Tag: Jawaharlal Nehru University

Jawaharlal Nehru University

  • Nivedita Menon: ‘ভারত মনহুস দেশ’! প্রাক্তন জেএনইউ অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়

    Nivedita Menon: ‘ভারত মনহুস দেশ’! প্রাক্তন জেএনইউ অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ‘মনহুস দেশ’ বলে উল্লেখ। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের (India Controversy) সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক আন্দোলনের ফলে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত বারো বছরে তাঁদের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যে তাঁরা সবসময় অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে থাকতেন।” সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল, শিক্ষাজগত, প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ, লেখক, সমাজকর্মী-সহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বহু মানুষ সমাজমাধ্যমে তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেন। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং দেশের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে।

    অজয় জাদেজার কড়া প্রতিক্রিয়া

    প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার অজয় জাদেজা নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ভারতকে ‘মনহুস দেশ’ বলা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তাঁর মতে, এমন মন্তব্য দেশের কোটি কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং একজন শিক্ষাবিদের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়।”

    সুনীল দেওধরের মন্তব্য

    ভারতীয় জনতা পার্টির প্রাক্তন জাতীয় সম্পাদক সুনীল দেওধরও এই ঘটনায় সরব হন। তিনি ভগিনী নিবেদিতার (Nivedita Menon) প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ভগিনী নিবেদিতা নিজের জন্মভূমি ছেড়ে ভারতকে নিজের দেশ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ভারতীয় সংস্কৃতি, দর্শন ও আধ্যাত্মিক ভাবধারাকে বিশ্বজুড়ে তুলে ধরেছিলেন। একই নাম বহন করলেও নিবেদিতা মেননের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। ধরনের মন্তব্য ভগিনী নিবেদিতার আদর্শেরও অবমাননা করে।” পাশাপাশি দেশভাগের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরেন বিজেপির প্রাক্তন জাতীয় সম্পাদক।

    নিবেদিতা মেননকে (Nivedita Menon) কটাক্ষ নিরঞ্জন কুমারের

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক নিরঞ্জন কুমার বলেন, “নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) মতো ব্যক্তিরা এই দেশের মাটি, জল, বাতাসে বড় হয়েছেন এবং জনগণের করের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। তাই দেশের প্রতি তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। নিজের দেশকে ‘অভিশপ্ত’ বলে উল্লেখ করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেকেই ভারতকে ছোট করে দেখিয়ে অন্য দেশের প্রশংসা করেন, অথচ ভারতের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং মানবিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন না।”

    মেননের মন্তব্যের সমালোচনা লেখক রতন শারদারের

    লেখক ও বিশ্লেষক রতন শারদাও সমাজমাধ্যমে নিবেদিতা মেননের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “যখন নিজেদের মতামতের একচেটিয়া প্রভাব থাকে না, তখনই কিছু মানুষ দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করতে শুরু করেন।”

    সমালোচকেরা মুখে ভারতের সাফল্যের কথা

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) বক্তব্যের বিরোধিতায় অনেকেই ভারতের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারত গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন, অতিমারির সময় ভারত শুধু নিজেদের নাগরিকদের জন্য নয়, বিশ্বের বহু দেশের কাছেও টিকা পৌঁছে দিয়েছিল। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত দেশেও ভারত দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মানবিক ভূমিকা পালনকারী একটি দেশকে ‘মনহুস’ বলে আখ্যা দেওয়া বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    নতুন করে আলোচনায় অতীতের বিতর্কও

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) অতীতের একাধিক বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সমালোচকদের দাবি, কাশ্মীর প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পর্কে বক্তব্য এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর অবস্থান অতীতেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। এছাড়াও একটি আলোচনায় তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তাঁর বক্তব্য জাতীয়তাবাদী মতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়েছে।

    তীব্র মতভেদ, জারি বিতর্ক (India Controversy)

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, দেশের ভাবমূর্তি এবং জনবুদ্ধিজীবীদের সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তাঁর সমর্থকদের দাবি, প্রত্যেক নাগরিকের নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে দেশের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা উচিত নয়। সব মিলিয়ে নিবেদিতা মেননের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সমাজমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

  • JNU: পশ্চিম এশিয়া নিয়ে তিন আলোচনা সভা বাতিল করল জেএনইউ

    JNU: পশ্চিম এশিয়া নিয়ে তিন আলোচনা সভা বাতিল করল জেএনইউ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অচলাবস্থা নিয়ে আয়োজিত তিনটি পৃথক আলোচনা সভা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিল দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU)। কেন পশ্চিম এশিয়া নিয়ে তিন আলোচনা সভা বাতিল করা হল, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। এই সেমিনারে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ভারতে নিযুক্ত ইরান, প্যালেস্টাইন ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের। তাঁরাও সেমিনার বন্ধ প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করেননি।

    কোন কোন সভা বাতিল

    জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (JNU) এই আলোচনা সভার আয়োজক ছিল জেএনইউয়ের ‘সেন্টার ফর ওয়েস্ট এশিয়ান স্টাডিজ’। তিনটি পৃথক দিনে তিন দেশের রাষ্ট্রদূতদের আসার কথা ছিল। গত বুধবার ছিল প্রথম আলোচনা সভা। আসার কথা ছিল ইরানের রাষ্ট্রদূত ইরাজ ইলাহির। পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ইরান কী চোখ দেখছে, সেটাই ছিল আলোচনার বিষয়বস্তু। সময় নির্ধারিত ছিল বেলা ১১টা। কিন্তু সকাল আটটাতেই আলোচনা সভার সমন্বয়ক সীমা বৈদ্য ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ইমেল করে জানিয়ে দেন, অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। সেই একই বার্তা পাঠানো হয় প্যালেস্টাইন ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদেরও। 

    আরও পড়ুনঃ দানা’র দাপটে উত্তাল দিঘা-মন্দারমণি, ভোর-রাত থেকেই নাগাড়ে বৃষ্টি কলকাতায়

    কেন সভা বাতিল

    প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রদূত আদনান আবু আল হাইজার আসার কথা ছিল ৭ নভেম্বর। লেবাননের আলোচনা সভার সময়সূচি ছিল ১৪ নভেম্বর। সেখানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল, সে দেশের রাষ্ট্রদূত রাবিই নার্সের। ইরান ও লেবানন দূতাবাসের তরফে বলা হয়েছে, কী কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা তাঁরা জানেন না। আলোচনা সভার সমন্বয়ক সীমা বৈদ্যও কারণ জানাতে চাননি। যদিও জেএনইউ (JNU) সূত্রে খবর, ‘স্কুল অব ইন্টারন্যাশন্যাল স্টাডিজ’–এর (সিস) শীর্ষ ফ্যাকাল্টি সদস্যরা এই আলোচনা সভাতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা, আলোচনা সভা হলে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ হতে পারত। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Jawaharlal Nehru University: হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন চর্চা হবে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে! কবে থেকে শুরু পঠনপাঠন?

    Jawaharlal Nehru University: হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন চর্চা হবে জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে! কবে থেকে শুরু পঠনপাঠন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পড়ুয়াদের জন্য এক দারুণ খবর। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় এবার (Jawaharlal Nehru University) হিন্দু পঠনপাঠনের (Hindu Studies) পাশাপাশি বৌদ্ধ (Buddhist) ও জৈন পঠনপাঠনের (Jain Studies) কেন্দ্র খুলবে। নতুন এই বিষয়গুলো চালু করার জন্য এর আগে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক হয়। জাতীয় শিক্ষা নীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থার অন্বেষণ এবং সুপারিশ করার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরপর গত ২৯ মে বৈঠকের সিদ্ধান্তটি অনুমোদন পেয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিষয়টি (JNU new centres) জানানো হয়েছে।

    জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগটি ঘোষণা করে, এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে জানানো হয়েছে যে, “এটি আমাদের আধুনিকতার সাথে ঐতিহ্য, পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা, অঞ্চলের সাথে রাজ্য এবং বাস্তবতার সাথে মিথকে একীভূত করার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।” 

    Delhi: JNU to establish Centres for Hindu Studies, Buddhist Studies and Jain studies pic.twitter.com/gcKK7ERD67

    — ANI (@ANI) July 12, 2024

    কবে থেকে শুরু হবে এই পঠনপাঠন? (Jawaharlal Nehru University)

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ২০২৫-২৬ সাল থেকে তিনটি নতুন পঠনপাঠন কেন্দ্র (JNU new centres) চালু করা হবে। যার মধ্যে থাকবে ‘হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন’ অধ্যয়নের সুযোগ। শিক্ষার্থীরা এই তিনটি পঠনপাঠন কেন্দ্র থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং পিএইচডি ডিগ্রি করতে পারবেন। কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট-এর মাধ্যমে বিষয়গুলোতে ভর্তি নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তিনটি কেন্দ্রেই ২০টি করে আসন থাকবে। পরে সংখ্যা বাড়ানো হবে।

    আরও পড়ুন: জুনের শুরুতেই তীব্র প্রশাসনিক সংকট অন্ধ্রপ্রদেশে! ভারতের একমাত্র রাজ্য, যার রাজধানী নেই

    প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছর, দিল্লি ইউনিভার্সিটি (DU) হিন্দু পঠনপাঠনের জন্য একটি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে, যেটি বর্তমানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করে এবং ভবিষ্যতে স্নাতক কোর্স চালু করার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি বৌদ্ধ পঠনপাঠনের জন্যও একটি বিভাগের চিন্তা ভাবনা চলছে। জানা গিয়েছে, এবছর মার্চ মাসে, ৩৫ কোটি টাকার বাজেটে বৌদ্ধ ধর্মে উন্নত পঠনপাঠন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারী অনুমোদন পেয়েছে।
     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Vadnagar: মোদির হোম টাউন ভাদনগরে মিলল ২৮০০ বছরের পুরাতন সভ্যতার নিদর্শন

    Vadnagar: মোদির হোম টাউন ভাদনগরে মিলল ২৮০০ বছরের পুরাতন সভ্যতার নিদর্শন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৮০০ বছরের পুরাতন সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হোম টাউন ভাদনগরে (Vadnagar)। একাধিক স্থানে এএসআই খনন কার্য চালিয়ে এই বহু পুরাতন বসতির সন্ধান পেয়েছে। শহরে নানা সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মেল বন্ধনের নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। বৌদ্ধ, জৈন এবং হিন্দু ধর্মের নানান সাংস্কৃতিক সূত্রের ঐতিহাসিক নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। হরপ্পা সভ্যতার শেষ পর্যায়ের সময়কার নিদর্শন বলে মনে করা হচ্ছে।

    খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ বছরের পুরাতন একটি সভ্যতা (Vadnagar)

    আইআইটি খড়গপুর, আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই), ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি (পিআরএল), জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটি (জেএনইউ) এবং ডেকান কলেজের বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে ২০১৬ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত খননকার্য চালিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। এরপর তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, গুজরাটের ভাদনগরের (Vadnagar) সভ্যতা হল খ্রিস্টীয় যুগের অনেক আগের সভ্যতার নিদর্শন। খনন কাজের ফলে প্রাপ্ত উপাদান থেকে গবেষণায় জানা গেয়েছে, এখানে একটি সুপ্রচীন জনবসতি ছিল। আনুমানিক প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ বছরের পুরাতন একটি সভ্যতা এখানে ছিল। গবেষকরা অনুমান করছেন, এই সভ্যতার উপর বিভিন্ন সময়ের উত্থান পতনের ক্ষেত্রে মধ্য এশিয়ায় বারংবার আক্রমণের একটি প্রভাব পড়ে থাকতে পারে। এছাড়াও প্রাকৃতিক ভাবে জলবায়ুর পরিবর্তন, বৃষ্টিপাত, বন্যা, খরা ইত্যাদির প্রভাব পড়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কী জানালেন বিশেষজ্ঞরা

    ভাদনগরে (Vadnagar) খনন কাজের ফলে পাওয়া নিদর্শন সম্পর্কে খড়গপুর আইআইটির ভূতত্ত্ব এবং ভূ-পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ডঃ অনিন্দ্য সরকার বলেছেন, “আমরা গত ৪-৫ বছর ধরে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে ভাদনগরে কাজ করছি। খননের ফলে উদ্ধার হওয়া ভূমির স্তর দেখে মনে হয়, একটি খুব পুরাতন বৌদ্ধ বিহার এখানে এক সময় ছিল। বিস্তৃত ভূমির স্তরে নানান উপাদান এখানে খুঁজে পাওয়া গেছে। ২০১৬-২০২৩ সালে খনন করে ভূ-গর্ভের মোট ২০ মিটার গভীরে যাওয়া সম্ভব পর হয়েছে। খননের ফলে জানা গিয়েছে ভাদনগরের ইতিহাস অনেক প্রাচীন। এখনও পর্যন্ত ভূমির মোট সাতটি সাংস্কৃতিক স্তরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত সব থেকে প্রাচীনতম স্তরটি আনুমানিক ২৮০০ বছরের পুরাতন যা ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সময়কার হতে পারে। সবটা মিলিয়ে শেষ স্তরের খনন দেখে বলা যায় আনুমানিক সাড়ে ৩ হাজার বছরের কম হবে না। এটা এক প্রকার হরপ্পা সভ্যতার শেষ সময়কালকেই ইঙ্গিত করে।” আবার এএসআই প্রত্নতত্ত্ববিদ অভিজিৎ আম্বেকর বলেছেন, “খননের ফলে চারিত্রিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, মৃৎপাত্র, তামা, সোনা, রুপো, লোহার বস্তু এবং জটিল নকশা করা চুড়িও পাওয়া গিয়েছে। আমরা ভাদনগরে ইন্দো-গ্রীক শাসনের সময় গ্রীক রাজা অ্যাপোলোডাটাসের মুদ্রার ছাঁচও পেয়েছি।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share