মাধ্যাম নিউজ ডেস্ক: মালদার মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকায় সাম্প্রতিক হিংসাত্মক আক্রমণ এবং গোলমালের ঘটনায় এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় কালিয়াচক-১ (Kaliachak Mothabari Case) নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সারিউল শেখ এবং সুজাপুর অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি ইউসুফ শেখ-কে গ্রেফতার করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই জোড়া গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও জিজ্ঞাসাবাদ (NIA)
এনআইএ (NIA) সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার ঠিক প্রাক্কালে সুজাপুর বিধানসভার প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুর রহমান এবং ব্লক সভাপতি সারিউল শেখসহ মোট ৯ জন নেতাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকায় শুরুতে তাঁরা হাজিরা এড়িয়ে গেলেও, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তলবে সাড়া দিতে বাধ্য হন। এরপর হাজিরা দিতে গেলেই তথ্য়ে গোলমাল ঘটলে গ্রেফতার করা হয়। গত বুধবার জিজ্ঞাসাবাদের সময় সারিউল ও ইউসুফের (Kaliachak Mothabari Case) মোবাইল ফোন দুটি বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা। এরপর শুক্রবার পুনরায় তাঁদের ডেকে পাঠিয়ে ম্যারাথন জেরা করা হয়। বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনআইএ।
অভিযোগের নেপথ্যে
তদন্তকারীদের (NIA) দাবি, মোথাবাড়িতে বিচারকদের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং সুজাপুর হাসপাতালের নিকটবর্তী জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনায় এই দুই নেতার প্রত্যক্ষ উস্কানি ও যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। উল্লেখ্য, ধৃত ইউসুফ শেখ সুজাপুর হাসপাতালের সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের মালিক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনেই সেই দিন জনতাকে সংগঠিত করে বড়সড় আন্দোলনের রূপ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে জাতীয় সড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে অবরোধের পিছনে আরও বড়সড় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকতে পারে। তাই তদন্তে এই সমস্ত বিষয়গুলিকেও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ
কালিয়াচকে (Kaliachak Mothabari Case) এনআইএ-র (NIA) এই অভিযান এখানেই শেষ হচ্ছে না বলে ইঙ্গিত মিলেছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, মোথাবাড়ি ও সুজাপুর কাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে শাসকদলের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতার নামও বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে এই এলাকায় আরও কিছু প্রভাবশালীর গ্রেফতারির সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। বর্তমানে এই দুই ধৃত নেতাকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী এবং বাকি সদস্যদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা করছে এনআইএ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
