মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কার্যভার গ্রহণের পর প্রথম ‘জনতার দরবার’ (Janatar Darbar) কর্মসূচির সূচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১ জুন থেকে এই জনসংযোগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, নির্ধারিত সময়ের দশ দিন পূর্বেই, অর্থাৎ ১৮ মে সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য কার্যালয়ে তিনি এই কর্মসূচির আয়োজন করেন। সাধারণ মানুষ নিজের নিজের সমস্যার কথা তুলে ধরলেন বিজেপির এই মুখ্যমন্ত্রীকে। উল্লেখ্য প্রাচীন কাল থেকেই ভারতীয় রাজা-মহারাজারা জনতার দরবারে বসতেন। সাধারন মানুষের অভাব অভিযোগ শুনতেন।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উপস্থিত হন জনতা (Janatar Darbar)
সোমবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে। উপস্থিত নাগরিকসমাজ জমি সংক্রান্ত বিরোধ, প্রশাসনিক জটিলতা, স্থানীয় স্তরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও সামাজিক সমস্যার কথা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নিকট উত্থাপন করেন। শিক্ষার্থীসহ সমাজের নানা স্তরের মানুষের এই অভাব-অভিযোগ ও আবেদন অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শোনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এরপর জনতার দরবার (Janatar Darbar) থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কিছু সমস্যার দ্রুত প্রশাসনিক সমাধানের আশ্বাসও প্রদান করেন।
শপথ গ্রহণের পরেই সিদ্ধান্ত হয়
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জনগণের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শ্রবণের উদ্দেশ্যে এই নিয়মিত জনতার দরবার (Janatar Darbar) কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। ভারতের প্রশাসনিক ইতিহাসে এই ব্যবস্থার ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। আধুনিক ভারতেও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কিংবা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন নীতিশ কুমার নিজ নিজ রাজ্যে এই ধরনের সফল জনতার দরবার পরিচালনা করেছেন। এমনকি ২০০১ সালে মধ্যপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উমা ভারতীও তাঁর সরকারি বাসভবনে অনুরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
প্রথম সপ্তাহেই সুশাসনের ইঙ্গিত
এদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টির (Suvendu Adhikari) রাজ্য শাখার পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই অর্থাৎ ৯ থেকে ১৬ মে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত (Janatar Darbar) ও পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “বিগত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনাধীনে পশ্চিমবঙ্গ যা অর্জন করতে পারেনি, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই সেই সুশাসনের গতি নিশ্চিত করতে শুরু করেছে। এটিই হলো প্রগতিশীল ও নতুন পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত পরিচয়।”
