি শিব কুমার শর্মা, ডেপুটি কমিশনার রাকেশ মিনহাস, মিউনিসিপ্যাল কমিশনার দেবাংশ যাদব, জেডিএ-র ভাইস চেয়ারম্যান রুপেশ কুমার-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। পদ্মশ্রী অধ্যাপক বিশ্বমূর্তি শাস্ত্রী, পদ্মশ্রী ডিএসপি বর্মা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

LinkedIn
Share