Tag: JSSC CGL

  • Jharkhand: নেই উসকানিমূলক স্লোগান, বিরোধিতা রাজনীতিকরণেও, জন্তর-মন্তরের থেকে কোথায় আলাদা ঝাড়খণ্ডের জেন জি আন্দোলন?

    Jharkhand: নেই উসকানিমূলক স্লোগান, বিরোধিতা রাজনীতিকরণেও, জন্তর-মন্তরের থেকে কোথায় আলাদা ঝাড়খণ্ডের জেন জি আন্দোলন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) পড়ুয়াদের আন্দোলনে (Recruitment Irregularities) এল বড়সড় সাফল্য। আন্দোলনকারীদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিয়েছে হেমন্ত সোরেনের জোট সরকার। যদিও সরকারের ঘোষণার পরেও, আন্দোলন প্রত্যাহার করেনি পড়ুয়ারা। তাঁদের মূল দাবি এখনও পূরণ হয়নি। নিয়োগ পরীক্ষায় তথাকথিত অনিয়মের তদন্ত সিবিআইকে দিয়ে করানোর দাবিতে অনড় তাঁরা।

    ১৭ অগাস্ট ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষা ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল এবং রাজ্যে হওয়া নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে বিস্তৃত তদন্ত।

    এ ছাড়াও নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। প্রবীণ আইএএস আধিকারিক অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে এই কমিটি নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করবে।

    তবে পড়ুয়াদের আন্দোলন এখনও চলছে। তাঁদের প্রধান দাবি, গোটা বিষয়টির তদন্ত করতে হবে সিবিআইকে দিয়ে।

    কীভাবে শুরু হয় ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের আন্দোলন (Jharkhand)

    রাঁচিতে ২৫ জুলাই থেকে এই আন্দোলনের সূচনা। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়ুয়া এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীরা জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জড়ো হয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন।

    চতুর্দশ ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা-সহ একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা।

    ২০২৪ সালে সম্মিলিত স্নাতক স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে। পড়ুয়াদের দাবি ছিল, অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থায় সংস্কার করতে হবে এবং গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল সিবিআই তদন্ত।

    আন্দোলনের শুরু থেকেই পড়ুয়ারা জানিয়ে আসছেন, তাঁদের লড়াই ছাত্রছাত্রী এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাই এই আন্দোলনকে কোনও রাজনৈতিক দল বা বাইরের সংগঠনের প্রভাবমুক্ত রাখার কথাও তাঁরা বারবার বলেছেন (Recruitment Irregularities)।

    বিধানসভা ঘেরাও ঘিরে পুলিশের লাঠিচার্জ

    ১০ অগাস্ট আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ে। সেদিন পড়ুয়ারা বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন।

    পুলিশি পদক্ষেপের পরেও আন্দোলন থামেনি। নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পড়ুয়ারা অবস্থান চালিয়ে যান। ফলে রাজ্য সরকারের উপরও চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে।

    বিষয়টি পরে রাজনৈতিক মহলেও গুরুত্ব পায়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মুখ্যমন্ত্রীকে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি পড়ুয়াদের দাবিকে ন্যায্য এবং তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। ফলে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতৃত্বাধীন সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ে (Jharkhand)।

    সরকারের একাধিক বড় সিদ্ধান্ত

    ১৭ অগাস্ট রাজ্য সরকার পড়ুয়াদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে।

    প্রথমত, ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষা এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত ফলাফলও এর আওতায় পড়বে। একই সঙ্গে সংস্থাটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে রাজ্য সরকার।

    শুধু স্নাতক স্তরের পরীক্ষা নয়, ২০১৪ সাল থেকে রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মেরও বিস্তৃত তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এই তদন্ত করবে। অনিয়ম বড় না ছোট—তা বিবেচনা না করে তদন্তের আওতায় সমস্ত অভিযোগ আনা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, সেই বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি।

    এত কিছুর পরেও আন্দোলন কেন চলছে?

    সরকার একাধিক দাবি মেনে নেওয়ার পরেও আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি পড়ুয়ারা। এর প্রধান কারণ সিবিআই তদন্তের দাবি (Recruitment Irregularities)।

    আন্দোলনকারীরা চাইছেন, রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থা নয়, একটি স্বাধীন কেন্দ্রীয় সংস্থা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করুক। রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দিয়ে তদন্ত এবং পরীক্ষা সংস্কারের জন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে তাঁদের কয়েকটি দাবি পূরণ হলেও, সিবিআই তদন্তের বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত।

    ফলে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপরেই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। সরকার যদি সিবিআই তদন্তের দাবি মেনে নেয়, তাহলে আন্দোলন প্রত্যাহারের পথ তৈরি হতে পারে। আর দাবি না মেনে নেওয়া হলে আন্দোলন আরও চলতে পারে।

    রাজনৈতিক ইস্যুর বদলে নিয়োগ পরীক্ষায়ই জোর

    ঝাড়খণ্ডের এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, পড়ুয়ারা শুরু থেকেই একে নিয়োগ পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরির প্রশ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন।

    তাঁদের বক্তব্য, এটি কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতার জন্য আন্দোলন। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ—এগুলিই তাঁদের মূল দাবি।

    বাইরের রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত সংগঠনগুলির প্রভাব থেকেও আন্দোলনকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন পড়ুয়ারা। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও, তাঁরা একে বৃহত্তর দলীয় বা মতাদর্শগত আন্দোলনে পরিণত হতে দেননি।

    বাইরের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরোধিতা

    ৭ অগাস্ট আন্দোলনে বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনের হস্তক্ষেপ নিয়ে পড়ুয়াদের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যায়। সেদিন সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরারা আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে কর্মসূচিতে যোগ দেন।

    কিন্তু আন্দোলনকারীদের একাংশ তাঁর উপস্থিতির বিরোধিতা করেন। অভিযোগ, বক্তব্য রাখার সময় তাঁকে কটূক্তির মুখে পড়তে হয় এবং মঞ্চ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

    ঘটনাটি থেকে স্পষ্ট হয়, আন্দোলনকারীরা তাঁদের আন্দোলনের নেতৃত্ব, দিকনির্দেশ এবং বক্তব্য নিজেদের হাতেই রাখতে চাইছেন। বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন হলেও, তাঁর হস্তক্ষেপকে তাঁরা স্বাগত জানাননি (Jharkhand)।

    শুধু হেমন্ত সরকারকে সমর্থনকারী বা বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন নয়, কোনও রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত সংগঠনের প্রভাব থেকেই আন্দোলনকে দূরে রাখার পক্ষেই পড়ুয়াদের একাংশ অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আন্দোলনের মূল বিষয় হওয়া উচিত নিয়োগ পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ।

    উসকানিমূলক স্লোগান বা পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ নেই

    ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনকে অন্যান্য কিছু বিতর্কিত ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা হলেও, এখানে মূলত নিয়োগ পরীক্ষা ও সরকারি চাকরির বিষয়গুলিই সামনে রয়েছে।

    আন্দোলন চলাকালীন “আজাদি” বা “ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে আজাদি”র মতো স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসেনি। হিন্দু-বিরোধী বক্তব্য, পাথর ছোড়া বা পুলিশের উপর হামলার অভিযোগও এই আন্দোলনে শোনা যায়নি।

    পরীক্ষা সংস্কারকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যায়ে আন্দোলন

    ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল করেছে, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষা ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল করেছে, অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং নিয়োগ পরীক্ষা সংস্কারের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।

    একটি ছাত্র আন্দোলনের প্রাথমিক দাবি ছিল নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

    অতঃপর?

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে সিবিআই তদন্তের দাবি নিয়ে সরকারের অবস্থানের উপর (Recruitment Irregularities)।

    সরকার এই দাবি মেনে নিলে আন্দোলন সমাধানের দিকে এগোতে পারে। কিন্তু দাবি প্রত্যাখ্যান করা হলে, সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারেন (Jharkhand) পড়ুয়ারা।

    এই মুহূর্তে ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে চলার পরেও তা মূলত নিয়োগ পরীক্ষা, সরকারি চাকরি এবং পরীক্ষা সংস্কারের বিষয়েই কেন্দ্রীভূত রয়েছে।

    সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিয়েছে। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি এখনও পূরণ হয়নি। ফলে চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করা এই আন্দোলনের সামনে এখন প্রশ্ন একটাই—তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে বাকি মতপার্থক্য কি আন্দোলনকে আরও দীর্ঘায়িত না করেই মেটানো সম্ভব হবে (Jharkhand)?

     

LinkedIn
Share