Tag: Jawaharlal Nehru University

Jawaharlal Nehru University

  • ABVP: উমর খালিদের বই নিয়ে আলোচনা সভা বাতিল জেএনইউতে, কী বলছে এবিভিপি?

    ABVP: উমর খালিদের বই নিয়ে আলোচনা সভা বাতিল জেএনইউতে, কী বলছে এবিভিপি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের তরফে অভিযুক্ত উমর খালিদকে (Umar Khalid) নিয়ে একটি বই আলোচনা সভার আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আজ ১০ অগাস্ট বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ওই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। তবে (ABVP) অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) জেএনইউ শাখার তীব্র আপত্তি ও ধারাবাহিক প্রতিবাদের পর শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে।

    খালিদের বিরুদ্ধে গুচ্ছের অভিযোগ (ABVP)

    খালিদ ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্ত। ২০১৬ সালে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়িয়েছিল। কাশ্মীর নিয়ে নানা সময় তাঁর করা বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। জেএনইউয়ের এবিভিপির অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে খালিদের বইকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তাঁর পক্ষে একটি ইতিবাচক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অনুষ্ঠানের পোস্টার প্রকাশ্যে আসার পরেই সংগঠনটি এ ব্যাপারে সরব হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুষ্ঠানটি অবিলম্বে বাতিল করার দাবিও জানানো হয়।

    এবিভিপির প্রতিবাদ

    এবিভিপির পক্ষ থেকে লাগাতার প্রতিবাদ ও চাপ তৈরির পর অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি। একইসঙ্গে, গুরুতর দেশবিরোধী কার্যকলাপ ও হিংসার মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য প্রাথমিকভাবে অনুমতি দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও নিন্দা করেছে তারা। এবিভিপি (ABVP) জেএনইউয়ের সভাপতি ময়ঙ্ক পাঞ্চাল বলেন, “গুরুতর দেশবিরোধী কার্যকলাপ ও হিংসার সঙ্গে যুক্ত মামলায় অভিযুক্ত কোনও ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করার মঞ্চ জেএনইউ চত্বর হতে পারে না। আমরা এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে সরব হয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্পষ্টভাবে আমাদের আপত্তির কথা জানিয়েছি। কর্মসূচি বাতিল হওয়া এবিভিপির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার জয়।”

    দেশবিরোধী মানসিকতার প্রতিবাদ

    এবিভিপির জেএনইউয়ের সম্পাদক প্রবীণ পীযূষ বলেন, “দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার পক্ষে এবিভিপি সবসময় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। দেশবিরোধী মানসিকতাকে স্বাভাবিক করে তোলার যে কোনও প্রচেষ্টার আমরা তীব্র বিরোধিতা করব। এবিভিপি জেএনইউ এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে আওয়াজ তুলেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কর্মসূচিটি বাতিল হয়েছে।” প্রসঙ্গত, পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি (Umar Khalid) করা হয়, আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে অনুমতি নেওয়া (ABVP) হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ‘আদিবাসী দিবস’ পালনের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

     

  • Nivedita Menon: ‘ভারত মনহুস দেশ’! প্রাক্তন জেএনইউ অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়

    Nivedita Menon: ‘ভারত মনহুস দেশ’! প্রাক্তন জেএনইউ অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ‘মনহুস দেশ’ বলে উল্লেখ। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের (India Controversy) সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক আন্দোলনের ফলে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত বারো বছরে তাঁদের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যে তাঁরা সবসময় অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে থাকতেন।” সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল, শিক্ষাজগত, প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ, লেখক, সমাজকর্মী-সহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বহু মানুষ সমাজমাধ্যমে তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেন। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং দেশের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে।

    অজয় জাদেজার কড়া প্রতিক্রিয়া

    প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার অজয় জাদেজা নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ভারতকে ‘মনহুস দেশ’ বলা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তাঁর মতে, এমন মন্তব্য দেশের কোটি কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং একজন শিক্ষাবিদের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়।”

    সুনীল দেওধরের মন্তব্য

    ভারতীয় জনতা পার্টির প্রাক্তন জাতীয় সম্পাদক সুনীল দেওধরও এই ঘটনায় সরব হন। তিনি ভগিনী নিবেদিতার (Nivedita Menon) প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ভগিনী নিবেদিতা নিজের জন্মভূমি ছেড়ে ভারতকে নিজের দেশ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ভারতীয় সংস্কৃতি, দর্শন ও আধ্যাত্মিক ভাবধারাকে বিশ্বজুড়ে তুলে ধরেছিলেন। একই নাম বহন করলেও নিবেদিতা মেননের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। ধরনের মন্তব্য ভগিনী নিবেদিতার আদর্শেরও অবমাননা করে।” পাশাপাশি দেশভাগের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরেন বিজেপির প্রাক্তন জাতীয় সম্পাদক।

    নিবেদিতা মেননকে (Nivedita Menon) কটাক্ষ নিরঞ্জন কুমারের

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক নিরঞ্জন কুমার বলেন, “নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) মতো ব্যক্তিরা এই দেশের মাটি, জল, বাতাসে বড় হয়েছেন এবং জনগণের করের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। তাই দেশের প্রতি তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। নিজের দেশকে ‘অভিশপ্ত’ বলে উল্লেখ করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেকেই ভারতকে ছোট করে দেখিয়ে অন্য দেশের প্রশংসা করেন, অথচ ভারতের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং মানবিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন না।”

    মেননের মন্তব্যের সমালোচনা লেখক রতন শারদারের

    লেখক ও বিশ্লেষক রতন শারদাও সমাজমাধ্যমে নিবেদিতা মেননের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “যখন নিজেদের মতামতের একচেটিয়া প্রভাব থাকে না, তখনই কিছু মানুষ দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করতে শুরু করেন।”

    সমালোচকেরা মুখে ভারতের সাফল্যের কথা

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) বক্তব্যের বিরোধিতায় অনেকেই ভারতের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারত গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন, অতিমারির সময় ভারত শুধু নিজেদের নাগরিকদের জন্য নয়, বিশ্বের বহু দেশের কাছেও টিকা পৌঁছে দিয়েছিল। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত দেশেও ভারত দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মানবিক ভূমিকা পালনকারী একটি দেশকে ‘মনহুস’ বলে আখ্যা দেওয়া বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    নতুন করে আলোচনায় অতীতের বিতর্কও

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) অতীতের একাধিক বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সমালোচকদের দাবি, কাশ্মীর প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পর্কে বক্তব্য এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর অবস্থান অতীতেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। এছাড়াও একটি আলোচনায় তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তাঁর বক্তব্য জাতীয়তাবাদী মতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়েছে।

    তীব্র মতভেদ, জারি বিতর্ক (India Controversy)

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, দেশের ভাবমূর্তি এবং জনবুদ্ধিজীবীদের সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তাঁর সমর্থকদের দাবি, প্রত্যেক নাগরিকের নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে দেশের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা উচিত নয়। সব মিলিয়ে নিবেদিতা মেননের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সমাজমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

LinkedIn
Share