Tag: Jammu and Kashmir

Jammu and Kashmir

  • Jammu Kashmir: স্কুল শিক্ষা দফতরের ৮ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের, কারণ জানেন?

    Jammu Kashmir: স্কুল শিক্ষা দফতরের ৮ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের, কারণ জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কুল শিক্ষা দফতরের আট আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা। অভিযোগ, সরকারি বিদ্যালয়ের লাইব্রেরির জন্য (LG Manoj Sinha) নির্বাচিত দু’টি বইয়ে সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের জেরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বিতর্কের কেন্দ্রে যে দু’টি বই (Jammu Kashmir)

    সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলাবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত বই দু’টি হল ‘পার্সোনালিটিজ অ্যান্ড লেজেন্ডস অব জম্মু ও কাশ্মীর (সিরিজ-৪)’ এবং ‘গ্রেট পার্সোনালিটিজ অব জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর’। বই দু’টি বিশেষজ্ঞ সাবকমিটির অনুমোদনের পর সমগ্র শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় জম্মু, রামবান, উধমপুর ও বারামুলা-সহ কয়েকটি জেলার সরকারি বিদ্যালয়ে সীমিত সংখ্যায় পাঠানো হয়েছিল। ৩ জুলাই সেগুলি তুলে নেওয়া হয়।

    তরুণ মনে বিষ ঢালার চেষ্টা!

    অভিযোগ অনুযায়ী, বই দু’টিতে জেকেএলএফ প্রতিষ্ঠাতা মকবুল ভাট, লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি, শব্বির শাহ, মিরওয়াইজ উমর ফারুক ও মাসারত আলম ভাটকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি “ভারত অধিকৃত কাশ্মীর” শব্দবন্ধ ব্যবহার করে বিচ্ছিন্নতাবাদ-সমর্থক বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ। শাসক দলের নেতাদের দাবি, “বইগুলিতে অত্যন্ত আপত্তিকর বিষয়বস্তু রয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।” তাঁদের আরও অভিযোগ, “এটি শিক্ষার মোড়কে তরুণ প্রজন্মের মনে বিষ ঢেলে দেওয়ার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।”

    আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    সরকারের বক্তব্য, বই নির্বাচন, মূল্যায়ন ও সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা না নেওয়া, গুরুতর গাফিলতি এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা (Jammu Kashmir) নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো নির্বাচন ও সংগ্রহ প্রক্রিয়ার উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবীণ প্রশাসনিক আধিকারিক অশ্বিনী কুমারকে, এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। এর (LG Manoj Sinha) পাশাপাশি দুই লেখক ও দুই প্রকাশককে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলজুড়ে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের লেখা বা প্রকাশিত সমস্ত মুদ্রিত বই প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (Jammu Kashmir)।

     

  • Mahesh Dixit IPS: দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান মহেশ দীক্ষিত, এই দুঁদে আইপিএসকে কেন বেছে নিল কেন্দ্র?

    Mahesh Dixit IPS: দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান মহেশ দীক্ষিত, এই দুঁদে আইপিএসকে কেন বেছে নিল কেন্দ্র?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-র পরবর্তী ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ পেলেন প্রবীণ আইপিএস অফিসার মহেশ দীক্ষিত। বর্তমানে আইবির স্পেশাল ডিরেক্টর পদে কর্মরত দীক্ষিত বিদায়ী ডিরেক্টর তপন কুমার ডেকা-র স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেটের অ্যাপয়েন্টমেন্টস কমিটি (ACC) তাঁর নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে।

    কেন্দ্রের নির্দেশে কী বলা হয়েছে?

    কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরের (DoPT) জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, মহেশ দীক্ষিতকে পরিষেবার মেয়াদ বাড়িয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে দুই বছরের জন্য, অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকবেন। সরকারি নির্দেশে জানানো হয়েছে, এফআর ৫৬(ডি) এবং অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস) রুলস, ১৯৫৮-এর রুল ১৬(১এ)-এর বিধান অনুযায়ী তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি আইবি-র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। বর্তমান আইবি প্রধান তপন কুমার ডেকার কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবেই দীক্ষিতের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    কে এই মহেশ দীক্ষিত?

    মহেশ দীক্ষিত ১৯৯৩ ব্যাচের ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (IPS)-র কর্মকর্তা। তিনি তেলঙ্গানা ক্যাডারের অফিসার হলেও দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। বিশেষ বিষয় হল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পেশায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি চিকিৎসক (Medical Doctor) হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে আইপিএস হন।

    দীর্ঘ গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা

    তিন দশকেরও বেশি কর্মজীবনে মহেশ দীক্ষিত সন্ত্রাসবাদ দমন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল দায়িত্ব সামলেছেন। নিরাপত্তা মহলে তাঁকে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও দক্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য করা হয়। আইবির সদর দফতরে স্পেশাল ডিরেক্টর হওয়ার আগে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (SIB)-র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়।

    অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    মহেশ দীক্ষিতের কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের সময়কার দায়িত্ব। সেই সময় গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সম্ভাব্য অশান্তি মোকাবিলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময় গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তাঁর অবদান ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

    জি-২০ বৈঠকের নিরাপত্তার দায়িত্বেও ছিলেন

    ২০২৩ সালে শ্রীনগরে অনুষ্ঠিত জি-২০ ট্যুরিজম ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর বৈঠক ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান। সেই সম্মেলনকে ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছিলেন মহেশ দীক্ষিত।

    গত বছর হয়েছিলেন আইবির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদাধিকারী

    ২০২৫ সালে মহেশ দীক্ষিতকে আইবির স্পেশাল ডিরেক্টর পদে উন্নীত করা হয়। এই পদটি সংস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই থেকেই তিনি আইবির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এবার সংস্থার সর্বোচ্চ পদে বসে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার হুমকি, আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশ এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

    কেন এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ?

    ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, সাইবার অপরাধ, উগ্রপন্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব এই সংস্থার উপরেই বর্তায়। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীর-সহ একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় দীর্ঘ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গোয়েন্দা কার্যক্রমে দক্ষতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই মহেশ দীক্ষিতকে আইবির নতুন ডিরেক্টর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।

  • Jammu Kashmir: ৩ জুলাই থেকে শুরু অমরনাথ যাত্রা, নজিরবিহীন নিরাপত্তার বলয়ে পুরো পথ

    Jammu Kashmir: ৩ জুলাই থেকে শুরু অমরনাথ যাত্রা, নজিরবিহীন নিরাপত্তার বলয়ে পুরো পথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ৩ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে অমরনাথ যাত্রা। চলবে ২৮ অগাস্ট পর্যন্ত। এই পবিত্র তীর্থযাত্রাকে (Amarnath Yatra) ঘিরে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir) প্রশাসন এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা। আগামী দু’মাসে লক্ষাধিক ভক্ত অমরনাথ গুহা মন্দিরে দর্শনে যাবেন জম্মু থেকে পাহেলগাঁও এবং বালতাল রুট ধরে। সেই কারণে গোটা যাত্রাপথে বহুস্তরীয় নিরাপত্তার বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

    কড়া নিরাপত্তা বলয় (Jammu Kashmir)

    প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়েল-টাইম নজরদারি, ওয়াচ টাওয়ার, উন্নত যানবাহন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, আরএফআইডি ট্র্যাকিং এবং কড়া পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদিও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে যাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনও নির্দিষ্ট জঙ্গি হামলার সতর্কতা নেই, তবুও কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। উল্লেখ্য, গত বছর পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর জঙ্গি হামলার ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করা হয়েছে।

    কিউআর-কোডযুক্ত ট্যাম্পার-প্রুফ পরিচয়পত্র

    এই (Jammu Kashmir) প্রথমবার তীর্থযাত্রার সঙ্গে যুক্ত ঘোড়াওয়ালা, পিঠু শ্রমিক ও অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য কিউআর-কোডযুক্ত ট্যাম্পার-প্রুফ পরিচয়পত্র চালু করেছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, এর ফলে পরিষেবা প্রদানকারীর ছদ্মবেশে কোনও জঙ্গি অনুপ্রবেশ করতে পারবে না। কিউআর কোড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য মিলবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার ও ‘মাচান মোর্চা’ তৈরি করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত মক ড্রিল ও নজরদারি মহড়া চালাচ্ছে।

    ‘নো-ফ্লাই জোন’

    এছাড়াও, পুরো অমরনাথ যাত্রাপথকে ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এবারও হেলিকপ্টার পরিষেবা বন্ধ থাকছে। তীর্থযাত্রীদের কনভয় চলাচলের সুবিধার্থে শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক এবং উপত্যকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় (Amarnath Yatra) বিশেষ ট্রাফিক বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীগুলির মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ, এবং গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানই এবার যাত্রা সফল করার প্রধান চাবিকাঠি বলেই (Jammu Kashmir) ধারণা প্রশাসনের।

     

  • POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফের সাম্প্রতিক যুদ্ধের হুমকির কড়া জবাব দিল (POK Atrocities) ভারত। মঙ্গলবার ভারতের (India) বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যর্থতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (POK Atrocities)

    সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য সম্পর্কে আমরা রিপোর্ট দেখেছি। এই ধরনের বক্তব্য পাকিস্তানের ব্যর্থতা আড়াল করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি মরিয়া চেষ্টা। আমরা এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি।” পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) যে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, সে প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে নিশানা করেন তিনি। জয়সওয়ালের দাবি, পিওকের বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক দমননীতিরই ফল।

    আন্দোলন দমনে পুলিশি নির্যাতন

    তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন দমনে পাক প্রশাসন চরম পুলিশি নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বাধা, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানের এই কাজকর্ম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দমনপীড়ন নীতির জন্য জবাবদিহি চাইবে।”

    আসিফের হুঁশিয়ারি

    প্রসঙ্গত, গত শনিবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া (POK Atrocities) সাক্ষাৎকারে আসিফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সিন্ধু নদীর জল নিয়ে যদি ভারতের পদক্ষেপ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে হুমকিস্বরূপ হয়ে ওঠে, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। তিনি বলেন, “যখনই আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জল নিরাপত্তা, হুমকির মুখে পড়েছে, তখন আমরা অবশ্যই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে পারি।” প্রসঙ্গত, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত বছরের জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। নয়াদিল্লির (India) অবস্থান, পাকিস্তান যতদিন না সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ করছে, ততদিন পর্যন্ত চুক্তি স্থগিতই থাকবে (POK Atrocities)।

     

  • Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ বিজেপি নেতৃত্বের

    Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ বিজেপি নেতৃত্বের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব (PM Modi)। রবিবার ছিল তাঁর ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করেন পদ্ম নেতৃত্ব।

    শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর (Shyama Prasad Mukherjee)

    এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “দেশের মহান সন্তান, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এবং শিক্ষাবিদ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শাহাদত দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তিনি মাতৃভূমির সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর গতিশীল ব্যক্তিত্ব দেশের প্রতিটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।”

    শাহি স্মরণে শ্যামাপ্রসাদ

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা ও আত্মমর্যাদার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন।” তাঁর দাবি, ‘এক নিশান, এক বিধান, এক প্রধান’ স্লোগান তুলে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে ধরে রাখার লড়াইয়েও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। শাহ বলেন, “সংবিধান সভার সদস্য হিসেবে ভাষা ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষের সামনে একটি বিকল্প রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরেছিলেন।”

    শ্রদ্ধা জানালেন নাড্ডাও

    শ্যামাপ্রসাদকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাও। দিল্লিতে দলের সদর দফতরে শ্যামাপ্রসাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন তিনি। দলীয় কর্মীদের মধ্যে গাছের চারাও বিলি করেন নাড্ডা। তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় ঐক্যের স্থপতি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ত্যাগ ও আদর্শ আগামিদিনেও দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করবে (Shyama Prasad Mukherjee)।”

    জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা

    প্রসঙ্গত, শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা, যা পরবর্তীকালে বিজেপির আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে পরিচিত হয়। স্বাধীনতার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ১৯৫০ সালে দিল্লি চুক্তি নিয়ে মতবিরোধের জেরে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। দলের প্রথম সভাপতি হন শ্যামাপ্রসাদই। ১৯৫৩ সালে (PM Modi) জম্মু-কাশ্মীর সফরে গিয়েছিলেন তিনি। ১১ মে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। বন্দি ছিলেন জেলে। সেখানেই ওই বছরেরই ২৩ জুন মৃত্যু হয় তাঁর। শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু নিয়ে আজও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে (Shyama Prasad Mukherjee)।

     

  • India Pakistan Relation: ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র, নিজেদের তৈরি দানবের কামড় খাচ্ছে’! রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    India Pakistan Relation: ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র, নিজেদের তৈরি দানবের কামড় খাচ্ছে’! রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জঙ্গি তৈরির কারখানা। একটা ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ (Frankenstein state)। রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ ভারতের। শুক্রবার ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুপমা সিং বলেন, ‘‘ওই দেশটি এখন নিজের তৈরি দানবের (সন্ত্রাসবাদী) কামড় খেয়ে নিজেরাই চমকে উঠেছে।’’ রাষ্ট্রসংঘে দিল্লির প্রতিনিধি (India Pakistan Relation) অনুপমা সিং বলেন, “সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ, মোতায়েন এবং আশ্রয়” দেওয়াই ইসালামাবাদের কাজ। সম্মেলনে পাক প্রতিনিধি কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলতেই পালটা আক্রমণ করেন ভারতের প্রতিনিধি।

    পাকিস্তানের হিংসা ও দমনপীড়ন

    পাকিস্তানের প্রতিনিধি জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলায় তার জবাব দিতে গিয়ে অনুপমা পাল্টা অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদ ধারাবাহিক ভাবে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ-সহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, ‘‘জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হল, ভারতের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারি।’’ তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান এমন এক দেশ, যার বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী “রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে জঙ্গিদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ এবং কাজে লাগানোর বিষয়ে গর্ব করেন। অথচ পাকিস্তান নিজেকেই সন্ত্রাসবাদের শিকার বলে দাবি করে। সত্যিই এক অদ্ভুত বৈপরীত্য, যা কেবল পাকিস্তানই জিইয়ে রাখতে পারে। ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ রাষ্ট্রের জীবন্ত উদাহরণ, নিজেরই সৃষ্টি করা দানবের পালটা কামড়ে হতবাক হয়ে পড়ে।” পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে সিন্ধুচুক্তি বাতিলের পক্ষে সওয়াল করেন ভারতীয় প্রতিনিধি। ভারতের অনুপমা সিংয়ের বক্তব্যের সামনে কার্যত দাঁড়াতে পারেনি পাক প্রতিনিধি।

    গায়ের জোরে দখলদারি

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রাওয়ালাকোটের হিংসা ও দমনপীড়নের উল্লেখ তিনি পাকিস্তান সরকার এবং সেনার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। চলতি মাসের গোড়া থেকেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে সাধারণ জনতার। ওই অঞ্চলে আর্থিক দুর্দশা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালাচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’। সম্প্রতি ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। তার পর থেকেই বিক্ষোভ, প্রতিবাদ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে পাক সেনা এবং রেঞ্জার্স বাহিনীর হামলাও। নির্বিচার গুলিবর্ষণে এ পর্যন্ত শতাধিক সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে অনুপমা বলেন, “রাওয়ালাকোটের এই ট্র্যাজেডি, শত শত সাধারণ নাগরিককে হত্যা এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে চালানো নৃশংস দমন-পীড়ন আদতে প্রত্যাশিত পরিণতি। কারণ তা গায়ের জোরে দখলদারির উপর প্রতিষ্ঠিত। দমন-পীড়ন চালিয়েই শাসন টিকিয়ে রাখা হয়েছে।” একটি সূত্রে দাবি, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মোট মৃতের সংখ্যা তিরিশ ছাড়িয়েছে। এই বিষয়ে অনুপমা বলেন, “কয়েক দশক ধরে সামরিক শক্তিতে ভূমি দখল, জনবিন্যাস নিয়ে কারসাজি এবং মৌলিক স্বাধীনতা হরণের ফলে পরিস্থিতি এই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এমনকী খাদ্য, বিদ্যুৎ, নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদার মতো দাবিওগুলিও বন্দুক উঁচিয়ে চেপে দেওয়া হচ্ছে।”

  • Gilgit Baltistan Elections: গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন, পাক উদ্যোগে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    Gilgit Baltistan Elections: গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন, পাক উদ্যোগে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে সাধারণ নির্বাচন (Gilgit Baltistan Elections) আয়োজনের কড়া প্রতিবাদ জানাল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দে করে বলা হয়েছে, এই অঞ্চল ভারতের (India) অংশ, যা পাকিস্তান অবৈধ ও জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (Gilgit Baltistan Elections)

    পাকিস্তান সরকার জানিয়েছিল, ছ’বছর পরে গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন হবে ২ জুন। এর পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। সরকারি বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার ফের তার সুপরিচিত অবস্থান স্পষ্ট করছে যে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহ, যার মধ্যে তথাকথিত গিলগিট-বাল্টিস্তানও অন্তর্ভুক্ত, ১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মীরের সম্পূর্ণ, বৈধ ও অপরিবর্তনীয় ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির ফলে ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ।” বিদেশমন্ত্রক এও জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং পাকিস্তানের দখলে থাকা গিলগিট-বাল্টিস্তানও সেই দাবিরই অন্তর্ভুক্ত।

    দখল করা এলাকা খালি করুক পাকিস্তান

    পাকিস্তানকে অবৈধভাবে দখল করে রাখা অঞ্চল খালি করার আহ্বান জানিয়ে ভারত বলেছে, ওই অঞ্চলের চরিত্র বা প্রশাসনিক অবস্থার কোনও ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আনার চেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা অঞ্চলে কোনও ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং জোর দিয়ে বলে যে, এসব পদক্ষেপ পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারিত্বের সত্যকে আড়াল করতে পারবে না। পাকিস্তানকে এই ভারতীয় ভূখণ্ড খালি করতেই হবে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে (Gilgit Baltistan Elections), এই ধরনের উদ্যোগ মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ এবং স্বাধীনতা হরণের মতো গুরুতর সমস্যাগুলি ঢাকতে পারবে না।

    মানবাধিকার কর্মীর বক্তব্য

    এদিকে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানবাধিকার কর্মী আমজাদ আইয়ুব মির্জা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই অঞ্চলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, ক্রমশ চাপ বাড়ছে রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর। তাঁর দাবি, অন্য রাজনৈতিক কর্মীদেরও গ্রেফতার এবং আটক করা হচ্ছে। গিলগিট-বাল্টিস্তান আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির বহু সদস্যকে জেলে পাঠানো হচ্ছে স্রেফ তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও অর্থনৈতিক অধিকারের দাবিকে দমন করতে।

    গিলগিট-বাল্টিস্তান

    প্রসঙ্গত, গিলগিট-বাল্টিস্তান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের একটি অঞ্চল বলে দাবি করে ভারত, যদিও প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে পাকিস্তান।ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি জম্মু-কাশ্মীরের দেশীয় রাজ্যের অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত (India) স্বাধীন হওয়ার পর এবং দেশভাগের সময়, তৎকালীন শাসক মহারাজা হরি সিং জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার দলিলে সই করেছিলেন। যদিও তারপর থেকে গিলগিট-বাল্টিস্তান এবং তথাকথিত “আজাদ জম্মু-কাশ্মীর” পাকিস্তানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গিলগিট-বাল্টিস্তান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। পাক সরকার এলাকাটি শাসন করলেও, বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ওই এলাকার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল (Gilgit Baltistan Elections)। পাক সরকারের বিরুদ্ধে বাসিন্দাদের ক্ষোভের পারা ক্রমেই বাড়ছে (India)।

     

  • NIA: পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনে হামাস-যোগ! কী বলছেন এনআইএর তদন্তকারীরা?

    NIA: পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনে হামাস-যোগ! কী বলছেন এনআইএর তদন্তকারীরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনের তদন্ত করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, সংক্ষেপে এনআইএ (NIA)। ইতিমধ্যেই তারা চার্জশিটও জমা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে লস্কর-ই-তইবা (LeT), দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF), জইশ-ই-মহম্মদ (JeM), আল-কায়েদা (Al-Qaeda) ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠী, হামাস (Hamas) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য সম্পর্ক (Pahalgam Terror Attack Case) নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এনআইএ।

    খতিয়ে দেখা হচ্ছে হামাস যোগ (NIA)

    চার্জশিটে প্যালেস্তাইনের জঙ্গি গোষ্ঠী হামাসের উল্লেখ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।  কারণ এই প্রথম পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সম্ভাব্য কার্যকরী সম্পর্কের তদন্তে এনআইএ এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে হামাসের নাম উল্লেখ করেছে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত একটি মামলায়।তদন্তকারীরা জানান, তদন্তের এই অংশটি (হামাস যোগ) আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত সংগঠনগুলির সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য সম্পর্কের প্রকৃতি, পরিসর ও ব্যাপ্তি নির্ধারণের চেষ্টাও চলছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলি জম্মু-কাশ্মীরে ঘটে যাওয়া কোনও জঙ্গি কার্যকলাপে কোনও রকমের সাহায্য, সমর্থন বা প্রভাব বিস্তার করেছে কি না।

    যেসব তথ্য খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তদন্ত বৃহত্তর একটি চেষ্টার অংশ, যার উদ্দেশ্যই হল অভিযুক্ত সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ চিহ্নিত করা এবং সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক কীভাবে পরিবর্তিত ও বিকশিত হচ্ছে, তা বোঝা। এটা করতে গিয়েই এনআইএ একাধিক সূত্র অনুসরণ করছে (NIA)। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল প্রমাণ, আর্থিক লেনদেন এবং সীমান্তপারের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। এই সব তথ্য সম্ভাব্য সংযোগগুলির ব্যাপ্তি নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে। পহেলগাঁও হামলার পর গোয়েন্দা মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে এনআইএ এই নয়া দিকটিতেই বেশি করে নজর দিচ্ছে। সূত্রের খবর, ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সম্প্রতি হামাস এবং পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন, যেমন লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রমাণ পেয়েছে।

    হামাসের আক্রমণের সঙ্গে মিল!

    এই পরিস্থিতিতে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ওই সংগঠনগুলির মধ্যে কোনও ধরনের সহযোগিতা, সমন্বয় বা কৌশল শেয়ার করা হয়েছিল কি না। শুধু তা-ই নয়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এও জানার চেষ্টা করছে, পহেলগাঁও হামলায় হামাস-স্টাইলের কোনও কৌশলগত বৈশিষ্ট্য ছিল কি না। জানা গিয়েছে, ওই হামলার পরিকল্পনা, টার্গেট ঠিক করা, এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু মিল দেখা গিয়েছে (Pahalgam Terror Attack Case)। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের ওপর হামাসের আক্রমণের সঙ্গেও এর তুলনা করা হয়েছে (NIA)। যদিও এসব সাদৃশ্য সম্পর্কে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তদন্তকারীরা বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে সব উপলব্ধ প্রমাণ মূল্যায়ন করে চলেছেন।

    এনআইএর চার্জশিট

    এনআইএর চার্জশিটে স্পষ্ট করা হয়েছে, সম্ভাব্য হামাস-যোগ প্রতিষ্ঠা করা এখনও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয়। আধিকারিকদের মতে, এই তদন্তের ফল পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক জেহাদি সংগঠনগুলির মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য দিতে পারে (Pahalgam Terror Attack Case)। কারণ এনআইএ পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর নেটওয়ার্কের পর্দা ফাঁস করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে (NIA)।

     

  • Terror Outfits: কাশ্মীরে কৌশল বদলাচ্ছে আইএসআই, জঙ্গিদের ভিড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ভারতের রাজনীতিতে! সতর্ক করলেন গোয়েন্দারা

    Terror Outfits: কাশ্মীরে কৌশল বদলাচ্ছে আইএসআই, জঙ্গিদের ভিড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ভারতের রাজনীতিতে! সতর্ক করলেন গোয়েন্দারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৌশল বদলানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। বিভিন্ন জঙ্গি কার্যকলাপের তদন্ত এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নিরন্তর অভিযানের হাত থেকে বাঁচতে জম্মু-কাশ্মীরে তাদের ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার (OGW) নেটওয়ার্ককে মূলধারার জাতীয় রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে মিশে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান আধিকারিকরা।

    আইএসআইয়ের কৌশল পরিবর্তনের চেষ্টা (Terror Outfits)

    আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর নজরদারিতে রয়েছে পাকিস্তান। সেই কারণেও আইএসআইয়ের কৌশল পরিবর্তনের চেষ্টা। এরই অংশ হিসেবে তারা নয়ের দশকের শুরুতে স্থানীয়ভাবে গঠিত এবং বর্তমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সক্রিয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জঙ্গি কার্যকলাপগুলির ‘ভারতীয়করণে’র রূপ দিতে এবং পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদত দেওয়ার বিষয়টিকে আড়াল করতেই এই পন্থা অবলম্বন করছে পাক-চর সংস্থা।

    জেরায় কী জানিয়েছে জঙ্গিরা?

    কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার আধিকারিকদের মতে, সম্প্রতি শ্রীনগর পুলিশ পাকড়াও করেছে কয়েকজন ওজিডব্লিউকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই জানা গিয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ জাতীয় রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিল। জঙ্গি সংগঠনগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সহায়তা, নিয়োগ এবং অর্থায়নকারী সমর্থকদের বৈধ রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে ভিড়িয়ে দিয়ে আইএসআই তাদের এজেন্টদের নিরাপত্তা অভিযানের হাত থেকে রক্ষা করতে চাইছে।

    জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কোমর ভেঙে গিয়েছে

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আধিকারিক জানান, এই কৌশলটি মূলত হতাশা থেকে নেওয়া। কারণ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রবল চাপে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কোমর ভেঙে গিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে নয়া প্রক্সি সংগঠনগুলির প্রতি স্থানীয়দের সমর্থনও। পুরানো সংগঠনগুলির নাম পুনরুজ্জীবিত করে এবং তাদের কর্মীদের মূলধারার রাজনীতির স্রোতে মিশিয়ে দিয়ে নতুন প্রজন্মের যুবকদের আকৃষ্ট করতে এবং একই সঙ্গে তাদের কর্মীদের রাজনৈতিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে চাইছে আইএসআই। আধিকারিকদের মতে, যখন কোনও ওজিডব্লিউ ঘেরাও এবং তল্লাশি অভিযানে ধরা পড়ে, তখন তারা অনেক সময় জাতীয় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সদস্যপদের ‘প্রমাণপত্র’ দেখিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে।

    জঙ্গিদের ছল

    নিরাপত্তা আধিকারিকরা লক্ষ্য করেছেন, জঙ্গিদের এই কৌশল বদলেছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। নয়ের দশকের শেষ দিকে সন্দেহভাজনরা পুলিশের হাত এড়াতে ভোটারকার্ড ব্যবহার করত। পরে তদন্ত এড়াতে তারা আধার কার্ডও ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। যদিও তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কখনও এই ধরনের লোকজনকে রক্ষা করতে হস্তক্ষেপ করেনি। এদিকে, ওজিডব্লিউ কার্যকলাপের মাধ্যমে ১৯৯৩ সালের পর প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া কিছু সংগঠনকে ফের সক্রিয় করার চেষ্টা করতেও দেখা যাচ্ছে।

    আইএসআইয়ের কৌশল

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বর্তমানে ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে জম্মু- কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত পুরোনো সংগঠনগুলির নাম ফের সামনে আসার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই সব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে আল-উমর মুজাহিদিন, আল বদর, এবং তেহরিক-উল-মুজাহিদিনও। আধিকারিকদের মতে, এই পুরোনো স্থানীয় পরিচয়ের সংগঠনগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করে আইএসআই এমন একটি ভুল ধারণা তৈরি করতে চায় যে জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গি কার্যকলাপ একটি অভ্যন্তরীণ এবং স্থানীয় আন্দোলন, সীমান্তপারের পরিকল্পিত ছায়াযুদ্ধ নয়।

    বহাল তবিয়তে রয়েছে জঙ্গিদের মাথারা

    তাঁরা এও জানান, পুনরুজ্জীবিত এই সব সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে নিরাপদে রয়েছে। যদিও তারা ফিল্ড লেভেলের নেটওয়ার্ক প্রচার, অর্থ জোগাড় এবং উগ্রপন্থায় প্ররোচনা দেওয়ার কাজে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জঙ্গিদের এসব তৎপরতার ওপর কঠোর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে এবং ফের সক্রিয় হওয়া ওজিডব্লিউ নেটওয়ার্কের লজিস্টিক সহায়তা ব্যবস্থাকে নিষ্ক্রিয় করার কাজ করছে। একই সঙ্গে, জঙ্গিদের সমর্থকদের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে উগ্র মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও প্রতিরোধ করা হচ্ছে। অর্জিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানান গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কর্তারা।

     

  • India China Relation: ‘নাক গলানোর অধিকার নেই কারও’ কড়া জবাব ভারতের, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নিয়ে কেন চিন-পাক যৌথ বিবৃতি?

    India China Relation: ‘নাক গলানোর অধিকার নেই কারও’ কড়া জবাব ভারতের, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নিয়ে কেন চিন-পাক যৌথ বিবৃতি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের “অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ”। এই বিষয়ে কোনও দেশের মন্তব্য করার “কোনও অধিকার নেই”। চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীরের উল্লেখকে দ্ব্যর্থহীন ভাবে সমালোচনা করল ভারত। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের অবস্থান সুসংগত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে সুপরিচিত। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ, দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ ছিল, আছে এবং সবসময় থাকবে। এ বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার অন্য কোনও দেশের নেই।”

    চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিকে প্রত্যাখ্যান

    মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে চিন-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে ভারতীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত যে মন্তব্য করা হয়েছে, তা ভারত “স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান” করছে। মে ২৬, ২০২৬-এ প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে ভারত তার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা কোনওভাবেই আপসযোগ্য নয়। চিন সফরে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন, তাতেই ফের উঠে আসে কাশ্মীর প্রসঙ্গ। সেই বিবৃতিতে পাকিস্তান চিনকে জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে অবহিত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি চিনের তরফে জানানো হয়, রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের ভিত্তিতে এই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

    ভারতীয় ভূখণ্ডে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর

    চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (China–Pakistan Economic Corridor) নিয়েও ফের আপত্তি জানায় নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, এই প্রকল্পের একটি অংশ পাকিস্তানের বেআইনি দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। ফলে এই ধরনের উদ্যোগকে ভারত কখনওই মান্যতা দেবে না। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানায়, সিপিইসি-সংক্রান্ত কার্যকলাপ নিয়ে ভারত একাধিকবার চিন ও পাকিস্তান—উভয় দেশকেই নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, “তথাকথিত চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) প্রকল্পের কয়েকটি ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডে অবস্থিত। আমরা অন্য কোনও দেশের এমন পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করি, যা ভারতের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করে পাকিস্তানের বেআইনি ও বলপূর্বক দখলদারিকে বৈধতা দেয়। এই বিষয়টি পাকিস্তানি ও চিনা কর্তৃপক্ষকে একাধিক বার স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে।”

    সীমান্ত পারাপার জলসম্পদ সহযোগিতা

    এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আপত্তি তোলে ভারত। চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে ‘সীমান্ত পারাপার জলসম্পদ সহযোগিতা’র কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে ভারতের বক্তব্য, চিন এবং পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি কোনও সীমান্তই নেই। ফলে এই ধরনের সহযোগিতার প্রশ্নই ওঠে না। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে হওয়া তথাকথিত সীমান্ত চুক্তিকে ভারত কখনও স্বীকৃতি দেয়নি। উল্লেখ্য, সেই সময় পাকিস্তান শাকসগাম উপত্যকার প্রায় ৫১৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা চিনের হাতে তুলে দেয় বলে ভারতের দাবি।

    প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন চিনের

    কূটনৈতিক মহলের মতে, এই যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীর এবং জলসম্পদ প্রসঙ্গ তোলার মাধ্যমে পাকিস্তানকে আরও একবার প্রকাশ্যে সমর্থনের বার্তা দিল বেজিং। একই সঙ্গে ভারতের উপর চাপ তৈরি করার কৌশলও থাকতে পারে এর পিছনে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরের কাছে গওয়াদর বন্দরের কৌশলগত গুরুত্বও এই সম্পর্কের অন্যতম কারণ। চিন দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

    বেজিং-এর প্রাধান্য মেনে নিল ইসলামাবাদ

    অন্যদিকে পাকিস্তান আবারও ‘এক চিন নীতি’র প্রতি সমর্থন জানাতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ তাইওয়ানকে চিনের অংশ হিসেবেই মানছে ইসলামাবাদ। চিন সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সফরের সময় এই নীতির প্রতি সমর্থন আদায় করে থাকে। ২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চিন সফরে ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সফরকালে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। দুই দেশই জানিয়েছে, তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে নতুন ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

    কোয়াডের পাল্টা বেজিংয়ের বিবৃতি

    সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াডের বৈঠকে  ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের প্রভাব ঠেকাতেও তৎপর হয়েছে ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার চতুর্দেশীয় অক্ষ বা কোয়াড। মঙ্গলবার দিল্লিতে চতুর্দেশীয় জোটে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে সেই বার্তাই উঠে এসেছে। চিনকে ঠেকাতে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে যৌথ ভাবে বন্দর বানাবে কোয়াড গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি। পাশাপাশি রফতানি ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কোয়াড। সরাসরি কোনও দেশের নামোল্লেখ করেনি তারা। ইঙ্গিত ছিল চিনের দিকেই বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, বিরল খনিজ রফতানির ক্ষেত্রে গত বছর থেকে কড়াকড়ি শুরু করেছে চিন। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, এমনকি ভারতেও। কোয়াডের এই ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তেই ধাক্কা খেয়েছে বেজিং, তাই পাকিস্তানকে পাশে নিয়ে এই বিবৃতি, বলে মত বিশেষজ্ঞদের। অন্যদিকে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের পহেলগাঁও হামলারও কড়া নিন্দা করেছে কোয়াড।

    দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কড়া ভারত

    এই আবহেই চিন-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিকে কেন্দ্র করে ভারত ফের কড়া কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করল। বিশেষ করে কাশ্মীর, লাদাখ এবং সিপিইসি ইস্যুতে নয়াদিল্লি যে কোনও আপসের পথে হাঁটবে না, সেই বার্তাই আরও একবার তুলে ধরা হল। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশ্মীর ইস্যু এবং বিতর্কিত অঞ্চলে চিন-পাকিস্তানের কৌশলগত সহযোগিতা ঘিরে যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া তারই প্রতিফলন। মোদি সরকারের পরিষ্কার বার্তা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিয়ে আপোষ নয়।

LinkedIn
Share