Tag: Jay Shah

Jay Shah

  • Jay Shah: প্রাক-টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্বে ‘নাটক’ নিয়ে মুখ খুললেন জয় শাহ

    Jay Shah: প্রাক-টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্বে ‘নাটক’ নিয়ে মুখ খুললেন জয় শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ (Pre T20 World Cup Drama) নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। নিরাপত্তা উদ্বেগের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ভারতে আসতে অস্বীকার করায় টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও, বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় ছিল। তাই তাদের জায়গায় (Jay Shah) নেওয়া হয় স্কটল্যান্ডকে।

    “কোনও দলই সংস্থার চেয়ে বড় নয়” (Jay Shah)

    পরে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট করার হুমকি দিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত বদল করে। এই বিতর্কের সময় নীরব ছিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। এতদিন পরে মুখ খুললেন তিনি। মুম্বইয়ে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়ান বিজনেস লিডার অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ জানান, কয়েকটি দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া দ্বিধার কারণে পুরো টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে তিনি বলেন, “কোনও দলই সংস্থার চেয়ে বড় নয়।”

    দর্শকসংখ্যার সব রেকর্ড ভেঙেছে

    তিনি বলেন, “এই আইসিসি বিশ্বকাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে অনেক আলোচনা চলছিল, কিছু দল আদৌ অংশ নেবে কি না এবং বিশ্বকাপ কীভাবে এগোবে। আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে আমি বলতে পারি, কোনও দলই সংস্থার চেয়ে বড় নয় এবং কোনও একক দল একটি সংস্থা তৈরি করে না। একটি সংস্থা গড়ে ওঠে সব দলের সমন্বয়ে।” যদিও তিনি সরাসরি বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের নাম নেননি। শাহ জানান, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ দর্শকসংখ্যার সব রেকর্ড ভেঙেছে। একসঙ্গে ৭.২ মিলিয়ন দর্শক ম্যাচ দেখেছেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি বলেন, “এই বিশ্বকাপ সব ধরনের দর্শকসংখ্যার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবার আমরা ৭.২ মিলিয়ন দর্শক পেয়েছি। সামগ্রিক দর্শকসংখ্যার সব রেকর্ডই ভেঙে গিয়েছে। আপনি দেখবেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে কঠিন লড়াই দিয়েছে, নেদারল্যান্ডস পাকিস্তানকে সমস্যায় ফেলেছে, জিম্বাবোয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে এবং নেপাল ইংল্যান্ডকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে (Pre T20 World Cup Drama)। আমি সব অ্যাসোসিয়েট দলকে অভিনন্দন জানাই। তারা পূর্ণ সদস্য দেশগুলির বিরুদ্ধে খুব ভালো খেলেছে (Jay Shah)।”

    জয়ের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

    শেষে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দেন জয়। বলেন, “সূর্য (সূর্যকুমার যাদব) এবং গৌতম ভাইয়ের জন্য আমার একটি বার্তা আছে—শীর্ষে উঠতে বছর লাগে, কিন্তু শীর্ষ থেকে নীচে নামতে মাত্র কয়েক মাসই যথেষ্ট। তাই কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান এবং জয়ের ধারা বজায় রাখুন। আমি যখন ভারতের ক্রিকেট বোর্ডে (BCCI) ছিলাম, তখন ২০২৮ অলিম্পিক পর্যন্ত পরিকল্পনা করেছিলাম। এখন আমি আইসিসিতে আছি এবং বিসিসিআইয়ের দায়িত্ব অন্যদের হাতে। আপনাদের সবাইকে ২০৩০, ২০৩১ এমনকি (Pre T20 World Cup Drama) ২০৩৬ সালের জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে (Jay Shah)।”

     

  • T20 World Cup 2026: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কট নিয়ে ইউ টার্ন নিচ্ছে পাকিস্তান!

    T20 World Cup 2026: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কট নিয়ে ইউ টার্ন নিচ্ছে পাকিস্তান!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) গ্রুপ-পর্বের ম্যাচ বয়কট করা নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান এবং সেই সিদ্ধান্ত থেকে সম্ভাব্য ইউ-টার্ন এখন চূড়ান্ত পর্বের দিকে এগোচ্ছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) বৈঠকে বসেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব দিক থেকে বিবেচনা করলে এই ম্যাচের আর্থিক মূল্য ৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি।

    পিসিবি দাবি (T20 World Cup 2026)

    সূত্রের খবর, পিসিবি আইসিসির সামনে একাধিক দাবি তোলে। তবে জয় শাহের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি সেই দাবিগুলির মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে সংবাদ সংস্থাকে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের দাবিগুলি কী এবং সেই বিষয়ে আইসিসির অবস্থান কী, এবার জেনে নেওয়া যাক সেগুলি। পাকিস্তানের প্রথম দাবি ছিল, বাংলাদেশের ওপর কোনও আর্থিক জরিমানা করা যাবে না। পিসিবি সাফ জানিয়ে দেয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললেও, বাংলাদেশকে তার সম্পূর্ণ আইসিসি রাজস্ব অংশ দিতে হবে। এ ব্যাপারে আইসিসি জানিয়েছে, এটি আগেই তাদের সিদ্ধান্ত ছিল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর কোনও আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হবে না (T20 World Cup 2026)।

    বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত আইসিসি ইভেন্ট

    পাকিস্তানের দ্বিতীয় দাবি ছিল, বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত আইসিসি ইভেন্ট। পরবর্তী চক্রে বাংলাদেশের জন্য একটি অতিরিক্ত আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের দাবি তোলে পিসিবি। আইসিসি (ICC) জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী চক্রে একটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজের দাবিও উঠেছিল।  ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের জন্য আইসিসির হস্তক্ষেপ চায় পিসিবি। আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, এই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আইসিসি জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ তাদের আওতার বাইরে, এমনকি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের মধ্যেও নয়। ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তাব দেয় পিসিবি (T20 World Cup 2026)। আইসিসির তরফে এই প্রস্তাবও খারিজ করা হয়েছে। এখানেও আইসিসি তাদের এক্তিয়ার না থাকার কথা উল্লেখ করেছে।

    আইসিসির মধ্যস্থতা চেয়েছিল পিসিবি

    ২০২৬ সালে ভারত যেন বাংলাদেশ সফর করে, সে বিষয়েও আইসিসির মধ্যস্থতা চেয়েছিল পিসিবি। এ ব্যাপারে আইসিসি জানিয়ে দেয়, তারা এতে হস্তক্ষেপ করবে না। আবারও জানিয়েছে, সফর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্বিপাক্ষিকভাবেই নেওয়া হয় (ICC)। সূত্রের খবর, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য সময় চাইলে আইসিসি ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে। শিগগিরই একটি ফলো-আপ বৈঠক হতে পারে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আইসিসির তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে (T20 World Cup 2026)।

     

  • T20 World Cup 2026: ‘‘নিরাপত্তার কোনও সমস্যা নেই’’ আইসিসিতে ভোটে হার বাংলাদেশের, বিশ্বকাপ খেলতে হবে ভারতেই

    T20 World Cup 2026: ‘‘নিরাপত্তার কোনও সমস্যা নেই’’ আইসিসিতে ভোটে হার বাংলাদেশের, বিশ্বকাপ খেলতে হবে ভারতেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) খেলতে হবে ভারতেই। একান্ত না চাইলে, বাদ দিয়ে দেওয়া হবে বিশ্বকাপ থেকেই। পরিবর্তে নিয়ে নেওয়া হবে টি-২০ ব়্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের নীচে থাকা দেশকে। বোর্ড সদস্যদের (ICC Board Meeting) বৈঠকে ভোটাভুটির পর ঘোষণা করে দিল আইসিসি। বুধবার, ২১ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সে আইসিসি বোর্ড বৈঠক হয়েছে। ভারতের মাটি থেকে নিজেদের টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরাতে বলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই বুধবারের বৈঠক বসেছিল। আইসিসির নির্দেশের পর থমথমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সদর দফতর। কর্তারা ভেবেছিলেন, বৈঠকে আশার কথা শোনাবেন। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ভাবেই গ্রুপ বদলানো যাবে না। তারা ভারতে খেলবে কি না সেই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবারের মধ্যে জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

    বৈঠকে ছিলেন কারা

    এ দিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে বিসিবির পক্ষে ছিলেন সভাপতি আমিনুল। ছিলেন আইসিসির সভাপতি জয় শাহ, সিইও স‌ংযোগ গুপ্ত। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সভাপতি শাম্মি সিলভা, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ড, জিম্বাবোয়ে ক্রিকেটের সভাপতি তাভেঙ্গা মুকুহলানি, ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের সভাপতি কিশোর শ্যালো, ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের চেয়ারম্যান ব্রায়ান ম্যাকনিস, ক্রিকেট নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে রবার্ট টোয়েস, ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন, ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার মহম্মদ মুসাজি এবং ক্রিকেট আফগানিস্তানের চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ আশরাফ যোগ দেন। বৈঠকে ছিলেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা, হেড অফ ইভেন্টস গৌরব সাক্সেনা এবং লিগ্যাল অফিসারেরা।

    আইসিসি-র বিবৃতি, সূচি পরিবর্তন অসম্ভব

    বুধবার সমাজমাধ্যমে আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হবে। কোনও পরিবর্তন করা হবে না। বিশ্বকাপের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারতে দল না পাঠালে অন্য কোনও দেশকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেওয়া হবে। বুধবার আইসিসির বোর্ডের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের দাবি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সূচি বদলের বিভিন্ন সমস্যা আবার ব্যাখ্যা করা হয়। বলা হয় সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে গেলে বাংলাদেশ দলকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না। বিসিবি কর্তা, বাংলাদেশের সমর্থক বা সাংবাদিকদেরও কোনও সমস্যা হবে না ভারতে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনও বিশ্বাসযোগ্য হুমকি নেই। তা ছাড়া এ ভাবে সূচি পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতের জন্য খারাপ উদাহরণ তৈরি হবে। বলা হয়েছে, ‘‘আইসিসি সততা, বিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে, ধারাবাহিক মান বজায় রাখতে এবং বিশ্বব্যাপী খেলার সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ ভারতের ঘরোয়া প্রতিযোগিতার (আইপিএল) সঙ্গে বিশ্বকাপের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে আইসিসি।

    বাংলাদেশের বক্তব্য

    আইসিসির বক্তব্য শোনার পরেও অনড় অবস্থান বজায় রাখেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের দাবি নিয়ে আইসিসির বোর্ডের সভায় ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত হয়। তাতে অধিকাংশই বাংলাদেশের বিপক্ষে ভোট দেয়। ফলে ম্যাচের কেন্দ্র বদল নিয়ে বিসিবির দাবি খারিজ হয়ে যায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, একমাত্র অলৌকিক কিছু হলেই বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বকাপ খেলা সম্ভব। বৈঠকে আইসিসি জানিয়েছে, এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বাংলাদেশকে। আমিনুল বলেন, “আমি আইসিসিকে বলেছিলাম, দেশের সরকারের সঙ্গে কথা বলার জন্য একটা শেষ সুযোগ দিন। ওরা আমার অনুরোধ রেখেছে।” আমিনুল বলেন, “মুস্তাফিজ়ুরকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকে আমারই মনে হচ্ছে ভারতে খেলা আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। সেটাই আইসিসির বৈঠকে বলেছি।” আমিনুল জানিয়েছেন, সরকাকে কোনও রকম চাপ দিতে চান না তাঁরা। তিনি বলেন, “সরকার তো চায় আমরা খেলি। কে বিশ্বকাপ খেলতে চায় না? কিন্তু এই মুহূর্তে ভারতে খেলা নিরাপদ নয়। আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। এই দাবি থেকে আমরা সরিনি।”

  • ICC Women’s World Cup: ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের উন্নতিতে সদা সক্রিয়, জানেন কে এই ব্যক্তি?

    ICC Women’s World Cup: ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের উন্নতিতে সদা সক্রিয়, জানেন কে এই ব্যক্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় মেয়েদের ক্রিকেটে সাফল্য ছিল ‘প্রায়’-এর গল্প। ২০০৫ ও ২০১৭, দু’দুবার ফাইনালে পৌঁছেও শেষ মুহূর্তে হাতছাড়া হয়েছিল স্বপ্ন। কিন্তু হরমনপ্রীতদের হাতে যখন সেই বহু প্রতীক্ষিত কাপ উঠল, তখন যেন দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার স্বপ্নও বাস্তব হয়ে গেল। ১৯৮৩ অনুপ্রাণিত করেছিল এক প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে। এদিন মেয়েরা সেই কাজটাই করল—দেশের হাজারো মেয়েকে দেখিয়ে দিল, তারাও একদিন ব্যাট হাতে বিশ্বজয় করতে পারে। নারী শক্তির এই জয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে যার অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি হলেন জয় অমিতভাই শাহ।

    সমান ম্যাচ ফি দেওয়ার ঘোষণা

    রাজনৈতিক কারণে আপনি জয় শাহকে পছন্দ করতে পারেন বা অপছন্দ। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে এই মানুষটা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের জন্য যা করেছেন, তা সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা ততটা না জানলেও বা বুঝলেও হরমনপ্রীত কৌররা জানেন। তাই সেই কৃতজ্ঞতা, সেই অ্যাডমিরেশন থেকেই বিশ্বকাপের মঞ্চে কাপ গ্রহণের আগে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে গেলেন হরমনপ্রীত কৌর। ২০২২ সালে জয় শাহের নেতৃত্বে ভারত বিশ্বের প্রথম ক্রিকেট বোর্ড ছিলো, যারা পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেটারদের সমান ম্যাচ ফি দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। যা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটারদের মানসিকতাই বদলে দিয়েছিল।

    দরকার ছিল একটা বড় মঞ্চের সাফল্য

    এই বিজয় মানে আত্মবিশ্বাসের পুনর্জন্ম। এখন মেয়েদের ক্রিকেটে পরিকাঠামো, স্পনসরশিপ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ আগের চেয়ে অনেক উন্নত। বোর্ডের বিনিয়োগও বেড়েছে। তবু দরকার ছিল একটা বড় মঞ্চের সাফল্য, যে সাফল্য দর্শক, মিডিয়া ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দিতে পারে। সেই ব্রেকথ্রু এল রবিবার। হরমনপ্রীতের হাতে সেই কাপ, যা মিতালি রাজ (Mithali Raj) বা ঝুলন গোস্বামীর (Jhulan Goswami) প্রজন্মের নাগালের বাইরে থেকে গিয়েছিল। তাঁদের পাতা পথেই দাঁড়িয়ে আজ ভারতীয় মেয়েরা দেখাল, কঠোর পরিশ্রম আর বিশ্বাস থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়। আর সমতা কোনও দয়া নয়, সাফল্যের শর্ত।

    উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ চালু

    আইপিএল এর সাফল্যের ব্যাপারে ক্রিকেট ভক্তরা ওয়াকিবহাল। কিন্তু আইপিএলের ধাঁচে উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ চালু করে মহিলা ক্রিকেটের উন্মাদনা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার সাহস দেখিয়েছেন জয় শাহ ২০২৩ সালে। প্লেয়ার ডেভেলপমেন্ট এর জন্য ডব্লু পি এলের অবদান এখন সর্বজনবিদিত। বিনামূল্যে টিকিট দিয়ে মহিলা ক্রিকেট দেখার জন্য সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করেছেন জয় শাহ-ই। দেশের ভেতরে মহিলা ক্রিকেটের জন্য প্রোপার ডোমেস্টিক প্ল্যাটফর্ম, ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো, উন্নত প্রযুক্তি ও ফ্যাসিলিটির ব্যবস্থা করা যে বৃথা যায়নি, তা বিশ্বকাপ জয়ের দ্বারা প্রমাণিত।

    মহিলা ক্রিকেটের উন্নতিতে সদর্থক পদক্ষেপ

    ২০২৫ সালের শুরু থেকেই ভারতীয় বোর্ড পুরুষ ও মহিলা দলের জন্য সমস্ত টুর্নামেন্টে প্রাইজ মানি সমান করেছে। আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই মহিলা ক্রিকেটের উন্নতিতে সদর্থক পদক্ষেপ করেছেন। গত মাসে আইসিসি চেয়ারম্যান মহিলা ক্রিকেটের প্রাইজমানি ৩০০ শতাংশ বাড়িয়েছেন। ২.৮৮ মিলিয়ন ডলার থেকে তা বেড়ে ১৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এসব উদ্যোগে মহিলাদের ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়েছে। একসময় যেখানে মহিলা খেলোয়াড়দের সাফল্য মানে ছিল “সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে জয়”, আজ তা হয়ে উঠেছে “ব্যবস্থার সহায়তায় জয়”। সমান পারিশ্রমিকের সিদ্ধান্ত কাগজে লেখা একটি নীতিমালা ছিল, আজ তা বাস্তবের উজ্জ্বল উদাহরণ।

  • ICC Women’s World Cup: সমতাই সাফল্যের চাবিকাঠি! বিসিসিআই দেখাল সমান পারিশ্রমিক বদলে দিতে পারে মানসিকতা

    ICC Women’s World Cup: সমতাই সাফল্যের চাবিকাঠি! বিসিসিআই দেখাল সমান পারিশ্রমিক বদলে দিতে পারে মানসিকতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটা বিশ্বকাপ (ICC Women’s World Cup) অনেকের কষ্ট মুছে দেয়। ৬ বিশ্বকাপ খেলেও মিতালি রাজ পারেননি। ৫টা বিশ্বকাপ খেলে পারেননি ঝুলন গোস্বামী। সব আক্ষেপ এক রাতে মুছে দিলেন হরমনপ্রীত, স্মৃতি, দীপ্তি, শেফালিরা। ফারাক একটাই সমতা। নবি মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামের উজ্জ্বল আলোয় ইতিহাস রচনা করলেন হারমনপ্রীত কৌর। শেষ বলে উড়ে আসা ক্যাচটি যখন তিনি মাথার উপরে তুলে ধরলেন, তখন তাঁর সতীর্থরা ছুটে এলেন মাঠে, চোখে জল, মুখে অবিশ্বাসের হাসি। প্রথমবার ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল জয় করল বিশ্বের সর্বোচ্চ মঞ্চ—ওয়ানডে বিশ্বকাপ। কিন্তু এই জয় শুধুই ক্রিকেটের নয়, এটি এক নীতির জয়—যার সূচনা হয়েছিল তিন বছর আগে বোর্ডরুমের এক নীরব বৈঠকে।

    “আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত”ই যুক্তিযুক্ত

    ২০২২ সালের অক্টোবরে, বিসিসিআই-এর (BCCI) ১৫তম অ্যাপেক্স কাউন্সিল বৈঠকে নেওয়া হয়েছিল এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত—পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেটারদের মধ্যে সমান ম্যাচ ফি চালুর প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। রোহিত-বিরাটদের মতো পারিশ্রমিক বা ম্যাচ -ফি পেতে শুরু করেন হরমনপ্রীত, মান্ধানারা। সেই সিদ্ধান্ত তখন আলোড়ন তুলেছিল বিশ্ব ক্রীড়ামহলে। তখন বিসিসিআই সচিব পদে ছোট-খাটো চেহারার এক ব্যক্তি জয় অমিতভাই শাহ। যার রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরা। কিন্তু তিনি নীরবে কাজ করে গিয়েছেন। সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছিলেন—মহিলা ক্রিকেট কি এখনও সেই অর্থনৈতিক উচ্চতায় পৌঁছেছে যেখানে সমান পারিশ্রমিক যুক্তিযুক্ত? কেউ কেউ বলেছিলেন এটি “আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত”, যুক্তির নয়।

    বিশ্বাসে অটল বিসিসিআই

    সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের (ICC Women’s World Cup) লিগ পর্বে যখন ভারতের পারফরম্যান্স দুর্বল হচ্ছিল, তখন সেই সমালোচনা আরও জোরালো হয়। সামাজিক মাধ্যমে বাড়তে থাকে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য। কিন্তু বিসিসিআই তাদের বিশ্বাসে অটল ছিল। বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে নিয়ে হরমনপ্রীতরা প্রমাণ করলেন, সেই বিশ্বাস বৃথা যায়নি। বিশ্বকাপ জয়ের পর বিসিসিআই সচিব জয় শাহ এক টুইটে লেখেন, “ভারতের মেয়েদের প্রথম বিশ্বকাপ জয় ভারতের প্রতিটি নাগরিককে গর্বিত করেছে। দলের লড়াই, আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা যেমন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, তেমনি বিসিসিআই-এর নীতিগত সিদ্ধান্ত—সমান পারিশ্রমিক, বাড়তি বিনিয়োগ, উন্নত কোচিং কাঠামো ও উইমেনস প্রিমিয়ার লিগ-এর অভিজ্ঞতা—এই সাফল্যের ভিত গড়ে দিয়েছে।”

    এক সুপরিকল্পিত কাঠামোর ফল

    এই জয় আকস্মিক নয়, এটি এক সুপরিকল্পিত কাঠামোর ফল। সমান পারিশ্রমিকের সঙ্গে সঙ্গে মহিলা ক্রিকেটে এসেছে উন্নত পরিকাঠামো, দক্ষ কোচিং স্টাফ, এবং উইমেনস প্রিমিয়ার লিগ (WPL)-এর মতো প্রতিযোগিতা, যা মেয়েদের আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট খেলার সুযোগ দিয়েছে। সমান পারিশ্রমিক শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানসিক বিপ্লবও ঘটিয়েছে। মহিলা ক্রিকেটাররা এখন সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত। সেই আত্মবিশ্বাসই আজ প্রতিটি রান, প্রতিটি উইকেটে প্রতিফলিত। সমান পারিশ্রমিক তাদের মনে করিয়ে দিয়েছে—সমতা কোনও দয়া নয়, এটি অগ্রগতির অপরিহার্য শর্ত।

    ৫১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা

    বিশ্বকাপ (ICC Women’s World Cup) জয়ের পর ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের জন্য ৫১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে বিসিসিআই (BCCI)। সংস্থার সচিব দেবজিৎ শাইকিয়া জানান, এই পুরস্কার দলের সব সদস্য, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “জয় শাহ ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিসিসিআই সচিব থাকাকালীন মেয়েদের ক্রিকেটে একাধিক বদল এনেছেন। পে প্যারিটি বা সমান বেতন কাঠামোর বিষয়টি তখনই কার্যকর হয়। গত মাসে আইসিসি চেয়ারম্যান মহিলা ক্রিকেটের প্রাইজমানি ৩০০ শতাংশ বাড়িয়েছেন। ২.৮৮ মিলিয়ন ডলার থেকে তা বেড়ে ১৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এসব উদ্যোগে মহিলাদের ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিসিসিআই ৫১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।”

    জয় শাহের নেতৃত্বে আইসিসি-তেও নয়া ধারা

    জয় শাহের নেতৃত্বে আইসিসি-র তরফেও প্রাইজমানির পরিমাণ এবার বেড়েছে। ভারত পেয়েছে ৪.৪৮ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৪০ কোটি টাকা। আগের আসরে যেখানে অস্ট্রেলিয়া পেয়েছিল মাত্র ১.৩২ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ১২ কোটি। রানার্স-আপ দক্ষিণ আফ্রিকা পেয়েছে ২.২৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২০ কোটি টাকা), আর সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল প্রত্যেকে পেয়েছে ১.১২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০ কোটি টাকা)। পুরো টুর্নামেন্টের মোট প্রাইজমানি ছিল ১৩.৮৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২৩ কোটি টাকা), যা আগের বিশ্বকাপের ৩.৫ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি। এমনকি এই পরিমাণ পুরস্কার ২০২৩ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপের ১০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার অর্থকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।

    সমতা আগে এলে সাফল্য আসবেই

    ভারতের এই সাফল্য বিশ্ব ক্রীড়াজগতে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। এতদিন মহিলা ক্রিকেটারদের বলা হত, “প্রথমে তোমাদের খেলা বাণিজ্যিকভাবে সফল হোক, তারপর আসবে সমান অধিকার।” ভারত দেখিয়ে দিল—সমতা আগে এলে সাফল্য আসবেই। বিসিসিআইয়ের (BCCI) মতো একটি বাণিজ্যিকভাবে প্রভাবশালী বোর্ড যখন সমতাকে কৌশল হিসেবে গ্রহণ করে, তখন সেটি বিশ্ব ক্রীড়ার মানদণ্ড বদলে দেয়। এই জয় শুধু ট্রফি নয়—এটি এক নতুন ভারতীয় বাস্তবতার প্রতীক। ডিওয়াই পাতিলের আকাশে যখন তেরঙা উড়ছিল, ট্রফি হাতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় দল নতুন ভবিষ্যতের ছবি আঁকছিল। এটি শুধু ভারতের মেয়েদের জয় নয়—এটি সারা বিশ্বের কাছে এক বার্তা: সমান সুযোগ দিলে, মেয়েরা ইতিহাস লেখে।

LinkedIn
Share