Tag: Kali Puja

Kali Puja

  • Kali Puja 2026: কালীপুজোয় অমাবস্যা কখন? জেনে নিন পুজোর দিনক্ষণ ও নিশীথপুজোর সময়

    Kali Puja 2026: কালীপুজোয় অমাবস্যা কখন? জেনে নিন পুজোর দিনক্ষণ ও নিশীথপুজোর সময়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবারই শ্যামাপুজো (Kali Puja 2026)। উৎসবের প্রস্তুতিতে সেজে উঠছে শহর থেকে শহরতলি। পাড়ায় পাড়ায় তৈরি মণ্ডপ, চলছে প্রতিমা সাজানোর শেষ মুহূর্তের কাজ। তবে পুজোর প্রস্তুতির পাশাপাশি অনেকের মনেই রয়েছে একটি প্রশ্ন—এ বছর অমাবস্যা তিথি কখন শুরু হচ্ছে? কলকাতায় নিশীথপুজোর শুভ সময়ই বা কখন? ২০২৬ সালে ৮ নভেম্বর, রবিবার পালিত হবে কালীপুজো। দৃক পঞ্চাঙ্গের কলকাতার সময়সূচি অনুযায়ী, রবিবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে শুরু হচ্ছে অমাবস্যা তিথি। এই তিথি স্থায়ী হবে পরের দিন, অর্থাৎ ৯ নভেম্বর সোমবার দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত। ফলে রবিবার রাতেই হবে শ্যামাপুজো।

    কালীপুজোর নির্ঘণ্ট একনজরে

    • কালীপুজো: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
    • অমাবস্যা তিথি শুরু: ৮ নভেম্বর, সকাল ১১টা ২৭ মিনিট
    • অমাবস্যা তিথি শেষ: ৯ নভেম্বর, দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট
    • কলকাতায় নিশীথপুজোর সময়: ৮ নভেম্বর, রাত ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট

    নিশীথকাল মানেই কি রাত ১২টা?

    কালীপুজোর সঙ্গে গভীর রাতের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তবে পঞ্জিকা অনুযায়ী নিশীথকাল বলতে ঠিক রাত ১২টাকে বোঝায় না। স্থানীয় সূর্যাস্ত এবং পরের দিনের সূর্যোদয়ের সময়ের হিসাব ধরে রাতের মধ্যভাগ নির্ধারণ করা হয়। সেই কারণেই বিভিন্ন শহরে নিশীথপুজোর সময়ের কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কলকাতার ক্ষেত্রে এ বছর নিশীথপুজোর নির্ধারিত সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত।

    কখন পুজোয় বসবেন?

    বাড়িতে কালীপুজোর আয়োজন হোক কিংবা পাড়ার বারোয়ারি পুজো, সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুরোহিতের পরামর্শ এবং অনুসৃত পঞ্জিকার নিয়ম মেনে চলাই ভাল। বিভিন্ন মন্দিরে নিজস্ব রীতি অনুযায়ী পুজোর সময় নির্ধারিত হতে পারে। তাই মন্দিরের পুজোয় অংশ নিতে চাইলে আগে থেকেই সময় জেনে নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, অমাবস্যা তিথির শুরু ও শেষের সময় এবং নিশীথপুজোর মুহূর্ত এক নয়। আবার কলকাতার সময়সূচি অন্য শহরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তাই পুজোর প্রস্তুতির আগে নিজের এলাকার পঞ্জিকা ও নির্দিষ্ট পুজোর সময় মিলিয়ে নেওয়াই শ্রেয়।

  • Bhoot Chaturdashi: ভূত চতুর্দশীর রাতে সত্যিই মর্ত্যে নেমে আসেন প্রেতাত্মারা! কী বলে প্রচলিত বিশ্বাস?

    Bhoot Chaturdashi: ভূত চতুর্দশীর রাতে সত্যিই মর্ত্যে নেমে আসেন প্রেতাত্মারা! কী বলে প্রচলিত বিশ্বাস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় ভূত চতুর্দশী। এই তিথি আবার নরক চতুর্দশী নামেও পরিচিত। কালীপুজোর একদিন আগে এবং ধনতেরসের একদিন পর পালিত হয় এই বিশেষ দিনটি। ছোট দীপাবলি, রূপ চতুর্দশী বা নরকাসুর চতুর্দশী নামেও পরিচিত এই তিথি। তবে ভূত চতুর্দশী বলতেই বাঙালির মনে প্রথমে আসে অশরীরী আত্মা, প্রেতাত্মা এবং চোদ্দ পুরুষের স্মৃতির কথা। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ রাতে বিদেহী আত্মারা মর্ত্যে নেমে আসেন। তাঁদের যাতায়াতের পথ আলোকিত রাখতেই বাড়িতে আলো জ্বালানোর প্রথা প্রচলিত হয়েছে। এই তিথিকে ঘিরে রয়েছে নানা পৌরাণিক কাহিনী ও ধর্মীয় বিশ্বাস।

    ভূত চতুর্দশীর রাতে কেন মর্ত্যে আসেন প্রেতাত্মারা?

    প্রচলিত লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর রাতে অশরীরী আত্মা ও প্রেতাত্মারা মর্ত্যলোকে ঘুরে বেড়ান। মনে করা হয়, চোদ্দ পুরুষের আত্মারাও এদিন তাঁদের বংশধরদের বাড়িতে আসেন। তাই এই রাতকে ঘিরে বাঙালি সমাজে রয়েছে নানা আচার ও প্রথা।

    আর একটি পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর রাতে রাজা বলি মর্ত্যে আসেন পুজো নিতে। তাঁর সঙ্গে আসেন অনুচররাও। এই কারণে প্রাচীনকাল থেকেই অমাবস্যার আগের এই রাতকে ঘিরে নানা সতর্কতামূলক লোকাচার প্রচলিত রয়েছে। অন্ধকারে যাতে অশুভ শক্তির প্রবেশ না ঘটে, সেই বিশ্বাস থেকেই বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানোর রীতি গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়।

    ভূত চতুর্দশীকে কেন নরক চতুর্দশী বলা হয়?

    ভূত চতুর্দশীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নরকাসুর বধের কাহিনীও। বিষ্ণু পুরাণ ও শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণের কাহিনী অনুযায়ী, নরকাসুর নামে এক অসুর নিজের ক্ষমতা ও শক্তির দাপটে দেবতা এবং সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। ১৬ হাজার নারী ও সাধুকে বন্দি করে রেখেছিল সে। নরকাসুরের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে মুনি-ঋষিরা ভগবান কৃষ্ণের দ্বারস্থ হন।

    কিন্তু নরকাসুরের মৃত্যুর পিছনে ছিল একটি বিশেষ শর্ত। কেবল কোনও নারীর হাতেই তার মৃত্যু হবে, এমন অভিশাপ পেয়েছিল সে। সেই কারণে কৃষ্ণ নিজের স্ত্রী সত্যভামাকে সঙ্গে নেন। সত্যভামার সাহায্যেই নরকাসুরকে বধ করেন তিনি। যে দিন এই অসুরের বিনাশ হয়েছিল, সেটি ছিল কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি। সেই থেকেই এই তিথির নাম হয় নরক চতুর্দশী।

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন সূর্যোদয়ের আগে স্নান করলে নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অকালমৃত্যুর ভয় থেকে রক্ষা পেতে এবং যমের আশীর্বাদ লাভের আশায় এই দিনে মৃত্যুর দেবতা যমের পুজো করার প্রথাও রয়েছে।

    কেন জ্বালানো হয় ১৪টি প্রদীপ?

    ভূত চতুর্দশীর অন্যতম পরিচিত রীতি হল সন্ধ্যায় বাড়িতে ১৪টি প্রদীপ বা বাতি জ্বালানো। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, চোদ্দ পুরুষের আত্মারা যাতে তাঁদের যাতায়াতের পথে অন্ধকারে বাধা না পান, সেই জন্যই এই প্রদীপ জ্বালানো হয়। আবার অশুভ আত্মার প্রভাব থেকে বাড়িকে রক্ষা করার বিশ্বাসও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

    এদিন অনেক বাঙালি পরিবারে চোদ্দ শাক খাওয়ার প্রথাও রয়েছে। তবে ভূত চতুর্দশীর মূল লোকাচার ও বিশ্বাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হয়ে রয়েছে প্রেতাত্মা এবং পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার বিষয়টি।

    হ্যালোউইনের সঙ্গে ভূত চতুর্দশীর মিল কোথায়?

    ভারতে যেমন কালীপুজোর আগের দিন পালিত হয় ভূত চতুর্দশী, পশ্চিমী দুনিয়ায় তেমনই অক্টোবরের ৩১ তারিখে পালিত হয় হ্যালোউইন। মৃত আত্মাদের স্মরণ এবং বিভিন্ন লোকাচারকে কেন্দ্র করে এই উৎসবের প্রচলন। গত কয়েক বছরে ভারতেও হ্যালোউইন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    স্কটিশ শব্দ ‘অল হ্যালোজ ইভ’ থেকে হ্যালোউইন শব্দটির উৎপত্তি। শব্দটির অর্থ পবিত্র সন্ধ্যা। হ্যালোউইনের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কুমড়ো কেটে তৈরি করা ভৌতিক মুখের ছবি। কুমড়োর মধ্যে চোখ, নাক ও মুখের আকৃতি তৈরি করে তার ভিতরে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে। অন্ধকারে সেই আলো জ্বলতে থাকলে কুমড়োর মুখটি আরও ভৌতিক দেখায়। পাশাপাশি নানা ধরনের ভৌতিক পোশাক পরে অন্যকে ভয় দেখিয়ে মজা করেন অনেকে।

    ভূত চতুর্দশী ও হ্যালোউইনের মধ্যে কিছুটা মিল থাকলেও, দুটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট আলাদা। তবে অশরীরী আত্মা, পূর্বপুরুষের স্মরণ এবং অন্ধকারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা লোকবিশ্বাস দুই উৎসবকেই এক বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।

  • Bhoot Chaturdashi 14 Diya: আজ ভূত চতুর্দশী! কেন সন্ধ্যায় জ্বালানো হয় ১৪ বাতি? জানুন ধর্মীয় তাৎপর্য

    Bhoot Chaturdashi 14 Diya: আজ ভূত চতুর্দশী! কেন সন্ধ্যায় জ্বালানো হয় ১৪ বাতি? জানুন ধর্মীয় তাৎপর্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কালীপুজোর (Kali Puja) ঠিক আগের দিন পালিত হয় ভূত চতুর্দশী (Bhoot Chaturdashi) বা নরক চতুর্দশী (Naraka Chaturdashi)। বাঙালির ঘরে ঘরে এই বিশেষ দিনে দুপুরে ১৪ শাক খাওয়ার এবং সন্ধ্যায় ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর রীতি প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু কেন এই প্রথা? এর পিছনে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকাচার।

    দুপুরে ১৪ শাক, সন্ধ্যায় ১৪ বাতি

    ভূত চতুর্দশীর দিনে যে ১৪টি শাক খাওয়ার রীতি রয়েছে, সেগুলি হল— জয়ন্তী, শাঞ্চে, হিলঞ্চ, ওল, পুঁই, বেতো, সর্ষে, কালকাসুন্দে, নিম, পলতা, শুলকা, গুলঞ্চ, ভাঁটপাতা ও শুষণী। এই শাক খাওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যায় ১৪টি প্রদীপ জ্বালিয়ে অশুভ শক্তি ও অন্ধকার দূর করার প্রথাও প্রচলিত রয়েছে।

    শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষের শরীর পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যায়। এই পঞ্চভূত হল মাটি, জল, বায়ু, অগ্নি ও আকাশ। প্রচলিত লোকবিশ্বাস অনুসারে, মাটি থেকে তুলে আনা ১৪ রকমের শাক খেলে অতৃপ্ত আত্মারা শান্তি পায়। যে জল দিয়ে এই শাক ধোয়া হয়, সেই জল অনেকে বাড়িতেও ছিটিয়ে দেন। তাঁদের বিশ্বাস, এর ফলে অশুভ শক্তির প্রভাব দূর হয় এবং জীবনের বাধা-বিঘ্ন কেটে যায়।

    ১৪ ভুবনের উদ্দেশ্যে ১৪ প্রদীপ!

    দুপুরে ১৪ শাক খাওয়ার পর ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় জ্বালানো হয় ১৪টি প্রদীপ। পুরাণে ১৪টি ভুবন বা লোকের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ঊর্ধ্বলোক এবং সাতটি অধোলোক।

    ঊর্ধ্বলোকগুলি হল— ভূঃ, ভুবঃ, স্বঃ, মহঃ, জনঃ, তপঃ ও সত্য। অন্যদিকে অধোলোকগুলি হল— অতল, বিতল, সুতল, তলাতল, মহাতল, রসাতল ও পাতাল। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ১৪ লোকের অধিবাসীদের স্মরণ ও সম্মান জানাতেই ভূত চতুর্দশীতে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়।

    আরও একটি লোকবিশ্বাস রয়েছে। মনে করা হয়, ভূত চতুর্দশীর রাতে কিছু সময়ের জন্য স্বর্গ ও নরকের দ্বার উন্মুক্ত হয় এবং অতৃপ্ত আত্মারা মর্ত্যে নেমে আসে। রাজা বলি ও তাঁর অনুচরেরাও এই সময়ে মর্ত্যে আসেন বলে প্রচলিত ধারণা। এই রাতে অশুভ শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি পায় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। সেই অশুভ শক্তিকে বাড়ি থেকে দূরে রাখতেই সন্ধ্যায় ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে।

    ১৪ পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে জ্বালানো হয় প্রদীপ

    ভূত চতুর্দশীতে ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর পিছনে আরও একটি প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। অনেকে মনে করেন, পরিবারের ১৪ পুরুষ বা পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যেই এই প্রদীপ জ্বালানো হয়। এই তালিকায় রয়েছেন পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ, বৃদ্ধপ্রপিতামহ, পিতামহী, প্রপিতামহী, বৃদ্ধপ্রপিতামহী, মাতা, মাতামহ, প্রমাতামহ, বৃদ্ধপ্রমাতামহ, মাতামহী, প্রমাতামহী ও বৃদ্ধপ্রমাতামহী।

    অশুভ আত্মার ভয় দূর করতে ভূত চতুর্দশীর দিনে একটি মন্ত্র পাঠের প্রথাও রয়েছে। মন্ত্রটি হল—

    ‘শীতলঞ্চ সমাযুক্ত সকণ্টক দলান্বিত। হরপাপ সপামার্গে ভ্রাম্যমাণঃ পুনঃ পুনঃ।’

    প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মন্ত্র পাঠ করলে অশুভ আত্মার ভয় ও অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

    রাজা বলির মর্ত্যে আগমনের বিশ্বাসও রয়েছে

    হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর রাতে শিবভক্ত রাজা বলি ও তাঁর অনুচরেরা পুজো নিতে মর্ত্যে আসেন। চতুর্দশী তিথির অমাবস্যার ঘন অন্ধকারে রাজা বলির অনুচরেরা যাতে পথ ভুল করে মানুষের বাড়িতে প্রবেশ না করেন, সেই উদ্দেশ্যেও প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে বলে মনে করা হয়।

    অন্য একটি প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের সময়ে পিতৃপুরুষেরা মর্ত্যে আসেন এবং ভূত চতুর্দশীর তিথিতেই তাঁদের ফিরে যাওয়ার সময় হয়। সেই অন্ধকার পথে তাঁদের যাত্রা সুগম করতেই ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়।

    ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় কোথায় কোথায় জ্বালবেন ১৪ প্রদীপ?

    ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানোর ক্ষেত্রে বাড়ির কয়েকটি বিশেষ জায়গাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী—

    • ● ঠাকুরঘর: বাড়ির ঠাকুরঘরে অবশ্যই একটি প্রদীপ জ্বালানো হয়।
    • ● তুলসীমঞ্চ: বাড়িতে তুলসীমঞ্চ থাকলে সেখানেও একটি প্রদীপ দিতে হয়।
    • ● সদর দরজা: বাড়ির প্রধান দরজার দু’পাশে দুটি প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। অনেকে প্রতিটি প্রদীপে একটি করে লবঙ্গও রাখেন।
    • ● কলতলা বা জলের জায়গা: বাড়িতে যেখানে জল ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে, অর্থাৎ কলতলায় একটি প্রদীপ দেওয়া হয়।
    • ● বাড়ির দক্ষিণ দিক: দক্ষিণ দিকে একটি প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে।
    • ● মাটির উনুন: বাড়িতে মাটির উনুন থাকলে সেখানেও একটি প্রদীপ জ্বালানো হয়।

    প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই প্রদীপগুলি পূর্বপুরুষদের স্মরণে জ্বালানো হয়। তাই ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় ১৪টি প্রদীপ জ্বালানোর মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন অশুভ শক্তিকে দূরে রাখার প্রার্থনা করা হয়, অন্যদিকে তেমনই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় পরিবারের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের।

  • Bhoot Chaturdashi 14 Saag: ভূত চতুর্দশীতে কেন খাওয়া হয় চোদ্দ শাক? জানুন ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি

    Bhoot Chaturdashi 14 Saag: ভূত চতুর্দশীতে কেন খাওয়া হয় চোদ্দ শাক? জানুন ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ভূত চতুর্দশী। কালীপুজোর ঠিক আগের দিন পালিত হয় এই বিশেষ তিথি। বাংলার ঘরে ঘরে ভূত চতুর্দশী মানেই কয়েকটি চিরাচরিত আচার। দুপুরে চোদ্দ রকমের শাক খাওয়া এবং সন্ধ্যায় বাড়িতে চোদ্দটি প্রদীপ জ্বালানো—এই দুই প্রথা বহু বছর ধরে বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মারা মর্ত্যলোকে ফিরে আসেন। তাঁদের স্মরণ এবং অশুভ শক্তির বিনাশ কামনায় পালিত হয় নানা রীতি। পরদিন অমাবস্যা তিথিতে উদযাপিত হয় দীপান্বিতা কালীপুজো।

    কেন ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দ শাক খাওয়ার রীতি?

    ভূত চতুর্দশীতে বাঙালি পরিবারগুলিতে মূলত দুটি বিশেষ প্রথা প্রচলিত—চোদ্দ রকমের শাক খাওয়া এবং চোদ্দটি প্রদীপ জ্বালানো। লোকাচার ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, চোদ্দ ভুবনের সঙ্গে এই চোদ্দ শাক ও চোদ্দ প্রদীপের একটি প্রতীকী সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে এই প্রথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও নানা ব্যাখ্যা ও বিশ্বাস।

    বাঙালির সংস্কৃতিতে বিভিন্ন তিথি ও পার্বণকে কেন্দ্র করে বিশেষ খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। যেমন, সরস্বতী পুজোর পরদিন গোটা সেদ্ধ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে বহু পরিবারে। তেমনই ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দ রকমের শাক খাওয়ার প্রথাও দীর্ঘদিনের। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে, অর্থাৎ কালীপুজোর আগের দিন, এই বিশেষ খাবার খাওয়ার রীতি পালন করেন অনেকে। কিন্তু কেন এই চোদ্দ শাক? এর পিছনে কোন ধর্মীয় বিশ্বাস কাজ করে?

    পূর্বপুরুষদের আগমন ঘটে মর্ত্যলোকে, কী বলে লোকবিশ্বাস?

    প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষের দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যায়। আকাশ, জল, বায়ু, অগ্নি ও মাটি—প্রকৃতির এই পাঁচ উপাদানের সঙ্গে মানুষের অস্তিত্ব জড়িয়ে রয়েছে। লোককথা অনুসারে, ভূত চতুর্দশীর রাতে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মারা মর্ত্যলোকে ফিরে আসেন। তাঁদের স্মরণ করতেই এই তিথিতে চোদ্দ শাক খাওয়ার রীতি চালু হয়েছে বলে মনে করা হয়।

    আরও একটি প্রচলিত ধারণা হল, চোদ্দ রকমের শাক জলে ধুয়ে সেই জল বাড়ির চারপাশে ছিটিয়ে দিলে অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে পরিবার সুরক্ষিত থাকে। পূর্বপুরুষদের স্মরণে তাঁদের উদ্দেশে এই আচার পালন করা হয়। কথিত আছে, পূর্ববর্তী সাত পুরুষ এবং পরবর্তী সাত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কিত বিশ্বাস থেকেই মোট চোদ্দ রকমের শাক খাওয়ার প্রথার প্রচলন।

    ভূত চতুর্দশীতে কোন কোন শাক খাওয়া হয়?

    ভূত চতুর্দশীর চোদ্দ শাকের তালিকায় রয়েছে—

    • ১. জয়ন্তী
    • ২. শাঞ্চে
    • ৩. হিলঞ্চ
    • ৪. ওল
    • ৫. পুঁই
    • ৬. বেতো
    • ৭. সর্ষে
    • ৮. কালকাসুন্দে
    • ৯. নিম
    • ১০. পলতা
    • ১১. শুলকা
    • ১২. গুলঞ্চ
    • ১৩. ভাঁটপাতা
    • ১৪. শুষণী

    অবশ্য অঞ্চল ও পারিবারিক প্রথা অনুযায়ী এই তালিকায় কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও কোথাও কয়েকটি শাকের নাম বা বিকল্প শাকের ব্যবহারও আলাদা হতে পারে।

    কোন শাকে কী কী ভেষজ গুণ রয়েছে?

    চোদ্দ শাকের প্রতিটিরই কিছু না কিছু ভেষজ গুণ রয়েছে বলে লোকাচার ও প্রচলিত আয়ুর্বেদীয় ধারণায় উল্লেখ পাওয়া যায়। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক—

    • ● জয়ন্তী: লোকজ চিকিৎসায় জ্বর ও পেটের সমস্যায় এর ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে।

    • ● শাঞ্চে: পুষ্টিগুণের জন্য পরিচিত।

    • ● হিলঞ্চ: প্রচলিত ধারণায় পিত্তের সমস্যা প্রশমনে ব্যবহৃত হয়।

    • ● ওল: আঁশসমৃদ্ধ এই সবজি হজমে সাহায্য করে।

    • ● পুঁই: খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন ভিটামিনের উৎস। হজমের জন্য উপকারী।

    • ● বেতো: লোকজ চিকিৎসায় কৃমিনাশক হিসেবে ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।

    • ● সর্ষে: ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। চোখ ও যকৃতের সুস্থতায় পুষ্টিগত ভূমিকা রয়েছে।

    • ● কালকাসুন্দে: লোকজ চিকিৎসায় কাশি ও ত্বকের কিছু সমস্যায় ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়।

    • ● নিম: ত্বকের পরিচর্যায় ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়।

    • ● পলতা: শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।

    • ● শুলকা: এর ভেষজ ব্যবহার সম্পর্কে স্থানীয় লোকাচারে নানা ধারণা প্রচলিত।

    • ● গুলঞ্চ: আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসায় বিভিন্ন ভেষজ প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।

    • ● ভাঁটপাতা: লোকজ চিকিৎসায় বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় এর ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে।

    • ● শুষণী: আয়ুর্বেদীয় ও লোকজ চিকিৎসায় স্মৃতিশক্তি এবং স্নায়ুর পরিচর্যায় ব্যবহারের কথা বলা হয়।

    তবে মনে রাখতে হবে, এই শাকগুলির কোনওটি খেলেই নির্দিষ্ট রোগ সেরে যায় কিংবা ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনও জটিল রোগ প্রতিরোধ করা যায়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। শাকসবজি সুষম খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এগুলিকে কোনও রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।

    ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি রয়েছে প্রকৃতির সঙ্গে যোগসূত্র

    ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দ শাক খাওয়ার প্রথার সঙ্গে বাংলার ঋতুচক্র ও প্রকৃতির সম্পর্কও লক্ষ করা যায়। শরৎ থেকে হেমন্তে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখার একটি স্বাভাবিক গুরুত্ব রয়েছে। মরশুমি শাক থেকে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে।

    তাই এই প্রাচীন রীতির মধ্যে একদিকে যেমন পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে মরশুমি খাদ্যাভ্যাসের ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই প্রথা আজও বাঙালির উৎসব-সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

    চোদ্দ শাকের স্বাদ, চোদ্দ প্রদীপের আলো আর পূর্বপুরুষদের স্মরণ—সব মিলিয়ে ভূত চতুর্দশী বাঙালির কাছে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং ঐতিহ্য ও পারিবারিক সংস্কৃতির এক বিশেষ উদযাপন।

  • New Industrial Policy: নভেম্বরেই নবান্ন থেকে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা, বড় বিনিয়োগ টানতে একাধিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    New Industrial Policy: নভেম্বরেই নবান্ন থেকে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা, বড় বিনিয়োগ টানতে একাধিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও নতুন বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী ৫ নভেম্বর নবান্ন সভাঘর থেকে এই নীতি (New Industrial Policy) প্রকাশ্যে আনার কথা। দুর্গাপুজোর আগে নীতি ঘোষণার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পিছিয়ে যায়। নতুন শিল্পনীতিতে বড় শিল্প সংস্থাকে আকৃষ্ট করতে আর্থিক প্রণোদনা, দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন এবং জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা থাকতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে (West Bengal) খবর।

    জমি ব্যবহারে কড়া শর্ত (New Industrial Policy)

    নতুন শিল্পনীতিতে দ্রুত শিল্প স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। সূত্রের খবর, ১০০ একর বা তার বেশি জমিতে শিল্প গড়তে আগ্রহী সংস্থাগুলির জন্য এক জানালা ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দফতরের অনুমতির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার সমস্যা কমতে পারে।

    শিল্পের জন্য বরাদ্দ জমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজে লাগানোর বিষয়েও কড়া শর্ত থাকতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, জমি পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু না হলে সংশ্লিষ্ট জমি ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এই শর্তগুলির চূড়ান্ত রূপ নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।

    কৃষি প্রকল্প ও জনজাতি দিবস নিয়েও সিদ্ধান্ত

    দুর্গাপুজোর পর রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শিল্পনীতির পাশাপাশি কৃষি ও প্রশাসনিক বিষয়েও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। রাজ্য সরকারের বহুল প্রচলিত ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ৫ নভেম্বর হুগলির পুরশুড়ায় একটি জনসভা থেকে প্রায় ৪৮ লাখ নথিভুক্ত কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ২,০০০ টাকা সরাসরি পাঠানোর কথা রয়েছে। ওই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের উপস্থিত থাকার কথা।

    এছাড়া, যেসব প্রশাসনিক দফতর ইতিমধ্যেই তাদের বরাদ্দ বাজেটের অন্তত ৩৫ শতাংশ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেছে, তাদের পরবর্তী কিস্তির অর্থ দ্রুত ছাড়ার জন্য অর্থ দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    আগামী ১১ নভেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনজাতি গৌরব দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জনজাতি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অবদানের কথা তুলে ধরতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

    আসন্ন কালীপুজো উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনসেবা এবং প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করতে রাজ্যের প্রত্যেক মন্ত্রীকে একটি করে জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎসবের সময় যাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কোনও ঘাটতি না থাকে, সে দিকে নজর রাখতেই এই উদ্যোগ বলে সূত্রের (New Industrial Policy) খবর।

    তোলাবাজি রুখতে হেল্পলাইন

    এর আগে নতুন শিল্পনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে শিল্পের প্রসারের বদলে ভাতা দেওয়ার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে মানুষ ভাতার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    একই সঙ্গে রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিল্প স্থাপন বা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথাও হুমকি কিংবা তোলাবাজির মুখে পড়লে নির্দিষ্ট টোল-ফ্রি নম্বর ১৫৫-৩৩৫-এ অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগ পাওয়ার পর সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও আশ্বাস (West Bengal) দিয়েছেন তিনি।

    সব মিলিয়ে, নতুন শিল্পনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ, প্রশাসনিক অনুমোদনের গতি এবং জমির যথাযথ ব্যবহার কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের। আগামী ৫ নভেম্বর নীতি প্রকাশ্যে এলে রাজ্যে শিল্প স্থাপনের শর্ত ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ঘোষিত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট (New Industrial Policy) ধারণা মিলবে বলেই খবর।

     

  • Falharini Kali Puja 2026: আজ ফলহারিণী কালীপুজো, পাপমুক্তি ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ দিন, জানুন মাহাত্ম্য

    Falharini Kali Puja 2026: আজ ফলহারিণী কালীপুজো, পাপমুক্তি ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ দিন, জানুন মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ১ জৈষ্ঠ্য শনিবার, ফলহারিণী কালীপুজো। বাংলায় কালীপুজোর চল সারা বছর ধরেই দেখা যায়। দুর্গাপুজোর পরে যে কালীপুজো হয় তা জনপ্রিয় দীপান্বিতা কালী পুজো নামে পরিচিত। এছাড়াও রয়েছে রক্ষাকালী পুজো। স্থানীয়ভাবেও বাংলার নানা প্রান্তে কালীপুজো হয়। কোনও কোনও গৃহস্থের বাড়িতেও কালী পুজো বছরের বিশেষ সময়ে দেখা যায়। জৈষ্ঠ্য মাসের অমাবস্যা তিথিতে যে কালীপুজো হয় তা ফলহারিণী কালীপুজো (Falharini Kali Puja 2026) নামে প্রসিদ্ধ।

    ফলহারিণী অমাবস্যা কতক্ষণ থাকবে?

    এবছর, শনিবার এই অমাবস্যা তিথি (Falharini Amavasya) থাকায়, দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকামতে, ফলহারিণী অমাবস্যা ১৬ মে ২০২৬ সালে ভোর ৫টা ১৩ মিনিটে পড়েছে। অর্থাৎ তিথি শনিবার পড়েছে। আর তিথি শেষ হচ্ছে, ১৭ মে রবিবার ভোররাত ১টা ১৩ মিনিটে। উল্লেখ্য, এই পঞ্জিকামতে, তিথি ১ জ্যৈষ্ঠ শুরু, তিথি শেষ ২ জ্যৈষ্ঠ। অন্যদিকে, অমাবস্যা ১৫ মে শুক্রবার ভোর ৪টে ১ মিনিটে পড়ছে। অমাবস্যা তিথি শেষ হবে ১৬ মে শনিবার রাত ১টা ৪৯ মিনিটে।

    পাপক্ষয়, আত্মশুদ্ধি ও মাতৃশক্তির আরাধনার বিশেষ তিথি

    হিন্দু ধর্মবিশ্বাসে এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মনে করা হয়—মা কালী এই তিথিতে ভক্তদের পাপ, দুঃখ, ক্লেশ ও কর্মফলের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। ‘ফলহারিণী’ শব্দটির অর্থই হল— যিনি কর্মফল হরণ করেন। তাই সাধারণ কালীপুজোর তুলনায় এই পূজার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অনেক গভীর। ফলহারিণী কালীপুজো মূলত তন্ত্রসাধনা, আত্মশুদ্ধি এবং ঈশ্বরচিন্তার একটি বিশেষ দিন হিসেবে বিবেচিত। বাংলার বহু বাড়ি, মন্দির ও আশ্রমে এই দিন মা কালীর বিশেষ পুজো, হোম-যজ্ঞ, চণ্ডীপাঠ ও নামসংকীর্তনের আয়োজন করা হয়। ভক্তরা উপবাস পালন করে মাতৃশক্তির কৃপা প্রার্থনা করেন।

    ফলহারিণী কালীপুজোর পৌরাণিক তাৎপর্য

    শাস্ত্র মতে, জগজ্জননী মা কালী শুধু সংহারক নন, তিনি মুক্তিদাত্রীও। জীবনের সঞ্চিত কর্মফল, অহংকার, লোভ, ক্রোধ এবং মোহ দূর করে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার শক্তি রয়েছে তাঁর মধ্যে। এই কারণেই ফলহারিণী অমাবস্যায় মা কালীর পূজার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষ জন্মে জন্মে নিজের কর্মের ফল বহন করে। শুভ কর্মে যেমন ভালো ফল আসে, তেমনই অশুভ কর্ম দুঃখ ও বাধার কারণ হয়। ফলহারিণী কালীপুজো সেই কর্মফলের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির প্রতীক। এই দিনে আন্তরিক ভক্তি ও প্রার্থনার মাধ্যমে মা কালীর কাছে জীবনের নেতিবাচক শক্তি দূর করার আবেদন জানানো হয়।

    ফলের মালা পরানোর রীতি দেখা যায়

    ভক্তদের বিশ্বাস, মা কালী জীবের কর্মফল অনুসারে তাদের আশীর্বাদ প্রদান করেন। তিনি প্রসন্না হলে জীবের দুঃখ দুর্দশা থেকে মুক্তি মেলে। পাশাপাশি জীবন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। ফলহারিণী অমাবস্যায় দেবীকে বিভিন্ন মরশুমি ফল দিয়ে পুজো দিলে দেবী সন্তুষ্ট হন বলে বিশ্বাস। আম, জাম, কলা, লিচু-সহ বিভিন্ন ফলের মালা তৈরি করে দেবীকে পরানোর রীতি দেখা যায়।

    কেন এই পুজো ফলহারিণী কালীপুজো নামে পরিচিত?

    শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, জৈষ্ঠ্য মাসে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল সমেত নানারকম মরসুমী ফল পাওয়া যায়। ভক্তরা তাঁদের ইষ্টদেবীকে এই ফল নিবেদন করে থাকেন। দেবী ভক্তদের কর্মফল হরণ করে তাদেরকে মোক্ষফল প্রদান করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, ফলহারিণী কালীপুজো করলে বিদ্যা, কর্ম এবং অর্থ ভাগ্যের উন্নতি ঘটে প্রেম প্রণয়ের বাধা দূর হয়, দাম্পত্য সংসারী জীবনেও সুখ শান্তি বিরাজ করে। এককথায় এই বিশেষ পুজোয় ভক্তরা আধ্যাত্মিক, নৈতিক, মানসিক শক্তি পেয়ে থাকেন বলে তাঁদের বিশ্বাস।

    এই দিনেই সারদা দেবীকে পুজো করেছিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ

    ফলহারিণী কালীপুজোর আরেকটি ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে। জানা যায়, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ফলহারিণী কালীপুজোর দিনে সারদা দেবীকে পুজো করেছিলেন জগৎ কল্যাণের জন্য। এই ঘটনা হিন্দু আধ্যাত্মিক জগতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১২৮০ বঙ্গাব্দের জৈষ্ঠ্য মাসের অমাবস্যা তিথিতে ঠাকুর দক্ষিণেশ্বরে ষোড়শী রূপে পুজো করেছিলেন সারদা মা’কে। শ্রী রামকৃষ্ণ তাঁর সাধনার পরম পরিণতি হিসেবে স্ত্রী সারদা দেবীর মধ্যে আদ্যাশক্তির প্রকাশ দেখেছিলেন। ফলহারিণী কালীপুজোর রাতেই তিনি সারদা দেবীকে দেবীর আসনে প্রতিষ্ঠা করে পুজো করেন। এর মাধ্যমে নারীশক্তি, মাতৃত্ব ও দেবীত্বের এক অনন্য ব্যাখ্যা সামনে আসে। পরবর্তীতে এই সময়ের কালী পুজো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে ফলহারিণী কালী (Falharini Kali Puja 2026) পুজো নামেই প্রসিদ্ধি পায়।

  • Bangladesh: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ কালী পুজো! বিক্ষোভ ছাত্রদের

    Bangladesh: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ কালী পুজো! বিক্ষোভ ছাত্রদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজধানী ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ করা হল কালী পুজো। এই বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। উল্লেখ্য, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিটি একজন হিন্দু জমিদার দান করেছিলেন। হিন্দু সমাজের মানুষের দেওয়া জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়, অথচ এখানেই আজ সনাতন ধর্মের কালী পুজোকে (Kali Puja) নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন হিন্দু ছাত্র, শিক্ষক এবং কর্মচারীরা। বাংলাদেশে ইউনূসের রাজত্বে হিন্দু ধর্মের মানুষরা যে কতটা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, তার আরও একটি বাস্তব চিত্র এই ঘটনা।

    উদ্দেশ্যপূর্ণ ভাবে বন্ধ পুজো (Bangladesh)

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যলয়ে (Bangladesh) কালী পুজো বন্ধের নির্দেশের স্বপক্ষে সাফাই গেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের তরফে এক ব্যক্তি বলেন, “কালী পুজো (Kali Puja) উত্তর ভারতের সংস্কৃতির অংশ।” কিন্তু এই মন্তব্য ঐতিহাসিক ভাবে বাঙালি সংস্কৃতির পরিপন্থী। এটি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক চক্রান্ত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বঙ্গে কালীপুজো হয়ে আসছে। তারা, কালিকা, দুর্গা, উমা, ভগবতী বাঙালির শক্তিরূপা দেবী শক্তির প্রতীক। বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই পুজো। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু ছাত্র এবং অধ্যাপকদের মত খুব স্পষ্ট। হিন্দু সমাজকে নিপীড়ন করতে প্রশাসন পুজো বন্ধ করেছে। ঢাকার বুকেই যদি পুজো বন্ধ হয়, তাহলে দেশজুড়ে কী হবে? সেই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে বাংলাদেশজুড়ে।

    সামাজিক মাধ্যমেও আন্দোলন

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন ছাত্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এটা হৃদয়বিদারক ঘটনা। হিন্দু দানশীল ব্যক্তিরা যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি দিয়ে গিয়েছেন, এখন বর্তমান প্রশাসনের কর্তৃপক্ষের লোকেরা কালীপুজো বন্ধ করেছেন। এটা কোন ধরনের ধর্ম নিরপেক্ষতা? এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় উপাসনালয়ের আবেদন জানিয়ে একটি মন্দির স্থাপনের আবেদন জানানো হয়েছিল। তাতেও সম্মতি মেলেনি। ফলে বাংলাদেশে সার্বিকভাবে বৈচিত্র্যময় কাঠামোকে ভেঙে ফেলতেই এই সিদ্ধান্ত। ইতিমধ্যে ছাত্রছাত্রীরা হ্যাসট্যাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কালী পুজোর (Kali Puja) মতো অভিযান শুরু করেছে আন্দোলনকারীরা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট থেকে হাসিনাকে বিতাড়িত করার পর থেকেই হিন্দু সমাজের ওপর অত্যাচার ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সব জেনেশুনেও ইউনূস প্রশাসন (Bangladesh) চুপ!

LinkedIn
Share