Tag: Jammu And Kashmir news

Jammu And Kashmir news

  • Poonch Landmine Blast: ভারতে অনুপ্রবেশের ছক বানচাল? পুঞ্চে বিস্ফোরণে মৃত্যু লস্কর কমান্ডার-সহ ৪ পাকিস্তানি জঙ্গির

    Poonch Landmine Blast: ভারতে অনুপ্রবেশের ছক বানচাল? পুঞ্চে বিস্ফোরণে মৃত্যু লস্কর কমান্ডার-সহ ৪ পাকিস্তানি জঙ্গির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে মৃত্যু হল চার পাকিস্তানি জঙ্গির। নিহতদের মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার এক শীর্ষ কমান্ডার বলে জানা গিয়েছে। সোমবার কৃষ্ণা ঘাঁটি সেক্টরের সাতওয়াল-নাকি এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের দিক থেকে একদল সন্দেহভাজন ব্যক্তি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করছিল। সেই সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে বাহিনী।

    কারা নিহত? সামনে লস্কর কমান্ডারের নাম

    প্রাথমিক সূত্রে নিহত চারজনকে পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের (PoJK) পুঞ্চ জেলার হাজিরা তেহসিলের মান্ডলা, মদরপুর এলাকার বাসিন্দা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের নাম মহম্মদ ইশতিয়াক, মহম্মদ ফয়জান, মহম্মদ ওয়াকাস এবং মহম্মদ আসিম। নিহতদের মধ্যে মহম্মদ ফয়জান লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডার বলে দাবি করা হয়েছে। সোমবার নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণের পরই ঘটনাটি ঘিরে নিরাপত্তা মহলে তৎপরতা শুরু হয়।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ সাতওয়াল-নাকি এলাকা?

    পুঞ্চের কৃষ্ণা ঘাঁটি সেক্টরের সাতওয়াল-নাকি এলাকাকে দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অতীতেও এই রুট ব্যবহার করে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্রে দাবি। ফলে এই অঞ্চলে যে কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি সেনাবাহিনীর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

    নিয়ন্ত্রণরেখার এই অংশে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ঘন জঙ্গল এবং দুর্গম পথ নজরদারির ক্ষেত্রে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই ধরনের ভূপ্রকৃতি কাজে লাগিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্ত করা এবং দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, একটি ভিডিও ফুটেজে (সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম) কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পাঠানি পোশাক পরা অবস্থায় জঙ্গলের মধ্যে চলাফেরা করতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের কাছে পিস্তল ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তারা আইইডি পুঁতে রাখার চেষ্টা করছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফুটেজের সত্যতা, সময় এবং বিস্ফোরণের সঙ্গে তার সম্পর্ক স্বাধীন ভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

    বিস্ফোরণের পর দেহ নিয়ে যাওয়ার দাবি

    বিস্ফোরণের পর পাকিস্তানি সেনার সদস্যরা নিহত সন্দেহভাজনদের দেহ সংগ্রহ করে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে নিয়ে গিয়েছেন বলে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাক সেনার ৬৬ ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতেও এই অঞ্চলে পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিম (BAT)-এর ছয় থেকে সাতজন সদস্য একই ধরনের ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বর্তমান বিস্ফোরণের সঙ্গে অতীতের সেই ঘটনার প্রকৃতি ও পরিস্থিতির মিল কতটা, তা স্পষ্ট নয়।

    নিয়ন্ত্রণরেখায় কেন গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমাইন?

    নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সামনের দিকের বিভিন্ন এলাকায় ল্যান্ডমাইন বসানো থাকে। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের পথগুলিতে সন্দেহভাজনদের চলাচল বাধাগ্রস্ত করা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে ল্যান্ডমাইন সব সময় নির্দিষ্ট জায়গায় স্থির থাকে না। ভারী বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে গেলে বা ভূমিক্ষয় ঘটলে কিছু মাইন মূল অবস্থান থেকে সরে গিয়ে অন্যত্র চলে আসতে পারে। ফলে যেখানে আগে বিস্ফোরক থাকার কথা ছিল না, সেখানেও বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়। সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।

    নিরাপত্তা বাড়াল বাহিনী, নজরদারিতে নিয়ন্ত্রণরেখা

    বিস্ফোরণের পর সংশ্লিষ্ট সেক্টরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখছে নিরাপত্তাবাহিনী। জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপ দমন এবং অনুপ্রবেশ রুখতে তল্লাশি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানও চালানো হচ্ছে।

    পুঞ্চের ঘটনাটি সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনছে। প্রথমত, পরিচিত অনুপ্রবেশের রুটগুলিতে নজরদারি অব্যাহত রাখা জরুরি। দ্বিতীয়ত, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে থাকা ল্যান্ডমাইনও ভারী বৃষ্টি ও ভূমিক্ষয়ের কারণে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    মেন্ধরেও উদ্ধার দুটি পুরনো ল্যান্ডমাইন

    পুঞ্চের ঘটনাটির পাশাপাশি সোমবার মেন্ধর সেক্টরের বাসোনি এলাকায় সীমান্তের বেড়ার কাছে আরও দুটি পুরনো ল্যান্ডমাইন শনাক্ত করেন ভারতীয় সেনার জওয়ানরা। সূত্রের খবর, রাস্তা বা চলাচলের পথ নির্মাণের কাজ চলাকালীন সকাল ৮টা ২৫ মিনিট এবং দুপুর ১২টা ১০ মিনিট নাগাদ বিস্ফোরক দুটি নজরে আসে।

    এরপর সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেগুলি নিষ্ক্রিয় করেন। এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় পুরনো বিস্ফোরক থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকির বিষয়টি।

    বিশেষ করে বর্ষার সময়ে ভারী বৃষ্টিতে মাটি সরে যাওয়া, ভূমিক্ষয় এবং জলস্রোতের কারণে ল্যান্ডমাইন স্থানচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্মাণকাজ, টহলদারি এবং নজরদারির সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

  • Jammu Kashmir Encounter: জম্মু ও কাশ্মীরে খতম তিন জইশ জঙ্গি, শাহের সফরের আগে উপত্যকায় বড় সাফল্য সেনার

    Jammu Kashmir Encounter: জম্মু ও কাশ্মীরে খতম তিন জইশ জঙ্গি, শাহের সফরের আগে উপত্যকায় বড় সাফল্য সেনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে পৃথক দু’টি এনকাউন্টারে (Jammu Kashmir Encounter) নিহত হয়েছে মোট তিনজন জঙ্গি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফরের আগেই কিশতোয়ার ও উধমপুর জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হল তিন জন জইশ-ই-মহম্মদ সদস্যের। যা বড় সাফল্য বলেই মনে করছে বাহিনী। বুধবার সকালে উধমপুর জেলার একটি গুহায় আটকে পড়া দুই জইশ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। ওই দিন সন্ধ্যাতেই কিশতোয়ারে বরফে ঢাকা চাতরু অঞ্চলে গুলির লড়াইয়ে এক জইশ সদস্য নিহত হয়।

    পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গি নিহত

    উধমপুরের বসন্তগড় এলাকায় জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার একটি গোপন ডেরার খোঁজ পেয়েছিল নিরাপত্তাবাহিনী। একটি গুহার মধ্যে ছিল জঙ্গিদের গোপন আস্তানা। সেখানে ২ জঙ্গিকে শেষ করতে সফল হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। সেনা সূত্রে খবর, পাকিস্তান থেকে আসা একজন বেশ পরিচিত কমান্ডার মাভি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুবায়ের গুলির লড়াইয়ে মারা গিয়েছে। বাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে গুলির লড়াই চলে। এম৪ রাইফেল, একে ৪৭, প্রচুর পরিমাণে গোলা-বারুদ, বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে ওই ২ জঙ্গির থেকে।

    কীভাবে চলল অভিযান

    ৩ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তাবাহিনী শুরু করেছিল অপারেশন ‘কিয়া’। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশের থেকে নিরাপত্তাবাহিনী খবর পেয়েছিল এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গিরা। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সিআইএফ, সেনার এবং হোয়াইট নাইট কোর (16 Corps)- ও সিআরপিএফ জওয়ানদের নিয়ে গঠিত একটি যৌথবাহিনীর দল একত্রিত হয়ে ওই জইশ জঙ্গিদের খুঁজে বের করে নিঃশেষ করার কাজ শুরু করে। উধমপুরের বসন্তগড় এলাকায় জোপহার জঙ্গলে শুরু হয় নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযান। ঘন জঙ্গলের মধ্যে ক্যামেরা লাগিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল স্নিফার ডগদের। জঙ্গিদের উপস্থিতি টের পেতেই সাহায্য নেওয়া হয়েছিল এই প্রাণীদের। প্রায় সারারাত ধরে গুলির লড়াই চলেছে ওই জঙ্গলে। একাধিকবার গ্রেনেড ছুড়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। যে গুহার মধ্যে জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার খবর পাওয়া গিয়েছিল, সেই গোপোন আস্তানার মুখ লক্ষ্য করেই গ্রেনেড ছোড়া হয়েছিল নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে। তারপরই ২ জঙ্গিকে (কমান্ডার) খতম করতে সক্ষম হয়েছেন নিরাপত্তারক্ষীরা।

    নজরদারি এখনও চলছে

    বৃহস্পতিবার তিন দিনের সফরে জম্মু-কাশ্মীরে আসছেন শাহ। তার আগে বুধবার বিকেলে কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্স ডেল্টা, সেনার হোয়াইট নাইট কোর, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। জানা গিয়েছে, গোয়েন্দা সূত্রে কিশতোয়ারের দুর্গম দিছড়ে অঞ্চলে ফের জঙ্গি আনাগোনার খবর পেয়েই এই অভিযান চালায় বাহিনীয় আর তাতেই আসে সাফল্য। হোয়াইট নাইট কোর সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, অভিযান এখনও চালানো হচ্ছে। ওই এলাকায় এখনও চলছে নজরদারি। জানা গিয়েছে, প্রায় চারমাস ধরে এই এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছিল জঙ্গিরা। এখানে পাকাপাকি ভাবে ঘাঁটি গেড়ে এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। অন্যান্য জায়গা থেকে সাহায্য জোগাড় করে শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা।

LinkedIn
Share