মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। সাংবাদিকদের সামাজিক সুরক্ষা পেনশন দ্বিগুণ করার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন মাসে ২,৫০০ টাকা করে যে পেনশন দেওয়া হত, তা বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকেই বর্ধিত হারে পেনশন কার্যকর হবে।
মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধি এবং প্রবীণ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মসূচিতে এই ঘোষণা করা হয়। শুধু পেনশন বৃদ্ধিই নয়, সাংবাদিক এবং তাঁদের পরিবারের জন্য দেশজুড়ে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধাও চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধা
নতুন ব্যবস্থায় সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারকে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’-র আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে সর্বভারতীয় স্তরে পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে আগের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ ব্যবস্থায় চিকিৎসার সুযোগ মূলত রাজ্যের হাসপাতালগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আওতায় সেই পরিধি অনেকটাই বাড়ছে।
রাজ্যের প্রায় ১,৯০০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৩৮,০০০ হাসপাতালে এই চিকিৎসা সুবিধা মিলবে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যের এআইআইএমএস, ভেলোরের সিএমসি, মুম্বইয়ের টাটা ক্যানসার হাসপাতাল, চণ্ডীগড়ের পিজিআই এবং হায়দরাবাদের ড. রেড্ডির মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান।
আয়ুষ্মান ভারত না থাকলেও মিলবে সুবিধা
নির্দিষ্ট শর্ত, বয়স বা অন্য কোনও কারণে কোনও সাংবাদিক কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্য আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় না এলে তাঁদের সরাসরি ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’-য় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্বে থাকবেন তথ্য ও সংস্কৃতি সচিব ড. সৌমিত্র মোহন এবং স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই সুবিধা পেতে কোনও রাজনৈতিক বা মন্ত্রী পর্যায়ের সুপারিশের প্রয়োজন হবে না।
১৫০-১৫৪ জনের সীমা পেরিয়ে আরও সাংবাদিককে পেনশন
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আগের সরকারের সময়ে মাত্র ১৫০-১৫৪ জন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিক মাসিক ২,৫০০ টাকা করে সামাজিক সুরক্ষা ভাতা পেতেন। এবার সেই সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড থাকা সাংবাদিকরাই নন, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিউজ ডেস্কে কর্মরত, অসংগঠিত মাধ্যমে কাজ করা এবং অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডহীন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদেরও পেনশন প্রকল্পের আওতায় আনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের ঘোষণার পাশাপাশি রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের আগের প্রস্তাবনার কথাও এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য, যোগ্য সাংবাদিকদের সংখ্যা সীমিত না রেখে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সর্বাধিক সংখ্যক যোগ্য ব্যক্তিকে এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনা।
রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত করা যাবে না, বার্তা সরকারের
পেনশন প্রকল্পের ক্ষেত্রে যোগ্য কোনও সাংবাদিক যাতে রাজনৈতিক বা অন্য কোনও কারণে সুবিধা থেকে বাদ না পড়েন, সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে সুবিধাভোগী বাছাইয়ের কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন ব্যবস্থায় পেনশনের অঙ্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি যোগ্য সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুজোর অনুদানেও আর কলকাতা-জেলা বৈষম্য নয়
সাংবাদিকদের জন্য আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দুর্গাপুজোর সরকারি আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে। এতদিন কলকাতার সাংবাদিকরা ২,০০০ টাকা এবং জেলার সাংবাদিকরা ১,০০০ টাকা করে পেতেন। এবার সেই বৈষম্য তুলে দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবেদনকারী সমস্ত যোগ্য সাংবাদিককে ৩,০০০ টাকা করে পুজোর আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
‘নেশন ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বার্তা
অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদমাধ্যমকে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলের সমালোচনা মেনে নেওয়ার কথা জানালেও জাতীয় স্বার্থ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে সংবাদমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সংবিধানে বাকস্বাধীনতা থাকলেও নেশন ফার্স্ট নীতি আমাদের বজায় রাখতে হবে। দেশ দুর্বল হয় বা ধর্মীয় আস্থায় আঘাত লাগে, এমন শব্দ বা ভাষা প্রয়োগ এড়িয়ে চলা উচিত।” সব মিলিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন বৃদ্ধি, পেনশন প্রকল্পের আওতা সম্প্রসারণ, দেশজুড়ে চিকিৎসা সুবিধা এবং পুজোর অনুদানে বৈষম্য দূর করার ঘোষণাকে সাংবাদিক মহলের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
