Tag: jharkhand tourism

jharkhand tourism

  • Maithon: পানীয় জল, শৌচাগারের অভাব, নেই পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট! মাইথন নিয়ে সোচ্চার পর্যটকরা

    Maithon: পানীয় জল, শৌচাগারের অভাব, নেই পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট! মাইথন নিয়ে সোচ্চার পর্যটকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শীতের মরশুম শুরু হতেই পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে মাইথন জলাধারে। বলা বাহুল্য, জায়গাটি প্রাকৃতিক ভাবে খুবই সুন্দর। যেখানে পাহাড়, জঙ্গল ও জলাধারের সমাবেশ ঘটেছে একসাথে। প্রকৃতি যেন ঢেলে সাজিয়েছে এই জলাধারকে। স্বাভাবিক ভাবেই সপ্তাহান্তে ও প্রতি বছর শীতের মরশুমে পর্যটকদের ঢল নামে একে ঘিরে। পাশাপাশি পিকনিকের সময় বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত সহ ঝাড়খণ্ড থেকেও দলে দলে লোক আসে এই জলাধারে। যেখানে নৈস্বর্গিক দৃশ‍্যের সাথে থাকে জলবিহার বা নৌকাতে ভ্রমণের ব‍্যবস্থা। আগত পর্যটকদের দিকে খেয়াল রেখে প্রশাসন থেকে কিছু পরিষেবার ব‍্যবস্থা করা হয় প্রতি বছর। পাশাপাশি পর্যটকদের সুরক্ষা, দূষণের থেকে রক্ষা পেতে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর জন‍্য সরকারের পক্ষ থেকে পর্যটকদের কাছ থেকে ট‍্যাক্সও আদায় করা হয়।

    পরিষেবা প্রদানে গাফিলতি

    যদিও এই বছর শীতের শুরুতে মাইথন জলাধারে উপস্থিত হয়ে দেখা গেল, পর্যটকদের আসা-যাওয়া শুরু হলেও পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গাফিলতি রয়েছে। যেমন এলাকায় বিশেষ পানীয় জলের ব‍্যবস্থা নেই। নেই পর্যাপ্ত শৌচালয়। তাছাড়া যেসব শৌচালয় রয়েছে, সেগুলি অপরিচ্ছন্ন ও ব‍্যবহারের অযোগ‍্য। অথচ সেই শৌচালয় ব‍্যবহারের জন‍্যই আদায় করা হচ্ছে টাকা। জলবিহারের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত লাইফ জ‍্যাকেটের ব‍্যবস্থা নেই। পাশাপাশি নিষেধের কড়াকড়িতে পর্যটকরা উৎসাহ হারাচ্ছেন এই জলাধারের প্রতি, এমনটাই জানালেন নৌ চালকরা। পর্যটকরা এই পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে এসে অব‍্যবস্থার প্রতি সোচ্চার হচ্ছেন।

    সরব পর্যটকরাও

    তাঁরা ক‍্যামেরার সামনেই জানাচ্ছেন, মনোরম এই জায়গায় ঘোরার জন‍্য সরকারি ভাবে টোল আদায় করা হলেও পর্যপ্ত পরিষেবার ব‍্যবস্থা নেই। নৌকা চালকরাও জানাচ্ছেন, তাঁদের কাছে পর্যাপ্ত লাইফ জ‍্যাকেট দেওয়া হয়নি। তাই অধিক যাত্রী তাঁরা নৌকা বা বোটে তুলতে পারছেন না। এই বিষয়গুলি নিয়ে বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস পানীয় জলের অসুবিধার কথা মেনে নেন। যদিও জানান, নৌকা চালকদের লাইফ জ‍্যাকেট রয়েছে। তবে কম থাকলে বিষয়টি নৌ চালকদের জানাতে বলেন। একই সাথে তিনি জানিয়েছেন, পর্যটকদের সুরক্ষার ব‍্যবস্থাটি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যটন কেন্দ্রটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়টিতেও জোর দেওয়া হয়েছে। তবে সারা বছরের এই পিকনিক সিজনের অপেক্ষায় থাকেন নৌচালক থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কারণ পর্যটকরা এলে তাঁদের অর্থ উপার্জন হবে। তবে এই বছর এখনও টোল আদায় শুরু হয়নি বলেই জানা যায়।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Betla Forest: অরণ্য দর্শন বা জঙ্গল সাফারির আদর্শ ডেস্টিনেশন ‘বেতলা’

    Betla Forest: অরণ্য দর্শন বা জঙ্গল সাফারির আদর্শ ডেস্টিনেশন ‘বেতলা’

    মাধ্যম বাংলা নিউজ: পশ্চিমবঙ্গের একদম প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড। এই রাজ্যেরই এক অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হল লাতেহার জেলার বেতল। পোশাকি নাম যদিও বা “পালামৌ”, কিন্তু অরণ্য প্রেমিক পর্যটকদের কাছে এর পরিচিতি “বেতলা” (Betla Forest) নামেই। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সহোদর সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উক্তি “বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ” এই পালামৌকে কেন্দ্র করেই লেখা। বিখ্যাত সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর বিভিন্ন উপন্যাসে অতীব সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে এই লাতেহার জেলার বেতলা, কেচকি, মহুয়াডার, ছিপাদোহর, কেড়, গাড়ু-র অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এখানকার সহজ, সরল আদিবাসী মানুষের জীবনের কথা।

    যাবেন কীভাবে (Betla Forest)?

    কলকাতা থেকে সরাসরি যাওয়ার জন্য চেপে বসতে হবে হাওড়া-ভূপাল এক্সপ্রেস অথবা শক্তিপুঞ্জ এক্সপ্রেসে। নামতে হবে ডাল্টনগঞ্জ অথবা তার আগের স্টেশন বারাওডি-তে। এই দুই জায়গা থেকেই গাড়িতে যেতে হবে বেতলা। দূরত্ব ডালটনগঞ্জ ২৪ এবং বারাওডি ১৬ কিমি।

    কোথায় থাকবেন (Betla Forest)?

    বেতলায় (Betla Forest) থাকা খাওয়ার জন্য রয়েছে ঝাড়খণ্ড ট্যুরিজম বা জেটিডিসি-র হোটেল বনবিহার (কলকাতা অফিস: ঊষা কিরণ বিল্ডিং, ১২/ এ , ক্যামাক স্ট্রিট , কলকাতা ১৭ )। এছাড়া বেতলা, মারুমাড় প্রভৃতি স্থানে রয়েছে ট্রি হাউস, বন বাংলো প্রভৃতি। এগুলি বুকিং করার জন্য যোগাযোগ করতে হবে এই ঠিকানায়- ডিএফও, ডালটনগঞ্জ (দঃ) ফরেস্ট ডিভিশন, ডালটনগঞ্জ টাইগার প্রোজেক্ট, পালামৌ ন্যাশনাল পার্ক, ডালটনগঞ্জ ৮২২১০১। অথবা ফোন করা যেতে পারে ০৯৯৫৫৫২৭৩৭১ নম্বরে।

    কী কী দেখবেন (Betla Forest)?

    বেতলা ভ্রমণের মূল কারণই হল অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শন এবং অবশ্যই অরণ্য দর্শন বা জঙ্গল সাফারি। ১৯৮৬ সালে জাতীয় উদ্যান বা ন্যাশনাল পার্কের শিরোপা লাভ করে বেতলা।ভারতের ৯ টি জাতীয় উদ্যান এবং ব্যাঘ্র প্রকল্পের অন্যতম এই অরণ্য (Betla Forest)। ১০২৬ বর্গ কিমি আয়তন বিশিষ্ট এই জাতীয় উদ্যানের ২১৩ বর্গ কিমি অঞ্চল কোর এরিয়া। বাকিটা বাফার জোন। মূলত পলাশ, মহুয়া, বাঁশ, করৌঞ্জিয়া গাছের নিবিড় অরণ্যে বাস চিতল হরিন, শম্বর, গউর, বাইসন, বার্কিং ডিয়ার, বন্য শূকর, জংলি কুকুর, বন বিড়াল, আর দামাল হাতির পাল। বাঘও আছে এই ব্যাঘ্র প্রকল্পে। তবে শারদুল মহারাজের দর্শন লাভ কিন্ত কপাল ভালো থাকলে তবেই সম্ভব। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, ১৯৩২ সালে এই অরণ্যেই হয় ভারতের প্রথম ব্যাঘ্র গণনা।
    এছাড়াও এখানে দেখা মেলে হরেক রঙের, হরেক কিসিমের পাখির, যার মধ্যে রয়েছে ময়ূর, হর্নবিল, বনমোরগ, কোয়েল, বিরল প্রজাতির ঈগল প্রভৃতি। এখানে জঙ্গল সাফারির জন্য ফোন করতে পারেন ০৬২০৬২২০৩১৪ নম্বরে।

    জঙ্গল সাফারি শেষ করে চলে আসুন মাত্র ৫ কিমি দূরে আর এক অপূর্ব সুন্দর স্থানে “কেচকি”। দূরে দূরে ঢেউ খেলানো পাহাড়ের সারি, ইতস্তত বিক্ষিপ্ত গাছ গাছালির সারি, আর মাঝে কিশোরীর উচ্ছলতায় বয়ে চলেছে কোয়েল নদী। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, এই কেচকিতেই শ্যুটিং হয়েছিল বিশ্ব বরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের বিশ্ব বন্দিত ছবি, আর এক যশস্বী সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত ছবি “অরণ্যে  দিনরাত্রি”। একই সঙ্গে দেখে নিন প্রায় ৪-৫ কিমি দূরে চেরো রাজা মেদিনী রায়ের দূর্গের ভগ্নাবশেষ, বড়াডিহার শিবমন্দির, কেচকির খুব কাছেই কোয়েল এবং ঔরঙগা নদীর সঙ্গম, বাসুদেব মনডল ড্যাম, সেভেন রিভার পয়েন্ট, কোয়েল ভিউ পয়েন্ট, কুসুম বন বাংলো প্রভৃতি। আর বেতলা থেকে নেতারহাট যাওয়ার পথেই পড়বে দুটি অনন্য সুন্দর স্পষ্ট, লোধ ফলস এবং সুগা বাঁধ। ঘন অরণ্যের মাঝে অবস্থিত এই লোধ ফলস মহুয়াডার থেকে প্রায ১৪ কিমি দূরে। বুরহা নদীর জলধারা থেকে সৃষ্ট এই লোধ ফলস ঝাড়খণ্ড রাজ্যের উচ্চতম এবং ভারতের ২১ তম উচ্চতম ফলস। প্রায় ১৪৩ মিটার উচ্চতা থেকে পাথরের বুকে ধাক্কা খেতে খেতে নেমে আসছে জলধারা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ। আর মারুমার থেকে ২০ কিমি দূরে বারেসাদ। এখানে রয়েছে সুগা বাঁধ। এই দুটি স্পট দেখে এই পথেই চলে যেতে পারেন নেতারহাট। ফেরার পথে ইচ্ছে হলে চলে যাওয়া যায় রাঁচি। প্রয়োজনে রাঁচি থেকেই ট্রেন ধরে ফিরে আসা যায় কলকাতায়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ। 

LinkedIn
Share