Tag: Kailash-Mansarovar Yatra

Kailash-Mansarovar Yatra

  • Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Floods) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৭৮। বুধবারের এই বিপর্যয়ের পর এখনও নিখোঁজ প্রায় ৮০০ জন। তাঁদের মধ্যে ৩০০-রও বেশি ভারতীয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল (Shishir Khanal)। ভয়াবহ বন্যায় হিমালয়ের পাদদেশের এই দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য (Nepal Flash Floods)

    নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এখনও বহু মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি কতটা, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছি।”

    ভারত ও চিনের মাঝখানে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত নেপাল হড়পা বান-প্রবণ দেশ। প্রতি বছর বহু ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নেপালে যান। এর আগে জানা গিয়েছিল, নিখোঁজ ৭৫০-রও বেশি মানুষের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার অন্তত ৫০ জন তীর্থযাত্রীও ছিলেন।

    পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিপদে পড়া ভারতীয়দের সাহায্যের জন্য দু’টি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে—৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।

    নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিপর্যয়ের এই সময়ে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    ইতিমধ্যেই নেপালে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেপালের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় বিদেশমন্ত্রী এবং ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের বন্যা-ত্রাণের কাজে সাহায্যের জন্য ভারত যে উদার মানবিক সাহায্য এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Nepal Flash Floods)। এই কঠিন সময়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব এবং পারস্পরিক সংহতির শক্তি তুলে ধরেছে।”

    ভারতের ৩ রাজ্যে সতর্কতা

    এদিকে নেপালের পরিস্থিতির জেরে ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিনটি রাজ্যেরই সঙ্গে নেপালের সীমান্ত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে প্রশাসন। আগামী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

    বন্যার আশঙ্কাপ্রবণ এলাকাগুলিতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল থেকে ভারতে প্রবাহিত নদীগুলির জলস্তরের উপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

    জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট জ্ঞানেশ্বর সিংহ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “কেন্দ্রীয় জল কমিশন গণ্ডক নদীতে জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে পরামর্শ জারি করেছিল। সেই কারণে সকাল থেকেই আমরা নিয়মিত বিরতিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নদীগুলির জলস্তরের উপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারগুলিও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

    নেপালের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। নিখোঁজদের সন্ধানে (Shishir Khanal) উদ্ধারকাজ জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলিতেও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোরদার করা হয়েছে প্রস্তুতি (Nepal Flash Floods)।

     

  • Ajit Doval: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দিতে বেজিং গেলেন অজিত ডোভাল

    Ajit Doval: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দিতে বেজিং গেলেন অজিত ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সম্ভাব্য ভারত সফরের আগেই সোমবার বেজিং গিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলা ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধের অবসানে ২০০৩ সালে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থার অধীনে এটি হবে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম বৈঠক। ভারত ও চিনের মধ্যে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ।

    জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের ঠিক আগে ডোভালের বেজিং সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারত বা চিন—কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শি-র সফরের কথা ঘোষণা করেনি, সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চিনের প্রেসিডেন্টের। সে ক্ষেত্রে সাত বছর পর প্রথম বার ভারতে আসবেন শি। গত বছর তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল তাঁর।

    অরুণাচলে ভারত-চিন সেনার মুখোমুখি অবস্থান (Ajit Doval)

    চিনের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে সীমান্ত বৈঠকের জন্য ডোভালের এই সফরের মধ্যেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অরুণাচল প্রদেশে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থানের খবর সামনে এসেছে। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির তথাকথিত অনুপ্রবেশের মাত্রা নিয়ে এখনও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। শনিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফের একবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সীমান্তের পরিস্থিতিই সামগ্রিক ভারত-চিন সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আমার মনে হয়, ২০২০ সালের গ্রীষ্ম থেকে ২০২৪ সালের শরৎ কাল পর্যন্ত আমরা অত্যন্ত খারাপ একটি সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। এর প্রধান কারণ ছিল সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি।” লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অচলাবস্থার প্রসঙ্গেই এই মন্তব্য করেন তিনি। ওই সংঘাতের জেরে গত ছ’দশকের মধ্যে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

    সীমান্তে কি মিলবে সমাধানের পথ?

    ২০২৪ সালের অক্টোবরে লাদাখে সামরিক মুখোমুখি অবস্থানের অবসান ঘটাতে দুই দেশ সম্মত হওয়ার পর রাশিয়ায় জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকে দুই নেতা স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মেটানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ করার বিষয়ে একমত হন।

    এর পর ভারত ও চিনের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা ফের চালু করা, চিনা নাগরিকদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা এবং সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালুর মতো একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে এখনও চোখে পড়ার মতো কোনও অগ্রগতি হয়নি।

    ডোভালের বেজিং সফরে যদি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়, তা হলে আগামী মাসে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পথ আরও মসৃণ হতে পারে।

    বৈঠকের আলোচনায় কী থাকবে?

    বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে মূলত দু’টি বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। প্রথমত, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পূর্ব লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা। দ্বিতীয়ত, সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা খুঁজে বের করা (Ajit Doval)।

    গত ৬ অগাস্ট নয়াদিল্লিতে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক কর্মব্যবস্থা সংক্রান্ত পরামর্শ ও সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভারতের বিবৃতি অনুযায়ী, বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আগের বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্তের সীমানা নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সীমান্ত-পারাপার সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

    ডোভালের আসন্ন বেজিং সফরে সেই আলোচনাই আরও (Xi Jinping) এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, উত্তেজনা কমানো এবং ভারত-চিন সম্পর্ককে স্বাভাবিক পথে ফেরানোর বিষয়ে দু’দেশের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, সেটাই দেখার (Ajit Doval)।

  • Nathu La Sikkim: ছয় বছর পর ফের শুরু নাথুলা দিয়ে ভারত-চিন সীমান্ত বাণিজ্য

    Nathu La Sikkim: ছয় বছর পর ফের শুরু নাথুলা দিয়ে ভারত-চিন সীমান্ত বাণিজ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক সিল্ক রুট ধরে নাথুলা সীমান্ত (Nathu La Sikkim) দিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে ফের শুরু হল বাণিজ্য (India China Border Trade)। কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে ছ’বছর ধরে বন্ধ থাকার পর শনিবার থেকে পূর্ব সিকিমের নাথুলা গিরিপথ দিয়ে ফেল চালু হয়ে গেল সীমান্ত বাণিজ্য। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য (Nathu La Sikkim)

    নাথুলা দিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য প্রথম শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালের ৬ জুলাই। ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের পর ৪৪ বছর বন্ধ থাকার পরে ওই বছর জুলাইয়ে এই ঐতিহাসিক পথটি আবারও খুলে দেওয়া হয়েছিল। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবিকার উন্নতির লক্ষ্যে এই বাণিজ্যকে দুই দেশের মধ্যে আস্থা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে ২০২০ সালে কোভিড-১৯ অতিমারি ছড়িয়ে পড়ার পর নাথুলা দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্যের পাশাপাশি কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রাও বন্ধ হয়ে যায়। জানা গিয়েছে, মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ছ’মাস সীমান্ত বাণিজ্য চালু থাকবে। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলবে। বর্তমানে অনুমোদিত ৩৬টি পণ্যের তালিকা অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হবে। নাথুলা যৌথ সীমান্ত পরীক্ষা চৌকির পরিকাঠামো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পাশাপাশি কঠোর হিমালয়ান শীতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফের বাণিজ্য চালুর আগে সেই পরিকাঠামো সংস্কার করে কার্যকর করা হয়েছে।

    আমদানি-রফতানি সামগ্রী

    বর্তমানে থাকা চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে ৩৬টি অনুমোদিত পণ্য চিনে পাঠানো যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে হস্তশিল্প, হস্তচালিত তাঁতের সামগ্রী, কম্বল, কৃষিকাজের সরঞ্জাম, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, শুকনো শাকসবজি, মশলা, তৈরি পোশাক, বাসনপত্র এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সামগ্রী। অন্যদিকে তিব্বত থেকে ভারতে আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, জুতো, চমরী গাইয়ের বিভিন্ন সামগ্রী, মাখন, বোরাক্স, ছাগল, লেপ-কম্বল এবং অন্যান্য অনুমোদিত পণ্য (Nathu La Sikkim)। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্য পরিচালনায় সাহায্যের জন্য নাথুলায় অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করবে ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ। প্রথমবারের মতো সেখানে একটি সম্পূর্ণ মহিলা দলও মোতায়েন করা হচ্ছে। একটি বাণিজ্য মরশুমে সর্বোচ্চ ৪০০ জন ব্যবসায়ীকে অনুমতিপত্র দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক অনুমতিপত্রই অনুমোদিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং রাজ্য গোয়েন্দা শাখার যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আরও ব্যবসায়ীকে অনুমতিপত্র দেওয়া হতে পারে।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, নাথুলা দিয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রাও সম্প্রতি ফের শুরু হয়েছে। তার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হওয়ায় ভারত ও চিনের মধ্যে (Border Trade) সীমান্তপারের যোগাযোগ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে বলেই (Nathu La Sikkim) ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।

     

  • S Jaishankar: ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত, ম্যানিলায় ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত, ম্যানিলায় ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের (India China Ties) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ, বাণিজ্যিক ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

    ভারত-চিন সম্পর্ক (S Jaishankar)

    বৈঠকের শুরুতেই জয়শঙ্কর বলেন, “গত কয়েক মাসে ভারত ও চিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগিয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর থেকেই ইতিবাচক অগ্রগতি শুরু হয়েছে। পরে তিয়ানজিনে দুই দেশের নেতার আরও একটি বৈঠকে সেই ইতিবাচক দিকটি আরও জোরদার হয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত বিশ্বাস করে, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতেই ভারত ও চিনের মধ্যে একটি স্থিতিশীল এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। এমন একটি সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বহুমেরুকেন্দ্রিক এশিয়া এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক কখনও স্বাভাবিক হতে পারে না। তাঁর কথায়, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত।”

    দুই দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ থাকাটা স্বাভাবিক

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে কাজানে দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের পর থেকে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে উভয় দেশই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রেখে চলেছে। এই লক্ষ্য পূরণে যে সব দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও আলোচনা ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলিকে পূর্ণ সমর্থন এবং আরও শক্তিশালী উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। ভারত ও চিন উভয়ই বৃহৎ এবং প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় দুই দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ থাকাটা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব আগেই একমত হয়েছিলেন যে মতপার্থক্য কখনও বিরোধে পরিণত হওয়া উচিত নয় (S Jaishankar)। তিনি বলেন, “দু’টি বৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও চিনের নিজস্ব স্বার্থ থাকবেই। কিন্তু আমাদের নেতারা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়। সেই মতভেদকে সঠিকভাবে পরিচালনা করাই কূটনীতির দায়িত্ব (India China Ties)।”

    কী বললেন জয়শঙ্কর

    বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের চালু করার উদ্যোগ, ভিসা ব্যবস্থার আপডেট, আবারও কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রা শুরু এবং সীমান্ত বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করার মতো পদক্ষেপ সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকাই রাখছে। তবে জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দেন, এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান হওয়া বাকি রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য ন্যায্য বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য আনা, সরবরাহ শৃঙ্খলের পূর্বানুমানযোগ্যতা বজায় রাখা এবং সরকারি ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজ করার বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ন্যায্য বাজারে প্রবেশাধিকার, বাণিজ্যে ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা এবং সরকারি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে আমাদের আরও মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি পারস্পরিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও বৈঠকের সময়সূচিও নির্ধারণ করা জরুরি (S Jaishankar)।”

    বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়

    বৈঠকে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পায়। চলতি বছরে ব্রিকস গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই প্রসঙ্গে চিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন জয়শঙ্কর। বলেন, “এ বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই সময়ে ব্রিকসের বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগে চিন যে সহযোগিতা করেছে, তার জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই (India China Ties)।” আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। তাই এই বৈঠক ছিল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে মতবিনিময়ের জন্য একটি উপযুক্ত সুযোগ।” বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার পর ভারত-চিন সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে চাপে ছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই ধীরে ধীরে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলি বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

    সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা

    ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এই (S Jaishankar) বৈঠককেও সেই ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও ভারত ও চিন নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে। জয়শঙ্কর বর্তমানে দু’দিনের সফরে ফিলিপিন্সে রয়েছেন। এই সফরে তিনি আসিয়ান কাঠামোর আওতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে আসিয়ান-ভারত বিদেশমন্ত্রী বৈঠক, পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠক। এই (India China Ties) সব বৈঠকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে ভারত (S Jaishankar)।

     

  • Kailash Mansarovar Yatra: গলেছে ভারত-চিন সম্পর্কের বরফ, ৫ বছর পর ফের শুরু হচ্ছে কৈলাশ-মানস যাত্রা

    Kailash Mansarovar Yatra: গলেছে ভারত-চিন সম্পর্কের বরফ, ৫ বছর পর ফের শুরু হচ্ছে কৈলাশ-মানস যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফি বছর হাজার হাজার ভক্তকে আকর্ষণ করে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা (Kailash Mansarovar Yatra)। গত পাঁচ বছর বন্ধ ছিল এই যাত্রা। এবার ফের চালু হতে চলেছে। শীঘ্রই জারি হবে নাম নথিভুক্তকরণের বিজ্ঞপ্তি (New Route)। এটি ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ইঙ্গিত। কোভিড-১৯ অতিমারি এবং দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে ২০২০ সাল থেকে বন্ধ ছিল এই তীর্থ যাত্রা। এবারই ফের শুরু হচ্ছে যাত্রা। হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে সমানভাবে পবিত্র কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা। এই যাত্রাকে ঐতিহ্যগতভাবে আধ্যাত্মিক মুক্তি ও শুদ্ধির পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা হিমালয়ের দুর্বোধ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্প্রীতির প্রতীকও।

    কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা (Kailash Mansarovar Yatra)

    ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার ফলশ্রুতিতেই কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা ফের শুরু করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। গালওয়ান উপত্যকায় সহিংস সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক প্রবল উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। ভারত ও চিনের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষিতে পূর্ব লাদাখের ডেমচোক ও ডেপসাংয়ের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলগুলিতে উল্লেখযোগ্যভাবে সৈন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার জেরে যাত্রা ফের চালুর অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে শীঘ্রই ফের যাত্রা শুরু সংক্রান্ত একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল প্রস্তুতির কথা স্বীকার করে বলেন, “আমরা শীঘ্রই এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করব। যাত্রা অচিরেই শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে (New Route)।”

    নয়া পথের সন্ধান

    কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা ফের শুরু করতে ভারত ও চিনের কর্তাদের মধ্যে আলোচনার পর নয়া পথের সন্ধান মিলেছে। সূত্রের খবর, লিপুলেখ পাসের ঐতিহ্যবাহী পথের পাশাপাশি ডেমচোক দিয়েও যাত্রাপথ বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এটি চূড়ান্ত হবে আরও কিছু সমীক্ষার পর। দুই দেশের মধ্যে চলা আলোচনার প্রেক্ষাপটে যাত্রার নিরাপত্তা ও সুগমতা বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি  একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Kailash Mansarovar Yatra)।যদিও নতুন রুটগুলির নির্দিষ্ট বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র পুণ্যার্থীদের এই বলে আশ্বস্ত করেছেন যে ২০২৫ সালে এই যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। শীঘ্রই এ ব্যাপারে আরও তথ্য শেয়ার করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি, এবং শীঘ্রই জনসাধারণের জন্য আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।”

    যাত্রা বন্ধ ছিল পাঁচ বছর

    সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা। লক্ষাধিক ভক্তের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় তীর্থযাত্রাগুলির মধ্যে একটি এই কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা। তবে, কোভিড-১৯ অতিমারি ও পরবর্তী কালে ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনার কারণে এই যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। উভয় দেশই এই উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে কাজ করেছে। তারই প্রেক্ষিতে যাত্রা ফের শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Kailash Mansarovar Yatra)। ভারত ও চিন দুই দেশের সম্পর্কের এই অগ্রগতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকীর সঙ্গেও মিলে যাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে উভয় দেশের শীর্ষ কর্তারা বেইজিংয়ে বৈঠক করে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে অগ্রগতি মূল্যায়ন করেন, যার মধ্যে কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল (New Route)।

    গালওয়ান উপত্যকায় সংঘাত

    প্রসঙ্গত, গালওয়ান উপত্যকায় সংঘাতের পর কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি গত বছর নভেম্বর মাসে রিও ডি জেনিরোতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের সময়ও কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা নিয়ে আলোচনা হয় ভারত ও চিনের মধ্যে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই যাত্রার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। তার পরেই তীর্থযাত্রা ফের শুরু করতে কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা আরও শক্তিশালী হয়। ২০২৫ সালের শুরুতেই ভারত ও চিনের বিদেশমন্ত্রকের কর্তারা কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত বিস্তারিত আলোচনা করেন। জানুয়ারি ২০২৫-এর আলোচনায় যাত্রা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা এই পবিত্র যাত্রায় অংশ নিতে আগ্রহী ভক্তদের জন্য একটি ইতিবাচক ফল নিয়ে আসে (Kailash Mansarovar Yatra)।

    কোন পথে যাত্রা

    এর আগে মূলত সিকিমের নাথু লা এবং উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাসের মাধ্যমে ভারত থেকে তিব্বতে প্রবেশ করতেন ভারতীয়রা। তারপর কড়া নিরাপত্তার বলয়ে তাঁদের কৈলাস-মানস পর্যন্ত নিয়ে যেত চিন প্রশাসন। উত্তরাখণ্ডের পথে এই যাত্রার তিনটি ভাগ রয়েছে। প্রথম ভাগে যেতে হয় পিথোরাগড় থেকে তাওয়াঘাট। দ্বিতীয় পর্যায়ে যাত্রা শুরু হয় তাওয়াঘাট থেকে। পৌঁছতে হয় ঘটিয়াবগড় (New Route)। এই ঘটিয়াবগড় থেকে চিন সীমান্ত লাগোয়া লিপুলেখ পাস পর্যন্ত রাস্তার দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার। বর্তমানে এই রাস্তাটা গাড়িতেই পৌঁছে যাওয়া যায় (Kailash Mansarovar Yatra)।

  • India China Relation: ভারত-চিন সম্পর্কের বরফ গলছে, চালু হচ্ছে কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা!

    India China Relation: ভারত-চিন সম্পর্কের বরফ গলছে, চালু হচ্ছে কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই গলছে ভারত-চিন সম্পর্কের (India China Relation) বরফ। সীমান্ত সংঘাত-পর্ব এখন অতীত। উন্নতি হয়েছে ভারত-চিনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ায়। তাই পাঁচ বছর পর ফের কৈলাশ-মানস সরোবর যাত্রা (Kailash Mansarovar Yatra) নতুন করে শুরু করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। হিন্দুদের কাছে কৈলাশ-মানস সরোবর যাত্রা অতি পবিত্র একটি তীর্থযাত্রা। এই তীর্থযাত্রা নিয়ে আগে থেকে যে চুক্তি রয়েছে দুই দেশের মধ্যে, সেই অনুযায়ীই সব কিছু হবে বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। কেবল এই তীর্থযাত্রা নয়, ভারত ও চিনের মধ্যে ফের সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করা নিয়েও একপ্রস্ত আলোচনা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

     

    বিদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠক (India China Relation)

     

    সম্প্রতি ভারত ও চিনের মধ্যে বিদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন হয়েছিল। দুদিনের ওই বৈঠকে যোগ দিতে বেজিং গিয়েছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। ওই বৈঠকেই দুই দেশ একাধিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে খবর। গত অক্টোবরে কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বৈঠক হয়। তারই রেশ ধরে আলোচনা হয় বিদেশ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে। সেই বৈঠকেই কৈলাশ-মানস সরোবর যাত্রা নতুন করে শুরু করতে সম্মত হয়েছে পড়শি দুই দেশ।

     

    কৈলাশ-মানস সরোবর যাত্রা

     

    কৈলাশ-মানস সরোবর হিন্দু এবং বৌদ্ধ উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি তীর্থস্থান (India China Relation)। হিন্দুদের বিশ্বাস, কৈলাশ পর্বত ভগবান শিবের বাসস্থান। আর মানস সরোবর সৃষ্টি করেছিলেন স্বয়ং ব্রহ্মা। বৌদ্ধদের কাছেও মানস সরোবর অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি তীর্থস্থান। ২০২০ সালে অতিমারির কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কৈলাশ-মানস সরোবর যাত্রা। সেই যাত্রাই ফের চালু করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

    তীর্থযাত্রা শুরু হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিমান পরিষেবা ফের চালুর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ভারত ও চিন। করোনা অতিমারি পর্বে এবং পরবর্তী কালে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে গত পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল (Kailash Mansarovar Yatra)। নতুন করে তা চালু করতে ফের উদ্যোগী হয়েছে দুই দেশই (India China Relation)।

  • Mount Kailash: আর নয় চিনের রাস্তা, এবার ভারত থেকেই সোজা কৈলাস-মানস সরোবর! রুট চালু শীঘ্রই

    Mount Kailash: আর নয় চিনের রাস্তা, এবার ভারত থেকেই সোজা কৈলাস-মানস সরোবর! রুট চালু শীঘ্রই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী সেপ্টেম্বর থেকে পুণ্যার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে কৈলাস যাত্রার পথ। ভারত হয়েই কৈলাসে যেতে পারবেন পুণ্যার্থীরা। মানস সরোবর (Kailash Mansarovar) যাত্রার আকাশছোঁয়া খরচের কারণে প্রস্তুতি নিয়েও অধিকাংশ সময় পিছিয়ে আসেন ভক্তরা। সেই সমস্যারই এবার সমাধান করল মোদি সরকার। এবার থেকে কৈলাস যাওয়ার জন্য আর অন্য শি জিনপিং সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করতে হবে না।ভারত চিন সীমান্ত দিয়ে তৈরি হচ্ছে কৈলাস মানস সরোবর পৌঁছনোর রাস্তা। 

    ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়েই কৈলাস

    ভারত থেকে সরাসরি কৈলাস মানস সরোবর (Kailash Mansarovar) যাওয়ার রাস্তা নেই। চিন অধিকৃত তিব্বতের (Tibet) মধ্য দিয়ে সেখানে যেতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার জন্য প্রচুর খরচ হয়। ফলে ইচ্ছা থাকলেও অনেকে যেতে পারেন না। তারপর করোনা মহামারীর সময় কৈলাস যাত্রা স্থগিত করে দেয় বেজিং। এখনও সেটা চালু করেনি। ফলে আর্থিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নেওয়া থাকলেও এখন আর কেউই কৈলাস যেতে পারছেন না। তবে কৈলাস যাওয়ার জন্য আর অন্য দেশের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করতে হবে না। এবার ভারতের ভূ-খণ্ডের মধ্য দিয়েই পৌঁছনো যাবে শিবের আবাসস্থল, কৈলাস। 

    আরও পড়ুুন: মমতার ভাষণে ২১ জুলাইয়ের কোনও কথাই নেই, শুধুই মণিপুর আর ১০০ দিনের বকেয়া!

    কোথা দিয়ে কৈলাস যাত্রার পথ

    উত্তরাখণ্ডের প্রশাসন সূত্রে খবর, বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন (বিআরও)-এর কর্মীরা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন। পিথোরাগড়ের নভিধাংয়ের কেএমভিএন হাট থেকে ভারত-চিন সীমান্তে লিপুলেখ পাস পর্যন্ত রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। বিআরও সূত্রে খবর, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই কাজ শেষ করার জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে। ফলে আশা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরে পুণ্যার্থীরা কৈলাস (Kailash Mansarovar) পর্বত দর্শনে যেতে পারবেন। এই প্রজেক্টের মুখ্য ইঞ্জিনিয়ার বিমল গোস্বামী বলেন, “নাভিদাংয়ের কেএমভিএন হাট থেকে লিপুলেখ পাস পর্যন্ত রাস্তা তৈরির কাজ আমরা ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছি।” আকর্ষণ বাড়াতে এই রাস্তাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কৈলাস ভিউ পয়েন্ট’। ভারত সরকারের হীরক প্রজেক্টের অধীনেই কৈলাস ভিউ পয়েন্ট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। রাস্তা কাটিংয়ের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলেও জানান বিমল গোস্বামী।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share